• ৭১৯৬১ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৮১৩১ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [342] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [241]  থেকে  [250]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪১ | 241 | ۲٤۱

২৪১। তুমি যে সব কিছুর আকাংখা কর সে সব কিছুকে খাওয়াই হচ্ছে অপচয়ের অন্তর্ভুক্ত।

হাদীসটি জাল।

এটি ইবনু মাজাহ্ (২/৩২২), ইবনু আবিদ-দুনিয়া "কিতাবুল জু" গ্রন্থে (১/৮), আবু নু’য়াইম "আল-হিলইয়াহ" গ্রন্থে (১০/২১৩) এবং বাইহাকী “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে (২/১৬৯/১) বিভিন্ন সূত্রে বাকিয়া ইবনু ওয়ালীদ হতে, তিনি ইউসুফ ইবনু আবী কাসীরের মাধ্যমে নূহ ইবনু যাকওয়ান হতে ... বর্ণনা করেছেন। আবুল হাসান সিন্দী ইবনু মাজার “হাশিয়াতে” বলেছেনঃ এ সনদটি দুর্বল। কারণ নূহ ইবনু যাকওয়ান দুর্বল হওয়ার বিষয়ে সকলেই একমত। দুমায়রী বলেনঃ এ হাদীসটি এমন একটি হাদীস যা তার উপর ইনকার (অস্বীকার) করা হয়েছে।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি ইবনুল জাওযী “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে (৩/৩০) দারাকুতনীর বর্ণনায় ইয়াহইয়া ইবনু উসমান হতে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়, ইয়াহইয়া মুনকারুল হাদীস, নূহও তার ন্যায়। সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২৪৬) তার সমালোচনা করে বলেছেন ইয়াহইয়া তার যিম্মাদারী হতে মুক্ত। এ কারণে হাদীসটির জালের অপবাদ নূহ-এর উপরেই ন্যাস্ত হয়, যা সুয়ূতীর ভাষাতেই বুঝা যায়। তা সত্ত্বেও তিনি ইবনু মাজার বর্ণনায় "জামেউস সাগীর" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। মানাবীও ইবনুল জাওযীর সমালোচনা করে বলেছেনঃ এটির শাহেদ রয়েছে। কিন্তু এটি তার ধারণা। কারণ এটির একটি শাহেদও আমি পাইনি। যদি শাহেদ থাকত তাহলে সুয়ূতী তা “আল-লাআলী” গ্রন্থে উল্লেখ করতেন।

হাদীসটির সনদের মধ্যে অন্য সমস্যাও আছে যা ইবনুল জাওযী এবং সুয়ূতীর নিকট লুক্কায়িত রয়ে গেছে। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাহযীব” গ্রন্থে বলেছেনঃ ইউসুফ ইবনু আবী কাসীর বাকিয়ার সেই সব শাইখদের একজন যাদের পরিচয় জানা যায় না। যাহাবীর “আল-মীযান” গ্রন্থেও অনুরূপ বলা হয়েছে।

তৃতীয় আরো একটি সমস্যা রয়েছে, সেটি হচ্ছে হাদীসটি হাসান বাসরী হতে আন আন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, তিনি তাদলীস করতেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إن من السرف أن تأكل كل ما اشتهيت
موضوع

-

أخرجه ابن ماجه (2 / 322) وابن أبي الدنيا في " كتاب الجوع " (8 / 1) وأبو نعيم في " الحلية " (10 / 213) والبيهقي في " الشعب " (2 / 169 / 1) من طرق عن بقية بن الوليد حدثنا يوسف بن أبي كثير عن نوح بن ذكوان عن الحسن عن أنس مرفوعا
قال أبو الحسن السندي في حاشيته على ابن ماجه: وفي " الزوائد ": هذا إسناد ضعيف لأن نوح بن ذكوان متفق على تضعيفه، وقال الدميري: هذا الحديث مما أنكر عليه
قلت: وأورده ابن الجوزي في " الأحاديث الموضوعة " (3 / 30) من رواية الدارقطني عن يحيى بن عثمان حدثنا به، وقال: لا يصح، يحيى منكر الحديث وكذا نوح
وعقب عليه السيوطي في " اللآليء " (2 / 246) بقوله: قلت: يحيى بريء من عهدته، ثم ذكر رواية ابن ماجه من الطرق المشار إليها عن بقية ورواية الخرائطي في " اعتلال القلوب " من طريق أخرى عن بقية فانحصرت التهمة بإرشاد السيوطي بنوح بن ذكوان، وهذا يتضمن اعتراف السيوطي بوضع الحديث كما لا يخفى، ومع ذلك فقد أورده في " الجامع الصغير " برواية ابن ماجه
وأما قول المناوي في شرحه: وعده ابن الجوزي في الموضوع، لكن تعقب بأن له شواهد؟
فما أظنه إلا وهما، فإني لا أعلم له ولا شاهدا واحدا ولوكان معروفا لبادر السيوطي إلى إيراده في " اللآليء " متعقبا به على ابن الجوزي كما هي عادته! وكذلك لم يذكر له أي شاهد المنذري في " الترغيب " (3 / 124) والعجلوني في " الكشف " (1 / 255) والله أعلم
وفي الحديث علة أخرى خفيت على ابن الجوزي ثم السيوطي! قال الحافظ ابن حجر في " التهذيب ": يوسف بن أبي كثير هو أحد شيوخ بقية الذين لا يعرفون ونحوه في " الميزان " للذهبي
وثمة علة ثالثة وهي عنعنة الحسن وهو البصري فقد كان يدلس، فلا تغتر بما نقله المنذري عن البيهقي أنه صحح هذا الحديث، فإنه من زلات العلماء التي لا يجوز اقتفاؤها
ثم استدركت فقلت: لعل المناوي يشير إلى مثل هذا الحديث الآتي عن عائشة (رقم 257) ولكن هذا حديث آخر مخرجا ولفظا ومعنى، على أنه ضعيف السند جدا كما سيأتي بيانه هناك

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪২ | 242 | ۲٤۲

২৪২। তোমরা তোমাদের হৃদয়গুলোকে কম হাসি এবং কম তৃপ্তি দ্বারা জীবন্ত-জাগ্রত কর এবং ক্ষুধা দ্বারা সেগুলোকে পবিত্র কর, তাহলে তা ছোট এবং পাতলা হবে।

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

যেমনভাবে হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৭৩) এবং তাজুস সুবকী “তাবাকাতুল কুবরা” গ্রন্থে (৪/১৬৩) অবহিত করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أحيوا قلوبكم بقلة الضحك وقلة الشبع، وطهروها بالجوع تصغر وترق
لا أصل له

-

كما يفيده الحافظ العراقي في " تخريج الإحياء " (3 / 73) ، والتاج السبكي في " الطبقات الكبرى " (4 / 163)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪৩ | 243 | ۲٤۳

২৪৩। সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ সেই ব্যাক্তি যার খাবার ও হাসি কম এবং সন্তষ্ট থাকে সেই বস্তুতে যা তার লজ্জাস্থানকে আবৃত করে।

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৬৯) এবং তাজুস সুবকী “তাবাকাতুল কুবরা” গ্রন্থে বলেনঃ এটির কোন ভিত্তি পাচ্ছি না।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أفضل الناس من قل طعمه وضحكه، ويرضى بما يستر به عورته
لا أصل له

-

قال الحافظ العراقي في " تخريج الإحياء " (3 / 69) والتاج السبكي في الطبقات الكبرى
لم أجد له أصلا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪৪ | 244 | ۲٤٤

২৪৪। কিয়ামতের দিবসে মর্যাদার দিক থেকে আল্লাহর নিকট তোমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাক্তি সেই যে তোমাদের মধ্যে দীর্ঘ ক্ষুধায় জড়িত এবং আল্লাহর ব্যাপারে দীর্ঘ চিন্তামগ্ন। আর কিয়ামতের দিবসে আল্লাহর নিকট ঘৃণিত তারাই যারা অধিক ঘুমায়, অধিক ভক্ষন করে এবং অধিক পান করে।

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

এটিকে গাযালী “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৯৬) হাসান বাসরীর হাদীস হতে মুরসাল হিসাবে উল্লেখ করেছেন। হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৯৬) এবং তাজুস সুবকী “তাবাকাতুল কুবরা” গ্রন্থে (৪/১৬২) বলেছেনঃ এটির কোন ভিত্তি পাচ্ছি না।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أفضلكم عند الله منزلة يوم القيامة أطولكم جوعا وتفكيرا في الله سبحانه، وأبغضكم عند الله عز وجل يوم القيامة كل نؤوم أكول شروب
لا أصل له

-

وإن ذكره الغزالي في " الإحياء " (3 / 96) من حديث الحسن البصري مرسلا مرفوعا
فقد قال الحافظ العراقي في " تخريجه " والتاج السبكي في " الطبقات " (4 / 162) : لم أجد له أصلا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪৫ | 245 | ۲٤۵

২৪৫। তোমরা পরিধান কর এবং অর্ধপেটে পান কর, কারণ তা হচ্ছে নবুওয়াতের এক অংশ।

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৬৯) এবং তাজুস সুবকী “তাবাকাতুল কুবরা” গ্রন্থে (৪/১৬২) হাদীসটি উল্লেখ করে আমাদেরকে অবহিত করেছেন, হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

البسوا واشربوا في أنصاف البطون فإنه جزء من النبوة
لا أصل له

-

كما أفاده الحافظ العراقي في " تخريج الإحياء " (3 / 69) والسبكي في " الطبقات الكبرى " (4 / 162)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪৬ | 246 | ۲٤٦

২৪৬। তৃপ্তি সহকারে ভক্ষন শ্বেত রোগের অধিকারী করে।

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

এই হাদিসটি সেই সব বাতিল হাদিসগুলোর একটি যেগুলো দ্বারা গাযালী তার গ্রন্থ সমূহকে পরিপূর্ণ করে রেখেছেন। বিশেষ করে “আল-ইহইয়া” গ্রন্থকে। হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৭০) এবং তাজুস সুবকী “তাবাকাতুল কুবরা” গ্রন্থে (৪/১৬৩) বলেনঃ এটির কোন ভিত্তি পাচ্ছি না



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إن الأكل على الشبع يورث البرص
لا أصل له

-

وهو من الأحاديث الكثيرة الباطلة التي شحن بها الغزالي كتبه، ولا سيما كتابه " الإحياء " وقد قال مخرجه الحافظ العراقي في هذا الحديث (3 / 70) : لم أجد له أصلا
وكذا قال السبكي عبد الوهاب في " الطبقات الكبرى " (4 / 163)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪৭ | 247 | ۲٤۷

২৪৭। তোমরা তোমাদের আত্নার সাথে ক্ষুধা এবং তৃষ্ণা দ্বারা সংগ্রাম কর। কারণ তাতে সাওয়াব অর্জিত হয়, আল্লাহর পথে জেহাদকারীর সাওয়াবের ন্যায়। এ ছাড়া ক্ষুধা ও তৃষ্ণার চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় কর্ম নেই।

হাদীসটি বাতিল, এটির কোন ভিত্তি নেই।

গাযালী এটিকে “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৬৯) মারফূ' হিসাবে বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে এবং তাজুস সুবকী “তাবাকাতুল কুবরা” গ্রন্থে (৪/৬২) বলেনঃ এটির কোন ভিত্তি পাচ্ছি না।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

جاهدوا أنفسكم بالجوع والعطش، فإن الأجر في ذلك كأجر المجاهد في سبيل الله وإنه ليس من عمل أحب إلى الله من جوع وعطش
باطل لا أصل له

-

وقد ذكره الغزالي في " الإحياء " (3 / 69) مجزوما برفعه إلى النبي صلى الله عليه وسلم! ولوائح الوضع عليه ظاهرة، وقد قال الحافظ العراقي في تخريجه: لم أجد له أصلا، وكذا قال السبكي في " الطبقات الكبرى " (4 / 62)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪৮ | 248 | ۲٤۸

২৪৮। কর্মসমূহের সর্দার হচ্ছে ক্ষুধা এবং আত্নার অপমান হচ্ছে পশমী পোষাক।

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৯) এবং তাজুস সুবকী “তাবাকাতুল কুবরা” গ্রন্থে (৪/১৬২) বলেনঃ এটির কোন ভিত্তি পাচ্ছি না।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

سيد الأعمال الجوع، وذل النفس لباس الصوف
لا أصل له

-

قال العراقي في " تخريج الإحياء " (3 / 9) والسبكي في " الطبقات الكبرى " (4 / 162) : لم أجد له أصلا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪৯ | 249 | ۲٤۹

২৪৯। চিন্তা হচ্ছে ইবাদতের অর্ধেক আর অল্প খাদ্য গ্রহণই হচ্ছে ইবাদত।

হাদীসটি বাতিল।

হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৬৯) বলেনঃ এটির কোন ভিত্তি নেই।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الفكر نصف العبادة، وقلة الطعام هي العبادة
باطل

-

وقد أفاد العراقي في " تخريج الإحياء " (3 / 69) أنه لا أصل له

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৫০ | 250 | ۲۵۰

২৫০। তিনি যখন দুপুরের খাবার খেতেন, তখন রাতের খাবার খেতেন না। আর যখন রাতের খাবার খেতেন তখন দুপুরের খাবার খেতেন না।

হাদীসটি দুর্বল।

এটি ইবনু বিশরান “আল-আমালী” গ্রন্থে (১/৭৩), আবু নু’য়াইম “আল-হিলইয়াহ" গ্রন্থে (৩/৩২৩), ইবনু আসাকির "আখবারুন লি হিফযিল কুরআন" গ্রন্থের শেষাংশে (কাফ ২/৮) এবং অনুরূপভাবে “আত-তারীখ” গ্রন্থে (১১/৬৫/১) সুলায়মান ইবনু আব্দির রহমান হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ দুর্বল। বর্ণনাকারী ওয়াযীন ইবনু আতার হেফযে ক্রটি রয়েছে। এ কারণে হাদীসটি দুর্বল। তাছাড়া হাদীসটি মুরসাল, কারণ আবু সাঈদ-এর সাথে আতার সাক্ষাৎ ঘটেনি।

সতর্কবাণীঃ এ হাদীসটির উৎপত্তি স্থল হাফিয ইরাকী এবং তাজুস-সুবকী উভয়ের নিকট লুক্কায়িতই রয়ে গেছে। এ জন্যে তারা বলেছেন যে, এটি সেই সব হাদীসের অন্তর্ভুক্ত যেগুলো গাযালী “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন অথচ সেগুলোর কোন ভিত্তি নেই। যুবায়দী “ইতহাফুস সাদা” গ্রন্থে (৭/৪০৯) শুধু আবূ নু’য়াইম-এর বর্ণনা দ্বারা তার সমালোচনা করেছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তার বিপরীত। এটিকে বাইহাকী “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে (২/১৫৮/২) আবূ যুহায়ফা হতে মওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন, যার সনদে ওয়ালীদ ইবনু আমর নামক বর্ণনাকারী আছেন, তিনি দুর্বল।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

كان إذا تغدى لم يتعش، وإذا تعشى لم يتغد
ضعيف

-

رواه ابن بشران في " الأمالي " (73 / 1) وأبو نعيم في " الحلية " (3 /323) وابن عساكر في آخر جزء " أخبار لحفظ القرآن " (ق 8 / 2) وكذا في " التاريخ " (11 / 65 / 1) عن سليمان بن عبد الرحمن حدثنا أيوب بن حسان الجرشي حدثنا الوضين بن عطاء عن عطاء بن أبي رباح قال: دعي أبو سعيد الخدري إلى وليمة فرأى صفرة وخضرة فقال: أما تعلمون أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان ... الحديث.
قلت: وهذا إسناد ضعيف ورجاله ثقات لكن الوضين بن عطاء سيء الحفظ فهو لهذا ضعيف، ثم إنه مرسل كما هو الظاهر لأن عطاء لم يوصله عن أبي سعيد بمثل قوله: عن أبي سعيد، ونحوه
(تنبيه) هذا الحديث مما خفي مخرجه على الحافظ العراقي ثم التاج السبكي فذكرا أنه من الأحاديث التي أوردها الغزالي في " الإحياء " ولا أصل لها
وتعقبه الزبيدي في " إتحاف السادة " (7 / 409) برواية أبي نعيم فقط! ورواه البيهقي في " الشعب " (2 / 158 / 2) موقوفا على أبي جحيفة، وفيه الوليد بن عمرو بن ساج وهو ضعيف، وتناقض فيه ابن حبان كما بينته في تيسير الانتفاع

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [241]  থেকে  [250]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [342]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।