• ৭০৪৫৯ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৬৯৭০ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [500] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [31]  থেকে  [40]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩১ | 31 | ۳۱

৩১। দুনিয়া হচ্ছে মু’মিন ব্যাক্তির এক পদক্ষেপ।

হাদীসটির কোন ভিত্তি নাই।

হাদীসটি সম্পর্কে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়া “আল-ফাতাওয়া” গ্রন্থে (১/১৯৬) বলেনঃ
এটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে, এছাড়া উম্মাতের সালাফ (সাহাবী ও তাবেঈ) এমনকি ইমামগণ হতেও জানা যায় না। হাদীসটি সুয়ূতী “যায়লুল আহাদীছিল মাওযুআহ” গ্রন্থে (১১৮৭ নং) উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الدنيا خطوة رجل مؤمن
لا أصل له

-

قال شيخ الإسلام ابن تيمية في " الفتاوى " (1 / 196) : لا يعرف عن النبي صلى الله عليه وسلم ولا عن غيره من سلف الأمة ولا أئمتها
وأورده السيوطي في " ذيل الأحاديث الموضوعات " برقم (1187)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩২ | 32 | ۳۲

৩২। আখেরাতের অধিবাসীদের জন্য দুনিয়া হারাম এবং দুনিয়ার অধিবাসীদের জন্য আখেরাত হারাম। দুনিয়া ও আখেরাতের উভয়টই হারাম আল্লাহর ওয়ালাদের জন্য।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি সে সব হাদীসের একটি যার দ্বারা সুয়ূতী তার “জামেউস সাগীর” গ্রন্থকে কালিমালিপ্ত করে বলেছেন যে, দাইলামী “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

মানাবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ এ হাদীসের সনদে জাবালাত ইবনু সুলায়মান নামে এক বর্ণনাকারী রয়েছেন। যাহাবী তাকে “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ তার সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সত্যিই যিনি এ হাদীস বর্ণনা করবেন তিনি নির্ভরযোগ্য হবেন না, বরং তিনি হবেন অত্যন্ত নিকৃষ্ট মিথ্যুক। কারণ এ হাদীসটি বাতিল তাতে কোন বিবেকবান মু'মিন সন্দেহ পোষণ করতে পারেন না। কীভাবে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আখেরাতের অধিবাসী মুমিনদের উপর দুনিয়াকে হারাম করেন। যার উত্তম উত্তম বস্তু দ্বারা উপকৃত হওয়াকে তাদের জন্য স্বয়ং আল্লাহ হালাল করে দিয়েছেন তার (هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا) তিনিই সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য যমীনের সব কিছুকে সৃষ্টি করেছেন" (সূরা বাক্কারাহঃ ২৯) এ বাণী দ্বারা, তিনি আরো বলেছেনঃ

قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ

“আপনি বলে দিন আল্লাহর অলংকারাজী, যা তিনি তাঁর বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং পানাহারের হালাল বস্তুগুলোকে কে হারাম করেছে। আপনি বলে দিন সে নেয়ামাতগুলো মুমিনদের জন্যেই পার্থিব জীবনে এবং বিশেষ করে কিয়ামত দিবসে..." (সূরা আল আরাফঃ ৩২)।

অতঃপর কীভাবে বলা সম্ভব যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়া ও আখেরাতকে একসাথে হারাম করে দিয়েছেন আল্লাহ ভক্তদের উপর। অথচ আল্লাহ ভক্তরাই হচ্ছেন কুরআনের ভক্ত। যারা তাকে প্রতিষ্ঠা করে এবং তাঁর নির্দেশাবলীর উপর আমল করে। আর আখেরাত হয় জান্নাত নয়তোবা জাহান্নাম। আল্লাহ ভক্তদের উপর জাহান্নামকে আল্লাহ হারাম করে দিয়েছেন। এ সংবাদ তিনি নিজেই দিয়েছেন, যেমনিভাবে তিনি মুমিনদের জন্য জান্নাতকে ওয়াজিব করে দিয়েছেন। কীভাবে এ মিথ্যুক বলে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আখেরাতকে তাদের উপর হারাম করে দিয়েছেন? অথচ এ আখেরাতেই রয়েছে জান্নাত, যা মুত্তাকীদের জন্য ওয়াদা করা হয়েছে।

আমার ধারণা এ হাদীসটির জালকারী হচ্ছেন একজন মূৰ্খ সূফী। তিনি এ দ্বারা মুসলমানদের মাঝে সূফী আকীদাহ ছড়িয়ে দিতে চেয়েছেন।

অতঃপর আমি দাইলামীর “মুসনাদ” গ্রন্থে এটির সনদ সম্পর্কে (২/১৪৮) অবহিত হয়েছি। তাতে (তিনজন) বর্ণনাকারী রয়েছেন, যাদেরকে আমি চিনি না। এ ছাড়াও এটি ইবনু যুরায়েজ হতে আন আন্ শব্দে বর্ণিত হয়েছে। তিনি মুদাল্লিস বর্ণনাকারী। [মুদাল্লিস-এর অর্থ দেখুন ৫৭ নং পৃষ্ঠায়।]



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الدنيا حرام على أهل الآخرة، والآخرة حرام على أهل الدنيا، والدنيا والآخرة حرام على أهل الله
موضوع

-

وهو من الأحاديث التي شوه بمثلها السيوطي " الجامع الصغير " وعزاه للديلمى في " مسند الفردوس " عن ابن عباس وقد تعقبه المناوي بقوله: وفيه جبلة بن سليمان أورده الذهبي في " الضعفاء " وقال: قال ابن معين: ليس بثقة
قلت: حري بمن روى هذا الخبر أن يكون غير ثقة، بل هو كذاب أشر، فإنه خبر باطل لا يشك في ذلك مؤمن عاقل، إذ كيف يحرم رسول الله صلى الله عليه وسلم على المؤمنين أهل الآخرة ما أباحه الله تعالى لهم من التمتع بالدنيا وطيباتها كما في قوله عز وجل {هو الذي خلق لكم ما في الأرض جميعا} وقوله: {قل من حرم زينة الله التي أخرج لعباده والطيبات من الرزق، قل هي للذين آمنوا في الحياة الدنيا، خالصة يوم القيامة}
ثم كيف يجوز أن يقال: إن رسول الله صلى الله عليه وسلم حرم الدنيا والآخرة معا على أهل الله تعالى وما أهل الله إلا أهل القرآن القائمين به والعاملين بأحكامه، وما الآخرة إلا جنة أو نار، فتحريم النار على أهل الله مما أخبر
به الله تعالى، كما أنه تعالى أو جب الجنة للمؤمنين به، فكيف يقول هذا الكذاب أن رسول الله صلى الله عليه وسلم حرم عليهم الآخرة وفيها الجنة التي وعد المتقون، وفيها أعز شيء عليهم وهي رؤية الله تعالى كما قال سبحانه {وجوه يومئذ ناضرة إلى ربها ناظرة} وهل ذلك إلا في الآخرة؟ وقال صلى الله عليه وسلم: " إذا دخل أهل الجنة الجنة، يقول الله تعالى: تريدون شيئا أزيدكم؟ فيقولون: ألم تبيض وجوهنا، ألم تدخلنا الجنة وتنجينا من النار؟ قال: فيكشف الحجاب، فما أعطوا شيئا أحب إليهم من النظر إلى ربهم ثم تلا هذه الآية {للذين أحسنوا الحسنى وزيادة} " رواه مسلم وغيره
والذي أراه إن واضع هذا الحديث هو رجل صوفى جاهل أراد أن يبث في المسلمين بعض عقائد المتصوفة الباطلة التي منها تحريم ما أحل الله بدعوى تهذيب النفس، كأن ما جاء به الشارع الحكيم غير كاف في ذلك حتى جاء هؤلاء يستدركون على خالقهم سبحانه وتعالى
ومن شاء أن يطلع على ما أشرنا إليه من التحريم فليراجع كتاب " تلبيس إبليس " للحافظ أبي الفرج بن الجوزي ير العجب العجاب
ثم وقفت على إسناد الديلمي في " مسنده " (2 / 148) فرأيته قد أخرجه من طريق عبد الملك بن عبد الغفار: حدثنا جعفر بن محمد الأبهري: حدثنا أبو سعيد القاسم ابن علقمة الأبهري: حدثنا الحسن بن على بن نصر الطوسي: حدثنا محمد بن حرب حدثنا جبلة بن سليمان عن ابن جريج عن عطاء عن ابن عباس مرفوعا
أقول: فإن لم تكن العلة من جبلة أو عنعنة ابن جريج فهي من أحد الثلاثة الذين دون الطوسي فإني لم أعرفهم، والله أعلم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩৩ | 33 | ۳۳

৩৩। দুনিয়া হচ্ছে আখেরাতের সতীন।

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এর কোন ভিত্তি নেই।

যেমনটি “আল- কাশফ” সহ অন্যান্য গ্রন্থে বলা হয়েছে। অনুরূপভাবে ঈসা (আঃ)-এর বাণী হিসাবেও বর্ণনা করা হয়ে থাকে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الدنيا ضرة الآخرة ".
لا أصل له

-

عن النبي صلى الله عليه وسلم، كما في " الكشف " وغيره، وإنما يروى من كلام عيسى عليه السلام نحوه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩৪ | 34 | ۳٤

৩৪। দুনিয়া থেকে তোমরা বেঁচে চল, কারন তা হচ্ছে হারুত ও মারূতের চেয়েও অধিক যাদুকর।

হাদীসটি মুনকার এর কোন ভিত্তি নেই।


“তীখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/১৭৭) ইরাকী বলেনঃ হাদীসটি ইবনু আবিদ দুনিয়া ও বাইহাকী “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে আবুদ-দারদা আর-রাহাবীর বর্ণনা সূত্রে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। বাইহাকী বলেন, তাদের কেউ বলেছেনঃ আবুদ দারদা কোন একজন সাহাবী হতে বর্ণনা করেছেন। যাহাবী বলেনঃ আবুদ-দারদা কে তা জানা যায় না। আরো বলেনঃ এটি মুনকার, এর কোন ভিত্তি নেই।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে (৬/৩৭৫) তা সমর্থন করেছেন।

যিনি ধারণা করবেন যে, আবুদ-দারদা সাহাবী তিনি ভুল করবেন। সুয়ূতী “জামেউস সাগীর” ও “দুররুল মানসূর” গ্রন্থে (১/১০০) এমনটিই বুঝিয়েছেন বলে লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তিনি বলেছেনঃ আবুদ-দারদা হতে। এ ক্ষেত্রে মানাবীও তার অনুসরণ করেছেন। মোটকথা হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে এ আবুদ-দারদাই, তিনি মাজহুল [অপরিচিত], তিনি সাহাবী নন।

হাদিসের মানঃ  মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

احذروا الدنيا فإنها أسحر من هاروت وماروت
منكر لا أصل له

-

قال العراقي في " تخريج الإحياء " (3 / 177) : رواه ابن أبي الدنيا والبيهقي في " الشعب " من طريقه من رواية أبي الدرداء الرهاوي مرسلا، وقال البيهقي: أن بعضهم قال: عن أبي الدرداء عن رجل من الصحابة قال الذهبي: لا يدرى من أبو الدرداء، قال وهذا منكر لا أصل له
قلت: وقد أقره الحافظ ابن حجر في " لسان الميزان " (6 / 375)
ومن ظن أن أبا الدرداء هذا هو الصحابي فقد أخطأ، وعليه جرى فيما يظهر السيوطي في " الجامع " وفي " الدر المنثور " (1 / 100) حيث قال: عن أبي الدرداء فأطلقه ولم يقيده، وتبعه في ذلك المناوي حيث لم يتعبه بشيء في " الفيض " وإنما قال: ولم يرمز له بشيء، وهو ضعيف لأن فيه هشام بن عمار
الأصل كمال وهو تحريف
قال الذهبي: قال أبو حاتم: صدوق وقد تغير، وكان كلما لقن يتلقن
وقال أبو داود: حدث بأرجح من أربع مئة حديث لا أصل لها
وهذا الإعلال فيه نظر، فإن للحديث طريقين عن أبي الدرداء كما يستفاد من " اللسان "، فالعلة الحقيقية هي جهالة أبي الدرداء هذا ورواه ابن عساكر (2 /333 / 2) من قول أرطاة بن المنذر فالظاهر أنه من الإسرائيليات
تنبيه: كنت قد خرجت الحديث مسلما بما قاله الحافظ معزو الابن أبى الدنيا والبيهقي ثم طبع الكتابان والحمد لله، ووقفت على إسناده وقول البيهقى عقبه
إن فيه علة أخرى، وإنه ليس له طريق أخرى خلافا لقول الحافظ، فرأيت أنه لابد لى من بيان ذلك، فأقول
1 - أما العلة فتتبين بعد سوق السند، فقال ابن أبى الدنيا فى " ذم الدنيا
(54/132) - ومن طريقه البيهقى فى " شعب الإيمان " (7/339/10504) -: حدثنى أبو حاتم الرازى: حدثنا هشام بن عمار: حدثنا صدقة - يعنى: ابن خالد - عن عتبة بن أبى حكيم: حدثنا أبو الدرداء الرهاوى..... وقال البيهقى: وقال غيره عن هشام بإسناده عن رجل من أصحاب النبى صلى الله عليه وسلم
قلت: فالعلة عتبة هذا، فقد قال الحافظ: " صدوق يخطئ كثيرا
2 - وأما الطريق فقد قال الذهبى فى " الميزان ": " أبو الدرداء الرهاوى عن رجل له صحبة بحديث: " اتقوا الدنيا.... " لا يدرى من ذا، والخبر منكر لا أصل له
فقال الحافظ عقبه: " أخرجه البيهقى فى " الشعب " من روايته عن أبى الدرداء به، وأخرجه أيضا من طريق أخرى عن أبى الدرداء مرسلا، وهو عند ابن أبى الدنيا فى " ذم الدنيا " من هذا الوجه "
قلت: إذا تأملت الإسناد المذكور من رواية ابن أبى الدنيا والبيهقى علمت أنها ليست طريقا أخرى، وإنما هى الأولى عن أبى الدرداء الرهاوى مرسلا، فهو من أوهام الحافظ رحمه الله، ويؤكد ذلك قول البيهقى المتقدم: " وقال غيره: عن هشام..... " إلخ، ومن الواضح أنه يعنى بضمير (غيره) أبا حاتم الرازى، فهذه طريق أخرى مع كونها معلقة، ولكنها عن هشام وليست عن أبى الدرداء كما وهم الحافظ، فالطريق عنه فى الحقيقة واحدة، غاية ما فى الأمر أن أبا حاتم الحافظ رواه عن هشام بإسناده الضعيف عنه مرسلا، ورواه غيره - وهو مجهول - عنه عن أبى الدرداء عن الصحابى، والمرسل هو الصحيح على ضعفه، فهذا ما لزم بيانه. اهـ

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩৫ | 35 | ۳۵

৩৫। যে আযান দিবে সেই যেন ইকামত দেয়।

এ শব্দে হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

বর্ণিত হয়েছে এ ভাষায় من أذن فهو يقيم “যে আযান দিবে সেইকামাত দিবে” এ ভাষাতেও হাদীসটি দুর্বল। (১/২৬৫,২৬৬) ও ইবনু আসাকির (৯/৪৬৬,৪৬৭) আবদুর রহমান ইবনু যিয়াদ আল-ইফরীকী সূত্রে ...বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি এ আল-ইফরীকীর কারণে দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মুখস্থ বিদ্যায় দুর্বল ছিলেন। ইমাম তিরমিযীও তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেছেনঃ

إنما نعرفه من حديث الإفريقى، وهو ضعيف عند أهل الحديث

এ হাদীসটিকে ইফরীকী সূত্রেই চিনি, তিনি গণের নিকট দুর্বল।

হাদীসটিকে বাগাবীও “শারহুস সুন্নাহ" গ্রন্থে (২/৩০২) দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইমাম নাবাবীও “আল-মাজমূ” গ্রন্থে (৩/১২১) তেমনটিই বলেছেন। বাইহাকী “সুনানুল কুবরা” গ্রন্থে (১/৪০০) দুর্বল বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। হাদীসটি অন্য সূত্রেও ইবনু উমার (রাঃ) হতে আবদু ইবনে হামীদ “আল-মুনতাখাব মিন মুসনাদিহি” গ্রন্থে (২/৮৮), আবু উমাইয়্যাহ্ “আত-তারসূসী মুসনাদু ইবনে উমর” গ্রন্থে (১/২০২), ইবনু হিব্বান “আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (১/৩২৪), বাইহাকী, তাবারানী (৩/২৭/২) ও উকায়লী “আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (পৃঃ ১৫০) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ সূত্রেও হাদীসটি দুর্বল।

হাদীসটিকে বাইহাকীও দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেনঃ সাঈদ ইবনু রাশেদ এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, তিনি দুর্বল।

হাফিয ইবনু হাজারও “আত-তালখীস” (৩/১০) গ্রন্থে অনুরূপ কথা বলেছেন। তিনি বলেনঃ আবু হাতিম আর-রায়ী ও ইবনু হিব্বান “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে এ হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু আবী হাতিম “ইলালুল হাদীস” গ্রন্থে (নং ৩২৬) তার পিতার উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ এ হাদীসটি মুনকার, সাঈদ হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। আরেকবার বলেছেনঃ তিনি মাতরূকুল হাদীস।

ইবনু আবী হাতিম হাদীসটি ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে (১/২৯৫) বর্ণনা করেছেন। যার সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনুল ফযল ইবনে আতিয়া রয়েছেন। তিনি মিথ্যার দোষে দোষী। ইবনু আদী বলেনঃ নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীগণ তার অধিকাংশ হাদীসের মুতাবা'য়াত করেননি।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من أذن فليقم
لا أصل له بهذا اللفظ

-

وإنما روى بلفظ: " من أذن فهو يقيم " رواه أبو داود والترمذي وأبو نعيم في " أخبار أصبهان " (1 / 265 - 266) وابن عساكر (9 / 466 - 467) وغيرهم من طريق عبد الرحمن بن زياد الإفريقى عن زياد بن نعيم الحضرمي عن زياد بن حارث الصدائي مرفوعا
وهذا سند ضعيف من أجل الإفريقى هذا، قال الحافظ في " التقريب ": ضعيف في حفظه، وضعفه الترمذي فقال عقب الحديث: إنما نعرفه من حديث الإفريقى، وهو ضعيف عند أهل الحديث
وضعف الحديث أيضا البغوي في " شرح السنة " (2 / 302) وارتضاه الإمام النووي " المجموع " (3 / 121) وأشار لتضعيفه البيهقي في " سننه الكبرى " (1 / 400)
وأما قول ابن عساكر: هذا حديث حسن فلعله يعني حسن المعنى
وقد ذهب إلى توثيق الإفريقى المذكور بعض الفضلاء المعاصرين وبناء عليه ذهب إلى أن حديثه هذا صحيح! وذلك ذهول منه عن قاعدة الجرح مقدم على التعديل إذا تبين سبب الجرح، وهو بين هنا وهو سوء الحفظ، وقد أنكر عليه هذا الحديث وغيره سفيان الثوري
وروى الحديث عن ابن عمر ولكنه ضعيف أيضا، رواه عبد بن حميد في " المنتخب من مسنده " (88 / 2) وأبو أمية الطرسوسي في " مسند ابن عمر " (202 / 1) وابن حبان في الضعفاء (1 / 324) والبيهقي والطبراني (3 / 27 / 2) والعقيلي في " الضعفاء " (ص 150)
وضعفه البيهقي أيضا فقال: تفرد به سعيد بن راشد وهو ضعيف وكذا قال الحافظ ابن حجر في " التلخيص " (3 / 10) قال: وضعف حديثه هذا أبو حاتم الرازي وابن حبان في الضعفاء
وعنه رواه شيخ الإسلام ابن تيمية في " أربعون حديثا " (ص 24)
قلت: ونص كلام أبي حاتم كما في " علل الحديث " لابنه قال (رقم 326)
وقال أبي: هذا حديث منكر، وسعيد ضعيف الحديث، وقال مرة: متروك الحديث
وقد بسطت الكلام على ضعف هذا الحديث في كتابي " ضعيف سنن أبي داود " (رقم 83)
وأما قول العقيلي عقب حديث ابن عمر: وقد روي هذا المتن بغير هذا الإسناد من وجه صالح، فإن أراد طريق الإفريقى فهو غير مسلم لما عرفت من ضعفه، والعقيلي نفسه أورده في " الضعفاء " (232) ، وإن أراد طريقا ثالثا فلم أعرفه
ورواه ابن عدي (295 / 1) من حديث ابن عباس، وفيه محمد بن الفضل بن عطية وهو متهم بالكذب كما تقدم وقال ابن عدي: عامة حديثه لا يتابعه الثقات عليه
ومن آثار هذا الحديث السيئة أنه سبب لإثارة النزاع بين المصلين كما وقع ذلك غيرما مرة، وذلك حين يتأخر المؤذن عن دخول المسجد لعذر، ويريد بعض الحاضرين أن يقيم الصلاة، فما يكون من أحدهم إلا أن يعترض عليه محتجا بهذا الحديث، ولم يدر المسكين أنه حديث ضعيف لا يجوز نسبته إليه صلى الله عليه وسلم فضلا عن أن يمنع به الناس من المبادرة إلى طاعة الله تعالى، ألا وهي إقامة الصلاة

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩৬ | 36 | ۳٦

৩৬। দেশকে ভালবাসা ঈমানের অঙ্গ (দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ)।

হাদীসটি জাল।

যেমনিভাবে সাগানী (পৃঃ ৭) ও অন্যরা বলেছেন। এটির অর্থও সহীহ নয়। কারণ এ ভালবাসা নিজকে এবং সম্পদকে ভালবাসার মতই প্রত্যেক ব্যক্তির মধ্যেই মূলগত ভাবে বিদ্যমান। শারীয়াতের দৃষ্টিকোণ থেকে এ ভালবাসার প্রশংসা করা যায় না। এটি ঈমানের জন্য অপরিহার্যও নয়। আপনারা কী দেখছেন না যে, এ ভালবাসায় মু'মিন এবং কাফিরের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

حب الوطن من الإيمان
موضوع

-

كما قال الصغاني (ص 7) وغيره
ومعناه غير مستقيم إذ إن حب الوطن كحب النفس والمال ونحوه، كل ذلك غريزي في الإنسان لا يمدح بحبه ولا هو من لوازم الإيمان، ألا ترى أن الناس كلهم مشتركون في هذا الحب لا فرق في ذلك بين مؤمنهم وكافرهم؟

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩৭ | 37 | ۳۷

৩৭। মানুষের মাঝে এমন এক যামানা আসবে যখন তাঁরা বাঘের ন্যায় হবে। অতঃপর যে ব্যাক্তি বাঘ না হতে পারবে তাঁকে বাঘগুলো খেয়ে ফেলবে।

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।

ইবনুল জাওযী তার “আল-মাওযু"আত” গ্রন্থে (৩/৮০) দারাকুতনীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন। এ সনদে যিয়াদ ইবনু আবী যিয়াদ আল-জাসসাস নামক এক বর্ণনাকারী আছেন।

দারাকুতনী বলেনঃ যিয়াদ এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তিনি মাতরূক [অগ্রহণযোগ্য]।

সুয়ূতী তার “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/১৫২) বলেনঃ “আল-মীযান” গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, যিয়াদ দুর্বল হওয়ার বিষয়ে সকলে একমত পোষণ করেছেন। ইবনু হিব্বান তাকে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং বলেছেন যে, কখনও কখনও ক্রটি করতেন। তাবারানীও হাদীসটি “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তাবারানীর বর্ণনায় হায়সামী “আল-মাজমা" গ্রন্থে (৭/২৮৭, ৮/৮৯) উল্লেখ করে হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেনঃ এর সনদের মধ্যে এমন সব ব্যক্তি রয়েছেন যাদে কে চিনি না।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

يأتي على الناس زمان هم فيه ذئاب، فمن لم يكن ذئبا أكلته الذئاب
ضعيف جدا

-

أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 80) من طريق الدارقطني بسنده إلى زياد بن أبي زياد الجصاص، حدثنا أنس بن مالك مرفوعا وقال: قال الدارقطني: تفرد به زياد وهو متروك، وقال السيوطي في " اللآليء " (2 /156) : قلت: قال في " الميزان ": هو مجمع على تضعيفه وذكره ابن حبان في " الثقات " وقال: ربما يهم، والحديث أخرجه الطبراني في " الأوسط
قلت: وبرواية الطبراني أورده الهيثمي في " المجمع " (7 / 287، 8 / 89) وأعله بقوله: وفيه من لم أعرفهم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩৮ | 38 | ۳۸

৩৮। যে ব্যাক্তি চল্লিশ দিনকে নিছক আল্লাহর উদ্দেশ্যে নির্দিষ্ট করবে, তাঁর ভাষায় বিচক্ষণতার ঝর্ণাধারা উদ্ভাসিত হবে।

হাদীসটি দুর্বল।

হাদীসটি আবু নু’য়াইম “আল-হিলইয়্যাহ” গ্রন্থে (৫/১৮৯) মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল সুত্রে আবূ খালেদ ইয়াযীদ ওয়াসেতী হতে, তিনি হাজ্জাজ হতে ... বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া হুসাইন আল-মারওয়ায়ী “জাওয়ায়েদুয যুহুদ” গ্রন্থে (১/২০৪), ইবনু আবী শাইবাহ “আল-মুসান্নাফ" গ্রন্থে (১৩/২৩১) ও হান্নাদ “আল-যুহুদ” গ্রন্থে (৬৭৮ নং) উল্লেখ করেছেন। ইবনুল জাওযী হাদীসটি তার “মাওযূ"আত” গ্রন্থে (৩/১৪৪) আবু নয়াইম সূত্রে উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়। ইয়াযীদ ইবনু আবী ইয়াযীদ আব্দুর রহমান ওয়াসেতী অধিক পরিমাণে ভুল করতেন, হাজ্জাজ ক্রটি যুক্ত ব্যক্তি, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল অপরিচিত এবং আবু আইউব (রাঃ) হতে মাকহুলের শ্রবণ সাব্যস্ত হয়নি।

সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/১৭৬) তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে শুধুমাত্র দুর্বল বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন। মাকহুল হতে মুরসাল হিসাবে তার অন্য একটি সূত্র রয়েছে, যাতে মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাইল ও ইয়াযীদ নেই।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সনদে বর্ণিত হাজ্জাজ হচ্ছেন ইবনু আরতাত-তিনি মুদাল্লিস, আন আন শব্দে বর্ণনা করেছেন। তা সত্ত্বেও মুরসাল। হাদীসটিকে সাগানী “আহাদীসুল মাওযু আত” গ্রন্থে (পৃ ৭) উল্লেখ করেছেন।

এ হাদীসটির অন্য একটি সনদ পেয়েছি, সেটি কাযাঈ বর্ণনা করেছেন। তাতেও সেওয়ার ইবনু মুস'য়াব নামক একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তার সম্পর্কে নাসাঈ সহ প্রমুখ মহাদিসগণ বলেছেনঃ তিনি মাতরূক। সুতরাং হাদীসটি দুর্বল।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من أخلص لله أربعين يوما ظهرت ينابيع الحكمة على لسانه
ضعيف

-

أخرجه أبو نعيم في " الحلية " (5 / 189) من طريق محمد بن إسماعيل: حدثنا أبو خالد يزيد الواسطي أنبأنا الحجاج عن مكحول عن أبي أيوب الأنصاري مرفوعا به، وقال أبو نعيم: كذا رواه يزيد الواسطي متصلا، ورواه أبو معاوية عن الحجاج فأرسله
قلت: ثم ساقه من طريق هناد بن السري حدثنا أبو معاوية عن حجاج عن مكحول مرسلا
وكذلك رواه الحسين المروزي في " زوائد الزهد " (204 / 1 من " الكواكب " /575) وابن أبي شيبة في " المصنف " (13 / 231) وهناد في " الزهد " (رقم 678) من طريقه عن حجاج به
فالحديث إذا عن حجاج عن مكحول مرسل، ووصله لا يصح، وقد أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 144) من طريق أبي نعيم الموصول ثم قال: لا يصح، يزيد بن أبي يزيد عبد الرحمن الواسطي كثير الخطأ، وحجاج مجروح، ومحمد بن إسماعيل مجهول، ولا يصح سماع مكحول لأبي أيوب
وتعقبه السيوطي في " اللآليء المصنوعة " (2 / 176) بقوله: قلت: اقتصر العراقي في " تخريج الإحياء " على تضعيف الحديث، وله طريق عن مكحول مرسل ليس فيه محمد بن إسماعيل ولا يزيد
قلت: ثم ذكره من طريق أبي نعيم وغيره عن حجاج عن مكحول مرسلا، وسكت عليه وهو ضعيف لأن حجاجا وهو ابن أرطاة مدلس وقد عنعنه، ثم هو مرسل، والحديث أورده الصغاني في " الأحاديث الموضوعة " (ص 7)
ثم وجدت له طريقا آخر، رواه القضاعي (30 / 1) عن عامر بن سيار قال: أنبأنا سوار بن مصعب عن ثابت عن مقسم عن ابن عباس مرفوعا وقال: كأنه يريد بذلك من يحضر العشاء الآخرة والفجر في جماعة، ومن حضرها أربعين يوما يدرك التكبيرة الأولى كتب له براءتان
لكن سوار هذا متروك كما قال النسائي وغيره

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৩৯ | 39 | ۳۹

৩৯। যে ব্যাক্তি আসরের পর ঘুমবে, তার জ্ঞান ছিনিয়ে নেয়া হবে। ফলে সে শুধুমাত্র নিজেকেই দোষারোপ করবে।

হাদীসটি দুর্বল।

হাদীসটি ইবনু হিব্বান “আয-যুয়াফা ওয়াল মাতরূকীন" গ্রন্থে (১/২৮৩) খালিদ ইবনুল কাসেম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযী “মাওযু"আত” গ্রন্থে (৩/৬৯) হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়। কারণ খালেদ মিথ্যুক। হাদীসটি মূলত ইবনু লাহীয়ার, খালিদ তা ছিনিয়ে নিয়েছেন। অতঃপর তাকে লাইস-এর সূত্রে গেথে দিয়েছেন।

তৃতীয় সূত্রে মারওয়ান হতে বর্ণনা করা হয়েছে। সেটি ইবনু আদী “আল কামিল গ্রন্থে (কাফ ২১১/১৯ ও সাহমী “তারীখু জুরজান' গ্রন্থে (৫৩) উল্লেখ করেছেন। মারওয়ান বলেনঃ আমি লাইস ইবনু সা'দকে এমতাবস্থায় বললাম যে, তিনি রামাযান মাসে আসরের পরে ঘুমাচ্ছিলেনঃ হে আবুল হারিস কী হয়েছে আপনার যে আপনি আসরের পরে ঘুমাচ্ছেন? অথচ আমাদেরকে ইবনু লাহীয়া হাদীস শুনিয়েছেন ... । উত্তরে আবুল লাইস বললেনঃ আকীল হতে ইবনু লাহীয়ার হাদীসের কারণে আমি এমন কিছু ছাড়ব না যা আমার উপকার করে!
(ইবনু লাহীয়া মুখস্থ বিদ্যায় দুর্বল)।

বর্তমান যুগের বহু মাশায়েখ আসরের পরে ঘুমাতে নিষেধ করে থাকেন যদিও তার প্রয়োজন হয়। তাকে যদি বলা হয় এ মর্মে বর্ণিত হাদীসটি দুর্বল। তাহলে দ্রুত উত্তরে বলেনঃ ফাযায়েলে আমল-এর ক্ষেত্রে দুর্বল হাদীসের উপর আমল করা যায়। ভেবে দেখুন পূর্ববতীদের চিন্তা-চেতনা আর পরবর্তীদের জ্ঞানের মধ্যে কত বড় পার্থক্য? লাইস ছিলেন মুসলমানদের ইমাম এবং প্রসিদ্ধ এক ফাকীহ। তার কথা প্রমান বহন করছে তার চিন্তাচেতনা ও জ্ঞানের গভীরতার, অথচ পরবর্তীগণ কী বলেন?

হাদীসটি আবু ইয়ালা ও আবু নয়াইম “আত-তিব্ববুন্নাবাবী" গ্রন্থে (২/১২) আমর ইবনু হুসাইন সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এ আমরকে খাতীব বাগদাদীসহ অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ মিথ্যুক বলেছেন। এ আমরই নিম্নের ডালের হাদীস বর্ণনাকারীঃ (দেখুন পরেরটি)



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من نام بعد العصر فاختلس عقله فلا يلومن إلا نفسه
ضعيف

-

أخرجه ابن حبان في " الضعفاء والمجروحين " (1 / 283) من طريق خالد بن القاسم عن الليث بن سعد عن عقيل عن الزهري عن عروة عن عائشة مرفوعا. أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 69) وقال: لا يصح، خالد كذاب، والحديث لابن لهيعة فأخذه خالد ونسبه إلى الليث
قال السيوطي في " اللآليء " (2 / 150) : قال الحاكم وغيره: كان خالد يدخل على الليث من حديث ابن لهيعة، ثم ذكره السيوطي من طريق ابن لهيعة فمرة قال
عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده مرفوعا، ومرة قال: عن ابن شهاب عن أنس مرفوعا
وابن لهيعة ضعيف من قبل حفظه، وقد رواه على وجه ثالث، أخرجه ابن عدي في " الكامل " (ق 211 / 1) والسهمي في " تاريخ جرجان " (53) عنه عن عقيل عن مكحول مرفوعا مرسلا، أخرجاه من طريق مروان، قال: قلت لليث بن سعد - ورأيته نام بعد العصر في شهر رمضان - يا أبا الحارث مالك تنام بعد العصر وقد
حدثنا ابن لهيعة..؟ فذكره، قال الليث: لا أدع ما ينفعني بحديث ابن لهيعة عن عقيل! ثم رواه ابن عدي من طريق منصور بن عمار حدثنا ابن لهيعة عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده
قلت: ولقد أعجبني جواب الليث هذا، فإنه يدل على فقه وعلم، ولا عجب، فهو من أئمة المسلمين، والفقهاء المعروفين، وإني لأعلم أن كثيرا من المشايخ اليوم يمتنعون من النوم بعد العصر، ولوكانوا بحاجة إليه، فإذا قيل له
الحديث فيه ضعيف، أجابك على الفور: يعمل بالحديث الضعيف في فضائل الأعمال
فتأمل الفرق بين فقه السلف، وعلم الخلف
والحديث رواه أبو يعلى وأبو نعيم في " الطب النبوى " (12 / 2 نسخة السفرجلاني) عن عمرو بن حصين عن ابن علاثة عن الأوزاعي عن الزهري عن عروة عن عائشة مرفوعا وعمرو بن الحصين هذا كذاب كما قال الخطيب وغيره

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ৪০ | 40 | ٤۰

৪০। তোমরা কদু (লাউ) অপরিহার্য করে নাও। কারন তা অনুভূতি (জ্ঞান) বৃদ্ধি করে। তোমরা ডালকে অপরিহার্য করে নাও, কারন তার পবিত্রতা বর্ণিত হয়েছে সত্তর জন নাবীর ভাষায়।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি তাবারানী “মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (২২/৬২ নং১৫২) আমর ইবনুল হুসাইন সূত্রে ইবনু আলাসা হতে বর্ণনা করেছেন।

সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/১৫১) বলেছেনঃ আমর ও তার শাইখ তারা দু’জনই মাতরূক।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তা সত্ত্বেও সুয়ূতী হাদীসটি "জামেউস সাগীর" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

যারাকশী "আল-লাআলিল মানসূরা ফিল আহাদীসল মশহুরাহ" (১৪৩ নং) গ্রন্থে বলেনঃ ইবনুস সালাহ-র হাতের লিখায় পেয়েছি যে, এটি একটি বাতিল হাদীস। হাদীসটি ইবনুল জাওযী “মাওযুআত” গ্রন্থে (২/২৯৪,২৯৫) কয়েকটি সূত্রে উল্লেখ করেছেন এবং বানোয়াট হিসাবে হুকুম লাগিয়েছেন।

সাগানী “আহাদীসুল মাওয়ূ"আহ” গ্রন্থে (পৃঃ ৯) ও ইবনুল কাইয়্যিম আলজাওযিয়া “আল-মানার” গ্রন্থে (পৃঃ ২০) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সাদৃশ্যপূর্ণ সেই সব জালকারীদের সাথে যারা মান্না ওয়াস সালওয়ার উপর এটিকে পছন্দ করেছেন।

আলী আল-কারী তার “মাওযুআত” গ্রন্থে (পৃঃ ১০৭) এটিকে বানোয়াট হিসাবেই স্বীকার করেছেন। ইবনু তাইমিয়্যা “মাজমূউ ফাতাওয়া” গ্রন্থে বলেছেনঃ জ্ঞানীজনদের ঐক্যমতে মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ মিথ্যুক আমরের আরো একটি হাদীস। (দেখুন পরেরটি)



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

عليكم بالقرع فإنه يزيد في الدماغ، وعليكم بالعدس فإنه قدس على لسان سبعين نبيا
موضوع

-

رواه الطبراني في " الكبير " (22 / 62 - رقم 152) من طريق عمرو المذكور آنفا عن ابن علاثة عن ثور عن مكحول عن واثلة
وقال السيوطي في " اللآليء " (2 / 151) بعد أن ساقه من هذا الوجه: وعمرو وشيخه متروكان
قلت: ومع هذا فقد أورده في " الجامع الصغير "! قال الزركشى في " اللآليء المنثورة في الأحاديث المشهورة " (رقم 143 - نسختي) : ووجدت بخط ابن الصلاح أنه حديث باطل ... سئل عنه ابن المبارك؟ فقال: ولا على لسان نبي واحد! إنه لمؤذ ينفخ
وذكره ابن الجوزي في " الموضوعات " (2 / 294 - 295) من عدة طرق وحكم عليه بالوضع، قال المناوي: ودندن عليه المؤلف ولم يأت بطائل، وكذلك أورد حديث العدس هذا الصغاني في " الأحاديث الموضوعة " (ص 9) وكذا ابن القيم، فقال في " المنار " (ص 20) : ويشبه أن يكون هذا الحديث من وضع الذين اختاروه على المن والسلوى وأشباههم
وأقره علي القاري في " موضوعاته " (ص 107)
وقال ابن تيمية في " مجموع الفتاوي " (27 / 23) : حديث مكذوب مختلق باتفاق أهل العلم، ولكن العدس هو مما اشتهاه اليهود، وقال الله لهم {أتستبدلون الذي هو أدنى بالذي هو خير}

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [31]  থেকে  [40]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [500]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।