• ৭১৪৬৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৮০৩৩ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [1500] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [281]  থেকে  [290]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৮১ | 281 | ۲۸۱

২৮১। সে এক নাবী যাকে তার জাতি ধ্বংস করে দিয়েছে। অর্থাৎ খালিদ ইবনু সিনানকে বুঝানো হচ্ছে।

হাদীসটি সহিহ নয়।

এটি হাকিম (২/৫৯৮-৫৯৯) এবং অনুরূপ ভাবে আবু ইয়ালা মুয়াল্লা ইবনু মাহদী সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি দুর্বল মুরসাল হওয়ার কারণে। মুয়াল্লা ইবনু মাহদীকে আবু হাতিম দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ তিনি কখনও কখনও মুনকার হাদীস নিয়ে আসতেন। হায়সামী বলেছেনঃ এটি সেগুলো হতেই।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি তাবারানী (৩/১৫৪/১), বাযযার (২৩৬১), ইবনু আদী (২/২৭১), আবু নু’য়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/১৮৭) কায়স ইবনু রাবী সূত্রে সালেম আল-আফতাস হতে ... বর্ণনা করেছেন। বাযযার বলেনঃ এ সূত্র ছাড়া এটিকে মারফু হিসাবে চিনি না। কায়স নিজে নির্ভরযোগ্য ছিলেন, কিন্তু তিনি মুখস্থ বিদ্যায় দুর্বল ছিলেন। তার এক ছেলে ছিল সে তার হাদীসের মধ্যে এমন কিছু ঢুকিয়ে দিত, যা তার হাদীসের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। সাওরী হাদীসটি সাঈদ ইবনু যুবায়ের হতে মুরসাল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এটি ইবনু কাসীর “আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া” গ্রন্থে (২/২১১) বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ তিনি তার হাদীসটিকে মওসূল করেননি।

অতঃপর ইবনু কাসীর বলেনঃ এসব মুরসাল এ স্থানে দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যত্র (২/২৭১) বলেনঃ এটি সহীহ্ নয়। খাতীব বাগদাদী “তালখীসুল মুতাশবিহ” গ্রন্থে (১৩/ ১৪৮-১৪৯) মওসুল হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটির সনদে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সম্ভবত তার কারণ এই যে, এটির সনদে একদল বর্ণনাকারী আছেন যাদেরকে চিনি না। তাদের মধ্যে একজন হচ্ছেন আবূ মুহাম্মাদ আল-কুরাশী হাশেমী। দেখুন “আল-ইসাবা” (২/৫০৭)। কালবী সূত্রেও হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু কালবী মিথ্যুক।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও এটি নিম্নের সহীহ হাদীসের সাথে সাংঘর্ষিক, যেমনভাবে হায়সামী (৮/২১৪) বলেছেন।

أنا أولى الناس بعيسى بن مريم، الأنبياء إخوة لعلات، وليس بيني وبينه نبي

ঈসা ইবনু মারইয়ামের সাথে সম্পর্কের দিক দিয়ে লোকদের মধ্যে আমিই সর্বোত্তম, কারণ নাবীগণ পিতার দিক দিয়ে ভাই ভাই। আমার ও তার মধ্যে কোন নাবী নেই (বুখারী ও মুসলিম)।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ذاك نبي ضيعه قومه، يعنى خالد بن سنان
لا يصح

-

أخرجه الحاكم (2 / 598 - 599) وكذا أبو يعلى من طريق المعلى بن مهدي حدثنا أبو عوانة عن أبي يونس قال سماك بن حرب: سئل عنه يعني خالد بن سنان النبي صلى الله عليه وسلم فقال: فذكره
وهذا إسناد ضعيف لإرساله، والمعلى بن مهدي ضعفه أبو حاتم قال: يأتي أحيانا بالمناكير، وقال الهيثمي (8 / 214) : هذا منها
قلت: ورواه الطبراني (3 / 154 / 1) وكذا البزار (2361 - زوائده) وابن عدي (271 / 2) وأبو نعيم في " أخبار أصبهان " (2 / 187) من طريق قيس بن الربيع عن سالم الأفطس عن سعيد بن جبير عن ابن عباس مرفوعا، قال البزار
لا نعرفه مرفوعا إلا من هذا الوجه، وكان قيس بن الربيع ثقة في نفسه إلا أنه كان رديء الحفظ، وكان له ابن يدخل في حديثه ما ليس منه، قال: وقد رواه الثوري عن سالم الأفطس عن سعيد بن جبير مرسلا
ذكره ابن كثير في " البداية " (2 / 211) ، وقال ابن عدي: لم يوصله فقال فيه عن ابن عباس غير ابن الربيع، ثم قال ابن كثير: وهذه المرسلات لا يحتج بها ها هنا، وقال في موضع آخر (2 / 271) : لا يصح
قلت: وقد وجدته موصولا أخرجه الخطيب في " تلخيص المتشابه " (13 / 148 - 149) عن محمد بن عمير حدثني عمرو بن إسحاق بن إبراهيم بن العلاء الزبيدي حدثني جدي إبراهيم بن العلاء أخبرنا أبو محمد القرشي الهاشمي، أخبرنا هشام بن عروة عن أبيه عن أبي عمارة بن حزن بن شيطان مرفوعا به، وقال الخطيب: في إسناده
نظر
قلت: ولعل وجهه أن فيه جماعة لم أعرفهم، منهم القرشي هذا، وانظر " الإصابة " (2 / 507)
وروي من حديث عائشة أخرجه المخلص في " الفوائد المنتقاة " (4 / 176) عن الكلبي عن أبي صالح عن ابن عباس عن عائشة مرفوعا به، لكن الكلبي كذاب
قلت: ومع ضعف الحديث فإنه معارض كما قال الهيثمي (8 / 214) للحديث الصحيح: " أنا أولى الناس بعيسى بن مريم، الأنبياء إخوة لعلات، وليس بيني وبينه نبي " رواه البخاري في " صحيحه " (6 / 380) ومسلم (7 / 96)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৮২ | 282 | ۲۸۲

২৮২। আপনি যদি না হতেন, তাহলে আমি আকাশ ও ভূমণ্ডল সৃষ্টি করতাম না।

হাদীসটি জাল।

যেমনভাবে সাগানী “আল-আহাদীসূল মাওযূআহ” গ্রন্থে (পৃঃ ৭) বলেছেন। তবে শাইখ আল-কারীর উক্তি (৬৭-৬৮) কিন্তু তার অর্থটি সহীহ, এটি দাইলামী ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে মারফু হিসাবে নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ

أتاني جبريل فقال: يا محمد لولاك لما خلقت الجنة، ولولاك ما خلقت النار  وفي رواية ابن عساكر:  لولاك ما خلقت الدنيا

আমার নিকট জিবরীল আসলেন, অতঃপর বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি যদি না হতেন তাহলে জান্নাত সৃষ্টি করতাম না, আপনি যদি না হতেন তাহলে জাহান্নাম সৃষ্টি করতাম না। ইবনু আসাকির হতে অন্য এক বর্ণনায় এসেছে; আপনি যদি না হতেন তাহলে দুনিয়া সৃষ্টি করতাম না।

আমি (আলবানী) বলছিঃ দাইলামী হতে যা বর্ণনা করা হয়েছে তা সাব্যস্ত না হওয়ার পূর্বেই হাদীসটির অর্থ সঠিক, এ কথাটি দৃঢ়তার সাথে বলা উচিত হবে না। আমি কাউকে দেখছি না যিনি এটি বর্ণনা করেছেন। যদিও আমি তার সনদটি সম্পর্কে অবহিত হইনি, তবুও হাদীসটি যে দুর্বল এ মর্মে আমি কোন সন্দেহ পোষণ করছি না। এর জন্য দাইলামী কর্তৃক এককভাবে বর্ণনা করাটাই তার প্রমাণের জন্য যথেষ্ট ।

অতঃপর আমি যখন তার (দাইলামীর) “মুসনাদ” গ্রন্থে (১/৪১/২) হাদীসটির সনদ সম্পর্কে অবহিত হলাম যে, এটি ওবায়দুল্লাহ ইবনু মূসা আল-কুরাশী সূত্রে ফুযায়েল ইবনু জাফার ইবনু সুলায়মান হতে বর্ণিত আর তিনি আব্দুস সামাদ ইবনু ‘আলী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তার পিতা আলী ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। তখন আমি সিদ্ধান্তে উপনীত হলাম এটির দুর্বলতার ফাটল সম্পর্কে ।

আমি বলছিঃ এটির সমস্যা হচ্ছে এ আব্দুস সামাদ; উকায়লী তার সম্পর্কে বলেনঃ তার হাদীস নিরাপদ নয় এবং তার মাধ্যম ছাড়া হাদীসটি অন্য কোন মাধ্যমে জানা যায় না। অতঃপর তিনি সাক্ষীর সম্মানের বিষয়ে তার অন্য একটি হাদীস উল্লেখ করেছেন, যা ২৮৯৮ নম্বরে আসবে। তার মাধ্যম ছাড়া আমি হাদীস দু'টোকে চিনি না।

ইবনু আসাকিরের বর্ণনায় হাদীসটি ইবনুল জাওযী তার “আল-মাওযুআত” গ্রন্থে (১/২৮৮-২৮৯) দীর্ঘ এক হাদীসের মধ্যে সালমান হতে বর্ণনা করে বলেছেনঃ إنه موضوع হাদিসটি বানোয়াট।

সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/২৭২) তার (ইবনুল জাওযীর) বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

لولاك لما خلقت الأفلاك
موضوع

-

كما قاله الصغاني في " الأحاديث الموضوعة " (ص 7) ، وأما قول الشيخ القاري (67 - 68) : لكن معناه صحيح، فقد روى الديلمي عن ابن عباس مرفوعا: " أتاني جبريل فقال: يا محمد لولاك لما خلقت الجنة، ولولاك ما خلقت النار وفي رواية ابن عساكر: لولاك ما خلقت الدنيا
فأقول: الجزم بصحة معناه لا يليق إلا بعد ثبوت ما نقله عن الديلمي، وهذا مما لم أر أحدا تعرض لبيانه، وأنا وإن كنت لم أقف على سنده، فإنى لا أتردد في ضعفه، وحسبنا في التدليل على ذلك تفرد الديلمي به، ثم تأكدت من ضعفه، بل وهائه، حين وقفت على إسناده في " مسنده " (1 / 41 / 2) من طريق عبيد الله بن موسى القرشي حدثنا الفضيل بن جعفر بن سليمان عن عبد الصمد بن علي بن عبد الله ابن عباس عن أبيه عن ابن عباس به
قلت: وآفته عبد الصمد هذا، قال العقيلي: حديثه غير محفوظ، ولا يعرف إلا به
ثم ساق له حديث آخر في إكرام الشهو د سيأتي برقم (2898) ، ومن دونه لم أعرفهما، وأما رواية ابن عساكر فقد أخرجها ابن الجوزي أيضا في " الموضوعات " (1 / 288 ـ 289) في حديث طويل عن سلمان مرفوعا وقال: إنه موضوع، وأقره السيوطي في " اللآليء " (1 / 272)
ثم وجدته من حديث أنس وسوف نتكلم عليه إن شاء الله

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৮৩ | 283 | ۲۸۳

২৮৩। তোমরা তীর নিক্ষেপ কর, কারণ তীর নিক্ষেপকারীদের শপথ অর্থহীন, তাতে শপথ ভঙ্গ হয়না, কাফফারাও দিতে হয় না।

হাদীসটি বাতিল।

এটি তাবারানী “মুজামুস সাগীর” গ্রন্থে (পৃঃ ২৩৭) ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব ইবনে আবদিল আযীয সাকাফী হতে, তিনি তার পিতা হতে ... বর্ণনা করেছেন। তাবারানী বলেনঃ হাদীসটি ইউসুফ তার পিতা হতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ দুর্বল। ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব এবং তার পিতা ছাড়া সকলেই নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। এ ইউসুফের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে হাফিয ইবনু হাজার "লিসানুল মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ আমি তার অবস্থা সম্পর্কে জানি না। তিনি বাতিল হাদীস নিয়ে এসেছেন এমন সনদে যাতে কোন সমস্যা নেই।

আমি (আলবানী) বলছিঃ “কিতাবুর রামী" গ্রন্থে তাবরানী কর্তৃক বর্ণনাকৃত হাদীসটি হাফিয উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটির সমস্যার দায় ইউসুফ অথবা তাঁর পিতার (ইয়কুব) উপর। ইবনু উয়াইনা কখনই হাদীসটি বর্ণনা করেননি।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ارموا، فإن أيمان الرماة لغو، لا حنث فيها ولا كفارة
باطل

-

رواه الطبراني في " المعجم الصغير " (ص 237) حدثنا يوسف بن يعقوب بن عبد العزيز الثقفي حدثني أبي حدثنا سفيان بن عيينة عن بهز بن حكيم عن أبيه عن جده أن النبي صلى الله عليه وسلم مر بقوم يرمون، وهم يحلفون: أخطأت والله أصبت والله، فلما رأو ارسول الله صلى الله عليه وسلم أمسكوا فقال: فذكره
قال الطبراني: تفرد به يوسف بن يعقوب عن أبيه.
قلت: وهذا إسناد ضعيف رجاله ثقات غير يوسف بن يعقوب وأبيه، قال الحافظ في ترجمة يوسف من " اللسان ": لا أعرف حاله، أتى بخبر باطل بإسناد لا بأس به، قال الطبراني في " كتاب الرمي ": حدثنا يوسف بن يعقوب بمصر ... قلت: فذكر هذا الحديث، ثم قال الحافظ: الحمل فيه على يوسف أو على أبيه، فما حدث به ابن
عيينة قط، فما أظن في يوسف بن يعقوب العدل، روى عن جعفر بن إبراهيم، وعنه صدقة بن هبيرة الموصلي، قال الخطيب: مجهول

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৮৪ | 284 | ۲۸٤

২৮৪। হে মু’য়াজ! আমি তোমাকে কিতাবধারী (আহলে কিতাব) সম্প্রদায়ের নিকট প্রেরণ করেছি। অতএব তুমি যদি আসমানে পানি প্রবাহিত হওয়ার স্থানের ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হও, তাহলে বলবে, সেগুলো হচ্ছে আরশের নিচের সাপের লালা।

হাদীসটি জাল।

এটি তাবারানী (১/১৭৬/১), উকায়লী (৩/৪৪৯) ও ইবনু আদী (১/২৬৩) ফাযল ইবনুল মুখতার সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযী হাদীসটি “আল-মাওযু'আত” গ্রন্থে (১/১৪২) উল্লেখ করে বলেছেনঃ ফাযল মুনকারুল হাদীস। হাফিয ইবনু কাসীর “আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া” গ্রন্থে (১/৩৯) বলেছেনঃ এ হাদীসটি নিতান্তই মুনকার, বরং এটি মাওযূর সাথে বেশী সাদৃশ্যপূর্ণ।

তার বর্ণনাকারী ফাযল ইবনু মুখতার হচ্ছেন আবু সাহাল আল-বাসরী। তার সম্পর্কে আবূ হাতিম আর-রাযী বলেনঃ তিনি মাজহুল, বাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন। আবুল ফাতাহ আল-আযদী বলেনঃ তিনি নিতান্তই মুনকারুল হাদীস। ইবনু আদী বলেনঃ তার হাদীসগুলোর অনুসরণ করা যায় না, না ভাষার না সনদের।

আমি (আলবানী) বলছিঃ যাহাবী তার কতিপয় হাদীস উল্লেখ করে বলেছেনঃ এগুলো বাতিল এবং আশ্চর্যজনক । ইবনুল জাওযী অন্য একটি সূত্রেও হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। যেটি উকায়লী আব্দুল আ'লা ইবনু হাকিমের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে (২৫৩) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এ হাদীসটি নিরাপদ নয়, বর্ণনা করার ক্ষেত্রে আব্দুল আ'লা মাজহুল। এটির সনদে আবু বাকর ইবনু আবী সাবুরা রয়েছেন; তিনি মাতরূক। এছাড়া সুলায়মান ইবনু দাউদ শাযবুনীও রয়েছেন, তিনি হচ্ছেন মিথ্যার দোষে দোষী।

যাহাবী আব্দুল আ'লার জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেনঃ এটির সনদ অন্ধকারাচ্ছন্ন। ভাষাও সহীহ নয়।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

يا معاذ إني مرسلك إلى قوم أهل كتاب، فإذا سئلت عن المجرة التي في السماء فقل: هي لعاب حية تحت العرش
موضوع

-

أخرجه الطبراني (1 / 176 / 1) والعقيلي (3 / 449) وابن عدي (263 / 1) من طريق الفضل بن المختار عن محمد بن مسلم الطائفي عن ابن أبي نجيح عن مجاهد عن جابر بن عبد الله مرفوعا
أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (1 / 142) وقال: الفضل منكر الحديث، وقال الحافظ ابن كثير في " البداية والنهاية " (1 / 39) : هذا حديث منكر جدا، بل الأشبه أنه موضوع، وراويه الفضل بن المختار هذا أبو سهل البصري قال فيه أبو حاتم الرازي: هو مجهول، حدث بالأباطيل، وقال الحافظ أبو الفتح الأزدي: منكر الحديث جدا، وقال ابن عدي: لا يتابع على أحاديثه لا متنا وإسنادا
قلت: وقد ساق له الذهبي أحاديث ثم قال: فهذه أباطيل وعجائب.
وأورده ابن الجوزي من طريق أخرى عن معاذ بن جبل مرفوعا نحوه، رواه العقيلي في ترجمة عبد الأعلى بن حكيم (253) وقال: هذا الحديث غير محفوظ، وعبد الأعلى مجهول بالنقل
وفيه أبو بكر بن أبي سبرة متروك وسليمان بن داود الشاذكوني وهو متهم
وقال الذهبي في ترجمة عبد الأعلى هذا: وهذا إسناد مظلم، ومتن ليس بصحيح

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৮৫ | 285 | ۲۸۵

২৮৫। রমযান মাস এবং আশূরা (আশুরা/আসুরা/আসূরা)র দিবস ব্যাতিত সাওম (রোযা/রোজা/সিয়াম/ছিয়াম) রাখার ক্ষেত্রে একটি দিবসের অন্যটির উপর কোন ফযিলত (শ্রেষ্ঠত্ব) নেই।

হাদীসটি মুনকার।

এটি তাবারানী “মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/২১৫/২), তাহাবী “শারহু মায়ানীল আসার” গ্রন্থে (১/৩৩৭), আবু সাহাল “আহাদীস ইবনু যুরায়েস” গ্রন্থে (২/১৮৯), ইবনু আদী (১/২৫০) ও আরো অনেকে আব্দুল জাব্বার ইবনু ওরদ সূত্রে ইবনু আবী মুলায়কা হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ দুর্বল। এটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, যেমনিভাবে মুনযেরী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (২/৭২) এবং হায়সামী "আল-মাজমা" গ্রন্থে (৩/১৮৬) বলেছেন। কিন্তু আব্দুল জাব্বার ইবনু ওরদ-এর মুখস্থ বিদ্যায় দুর্বলতা ছিল, যেমনিভাবে ইমাম বুখারী ইঙ্গিত দিয়েছেন তার এ কথায়ঃ তিনি তার কোন কোন হাদীসে বিরোধিতা করেছেন।

ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি ভুলকারী এবং সন্দেহ পোষণকারী।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসটির বর্ণনাতে তিনি যে ভুল করেছেন, দুটি কারণে তাতে কোন সন্দেহ পোষণ করছি নাঃ

১। তার সনদে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে। একবার বলেছেন ইবনু আবী মুলায়কা হতে, আবার বলেছেন আমর ইবনু দীনার হতে। এটি প্রমাণ করছে যে, তার মুখস্থ বিদ্যায় সমস্যা ছিল।

২। এ হাদীসটির মতন (ভাষার)-এর বিরোধিতা করা হয়েছে। যেটি বুখারী ও মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।



হাদিসের মানঃ  মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ليس ليوم فضل على يوم في الصيام إلا شهر رمضان ويوم عاشوراء
منكر

-

أخرجه الطبراني في " المعجم الكبير " (3 / 215 / 2) والطحاوي في " معاني الآثار " (1 / 337) وأبو سهل الجواليقي في " أحاديث ابن الضريس " (189 / 2) ومن طريقه أبو مطيع المصري في " الأمالي " (95 / 1) وابن عدي (250 / 1) أيضا والخطيب في " الأمالي بمسجد دمشق " (4 / 6 / 2) من طريق عبد الجبار بن الورد عن ابن أبي مليكة عن عبيد الله بن أبي يزيد عن ابن عباس مرفوعا
قلت: وهذا إسناد ضعيف، ورجاله ثقات كما قال المنذري في " الترغيب " (2 / 78) والهيثمي في " المجمع " (3 / 186) ، ولكن عبد الجبار بن الورد في حفظه ضعف كما أشار لذلك البخاري بقوله: يخالف في بعض حديثه
وقال ابن حبان: يخطيء ويهم
وأنا لا أشك أنه أخطأ في رواية هذا الحديث لأمرين: الأول: أنه اضطرب في إسناده فمرة قال: عن ابن أبي مليكة، كما في هذه الرواية ومرة أخرى قال: عن عمرو بن دينار، رواه الطبراني، وهذا يدل على أنه لم يحفظ
الآخر: أنه قد خولف في متن هذا الحديث فرواه جماعة من الثقات عن عبيد الله بن أبي يزيد عن ابن عباس قال: ما رأيت النبي يتحرى صيام يوم فضله على غيره إلا هذا اليوم يوم عاشوراء، وهذا الشهر يعني شهر رمضان
رواه البخاري (4 / 200 - 201) ومسلم (3 / 150 - 151) وأحمد (رقم 1938، 2856، 3475) والطحاوي والطبراني والبيهقي (4 / 286) من طرق عن عبيد الله به، وأحد أسانيده عند أحمد ثلاثي
فهذا هو أصل الحديث، وهو كما ترى من قول ابن عباس ولفظه بناء على ما علمه من صيامه صلى الله عليه وسلم، فجاء عبد الجبار هذا فرواه مرفوعا من قول النبي صلى الله عليه وسلم، وشتان ما بين الروايتين، فإن هذه الرواية الضعيفة تتعارض مع الأحاديث الأخرى التي تصرح بأن لبعض أيام أخرى غير يوم عاشوراء فضلا على سائر الأيام كقوله صلى الله عليه وسلم: " صوم يوم عرفة يكفر السنة الماضية والباقية "
رواه مسلم (3 / 168) وغيره عن أبي قتادة، وهو مخرج في " الإرواء " (955) فكيف يعقل مع هذا أن يقول عليه السلام ما رواه عنه عبد الجبار هذا؟
أما الرواية الصحيحة لحديث ابن عباس، فإنما فيها إثبات التعارض بين نفي ابن عباس فضل يوم غير عاشوراء وإثبات غير كأبي قتادة، وهذا الأمر فيه هين لما تقرر في الأصول: أن المثبت مقدم على النافي وإنما الإشكال الواضح أن ينسب النفي إلى النبي صلى الله عليه وسلم مع أنه قد صرح فيما صح عنه بإثبات ما عزي إليه من النفي.
ومما تقدم تبين أن لا إشكال، وأن نسبة النفي إليه صلى الله عليه وسلم وهم من بعض الرواة، والحمد لله على توفيقه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৮৬ | 286 | ۲۸٦

২৮৬। আদম (আঃ) পায়ে হেঁটে ইণ্ডিয়া হতে এক হাজার বার এ ঘরের নিকট এসেছিলেন। তবে কোন বাহনে আরোহণ করেননি। (এক হাজারের মধ্যে) তিন শতবার হাজ্জের (হজ্জ) উদ্দেশ্যে এবং সাত শতবার উমরার উদ্দেশ্যে। আদম (আঃ) প্রথম যে হাজ্জ (হজ্জ) করেন তখন আরাফার মাঠে দাঁড়িয়েছিলেন, এমতাবস্থায় জিবরীল (আঃ) আসলেন। অতঃপর বললেনঃ আস-সালামু আলাইকা হে আদম! আল্লাহ আপনার কুরবানী কবূল করুন। তবে আমরা এ ঘরকে আপনার সৃষ্টির পাঁচ হাজার বছর পূর্ব হতে তাওয়াফ করছি।

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।

এটি ইবনু বিশরান "আল-আমালী" গ্রন্থে (২/১৬০-১/১৬১) আব্বাস ইবনু ফাযল আনসারী সূত্রে কাসিম ইবনু আব্দির রহমান হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ নিতান্তই দুর্বল। কারণ আব্বাস ইবনু ফাযল আনসারী মাতরূক। তাকে আবু যুর'য়াহ মিথ্যার দোষে দোষী করেছেন; যেরূপভাবে "আত-তাকরীব" গ্রন্থে এসেছে। এছাড়া কাসিম ইবনু আব্দির রহমান আনসারী সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি কিছুই না। আবু যুর'য়াহ বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। আবু হাতিম বলেনঃ তিনি দুর্বল, মুযতারিবুল হাদীস। তার থেকে মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ দুটি বাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

দুটির একটি আদম (আঃ) এর মৃত্যু সম্পর্কে এবং দ্বিতীয়টি আবু হাযিম হতে এসেছে। এরূপই “আল-জারহু ওয়াত তা’দীল” গ্রন্থে (৩/২/১১৩) এসেছে।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সম্ভবত দ্বিতীয় বাতিল হাদীসটি আবু হাযিম হতে এ আলোচ্য হাদীসটি।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

قد أتى آدم عليه السلام هذا البيت ألف آتية من الهند على رجليه لم يركب فيهن من ذلك ثلاث مئة حجة وسبع مئة عمرة، وأول حجة حجها آدم عليه السلام وهو واقف بعرفات أتاه جبريل عليه السلام فقال: السلام عليك يا آدم بر الله نسكك، أما إنا قد طفنا هذا البيت قبل أن تخلق بخمسة آلاف سنة
ضعيف جدا

-

رواه ابن بشران في " الأمالي " (160 / 2 - 161 / 1) من طريق العباس بن الفضل الأنصاري عن القاسم بن عبد الرحمن عن أبي جعفر عن أبيه عن أبي حازم عن ابن عباس مرفوعا
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، العباس بن الفضل الأنصاري متروك واتهمه أبو زرعة كما في التقريب
والقاسم بن عبد الرحمن هو الأنصاري، قال ابن معين: ليس بشيء، وقال أبو زرعة: منكر الحديث، وقال أبو حاتم: ضعيف الحديث مضطرب الحديث، حدثنا عنه الأنصاري (يعني: محمد بن عبد الله) بحديثين باطلين: أحدهما وفاة آدم صلى الله عليه وسلم والآخر عن أبي حازم
كذا في " الجرح والتعديل " (3 / 2 / 113)
قلت: ولعل الحديث الباطل الآخر عن أبي حازم هو هذا والله أعلم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৮৭ | 287 | ۲۸۷

২৮৭। হত্যাকারী নিহতের কোন পাপ অবশিষ্ট রাখে না।

হাদীসটি কোন ভিত্তি নেই।

এটি কোন হাদীসগ্রন্থের মধ্যে পাওয়া যায় না। সহীহ, হাসান এমনকি কোন দুর্বল সনদেও পাওয়া যায় না।

কিন্তু কিয়ামত দিবসে কতিপয় ব্যক্তির ব্যাপারে সহীহ হাদীসে (মুসলিমের বর্ণনায় সহীহা নং ৮৪৭) এসেছে; যার মধ্যে কাতিল মাকতুলের কথাও আছে। তাতে বলা হয়েছে মাকতুল (নিহত) ব্যক্তির গুনাহগুলো কাতিল (হত্যাকারী) ব্যক্তির উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। (সেটি হাদীসুল মুফলিস নামে প্রসিদ্ধ)।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما ترك القاتل على المقتول من ذنب
لا أصل له

-

ولا يعرف في شيء من كتب الحديث بسند صحيح ولا حسن ولا ضعيف أيضا، ولكن قد يتفق في بعض الأشخاص يوم القيامة (أن) يطالب المقتول القاتل، فتكون حسنات القاتل لا تفي بهذه المظلمة فتحول من سيئات المقتول إلى القاتل كما ثبت به الحديث الصحيح في سائر المظالم، والقتل من أعظمها، كذا في " البداية والنهاية " (1 / 93 - 94) لابن كثير
قلت يشير إلى قوله صلى الله عليه وسلم: " إن المفلس من أمتي من يأتي بصلاة وصيام وزكاة، ويأتي قد شتم هذا وقذف هذا وأكل مال هذا وسفك دم هذا وضرب هذا فيعطى هذا من حسناته وهذا من حسناته فإن فنيت حسناته قبل أن يقضى ما عليه أخذ من خطاياهم فطرحت عليه ثم طرح في النار "، رواه مسلم، وهو مخرج في " الصحيحة " (847)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৮৮ | 288 | ۲۸۸

২৮৮। তিনি তার দাড়িকে পার্শ্ব (প্রস্থ) এবং দৈর্ঘের শেষ প্রান্ত হতে কাট-ছাট করতেন।

হাদীসটি জাল।

এটি ইমাম তিরমিযী (৩/১১), উকায়লী “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে (পৃঃ ২৮৮), ইবনু আদী (২/২৪৩) এবং আবুশ শাইখ “আখলাকুন নাবী" গ্রন্থে (পৃঃ ৩০৬) উমার ইবনু হারূণ আল-বালখী সূত্রে উসামা ইবনু যায়েদ হতে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিযী বলেনঃ এ হাদীসটি গারীব। আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈলকে বলতে শুনেছিঃ উমার ইবনু হারূন মুকারিবুল হাদীস। এ হাদীসটি ছাড়া তার এমন কোন হাদীস সম্পর্কে জানি না যেটির ভিত্তি নেই অথবা এ হাদীসটি ছাড়া তিনি এককভাবে বর্ণনা করেননি।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তার জীবনীতে হাদীসটি উকায়লী বর্ণনা করে বলেছেনঃ তার মাধ্যম ছাড়া অন্য কোন মাধ্যমে এটিকে জানা যায় না।
এ উমার সম্পর্কে যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেন, ইবনু মাঈন বলেছেনঃ তিনি মিথ্যুক, খবীস। সালেহ জাযারা বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। অতঃপর এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

তবে ইবনু আদী বলেছেনঃ উমার ইবনু হারূণ ছাড়াও উসামা হতে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু চিন্তা করে দেখুন, ইবনু আদীর এ কথাটি কিন্তু বুখারী এবং উকায়লীর কথার বিপক্ষে যাচ্ছে। কারণ তারা উভয়ে বলেছেন যে, উমার এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

كان يأخذ من لحيته من عرضها وطولها
موضوع

-

أخرجه الترمذي (3 / 11) والعقيلي في " الضعفاء " (ص 288) وابن عدي (243 / 2) وأبو الشيخ في " أخلاق النبي صلى الله عليه وسلم " (306) من طريق عمر ابن هارون البلخي عن أسامة بن زيد عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده مرفوعا وقال الترمذي: هذا حديث غريب، سمعت محمد بن إسماعيل يقول: عمر بن هارون مقارب الحديث لا أعرف له حديثا ليس له أصل أو قال: يتفرد به إلا هذا الحديث
قلت: وفي ترجمته رواه العقيلي ثم قال: ولا يعرف إلا به، وقد روي عن النبي صلى الله عليه وسلم بأسانيد جياد أنه قال: " اعفوا اللحى، واحفوا الشوارب " وهذه الرواية أولى
وعمر هذا قال في " الميزان ": قال ابن معين: كذاب خبيث، وقال صالح جزرة
كذاب، ثم ساق له هذا الحديث، لكن قال ابن عدي عقبه: وقد روى هذا عن أسامة غير عمر بن هارون، فلينظر فإنه خلاف ما قاله البخاري والعقيلي: إنه تفرد به عمر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৮৯ | 289 | ۲۸۹

২৮৯। যে ব্যাক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-ওয়াকে’য়াহ পাঠ করবে, তাঁকে কখনও অভাব (ক্ষুধা) গ্রাস করবে না।

হাদীসটি দুর্বল।

এটি হারিস ইবনু আবী উসামা তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (১৭৮), ইবনুস সুন্নী "আমালুল ইয়াউম ওয়াল লাইলাহ" গ্রন্থে (নং ৬৭৪), ইবনু লাল তার “হাদীস" গ্রন্থে (১/১১৬), ইবনু বিশরান “আল-আমালী” গ্রন্থে (২০/৩৮/১) এবং বাইহাকী "আশ-শু'য়াব" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। তারা সকলেই আবু শুযা সূত্রে আবু তায়বাহ হতে ... বর্ণনা করেছেন। এটির সনদ দুর্বল। যাহাবী বলেনঃ আবু শুযাকে চেনা যায় না এবং আবু তায়বাহ মাজহুল।

এছাড়া হাদীসটির সনদে তিন দিক থেকে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে। হাফিয ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে এ আবূ শুযার জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে তার বিবরণ দিয়েছেন। যায়লাঈ উল্লেখ করেছেন হাদীসটি কয়েকটি দিক থেকে দোষণীয়ঃ

১। এটির সনদে রয়েছে বিচ্ছিন্নতা, যেমনভাবে দারাকুতনীসহ অন্যরা তার বিবরণ দিয়েছেন।

২। হাদীসটির মতনে (ভাষায়) রয়েছে দুর্বোধ্যতা, যেমনভাবে ইমাম আহমাদ উল্লেখ করেছেন।

৩। হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ দুর্বল, যেরূপ ইবনুল জাওযী বলেছেন।

৪। এছাড়া ইযতিরাব রয়েছে।

এটি দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে ইমাম আহমাদ, আবু হাতিম, ইবনু আবী হাতিম, দারাকুতনী, বাইহাকী এবং অন্যরাও একমত হয়েছেন। মানাবী “আত-তায়সীর” গ্রন্থে বলেনঃ হাদীসটি মুনকার।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من قرأ سورة الواقعة في كل ليلة لم تصبه فاقة أبدا
ضعيف

-

أخرجه الحارث بن أبي أسامة في " مسنده " (178 - من زوائده) وابن السني في " عمل اليوم والليلة " (رقم 674) وابن لال في " حديثه " (116 / 1) وابن بشران في " الأمالي " (20 / 38 / 1) والبيهقي في " الشعب " وغيرهم من طريق أبي شجاع عن أبي طيبة عن ابن مسعود مرفوعا
وهذا سند ضعيف، قال الذهبي: أبو شجاع نكرة لا يعرف، عن أبي طيبة، ومن أبو طيبة؟ عن ابن مسعود بهذا الحديث مرفوعا
وقد أشار بهذا الكلام إلى أن أبا طيبة نكرة لا يعرف، وصرح في ترجمته بأنه مجهول
ثم إن في سند الحديث اضطرابا من وجوه ثلاثة بينها الحافظ ابن حجر في " اللسان " في ترجمة أبي شجاع هذا فليراجعه من شاء، وفي " فيض القدير " للمناوي: وقال الزيلعي تبعا لجمع: هو معلول من وجوه: أحدها: الانقطاع كما بينه الدارقطني وغيره
الثاني: نكارة متنه كما ذكره أحمد
الثالث: ضعف رواته كما قاله ابن الجوزي
الرابع: اضطرابه، وقد أجمع على ضعفه أحمد وأبو حاتم وابنه والدارقطني والبيهقي وغيرهم
وقال المناوي في " التيسير ": والحديث منكر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৯০ | 290 | ۲۹۰

২৯০। যে ব্যাক্তি প্রতি রাতে সূরা আল-ওয়াকে’আহ পাঠ করবে; তাঁকে কখনও অভাব (ক্ষুধা) গ্রাস করবে না। যে ব্যাক্তি প্রতি রাতে লা-উকসেমু বে-ইওয়াওমিল কিয়ামাহ পাঠ করবে; সে কিয়ামত দিবসে আল্লাহর দিবসে আল্লাহর সাথে এমতাবস্থায় মিলিত হবে যে, তার চেহারা পূর্ণিমার রাতের ন্যায় উজ্জ্বল থাকবে।

হাদীসটি জাল।

এটি দাইলামী আহমাদ ইবনু উমার ইয়ামানী সূত্রে নিজ সনদে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সুয়ূতী "যায়লুল আহাদীসিল মাওযুআহ” গ্রন্থে (১৭৭) উল্লেখ করে বলেছেনঃ আহমাদ ইয়ামামী মিথ্যুক।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من قرأ سورة الواقعة كل ليلة لم تصبه فاقة أبدا، ومن قرأ كل ليلة {لا أقسم بيوم القيامة} لقي الله يوم القيامة ووجهه في صورة القمر ليلة البدر
موضوع

-

رواه الديلمي من طريق أحمد بن عمر اليمامي بسنده إلى ابن عباس رفعه
ذكره السيوطي في " ذيل الأحاديث الموضوعة " (177) وقال: أحمد اليمامي كذاب

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [281]  থেকে  [290]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [1500]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।