• ৭১৪৬৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৭৮০২ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [1500] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [231]  থেকে  [240]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৩১ | 231 | ۲۳۱

২৩১। তোমরা শুকনা খেজুরের সাথে কাঁচা খেজুর খাও। কারণ শয়তান যখন তাঁকে দেখে তখন ক্রোধান্বিত হয় এবং বলেঃ আদম সন্তান জীবন ধারন করে এমনকি নতুনকে পুরাতনের সাথে মিলিয়ে আহার করে।

হাদীসটি জাল।

এটি ইবনু মাজাহ (১/৩১৭), উকায়লী "আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (৪৬৭), ইবনু আদী (২/৩৬৪), ইবনু হিব্বান “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে (৩/১২০) বর্ণনা করেছেন। এছাড়া আবু নু’য়াইম, হাকিম, বাইহাকী, আবুল হাসান, হুমামী, খাতীব বাগদাদী এবং হেবাতুল্লাহ আত-তাবারী বর্ণনা করেছেন।

এটির সনদে আবু যাকীর ইয়াহইয়া ইবনু মুহাম্মাদ নামক এক বর্ণনাকারী আছেন। তার সম্পর্কে ইবনু আদী, হাকিম, বাইহাকী, হুমামী ও খাতীব বলেনঃ আবু যাকীর এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। হাকিম শিথিলতা প্রদর্শনকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি “আল-মুসতাদরাক” গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেননি। যাহাবী “আল-মীযান" গ্রন্থে বলেছেনঃ এটি মুনকার হাদীস। নাসাঈ বলেনঃ হাদীসটি মুনকার।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনুল জাওযী হাদীসটি “আল-মাওযুআত” গ্রন্থে (৩/২৬) উল্লেখ করে বলেছেনঃ দারাকুতনী বলেনঃ আবু যাকীর হিশাম হতে এককভাবে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। উকায়লী বলেনঃ তার অনুকরণ করা যায় না এবং এ হাদীসটিতে ছাড়া তাকে চেনা যায় না। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি সনদগুলো উলট পালট করে ফেলতেন এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে মুরসালকে মারফূ' করে ফেলতেন। তাকে হিসাবে গ্রহণ করা যায় না। তিনি এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন অথচ তার কোন ভিত্তি নেই।

সুয়ূতীও “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২৪৩) হাদীসটি যে জাল তা স্বীকার করেছেন ইমাম মুসলিম আবু যাকীর হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তিনি তার থেকে মুতাবায়াতের ক্ষেত্রে বর্ণনা করেছেন, যেমনভাবে “আত-তাহযীব” গ্রন্থে এসেছে। "আত-তাকরীব" গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলা হয়েছেঃ তিনি সত্যবাদী, কিন্তু বহু ভুল করতেন। সুয়ূতী এটিকে জাল হিসাবে স্বীকার করার পরেও “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

كلوالبلح بالتمر، فإن الشيطان إذا رآه غضب وقال: عاش ابن آدم حتى أكل الجديد بالخلق
موضوع

-

رواه ابن ماجه (1 / 317) والعقيلي في " الضعفاء " (467) وابن عدي (364 / 2) وابن حبان في " الضعفاء " (3 / 120) وأبو نعيم في " أخبار أصبهان " (1 / 134) والحاكم في " المستدرك " (4 / 21) وفي " معرفة علوم الحديث " (ص 100 - 101) والبيهقي في " الآداب " (318 / 667) وأبو الحسن الحمامي في " الفوائد المنتقاة " (9 / 207 / 2) والخطيب في " تاريخه " (5 / 353) وهبة الله الطبري في " الفوائد " (1 / 134 / 2) واستغربه عن أبي زكير يحيى ابن محمد بن قيس قال: حدثنا هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة مرفوعا، وقال ابن عدي والحاكم في " المعرفة " والبيهقي والحمامي والخطيب: تفرد به أبو زكير، والحاكم مع تساهله المعروف لم يصححه في " المستدرك " وقال الذهبي في " الميزان "
هذا حديث منكر، وكذا قال في تلخيص " المستدرك " وزاد
ولم يصححه المؤلف
قال السندي: وفي " الزوائد ": في إسناده أبو زكير في الأصل زكريا وهو تصحيف يحيى بن محمد ضعفه ابن معين وغيره، وقال ابن عدي: أحاديثه مستقيمة سوى أربعة أحاديث
قلت: وقد عد هذا الحديث من جملة تلك الأحاديث، وقال النسائي: إنه حديث منكر
قلت: وقد أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 26) وقال: قال الدارقطني: تفرد به أبو زكير عن هشام قال العقيلي: لا يتابع عليه ولا يعرف إلا به، قال ابن حبان: وهو يقلب الأسانيد ويرفع المراسيل من غير تعمد فلا يحتج به، روى هذا الحديث ولا أصل له، قال ابن الجوزي: هذا قدح ابن حبان في أبي زكير وقد أخرج عنه مسلم في " الصحيح " ولعل الزلل من قبل محمد بن شداد المسمعي (يعني أحد رواته) عن أبي زكير قال الدارقطني: لا يكتب حديثه، وتابعه نعيم بن حماد عن أبي زكير، ونعيم ليس بثقة
وأقره السيوطي في " اللآليء " (2 / 243) على وضعه لكنه تعقبه في محاولته تبرئة أبي زكير من عهدة الحديث فإنه ذكر له طرقا أخرى عن أبي زكير، تحمل الباحث على أن يحصر التهمة في أبي زكير، وهو الصواب، وبه أعل الأئمة هذا الحديث والله أعلم
ومسلم إنما أخرج له في " المتابعات "، كما في " التهذيب "، وقال في " التقريب ": صدوق يخطيء كثيرا
ومع اعتراف السيوطي بوضعه فإنه أورده في " الجامع الصغير " من رواية النسائي وابن ماجه والحاكم عن عائشة
هذا وقد عزاه للنسائي ابن القيم أيضا في " زاد المعاد " (3 / 211) فالظاهر أنه في سننه الكبرى وهو في الوليمة منه، كما في " تحفة الأشراف " (12 / 224) وقال النسائي: هذا منكر
كما تقدم عن " الزوائد "، ثم إن ابن القيم سكت عن هذا الحديث فكأنه لم يستحضر علته فكان عمله هذا من جملة الدواعي على تحرير القول فيه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৩২ | 232 | ۲۳۲

২৩২। তোমরা শুকনা খেজুর থুথুর সাথে মিশিয়ে খাও, কারণ তা জীবাণুকে হত্যা করে।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি আবু বাকর শাফেঈ “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (৯/১০৬/১) এবং ইবনু ‘আদী (২/২৫৮) ইসমাহ ইবনু মুহাম্মাদ হতে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী, ইসমাহ ইবনু মুহাম্মাদ সম্পর্কে বলেছেনঃ তার কোন হাদীসই নিরাপদ নয়, তিনি মুনকারুল হাদীস। ইবনুল জাওযী হাদীসটি “আল-মাওযুআত” গ্রন্থে (৩/২৫) ইবনু আদীর সূত্রে ইসমাহ হতে উল্লেখ করে বলেছেনঃ সহীহ নয়, ইসমাহ মিথ্যুক। সুয়ূতী “আল-লাআলী" গ্রন্থে (২/২৪৩) তার বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। ইবনু আররাকও “তানবীহুশ শারীয়াহ” গ্রন্থে (২/৩২০) তাকে সমর্থন করেছেন। তা সত্ত্বেও সুয়ূতী হাদীসটি “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

كلوا التمر على الريق فإنه يقتل الدود
موضوع

-

رواه أبو بكر الشافعي في " الفوائد " (9 / 106 / 1) وابن عدي (258 / 2) عن عصمة بن محمد حدثنا موسى بن عقبة عن كريب عن ابن عباس مرفوعا
وقال ابن عدي: وعصمة بن محمد كل حديثه غير محفوظ وهو منكر الحديث
وأورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 25) من طريق ابن عدي عن عصمة، ثم قال: لا يصح، عصمة كذاب
وأقره السيوطي في " اللآليء " (2 / 243) ثم ابن عراق في " تنزيه الشريعة " (320 / 2) ومن قبلهما ابن القيم في " المنار " وقال (ص 25) : هو بوصف الأطباء والطرقية أشبه وأليق
ومع هذا فقد أورده السيوطي في " الجامع الصغير " من رواية أبي بكر الشافعي هذا والديلمي عن ابن عباس، فانظر كم هو متناقض؟

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৩৩ | 233 | ۲۳۳

২৩৩। জান্নাতে অধিকাংশ মালা হবে আকীক পাথরের।

হাদীসটি জাল।

এটি আবু নু’য়াইম "আল-হিলইয়াহ" গ্রন্থে (৮/২৮১) সালাম ইবনু মায়মূন আল-খাওয়াস-এর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে আবু মুহাম্মাদ সালাম আয-যাহেদ (সালাম ইবনু সালেম) সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে তার “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে (৩/৫৮) উল্লেখ করে বলেছেনঃ সালাম ইবনু সালেম মিথ্যুক। সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২৭৩) তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ ইবনু আদী ছাড়া সকলেই তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে একমত। অতঃপর বলেছেনঃ সালাম ইবনু মায়মূন আল-খাওয়াস বড় ধরনের সূফী এবং আবেদ। কিন্তু তার হাদীসে মুনকার রয়েছে। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তার উপর ধাৰ্মিকতা অগ্রাধিকার পেয়ে যায়, ফলে তিনি হাদীস এবং তার অনুসরণ হতে অমনোযোগী হয়ে যান।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু হিব্বান-এর পুরো কথা (১/৩৪৫) হচ্ছে এই যে, তিনি কখনও কখনও একটি বস্তুকে অন্যটির পরে উল্লেখ করেছেন এবং সন্দেহ করে তা উলট-পালট করে ফেলেছেন। ফলে তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা বাতিল হয়ে গেছে। ইবনু আবী হাতিম তার পিতার (২/১/১৬৭) উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ আমি তার থেকে লিখি না। তিনি আবু খালিদ আল-আহমার হতে মাওযুর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইবনুল জাওযী যে কথা বলেছেন, সেটিই সঠিক। সালাম ইবনু সালেম মিথ্যার দোষে দোষী । আল-খাতীব আহমাদ ইবনু সায়ার হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ সালাম ইবনু সালেম মাওযু হাদীসের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন, যেগুলোর কোন লাগাম নেই।

ইবনু আবী হাতিম তার জীবনীতে (১/১/৩৬৭) বলেছেনঃ আমি আবু যুর'য়াহকে বলতে শুনেছিঃ তার হাদীস লেখা যাবে না। তিনি মুরজিয়া ছিলেন এবং ইঙ্গিতে বুঝিয়েছেন তিনি সত্যবাদী ছিলেন না। ইবনু হিব্বান (১/৩৪৪) বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। তিনি হাদীসগুলোকে উলট পালট করে ফেলতেন। ইবনুল মুবারাক তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। ইবনু আদী শুধুমাত্র দুর্বল বলেছেন, এ কথা উল্লেখ করে এ হাদীসটির ক্ষেত্রে সুয়ূতী তার সিদ্ধান্তে ভুল করেছেন।

মোটকথা, হাদীসটি জাল, চাই এটি সালাম ইবনু সালেম-এর বর্ণনায় হোক বা সালাম ইবনু মায়মূন-এর বর্ণনায় হোক।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أكثر خرز الجنة العقيق
موضوع

-

أخرجه أبو نعيم في " الحلية " (8 / 281) في ترجمة سلم، وفي " الحلية " سالم ابن ميمون الخواص من طريق أبي محمد سلم الزاهد: ثنا القاسم ابن معن عن أخته أمينة بنت معن عن عائشة مرفوعا، وقال: غريب من حديث القاسم لم نكتبه إلا من هذا الوجه، وأورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 58) من هذا الوجه وقال: سلم بن سالم كذاب
وعقب عليه السيوطي بقوله في " اللآليء " (2 / 273) : قلت: اتفقوا على تضعيفه غير ابن عدي فقال: أرجوأنه يحتمل حديثه، وقال العجلي: لا بأس به، وهو صاحب حديث العدس، ثم راجعت " الحلية " فوجدته أخرجه في ترجمة سلم بن ميمون الخواص الزاهد المشهور، وهو صوفي من كبار الصوفية والعباد غير أن في
حديثه مناكير، قال ابن حبان: غلب عليه الصلاح حتى شغل عن حفظ الحديث وإتقانه
قلت: وتمام كلام ابن حبان (1 / 345) : فربما ذكر الشيء بعد الشيء ويقلبه توهما، فبطل الاحتجاج به
وقال ابن أبي حاتم (2 / 1 / 167) عن أبيه: لم أكتب عنه، روى عن أبي خالد الأحمر حديثا منكرا شبه الموضوع، وميل السيوطي إلى أن الحديث لسلم بن ميمون يؤيده إيراد أبي نعيم له في ترجمته، لكن لم أر أحدا ممن ترجمه ذكر له كنية مطلقا، بخلاف سلم بن سالم فقد جزم بأن كنيته أبو محمد ابن أبي حاتم في " الجرح والتعديل " (2 / 1 / 266) ، وابن سعد في " طبقاته " (7 / 374) و" تاريخ بغداد " (9 / 141) للخطيب واعتمده هو حيث قال في أول ترجمته
سلم بن سالم أبو محمد، وقيل: أبو عبد الرحمن البلخي
فهذا يؤيد أنه سلم بن سالم وهو موصوف بالزاهد أيضا مثل سلم بن ميمون فكان ذلك من دواعي الاشتباه، والأرجح ما ذهب إليه ابن الجوزي أنه سلم بن سالم وهو متهم، وروى الخطيب عن أحمد بن سيار قال: سلم بن سالم كان يروي أحاديث ليست لها خطم ولا أزمة شبيهة بالموضوع، وعن إبراهيم بن يعقوب الجوزجاني قال: غير
ثقة، سمعت إسحاق بن إبراهيم هو ابن راهو يه يقول: سئل ابن المبارك عن الحديث الذي حدث في أكل العدس أنه قدس على لسان سبعين نبيا؟ فقال: ولا على لسان نبي واحد، إنه لمؤذ منفخ، من يحدثكم به؟ قالوا: سلم بن سالم، قال: عمن؟
قالوا: عنك، قال: وعني أيضا؟ ! ثم روى الخطيب تضعيفه عن أحمد والنسائي وغيرهما، وقال ابن أبي حاتم في ترجمته (1 / 1 / 367) : سمعت أبا زرعة يقول: لا يكتب حديثه، كان مرجئا، وكان لا - وأو مأ بيده إلى فيه -يعني لا يصدق، وقال ابن حبان (1 / 344) : منكر الحديث يقلب الأخبار قلبا، وكان ابن المبارك يكذبه
وأما استثناء السيوطي ابن عدي من المضعفين له بسبب قوله: أرجوأن يحتمل حديثه فغير مستقيم لأنه إنما قال هذا بعد أن أورد له أحاديث قال فيها: " هذه الأحاديث أنكر ما رأيت له، وله أفراد، وأرجوأن يحتمل حديثه " كذا في " اللسان "، فهذا يفيد أن ابن عدي ضعفه بسبب روايته لتلك الأحاديث المنكرة، ورجاؤه أن يحتمل ما له من الأفراد والأحاديث القليلة، لا يوثقه بعد روايته الأحاديث المنكرة، وهذا بين لا يخفى على من له دراية بهذا الفن الشريف
وقد سبق للسيوطي مثل هذه الخطأ فانظر الحديث (201)
وبالجملة فالحديث موضوع سواء كان من رواية سلم بن سالم أو من رواية سلم بن ميمون فإن كل واحد منهما شر في الحديث من الآخر كما تبين لك من أقوال العلماء فيهما، وقد مضى عن السخاوي في الحديث (رقم 222) أن كل طرق حديث خاتم العقيق باطلة، ثم إن الحديث ذكره الذهبي في ترجمة سلم بن عبد الله الزاهد، وقال
وهاه ابن حبان وقال: حدثنا ابن قتيبة وحدثنا حاتم بن نصر - بأستروشنة - قالا: حدثنا عبيد بن الغار العسقلاني حدثنا سلم بن عبد الله الزاهد عن القاسم بن معن
قلت: فذكر الحديث بإسناده ولفظه، وقد عزاه الحافظ في " اللسان " لأبي نعيم وقال: ولم تقع في روايته ولا رواية ابن حبان تسمية والد سلم والعلم عند الله
كذا قال لكن ابن حبان أورده في ترجمة سلم بن عبد الله الزاهد أبو محمد من " ضعفائه " (1 / 344) عقب ترجمة سلم بن سالم المتقدم، وقال: لا يحل ذكره في الكتب إلا على سبيل الاعتبار

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৩৪ | 234 | ۲۳٤

২৩৪। তোমাদের রমণীদের নেফাসের রক্ত প্রবাহিত হওয়া কালীন খেজুর খাওয়াবে, কারণ যে নারীর খাদ্য তার নেফাসের সময়ে শুকনা খেজুর হবে তার সন্তান বুদ্ধিমান হয়ে বের হবে। কারণ এটি মারইয়াম-এর খাদ্য ছিল। যখন তিনি ঈসাকে প্রসব করেন, তখন তার জন্য আল্লাহ যদি শুকনা খেজুরের চাইতেও উত্তম খাবার সম্পর্কে জানতেন, তাহলে তাই তাঁকে খাওয়াতেন।

হাদীসটি জাল।

হাদিসটি খাতীব বাগদাদী (৮/৩৬৬) দাউদ ইবনু সুলায়মান জুরজানী সুত্রে (তার জীবনী বর্ণনা করার সময়) সুলায়মান ইবনু আমর হতে ... উল্লেখ করেছেন। অতঃপর দাউদ সম্পর্কে বলেছেনঃ তার সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি মিথ্যুক।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তার আরেকটি হাদীস পূর্বে ২২৯ নম্বরে আলোচনা করা হয়েছে। তার শাইখ সুলায়মান ইবনু আমর, তিনি হচ্ছেন নাখ'ঈ। তিনিও মিথ্যুক।

ইবনুল জাওযী “আল-মাওযু"আত” গ্রন্থে (৩/২৭) বলেনঃ সুলায়মান আন-নাখ'ঈ এবং দাউদ তারা দু’জনই মিথ্যুক।

সুয়ূতী তার সমালোচনা করে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২৪৪) বলেছেনঃ ইবনু মান্দার বর্ণনা হতে দাউদ-এর মুতাবায়াত পাওয়া যায়।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সেটির সনদে রয়েছেন সুলায়মান ইবনু আমর আন-নাখ'ঈ। সুয়ূতী নিজেই এ সুলায়মান মিথ্যুক তা স্বীকার করেছেন। অতএব তিনি যেন স্বীকার করেছেন হাদীসটি জাল।

ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়াহ “আল-মানার" গ্রন্থে (২৫) দৃঢ়তার সাথে বলেছেনঃ হাদীসটি জাল



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أطعموا نساءكم في نفاسهن التمر، فإنه من كان طعامها في نفاسها التمر خرج ولدها ذلك حليما، فإنه كان طعام مريم حين ولدت عيسى، ولوعلم الله طعاما هو خير لها من التمر أطعمها إياه
موضوع

-

أخرجه الخطيب (8 / 366) من طريق داود بن سليمان الجرجاني حدثنا سليمان بن عمرو عن سعد بن طارق عن سلمة بن قيس مرفوعا.
ذكره في ترجمة الجرجاني ثم روى عن ابن معين أنه قال فيه: كذاب.
قلت: وقد سبق له حديث موضوع قريبا (229) ، وشيخه في هذا الحديث سليمان بن عمرو وهو النخعي كذاب أيضا.
والحديث أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 27) من هذا الوجه وقال:
سليمان النخعي وداود كذابان.
وعقب عليه السيوطي في " اللآليء " بقوله (2 / 244) : قلت: داود توبع.
ثم ساقه من رواية ابن منده من طريق حامد بن المسور حدثنا الحسن بن قتيبة حدثنا سليمان بن عمرو النخعي به، وأخرجه أبو نعيم في " الطب " من طريق حامد بن المسور.
قلت: وهذه المتابعة لا تجدي لأنها تدور على سليمان النخعي الكذاب أيضا باعتراف السيوطي فكأنه يعترف بوضع هذا الحديث، لكنه قد روي بإسناد آخر ضعيف ولفظه قريب من هذا فانظر الحديث الآتي (263) ، وقد جزم ابن القيم في " المنار " (ص 25) بوضعه فقال: هو بوصف الأطباء والطرقية أشبه وأليق

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৩৫ | 235 | ۲۳۵

২৩৫। ধৈর্য ধারন করার চেয়েও দুনিয়াকে পরিত্যাগ করা অতি তিক্ত এবং আল্লাহর পথে তরবারী ভাংগার চাইতেও কঠিন। এ দুনিয়াকে যে ব্যাক্তই পরিত্যাগ করে তাঁকে দেয়া হয় সেরূপ প্রতিফলন যেরূপ দেয়া হয় শহীদদেরকে। তাঁকে পরিত্যাগ করার অর্থ হচ্ছে খাদ্য কম গ্রহণ করা, তৃপ্ত কম হওয়া এবং মানুষের প্রশংসাকে ঘৃণা করা। কারণ যে ব্যাক্তি মানুষের প্রশংসাকে ভালবাসে সে দুনিয়া ও তার সম্পদকে ভাল বাসলো। আর যাকে সম্পদ আনন্দিত করে সে যেন মানুষের প্রশংসাকে পরিত্যাগ করে।

হাদীসটি জাল।

এটি দাইলামী তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (২/৪৪) বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সুয়ূতী "যায়লুল আহাদীসিল মাওযুআহ" গ্রন্থে (পৃঃ ১৯১) দাইলামীর বর্ণনায় উল্লেখ করে বলেছেনঃ জাযারী নামক বর্ণনাকারী সাওরী এবং আওযাঈ হতে মুনকার এবং আজব ধরনের হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাকে ইবনু হিব্বান জাল করার দোষে দোষী করেছেন। “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে এসেছে; ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি সাওরী হতে অবোধগম্য বিষয় নিয়ে এসেছেন। ফলে যে ব্যক্তি তার হাদীস লিখেছেন এ কাজ যে তারই তিনি তাতে কোন সন্দেহ করেননি (২/৩৫)। তার এ কথাকে ইবনু আররাক “তানযীহুশ শারীয়াহ" গ্রন্থে (১/৩৫৮) সমর্থন করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তা সত্ত্বেও সুয়ূতী হাদীসটির প্রথম অংশ “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে দাইলামীর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। তিনি এক্ষেত্রে দুটি কারণে ক্রটি করেছেনঃ

১। জাল করার দোষে দোষী ব্যক্তির বর্ণনা হওয়া সত্ত্বেও সেটিকে উল্লেখ করা।

২। সংক্ষেপে শুধু প্রথম অংশ উল্লেখ করা, যা সন্দেহ জাগায় যে, দাইলামী হয়তো এরূপই (সংক্ষেপে) বর্ণনা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ترك الدنيا أمر من الصبر، وأشد من حطم السيوف فى سبيل الله، ولا يتركها أحد إلا أعطاه مثل ما يعطي الشهداء، وتركها قلة الأكل والشبع، وبغض الثناء من الناس، فإنه من أحب الثناء من الناس أحب الدنيا ونعيمها، ومن سره النعيم فليدع الثناء من الناس
موضوع

-

أخرجه الديلمي في " مسنده " (2 / 44) قال أنبأنا أبي أخبرنا أحمد بن عمرو البزار عن عبد الله بن عبد الرحمن الجزري عن سفيان عن حماد عن إبراهيم عن علقمة عن ابن مسعود مرفوعا
وذكره السيوطي في " ذيل الأحاديث الموضوعة " (ص 191) من رواية الديلمي، وقال السيوطي: قال في " الميزان ": عبد الله بن عبد الرحمن الجزري عن الثوري والأوزاعي بمناكير وعجائب، اتهمه ابن حبان بالوضع، وفي " اللسان " قال ابن حبان: يأتي عن الثوري بالأوابد حتى لا يشك من كتب الحديث إنه عملها (2 / 35) ، وأقره ابن عراق (358 / 1)
قلت: ومع هذا فقد أورد السيوطي طرف الحديث الأول في " الجامع الصغير " من رواية الديلمي هذه! فأساء من وجهين
الأول: إيراده فيه مع أنه من رواية ذاك المتهم بالوضع
الآخر: اقتصاره على القدر المذكور فأو هم أنه كذلك عند الديلمي وليس كذلك
والشارح المناوي لم يتعقبه بشيء يذكر فقال: ورواه عنه البزار أيضا، ومن طريقه عنه أورده الديلمي
قلت: إطلاق العزو للبزار يعني إنه رواه في " مسنده " كما هو المصطلح عليه عند المحدثين وما أظن البزار أخرجه فيه وإلا لذكره الهيثمي في " المجمع " ولم أره فيه، والله أعلم.
ثم استدركت فقلت: ليس البزار في إسناد الديلمي هو أحمد بن عمرو صاحب " المسند " المعروف به، فإنه توفي سنة (292) ووالد الديلمي واسمه شيرويه ابن شهردار مات سنة (509) فبينهما قرنان من الزمان

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৩৬ | 236 | ۲۳٦

২৩৬। সৎ কর্মশীল লোক দুনিয়াতে সুসজ্জিত হতে পারে না দুনিয়াকে পরিত্যাগ কারীর ন্যায়।

হাদীসটি জাল।

এটি আবু ইয়ালা তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (৩/১৯১/১৬১৭) বর্ণনা করেছেন। হায়সামী এটিকে "আল-মাজমা" গ্রন্থে (১০/২৮৬) উল্লেখ করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ
এটির সনদে সুলায়মান শাযকুনী নামক এক বর্ণনাকরী আছেন; তিনি মাতরূক।

আমি (আলবানী) বলছিঃ বরং তিনি মিথ্যুক। তার সম্পর্কে পূর্বে আরো কয়েকটি হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে (২৩৪)। এছাড়া আলী ইবনুল হাযূর; তিনিও মাতরূক এবং ইসমাঈল ইবনু আবান (তিনি নির্ভরযোগ্য ওররাক নন বরং তিনি হচ্ছেন গানাবী) সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ তিনি মাতরূক, তাকে জাল করার দোষে দোষী করা হয়েছে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما تزين الأبرار في الدنيا بمثل الزهد في الدنيا
موضوع

-

أخرجه أبو يعلى في " مسنده " (3 / 191 / 1617) حدثنا سليمان الشاذكوني حدثنا إسماعيل بن أبان حدثنا علي بن الحزور قال: سمعت أبا مريم يقول: سمعت عمار ابن ياسر يقول: ... فذكره مرفوعا، وذكره الهيثمي في " المجمع " (10 /286) وقال: وفيه سليمان الشاذكوني وهو متروك
قلت: بل هو كذاب وقد مضى له عدة أحاديث أقربها الحديث (234)
ثم إن اقتصاره عليه يوهم أنه ليس فيه من هو مثله أو قريب منه، وليس كذلك بل فوقه آخران أحدهما شر من الآخر استدرك عليه أحدهما المعلق على " المسند " فقال: وعلي بن الحزور متروك وباقي رجاله ثقات
قلت: ولقد أخطأ أيضا، فإن إسماعيل بن أبان ليس هو الوراق الثقة وإنما هو إسماعيل بن أبان الغنوي، قال الحافظ: متروك رمي بالوضع

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৩৭ | 237 | ۲۳۷

২৩৭। বান্দা কোন রহস্যকে গোপন করলে, আল্লাহ তাঁকে সেই রহস্যের চাঁদর পরিয়ে দেন। যদি তা (রহস্যটি) কল্যাণকর হয় তাহলে কল্যাণকর আর যদি তা হয় অনিষ্টকর হয় তাহলে অনিষ্টকর।

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।

এটি তাবারানী "মু'জামুল কাবীর" গ্রন্থে (১/১৮০/১) এবং "মু'জামুল আওসাত" (৪৮৪-৪৮৫) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। 

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদটি নিতান্তই দুর্বল, এর কারণ দুটিঃ

১। মুহাম্মাদ ইবনু ওবায়দুল্লাহ আরযামী নামক বর্ণনাকারী; তিনি মাতরূক, যেমনভাবে “আত-তাকরীব” গ্রন্থে বলা হয়েছে।

২। হামেদ ইবনু আদাম আল-মারওয়াযী; তাকে জুযজানী ও ইবনু আদী মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। আহমাদ ইবনু আলী সালমানী যারা হাদীস জাল করার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ তাকে সেই সব ব্যক্তিদের কাতারে উল্লেখ করেছেন। এ জন্য হায়সামী “আল-মাজমা" গ্রন্থে (১০/২২৫) বলেছেনঃ হামেদ ইবনু আদাম মিথ্যুক। (কিন্তু দুর্বল সনদে এটির মুতাবায়াত পাওয়া যাওয়ার কারণে সরাসরি জাল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়নি)।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما أسر عبد سريرة إلا ألبسه الله رداءها إن خيرا فخير، وإن شرا فشر
ضعيف جدا

-

رواه الطبراني في " الكبير " (1 / 180 / 1) وفي " الأوسط " (484 - 485 - حرم) عن حامد بن آدم المروزي أنبأنا الفضل بن موسى عن محمد بن عبيد الله العرزمي عن سلمة بن كهيل عن جندب بن سفيان مرفوعا
قلت: وهذا إسناد ضعيف جدا، وفيه علتان: الأولى: محمد العرزمي هذا فإنه متروك كما في التقريب
الأخرى: حامد بن آدم المروزي فقد كذبه الجوزجاني وابن عدي، وعده أحمد بن علي السلماني فيمن اشتهر بوضع الحديث ولهذا قال الهيثمي في " المجمع " (10 /225) بعد أن عزاه للطبراني: وفيه حامد بن آدم وهو كذاب
قلت: لكن تعصيب الجناية به وحده قصور مع أن فوقه ذاك المتروك، ولا سيما ولم يتفرد به حامد فقد أخرجه أبو بكر الذكواني في " اثنا عشر مجلسا " (7 / 2) قال حدثنا أبو بكر محمد بن عمر بن محمد بن سلم الجعابي حدثنا عمر بن أيوب السقطي حدثنا محمد بن عمر بن أبي رزمة حدثنا الفضل بن موسى به وابن أبي رزمة هذا الظاهر أنه محمد بن عبد العزيز أبو رزمة فإنه الذي ذكروه في الرواة عن الفضل بن موسى شيخه في هذا السند، فإذا كان هو هذا فهو ثقة من رجال البخاري ويكون تصحف اسم أبيه عبد العزيز على بعض النساخ فكتب بدله: عمر، وأما الراوي عنه عمر بن أيوب السقطي فالظاهر أيضا أنه الموصلي وهو ثقة من رجال مسلم بل هو غيره فهذا عبدي كما في " التهذيب " وذاك سقطي وهو مترجم في " تاريخ بغداد " (11 /219) وهو ثقة، لكن الراوي عنه الجعابي ضعيف، فإنه وإن كان حافظا مشهورا فإنه فاسق رقيق الدين كما قال الذهبي، وذكر الدارقطني أنه اختلط وإن كان الجعابي حفظ هذا السند فتلك متابعة قوية لحامد بن آدم، وهي مما يستدرك على السيوطي فإنه أورد الحديث من طريق الطبراني التي فيها ذاك الكذاب وأعرض عن هذه السالمة من مثله! وتبعه على ذلك المناوي إلا أنه تعقبه بكلام الهيثمي السابق
في حامد وذهل عن هذه الطريق السالمة منه وهذا كله يصدق المثل السائر: كم ترك الأول للآخر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৩৮ | 238 | ۲۳۸

২৩৮। দস্তরখানা যখন বিছিয়ে দেয়া হবে তখন কোন ব্যাক্তি দস্তরখানা না উঠানো পর্যন্ত দাঁড়াবে না এবং তার হাত উঠবে না, যদি তৃপ্ত হয়ে যায় যতক্ষণ পর্যন্ত লোকেরা খাওয়া সম্পূর্ণ না করবে এবং ওযুহাত পেশ না করবে। কারণ ব্যাক্তি তার সাথির নিকট লজ্জাবোধ করে, ফলে সে তার হাতকে গুটিয়ে নেয় অথচ খ্যাদ্যে হয়ত তার আরও প্রয়োজনীয়তা ছিল।

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।

এটি ইবনু মাজাহ্ (২/৩০৯) আব্দুল আলা সূত্রে ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে ... বর্ণনা করেছেন। বূসয়রী “আয-যাওয়াইদ” গ্রন্থে (৪/১৪) বলেছেনঃ হাদীসটির সনদে আব্দুল 'আলা ইবনু আউন রয়েছেন তিনি দুর্বল।

আমি (আলবনী) বলছিঃ বরং তিনি নিতান্তই দুর্বল। আবূ নু’য়াইম বলেনঃ তিনি ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীর হতে মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সেগুলো হতেই এটি একটি। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। হাদীসটির প্রথম বাকটি অন্য সূত্রে বর্ণনা করা হয়েছে কিন্তু সেটও নিতান্তই দুর্বল।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إذا وضعت المائدة فلا يقوم رجل حتى ترفع المائدة، ولا يرفع يده وإن شبع حتى يفرغ القوم، وليعذر فإن الرجل يخجل جليسه فيقبض يده وعسى أن يكون له في الطعام حاجة
ضعيف جدا

-

أخرجه ابن ماجه (2 / 309) من طريق عبد الأعلى عن يحيى بن أبي كثير عن عروة بن الزبير عن ابن عمر مرفوعا
قال البوصيري في " الزوائد " (4 / 14) : في إسناده عبد الأعلى بن أعين وهو ضعيف
قلت: بل ضعيف جدا، قال أبو نعيم: روى عن يحيى بن أبي كثير المناكير
قلت: وهذه منها
وقال الدارقطني: ليس بثقة، وقال ابن حبان: لا يجوز الاحتجاج به
والجملة الأولى من الحديث رويت بإسناد آخر ولكنه ضعيف جدا أيضا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৩৯ | 239 | ۲۳۹

২৩৯। যতক্ষণ না খাদ্য সামনে থেকে উঠিয়ে নেয়া হবে ততক্ষণ তিনি খাদ্য হতে উঠিয়ে দিতে নিষেধ করেছেন।

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।

এটি ইবনু মাজাহ (২/৩০৯) ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম সূত্রে মুনীর ইবনুয যুবায়ের হতে ... বর্ণনা করেছেন। বূসয়রী "আয-যাওয়াইদ" গ্রন্থে (৪/১৩) বলেছেনঃ এটির সনদে ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম রয়েছেন, তিনি মুদাল্লিস। মাকহুল আদ-দেমাস্কিও অনুরূপ। এছাড়া মুনীর ইবনু যুবায়ের সম্পর্কে দাহীম বলেনঃ তিনি দুর্বল। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের থেকে মু'যাল হাদীস নিয়ে এসেছেন। পরীক্ষা করার উদ্দেশ্য ছাড়া তার থেকে বর্ণনা করাই হালাল নয়।

হাফিয যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করার পর বলেছেনঃ এটি মুনকাতি হাদীস। মাকহুল এবং আয়েশা (রাঃ)-এর মাঝে সাক্ষাৎ ঘটেনি।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

نهى أن يقام عن الطعام حتى يرفع
ضعيف جدا

-

أخرجه ابن ماجه (2 / 309) من طريق الوليد بن مسلم عن منير بن الزبير عن مكحول عن عائشة مرفوعا، قال البوصيري في " الزوائد " (4 / 13) : في إسناده الوليد بن مسلم مدلس، وكذلك مكحول الدمشقي، ومنير بن الزبير قال فيه دحيم
ضعيف، وقال ابن حبان: يأتي عن الثقات بالمعضلات لا تحل الرواية عنه إلا على سبيل الاعتبار
وفي " الميزان " بعد أن ذكر قول ابن حبان فيه وساق له هذا الحديث: والحديث أيضا منقطع، يعني بين مكحول وعائشة، قال المناوي في شرح " الجامع ": فرمز المصنف لحسنه غير حسن

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২৪০ | 240 | ۲٤۰

২৪০। তিনি জ্বীনের যাবহ করা জন্তু গ্রহণ করতে নিষিদ্ধ করেছেন।

হাদীসটি জাল।

এটি ইবনুল জাওযী “আল-মাওযুআত” গ্রন্থে (২/৩০২) ইবনু হিব্বান কর্তৃক তার "মাজরুহীন" গ্রন্থের (২/১৯) বর্ণনা থেকে আব্দুল্লাহ ইবনু উযায়না ... হতে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ ইবনু হিব্বান বলেনঃ আব্দুল্লাহ নিতান্তই মুনকারুল হাদীস। সাওর হতে তিনি এমন হাদীস বর্ণনা করেছেন যা তার (সাওর-এর) হাদীস নয়।

সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে তার সমালোচনা করে (২/২২৬) বলেছেনঃ হাদীসটি আবূ ওবায়েদ তার “আল-গারীব” গ্রন্থে এবং বাইহাকী উমর ইবনু হারুন হতে তার সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সমালোচনাতে কোন উপকারিতা নেই। কারণ উমার ইবনু হারূণ দুর্বল সকলে তার ব্যাপারে একমত। বরং তার সম্পর্কে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন এবং সালেহ জাযারা বলেছেনঃ তিনি মিথ্যুক।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

نهى عن ذبائح الجن
موضوع

-

ذكره ابن الجوزي في " الموضوعات " (2 / 302) من رواية ابن حبان في " المجروحين " (2 / 19) عن عبد الله بن أذينة عن ثور بن يزيد عن الزهري عن حميد بن عبد الرحمن عن أبي هريرة مرفوعا، وقال: قال ابن حبان: عبد الله منكر الحديث جدا يروي عن ثور ما ليس من حديثه
وتعقبه السيوطي في " اللآليء " (2 / 226) فقال: قلت: أخرجه أبو عبيد في " غريبه " والبيهقي من طريقه: أنبأنا عمر بن هارون عن يونس عن الزهري رفع الحديث
قلت: وهذا التعقيب لا طائل تحته، فإن عمر بن هارون متفق على تضعيفه بل قال فيه يحيى بن معين وصالح جزرة: كذاب، فسقط حديثه
والحديث في " سنن البيهقي " (9 / 314) من الوجه الذي ذكره السيوطي وعنده عقب الحديث ما نصه: قال: (لعله يعني الزهري) وأما ذبائح الجن: أن تشتري الدار وتستخرج العين وما أشبه ذلك فتذبح لها ذبيحة للطيرة، وقال أبو عبيد
وهذا التفسير في الحديث معناه: أنهم يتطيرون إلى هذا الفعل مخافة أنهم إن لم يذبحوا فيطعموا أن يصيبهم فيها شيء من الجن يؤذيهم، فأبطل النبي صلى الله عليه وسلم هذا ونهى عنه
قلت: لقد علمت أن الحديث غير صحيح، فالعمدة في النهي عن هذه الذبائح الأحاديث الصحيحة في النهي عن الطيرة، والله أعلم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [231]  থেকে  [240]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [1500]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।