← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
ইমাম যখন জোরে কেরাত পড়ে তখন কি মুক্তাদির সুরা ফাতেহা পড়তেই হবে, না পড়লে কি নামাজ হবে না, এই বিষয়ে ভালো করে রিসার্চ করে জানাও
২৭ মার্চ, ২০২৬
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

ইমাম যখন উচ্চস্বরে ক্বিরাত পাঠ করেন, তখন মুক্তাদির সূরা ফাতিহা পাঠ করা নিয়ে আলেমদের মধ্যে একাধিক মত প্রচলিত আছে, যা হাদিসের বিভিন্ন ব্যাখ্যার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। নিচে এ বিষয়ে অনুসন্ধান ফলাফল থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

প্রথম মত: মুক্তাদি চুপ থাকবে এবং ইমামের ক্বিরাত শুনবে



এই মতের পক্ষে প্রধান দলীল হলো, ইমামকে অনুসরণ করার নির্দেশ এবং ক্বিরাত শোনার আদেশ।

* রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ইমাম এজন্য নিয়োগ করা হয় যে, তাকে অনুসরণ করা হবে। তাই ইমাম ’আল্লাহু আকবার’ বললে তোমরাও ’আল্লাহু আকবার’ বলবে। ইমাম যখন ক্বিরাত তিলাওয়াত করবে, তোমরা তখন চুপ থাকবে।" — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ৮৫৭ (সহীহ)
* সাহাবী জাবির ইবনু আবদিল্লাহ (রাঃ) বলেন: "কেউ যদি সালাতে উম্মুল কুরআন (সুরা ফাতিহা) না পড়ে, তবে তার সালাত হবে না। কিন্তু ইমামের পিছনে হলে ভিন্ন কথা।" — সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৩১৩ (হাসান-সহীহ)
* আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন উচ্চস্বরে ক্বিরাত পাঠ করতেন এমন একটি সালাত শেষ করে সাহাবীদের জিজ্ঞেস করেন কেউ তার সাথে ক্বিরাত পাঠ করেছে কিনা। একজন ব্যক্তি স্বীকার করলে তিনি বলেন, "তাইতো আমি বলি, কী ব্যাপার! আমার সাথে কুরআন নিয়ে টানাটানি করা হচ্ছে!" এই কথা শোনার পর থেকে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর পেছনে উচ্চস্বরের সালাতে ক্বিরাত পাঠ করা থেকে বিরত থাকেন। — সহীহ ইবনু হিব্বান (হাদিসবিডি), হাদিস ১৮৪৬ (সহীহ)

এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায় যে, ইমাম যখন ক্বিরাত পাঠ করেন, বিশেষ করে উচ্চস্বরে, তখন মুক্তাদির দায়িত্ব হলো মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং চুপ থাকা।

দ্বিতীয় মত: মুক্তাদি মনে মনে বা নীরবে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে



এই মতের অনুসারীরা বলেন যে, সূরা ফাতিহা পাঠ করা সালাতের একটি অপরিহার্য অংশ (রুকন), যা ইমাম বা মুক্তাদি কারো জন্যই মাফ নয়।

* রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল, যার মধ্যে ’কুরআনের মা’ অর্থাৎ সূরাহ ফাতিহা পাঠ করল না, তার ঐ সালাত ত্রুটিপূর্ণ, তার সালাত ত্রুটিপূর্ণ, তার সালাত ত্রুটিপূর্ণ, অসম্পূর্ণ।" বর্ণনাকারী বলেন, আমি আবূ হুরাইরা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি যখন ইমামের পিছনে থাকি, তখন কিভাবে পড়ব? তিনি আমার বাহু চাপ দিয়ে বললেন, "হে ফারসী! তুমি মনে মনে পাঠ করবে।" — সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস ৮২১ (সহীহ)
* আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ﷺ) একবার সাহাবীদের নিয়ে সালাত আদায় করার পর জিজ্ঞেস করেন, "ইমাম যখন কিরা‘আত পাঠ করে, তখন তোমরা কি ইমামের পিছনে কিরা‘আত পাঠ করো?" লোকজন চুপ থাকলে তিনি তিনবার জিজ্ঞেস করেন। তখন একজন বা কয়েকজন বলেন, “আমরা এরকম করি।” রাসূল (ﷺ) বলেন, “এরকম করবে না, বরং তোমরা মনে মনে সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।” — সহীহ ইবনু হিব্বান (হাদিসবিডি), হাদিস ১৮৪১ (সহীহ)

এই হাদিসগুলো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করে যে, ইমামের পেছনে থাকলেও মুক্তাদিকে অবশ্যই সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে, তবে তা নীরবে বা মনে মনে পড়তে হবে যাতে ইমামের ক্বিরাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।

ইমামের ক্বিরাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করা



উভয় মতের ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ বিষয় হলো ইমামের ক্বিরাতে মনোযোগে বিঘ্ন ঘটানো যাবে না।

* ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) যুহরের সালাত আদায় শেষে একজনকে জিজ্ঞেস করেন, কে "সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আ’লা" পড়েছে? লোকটি স্বীকার করলে তিনি বলেন, "আমি বুঝতে পেরেছি যে, তোমাদের কেউ আমাকে সালাতে কুরআন পাঠে জটিলতায় ফেলেছে।" — সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস ৮২৯ (সহীহ)

এই হাদিস থেকে শিক্ষা হলো, ইমামের পিছনে মুক্তাদির উচ্চস্বরে ক্বিরাত পাঠ করা অপছন্দনীয়, কারণ এতে ইমামের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। — সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস ৮২৯ (সহীহ)

সারসংক্ষেপ:



অনুসন্ধান ফলাফল থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়:

1. সালাত হবে না কি না: সূরা ফাতিহা ছাড়া সালাত অসম্পূর্ণ বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট হাদিস রয়েছে। — সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস ৮২১ (সহীহ)

2. উচ্চস্বরে ক্বিরাতের সালাতে করণীয়:

* একদল আলেমের মতে, মুক্তাদি চুপ থেকে ইমামের ক্বিরাত শুনবে। — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ৮৫৭ (সহীহ)
* অন্যান্য আলেমদের মতে, মুক্তাদিকে অবশ্যই নীরবে বা মনে মনে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে হবে। — সহীহ ইবনু হিব্বান (হাদিসবিডি), হাদিস ১৮৪১ (সহীহ)
3. সাধারণ নীতি: কোনো অবস্থাতেই এমনভাবে ক্বিরাত পাঠ করা যাবে না, যা ইমামের ক্বিরাতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। — সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত), হাদিস ৮২৯ (সহীহ)


সুতরাং, সতর্কতা হিসেবে ইমাম যখন উচ্চস্বরে ক্বিরাত পড়েন, তখন মুক্তাদির জন্য নীরবে সূরা ফাতিহা পাঠ করা অধিক নিরাপদ বলে প্রতীয়মান হয়, কারণ এতে সূরা ফাতিহা পাঠের বাধ্যবাধকতাও পূরণ হয় এবং ইমামের ক্বিরাতে ব্যাঘাতও ঘটে না।

আর সমস্ত বিষয়ে আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
টাকনুর নিছে কাপড় পড়ার হাদিস