• ৬৯৯২৯ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৬৯৭০ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [500] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [321]  থেকে  [330]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২১ | 321 | ۳۲۱

৩২১। যে ব্যাক্তির কোন সন্তান ভূমিষ্ঠ হবে, অতঃপর তার ডান কানে আযান এবং বাম কানে ইকামত দেয়া হবে, বাচ্চাঁদের মা (শয়তান) তার কোন অনিষ্ঠ করতে পারবে না।

হাদীসটি জাল।

এটি আবূ ইয়ালা তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (৪/১৬০২) এবং তার থেকে ইবনুস সুন্নী "আমালুল ইওয়াম ওয়াল-লায়লাহ" গ্রন্থে (২০০/৬১৭) বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে ইবনু আসাকির (১৬/১৮২/২) আবূ ইয়ালার সূত্র হতে, ইবনু বিশরান “আল-আমালী” গ্রন্থে (১/৮৮) এবং আবু তাহের কুরাশী “হাদীস ইবনু মারওয়ান আনসারী ওয়া গায়রেহি” গ্রন্থে (১/২) ইয়াহইয়া ইবনুল আল আর-রায়ী সূত্রে মারওয়ান ইবনু সুলায়মান হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ বানোয়াট। ইয়াহইয়া ইবনুল আলা এবং মারওয়ান ইবনু সুলায়মান, তারা উভয়েই হাদীস জালকারী। ইবনুল কাইয়্যিম "তুহফাতুল মওদূদ" গ্রন্থে (পৃ৯) বলেছেনঃ সনদটি দুর্বল।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি নরম পন্থা অবলম্বন করেছেন। অনুরূপভাবে হায়সামী তার "আল-মাজমা" গ্রন্থে (৪/৫৯) মারওয়ান ইবনু সুলায়মানকে শুধুমাত্র মাতরুক (অগ্রহণযোগ্য) বলেছেন। এ কারণে মানাবী তার সমালোচনা করে “শারহু জামেউস সাগীর” গ্রন্থে বলেছেনঃ ইয়াহইয়া ইবনুল আলা বাজালী সম্পর্কে যাহাবী "আয-যু'য়াফা ওয়াল মাতরূকীন" গ্রন্থে বলেন, ইমাম আহমাদ বলেছেনঃ তিনি মিথ্যুক, জালকারী। তিনি “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেছেন, ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, হাদীস জাল করতেন। অতঃপর তিনি তাঁর কতিপয় হাদীস উল্লেখ করেছেন, এটি সেগুলোর একটি।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি যে বানোয়াট তা অনেক লেখকের নিকটেই অপ্রকাশিত রয়ে গেছে, যেমন ইমাম নাবাবীর নিকট।

এছাড়া ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ এবং ইবনুল কাইয়্যিম-এর নিকটেও আসল তথ্যটি লুক্কায়িতই রয়ে গেছে, যদিও তারা উভয়েই হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ আবু রাফে' হতে তিরমিযী দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। আবু রাফে' বলেনঃ যখন ফাতেমা (রাঃ) হাসান ইবনু আলীকে জন্ম দিলেন, তখন আমি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হাসানের কানে সলাতের ন্যায় আযান দিতে দেখেছি।

মুবারাকপুরী এ হাদীসটি দুর্বল বলার পরেও এটির উপর আমল করা যাবে একথা বলেছেন, উল্লেখিত জাল হাদীসকে (যেটিকে আবু ইয়া'লা বর্ণনা করেছেন) আবু রাফের হাদীসের শাহেদ হিসাবে বর্ণনা করে। চিন্তা করে দেখুন কিভাবে দুর্বল হাদীসকে জাল হাদীস দ্বারা শক্তিশালী করেছেন।

জি হ্যাঁ; আবু রাফের হাদীসকে শক্তিশালী করা যায় ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীস দ্বারা। যেটিকে বাইহাকী “আশ-শু'য়াব” গ্রন্থে উল্লেখিত আবু রাফের হাদীসের সাথে বর্ণনা করেছেন, অতঃপর বলেছেনঃ হাদীস দুটির সনদ দুর্বল।

যদি এরূপ হয়, তাহলে আবু রাফের হাদীসে যে শুধু আযান দেয়ার কথা আছে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসের আযানের অংশটুকুই শুধুমাত্র তার (আবু রাফের) হাদীসের শাহেদ হতে পারে। ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর হাদীসে যে ইকামাতের কথা বলা হয়েছে সেটা গ্রহণযাগ্য হবে না।


বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ হাসান পর্যায়ের হাদীস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে যে, ফাতেমা (রাঃ) যখন হাসান ইবনু আলীকে জন্ম দেন তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম তার কানে সলাতের ন্যায় আযান দিয়েছিলেন। হাদীসটি আবু দাউদ-“সহীহ্ আবী দাউদ" (৫১০৫), ও তিরমিযী-"সহীহ্ তিরমিযী"- (১৫১৪) বর্ণনা করেছেন, হাদীসে দু’কানে দেয়ার কথা উল্লেখ করা হয়নি, অতএব এক কানে আযাস দিলে তাই যথেষ্ট হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।

হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من ولد له مولود فأذن في أذنه اليمنى وأقام في أذنه اليسرى لم تضره أم الصبيان
موضوع

-

رواه أبو يعلى في " مسنده " (4 / 1602) وعنه ابن السني في " عمل اليوم والليلة " (200 / 617) وكذا ابن عساكر (16 / 182 / 2) من طريق أبي يعلى وابن بشران في " الأمالي " (88 / 1) وأبو طاهر القرشي في " حديث ابن مروان الأنصاري وغيره " (2 / 1) من طريق يحيى بن العلاء الرازي عن مروان بن سليمان عن طلحة بن عبيد الله العقيلي عن الحسين بن علي مرفوعا
قلت: وهذا سند موضوع، يحيى بن العلاء ومروان بن سالم يضعان الحديث
وعزاه ابن القيم في " تحفة المودود " (ص 9) للبيهقي، ثم قال: وقال: إسناده ضعيف
قلت: وفيه تساهل لا يخفى، ونحوه قول الهيثمي في " المجمع " (4 / 59) : رواه أبو يعلى وفيه مروان بن سليمان الغفاري وهو متروك
فتعقبه المناوي في " شرح الجامع الصغير " بقوله: وأقول: تعصيب الجناية برأسه وحده يؤذن بأنه ليس فيه من يحمل عليه سواه، والأمر بخلافه ففيه يحيى بن العلاء البجلي الرازي، قال الذهبي في " الضعفاء والمتروكين ": قال أحمد كذاب وضاع، وقال في " الميزان ": قال أحمد: كذاب يضع، ثم أورد له أخبارا هذا منها
قلت: وقد خفي وضع هذا الحديث على جماعة ممن صنفوا في الأذكار والأوراد، كالإمام النووي رحمه الله، فإنه أورده في كتابه برواية ابن السني دون أن يشير ولوإلى ضعفه فقط، وسكت عليه شارحه ابن علان (6 / 95) فلم يتكلم على سنده بشيء! ثم جاء ابن تيمية من بعد النووي فأورده في " الكلم الطيب " ثم تبعه تلميذه ابن القيم، فذكره في " الوابل الصيب "، إلا أنهما قد أشارا إلى تضعيفه بتصديرهما إياه بقولهما ويذكر، وهذا وإن كان يرفع عنهما مسؤولية السكوت عن تضعيفه، فلا يرفع مسؤولية إيراده أصلا، فإن فيه إشعارا أنه ضعيف فقط وليس
بموضوع، وإلا لما أورداه إطلاقا، وهذا ما يفهمه كل من وقف عليه في كتابيهما ولا يخفى ما فيه، فقد يأتي من بعدهما من يغتر بصنيعهما هذا وهما الإمامان الجليلان فيقول: لا بأس فالحديث الضعيف يعمل به في فضائل الأعمال! أو يعتبره شاهدا لحديث آخر ضعيف يقويه به، ذاهلا عن أنه يشترط في هذا أو ذاك أن لا يشتد ضعفه، وقد رأيت من وقع في شيء مما ذكرت، فقد روى الترمذي بسند ضعيف عن أبي رافع قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم أذن في أذن الحسن بن علي حين ولدته فاطمة بالصلاة، وقال الترمذي: حديث صحيح، والعمل عليه
فقال شارحه المباركفوري بعد أن بين ضعف إسناده مستدلا عليه بكلمات الأئمة في راويه عاصم بن عبيد الله: فإن قلت: كيف العمل عليه وهو ضعيف؟ قلت: نعم هو ضعيف، لكنه يعتضد بحديث الحسين بن علي رضي الله عنهما الذي رواه أبو يعلى الموصلي وابن السني! فتأمل كيف قوى الضعيف بالموضوع، وما ذلك إلا لعدم علمه بوضعه واغتراره بإيراده من ذكرنا من العلماء، وكدت أن أقع أنا أيضا في مثله، فانتظر
نعم يمكن تقوية حديث أبي رافع بحديث ابن عباس: أن النبي صلى الله عليه وسلم أذن في أذن الحسن بن علي يوم ولد وأقام في أذنه اليسرى
أخرجه البيهقي في " الشعب " مع حديث الحسن بن علي وقال: وفي إسنادهما ضعف، ذكره ابن القيم في " التحفة " (ص 16)
قلت: فلعل إسناد هذا خير من إسناد حديث الحسن بحيث أنه يصلح شاهدا لحديث رافع والله أعلم.
فإذا كان كذلك، فهو شاهد للتأذين فإنه الذي ورد في حديث أبي رافع، وأما الإقامة فهي غريبة، والله أعلم
وأقول الآن وقد طبع " الشعب ": إنه لا يصلح شاهدا لأن فيه كذابا ومتروكا، فعجبت من البيهقي ثم ابن القيم كيف اقتصرا على تضعيفه حتى كدت أن أجزم بصلاحيته للاستشهاد! فرأيت من الواجب التنبيه على ذلك وتخريجه فيما يأتي (6121)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২২ | 322 | ۳۲۲

৩২২। আমি আমার প্রভুর কাছে চেয়েছি, যেন আমার পরিবারের মধ্য হতে কাউকে জাহান্নামে দেয়া না হয়। তিনি তা আমাকে দিয়েছেন।

হাদীসটি জাল।

এটি ইবনু বিশরান “আল-আমালী” গ্রন্থে (১/৫৬) বর্ণনা করেছেন। যার সূত্রে আবূ হামযা আস-সুমালী এবং মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস রয়েছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসটির সনদ জাল (বানোয়াট)। আবু হামযা হচ্ছেন সাবেত ইবনু আবী সুফিয়া। তিনি নির্ভরযোগ্য নন, যেরূপভাবে নাসাঈ ও অন্যরা বলেছেন। এছাড়া মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস হচ্ছেন কুদায়মী। তিনি জালকারী হিসাবে প্রসিদ্ধ। তা সত্ত্বেও সুয়ূতী হাদীসটি তার “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করে ঠিক করেননি।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

سألت ربي عز وجل أن لا يدخل أحدا من أهل بيتي النار فأعطانيها
موضوع

-

أخرجه ابن بشران في " الأمالي " (56 / 1) أخبرنا أبو سهل أحمد بن محمد بن عبد الله بن زياد القطان، حدثنا محمد بن يونس، حدثنا أبو على الحنفي، حدثنا إسرائيل عن أبي حمزة الثمالي عن أبي رجاء عن عمران بن حصين مرفوعا
قلت: وهذا إسناد موضوع، أبو حمزة الثمالي اسمه ثابت بن أبي صفية ليس بثقة كما قال النسائي وغيره، ومحمد بن يونس هو الكديمي وهو وضاع مشهور
وقد أساء السيوطي فأورده في " الجامع الصغير " ولم يتكلم عليه شارحه المناوي بشيء إلا أنه قال: وأخرجه ابن سعد والملا في " سيرته " وهو عند الديلمي وولده بلا سند
وأما في " التيسير " فقال: إسناده ضعيف

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২৩ | 323 | ۳۲۳

৩২৩। যখনই আল্লাহ জানতে পারেন যে, কোন বান্দা তার গুনাহের কারণে অনুতপ্ত হয়েছে, তখনই সে ক্ষমা প্রার্থনা করার পূর্বেই তিনি ক্ষমা করে দেন।

হাদীসটি জাল।

এটি হাকিম (৪/২৫৩) হিশাম ইবনু যিয়াদ সূত্রে আবৃ্য যিনাদ হতে ... বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটির সনদ সহীহ। যাহাবী “আত-তালখীস” গ্রন্থে তার প্রতিবাদ করে বলেছেনঃ হিশাম মাতরূক। ইবনু হিব্বান (৩/৮৮) বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে জাল ও উলট পালটকৃত হাদীস বর্ণনাকারী। এমন কি শ্রবণকারীর নিকট এটিই প্রাধান্য পেত যে, তিনি তা ইচ্ছাকৃতই করছেন। তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করাই জায়েয নয়। এটির আরেকটি সূত্র আছে অন্য ভাষায়। সেটিও জাল। সেটি সম্পর্কে ৭৭৭ নম্বর হাদীসে আলোচনা আসবে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما علم الله من عبد ندامة على ذنب إلا غفر له قبل أن يستغفر
موضوع

-

أخرجه الحاكم (4 / 253) من طريق هشام بن زياد عن أبي الزناد عن القاسم بن محمد عن عائشة مرفوعا، وقال: صحيح الإسناد، ورده الذهبي في " تلخيصه " بقوله: قلت: بل هشام متروك، وقال ابن حبان (3 / 88) : يروي الموضوعات عن الثقات والمقلوبات عن الأثبات، حتى يسبق إلى قلب المستمع أنه كان المتعمد لها لا يجوز الاحتجاج به.
وله طريق أخرى بلفظ: (ما أذنب عبد ...)
قلت: وهو موضوع أيضا، وسيأتي برقم (777) ، والأول من موضوعات " الجامع

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২৪ | 324 | ۳۲٤

৩২৪। যে ব্যাক্তি কোন গুনাহ করল, অতঃপর জানতে পারল যে তার প্রতিপালক রয়েছেন, তিনি যদি চান তাহলে তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন; তাহলেই (আল্লাহ) তাঁকে ক্ষমা করে দিবেন। আর যদি জানে যে, তিনি যদি চান তাহলে তাঁকে শাস্তি দিবেন, তাহলে আল্লাহর উপর তাঁকে ক্ষমা কড়া অপরিহার্য হয়ে যায়।

হাদীসটি জাল।

এটি আবুশ শাইখ তার “আল-আহাদীস” গ্রন্থে (২/১৮), তাবারানী নাসাঈ হতে তার “হাদীস” গ্রন্থে (১/৩১৩), ইবনু হিব্বান “আস-সিকাত” গ্রন্থে (২/১৫০), হাকিম তার “আল-মুসতাদরাক” গ্রন্থে (৪/২৪২), আবু নু’য়াইম তার "আল-হিলইয়াহ" গ্রন্থে (৮/২৮৬) এবং মাশরিক ইবনু আবদিল্লাহ আল-ফাকীহ্ তার “হাদীস” গ্রন্থে (২/৬০) জাবের ইবনু মারযুক আল-মাক্কী সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর হাকিম বলেছেনঃ এটির সনদ সহীহ।

যাহাবী তার প্রতিবাদ করে বলেছেনঃ আল্লাহ্‌র কসম তা নয়। কে এ জাবের যে, তিনি দলীল হতে পারেন?! তিনি হচ্ছেন অপরিচিত, অজ্ঞাত এবং তার হাদীস মুনকার।

হাফিয যাহাবী "আল-মীযান" গ্রন্থে জাবেরের জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেনঃ তিনি মিথ্যার দোষে দোষী। তার থেকে কুতাইবা ইবনু সাঈদ এবং ‘আলী ইবনু বাহার এমন ধরনের হাদীস বর্ণনা করেছেন, যা নির্ভরযোগ্যদের হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ নয়। এ কথাটি ইবনু হিব্বান বলেছেন। তা সত্ত্বেও সুইয়ূতী তার “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من أذنب ذنبا فعلم أن له ربا إن شاء أن يغفره له غفره له وإن شاء عذبه كان حقا على الله أن يغفر له
موضوع

-

أخرجه أبو الشيخ في " أحاديثه " (18 / 2) والطبراني في " حديثه عن النسائي " (313 / 1) وابن حبان في " الثقات " (2 / 150) والحاكم في " المستدرك " (4 / 242) وأبو نعيم في " الحلية " (8 / 286) ومشرق بن عبد الله الفقيه في " حديثه " (60 / 2) من طريق جابر بن مرزوق المكي عن عبد الله بن عبد العزيز بن عبد الله بن عمر بن الخطاب عن أبي طوالة عن أنس مرفوعا، وقال الحاكم: صحيح الإسناد، ورده الذهبي بقوله: قلت: لا والله، ومن جابر حتى يكون حجة؟ ! بل هو نكرة، وحديثه منكر وقال في ترجمة جابر من " الميزان ": متهم، حدث عنه قتيبة بن سعيد وعلي بن بحر بما لا يشبه حديث الثقات، قاله ابن حبان
قلت: ومع ذلك ذكره السيوطي في " الجامع "! ويغني عنه ما أخرجه الحاكم قبيل هذا عن أبي هريرة مرفوعا: " أن عبدا أصاب ذنبا فقال: يا رب أذنبت ذنبا فاغفره لي، فقال ربه عز وجل: علم عبدي أن له ربا يغفر الذنب ويأخذ به، فغفر له.." الحديث وقال: صحيح على شرط الشيخين، ووافقه الذهبي، وهو كما قالا
لكن استدراكه على الشيخين وهم، كما كنت ذكرت في تعليقي على " صحيح الجامع " (2099) ، فقد أخرجه البخاري (رقم 7507) ومسلم (8 / 99) وأحمد أيضا (2 / 296 و405 و492)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২৫ | 325 | ۳۲۵

৩২৫। যে ব্যাক্তি কোন গুনাহ করল। অতঃপর জানতে পারল যে, আল্লাহ তা অবগত হয়েছেন, তবেই তাঁকে ক্ষমা করে দেয়া হবে যদিও সে ক্ষমা প্রার্থনা না করে।

হাদীসটি জাল।

এটি তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/২৭২/১/৪৬৩৩) ইব্রাহীম ইবনু হিরাসা সূত্রে হামযা আয-যায়য়াত হতে ... বর্ণনা করেছেন। হায়সামী বলেন (১০/২১১) তাতে ইব্রাহীম ইবনু হিরাসা রয়েছেন। তিনি মাতরূক।

আমি (আলবানী) বলছিঃ আবু দাউদ ও অন্যরা তাকে মিথ্যুক বলেছেন। এ চারটি হাদীস শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও বাতিল বলে গণ্য হয়। এভাবে শরীয়তে বলা হয়নি যে, শুধুমাত্র অনুতপ্ত হওয়া এবং এটি জ্ঞাত হওয়া যে, গুনাহগার সম্পর্কে আল্লাহ অবহিত, তাহলেই সে নাজাত পেয়ে যাবে। বরং অপরিহার্য হচ্ছে তাকে তাওবায়ে নাসূহা করতে হবে। বুখারীতে কিতাবুত তাওহীদ অধ্যায়ে বর্ণিত (৭৫০৭) হাদীসটি এরূপ বানোয়াট হাদীস হতে আমাদেরকে নিরাপদে রাখতে পারে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من أذنب ذنبا فعلم أن الله قد اطلع عليه غفر له وإن لم يستغفر
موضوع

-

رواه الطبراني في " الأوسط " (1 / 272 / 1 / 4633) من طريق إبراهيم بن هراسة عن حمزة الزيات عن العلاء بن المسيب عن أبيه عن ابن مسعود مرفوعا، قال الهيثمي (10 / 211) : وفيه إبراهيم بن هراسة وهو متروك
قلت: وكذبه أبو داود وغيره، وانظر الحديث قبله
ومما يبطل هذه الأحاديث الأربعة ما تقرر في الشريعة أن النجاة لا تكون بمجرد الندم والعلم أن الله مطلع على المذنب بل لابد من التوبة النصوح
وسوف يأتي حديث آخر بهذا المعنى (6172)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২৬ | 326 | ۳۲٦

৩২৬। আমার উম্মাতের কলহ-বিবাদের সময় যে ব্যাক্তি আমার সুন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে, তার জন্য একশতটি শহীদানের সাওয়াব রয়েছে।

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।

এটি ইবনু আদী “আল-কামিল” গ্রন্থে (২/৯০) এবং ইবনু বিশরান “আল-আমালী” গ্রন্থে (১/৯৩, ২/১৪১) হাসান ইবনু কুতাইবা হতে, তিনি আব্দুল খালেক ইবনুল মুনযির হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির সনদ নিতান্তই দুর্বল। এর কারণ হচ্ছে হাসান ইবনু কুতাইবা। তার সম্পর্কে যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি হালেক (ধ্বংসপ্রাপ্ত)। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস। আবূ হাতিম বলেনঃ তিনি দুর্বল। আযদী বলেনঃ তিনি ওয়াহীউল হাদীস (খুবই দুর্বল)। উকায়লী বলেনঃ তিনি অধিক পরিমাণে সন্দেহ প্রবণ ছিলেন। আর তার শাইখ ইবনুল মুনযির অপরিচিত।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من تمسك بسنتي عند فساد أمتي فله أجر مئة شهيد
ضعيف جدا

-

رواه ابن عدي في " الكامل " (90 / 2) وابن بشران في " الأمالي " (93 / 1 و 141 / 2) عن الحسن بن قتيبة أنبأنا عبد الخالق بن المنذر عن ابن أبي نجيح عن مجاهد عن ابن عباس مرفوعا
قلت: وهذا سند ضعيف جدا، وعلته الحسن بن قتيبة، قال الذهبي في " الميزان ": هالك، قال الدارقطني: متروك الحديث، وقال أبو حاتم: ضعيف وقال الأزدى: واهي الحديث، وقال العقيلي: كثير الوهم
قلت: وشيخه ابن المنذر لا يعرف، وقد عزاه المنذري في " الترغيب " (1 /41) للبيهقي من طريق الحسن هذا
وروي الحديث بلفظ آخر أقرب من هذا، وهو(الأتي)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২৭ | 327 | ۳۲۷

৩২৭। আমার উম্মাতের কলহ-বিবাদের সময় আমার সুন্নাতকে ধারণকারীর জন্য এক শহীদের সওয়াব রয়েছে।

হাদীসটি দুর্বল।

এটি আবু নু’য়াইম “আল-হিলইয়াহ" গ্রন্থে (৮/২০০) তাবারানীর "মুজামুল আওসাত" গ্রন্থের (২/৩১/৫৭৪৬) সূত্র হতে ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আবু নু’য়াইম বলেছেনঃ এটি গারীব। তিনি যা বলেছেন তেমনই। তবে তাবারানী একটু বেশী বলেছেনঃ আব্দুল আযীযের পূত্র আব্দুল মজীদ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তার ব্যাপারে মতভেত রয়েছে। “আত-তাকরীব" গ্রন্থে এসেছেঃ তিনি সত্যবাদী, ভুল করতেন। এছাড়া সনদের আরেক বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু সালেহ আযারীকে আমি চিনি না। হায়সামীও "আল-মাজমা" গ্রন্থে (১/১৭২) বলেছেনঃ তার জীবনী কে রচনা করেছেন আমি তা পাচ্ছি না।

এ হাদীস হতে আমাদেরকে মুক্ত রাখতে পারে "সহীহাহ" গ্রন্থের মধ্যে (৪৯৪) যে হাদীসটি উল্লেখ করেছি সেটিঃ “তোমাদের পরে ধৈর্য ধারণের দিন আসছে। সে সব দিনগুলোতে আজকে তোমরা যার উপর আছ, তাকে ধারণকারীগণ তোমাদের পঞ্চাশ জনের সমান সওয়াব পাবে...”।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

المتمسك بسنتي عند فساد أمتي له أجر شهيد
ضعيف

-

أخرجه أبو نعيم في " الحلية " (8 / 200) من طريق الطبراني وهذا في " الأوسط " (2 / 31 / 5746) حدثنا محمد بن أحمد بن أبي خيثمة، حدثنا محمد بن صالح العذري حدثنا (عبد المجيد بن) عبد العزيز بن أبي رواد عن أبيه عن عطاء عن أبي هريرة مرفوعا، وقال: غريب من حديث عبد العزيز عن عطاء، كذا قال وزاد الطبراني: تفرد به ابنه عبد المجيد
قلت: وهو مختلف فيه، وفي " التقريب ": صدوق يخطيء، ومحمد بن صالح العذري بالذال المعجمة أو المهملة لم أعرفه، وقال الهيثمي في " المجمع " (1 / 172) : رواه الطبراني في " الأوسط " وفيه محمد بن صالح العدوي (كذا) ولم أر من ترجمه، وبقية رجاله ثقات
ومنه تعلم أن قول المنذري (1 / 41) : وإسناده لا بأس به، ليس كما ينبغي
ويغني عنه حديث: " إن من ورائكم أيام الصبر للمتمسك فيهن يومئذ بما أنتم عليه أجر خمسين منكم ... " الحديث، وهو مخرج في " الصحيحة " (494)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২৮ | 328 | ۳۲۸

৩২৮। যে ব্যাক্তি জ্ঞান অর্জন করতে করতে সকাল করল, ফেরেশতারা তার উপর রহমত কামনা করেন এবং তার জন্য তার জীবন ধারনে বরকত ডান করা হবে। তার রিযিক কমিয়া দেয়া হবে না এবং তা তার জন্য হবে বরকতময়।

হাদীসটি জাল।

এটি ইবনু বিশরান (২/৫৪) এবং ইবনু আবদিল বার "জামেউ বায়ানিল ইলমে ওয়া ফাযলিহি" গ্রন্থে (১/৪৫) মুয়াল্লাক হিসাবে আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনু হাশিম সুত্রে মিস'য়ার ইবনু কিদাম হতে, তিনি আতিয়া হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি জাল। ইয়াহইয়া ইবনু হাশিমকে ইবনু মা'ঈন ও অন্যরা মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। আতিয়া আল-আওফী দুর্বল এবং মুদাল্লিস। অতঃপর ইয়াহইয়ার মুতাবায়াত পেয়েছি। তবে সেটি নিতান্তই দুর্বল। সেটি উকায়লী “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে (পৃঃ ২৬) বর্ণনা করে বলেছেনঃ এ হাদীসটি বাতিল। এটির কোন ভিত্তি নেই। সুয়ূতী তার “যায়লু আহাদীসিল মাওযুআহ” গ্রন্থে (পৃঃ ৪৩) হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইবনুল জাওযী “ইলালুল মাওযুআত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। (সঠিক হচ্ছে ইলালুল মুতানাহিয়া গ্রন্থে)।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من غدا في طلب العلم صلت عليه الملائكة وبورك له في معاشه ولم ينتقص من رزقه، وكان عليه مباركا
موضوع

-

ابن بشران (154 / 2) وابن عبد البر في " جامع بيان العلم وفضله " (1 / 45) معلقا من طريق أبي زكريا يحيى بن هاشم، حدثنا مسعر بن كدام عن عطية عن أبي سعيد الخدري مرفوعا
قلت: وهذا إسناد موضوع، يحيى بن هاشم كذبه ابن معين وغيره
وعطية العوفي ضعيف مدلس
ثم وجدت ليحيى متابعا ضعيفا جدا، أخرجه العقيلي في " الضعفاء " (ص 26) : حدثنا يحيى بن عثمان بن صالح قال: حدثنا إسماعيل بن إسحاق الأنصاري قال: حدثنا مسعر بن كدام به، وقال العقيلي: هذا حديث باطل، ليس له أصل، وليس هذا الشيخ (يعني الأنصاري) ممن يقيم الحديث
ومن هذا الوجه ذكره السيوطي في " ذيل الأحاديث الموضوعة " (ص 43) وقال: أورده ابن الجوزي في العلل الموضوعات

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২৯ | 329 | ۳۲۹

আমার ভাই ইউসুফকে আল্লাহ রহম করুন। তিনি যদি এ কথা না বলতেনঃ (হে আল্লাহ) “আপনি আমকে যমীনের ভাণ্ডারগুলো দান করুন”, তাহলে সে মুহূর্তেই তা ব্যবহার করতে পারতেন। কিন্তু উক্ত কারণেই তা এক বছরের জন্য পিছিয়ে দেয়া হয়।

হাদীসটি জাল।

হাফিয ইবনু হাজার “তাখরীজুল কাশশাফ” গ্রন্থে (৪/৯০) বলেনঃ এটি সালাবী ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে ইসহাক ইবনু বিশরের বর্ণনা থেকে উল্লেখ করেছেন এবং তিনি যুওয়াইবীর হতে ... বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি সাকেত (গ্রহণযোগ্য নয়)। এটি সালাবী সূত্রে ওয়াহেদী তার “তাফসীর” গ্রন্থে (১/৯৩) বর্ণনা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

رحم الله أخي يوسف لولم يقل: {اجعلني على خزائن الأرض} لاستعمله من ساعته، ولكنه أخر لذلك سنة
موضوع

-

قال الحافظ ابن حجر في " تخريج الكشاف " (4 / 90) : أخرجه الثعلبي عن ابن عباس من رواية إسحاق بن بشر عن جويبر عن الضحاك عنه، وهذا إسناد ساقط ومن طريق الثعالبي رواه الواحدي في " تفسيره " (93 / 1)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩৩০ | 330 | ۳۳۰

৩৩০। আমি আল্লাহর নিকট চাইলাম যেন আমার উম্মাতের হিসাব-কিতাব আমার উপর দিয়ে দেয়া হয়; যাতে করে আমার অন্য উম্মাতগুলোর সম্মুখে অপদস্থ না হতে হয়। তখন আল্লাহ আমার নিকট ওহী মারফত জানালেনঃ হে মুহাম্মদ! আমি তাঁদের হিসাব গ্রহণ করব, তাঁদের মধ্য হতে কারো যদি কোন অপদস্থতা থাকে তাহলে আমি তা আপনার নিকট হতে লুকিয়ে ফেলব, যাতে করে আপনার নিকট আপনার উম্মাত অপদস্থ না হন।

হাদীসটি জাল।

এটি দাইলামী “মুসনাদ” গ্রন্থে (২/১০১) তার নিজ সনদে আবু বাকর নাক্কাশ হতে, তিনি হাসান ইবনু সাকার হতে ... বর্ণনা করেছেন। সুয়ূতী "যায়লুল আহাদীসিল মাওযুআহ" গ্রন্থে (পৃঃ ১৭৯) দাইলামীর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করে বলেছেনঃ নাক্কাশ মিথ্যার দোষে দোষী।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ কথা বলা সত্ত্বেও তিনি তার “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটি দাইলামীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্যকার মানাবী চুপ থেকেছেন। সম্ভবত এটির সনদ সম্পর্কে তিনি অবহিত হননি।

অতঃপর সুয়ূতী ইবনু নাজ্জারের বর্ণনা হতে আনাস ইবনু মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন। এ সনদে মুহাম্মাদ ইবনু আইউব আর-রাকী নামক এক বর্ণনাকারী আছেন। তার সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন।

ইবনু আররাকও হাদীসটি "তানযীহুশ শারীয়াহ" গ্রন্থে (কাফ ১/৪০০) উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

سألت الله أن يجعل حساب أمتي إلي لئلا تفتضح عند الأمم، فأوحى الله إلي: يا محمد بل أنا أحاسبهم فإن كان منهم زلة سترتها عنك لئلا تفتضح عندك
موضوع

-

أخرجه الديلمي في " مسنده (2 / 101) بسنده عن أبي بكر النقاش عن الحسن بن الصقر عن يوسف بن كثير عن داود بن المنذر عن بشر بن سليمان الأشعبي عن الأعرج عن أبي صالح عن أبي هريرة مرفوعا به، وأورده السيوطي في " ذيل الأحاديث الموضوعة " (ص 179) من رواية الديلمي ثم قال: النقاش متهم
قلت: ومع هذا فقد ذكره في كتابه " الجامع الصغير " من رواية الديلمي عن أبي هريرة! وسكت عليه شارحه المناوي فلم يزد على قوله: ورواه ابن شادني وغيره، كذا، وكأنه لم يقف على إسناده، وإلا لم يجز له السكوت عليه ولا أن يقتصر على تضعيف إسناده في كتابه الآخر " التيسير "، ثم ذكره السيوطي من رواية ابن النجار عن أنس بن مالك نحوه، وفيه محمد بن أيوب الرقي، قال ابن حبان: كان يضع الحديث
وأورده ابن عراق أيضا في " تنزيه الشريعة المرفوعة عن الأحاديث الشنيعة الموضوعة " (ق 400 / 1)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [321]  থেকে  [330]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [500]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।