← সব প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন
হাদিসের নামে কোন কোন ধরনের জালিয়াতি আছে আমাদের দেশে?
২৪ মার্চ, ২০২৬
হাদিসবিডি AI-এর উত্তর
hadithbd.com থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, আমাদের দেশে হাদিসের নামে বিভিন্ন ধরনের জালিয়াতি প্রচলিত আছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর নামে মিথ্যা বলার বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন:
"যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার উপর মিথ্যারোপ করল, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।" — মিশকাতুল মাসাবীহ (মিশকাত), হাদিস ১৯৮ (সহিহ)


এখানে হাদিসের নামে প্রচলিত জালিয়াতির কয়েকটি ধরন তুলে ধরা হলো:

১. 'নেক সুরতে' বা ভালো উদ্দেশ্যে হাদিস জালিয়াতি


কিছু 'ধার্মিক' বা 'নেককার' হিসেবে পরিচিত ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বানোয়াট কথাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নামে হাদিস হিসেবে প্রচার করেছেন। এরাই হাদিস জালিয়াতির ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও ক্ষতিকারক।
* উদ্দেশ্য: তারা মনে করতেন যে, সহীহ হাদিসগুলোতে বর্ণিত পুরস্কার বা শাস্তির বিবরণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট আবেগ তৈরি করতে পারে না। তাই মানুষকে সৎকাজের প্রতি আগ্রহী করতে ও পাপ থেকে বিরত রাখতে তারা অতিরঞ্জিত পুরস্কার ও কঠোর শাস্তির কথা বলে হাদিস বানাতেন।
* মনস্তাত্ত্বিক কারণ: শয়তান তাদের বুঝিয়েছিল যে, তারা রাসূল (ﷺ)-এর পক্ষে, বিপক্ষে নয়, বরং মানুষদের হেদায়েতের জন্যই এমন মিথ্যা বলছেন। তারা ভাবতেন যে, এই মিথ্যা ছাড়া মানুষকে ভালো পথে আনা সম্ভব নয়, যা প্রকারান্তরে ওহীর অপূর্ণতার দিকে ইঙ্গিত করে।
* শনাক্তকরণ: তাদের ধার্মিকতার কারণে সাধারণ মানুষ সহজেই তাদের জালিয়াতির শিকার হতো। শুধুমাত্র বিশেষজ্ঞ মুহাদ্দিসগণই তুলনামূলক নিরীক্ষার মাধ্যমে এই জালিয়াতিগুলো ধরতে পারতেন। — হাদীসের নামে জালিয়াতি

২. নির্দিষ্ট মাস, দিন ও আমল বিষয়ক জালিয়াতি


বিভিন্ন মাস ও দিনকে কেন্দ্র করে বিশেষ ফজিলত ও আমলের কথা বলে অনেক জাল হাদিস সমাজে প্রচলিত আছে।
* যুলহাজ্জ মাস: এই মাসের প্রথম দশ দিনের আমলের অনেক ফজিলত সহীহ হাদিসে বর্ণিত আছে। তবে এর পাশাপাশি অনেক জাল হাদিসও প্রচলিত হয়েছে, যেখানে এই মাসের জন্য বিশেষ ধরনের সালাত ও সিয়ামের কথা বলা হয়েছে, যা ভিত্তিহীন। যেমন, কিছু যয়ীফ (দুর্বল) বর্ণনায় বলা হয়েছে এই দশ দিনের রোজা এক বছরের রোজার সমান বা নেক আমলের ৭০০ গুণ সওয়াব দেওয়া হয়, কিন্তু এর পাশাপাশি অনেক বানোয়াট কথাও প্রচলিত আছে। — হাদীসের নামে জালিয়াতি
* আল্লাহর ৯৯ নাম: সহীহ হাদিসে আল্লাহর ৯৯টি নামের কথা উল্লেখ আছে এবং বলা হয়েছে যে ব্যক্তি এগুলো সংরক্ষণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। তবে ইমাম তিরমিযী ও ইবনু মাজাহ কর্তৃক সংকলিত ৯৯টি নামের তালিকা সম্বলিত বর্ণনাটিকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস যয়ীফ (দুর্বল) বলেছেন। ধারণা করা হয়, এই তালিকাটি রাসূল (ﷺ) থেকে বর্ণিত নয়, বরং পরবর্তী কোনো বর্ণনাকারী কুরআনের আলোকে এটি সংকলন করে হাদিসের মধ্যে যুক্ত করে দিয়েছেন। — হাদীসের নামে জালিয়াতি

৩. হাদিসের অর্থ বিকৃত করা


অনেক ক্ষেত্রে সহীহ হাদিসের মূল অর্থকে পরিবর্তন করে বা তার সাথে যুক্তি মিশ্রিত করে ভিন্ন একটি ধারণা সমাজে প্রচার করা হয়।
* সূরা ইখলাস দ্বারা কুরআন খতম: সমাজে প্রচলিত আছে যে, তিনবার সূরা ইখলাস পাঠ করলে এক খতম কুরআনের সওয়াব পাওয়া যায়। এই ধারণাটি একটি সহীহ হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা থেকে তৈরি হয়েছে। হাদিসটিতে বলা হয়েছে, সূরা ইখলাস কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান। এর অর্থ হলো, এই সূরার ভাব ও মর্ম (আল্লাহর একত্ববাদ) পুরো কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ জুড়ে থাকা বিষয়ের সমান। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, তিনবার পড়লে পূর্ণ কুরআন খতমের সওয়াব পাওয়া যাবে। রাসূল (ﷺ) থেকে এমন কোনো কথা বর্ণিত হয়নি। এটি হাদিসের সাথে যুক্তির মিশ্রণ ঘটিয়ে মূল অর্থকে বিকৃত করার একটি উদাহরণ। — প্রচলিত বিভিন্ন খতম তাৎপর্য ও পর্যালোচনা

৪. কুসংস্কার ও শুভ-অশুভ ধারণা প্রচার


ইসলাম বিরোধী বিভিন্ন কুসংস্কারকে হাদিসের নামে সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
* অশুভ দিন বা সময়: সমাজে প্রচলিত আছে যে, অমুক দিন, বার, বা মাস অশুভ। এই ধরনের বিশ্বাস ইসলাম বিরোধী এবং হাদিস অনুসারে এটি ঈমান নষ্টকারী একটি কাজ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অশুভ বা অযাত্রা বিশ্বাস করাকে 'শির্ক' বলেছেন এবং তিনি সবসময় শুভ চিন্তা ও ভালো আশা করা পছন্দ করতেন। — হাদীসের নামে জালিয়াতি

শেষ যুগের মিথ্যাবাদীদের সম্পর্কে সতর্কতা


রাসূলুল্লাহ (ﷺ) শেষ যুগে এ ধরনের মিথ্যাচার সম্পর্কে তাঁর উম্মতকে সতর্ক করে গেছেন। তিনি বলেন:
"শেষ যুগে কিছু সংখ্যক প্রতারক ও মিথ্যাবাদী লোকের আবির্ভাব ঘটবে। তারা তোমাদের কাছে এমন সব হাদীস বর্ণনা করবে যা কখনো তোমরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা শোননি। সুতরাং তাদের থেকে সাবধান থাকবে এবং তাদেরকে তোমাদের থেকে দূরে রাখবে। তারা যেন তোমাদের বিভ্রান্ত না করতে পারে এবং তোমাদেরকে ফিতনায় না ফেলতে পারে।" — সহীহ মুসলিম (হাদীস একাডেমী), হাদিস ৭ (সহিহ)
শিয়াদের আকীদা সম্পর্কে জানতে চাই মানুষকে সবচেয়ে বেশি কোন জিনিসটা জান্নাতে প্রবেশ কর