← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
ইসলামে প্রতিবেশীর হক কী?
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
ইসলামে প্রতিবেশীর হক বা অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কুরআন ও হাদিসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার, তাদের সম্মান রক্ষা এবং কষ্ট না দেওয়ার ওপর জোর দেয়। নিচে এ সম্পর্কিত প্রধান কয়েকটি হক তুলে ধরা হলো:
আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের নির্দেশের পাশাপাশি মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করার আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে নিকট ও দূর উভয় প্রকার প্রতিবেশীই অন্তর্ভুক্ত।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারীরা উত্তম চরিত্র ও আচরণের অংশ হিসেবে প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর আচরণের প্রতি আহ্বান জানায় — শরহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেতীয়া।
প্রতিবেশীর অধিকারকে ইসলামে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, জিবরীল (আ.) এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বারংবার উপদেশ দিতেন।
এই হাদিসটি বিভিন্ন সাহাবী থেকে একাধিক সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয় — সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৫০৬১ (সহীহ), সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ১৯৪৮ (সহীহ)।
ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে তার প্রতিবেশীকে কোনোভাবেই কষ্ট দিতে পারে না।
প্রতিবেশীর সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়াকে শিরক ও সন্তান হত্যার পর সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেশীর হক শুধু মুসলিমদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং অমুসলিম প্রতিবেশীরও সমান অধিকার রয়েছে।
একাধিক প্রতিবেশী থাকলে যার ঘরের দরজা সবচেয়ে নিকটে, তার হক অগ্রাধিকার পাবে।
আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই উত্তম প্রতিবেশী, যে তার নিজের প্রতিবেশীর কাছে উত্তম হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই নির্দেশনাগুলো প্রমাণ করে যে, ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা শুধু সামাজিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি ঈমানের অঙ্গ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
১. প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করা
আল্লাহ তাআলা তাঁর ইবাদতের নির্দেশের পাশাপাশি মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন এবং প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করার আদেশ দিয়েছেন। এর মধ্যে নিকট ও দূর উভয় প্রকার প্রতিবেশীই অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ বলেন:
"তোমরা আল্লাহর ইবাদাত কর, তাঁর সাথে কোন কিছুকে শরীক করো না। আর সদ্ব্যবহার কর মাতা-পিতার সাথে, নিকট আত্মীয়ের সাথে, ইয়াতীম, মিসকীন, নিকট আত্মীয়-প্রতিবেশী, অনাত্মীয়-প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের মালিকানাভুক্ত দাস-দাসীদের সাথে।" — সূরা আন-নিসা · 4:36
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের অনুসারীরা উত্তম চরিত্র ও আচরণের অংশ হিসেবে প্রতিবেশীর সাথে সুন্দর আচরণের প্রতি আহ্বান জানায় — শরহুল আকীদাহ আল-ওয়াসেতীয়া।
২. প্রতিবেশীর অধিকারের গুরুত্ব
প্রতিবেশীর অধিকারকে ইসলামে এতটাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যে, জিবরীল (আ.) এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বারংবার উপদেশ দিতেন।
আয়েশা (রাঃ) ও ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেছেন:
"জিবরীল (আ.) সর্বদা আমাকে প্রতিবেশীর অধিকার পূর্ণ করার উপদেশ দিতে থাকতেন। এমনকি আমার ধারণা হয়েছিল যে, তিনি প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী ঠিক করে দেবেন।" — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ৪৯৬৪ (সহীহ)
এই হাদিসটি বিভিন্ন সাহাবী থেকে একাধিক সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে, যা এর গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয় — সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৫০৬১ (সহীহ), সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ১৯৪৮ (সহীহ)।
৩. প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া
ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেওয়া। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, সে তার প্রতিবেশীকে কোনোভাবেই কষ্ট দিতে পারে না।
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন:
"যে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও কিয়ামতের দিনের উপর ঈমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়।" — সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৫০৬৪ (সহীহ)
৪. প্রতিবেশীর সম্মান রক্ষা করা
প্রতিবেশীর সম্মান ও সম্ভ্রম রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়াকে শিরক ও সন্তান হত্যার পর সবচেয়ে বড় গুনাহ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি নবী (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে শিরক করা, অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" আমি বললাম, এটা নিশ্চয়ই বড় গুনাহ। তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "তোমার সন্তান তোমার সাথে খাবে এই ভয়ে তাকে হত্যা করা।" আমি বললাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা।" — সহীহ বুখারী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৭০১২ (সহীহ)
৫. অমুসলিম প্রতিবেশীরও হক রয়েছে
প্রতিবেশীর হক শুধু মুসলিমদের জন্য সীমাবদ্ধ নয়, বরং অমুসলিম প্রতিবেশীরও সমান অধিকার রয়েছে।
আবদুল্লাহ ইবন আমর (রাঃ)-এর জন্য একবার একটি ছাগল যবেহ করা হলো। তিনি বললেন: "তোমরা কি আমার ইয়াহূদী প্রতিবেশীর জন্য কিছু পাঠিয়েছ? কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, জিবরীল (আ.) আমাকে সব সময় প্রতিবেশীর হক আদায় করার জন্য নির্দেশ দিতেন, এমনকি আমার মনে হতে থাকে যে, হয়তো তিনি তাকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেবেন।" — সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৫০৬২ (সহীহ)
৬. কোন প্রতিবেশীর হক বেশি?
একাধিক প্রতিবেশী থাকলে যার ঘরের দরজা সবচেয়ে নিকটে, তার হক অগ্রাধিকার পাবে।
আয়েশা (রাঃ) বলেন: "ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার দুজন প্রতিবেশী আছে, আমি কার সাথে প্রথমে সদ্ব্যবহার করবো?" তিনি বলেন: "যার দরজা তোমার নিকটবর্তী হবে, তার প্রতি ইহসান করবে।" — সুনান আবূ দাউদ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ৫০৬৫ (সহীহ)
৭. আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ প্রতিবেশী
আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই উত্তম প্রতিবেশী, যে তার নিজের প্রতিবেশীর কাছে উত্তম হিসেবে বিবেচিত হয়।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: "আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ প্রতিবেশী হল সেই, যে তার প্রতিবেশীর নিকট উত্তম।" — সুনান আত তিরমিজী (ইসলামিক ফাউন্ডেশন), হাদিস ১৯৫০ (সহীহ)
এই নির্দেশনাগুলো প্রমাণ করে যে, ইসলামে প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা করা শুধু সামাজিক দায়িত্বই নয়, বরং এটি ঈমানের অঙ্গ এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।