ইমেইলে পাঠাতে নিচের ফর্মটি পূরণ করুন
security code
মানহাজ (আল-আজবিবাতুল মুফীদাহ) নিত্য নতুন মানহাজ সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উপকারী জবাব শাইখ ড. ছলিহ ইবনে ফাওযান আল ফাওযান
প্রশ্ন-১০৮ : যে সকল যুবকেরা এ জামাতগুলোর দ্বারা ধোঁকাগ্রস্থ হয়েছে এবং যারা তাদের সাথে যুক্ত হয়ে তাদের পথে আহবান করছে, তাদের প্রতি আপনার অভিভাবকমূলক নির্দেশনা কামনা করছি

উত্তর : সকল যুবক থেকে বিশেষত এই দেশের যুবকদের থেকে আমার কামনা হলো তারা যেন এই ভুল ভ্রান্তি থেকে বের হয়ে আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত ও ফিরকায়ে নাজিয়াহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে। এই দেশের অধিবাসী[1] আলিম, নেতা, সাধারণ জনগণ সবাই তাওহীদের উপর প্রতিপালিত এবং তারা সকলেই তাওহীদের বিশুদ্ধ রাজপথে চলাচল করেছে। ওয়া লিল্লাহিল হামদ। সুতরাং আমরা আমাদের কাজকর্মে সহীহ সুস্পষ্ট পথের উপর রয়েছি।

আমরা আমাদের যুবকদেরকে সহীহ মানহাজের অনুসারী জামাতকে অনুসরণ করার জন্য উপদেশ প্রদান করি। তারা যেন আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাত বিরোধী কোন দল, ফিরকা বা সংগঠনের প্রতি ভ্রূক্ষেপ না করে। তাদের সাথে যুক্ত হলে আমাদের নিয়ামতরাজী  লুণ্ঠিত হবে, আমাদের জামাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং আমাদের অন্তরসমূহ বিভক্ত হয়ে পড়বে। দুঃখের বিষয় হলো বর্তমানে এমনটাই ঘটছে।

বর্তমানের যুবসমাজ এবং ইসলামী বলে পরিচিত দাঈদের মাঝে যে শত্রুতা চলছে তা মূলতঃ এসকল জামাতের দ্বারা ধোঁকাগ্রস্থ হওয়া ও তাদের মতবাদ ছড়িয়ে পড়ার কারণেই হয়েছে। যদি যুব সমাজ আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতরাজীর শুকরিয়া জ্ঞাপন করত, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে যে হিদায়াত দান করেছেন তা বাছিরাত বা দূরদর্শীতার সাথে আঁকড়ে ধরতো এবং ইমাম, মুজাদ্দিদ, শায়খুল ইসলাম মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব (রহ.) সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণের দ্বারা  আল্লাহ তা‘আলার যে সুস্পষ্ট পথে আহবান করেছেন এবং এ দেশে প্রতিষ্ঠা করেছেন সে পথে আহবান করলে সফলকাম হতো। যে জামাত সমূহ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাহাবী এবং তাবিঈগণ সবার মানহাজের বিরোধিতা করে যুবসমাজ তাদের প্রতি কেন ভ্রূক্ষেপ করবে?

ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব (রহ.) এর দাওয়াত ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সাফল্যের সাথে কার্যকর রয়েছে। এ দাওয়াতের সহীহ পদ্ধতির ব্যাপারে কেউ কোন দ্বিমত পোষণ করেনি।

শত্রুরাও এ বিষয়ে একমত যে, কিতাবুল্লাহ, আস-সুন্নাহ এবং সফল দাওয়াহর উপর এ রাষ্ট্র টিকে আছে। আমরা কেন এই নিয়ামত পরিবর্তন করে কেন বহিরাগত মতবাদ গ্রহণ করতে যাব যা তাদের নিজের দেশেই কার্যকর হয়নি। এ সকল মতবাদ-মতাদর্শ, দাওয়াত ও জামাত নিজের দেশের কোন উপকার করতে পারেনি। তাদের দেশে কোন কল্যাণমূলক জামাত গঠন করতে পারেনি। তাদের দেশকে (মানব রচিত) আইন কানুন, মূর্তিপূজা, কবর পূজা থেকে সহীহ ইসলামী জামাতের দিকে ফিরে নিয়ে আসতে পারেনি, আর পারবেও না। বরং এ জামাতগুলোর বাস্তবতা হলো, এদের নিকট আকীদার প্রতি কোন গুরুত্ব নেই। তাদের সফল না হওয়ার এটাই কারণ।

সুতরাং আমরা কেন তাদের দ্বারা আশ্চর্যান্বিত হয়ে তাদের প্রতি আহবান করব?


[1]. বিভিন্ন ভ্রষ্ট মতবাদ-মতাদর্শ গ্রহণ করা এবং বহিরাগত দল বা সংগঠনে যুক্ত হওয়া থেকে সতর্ক করছি। এই দেশের জনগণের জন্য সালাফে সালেহীন, তাদের অনুসারী এবং অতীত ও বর্তমান কালের মুসলিম ইমামগণের মতে জামাতকে আঁকড়ে ধরা এবং সৎকাজে তাদেরকে নছীহত প্রদান করা, আর দোষ অন্বেষণ ও প্রচার-প্রসার না করাকে ওয়াজিব মনে করতেন। (তায়িফ নগরীতে ১৪১৩ হিজরীর রবিউল আওয়াল মাসে অনুষ্ঠিত হাইয়াতু কিবারিল উলামার ৩৯ তম বৈঠকে বক্তৃতার অংশ বিশেষ।)