ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
আল ইরশাদ-সহীহ আকীদার দিশারী الأصل الخامس: الإيمان باليوم الآخر - পঞ্চম মূলনীতি: শেষ দিবসের প্রতি ঈমান শাইখ ড. ছলিহ ইবনে ফাওযান আল ফাওযান
الإيمان بما يكون يوم القيامة - কিয়ামত দিবসে যা কিছু হবে তার প্রতি ঈমান আনয়ন করা

ইমাম সাফারায়েনী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, জেনে রাখুন যে, আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়ার দিবসে ভয়াবহ বিপদ রয়েছে। সেদিন হৃদপিন্ড বিগলিত হবে, স্তন্যদানকারীনী মহিলারা তাদের দুপোষ্য শিশুদেরকে ভুলে যাবে এবং শিশু হয়ে যাবে।

এটি সত্য-সুপ্রমাণিত। আল্লাহর কিতাব এবং রসূলের সুন্নাতে এ ব্যাপারে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে এবং মুসলিমদের ইজমা সংঘটিত হয়েছে। এটি হলো কিয়ামত দিবস। এ দিবসকে কিয়ামত দিবস হিসাবে নামকরণ করার ব্যাপারে আলেমদের মতানৈক্য রয়েছে। কতিপয় আলেম বলেছেন, মানুষ যেহেতু এদিন তাদের কবর থেকে দন্ডায়মান হবে, তাই এর নাম রাখা হয়েছে কিয়ামত তথা দাঁড়ানোর দিন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿يَوْمَ يَخْرُجُونَ مِنَ الْأَجْدَاثِ سِرَاعًا كَأَنَّهُمْ إِلَى نُصُبٍ يُوفِضُونَ﴾

‘‘সেদিন তারা কবর হতে বের হবে দ্রুত বেগে। মনে হবে যে, তারা কোনো একটি লক্ষ্য স্থলের দিকে ছুটে যাচ্ছে’’। (সূরা মাআরেজ: ৪৩)

কেউ কেউ বলেছেন, সেদিন হাশরের মাঠের বিভিন্ন বিষয় যেমন তাতে আল্লাহর সামনে দন্ডায়মান হওয়া এবং অন্যান্য কারণে তাকে কিয়ামত দিবস হিসাবে নামকরণ করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, সেদিন রাববুল আলামীনের সামনে যেহেতু সমস্ত মানুষ দাড়াবে, তাই তাকে কিয়ামত দিবস বলা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার বাণী,

﴿يَوْمَ يَقُومُ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ﴾

‘‘সেদিন সমস্ত মানুষ রাববুল আলামীনের সামনে দাঁড়াবে’’ এ আয়াতের ব্যাখ্যা ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে ইবনে উমার রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেন যে, সেদিন তাদের কেউ কেউ ঘামের মধ্যে দাঁড়াবে। পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত ঘাম তার কান বরাবর পৌঁছে যাবে।

ইমাম সাফারায়েনী আরো বলেন, ইমাম আহমাদ, আবু ইয়ালা এবং ইবনে হিববান তার সহীহ গ্রন্থে আবু সাঈদ খুদরী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, সেদিনের পরিমাণ হবে পঞ্চাশ হাজার বছরের সমান। লোকেরা বললো, কতই না দীর্ঘ হবে এ দিনটি? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন, ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, সেদিনটি মুমিনদের জন্য এক ওয়াক্ত ফরয সালাত আদায় করার সময়ের চেয়েও কম হবে।

কেউ কেউ বলেছেন, ফেরেশতাগণ এবং জিবরীল আমীন কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ানোর কারণে এ দিবসকে কিয়ামত দিবস বলা হয়।

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,

﴿يَوْمَ يَقُومُ الرُّوحُ وَالْمَلاَئِكَةُ صَفًّا لاَ يَتَكَلَّمُونَ إِلاَّ مَنْ أَذِنَ لَهُ الرَّحْمَنُ وَقَالَ صَوَابًا﴾

‘‘যেদিন রূহ ও ফেরেশতাগণ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। দয়াময় আল্লাহ যাকে অনুমতি দিবেন, সে ব্যতীত অন্য কেউ কথা বলতে পারবে না এবং সে সত্য বলবে’’। (সূরা আন-নাবা: ৩৮)

 তিনি আরো বলেন, ইমাম বুখারী ও মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণনা করেছেন যে,  রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

«يَعْرَقُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يَذْهَبَ عَرَقُهُمْ فِي الأَرْضِ سَبْعِينَ ذِرَاعًا، وَيُلْجِمُهُمْ حَتَّى يَبْلُغَ آذَانَهُمْ». (بخارى:6532)

‘‘কিয়ামতের দিন মানুষ ঘামের মধ্যে ডুবে যাবে। আর তাদের ঘাম যমীনের উপ সত্তর গজ পরিমাণ হয়ে যাবে। তাদের মুখ পর্যন্ত এমনকি তাদের কান পর্যন্ত ঘাম পৌঁছে যাবে’’। সহীহ বুখারীর কিছু কিছু শব্দে ৭০ গজের স্থলে ৭০ বছরের কথা এসেছে।

ইমাম মুসলিম রাহুিমাহুল্লাহ মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছেন,

«إذا كان يَوْمَ الْقِيَامَةِ أدْنَيت الشَّمْسُ مِنْ الْعباد حَتَّى تَكُونَ قدر ميل أو ميلين قَالَ فتصهرهم الشمس فَيَكُونُون في العرق كقَدْرِ أَعْمَالِهِمْ فَمِنْهُمْ مَنْ يَأخذه إِلَى عقبيه وَمِنْهُمْ مَنْ يأخذه إِلَى حقويه وَمِنْهُمْ مَنْ يُلْجِمُهُ إِلْجَامًا»  

‘‘কিয়ামতের দিন সূর্য মানুষের মাথার উপরে চলে আসবে। মাত্র এক মাইল কিংবা দুই মাইলের ব্যবধান থাকবে। সূর্যের উত্তাপ তাদেরকে গলিয়ে ফেলবে। মানুষ তাদের নিজ নিজ আমল অনুযায়ী ঘামের মধ্যে হাবুডুবু খাবে। মানুষের শরীরের পঁচা ঘাম কারো টাখনু পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। ঘাম কারো হাঁটু পর্যন্ত, কারো কোমর পর্যন্ত এবং কারো নাকের ডগা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। একথা বলার পর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার মুখের দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন’’।[1]

এ ভয়াবহ দিনে মানুষ কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে।


[1]. সহীহ মুসলিম ২৮৬৪, অধ্যায়: কিতাবুল জান্নাত