• ৭১৯৬১ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৮১৩১ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [2000] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [211]  থেকে  [220]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১১ | 211 | ۲۱۱

২১১। যে ব্যাক্তি হাজ্জ (হজ্জ) বা উমরার উদ্দেশ্যে মসজিদুল আকসা থেকে মসজিদুল হারাম পর্যন্ত তাকবীর পাঠ করবে, তার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে বা তার জন্য জান্নাত অপরিহার্য হয়ে যাবে।

হাদীসটি দুর্বল।

হাদীসটি আবু দাউদ (১/২৭৫), ইবনু মাজাহ্ (২/২৩৪-২৩৫), দারাকুতনী (পৃঃ ২৮২), বাইহাকী (৫/৩০) ও আহমাদ (৬/২৯৯) উম্মু সালামাহ্ হতে হাকীমাহ সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম "তাহযীবুস সুনান" গ্রন্থে (২/২৮৪) বলেছেনঃ একাধিক হাফিয বলেছেনঃ এটির সনদ শক্তিশালী নয়।

আমি (আলবানী) বলছিঃ আমার নিকট হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে এ হাকীমাহ। কারণ তিনি পরিচিত নন। ইবনু হিব্বান ছাড়া (৪/১৯৫) অন্য কেউ তাকে নির্ভরয়োগ্য বলেননি। আর বার বার সতর্ক করেছি যে, ইবনু হিব্বান কর্তৃক নির্ভরযোগ্য বলা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তিনি নরমপন্থী (শিথিলতা প্রদর্শনকারী)। যার জন্য হাফিয ইবনু হাজার তার কথার উপর নির্ভর করেননি এবং তাকে নির্ভরযোগ্যও বলেননি। বরং "আত-তাকরীব" গ্রন্থে বলেছেনঃ তার মুতাবায়াত পাওয়া গেলে তিনি গ্রহণয়োগ্য ঐখানে তার কোন মুতাবায়াত পাওয়া যায়নি। অতএব তার হাদিসটি দুর্বল, গ্রহণযোগ নয়।

মুনযেরী ইযতিরাব বলে হাদিসটির সমস্যা বর্ণনা করেছেন, তিনি "মুখতাসারুস সুনান" গ্রন্থে (২/২৮৫) বলেনঃ হাদীসটির মতন এবং সনদের মধ্যে বর্ণনাকারীগণ বহু মতভেদ করেছেন। অনুরূপভাবে হাফিয ইবনু কাসীরও ইযতিরাব বলে কারণ দর্শিয়েছেন, যেমনভাবে “নায়লুল আওতার” গ্রন্থে (৪/২৩৫) এসেছে।

অতঃপর মুনযেরী সম্ভবত ভুলে গেছেন, যার কারণে তিনি “তারগীব ওয়াত তারহীব” গ্রন্থে (২/১১৯-১২০) বলেছেনঃ ইবনু মাজাহ্ সহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।

কীভাবে এটি সহীহ? যেখানে তিনি নিজে এবং অন্যরা এটিকে মুযতারিব হিসাবে চিহিত করেছেন আর আমরা বলেছি হাকীমা মাজহুলা।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من أهل بحجة أو عمرة من المسجد الأقصى إلى المسجد الحرام غفر له ما تقدم من ذنبه وما تأخر، أو وجبت له الجنة
ضعيف

-

أخرجه أبو داود (1 / 275) وابن ماجه (2 / 234 - 235) والدارقطني (ص 282) والبيهقي (5 / 30) وأحمد (6 / 299) من طريق حكيمة عن أم سلمة مرفوعا
قال ابن القيم في " تهذيب السنن " (2 / 284) : قال غير واحد من الحفاظ
إسناده غير قوي
قلت: وعلته عندي حكيمة هذه فإنها ليست بالمشهورة، ولم يوثقها غير ابن حبان (4 / 195) وقد نبهنا مرارا على ما في توثيقه من التساهل، ولهذا لم يعتمده الحافظ فلم يوثقها وإنما قال في " التقريب مقبولة، يعني عند المتابعة وليس لها متابع هاهنا فحديثها ضعيف غير مقبول، هذا وجه الضعف عندي، وأما المنذري فأعله بالاضطراب فقال في " مختصر السنن " (2 / 285) : وقد اختلف الرواة في متنه وإسناده اختلافا كثيرا
وكذا أعله بالاضطراب الحافظ ابن كثير كما في " نيل الأو طار " (4 / 235)
ثم إن المنذري كأنه نسي هذا فقال في " الترغيب والترهيب " (2 / 119 / - 120)
رواه ابن ماجه بإسناد صحيح
وأنى له الصحة وفيه ما ذكره هو وغيره من الاضطراب، وجهالة حكيمة عندنا؟
ثم إن الحديث قال السندي وتبعه الشوكاني: يدل على جواز تقديم الإحرام على الميقات
قلت: كلا، بل دلالته أخص من ذلك، أعني أنه إنما يدل على أن الإحرام من بيت المقدس خاصة أفضل من الإحرام من المواقيت، وأما غيره من البلاد فالأصل الإحرام من المواقيت المعروفة وهو الأفضل كما قرره الصنعاني في " سبل السلام " (2 / 268 - 269) ، وهذا على فرض صحة الحديث، أما وهو لم يصح كما رأيت، فبيت المقدس كغيره في هذا الحكم، لما سبق بيانه قبل حديث ولا سيما أنه قد روي ما يدل عليه بعمومه وهو

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১২ | 212 | ۲۱۲

২১২। তোমাদের কোন ব্যাক্তি তার হালাল থাকা অবস্থায় সাধ্যমত উপভোগ্য বস্তু উপভোগ করবে, কারণ সে জাননা তার ইহরামের মাঝে কী উপস্থিত হবে।

হাদীসটি দুর্বল।

হাদীসটি হায়সামী ইবনু কুলায়েব তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (১/১৩২) এবং বাইহাকী তার “সুনান” গ্রন্থে (৫/৩০-৩১) ওয়াসিল ইবনু সায়েব আর-রুকাশী সূত্রে আবু সূরা হতে ... উল্লেখ করেছেন।

এটির সনদ দুর্বল। কারণ ওয়াসিল ইবনু সায়েব আর-রুকাশী মুনকারুল হাদীস। বুখারী ও অন্যরা এমনই বলেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ইমাম শাফে'ঈর শাইখ মুসলিম ইবনু খালেদ আল-যানযী; সত্যবাদী ছিলেন, কিন্তু তিনি বহু সন্দেহ প্রবণ ছিলেন, যেমনভাবে “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে। এছাড়া ইবনু যুরায়েজ মুদাল্লিস। তিনি আন আন্ শব্দে বর্ণনা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ليستمتع أحدكم بحله ما استطاع فإنه لا يدري ما يعرض في إحرامه
ضعيف

-

أخرجه الهيثم بن كليب في " مسنده " (132 / 1) والبيهقي في " سننه " (5 / 30 - 31) من طريق واصل بن السائب الرقاشي عن أبي سورة عن عمه أبي أيوب الأنصاري مرفوعا، وقال: هذا إسناد ضعيف، واصل بن السائب منكر الحديث، قاله البخاري وغيره
قلت: وأبو سورة ضعيف كما في التقريب
ثم رواه البيهقي من طريق الشافعي: أنبأنا مسلم عن ابن جريج عن عطاء مرفوعا نحوه، وأعله بقوله: وهذا مرسل
قلت: ومسلم شيخ الشافعي هو ابن خالد الزنجي الفقيه وهو صدوق كثير الأوهام كما في " التقريب "، وابن جريج مدلس وقد عنعنه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১৩ | 213 | ۲۱۳

২১৩। আমি অবশ্যই একটি যমীন সম্পর্কে জানি, যাকে বলা হয় ওমান, যার একদিকে বিস্তৃত রয়েছে সমুদ্র। সেখান হতে হাজ্জ (হজ্জ) করা অন্য স্থান হতে দু’বার হাজ্জ (হজ্জ) করার চেয়েও অতি উত্তম।

হাদীসটি দুর্বল।

এটি ইমাম আহমাদ “মুসনাদ” গ্রন্থে (নং ৪৮৫৩), সাকাফী "মাশীখাতুন নাইসাপুরীয়ীন" গ্রন্থে (১৮৪-১৮৫) এবং বাইহাকী তার “সুনান” গ্রন্থে (৪/৩৩৫) হাসান ইবনু হাদিয়া সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাসান ইবনু হাদিয়া ছাড়া হাদীসটির সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য। তাকে ইবনু আবী হাতিম “আল-জারহু ওয়াত তাদীল” গ্রন্থে উল্লেখ করে তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই বলেননি। তবে ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে বলেছেনঃ ইবনু আবী হাতিম তার পিতা হতে বর্ণনা করে বলেছেনঃ আমি তাকে চিনি না। কিন্তু ইবনু হিব্বান তাকে “আস-সিকাত” গ্রন্থে (৪/১২৩) উল্লেখ করেছেন। মাজহুল বর্ণনাকারীদেরকে নির্ভরযোগ্য বলা তার আদাত হওয়ার কারণে।

ইবনু হিব্বান কর্তৃক তাকে নির্ভরযোগ্য বলার কারণে হায়সামী "আল-মাজমা" গ্রন্থে (৩/২১৭) বলেছেনঃ হাদীসটির বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির ইমাম আহমাদের এ হাদীসটির সনদকে সহীহ বলেছেন, কিন্তু তাদের এ সহীহ্ বলাটা সঠিক নয়, যা একটু পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إني لأعلم أرضا يقال لها: عمان، ينضح بجانبها البحر، الحجة منها أفضل من حجتين من غيرها
ضعيف

-

أخرجه الإمام أحمد في " المسند " (رقم 4853) والثقفي في " مشيخته النيسابوريين " (184 - 185) والبيهقي في " سننه " (4 / 335) من طريق الحسن ابن هادية قال: لقيت ابن عمر فقال لي: ممن أنت؟ قلت: من أهل عمان، قال: من أهل عمان؟ قلت: نعم، قال: أفلا أحدثك ما سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ قلت: بلى، فقال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: فذكره
قلت: ورجاله كلهم ثقات معرفون، غير ابن هادية هذا فقد ذكره ابن أبي حاتم في " الجرح والتعديل " (1 / 2 / 40) ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا
وأما قول الحافظ في " اللسان ": قال ابن أبي حاتم عن أبيه: لا أعرفه فأخشى أن يكون انتقل نظره إلى ترجمة أخرى عقب هذه، روى ابن أبي حاتم فيها عن أبيه ما نقله الحافظ عنه، والله أعلم
وأما ابن حبان فقد ذكره في " الثقات " (4 / 123) ، وهذا منه على عادته في توثيق المجهولين كما سبق التنبيه عليه مرارا، وتوثيق ابن حبان هذا هو عمدة الهيثمي حين قال في " المجمع " (3 / 217) : رواه أحمد ورجاله ثقات
وحجة الشيخ الفاضل أحمد محمد شاكر في قوله في تعليقه على " المسند ": إسناده صحيح، وهذا غير صحيح لما سبق، وكم له في هذا التعليق وغيره من مثل هذه التصحيحات المبنية على مثل هذه التوثيقات التي لا يعتمد عليها لضعف مستندها

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১৪ | 214 | ۲۱٤

২১৪। যে আমার প্রতি দুরুদ পাঠ করবে না, তার কোন ধর্ম নেই।

হাদীসটি দুর্বল।

ইবনুল কাইয়্যিম বলেনঃ এটি মুহাম্মাদ ইবনু হামাদান আল-মারওয়াযী বর্ণনা করেছেন।

এটির দুটি সমস্যাঃ

১। সনদের বর্ণনাকারী ইউসূফ ইবনু আসবাত সম্পর্কে আবু হাতিম বলেনঃ তিনি একজন আবেদ ছিলেন। তার গ্রন্থগুলো দাফন করে দিয়েছিলেন। তিনি বহু ভুল করতেন। তিনি সৎ ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও তার হাদীসকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যায় না।

২। যার হতে বর্ণনাকারী ব্যক্তি ইনি এমন এক ব্যক্তি যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। হাফিয সাখাবী "আল-কাওলুল বাদী" গ্রন্থে (পৃঃ ১১৪) এ কারণই উল্লেখ করেছেন। এটি হচ্ছে তার ক্রটি।

অতঃপর এ হাদিসটিকে দেখেছি তাবারানী "মু'জামুল কাবীর" গ্রন্থে (নং ৮৯৪১, ৮৯৪২) দু'টি সূত্রে আসেম হতে, তিনি যার হতে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে উল্লেখ করেছেন। এটির সনদ হাসান, কিন্তু এটি মওকুফ। এরূপই সঠিকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من لم يصل علي فلا دين له
ضعيف

-

قال ابن القيم: رواه محمد بن حمدان المروزي حدثنا عبد الله بن {خبيق} حدثنا يوسف ابن أسباط عن سفيان الثوري عن رجل عن زر عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه مرفوعا
كذا أورده في كتابه " جلاء الأفهام في الصلاة والسلام على خير الأنام " (ص 25- 26) ساكتا عليه لظهور ضعفه من سنده، فأحببت أن أكشف عنه، وله علتان
الأولى: يوسف بن أسباط، قال أبو حاتم: كان رجلا عابدا، دفن كتبه وهو يغلط كثيرا، وهو رجل صالح لا يحتج بحديثه
الأخرى: راويه عن زر، فإنه رجل لم يسم، وعلى هذا اقتصر الحافظ السخاوي في " القول البديع " (ص 114) في إعلاله وهو قصور
ثم رأيته في " المعجم الكبير " (رقم 8941 و8942) للطبراني أخرجه من طريقين عن عاصم عن زر عن عبد الله قال: من لم يصل فلا دين له
وإسناده حسن، وليس فيه " علي " ثم هو موقوف، وهو الأشبه بالصواب

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১৫ | 215 | ۲۱۵

২১৫। যে ব্যাক্তি জুম’আর দিবসে আমার প্রতি আশিবার দুরুদ পাঠ করবে; আল্লাহ তার আশি বছরের গুনাহ ক্ষমা করে দিবেন। কেও তাঁকে বললঃ আপনার প্রতি কীভাবে দুরুদ পাঠ করবো হে আল্লাহর রাসুল? তিনি বললেনঃ বলবে, হে আল্লাহ! তুমি দয়া কর তোমার বান্দা, তোমার নাবী, তোমার রাসুল উম্মী নাবীর প্রতি এবং একবার গিরা দিবে।

হাদীসটি জাল।

এটি খাতীব বাগদাদী (১৩/৪৮৯) ওয়াহাব ইবনু দাউদ ইবনে সুলায়মান আয-যারীরের সুত্রে ... বর্ণনা করে বর্ণনাকারী যারীরের জীবনীতে বলেছেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না।

সাখাবী "আল-কাওলুল বাদী" গ্রন্থে (পৃঃ ১৪৫) বলেছেনঃ ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে “আল-আহাদীসুল ওয়াহিয়া” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন (নং ৭৯৬)।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি তার “আহাদিসুল মাওযু'আত” গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন। এটিই উত্তম এবং উপযোগী। কারণ এটির জাল হওয়াটাই স্পষ্ট। সহীহ হাদীসে দুরূদ পাঠের যে সব ফযীলত এসেছে, এরূপ জাল হাদীস হতে নিরাপদে থাকার জন্য তাই যথেষ্ট। যেমন মুসলিম শরীফ সহ অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে সহীহ হাদীসে এসেছেঃ রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ “যে ব্যক্তি আমার উপর একবার দুরূদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার বিনিময়ে তার উপর দশবার রহমত নাযিল করবেন।” সহীহ আবূ দাউদ" নং (১৩৬৯)।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من صلى علي يوم الجمعة ثمانين مرة غفر الله له ذنوب ثمانين عاما، فقيل له: وكيف الصلاة عليك يا رسول الله؟ قال: تقول: اللهم صل على محمد عبدك ونبيك ورسولك النبى الأمي، وتعقد واحدا
موضوع

-

أخرجه الخطيب (13 / 489) من طريق وهب بن داود بن سليمان الضرير حدثنا إسماعيل ابن إبراهيم، حدثنا عبد العزيز بن صهيب عن أنس مرفوعا
ذكره في ترجمة الضرير هذا وقال: لم يكن بثقة، قال السخاوي في " القول البديع " (ص 145) : وذكره ابن الجوزي في " الأحاديث الواهية " (رقم 796)
قلت: وهو بكتابه الآخر " الأحاديث الموضوعات " أولى وأحرى، فإن لوائح الوضع عليه ظاهرة، وفي الأحاديث الصحيحة في فضل الصلاة عليه صلى الله عليه وسلم غنية عن مثل هذا، من ذلك قوله صلى الله عليه وسلم: من صلى علي مرة واحدة صلى الله عليه بها عشرا
رواه مسلم وغيره، وهو مخرج في " صحيح أبي داود " (1369) ، ثم إن الحديث ذكره السخاوي في مكان آخر (ص 147) من رواية الدارقطني يعني عن أبي هريرة مرفوعا، ثم قال: وحسنه العراقي، ومن قبله أبو عبد الله بن النعمان، ويحتاج إلى نظر، وقد تقدم نحوه من حديث أنس قريبا يعني هذا
قلت: والحديث عند الدارقطني عن ابن المسيب قال: أظنه عن أبي هريرة كما في الكشف (1 / 167)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১৬ | 216 | ۲۱٦

২১৬। আমরা মুচকি হাঁসি কতিপয় সম্প্রদায়ের চেহারার সামনে, অথচ আমাদের হৃদয়গুলো তাঁদেরকে অভিশাপ দেয়।

মারফূ হিসেবে হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

এটিকে আজলুনী তার "আল-কাশফ" গ্রন্থে (২০৬) উল্লেখ করেছেন। বুখারী মওকুফ মুয়াল্লাক হিসাবে (১০/৪৩৪) উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেনঃ আবুদ-দারাদা হতে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিন্তু হাফিয ইবনু হাজার “ফতহুল বারী” গ্রন্থে বলেছেনঃ এটির সনদ মুনকাতি' (বিচ্ছিন্ন)।

আবূ বাকর আল-মাকরী তার “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে আবু সালেহ-এর সূত্রে আবূদ-দারদা হতে মওসূল হিসাবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ এটিও মুনকাতি'। ইবনু আবিদ-দুনিয়া, ইবরাহীম হারবী “গারীবুল হাদীস” গ্রন্থে এবং আদ-দীনঅরী “আল-মুজালাসা" গ্রন্থে মওসূল হিসাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু সেটিও মুনকাতি। দীনঅরী তার সনদে যুবায়ের ইবনু নুফায়েরকে উল্লেখ করেননি। মোটকথা হাদীসটি মারফু হিসাবে ভিত্তিহীন। অধিকাংশ ধারণা মওকুফ হিসাবে সাব্যস্ত হয়েছে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إنا لنكشر في وجوه أقوام، وإن قلوبنا لتلعنهم
لا أصل له مرفوعا

-

وقد بيض له العجلوني في " الكشف " (206) وإنما ذكره البخاري (10 / 434) معلقا موقوفا فقال: ويذكر عن أبي الدرداء: " إنا لنكشر ... " وقد وصله جماعة منهم أبو نعيم في " الحلية " (1 / 222) من طريق خلف بن حوشب قال: قال أبو الدرداء.. فذكره موقوفا، وهو منقطع كما قال الحافظ في " الفتح " ووصله أبو بكر بن المقري في " فوائده " من طريق أبي صالح عن أبي الدرداء
قال الحافظ: هو منقطع أيضا، ووصله ابن أبي الدنيا وإبراهيم الحربي في " غريب الحديث " والدينوري في " المجالسة " من طريق أبي الزاهرية عن جبير بن نفير عن أبي الدرداء. ولم يذكر الدينوري في إسناده جبير بن نفير
قلت: فعلى هذا فهو منقطع أيضا، لكن لعله يتقوى بهذه الطرق
وبالجملة، فالحديث لا أصل له مرفوعا، والغالب أنه ثابت موقوفا، والله أعلم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১৭ | 217 | ۲۱۷

২১৭। চোখের নীল বর্ণ মঙ্গলজনক, দাঊদ (আঃ) ছিলেন নীল বর্ণধারী।

হাদীসটি জাল।

এটিকে হাকিম তার “আত-তারীখ” গ্রন্থে হুসাইন ইবনু উলওয়ান সূত্রে আওযাঈ হতে ... বর্ণনা করেছেন।

সুয়ূতী হাদীসটি “আল-লাআলী" গ্রন্থে (১/১১৪) (অন্যটির) শাহেদ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তাতে তিনি ক্রটি করেছেন, কারণ ইবনু উলওয়ান মিথ্যুক, জালকারী।

হাদীসটির প্রথম বাক্যটি ইবনুল জাওযী তার “আল-মাওযু'আত” গ্রন্থে (১/১৬২) ইবনু হিব্বান-এর বর্ণনা হতে উল্লেখ করেছেন। তিনি এটি “আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (২/১৬৪) আব্বাদের জীবনী বর্ণনা করার সময় মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস সূত্রে আব্বাদ ইবনু সুহায়েব হতে ... বর্ণনা করেছেন।
অতঃপর ইবনুল জাওযী বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়। কারণ আব্বাদ মাতরূক এবং তার থেকে বর্ণনাকারী হচ্ছেন কুদায়মী (মুহাম্মাদ), সমস্যা তার থেকেই।

ইবনুল জাওযী অন্য একটি সূত্রেও হাদীসটি উল্লেখ করেছেন যার সনদে ইসমাঈল আল-মুয়াদ্দাব এবং তার শাইখ সুলায়মান ইবনু আরকাম রয়েছেন। অতঃপর বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়, সুলায়মান মাতরূক আর ইসমাঈল দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না।

সুয়ূতী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ আবু দাউদ তার “আল-মারাসীল” গ্রন্থে (নং ৪৭৯) উল্লেখ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি মুরসাল। এছাড়া এটির সনদে ইরাকী এক বর্ণনাকারী রয়েছেন যার নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি এ হাদীসটির ব্যাপারে মিথ্যার দোষে দোষী।

ইবনুল কাইয়্যিম হতে শাইখ আজুলানী "আল-কাশফ" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন (১/৪৩৯), তিনি বলেনঃ হাদীসটি জাল (বানোয়াট)।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الزرقة في العين يمن، وكان داود أزرق
موضوع

-

رواه الحاكم في " تاريخه " من طريق الحسين بن علوان عن الأوزاعي عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة مرفوعا
ذكره السيوطي في " اللآليء " (1 / 114) شاهدا فأساء، ابن علوان هذا كذاب وضاع، والجملة الأولى من الحديث أوردها ابن الجوزي في " الموضوعات " (1 /162) من رواية ابن حبان وهذا في ترجمة عباد من " الضعفاء " (2 / 164) عن محمد بن يونس عن عباد بن صهيب عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة مرفوعا، وقال ابن الجوزي: لا يصح، عباد متروك والراوي عنه هو الكديمي والبلاء منه
ومن هذا الوجه رواه يوسف بن عبد الهادي في " جزء أحاديث منتقاة " (337 / 1) وقد غفل المعلق على " المراسيل " لأبي داود (333) عن إشارة ابن الجوزي إلى أن إعلاله بالكديمي أولى! فأعله بعباد فقط. ثم ذكره ابن
الجوزي من رواية الحارث بن أبي أسامة، حدثنا إسماعيل المؤدب، حدثنا سليمان بن أرقم عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة مرفوعا بلفظ: " من الزرقة يمن " وقال: لا يصح، سليمان متروك، وإسماعيل لا يحتج به
فتعقبه السيوطي بقوله: قلت: قال أبو داود في " مراسيله " (رقم 479) : حدثنا عباس بن عبد العظيم، حدثنا عبد الرزاق، أنبأنا رجل من أهل العراق عن معمر عن الزهري مرفوعا: الزرقة يمن
قلت: هذا مرسل، وفيه العراقي الذي لم يسم فهو المتهم به، وقد غمز من صحته أبو داود نفسه، فقال عقبه: كان فرعون أزرق، وعاقر الناقة أزرق
ثم ساق السيوطي الشاهد المتقدم من طريق الحاكم، وقد علمت وضعه، وقد نقل الشيخ العجلوني في " الكشف " (1 / 439) عن ابن القيم أنه قال: حديث موضوع

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১৮ | 218 | ۲۱۸

২১৮। যে ব্যাক্তি জুম’আর দিবসে তার বাসগৃহ হতে সফর করবে, ফেরেশতারা তার বিরুদ্ধে দো’আ করবে যেন তার সফরে কোন সঙ্গী না মিলে।

হাদীসটি দুর্বল।

এটি দারাকুতনী “আল-আফরাদ” গ্রন্থে ইবনু উমার (রাঃ)-এর হাদীস হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম "যাদুল মায়াদ" গ্রন্থে (১/১৪৫) বলেছেনঃ এটি ইবনু লাহীয়াহ হতে বর্ণিত হাদীস।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হেফযের দিক থেকে তিনি দুর্বল। হাফিয ইবনু হাজার “আত-তালখীস” গ্রন্থে এ কারণের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। বুজায়রেমী “আল-ইকনা" গ্রন্থে (২/১৭৭) হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। কিন্তু সহীহ বলার কোন যৌক্তিকতা নেই। ইবনু আবী শায়বা (১/২০৬/১) সহীহ সনদে হাসসান ইবনু আতিয়া হতে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটি মাকতু’, সম্ভবত এটিই হাদীসটির মূল। ইবনু লাহীয়াহ তার হেফযে ক্রটি থাকার কারণে মারফু করে দিয়েছেন। হাদীসটির অন্য একটি সূত্র রয়েছে কিন্তু সেটি বানোয়াট। সেটি হচ্ছে নিম্নোক্ত হাদীসটি (দেখুন পরেরটি)



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من سافر من دار إقامته يوم الجمعة دعت عليه الملائكة أن لا يصحب في سفره
ضعيف

-

رواه الدارقطني في " الأفراد " من حديث ابن عمر مرفوعا
قال ابن القيم في " الزاد " (1 / 145) : وهو من حديث ابن لهيعة
قلت: وهو ضعيف من قبل حفظه، وأشار الحافظ في " التلخيص " إلى إعلاله به، وأما تصحيح البجيرمي للحديث في " الإقناع " (2 / 177) فمما لا وجه له إطلاقا
وروى ابن أبي شيبة (1 / 206 / 1) بسند صحيح عن حسان بن عطية قال
إذا سافر يوم الجمعة دعي عليه أن لا يصاحب ولا يعان في سفر
فهذا مقطوع، ولعل هذا هو أصل الحديث، فوصله ورفعه ابن لهيعة بسوء حفظه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১৯ | 219 | ۲۱۹

২১৯। যে ব্যাক্তি জুম’আর দিবসে সফর করবে, তার দু’ ফেরেশতা তার বিপক্ষে দো’আ করবে, যেন তার সফরে সঙ্গী না মিলে এবং তার প্রয়জন পূর্ণ না হয়।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি খাতীব বাগদাদী “কিতাবু আসমাউর রুওয়াত আন মালেক” গ্রন্থে হুসাইন ইবনু উলওয়ান-এর বর্ণনায় ... উল্লেখ করে বলেছেনঃ হুসাইনের চেয়ে অন্যজন বেশী দৃঢ়। হাফিয ইরাকী বলেনঃ আল-খাতীব তার ভাষায় এ হুসাইন সম্পর্কে নরম সূরে বলেছেন। অথচ তাকে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন এবং ইবনু হিব্বান তাকে জালকারী হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। যাহাবী তার “আল-মীযান” গ্রন্থে এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেন যে, হুসাইন মালেকের উপর মিথ্যারোপ করেছেন। অনুরূপ কথা “নায়লুল আওতার” গ্রন্থেও (৩/১৯৪-১৯৫) বলা হয়েছে।

আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (১/১৮৮) নিজেই নরম ভাষায় বলেছেন। বলেছেন এটির সনদ দুর্বল। সহীহ সুন্নাহর মধ্যে জুম'আর দিবসে সফর করা নিষেধ এমন কিছু নেই। বরং রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি নিজেই জুম'আর দিবসে প্রথম প্রহরেই সফর করেছেন। কিন্তু এটি দুর্বল, মুরসাল হওয়ার কারণে। বাইহাকী বর্ণনা করেছেন (৩/১৮৭) উমর (রাঃ) এক ব্যক্তিকে সফরের আকৃতিতে দেখলেন। অতঃপর তিনি তাকে বলতে শুনলেন যদি আজকে জুম'আর দিবস না হতো তাহলে অবশ্যই বের হতাম। উমার (রাঃ) একথা শুনে বললেনঃ বেরিয়ে যাও, কারণ জুম'আর দিবস সফর হতে বাধা সৃষ্টি করে না।

এটিকে ইবনু আবী শায়বাও বর্ণনা করেছেন (২/২০৫/২) তবে সংক্ষিপ্তাকারে। এটির সনদ সহীহ। এ আসারটিও উক্ত হাদীসটিকে দুর্বল হিসাবে চিহ্নিত করছে। কারণ যদি সেটি সহীহ্ হতো, তাহলে উমার (রাঃ) হতে তা লুক্কায়িত থাকত না।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من سافر يوم الجمعة دعا عليه ملكاه أن لا يصحب في سفره ولا تقضى له حاجة
موضوع

-

أخرجه الخطيب في " كتاب أسماء الرواة عن مالك " من رواية الحسين بن علوان عن مالك عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة مرفوعا، ثم قال الخطيب: الحسين ابن علوان غيره أثبت منه، قال العراقي: قد ألان الخطيب الكلام في الحسين هذا وقد كذبه يحيى بن معين ونسبه ابن حبان إلى الوضع، وذكر له الذهبي في الميزان هذا الحديث وإنه مما كذب فيه على مالك، كذا في " نيل الأوطار " (3 / 194 - 195)
قلت: ومن العجيب حقا أن العراقي نفسه قد ألان القول أيضا في الحديث هذا بقوله في " تخريج الإحياء " (1 / 188) بعد أن عزاه للخطيب:.... بسند ضعيف
وليس في السنة ما يمنع من السفر يوم الجمعة مطلقا، بل روي عنه صلى الله عليه وسلم أنه سافر يوم الجمعة من أول النهار، ولكنه ضعيف لإرساله، وقد روى البيهقي (3 / 187) عن الأسود بن قيس عن أبيه قال: أبصر عمر بن الخطاب رضي الله عنه رجلا عليه هيئة السفر فسمعه يقول: لولا أن اليوم يوم جمعة لخرجت قال عمر رضي الله عنه: اخرج فإن الجمعة لا تحبس عن سفر، ورواه ابن أبي شيبة (2 / 205 / 2) مختصرا، وهذا سند صحيح رجاله كلهم ثقات، وقيس والد الأسود وثقه النسائي وابن حبان، فهذا الأثر مما يضعف هذا الحديث وكذا المذكور قبله إذ الأصل أنه لا يخفى على أمير المؤمنين عمر لوكان صحيحا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২২০ | 220 | ۲۲۰

২২০। অবশ্যই তার জন্য (অর্থাৎ ইবরাহীম ইবনু মুহাম্মাদ এর জন্য) জান্নাতে দুধ মাতা থাকবে। সে যদি জীবিত থাকত; তাহলে অবশ্যই সত্যবাদী নাবী হত। যদি জীবিত থাকত তাহলে অবশ্যই তার কিবতী মামার মুক্ত হয়ে যেত এবং কোন কিতবী কখনও দাসত্ব গ্রহণ করত না।

হাদীসটি দুর্বল।

এটি ইবনু মাজাহ (১/৪৫৯-৪৬০) ইবরাহীম ইবনু উসমান সুত্রে বর্ণনা করেছেন। এটির সনদ দুর্বল এ ইব্রাহীম ইবনু উসমান-এর কারণে। কেননা তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত।

হাদীসটির প্রথম বাক্যটি বারা (রাঃ)-এর হাদীস হতে কোন কোন সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। সেটি ইমাম আহমাদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। আর দ্বিতীয় বাক্যটি আব্দুল্লাহ ইবনু আবী আওফা হতে বর্ণিত হয়েছেঃ

مات وهو صغير، ولوقضي أن يكون بعد محمد صلى الله عليه وسلم نبي لعاش ابنه ولكن لا نبي بعده

তিনি বলেনঃ 'ছোট অবস্থায় সে মারা গেছে, যদি এমন ফয়সালা থাকত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে নাবী হবে তাহলে সে জীবিত থাকত। কিন্তু তার পরে কোন নাবী নেই।

এটি ইমাম বুখারী তার সহীহার মধ্যে (১০/৪৭৬), ইবনু মাজাহ (১/৪৫৯) ও আহমাদ (৪/৩৫৩) বর্ণনা করেছেন।

তবে আহমাদের ভাষা এরূপঃ

لوكان بعد النبي صلى الله عليه وسلم نبي ما مات ابنه إبراهيم

যদি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরে কোন নবী হতো তাহলে তার পুত্র ইবরাহীম মারা যেত না।

অনুরূপ ভাবে আনাস (রাঃ) হতেও বর্ণিত হয়েছেঃ

رحمة الله على إبراهيم لوعاش كان صديقا نبيا

আল্লাহর রহমত ইব্রাহীমের উপর সে যদি জীবিত থাকত তাহলে সত্যবাদী নাবী হত।

এটি ইমাম আহমাদ (৩/১৩৩...) বর্ণনা করেছেন। এটির সনদ মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ। ইবনু মান্দাও বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তিনি তাতে কিছু বেশী বলেছেনঃ

ولكن لم يكن ليبقى لأن نبيكم آخر الأنبياء

তিনি বলেনঃ কিন্তু এমনটি হওয়ার ছিল না যে সে অবশিষ্ট থাকবে, কারণ তোমাদের নাবী, নাবীকুলের শেষ নাবী।

এ বর্ণনাগুলো সবই মওকুফ, কিন্তু মারফূ'র হুকুমে। কারণ এটি হচ্ছে গোপনীয় বিষয়, এতে নিজ মতামতের কোন সুযোগ নেই। এ আসারগুলো যে সঠিক ভাবে বুঝবে তাঁর নিকট কাদিয়ানীদের পথভ্রষ্টতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إن له (يعني إبراهيم بن محمد صلى الله عليه وسلم) مرضعا في الجنة، ولو عاش لكان صديقا نبيا، ولوعاش لعتقت أخواله القبط، وما استرق قبطي قط
ضعيف

-

أخرجه ابن ماجه (1 / 459 ـ 460) من طريق إبراهيم بن عثمان، حدثنا الحكم بن عتيبة عن مقسم عن ابن عباس قال: لما مات إبراهيم ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى رسول الله عليه وقال: فذكره
وهذا سند ضعيف من أجل إبراهيم بن عثمان، فإنه متفق على ضعفه، ولكن الجملة الأولى من الحديث وردت من حديث البراء، رواه أحمد (4 / 283، 284، 289، 297، 300، 302، 304) وغيره بأسانيد بعضها صحيح
والجملة الثانية وردت عن عبد الله بن أبي أوفى قيل له: رأيت إبراهيم ابن رسول الله؟ قال: مات وهو صغير، ولوقضي أن يكون بعد محمد صلى الله عليه وسلم نبي لعاش ابنه ولكن لا نبي بعده، رواه البخاري في " صحيحه " (10 / 476) وابن ماجه (1 / 459) وأحمد (4 / 353) ولفظه: ولوكان بعد النبي صلى الله عليه وسلم نبي ما مات ابنه إبراهيم، وعن أنس قال: رحمة الله على إبراهيم لوعاش كان صديقا نبيا، أخرجه أحمد (3 / 133 و280 - 281) بسند صحيح على شرط مسلم، ورواه ابن منده وزاد: " ولكن لم يكن ليبقى لأن نبيكم آخر الأنبياء " كما في " الفتح " للحافظ ابن حجر (10 / 476) وصححه
وهذه الروايات وإن كانت موقوفة فلها حكم الرفع إذ هي من الأمور الغيبية التي لا مجال للرأي فيها، فإذا عرفت هذا يتبين لك ضلال القاديانية في احتجاجهم بهذه الجملة: " لوعاش إبراهيم لكان نبيا " على دعواهم الباطلة في استمرار النبوة بعده صلى الله عليه وسلم لأنها لا تصح هكذا عنه صلى الله عليه وسلم وإن ذهبوا إلى تقويتها بالآثار التي ذكرنا كما صنعنا نحن فهي تلقمهم حجرا وتعكس دليلهم عليهم إذ إنها تصرح أن وفاة إبراهيم عليه السلام صغيرا كان بسبب أنه لا نبي بعده صلى الله عليه وسلم ولربما جادلوا في هذا - كما هو دأبهم - وحاولوا أن يوهنوا من الاستدلال بهذه الآثار، وأن يرفعوا عنها حكم الرفع، ولكنهم لم ولن يستطيعوا الانفكاك مما ألزمناهم به من ضعف دليلهم هذا ولومن الوجه الأول وهو أنه لم يصح عنه صلى الله عليه وسلم مرفوعا صراحة

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [211]  থেকে  [220]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [2000]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।