ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
আল ইরশাদ-সহীহ আকীদার দিশারী ইসলামী আকীদা শাইখ ড. ছলিহ ইবনে ফাওযান আল ফাওযান
الدعوة إلى العقيدة الإسلامية - পরিশুদ্ধ ইসলামী আকীদার দিকে দাওয়াত দেয়ার গুরুত্ব

আল্লাহ তা‘আলা যে মুসলিমকে সহীহ আকীদার নিয়ামত প্রদান করেন ও এটাকে আঁকড়ে ধরার তাওফীক দিয়ে সম্মানিত করেন, তার উপর আবশ্যক হয় যে, সসে শিরক ও জাহেলীয়াতের অন্ধকার থেকে বের করে আনার জন্য এবং তাওহীদ ও সহীহ আকীদার আলোর দিকে আসার জন্য মানুষকে দাওয়াত দিবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿فَمَنْ يَكْفُرْ بِالطَّاغُوتِ وَيُؤْمِنْ بِاللَّهِ فَقَدِ اسْتَمْسَكَ بِالْعُرْوَةِ الْوُثْقَى لَا انْفِصَامَ لَهَا وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُوا يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُوا أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ أُولَٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ﴾

‘‘যে ব্যক্তি ‘তাগুতকে’ অস্বীকার করে এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করে, সে ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল, যা বিচ্ছিন্ন হবার নয়। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। যারা ঈমান আনে আল্লাহ তাদের বন্ধু। তিনি তাদেরকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে নিয়ে আসেন। আর যারা কুফুরী করে তাদের বন্ধু হচ্ছে তাগুত। তারা তাদের আলো থেকে অন্ধকারে টেনে নিয়ে যায়। এরা আগুনের অধিবাসী। সেখানে তারা চিরকাল থাকবে’’। (সূরা আল বাকারা: ২৫৬-২৫৭)

সমস্ত রসূল আকীদা পরিশুদ্ধ করার দাওয়াত দেয়ার মাধ্যমেই তাদের দাওয়াতের সূচনা করেছেন। এর আগে তারা অন্য কিছু দিয়ে শুরু করেননি। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন,

﴿وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَسُولًا أَنِ اُعْبُدُوا اللَّهَ وَاجْتَنِبُوا الطَّاغُوتَ﴾

‘‘আমি প্রত্যেক উম্মতের মধ্যেই রসূল পাঠিয়েছি। তার মাধ্যমে এ নির্দেশ দিয়েছি যে তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, আর তাগুতকে বর্জন করো’’। (আন নাহল: ৩৬)

প্রত্যেক রসূলই প্রথম যখন তার জাতির লোকদেরকে দাওয়াত দিতেন, তখন তিনি বলতেন,

﴿ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُمْ مِنْ إِلَهٍ غَيْرُهُ﴾

‘‘হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো। তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো সত্য মাবুদ নেই’’। (সূরা হুদ: ৫০)

নূহ আলাইহিস সালাম, হুদ আলাইহিস সালাম, সালেহ আলাইহিস সালাম, শুআইব আলাইহিস সালাম, ইবরাহীম আলাইহিস সালাম, মূসা আলাইহিস সালাম, ঈসা আলাইহিস সালাম, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সমস্ত রসূল আলাইহিমুস সালামও অনুরূপ করতেন।

সুতরাং যারা এ আকীদার জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হবে এবং এর উপর আমল করার তাওফীক পাবে, তারা যেন এটিকে নিজের মধ্যে সীমিত না রাখে। বরং তারা হিকমত ও উত্তম নছীহতের মাধ্যমে লোকদেরকে এ দিকে দাওয়াত দিবে। এ আকীদার দিকে দাওয়াত দেয়াকেই মূল কাজ মনে করবে এবং এখান থেকে যাত্রা শুরু করবে।

সুতরাং তাওহীদের দাওয়াত দেয়ার পূর্বে ফরয বা ওয়াজিব কোনো বিষয় বাস্তবায়ন করা কিংবা হারাম কোনো জিনিস বর্জন করার দিকে দাওয়াত দিবে না। এতে করেই সহীহ আকীদা প্রতিষ্ঠিত হবে। কেননা আকীদা হলো ইসলামের মূল ভিত্তি এবং সমস্ত আমলকে পরিশুদ্ধকারী। আকীদা ঠিক হওয়া ব্যতীত কোনো আমলই সহীহ হয় না, কবুল হয় না এবং আমলের ছাওয়াবও দেয়া হয় না। আর এ সহজ কথাটি সকলেরই জানা আছে যে, ভিত্তি প্রস্তর ব্যতীত কোনো ঘর প্রতিষ্ঠিত হয় না এবং এটা ঠিকও থাকে না।

এ জন্যই রসূলগণ সর্বপ্রথম আকীদা সংশোধনের প্রতি গুরুত্ব দিতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন ইসলাম প্রচারের জন্য সাহাবীদেরকে পাঠাতেন তখন সর্বপ্রথম আকীদা সংশোধন করার দাওয়াত দেয়ার আহবান জানানোর উপদেশ দিতেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মুআয রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়ামানে পাঠালেন, তখন তিনি বললেন,

إِنَّكَ تَأْتِى قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ فليكن أول ما تدعو إليه شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وفي رواية إلى أن يوحدوا الله فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِى كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللَّهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ فِى فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهُ لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللَّهِ حِجَابٌ

‘‘তুমি এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছো যারা আহলে কিতাব। সর্বপ্রথম যে জিনিসের দিকে তুমি তাদেরকে আহবান জানাবে তা হচ্ছে, ‘‘লা-ইলাহ ইল্লাল্লাহ’’এর সাক্ষ্য দান করা’’। অন্য বর্ণনায় আছে, তুমি তাদেরকে এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করার আহবান জানাবে। এ বিষয়ে তারা যদি তোমার আনুগত্য করে তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর দিনে-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরয করেছেন। এ ব্যাপারে তারা যদি তোমার কথা মেনে নেয় তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর যাকাত ফরয করেছেন, যা বিত্তশালীদের কাছ থেকে নিয়ে গরীবদেরকে দেয়া হবে। তারা যদি এ ব্যাপারে তোমার আনুগত্য করে তাহলে তাদের উৎকৃষ্ট মালের ব্যাপারে তুমি খুব সাবধান থাকবে। আর মাযলুমের বদ দু‘আকে পরিহার করে চলবে। কেননা মাযলুমের ফরিয়াদ এবং আল্লাহ তা‘আলার মাঝখানে কোনো পর্দা নেই’’।[1]

এ হাদীছ শরীফ, কুরআনুল কারীমে আলোচিত রসূলদের দাওয়াত এবং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী নিয়ে গবেষণা করেই কেবল আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়ার সঠিক মানহাজ গ্রহণ করা যায়। আর এ আকীদা পরিশুদ্ধ করার জন্যই সর্বপ্রথম মানুষকে দাওয়াত দিবে। আর এটা এককভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা এবং তিনি ব্যতীত অন্যের ইবাদত বর্জন করার মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হবে। তিনি এক, অদ্বিতীয় এবং তার কোনো শরীক নেই। এটিই হচ্ছে কালেমায়ে তাইয়্যেবা লা-ই লাহা ইল্লাল্লাহ-এর সঠিক অর্থ।

নবুওত পাওয়ার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কাতে ১৩ বছর অবস্থান করে এককভাবে আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করা এবং মূর্তির ইবাদত বর্জন করার মাধ্যমে মানুষের আকীদা সংশোধনের দাওয়াত দিয়েছেন। সালাত, যাকাত, সিয়াম, হজ ও জিহাদের আদেশ এবং সুদ, যেনা-ব্যভিচার, মদ্যপান এবং জুয়া খেলাসহ অন্যান্য হারাম কাজ বর্জনের নির্দেশ দেয়ার আগে তিনি কেবল আকীদা সংশোধনের দাওয়াত দিতেন।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ নীতি অত্যন্ত সুস্পষ্টভাবে সমসাময়িক ঐসব দলের দাওয়াতের মানহাজ ভ্রান্ত হওয়ার প্রমাণ করে, যারা দীনের দাওয়াত দেয়ার দাবি করে ঠিকই; কিন্তু তারা আকীদা সংশোধনের প্রতি দাওয়াত দেয়ার তেমন কোনো গুরুত্ব প্রদান করে না। তারা কেবল চরিত্র ও আচার-আচরণ ঠিক করাসহ অধিকতর কম গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় বিষয়ের উপর জোর দেয়। অথচ এসব জামা‘আতের লোকেরা কতিপয় ইসলামী দেশে কবরের উপর নির্মিত মাযার ও সমাধির নিকট অনেক মানুষকে বড় শির্কে লিপ্ত দেখে। কিন্তু তার কোনো প্রতিবাদ করে না এবং তা থেকে নিষেধও করে না। ভাষণ-বক্তৃতা এবং লেখালেখির মাধ্যমে খুব কম সংখ্যক লোক আকীদা সংক্রান্ত এসব ভুল-ভ্রান্তির প্রতিবাদ করে থাকে। এসব জামা‘আতের লোকদের কাতারে এমন লোক রয়েছে, যারা শিরক ও সুফীবাদের চর্চা করে। তারা অন্যদেরকে নিষেধ করে না এবং সতর্কও করে না। অথচ সুস্পষ্ট কুফুরীতে লিপ্ত কাফের ও নাস্তিকদেরকে দাওয়াত দেয়ার আগে নিজের দলের লোকদেরকে দাওয়াত দেয়া ও সংশোধন করা উত্তম। কেননা নাস্তিক ও বিধর্মীরা তো সুস্পষ্টরূপেই তাদের কুফুরীর ঘোষণা দিয়েছে এবং স্বীকার করে নিয়েছে যে, তারা রসূলদের আনীত দীনের বিরোধীতায় লিপ্ত রয়েছে। কিন্তু কবর পূজারী ও বিভ্রান্ত উপরোক্ত সুফীরা ধারণা করে যে, তারা মুসলিম। তারা আরো ধারণা করে, তারা যার উপর রয়েছে এটাই প্রকৃত ইসলাম। সুতরাং তারা নিজেরা ধোঁকার মধ্যে রয়েছে এবং অন্যদেরকেও ধোঁকা দিচ্ছে। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে সর্বপ্রথম নিকটবর্তী কাফেরদেরকে দাওয়াত দেয়ার আদেশ করেছেন। তিনি বলেন,

﴿يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا قَاتِلُوا الَّذِينَ يَلُونَكُم مِّنَ الْكُفَّارِ وَلْيَجِدُوا فِيكُمْ غِلْظَةً وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ﴾

হে ঈমানদারগণ! কাফেরদের মধ্যে যারা তোমাদের নিকটবর্তী তাদের সাথে যুদ্ধ করো। তারা যেন তোমাদের মধ্যে কঠোরতা দেখতে পায়। জেনে রাখো আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন’’। (সূরা আত তাওবা: ১২৩)

সুতরাং মুসলিমদের কাতারকে বহিরাগত আকীদা থেকে পরিষ্কার না করা হলে দুশমনদের মোকাবেলায় টিকে থাকা সম্ভব নয়।

বর্ণনা করা হয় যে, জনৈক কবরপূজারী এক লোককে মূর্তিপূজা করতে দেখে প্রতিবাদ করল। মূর্তিপূজক কবর পূজারীকে বলল, তুমি এমন এক সৃষ্টির ইবাদত করছো, যা তোমার সামনে উপস্থিত নয়। আর আমি এমন এক সৃষ্টির পূজা করছি, যা আমার সামনে উপস্থিত রয়েছে এবং সে আমার দিকে ঝুকে রয়েছে। বলো তো আমাদের উভয়ের মধ্যে কার কাজটি উত্তম? এভাবেই মূর্তিপূজক কবরপূজারীকে বিতর্কে হারিয়ে দিল। যদিও তারা উভয়ই পথভ্রষ্ট মুশরিক। তারা এমন বস্ত্তর ইবাদত করে, যে কারো ক্ষতি কিংবা উপকার সাধন করার ক্ষমতা রাখে না। তবে গোমরাহীর দিক থেকে কবরপূজারী মূর্তিপূজকের চেয়ে বেশী অন্ধকারের মধ্যে ডুবে রয়েছে এবং অসম্ভব বস্ত্ত প্রার্থনায় সে তার মূর্তিপূজক সাথীর সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সুতরাং দাওয়াতের ক্ষেত্রে অন্যান্য জিনিসের চেয়ে আকীদা সংশোধনের দিকে বেশী জোর দেয়া আবশ্যক। প্রথমে মুসলিমগণ নিজেরা ভালোভাবে আকীদা পাঠ করবে এবং বুঝবে। অতঃপর অন্যদেরকে এটা শিক্ষা দেয়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে। যারা আকীদার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত হয়েছে অথবা এটা বুঝতে ভুল করেছে, তাদেরকে সহীহ আকীদার দিকে আহবান করবে।

আল্লাহ তা‘আলা তার কিতাবে বলেন,

﴿قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ﴾

  ‘‘বলো! এটিই আমার পথ। পূর্ণ প্রজ্ঞার সাথে আমি আল্লাহর দিকে আহবান জানেই। আমি এবং আমার অনুসারীরা। আল্লাহ পবিত্র। আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই’’। (সূরা ইউসুফ: ১০৮)

ইমাম ইবনে জারীর এ আয়াতের তাফসীর করতে গিয়ে বলেন, আল্লাহ তা‘আলা তার নবী মুহাম্মাদকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, হে মুহাম্মাদ! তুমি বলো, আমি যে দাওয়াত দিচ্ছি, যে পথের উপর অটল থেকে আল্লাহর তাওহীদের ঘোষণা দিচ্ছি এবং বাতিল মাবুদ ও মূর্তিপূজা বর্জন করে ইখলাসের সাথে তার ইবাদতের দিকে আহবান জানাচ্ছি, তার আনুগত্য করাকেই যথেষ্ট মনে করছি এবং তার বিরোধীতা বর্জন করছি, এটাই আমার তরীকা ও দাওয়াত। আমি আল্লাহর দিকে আহবান করছি। তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তার কোনো শরীক নেই। আমি জেনে-বুঝে নিশ্চিতভাবে বিশ্বাস করেই এদিকে আহবান করছি। আমার অনুসারী সাহাবীগণও সজ্ঞানে আমাকে বিশ্বাস করে এদিকেই দাওয়াত দিচ্ছে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তার নবীকে বলেছেন, হে নবী! তুমি বলো, আমি আল্লাহ তা‘আলার রাজত্বে তার কোনো অংশীদার কিংবা তার সাম্রাজ্যে তিনি ব্যতীত অন্য কোনো মাবুদ থাকা হতে তার পবিত্রতা ও মহত্ত্বের ঘোষণা করছি। আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। অর্থাৎ যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শিরক করে, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তাদের অন্তর্ভুক্ত নই এবং তারাও আমার দলভুক্ত নয়। ইমাম ইবনে জারীরের কথা এখানেই শেষ।

উপরোক্ত মর্যাদাবান আয়াতটি ইসলামে সহীহ আকীদা জানা এবং তার দিকে দাওয়াত প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহাবীগণ এ বিষয়ে তার অনুসরণ করেছেন এবং উপরোক্ত দু’টি বিশেষণেই বিশেষিত হয়েছেন। তারা সহীহ আকীদা সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞানী ছিলেন এবং সেদিকেই তারা দাওয়াত দিতেন।

সুতরাং যারা সহীহ আকীদা শিখবে না, এর প্রতি গুরুত্ব দিবে না এবং এদিকে দাওয়াত দিবে না, তারা রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রকৃত অনুসারী নয়। যদিও সে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দিকে নিজেকে সম্বন্ধ করে এবং তার অনুসারী হওয়ার দাবি করে।

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ব্যাখ্যায় বলেন,

﴿ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ﴾

‘‘হে নবী! হিকমত এবং উত্তম উপদেশ সহকারে তোমার রবের পথে দাওয়াত দাও এবং লোকদের সাথে বিতর্ক করো সর্বোত্তম পদ্ধতিতে’’

আল্লাহ তা‘আলা এখানে দাওয়াতের বিভিন্ন স্তর বর্ণনা করেছেন এবং মানুষের অবস্থা অনুপাতে এটাকে তিন শ্রেণীতে বিভক্ত করেছেন। কেননা মানুষ যদি হকের সন্ধানী হয় এবং হক জানার পর অন্যকে এটার দিকে আহবানকারী হবে বলে আশা করা যায়, এমন ব্যক্তিকে হিকমতের সাথে দাওয়াত দিতে হবে, তার জন্য নছীহত পেশ এবং তার সাথে বিতর্ক করার দরকার নেই। আর যদি কোনো লোক সত্যের বিরুদ্ধাচরণকারী হয় এবং তার ব্যাপারে ধারণা করা হয় যে, সে সত্য জানতে পারলে এটা দ্বারা প্রভাবিত হবে এবং মেনে নিবে তাহলে এমন ব্যক্তিকে উৎসাহ দিয়ে ও ভয় দেখিয়ে নছীহত করার প্রয়োজন রয়েছে।

আর যদি কোনো লোক অহঙ্কারী ও হকের বিরোধী হয়, তাহলে তার সাথে উত্তম পদ্ধতিতে বিতর্ক করতে হবে। সে যদি বিরোধীতা বর্জন করে এবং হকের দিকে ফিরে আসে তাহলে ভালো। অন্যথায় সম্ভব হলে তার সাথে তর্ক-বিতর্ক বাদ দিয়ে অন্য পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।[2] ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহিমাহুল্লাহর কথা এখানেই শেষ।

উপরোক্ত আলোচনার মাধ্যমে দাওয়াতের মানহাজ সুস্পষ্ট হলো এবং এ বিষয়ে মুসলিমদের করণীয় সম্পর্কেও জানা গেল। সে সঙ্গে দাওয়াতের দাবিদার কিছু দলের মানহাজ ভুল বলেও প্রমাণিত হলো। আল্লাহ তা‘আলা কুরআনে এবং রসূল সাল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সহীহ সুন্নাতে দাওয়াতের বিশুদ্ধ মানহাজ বর্ণনা করেছেন, তারা তার বিরোধীতা করে যাচ্ছে।


[1]. সহীহ বুখারী, হা/১৩৯৫, সহীহ মুসলিম, হা/১৯, ইবনে মাজাহ, হা/১৭৮৩, আবূ দাউদ, হা/১৫৮৪।

[2]. যেমন তার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করা বা অন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা।