• ৭১৯৬৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৮০৩৩ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [342] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [201]  থেকে  [210]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২০১ | 201 | ۲۰۱

২০১। প্রত্যেক নাবীই মৃত্যুবরণ করেন, অতঃপর চল্লিশ দিন পর কবরে তার নিকট তার আত্মাকে ফিরিয়ে দেয়া হলে তিনি দাঁড়িয়ে যান। আমি আমার মে’রাজের রাতে মূসাকে অতিক্রম করেছিলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি তার কবরে পরিবারবর্গের মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

হাদীসটি জাল।

এটি আবু নু’য়াইম "আল-হিলইয়াহ" গ্রন্থে (৮/৩৩৩) তার শাইখ সুলায়মান ইবনু আহমাদ তাবারানী সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া এটি “মুসনাদুশ শামীয়ীন” গ্রন্থে (পৃঃ ৬৪) এসেছে। ইবনু আসাকিরও (১৭/১৯৭/১) হাসান ইবনু ইয়াহইয়া হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাসান ইবনু ইয়াহইয়া আল-খুশানী মাতরূক, যেমনভাবে তার সম্পর্কে পূর্বের হাদীসটিতে আলোচনা করা হয়েছে। তার সূত্রেই ইবনুল জাওযী “আল-মাওযু আত” গ্রন্থে (৩/২৩৯) ও (১/৩০৩) ইবনু হিব্বান কর্তৃক "মাজরুহীন" গ্রন্থের (১/২৩৫) বর্ণনা হতে উল্লেখ করেছেন। ইবনু হিব্বান বলেছেনঃ এটি বাতিল, খুশানী নিতান্তই মুনকারুল হাদীস। তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে যেগুলোর কোন ভিত্তি নেই সেগুলো বর্ণনা করেছেন। হাফিয ইবনু হাজার ইবনু হিব্বান হতে বর্ণনা করে বলেন, তিনি বলেছেনঃ এ হাদীসটি বাতিল, বানোয়াট। অতঃপর তিনি তা “তাহযীবুত তাহযীব” গ্রন্থে (২/৩২৭) সমর্থন করেছেন।

যাহাবীও “আল-মীযান” গ্রন্থে এ খুশানীর জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে তার থেকে অনুরূপ ভাষ্য বর্ণনা করে বলেছেনঃ তিনি এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। এটিকে ইবনুল জাওযী “আল-মাওযুআত” গ্রন্থেও উল্লেখ করে তিনিও তা সমর্থন করেছেন।

সুয়ূতী সকলের বিপরীত কথা বলে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/২৮৫) ইবনুল জাওযীর সমালোচনা করে বলেছেন যে, শাহেদ থাকার কারণে হাদীসটি হাসান স্তরে পৌঁছে যায়। এ কথা বলার পর তার সমর্থনে আরো যে সব কথা বলেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ তিনি বলেছেন যে, তাকে (খুশানীকে) জালকরা বা মিথ্যার সাথে জড়িত করা হয়নি। কিন্তু ইবনু হিব্বান স্পষ্টভাবে বলেছেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে এমন কিছু বর্ণনা করেছেন যার কোন ভিত্তি নেই। এ কথা হতে স্পষ্ট বুঝা যায় যে, তিনি মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন।

আমি (আলবানী) মনে করি এ হাদিসটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিম্নের সহীহ হাদীস বিরোধীঃ

ما من أحد يسلم علي إلا رد الله علي روحي حتى أرد عليه السلام

যে কেউ আমাকে সালাম প্রদান করলে আল্লাহ তা’আলা আমার আত্মাকে আমার নিকট ফিরিয়ে দেন যাতে করে আমি তার সালামের উত্তর দিতে পারি।"

এটি আবু দাউদ (১/৩১৯), বাইহাকী (৫/২৪৫) ও আহমাদ (২/৫২৭) হাসান সনদে আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। দেখুন "সিলসিলাহ্ সহীহাহ" (২২৬৬)।

এ হাদীসটি প্রমাণ করছে যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আত্মা তার শরীরে সর্বদা স্থায়ী নয় বরং তাকে তা ফিরিয়ে দেয়া হয় যাতে করে তিনি মুসলমানদের সালামের উত্তর দিতে পারেন। অপর পক্ষে জাল হাদীসটি প্রমাণ করছে যে, মৃত্যুর চল্লিশ দিন পর সকল নাবীর আত্মাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। যদি এটি সহীহ হয় তাহলে কীভাবে সালামের উত্তর দেয়ার জন্য তার শরীরে তার আত্মা ফিরিয়ে দেয়া হয়? এটি বোধগম্য নয়। বরং দুটির মাঝে দ্বন্দ্ব সুস্পষ্ট। একটি পরিত্যাগ করা অপরিহার্য। অতএব যেটি মুনকার সেটিই পরিত্যাগ করা যুক্তি সঙ্গত।

এছাড়া শাহেদ হিসাবে সুয়ূতী যে হাদীসটি (কোন নাবী তার যমীনের কবরে চল্লিশ দিনের বেশী অবস্থান করেননি। অন্য বর্ণনায় এসেছে উঠিয়ে নেয়া হয়) বর্ণনা করেছেন সেটিও সহীহ্ নয়, বরং মাকতু । তার দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। সম্ভবত সেটি ইসরাঈলীদের বর্ণনা।

তার এ বর্ণনা অনুযায়ী চল্লিশ দিনের বেশী কবরে থাকেন না বরং উঠিয়ে নেয়া হয়। তাহলে তাদের আত্মা ফিরিয়ে দেয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ তাদের শরীরগুলো তো কবরেই অবশিষ্ট নেই, কিসের নিকট তা ফিরিয়ে দেয়া হবে?



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما من نبي يموت فيقيم في قبره إلا أربعين صباحا حتى ترد إليه روحه، ومررت بموسى ليلة أسري بي وهو قائم في قبره بين عائلة وعويلة
موضوع

-

أخرجه أبو نعيم في " الحلية " (8 / 333) من طريق شيخه سليمان بن أحمد وهو الطبراني صاحب " المعاجم " الثلاثة، وهذا في " مسند الشاميين " (ص 64) وابن عساكر (17 / 197 / 1) عن الحسن بن يحيى حدثنا سعيد بن عبد العزيز عن زيد بن أبي مالك عن أنس بن مالك مرفوعا به، ثم قال أبو نعيم وابن عساكر
غريب من حديث يزيد لم نكتبه إلا من حديث الخشني
قلت: والخشني هذا متروك كما تقدم في الحديث قبله، ومن طريقه ذكره ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 239) و (1 / 303) من رواية ابن حبان في " المجروحين " (1 / 235) عنه، ثم قال يعني ابن حبان: باطل والخشني منكر الحديث جدا يروي عن الثقات ما لا أصل له
قلت: ونقل الحافظ ابن حجر عن ابن حبان إنه قال: هذا باطل موضوع، وأقره في " تهذيب التهذيب " (2 / 327) وكذلك نقله عنه الذهبي في " الميزان " في ترجمة الخشني هذا وقال: إنه انفرد به، أخرجه ابن الجوزي في " الموضوعات " وأقره أيضا
وأما السيوطي فخالفهم جميعا! فتعقب ابن الجوزي، في " اللآليء " (1 / 285) قائلا: قلت: هذا الحديث أخرجه الطبراني وأبو نعيم في " الحلية " وله شواهد يرتقي بها إلى درجة الحسن، والخشني من رجال ابن ماجه، ضعفه الأكثر، ولم ينسب إلى وضع ولا كذب، وقال دحيم: لا بأس به، وقال أبو حاتم: صدوق سيء الحفظ، وقال ابن عدي: تحتمل رواياته، ومن هذا حاله لا يحكم على حديثه بالوضع
قلت: قد علمت مما نقلناه في الحديث السابق (رقم 198) عن أئمة الجرح والتعديل أن هذا الرجل أعني الحسن بن يحيى الخشني متروك، منكر الحديث، ولا يلزم منه أن يكون ممن يتعمد الكذب، بل قد يقع منه ذلك لكثرة غفلته وشدة سوء حفظه، فلا يرد على هذا قول السيوطي: إنه لم ينسب إلى وضع ولا كذب، إن كان يقصد به الوضع والكذب مطلقا، وإلا فعبارة ابن حبان المتقدمة: يروي عن الثقات ما لا أصل له، ظاهرة في نسبة الكذب إليه، ولا سيما بعد حكمه على حديثه الذي نحن بصدد الكلام عليه بأنه موضوع، ولكن عبارته هذه لا تفيد اتهامه
بأنه يضع قصدا فتأمل
ثم إن ما نقله السيوطي عن ابن عدي يوهم أن روايات هذا الرجل كلها تحتمل، وهذا ما لم يقصد إليه ابن عدي، فإن الحافظ ابن حجر بعد أن نقل عبارة ابن عدي السابقة عقبها بقوله: قلت: قال ذلك بعد أن ساق له عدة مناكير وقال: هذا أنكر ما رأيت له، وهذا في " كامل ابن عدي " (90 / 1) فجزى الله ابن حجر خيرا حيث كشف لنا بهذه الكلمة عن حقيقة قصد ابن عدي من عبارته المتقدمة، ومنه يتبين أن ابن عدي من جملة المضعفين للخشني، فلا يجوز حشر ابن عدي في جملة الموثقين له كما فعل السيوطي عفا الله عنا وعنه، وسيأتي له نحو هذا الخطأ في الحديث (233)
ثم لوسلمنا أنه وثقه مثل " دحيم "، فلا قيمة تذكر لهذا التوثيق إذا ما استحضرنا القاعدة التي تقول: إن الجرح المفسر مقدم على التعديل
ثم وجدت ما يؤيد الذي ذهبت إليه مما فهمته من عبارة ابن حبان المنقولة آنفا وهو أن الرجل قد يكذب بدون قصد منه، فإن نصها بتمامها في " ضعفائه " (1 / 235) : منكر الحديث جدا، ويروي عن الثقات ما لا أصل له، وعن المتقنين ما لا يتابع عليه، وقد سمعت ابن جوصاء يوثقه ويحكيه عن أبي زرعة، وكان رجلا صالحا يحدث من حفظه، كثير الوهم فيما يرويه، حتى فحشت المناكير في أخباره التي يرويها عن الثقات، حتى يسبق إلى القلب أنه كان المتعمد لها، فلذلك استحق الترك
فهذا نص في أنه كان لا يتعمد الكذب، وإنما يقع ذلك منه وهما، فهو على كل حال ساقط الاعتبار ضعيف جدا، فحديثه قد يحكم عليه بالوضع لأدنى شبهة
وأنا أرى أن هذا الحديث يعارض قوله صلى الله عليه وسلم: ما من أحد يسلم علي إلا رد الله علي روحي حتى أرد عليه السلام
رواه أبو داود (1 / 319) والبيهقي (5 / 245) وأحمد (2 / 527) بإسناد حسن عن أبي هريرة، وهو مخرج في الكتاب الآخر " الصحيحة " (2266) ووجه التعارض أنه يدل على أن روحه صلى الله عليه وسلم ليست مستقرة في جسده الشريف، بل هي ترد إليه ليرد سلام المسلمين عليه صلى الله عليه وسلم، بينما هذا الحديث الموضوع يقرر صراحة أن روح كل نبي ترد إليه بعد أربعين صباحا من وفاته، فلوصح هذا فكيف ترد روحه صلى الله عليه وسلم إلى جسده ليرد السلام، هذا أمر غير معقول، بل هو ظاهر التناقض، فلابد من رد أحدهما، وليس هو إلا هذا الحديث المنكر حتى يسلم الحديث القوي من المعارض، فتأمل هذا فإنه مما ألهمت به، لا أذكر أني رأيته لأحد قبلي، فإن كان صوابا فمن الله، وإلا فمن نفسي
ومما يدل على بطلان هذا الحديث بهذا اللفظ أن رؤيته صلى الله عليه وسلم لموسى يصلي في قبره صحيح، لكن ليست فيه هذه الزيادة: " بين عائلة وعويلة "، أخرجه مسلم (7 / 102) من حديث أنس مرفوعا: " مررت على موسى ليلة أسري بي عند الكثيب الأحمر وهو قائم يصلي في قبره " وهو مخرج في " الصحيحة " (2627)
فدل هذا على بطلان هذه الزيادة في الحديث كما دل حديث أبي هريرة على بطلان الشطر الأول منه، ومع هذا كله فقد ذكره في الجامع
ثم إنه سبق في كلام السيوطي أن للحديث شواهد يرتقي بها إلى درجة الحسن! فلابد من النظر في ذلك لتتبين الحقيقة لكل من ينشدها، فأول ذلك أن ليس هناك شواهد، وإنما هما شاهدان فقط ذكرهما السيوطي نفسه لم يزد عليهما
ثم إن أحدهما من طريق أبي المقدام ثابت بن هرمز الكوفي - صدوق يهم - عن سعيد بن المسيب قال: ما مكث نبي في قبره من الأرض أكثر من أربعين يوما ، زاد في رواية: " حتى يرفع "، وهذا سند قوي، ولكنه مقطوع فلا حجة فيه لاحتمال كونه من الإسرائيليات
ثم إن هذه الزيادة يبطلها حديث: " إن الله حرم على الأرض أن تأكل أجساد الأنبياء "، وهو حديث صحيح رواه أبو داود وابن حبان في " صحيحه " والحاكم وغيرهم، (انظر " فضل الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم " بتحقيقي رقم 22، 23) فإنه صريح في أن من خصوصيات الأنبياء أن الأرض لا تبلي أجساد الأنبياء، وهذه الخصوصية تنتفي إذا أثبتنا رفعهم بأجسادهم من قبورهم، كما هو مفاد هذه الزيادة، فثبت بذلك بطلانها، ولوثبتت لانتفت خصوصية أخرى لعيسى عليه السلام وهي كونه في السماء حيا بروحه وجسده، فتأمل مفاسد وآثار الأحاديث الواهية
ثم إن هذه الزيادة لوصحت لعادت بالنقض على الحديث، لأنه صريح في أن الروح تعود إليه وهو في قبره، بينما هذه الزيادة تفيد أن الجسد يرفع، فكيف يصح أن يجعل النقيض شاهدا لنقيضه؟
وأما الشاهد الآخر فيحسن أن نفرده بالكلام عليه وهو

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২০২ | 202 | ۲۰۲

২০২। নাবীগণকে তাঁদের কবরে চল্লিশ রজনীর পর অবশিষ্ট রাখা হয় না, তবে তাঁরা আল্লাহর সম্মুখে শিঙ্গায় ফুঁক না দেয়া পর্যন্ত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে থাকবেন।

হাদীসটি জাল।

এটিকে বাইহাকী “কিতাবু হায়াতিল আম্বিয়া” গ্রন্থে (পৃঃ ৪) উল্লেখ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি জাল। কারণ এর বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনু আলী আল-হাসনাবী মিথ্যার দোষে দোষী। তিনি হাকিমের শাইখ, হাকিম নিজে তাকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ তার হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণীয় নয়। আল-খাতীব বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না। তার সম্পর্কে মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ জুরজানী আল-কুশশী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। তার সম্পর্কে আবুল আব্বাস আল-আসামও অনুরূপ মন্তব্য করেছেন।

সনদের আরেক বর্ণনাকারী আবু আবদিল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু আব্বাসকে চিনি না। তার শাইখ ইসমাঈল ইবনু তালহা ইবনু ইয়াযীদের জীবনী পাচ্ছি না। এছাড়া মুহাম্মাদ ইবনু আবী লায়লা দুর্বল। তার স্মরণশক্তি ছিল ক্রটিপূর্ণ। তিনি এ ব্যাপারে প্রসিদ্ধ। সুয়ূতী হাদীসটি “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/২৮৫) পুর্বের হাদীসটির শাহেদ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু দু দিক দিয়ে তা সঠিক নয়ঃ

১। এটি বানোয়াট, এ ব্যাপারে উপরে আলোচনা করা হয়েছে।

২। এ হাদীসটিকে যার জন্য শাহেদ হিসাবে বলা হচ্ছে এটি তার বিরোধী। কারণ এ হাদীসে বলা হচ্ছে চল্লিশ দিন পরে নাবীগণকে তাদের কবরে অবশিষ্ট রাখা হবে না (যদিও এটি জাল) এবং পূর্বেরটিতে বলা হয়েছে তাঁর আত্মাকে কবরের মধ্যে তার নিকট ফিরিয়ে দেয়া হবে! এটি কোথায় আর সেটি কোথায়? একটি অপরটির বিরোধী। এছাড়া এ হাদীসটি সহীহ হাদীস বিরোধী যা এটির জাল হওয়ার প্রমাণ বহন করছে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إن الأنبياء لا يتركون في قبورهم بعد أربعين ليلة، ولكنهم يصلون بين يدي الله حتى ينفخ في الصور
موضوع

-

أخرجه البيهقي في " كتاب حياة الأنبياء " (ص 4) قال: أنبأنا أبو عبد الله الحافظ، حدثنا أحمد بن علي الحسنوي إملاء، حدثنا أبو عبد الله بن محمد العباسي الحمصي، حدثنا أبو الربيع الزهراني، حدثنا إسماعيل بن طلحة بن يزيد عن محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى عن ثابت عن أنس مرفوعا، وقال البيهقي: وهذا إن صح بهذا اللفظ فالمراد به - والله أعلم - لا يتركون يصلون هذا المقدار ثم يكونون مصلين فيما بين يدي الله عز وجل
قلت: وهذا إسناد موضوع، الحسنوي هذا متهم، وهو شيخ الحاكم وقد ضعفه هو فقال: هو في الجملة غير محتج بحديثه
وقال الخطيب: لم يكن بثقة، وقال فيه محمد بن يوسف الجرجاني الكشي: هو كذاب ونحوه عن أبي العباس الأصم
ومحمد بن العباس هذا لم أعرفه ويراجع له " تاريخ دمشق " لابن عساكر، وكذا شيخه إسماعيل بن طلحة بن يزيد لم أجد له ترجمة، وابن أبي ليلى ضعيف سيء الحفظ معروف بذلك
والحديث أورده السيوطي في " اللآليء " (1 / 285) شاهدا للذي قبله كما سبق، ولا يصلح لذلك من وجهين: الأول: أنه موضوع لما تقدم بيانه آنفا، وهو سكت عليه فأساء! وليته على الأقل نقل كلام البيهقي الذي سبق في تضعيفه! وأسوأ منه أنه ذكره في الجامع
الآخر: أنه مخالف للمشهو د له، فإنه صريح في أن الأنبياء لا يتركون في قبورهم بعد أربعين، وذلك - وهو موضوع أيضا - يقول بأن الروح تعود إليه وهو في قبره فأين هذا من ذاك؟
ثم إن الحديث يعارض حديثا صحيحا سبق ذكره في الحديث الذي قبله، فدل ذلك على وضعه أيضا
ويعارضه أيضا قوله صلى الله عليه وسلم: الأنبياء أحياء في قبورهم يصلون
وهو حديث صحيح كما تبين لي بعد أن وقفت على متابع له قال البيهقي: إنه تفرد به فكتبت بحثا حققت فيه صحة الحديث وأن التفرد المشار إليه غير صحيح وأو دعت ذلك في السلسلة الأخرى برقم (621)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২০৩ | 203 | ۲۰۳

২০৩। যে আমার কবরের নিকট আমার প্রতি দুরুদ পাঠ করবে; আমি তা শ্রবণ করি এবং যে ব্যাক্তি আমার প্রতি দুর হতে দুরুদ পাঠ করবে; একজন ফেরেশতাকে তা আমার নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য দায়িত্ব দেয়া হবে এবং তা তার দুনিয়া ও আখেরাতের কর্মের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবে এবং আমি তার জন্য সাক্ষী বা সুপারিশকারী হয়ে যাব।

হাদীসটি এভাবে জাল।

হাদীসটি ইবনু সাম'উন “আল-আমালী” গ্রন্থে (২/১৯৩/২), খাতীব বাগদাদী তার “আত-তারীখ” গ্রন্থে (৩/২৯১-২৯২) এবং ইবনু আসাকির (১৬/৭০/২) মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান সূত্রে আ'মাশ হতে এবং তিনি আবু সালেহ্ হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান সূত্রে ইবনুল জাওযী “আল-মাওযুআত” গ্রন্থে (১/ ৩০৩) উকায়লীর বর্ণনা হতে হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সহীহ্ নয়। মুহাম্মাদ ইবনু মারওয়ান হচ্ছেন সুদ্দী আস-সাগীর; তিনি মিথ্যুক। উকায়লী বলেনঃ এ হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই। সুয়ূতী তার সমালোচনা করে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/২৮৩) বলেছেনঃ এটিকে বাইহাকী এ সূত্রেই “শুয়াবুল ঈমান" গ্রন্থে বর্ণনা করে তার শাহেদগুলোও উল্লেখ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সুয়ূতী যে শাহেদগুলো উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর কোন কোনটি আবার সহীহ, যেমনঃ

إن لله ملائكة سياحين في الأرض يبلغوني عن أمتي السلام

“নিশ্চয় যমীনের মধ্যে আল্লাহর কিছু ভ্রমনকারী ফেরেশতা রয়েছেন যারা আমার নিকট আমার উম্মাতের সালামগুলো পৌঁছে দেন।" এছাড়া আরেকটি হাদীস ২০১ নং হাদীসর আলোচনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ হাদীসগুলো আলোচ্য হাদীসটির পূরো অংশের জন্য শাহেদ হতে পারে না। তবে সালাম যে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট পৌঁছে এ অর্থ যে উক্ত হাদীস হতে বুঝা যায় শুধুমাত্র সেটুকুর শাহেদ হতে পারে। অবশিষ্ট অংশগুলেকে বানোয়াটই বলতে হবে।

এছাড়া মুতাবায়াত হিসাবে যেসব বর্ণনাগুলো এসেছে সেগুলোর কোনটিই সহীহ সনদে বর্ণিত হয়নি। ইবনু তাইমিয়্যা “মাজমুউ ফাতাওয়া” গ্রন্থে বলেছেন (২৭/২৪১) এ হাদীসটি বানোয়াট, এটি মারওয়ান আমাশ হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি সকলের ঐক্যমতে মিথ্যুক।

মোটকথা, যে অংশটুকু প্রমাণ বহন করছে যে, সালাম দিলে তাঁর নিকট পৌঁছে দেয়া হয়, এ অংশটুকু সহীহ, বাকী অংশগুলো সহীহ নয় বরং সেগুলো বানোয়াট।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من صلى علي عند قبري سمعته، ومن صلى علي نائيا وكل بها ملك يبلغني، وكفي بها أمر دنياه وآخرته، وكنت له شهيدا أو شفيعا
موضوع بهذا التمام

-

أخرجه ابن سمعون في " الأمالي " (2 / 193 / 2) والخطيب في " تاريخه " (3 /291 - 292) وابن عساكر (16 / 70 / 2) من طريق محمد بن مروان عن الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة مرفوعا
وأخرج طرفه الأول أبو بكر بن خلاد في الجزء الثاني من حديثه (115 / 2) وأبوهاشم السيلقي فيما انتقاه على ابن بشرويه (6 / 1) والعقيلي في " الضعفاء " (4 / 136 - 137) والبيهقي في " الشعب " (2 / 218) وقال
العقيلي: لا أصل له من حديث الأعمش، وليس بمحفوظ، ولا يتابعه إلا من هو دونه، يعني ابن مروان هذا، ثم روى الخطيب بإسناده عن عبد الله بن قتيبة قال
سألت ابن نمير عن هذا الحديث؟ فقال: دع ذا، محمد بن مروان ليس بشيء
قلت: ومن طريقه أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (1 / 303) من رواية العقيلي ثم قال: لا يصح، محمد بن مروان هو السدي الصغير كذاب، قال العقيلي
لا أصل لهذا الحديث
وتعقبه السيوطي في " اللآليء " (1 / 283) بقوله: قلت: أخرجه البيهقي في " شعب الإيمان " من هذا الطريق، وأخرج له شواهد
قلت: ثم ساقها السيوطي وبعضها صحيح، مثل قوله صلى الله عليه وسلم: " إن لله ملائكة سياحين في الأرض يبلغوني عن أمتي السلام " وقوله صلى الله عليه وسلم
" ما من أحد يسلم علي ... " الحديث وتقدم ذكره قريبا (ص 362) ، وهي كلها إنما تشهد للحديث في الجملة، وأما التفصيل الذي فيه وأنه من صلى عليه عند قبره صلى الله عليه وسلم فإنه يسمعه، فليس في شيء منها شاهد عليه
وأما نصفه الآخر، فلم يذكر السيوطي ولا حديثا واحدا يشهد له، نعم قال السيوطي: ثم وجدت لمحمد بن مروان متابعا عن الأعمش، أخرجه أبو الشيخ في " الثواب " حدثنا عبد الرحمن بن أحمد الأعرج حدثنا الحسن بن الصباح حدثنا أبو معاوية عن الأعمش به
قلت: ورجال هذا السند كلهم ثقات معروفون غير الأعرج هذا، والظاهر أنه الذي أورده أبو الشيخ نفسه في " طبقات الأصبهانيين " (ص 342 / 463) فقال
عبد الرحمن بن أحمد الزهري أبو صالح الأعرج، ثم روى عنه حديثين ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا فهو مجهول، وسيأتي تخريج أحدهما برقم (5835) وسوف يأتي له ثالث برقم (6246) بإذن الله
فقول الحافظ في " الفتح " (6 / 379) : سنده جيد، غير مقبول، ولهذا قال ابن القيم في هذا السند: إنه غريب، كما نقله السخاوي عنه في " القول البديع في الصلاة على الحبيب الشفيع " (ص 116) وقال ابن عبد الهادي في " الصارم المنكي في الرد على السبكي " (ص 190) : وقد روى بعضهم هذا الحديث من رواية أبي
معاوية عن الأعمش، وهو خطأ فاحش، وإنما هو محمد بن مروان تفرد به وهو متروك الحديث متهم بالكذب
على أن هذه المتابعة ناقصة، إذ ليس فيها ما في رواية محمد بن مروان
" وكفي بها أمر دنياه ... "، كذلك أورده الحافظ ابن حجر والسخاوي من هذا الوجه خلافا لما يوهمه فعل السيوطي حين قال: ... عن الأعمش به، يعني بسنده ولفظه المذكور في رواية السدي كما لا يخفى على المشتغلين بهذا العلم الشريف
وقال شيخ الإسلام ابن تيمية في " الرد على الأخنائي " (ص 210 - 211) : وهذا الحديث وإن كان معناه صحيحا (لعله يعني في الجملة) فإسناده لا يحتج به، وإنما يثبت معناه بأحاديث أخر، فإنه لا يعرف إلا من حديث محمد بن مروان السدي الصغير عن الأعمش وهو عند أهل المعرفة بالحديث موضوع على الأعمش
وقال في مختصر الرد المذكور (27 / 241 ـ مجموع الفتاوي) : حديث موضوع، وإنما يرويه محمد بن مروان السدي عن الأعمش، وهو كذاب بالاتفاق وهذا الحديث موضوع على الأعمش بإجماعهم
وجملة القول أن الشطر الأول من الحديث ينجومن إطلاق القول بوضعه لهذه المتابعة التي خفيت على ابن تيمية وأمثاله، وأما باقيه فموضوع لخلوه من الشاهد، وبالشطر الأول أورده في " الجامع " من رواية البيهقي
فائدة: قال الشيخ ابن تيمية عقب كلامه المتقدم على الحديث: وهو لوكان صحيحا فإنما فيه أنه يبلغه صلاة من صلى عليه نائيا، ليس فيه أنه يسمع ذلك كما وجدته منقولا عن هذا المعترض (يريد الأخنائي) ، فإن هذا لم يقله أحد من أهل العلم، ولا يعرف في شيء من الحديث، وإنما يقوله بعض المتأخرين الجهال
يقولون: إنه ليلة الجمعة ويوم الجمعة يسمع بأذنيه صلاة من يصلي عليه، فالقول إنه يسمع ذلك من نفس المصلين (عليه) باطل، وإنما في الأحاديث المعروفة إنه يبلغ ذلك ويعرض عليه، وكذلك السلام تبلغه إياه الملائكة
قلت: ويؤيد بطلان قول أولئك الجهال قوله صلى الله عليه وسلم
أكثروا علي من الصلاة يوم الجمعة فإن صلاتكم تبلغني ... " الحديث وهو صحيح كما تقدم (ص 364) فإنه صريح في أن هذه الصلاة يوم الجمعة تبلغه ولا يسمعها من المصلي عليه صلى الله عليه وسلم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২০৪ | 204 | ۲۰٤

২০৪। যে ব্যাক্তি ইসলামের হাজ্জ (হজ্জ) করবে, আমার কবর যিয়ারাত করবে, একটি যুদ্ধে লড়াই করবে এবং কুদুস নগরীতে আমার প্রতি দুরুদ পাঠ করবে; আল্লাহ তাকে ঐ বস্তুর ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করবেন না যা তার উপর ফরয করেছেন।

হাদীসটি জাল।

এটিকে সাখাবী "আল-কাওলীল বাদী" গ্রন্থে (পৃঃ ১০২) উল্লেখ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি জাল, স্পষ্টতই এটি বাতিল । ইবনু আবদিল হাদী বলেনঃ এ হাদীসটি যে, রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর বানানো হয়েছে, যাদের হাদিস সম্পর্কে জ্ঞান আছে তাদের তাতে কোন প্রকার সন্দেহ থাকতে পারে না। যার সামান্যতম জ্ঞান আছে সেই জানে যে, এটি সুফিয়ানের উপর জালকৃত হাদীস।

এ হাদীসটির সনদে আবু সাহাল বাদর ইবনু আবদিল্লাহ আল-মাসীসী নামক এক বর্ণনাকারী আছেন। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেনঃ তিনি হাসান ইবনু উসমান যিয়াদী হতে বাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন।

সুয়ূতী হাদীসটি তার “যায়লুল আহাদীসিল মওযুআহ” গ্রন্থে উল্লেখ করে (নং ৫৭১, পৃ.১২২) বলেছেনঃ যাহাবী "আল-মীযান" গ্রন্থে বলেছেনঃ এ হাদীসটি বাতিল। তার সমস্যা হচ্ছে উক্ত বাদর।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من حج حجة الإسلام، وزار قبري، وغزا غزوة، وصلى علي في المقدس، لم يسأله الله فيما افترض عليه
موضوع

-

أورده السخاوي في " القول البديع " (ص 102) وقال: هكذا ذكره المجد اللغوي وعزاه إلى أبي الفتح الأزدي في الثامن من " فوائده " وفي ثبوته نظر
قلت: لقد تساهل السخاوي رحمه الله، فالحديث موضوع ظاهر البطلان، فكان الأحرى به أن يقول فيه كما قال في حديث آخر قبله: لوائح الوضع ظاهرة عليه، ولا أستبيح ذكره إلا مع بيان حاله
ذلك لأنه يوحي بأن القيام بما ذكر فيه من الحج والزيارة والغزويسقط عن فاعله المؤاخذة على تساهله بالفرائض الأخرى، وهذا ضلال وأي ضلال، حاشا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن ينطق بما يوهم ذلك فكيف بما هو صريح فيه؟
ثم رأيت الحديث قد نقله ابن عبد الهادي في رده على السبكي (ص 155) عنه بسنده إلى أبي الفتح الأزدي محمد بن الحسين بن أحمد الأزدي الحافظ: حدثنا النعمان بن هارون بن أبي الدلهاث، حدثنا أبو سهل بدر بن عبد الله المصيصي حدثنا الحسن بن عثمان الزيادي، حدثنا عمار بن محمد حدثني خالي سفيان عن منصور عن إبراهيم عن علقمة عن عبد الله بن مسعود مرفوعا به ثم قال ابن عبد الهادي رحمه الله تعالى: هذا الحديث موضوع على رسول الله صلى الله عليه وسلم بلا شك ولا ريب عند أهل المعرفة بالحديث، وأدنى من يعد من طلبة هذا العلم يعلم أن هذا الحديث مختلق مفتعل على سفيان الثوري، وأنه لم يطرق سمعه قط، قال: والحمل في هذا الحديث على بدر بن عبد الله المصيصي فإنه لم يعرف بثقة ولا عدالة ولا أمانة أو على صاحب الجزء أبي الفتح محمد بن الحسين الأزدي فإنه متهم بالوضع وإن كان من الحفاظ، ثم ذكر أقوال العلماء فيه ثم قال: ولا يخفى أن هذا الحديث الذي رواه في " فوائده " موضوع مركب مفتعل إلا على من لا يدري علم الحديث ولا شم رائحته
قلت: الأزدي هذا ترجمه الذهبي في " الميزان " وذكر تضعيفه عن بعضهم، ولم يذكر عن أحد اتهامه بالوضع، وكذلك الحافظ في " اللسان " ولم يزد على ما في " الميزان " بل قال الذهبي في " تذكرة الحفاظ " (3 / 166) : ووهاه جماعة بلا مستند طائل
فالظاهر أنه بريء العهدة من هذا الحديث، فالتهمة منحصرة في المصيصي هذا
وهو الذي أشار إليه الذهبي في ترجمته في " الميزان " فقال: بدر بن عبد الله أبو سهل المصيصي عن الحسن بن عثمان الزيادي بخبر باطل وعنه النعمان بن هارون
قال الحافظ في " اللسان ": والخبر المذكور أخرجه أبو الفتح الأزدي، ثم ذكر هذا الحديث وقد ذكره السيوطي في " ذيل الأحاديث الموضوعة " (رقم 571) وقال (ص 122) : قال في " الميزان ": هذا خبر باطل آفته بدر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২০৫ | 205 | ۲۰۵

২০৫। পূর্ব-পশ্চিমে যে কোন মুসলিম ব্যাক্তি আমার প্রতি সালাম প্রদান করবে, আমি ও আমার প্রভুর ফেরেশতাগণ তার সালামের উত্তর প্রদান করব। অতঃপর এক ব্যাক্তি বললঃ হে আল্লাহর রাসুল! মদিনাবাসীদের অবস্থা কি হবে? (উত্তরে) তাকে বললেনঃ পাড়া-প্রতিবেশীদের প্রতি দয়ালু ব্যাক্তি সম্পর্কে কিইবা বলার আছে, যে পাড়া-প্রতিবেশীকে হেফাযাত করার জন্য আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন?

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি আবু নু’য়াইম "আল-হিলইয়াহ" গ্রন্থে উল্লেখ (৬/৩৪৯) করে বলেছেনঃ মালেকের হাদীস হতে এটি গারীব, আবূ মুসয়াব এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ আবু মুসয়াব-এর নাম হচ্ছে আহমাদ ইবনু আবী বাকর আল-কাসেম ইবনে হারেস আয-যুহরী আল-মাদানী। তিনি ইমাম মালেক হতে "মুওয়াত্তা" গ্রন্থের একজন বর্ণনাকারী। তিনি নির্ভরযোগ্য ফাকীহ। এ হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে আবূ মুসয়াব হতে বর্ণনাকারী ওবায়দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-উমারী; তিনি হচ্ছেন কাযী। "আল-মীযান" গ্রন্থে যাহাবী তার সম্পর্কে বলেছেনঃ নাসাঈ তাকে মিথ্যার দোষে দোষী করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তার সূত্রেই হাদীসটি দারাকুতনী “গারায়েবে মালেক” গ্রন্থে বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি সহীহ্ নয়। উমারী এককভাবে এটিকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ছিলেন দুর্বল। অনুরূপ কথা “লিসানুল মীযান” গ্রন্থেও এসেছে।

সাখাবী "আল০কাওলুল বাদী" গ্রন্থে (পৃঃ ১১৭) বলেছেনঃ হাদিসটির সনদে ওবায়দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-উমারী রয়েছেন, তাকে যাহাবী এ হাদীসটি জাল করার দোষে দোষী করেছেন।  

ইবনু আবদিল হাদী "আস-সারেমুল মানকী" গ্রন্থে (পৃঃ ১৭৬) বলেছেনঃ হাদীসটি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উপর বানানো হয়েছে। এটির কোন ভিত্তি নেই। জাল করার দোষে দোষী করা হয়েছে এ শাইখ আল-উমারী আল-মাদানীকে। তার বেইজ্জতীর জন্য এ ধরনের সনদে এ একটি হাদীসই যথেষ্ট।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما من مسلم يسلم علي في شرق ولا غرب إلا أنا وملائكة ربي نرد عليه السلام، فقال له قائل: يا رسول الله فما بال أهل المدينة؟ فقال له: وما يقال لكريم في جيرته وجيرانه مما أمر الله به من حفظ الجوار وحفظ الجيران؟
موضوع

-

أخرجه أبو نعيم في " الحلية " (6 / 349) : حدثنا سليمان بن أحمد (هو الطبراني) حدثنا عبيد الله بن محمد العمري حدثنا أبو مصعب، حدثنا مالك عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة مرفوعا، وقال أبو نعيم: غريب من حديث مالك تفرد به أبو مصعب
قلت: واسم أبي مصعب هذا أحمد بن أبي بكر القاسم بن الحارث الزهري المدني أحد رواة " الموطأ " عن مالك، وهو ثقة فقيه، فالحمل في الحديث على الراوي عنه عبيد الله بن محمد العمري وهو القاضي، قال في " الميزان ": رماه النسائي بالكذب
قلت: ومن طريقه أخرجه الدارقطني في " غرائب مالك " ثم قال: ليس بصحيح، تفرد به العمري وكان ضعيفا، كما في " اللسان "، وقال السخاوي في " القول البديع " (ص 117) : وفي سنده عبيد الله بن محمد العمري واتهمه الذهبي بوضعه
وقال ابن عبد الهادي في " الصارم المنكي " (ص 176) : هو حديث موضوع على رسول الله صلى الله عليه وسلم ليس له أصل والمتهم بوضعه هذا الشيخ العمري المدني ويكفي في افتضاحه روايته هذا الحديث بمثل هذا الإسناد الذي كالشمس، ويجوز أن يكون وضع له وأدخل عليه فحدث به، نعوذ بالله من الخذلان

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২০৬ | 206 | ۲۰٦

২০৬। যে ব্যাক্তি নাবীগণকে গালি দিবে; (শাস্তি হিসাবে) তাকে হত্যা করা হবে। যে ব্যাক্তি আমার সাহাবীদের গালি দিবে; তাকে বেত্রাঘাত করা হবে।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি তাবারানী “আল-মুজামুস সাগীর” (পৃঃ ১৩৭) এবং “আল-মুজামুল আওসাত” (১/২৮১/৪৭৩৯) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এটিও পূর্বের হাদীসটির ন্যায় ওবায়দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-উমারী আলকাযী সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। তার সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ উমারীকে মিথ্যা এবং জাল করার দোষে দোষী করা হয়েছে। হাফিয ইবনু হাযার আরো বলেনঃ এ খবরটি তার মুনকারগুলোর একটি।

হাদীসটি হায়সামী "আল-মাজমা" গ্রন্থে (৬/২৬০) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটিকে তাবারানী "আল-মুজামস সাগীর" এবং “আল-মু'জামুল আওসাত" গ্রন্থে তার শাইখ ওবায়দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আল-উমারী আল-কাযী হতে বর্ণনা করেছেন। যাকে নাসাঈ মিথ্যার দোষে দোষী করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من سب الأنبياء قتل، ومن سب أصحابي جلد
موضوع

-

أخرجه الطبراني في " الصغير " (ص 137) و" الأوسط " (1 / 281 / 4739 - بترقيمي) حدثنا عبيد الله بن محمد العمري القاضي - بمدينة طبرية - سنة سبع وسبعين ومئتين حدثنا إسماعيل بن أبي أو يس حدثنا موسى بن جعفر بن محمد عن أبيه عن جده علي بن الحسين عن الحسين بن علي عن علي رضي الله عنه مرفوعا
قلت: وهذا الإسناد رجاله كلهم ثقات إلا العمري كما قال الحافظ في " اللسان " والعمري متهم بالكذب والوضع كما تقدم في الحديث الذي قبله، قال الحافظ: ومن مناكيره هذا الخبر
والحديث ذكره الهيثمي في " المجمع " (6 / 260) وقال: رواه الطبراني في " الصغير " و" الأوسط " عن شيخه عبيد الله بن محمد العمري رماه النسائي بالكذب

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২০৭ | 207 | ۲۰۷

২০৭। আরাফার দিবস যদি জুম’আর দিবসের সাথে মিলে যায় তাহলে তা সর্বোত্তম দিবস এবং সেটি জুম’আর দিবসহীন সত্তরটি হাজ্জ (হজ্জ) এর চেয়ে ও উত্তম।

হাদীসটি বাতিল, এটির কোন ভিত্তি নেই।

যায়লাঈ "হাশীয়া ইবনু আবেদীন" গ্রন্থে যা এসেছে (২/৩৪৮) তার উপর ভিত্তি করে বলেছেনঃ এটিকে রামীন ইবনু মুয়াবিয়া “তাজরীদুস সিহহা” গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

জেনে নিনঃ এ রায়ীনের গ্রন্থটিতে ইবনুল আসীরের "জামেউল উসূল মিন আহাদীসির রসূল" গ্রন্থের ন্যায় ছয়টি হাদীস গ্রন্থ (বুখারী, মুসলিম, মুয়াত্তা মালেক, আবু দাউদ, নাসাঈ ও তিরমিযী) থেকে হাদীস একত্রিত করা হয়েছে। কিন্তু “কিতাবুত তাজরীদ” গ্রন্থে এমন বহু হাদীস স্থান পেয়েছে যেগুলোর কোন ভিত্তি ছয়টি হাদীস গ্রন্থে নেই। এ হাদীসটি সেই পর্যায়ভুক্ত যেটি ছয়টি হাদীস গ্রন্থে, এমনকি অন্য কোন প্রসিদ্ধ গ্রন্থেও যার কোন ভিত্তি নেই।

ইবনুল কাইয়্যিম বরং স্পষ্টভাবে “যাদুল মায়াদ” গ্রন্থে (১/১৭) হাদীসটি বাতিল হওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেছেনঃ সাধারণ লোকদের মুখে মুখে প্রচার হয়েছে যে, জুম'আর দিবসের সে হজ্জ বাহাত্তরটি হজ্জের সমতুল্য। এটি বাতিল, এর কোন ভিত্তি রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এমনকি কোন সাহাবী বা তাবেঈ হতেও নেই। তার একথাকে মানাবী “ফায়যুল কাদীর” গ্রন্থে (২/২৮) সমর্থন করেছেন। ইবনু আবেদীন “হাশীয়া” গ্রন্থেও সমর্থন করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أفضل الأيام يوم عرفة إذا وافق يوم الجمعة، وهو أفضل من سبعين حجة في غير جمعة
باطل لا أصل له

-

وأما قول الزيلعي - على ما في " حاشية ابن عابدين " (2 / 348) : رواه رزين ابن معاوية في تجريد الصحاح
فاعلم أن كتاب رزين هذا جمع فيه بين الأصول الستة: " الصحيحين " و" موطأ مالك " و" سنن أبي داود " والنسائي والترمذي، على نمط كتاب ابن الأثير المسمى " جامع الأصول من أحاديث الرسول " إلا أن في كتاب " التجريد " أحاديث كثيرة لا أصل لها في شيء من هذه الأصول كما يعلم مما ينقله العلماء عنه مثل المنذري في " الترغيب والترهيب " وهذا الحديث من هذا القبيل فإنه لا أصل له في هذه الكتب ولا في غيرها من كتب الحديث المعروفة، بل صرح العلامة ابن القيم في " الزاد " (1 / 17) ببطلانه فإنه قال بعد أن أفاض في بيان مزية وقفة الجمعة من وجوه عشرة ذكرها: وأما ما استفاض على ألسنة العوام بأنها تعدل اثنتين وسبعين حجة، فباطل لا أصل له عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ولا عن أحد من الصحابة والتابعين
وأقره المناوي في " فيض القدير " (2 / 28) ثم ابن عابدين في الحاشية

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২০৮ | 208 | ۲۰۸

২০৮। যে ব্যাক্তির হাজ্জ (হজ্জ) গৃহীত হবে (কবুল হবে) তার কঙ্কর উঠিয়ে নেয়া হয় অর্থাৎ পাথর নিক্ষেপের স্থানে নিক্ষিপ্ত পাথর উঠিয়ে নেয়া হয়।

হাদীসটি দুর্বল।

“মাকাসীদুল হাসানা ফিল আহাদীসিল মুসতাহারা আলাল আলসিনা” গ্রন্থের লেখক বলেছেনঃ এটিকে দাইলামী ইবনু উমার (রাঃ) হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী হাদীসটি “আল-কামিল” গ্রন্থে (৭/২৫৫৫) আব্দুল্লাহ ইবনু খাররাশ সূত্রে ওয়াসিত ইবনু হারিস হতে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ ওয়াসিত-এর হাদীসগুলোর অনুসরণ করা যায় না। যাহাবীর “আল-মীযান” গ্রন্থে তার মুনকারগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, এটি সেগুলোর একটি। হাদীসটি বাইহাকী তার "সুনানুল কুবরা" গ্রন্থে (৫/১২৮), দারাকুতনী (পৃঃ ২৮৯), হাকিম (১/৪৭৬) ও তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/১২১/১) ইয়াযীদ ইবনু সিনান সূত্রে উল্লেখ করেছেন। এ ইয়াযীদ ইবনু সিনানকে বাইহাকী দুর্বল বলেছেন। তিনি আরো বলেছেনঃ ইয়াযীদ হাদীসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন। কিন্তু হাকিম এ কথার বিরোধিতা করে বলেছেনঃ এটির সনদ সহীহ, ইয়াযীদ ইবনু সিনান মাতরূক নন।

তবে হক হচ্ছে বাইহাকীর কথায়। কারণ তিনি এ বিষয়ে বেশী জ্ঞাত। হাকিম কর্তৃক মাতরুক নয় বলা প্রমাণ করে না যে, হাদীসটি সহীহ। কারণ কখনো মাতরুক না হয়েও দুর্বল হতে পারে, যার কারণে হাদীস দুর্বল হয়।

যাহাবী "তাখলীসুল মুসতাদরাক" গ্রন্থে হাকিমের সমালোচনা করে বলেছেনঃ মুহাদ্দিসগণ ইয়াযীদকে দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। হায়সামী (৩/২৬০) বলেনঃ এটির সনদে ইয়াযীদ ইবনু সিনান আছেন, তিনি দুর্বল।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তবে মওকুফ হিসাবে সহীহ্ সনদে আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) এবং ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে সাব্যস্ত হয়েছে। সেটি আযরূকী "তারীখু মাক্কা" গ্রন্থে (পৃঃ ৪০৩) এবং দুলাবী “আল-কুনা" গ্রন্থে (২/৫৬) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটি আমার নিকট মারফু'র হুকুমে এমনটি স্পষ্ট হয়নি।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما قبل حج امرئ إلا رفع حصاه، يعني حصى الجمار
ضعيف

-

قال في " المقاصد الحسنة في الأحاديث المشتهرة على الألسنة ": رواه الديلمي عن ابن عمر مرفوعا
قلت: واقتصاره في العزو على الديلمي إشارة منه - على ما فيه من قصور - إلى ضعف الحديث، وقد صرح بذلك الإمام البيهقي كما يأتي، فقد أخرجه الديلمي (4 /50) من طريق عبد الرحمن بن خراش عن العوام عن نافع عن ابن عمر وعبد الرحمن هذا والعوام لم أعرفهما، لكن أخشى أن يكون في " المصورة " خطأ نسخي، فقد رواه ابن عدي في " الكامل " (7 / 2555) من طريق عبد الله بن خراش عن واسط بن الحارث عن نافع به، وقال: واسط عامة أحاديثه لا يتابع عليها، وذكر له في " الميزان " مناكير هذا منها، وأخرج البيهقي في " سننه الكبرى " (5 / 128)
والدارقطني (ص 289) والحاكم (1 / 476) وكذا الطبراني في " الأوسط " (1 / 121 / 1) من طريق يزيد بن سنان عن يزيد بن أبي أنيسة، عن عمرو بن مرة عن عبد الرحمن بن أبي سعيد الخدري عن أبيه أبي سعيد قال: قلنا
يا رسول الله هذه الحجارة التي يرمى بها كل عام، فنحتسب أنها تنقص؟ فقال
" إنه ما تقبل منها رفع، ولولا ذلك لرأيتها أمثال الجبال "، ضعفه البيهقي بقوله: يزيد بن سنان ليس بالقوي في الحديث، وروي من وجه آخر ضعيف عن ابن عمر مرفوعا
قلت: وخالفه شيخه الحاكم فقال: صحيح الإسناد، يزيد بن سنان ليس بالمتروك
والحق قول البيهقي، وهو أعلم من شيخه بالجرح والتعديل، إلا أن الحاكم يستلزم من كون يزيد هذا ليس بالمتروك أن حديثه صحيح، مع أن هذا غير لازم، فإنه قد يكون الراوي ضعيفا وهو غير متروك، فيكون ضعيف الحديث، ويزيد من هذا القبيل، على أنه قد تركه النسائي، ولهذا تعقبه الذهبي في " تلخيص المستدرك " بقوله: قلت: يزيد ضعفوه
والحديث ذكره الهيثمي (3 / 260) وقال: رواه الطبراني في " الأوسط " وفيه يزيد بن سنان التميمي وهو ضعيف
قلت: وقد ورد موقوفا أخرجه الأزرقي في " تاريخ مكة " (ص 403) والدولابي في " الكنى " (2 / 56) من طريق ابن أبي نعم عن أبي سعيد الخدري قال
" ما تقبل من الحصا رفع " وسنده صحيح، وابن أبي النعم، اسمه عبد الرحمن
وكذلك أخرجه موقوفا عن ابن عباس الأزرقي والبيهقي بسند صحيح أيضا، فالصواب في الحديث الوقف، ولينظر هل هو في الحكم المرفوع؟ فإنه لم يتبين لي

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২০৯ | 209 | ۲۰۹

২০৯। একমাত্র বিদ’আতী ছাড়া আমার উম্মতের সবার জন্য আমার সুপারিশ অত্যাবশ্যকীয় হয়ে যাবে।

হাদীসটি মুনকার।

ইবনু ওযযাহ আল-কুরতুবী “আল-বিদ'উ ওয়ান নাহীউ আনহা” গ্রন্থে (পৃঃ ৩৬) আবু আবদিস সালাম সূত্রে বাকর ইবনু আবদিল্লাহ আল-মুযানী হতে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি মুরসাল। এ বাকর একজন তাবেঈ। তিনি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে পাননি। মুরসাল হওয়া সত্ত্বেও এটির সনদ দুর্বল। কারণ এ আবূ আবদিস সালাম-এর নাম হচ্ছে সালেহ্ ইবনু রুস্তম আল-হাশেমী, তিনি মাজহুল; যেমনভাবে হাফিয ইবনু হাজার "আত-তাকরীব" গ্রন্থে বলেছেন।

এছাড়াও এ দুর্বল মুরসাল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা বিরোধী। কারণ তিনি বলেছেনঃ شفاعتي لأهل الكبائر من أمتي আমার শাফা'য়াত আমার উম্মাতের কাবীরা গুনাহকারীদের জন্য। এ হাদীসটি সহীহ। দেখুনঃ "মিশকাত" (৫৫৯৮)।



হাদিসের মানঃ  মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

حلت شفاعتي لأمتي إلا صاحب بدعة
منكر

-

أخرجه ابن وضاح القرطبي في كتابه القيم " البدع والنهي عنها " (ص 36) من طريق أبي عبد السلام قال: سمعت بكر بن عبد الله المزني أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره
قلت: فهذا مرسل، بكر هذا تابعي لم يدرك النبي صلى الله عليه وسلم، ومع إرساله، فالسند إليه ضعيف، لأن أبا عبد السلام واسمه صالح بن رستم الهاشمي مجهول كما قال الحافظ ابن حجر في التقريب
ومع ضعف إسناد الحديث فهو مخالف لظاهر قوله صلى الله عليه وسلم
" شفاعتي لأهل الكبائر من أمتي "
وهو حديث صحيح، خلافا لمن يظن ضعفه من المغرورين بآرائهم، المتبعين لأهو ائهم
وهو مخرج من طرق في " ظلال الجنة " (830 ـ 832) و" الروض النضير " (3 و65) و" المشكاة " (5598)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ২১০ | 210 | ۲۱۰

২১০। তোমার পরিবারের ছোট বাড়ী হতে ইহরাম বাঁধাতে হাজ্জের (হজ্জ) পূর্ণতা নিহিত রয়েছে।

হাদীসটি মুনকার।

এটিকে বাইহাকী (৫/৩১) জাবের ইবনু নূহ সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সনদ দুর্বল। এটিকে বাইহাকী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন তার এ ভাষায়ঃ فيه نظر ‘এটির মধ্যে বিরূপ মন্তব্য রয়েছে।’ 

আমি (আলবানী) বলছিঃ এর কারণ জাবের সকলের ঐক্যমতে দুর্বল। ইবনু আদী তার এ হাদীসটি (২/৫০) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটিকে এ সনদ ছাড়া চেনা যায় না এবং এর চেয়ে বেশী মুনকার আমি দেখছি না। অথচ শাওকানীর নিকট তা লুক্কায়িতই রয়ে গেছে। যার জন্য “নায়লুল আওতার” গ্রন্থে (৪/২৫৪) বলেছেনঃ এটি মারফূ' হিসাবে আবু হুরাইরাহ (রাঃ) এর হাদীস হতে সাব্যস্ত হয়েছে। ইবনু আদী এবং বাইহাকী বর্ণনা করেছেন। (কিন্তু তার এ কথা সঠিক নয়)।

আমি (আলবানী) বলছিঃ বাইহাকী এটিকে মওকুফ হিসাবেও বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তার সনদে আব্দুল্লাহ মুরাদী রয়েছেন। তার মুখস্ত বিদ্যা হ্রাস পেয়েছিল। তবে এটি মারফুর চেয়ে বেশী সহীহ।

এছাড়া এটি সহীহ সুন্নাহ বিরোধী কথা। কারণ সহীহ সুন্নাহের মধ্যে নির্দিষ্ট স্থান হতে ইহরাম বাধার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উমার এবং উসমান (রাঃ) মিকাতের পূর্বে ইহরাম বাঁধাকে মাকরূহ মনে করেছেন। এ আসারটি বাইহাকী বর্ণনা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من تمام الحج أن تحرم من دويرة أهلك
منكر

-

أخرجه البيهقي (5 / 31) من طريق جابر بن نوح عن محمد بن عمرو عن أبي سلمة عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم في قوله عز وجل: {وأتموا الحج والعمرة لله} قال: فذكره
وهذا سند ضعيف، ضعفه البيهقي بقوله: فيه نظر
قلت: ووجهه أن جابرا هذا متفق على تضعيفه، وأورد له ابن عدي (50 / 2)
هذا الحديث وقال: لا يعرف إلا بهذا الإسناد، ولم أر له أنكر من هذا
وقد خفي هذا على الشوكاني فقال في " نيل الأو طار " (4 / 254) : ثبت هذا مرفوعا من حديث أبي هريرة، أخرجه ابن عدي والبيهقي
قلت: وقد رواه البيهقي من طريق عبد الله بن سلمة المرادي عن علي موقوفا ورجاله ثقات، إلا أن المرادي هذا كان تغير حفظه، وعلى كل حال، هذا أصح من المرفوع، وقد روى البيهقي كراهة الإحرام قبل الميقات عن عمر وعثمان رضي الله عنهما، وهو الموافق لحكمة تشريع المواقيت، وما أحسن ما ذكر الشاطبي رحمه الله في " الاعتصام " (1 / 167) ومن قبله الهروي في " ذم الكلام " (3 / 54 / 1) عن الزبير بن بكار قال: (حدثني سفيان بن عيينة قال) : سمعت مالك ابن أنس وأتاه رجل فقال: يا أبا عبد الله من أين أحرم؟ قال: من ذي الحليفة من حيث أحرم رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال: إني أريد أن أحرم من المسجد من عند القبر، قال: لا تفعل فإني أخشى عليك الفتنة، فقال وأي فتنة في هذه؟ إنما هي أميال أزيدها! قال: وأي فتنة أعظم من أن ترى أنك سبقت إلى فضيلة قصر عنها رسول الله صلى الله عليه وسلم؟ ! إني سمعت الله يقول! {فليحذر الذين يخالفون عن أمره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم}
فانظر مبلغ أثر الأحاديث الضعيفة في مخالفة الأحاديث الصحيحة والشريعة المستقرة، ولقد رأيت بعض مشايخ الأفغان هنا في دمشق في إحرامه، وفهمت منه أنه أحرم من بلده! فلما أنكرت ذلك عليه احتج على بهذا الحديث! ولم يدر المسكين أنه ضعيف لا يحتج به ولا يجوز العمل به لمخالفته سنة المواقيتالمعروفة، وهذا مما صرح به الشوكاني في " السيل الجرار " (2 / 168) ونحو هذا الحديث الآتي

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [201]  থেকে  [210]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [342]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।