• ৭০৪৫৯ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৬৯৭০ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [342] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [181]  থেকে  [190]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮১ | 181 | ۱۸۱

১৮১। অবাধ্যতা রিযক কমিয়ে দেয় না এবং তাকে (রিযককে) সৎকর্ম বৃদ্ধিও করে না। আর দো’আ ছেড়ে দেয়া হচ্ছে নাফারমানী (অবাধ্যতা)।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি তাবরানী “মুজামুস সাগীর” গ্রন্থে (পৃঃ ১৪৭) এবং ইবনু আদী “আল-কামিল” গ্রন্থে (১১/২) ইসমাঈল ইবনু ইয়াহইয়া আত-তাইনী সূত্রে ... উল্লেখ করেছেন। এ সনদটি জাল এ ইসমাঈল মিথ্যুক হওয়ার কারণে, যেমনভাবে আবু আলী আন-নাইসাপুরী, দারাকুতনী ও হাকিম বলেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ তিনি যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার সবই বাতিল। এছাড়া আতিয়া আল-আওফী দুর্বল। তার সম্পর্কে ২৪ নং হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে।

মানাবী “জামেউস সাগীর"-এর শারাহর মধ্যে বলেন, হায়সামী বলেছেনঃ আওফী দুর্বল। সাখাবী বলেনঃ এটির সনদ দুর্বল। কিন্তু হাদীসটির মূল কারণ উদঘাটন করতে তারা সকলে ভুলে গেছেন। সেটি হচ্ছে ইসমাঈলের মিথ্যুক হওয়া। এ কারণেই সম্ভবত সুয়ূতী “জামেউস সাগীর" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া হাদীসটি বাতিল হওয়ার প্রমাণ বহন করছে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিম্নের সহীহ হাদীসটি। যেটিকে বুখারী ও মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

من أحب أن يبسط له في رزقه وأن ينسأ له في أثره فليصل رحمه

অর্থঃ যে ব্যক্তি তার রিযক বৃদ্ধি করা ও তার হায়াত বৃদ্ধি পাওয়াকে ভালবাসে, সে যেন আত্মীয়দের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إن الرزق لا تنقصه المعصية ولا تزيده الحسنة، وترك الدعاء معصية
موضوع

-

أخرجه الطبراني في " الصغير " (ص 147) وابن عدي في " الكامل " (11 / 2) من طريق إسماعيل بن يحيى التيمي عن مسعر بن كدام عن عطية عن أبي سعيد مرفوعا
وهذا إسناد موضوع، إسماعيل هذا كذاب كما قال أبو علي النيسابوري والدارقطني والحاكم، وقال ابن عدي: عامة ما يرويه بواطيل، وعطية العوفي ضعيف وقد مضى له حديث رقم (24)
وقال المناوي في " شرح الجامع ": قال الهيثمي: وفيه عطية العوفي ضعيف، قال السخاوي: سنده ضعيف
وقد ذهلوا جميعا عن علة الحديث الحقيقية، وإلا لما جاز تعصيب الجناية برأس عطية دون إسماعيل الكذاب! ولعله لذلك أورده السيوطي في " الجامع
ثم إن مما يدل على بطلان الحديث قوله صلى الله عليه وسلم: " من أحب أن يبسط له في رزقه وأن ينسأ له في أثره فليصل رحمه "، رواه الشيخان وغيرهما، وهو مخرج في " صحيح أبي داود " (1486)
فهذا يدل على أن الحسنة سبب في زيادة الرزق كما أنها سبب في إطالة العمر، ولا تعارض عند التحقيق بين هذا وبين قوله تعالى {فإذا جاء أجلهم لا يستأخرون ساعة ولا يستقدمون} ولبسط هذا موضع آخر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮২ | 182 | ۱۸۲

১৮২। তোমাদের সেই সর্বোত্তম ব্যাক্তি যে, তার নিজ বংশের পক্ষে অন্যকে প্রতিরোধ করে, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে গুনাহ না করবে।

হাদীসটি জাল।

এটি আবু দাউদ (নং ৫১২০) আইউব ইবনু সুওয়াইদ সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ আইউব ইবনু সুওয়াইদ-এর কারণে এটির সনদটি নিতান্তই দুর্বল। তাকে আহমাদ, আবু দাউদ প্রমুখ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।

নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।

ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে (২/২৩১) বলেনঃ আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছিঃ আইউব ইবনু সুওয়াইদ এর প্রথম যে বস্তুটি আমরা ইনকার করি সেটি হচ্ছে সাঈদ ইবনু মুসাইয়াব হতে উসামা ইবনুয়ায়েদ সূত্রের এ হাদীসটি। উসামা সা'ঈদ হতে কিছু বর্ণনা করেছেন বলে আমি জানিনা।

তিনি অন্যত্র (২/২০৯) বলেনঃ ইবনু মাঈনকে এ আইউব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেন তিনি কিছুই না। সাঈদ ইবনু মুয়াইয়্যার সুরাকা হতে কিছু বর্ণনা করেননি। এ হাদীসটি জাল, এর দরজা হচ্ছে ওয়াকেদীর হাদিস।

মুনযেরী "মুখতাসারুস সুনান" গ্রন্থে (৮/১৮)  আইউব ইবনু সুওয়াইদকে এবং সনদের মধ্যে সাঈদ এবং সুরাকার মধ্যে ইনকিতা' (বিচ্ছিন্নতা) হওয়াকে হাদীসটিৱ সমস্যা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। কিন্তু মানাবী শুধুমাত্র আইউব ইবনু সুওয়াইদকে দুর্বলতার কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

خيركم المدافع عن عشيرته ما لم يأثم
موضوع

-

أخرجه أبو داود (رقم 5120) من طريق أيوب بن سويد عن أسامة بن زيد أنه سمع سعيد بن المسيب يحدث عن سراقة بن مالك بن جعشم المدلجي قال: خطبنا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: فذكره
قلت: وهذا سند ضعيف جدا من أجل أيوب بن سويد ضعفه أحمد وأبو داود وغيرهما
وقال النسائي: ليس بثقة، وقال ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 231)
سمعت أبي قال: أول ما أنكرنا على أيوب بن سويد حديث أسامة بن زيد عن سعيد بن المسيب عن سراقة بن مالك (فذكر هذا الحديث) ، وما أعلم أسامة روى عن سعيد بن المسيب شيئا، وقال في موضع آخر (2 / 209) : قال أبي: كنت أسمع منذ حين يذكر عن يحيى بن معين أنه سئل عن أيوب بن سويد فقال: ليس بشيء، وسعيد بن المسيب عن سراقة لا يجيء، وهذا حديث موضوع، بابه حديث الواقدي
والحديث أعله المنذري في " مختصر السنن " (8 / 18) بأيوب بن سويد، وبالانقطاع بين سعيد بن المسيب وسراقة، وذهل المناوي في " شرح الجامع الصغير " عن الانقطاع فأعله بأيوب فقط؟
وأورده الهيثمي في " المجمع " (8 / 110) من حديث خالد بن عبد الله بن حرملة المدلجي ثم قال: رواه الطبراني وفيه من لم أعرفهم
والذي تقتضيه الصناعة الحديثية أن الحديث ضعيف جدا، لولا حكم أبي حاتم بوضعه فإنه إمام حجة، والله أعلم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮৩ | 183 | ۱۸۳

১৮৩। মসজিদ ছাড়া মসজিদের প্রতিবেশীর সালাত (নামায/নামাজ) হবে না।

হাদীসটি দুর্বল।

এটি দারাকুতনী (পৃঃ ১৬১), হাকিম (১/২৪৬) ও বাইহাকী (৩/৫৭) সুলায়মান ইবনু দাউদ আল-ইয়ামামী সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে এ সুলায়মান, কারণ তিনি নিতান্তই দুর্বল। তার সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি কিছুই না। ইমাম বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। যাহাবী বলেন, ইমাম বুখারী বলেছেনঃ যার সম্পর্কে আমি মুনকারুল হাদীস বলেছি তার হাদীস বর্ণনা করা হালাল নয়।

হাদীসটি সাগানী তার “আল-মাওযুআহ” গ্রন্থে (পৃঃ ৬) এবং ইবনুল জাওযী তার “আল-মাওযুআত” গ্রন্থে (২/৯৩) উল্লেখ করেছেন।

দারাকুতনী মুহাম্মাদ ইবনু সিক্কীন আশ-শাকারী সুত্রে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এ মুহাম্মাদের কারণে হাদীসটি দুর্বল। কেননা তার সম্পর্কে আবূ হাতিম “আল-জারহু ওয়াত-তাদীল” গ্রন্থে (৩/২/২৮৩) বলেনঃ তিনি মাজহুল (অপরিচিত), তার হাদীসটি মুনকার।

যাহাবী বলেনঃ তাকে চেনা যায় না, তার খবর হচ্ছে মুনকার।

দারাকুতনী তার হাদীসকে দুর্বল বলেছেন।

এছাড় হাদীসটি অন্যান্য সনদেও বর্ণিত হয়েছে কিন্তু কোনটিই দুৰ্বলতার সমস্যা হতে মুক্ত নয়।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

لا صلاة لجار المسجد إلا في المسجد
ضعيف

-

أخرجه الدارقطني (ص 161) والحاكم (1 / 246) والبيهقي (3 / 57) من طريق سليمان بن داود اليمامي عن يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة عن أبي هريرة مرفوعا، سكت عنه الحاكم! وقال البيهقي: وهو ضعيف
قلت: وعلته سليمان هذا فإنه ضعيف جدا، قال ابن معين: ليس بشيء
وقال البخاري: منكر الحديث، قال الذهبي: قال البخاري: من قلت فيه منكر الحديث فلا تحل رواية حديثه
ثم أخرجه الدارقطني من طريق محمد بن سكين الشقري المؤذن، أنبأنا عبد الله بن بكير الغنوي، عن محمد بن سوقة عن محمد بن المنكدر عن جابر مرفوعا به، وفي لفظ عنده: لا صلاة لمن سمع النداء ثم لم يأت إلا من علة
وهذا سند ضعيف من أجل محمد بن سكين، أورده ابن أبي حاتم في " الجرح والتعديل " (3 / 2 / 283) وساق له هذا الحديث باللفظ الثاني ثم قال: سمعت أبي يقول: هو مجهول، والحديث منكر، وقال الذهبي في " الميزان ": لا يعرف وخبره منكر، ثم ساق له هذا الحديث باللفظ الأول، ثم قال: قال الدارقطني
هو ضعيف
ورواه أحمد في " مسائل ابنه صالح " (ص 56) بسند صحيح عن أبي حيان التيمي عن أبيه عن علي به موقوفا عليه، وزاد قيل: ومن جار المسجد؟ قال: " من سمع النداء "، ثم رواه من طريق أبي إسحاق عن الحارث عنه دون الزيادة
والحديث أخرجه العقيلي في " الضعفاء " من هذا الوجه باللفظ الثاني ثم قال
وهذا يروى من وجه آخر صالح
قلت: يشير إلى حديث ابن عباس مرفوعا: " من سمع النداء فلم يأته فلا صلاة له إلا من عذر
أخرجه أبو داود وابن ماجه والدارقطني والحاكم والبيهقي، وسند ابن ماجه وغيره صحيح، وقد صححه النووي والعسقلاني والذهبي ومن قبلهم الحاكم، وهو مخرج تخريجا دقيقا في " الإرواء " (551)
وأما قول مؤلف كتاب " التاج الجامع للأصول " (1 / 268) : رواه أبو داود وابن ماجه بسند ضعيف
فمن تخليطاته وأخطائه الكثيرة التي بينتها في " نقد التاج " (رقم 180) ، ثم إن الحديث بلفظه الأول أورده الصغاني في " الأحاديث الموضوعة " (ص 6) وكذا ابن الجوزي أورده في " الموضوعات (2 / 93) من طريق صالح كاتب الليث: حدثنا عمر بن راشد عن ابن أبي ذئب عن الزهري عن عروة عن عائشة مرفوعا به، وقال: قال ابن حبان: عمر لا يحل ذكره إلا بالقدح، وتعقبه السيوطي في " اللآليء " (2 / 16) بقوله: قلت: قد وثقه العجلي وغيره، وروى له الترمذي وابن ماجه، وله طرق أخر عن جابر وأبي هريرة وعلي
ثم ذكر ما تقدم من حديث جابر وأبي هريرة، وأما حديث علي فموقوف أخرجه البيهقي وأحمد كما تقدم من طريق أبي حيان عن أبيه عن علي موقوفا
وهذا سند ضعيف أيضا والد أبي حيان اسمه سعيد بن حيان، قال الذهبي: لا يكاد يعرف، وقال ابن القطان: إنه مجهول.
مع أن ابن حبان والعجلي وثقاه
فكأنهما لم يعتدا بتوثيقها، كما فعل الذهبي في " الميزان " على ما بينته في " تيسير الانتفاع " نفعنا الله به وإياك
تنبيه: عمر بن راشد الذي طعن فيه ابن حبان ووثقه العجلي هو أبو حفص اليمامي ومن طبقته راوآخر، وهو عمر بن راشد الجاري المصري، وأنا أرجح أنه راوي الحديث لأمرين، الأول: أن راويه عنه صالح كاتب الليث مصري، والآخر: أن شيخه فيه ابن أبي ذئب، وهذا ذكروه في شيوخه لا في شيوخ اليمامي، فإذا صح هذا فهو أشد ضعفا من الأول فإنه متفق على تضعيفه، وقال الدارقطني: كان يتهم بوضع الحديث على الثقات
ولكن مجيء الحديث من الطرق التي أوردنا يخرجه عن كونه موضوعا إلى درجة الضعيف وأما قول المناوي: ومن شواهده حديث الشيخين: " من سمع النداء فلم يجب فلا صلاة له إلا من عذر "، ففيه نظر من وجهين: الأول: أنه لا يصلح شاهدا لحديث الباب لأنه أخص منه فإنه يفيد أن جار المسجد ينبغي أن يصلي في مسجده الذي هو جاره فإن صلى في غيره فلا صلاة له وهذا ما لا يفيده الشاهد المذكور كما لا يخفى، وهذا فرق جوهري بين الحديث الضعيف والحديث الصحيح
الآخر: أن عزو الحديث للشيخين خطأ بين كما يشعر به تخريجنا المتقدم له وبالجملة فالحديث بلفظه الأول ضعيف لا حجة فيه، وبلفظه الثاني صحيح لشاهده المتقدم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮৪ | 184 | ۱۸٤

১৮৪। তোমরা যখন রোগীর নিকট প্রবেশ করবে, তখন তাকে তার মৃত্যুর ব্যাপারে সান্ত্বনা দাও। কারন তা তার কিছুই প্রতিরোধ করবে না। তবে তা তার হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দিবে।

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।

এটি ইমাম তিরমিযী (৩/১৭৭), ইবনু মাজাহ (১/৪৩৯) ও ইবনু আদী (২/৩২৪) মূসা ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম আত-তাইমী সুত্রে ... বর্ণনা করেছেন। "এটি গরীব" তিরমিযী তার এ কথা দ্বারা বুঝিয়েছেন হাদীসটি দুর্বল।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এর সমস্যা ইচ্ছে ঐ মূসা ইবনুল জাওযী তার হাদিসকে "আল-মাওযু'আত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং সুয়ূতী তাকে সমর্থন করেছেন, যেমনভাবে ১১২ নাম্বার হাদীসে আলোচিত হয়েছে। যাহাবী তার জীবনী আলোচনা করার সময় তার মুনকারগুলো উল্লেখ করেছেন, এটি সেগুলোর একটি।

মানাবী ইমাম নাবাবী হতে নকল করেছেন, তিনি তার “আল-আযকার” গ্রন্থে বলেনঃ এটির সনদ দুর্বল।

ইবনুল জাওযী তার "ইলালুল মুতানাহিয়া" গ্রন্থে (২/৩৮৮) বলেনঃ হাদিসটি সহীহ নয়। হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ তার সনদে দুর্বলতা রয়েছে।

ইবনু আবী হাতিম "আল-ইলাল" গ্রন্থে (২/২৪১) বলেছেনঃ আমি আমার পিতাকে এ হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেনঃ এটি মুনকার হাদিস, এটি যেন বানোয়াট, মূসা নিতান্তই দুর্বল।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إذا دخلتم على المريض فنفسوا له في أجله فإن ذلك لا يرد شيئا ويطيب نفسه
ضعيف جدا

-

أخرجه الترمذي (3 / 177) وابن ماجه (1 / 439) وابن عدي (324 / 2) من طريق موسى بن محمد بن إبراهيم التيمي عن أبيه عن أبي سعيد الخدري مرفوعا
وضعفه الترمذي بقوله: هذا حديث غريب
قلت: وعلته موسى هذا وقد أخرج له ابن الجوزي في " موضوعاته "، وأقره السيوطي كما تقدم في الحديث (رقم 112) ، وقد ساق له الذهبي في ترجمته منكرات هذا أحدها، ونقل المناوي عن النووي أنه قال في " الأذكار ": إسناده ضعيف، وعن ابن الجوزي قال: حديث لا يصح، وهو في كتابه " العلل المتناهية " (2 /388)
قلت: وفيه أحاديث هي من حق كتابه الآخر " الموضوعات "، وعلى العكس، انظر الحديثين الآتيين بعده
وقال الحافظ في " الفتح ": في سنده لين وكذا قال في " بذل الماعون " (2 / 2 من الكراس 11)
قلت: وفي " العلل " لابن أبي حاتم (2 / 241) : سألت أبي عن هذا الحديث؟
فقال: هذا حديث منكر، كأنه موضوع، وموسى ضعيف الحديث جدا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮৫ | 185 | ۱۸۵

১৮৫। আল-হামদুলিল্লাহ, মেয়েদের দাফন করা সন্মানজনক কর্ম সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

হাদীসটি জাল।

এটি ইয়াকূব আল-ফাসাবী "আল-মা'রিফাহ" (৩/১৫৯) গ্রন্থে, তাবারানী "আল-মু'জামুল কাবীর" (৩/১৪৪/২), "আল-আওসাত" গ্রন্থে (১/৭৬২) ও "মুসনাদুশ শামেয়ীন" (২৪০৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া বাযযার আবুল কাশিম আল-মেহরানী, খতীব বাগদাদী, কাযা'ঈ এবং ইবনু আসাকিরও আরাক ইবনু খালিদ ইবনে ইয়াযীদ সুত্রে উসমান ইবনু আতা হতে ... বর্ণনা করেছেন।

তাবারানী বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে এ সনদ ছাড়া অন্য কোন সনদে হাদীসটি বর্ণনা করা হয়নি। মেহরানী বলেনঃ এটি গারীব। উসমান ইবনু আতা এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওয হাদীসটি “আল-মাওযু আত” গ্রন্থে (৩/২৩৬) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়। উসমান দুর্বল। তার পিতা হেফযের দিক দিয়ে নিম্নমানের। আরাক ইবনু খালিদ শক্তিশালী নন। মুহাম্মাদ ইবনু আব্দির রহমান আল-কুরাশী দুর্বল, তিনি হাদীস চুরি করতেন। তিনি আরো বলেনঃ আমি আমার শাইখ আব্দুল ওয়াহাব ইবনু আনমাতী হতে শুনেছি; তিনি আল্লাহর নামে কসম করে বলেনঃ এ সংক্রান্ত বিষয়ে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও কিছুই বলেননি।

সুয়ূতী তার (ইবনুল জাওযীর) এ বক্তব্যকে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/৪৩৮) সমর্থন করেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। এ কারণে "জামেউস সাগীর”-এর ভাষ্যকার মানাবী তার সমালোচনা করেছেন।

সাগানী হাদীসটি তার “আল-মাওযুআত” গ্রন্থে (পৃঃ ৮) উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الحمد لله، دفن البنات من المكرمات
موضوع

-

أخرجه يعقوب الفسوي في " المعرفة " (3 / 159) والطبراني في " الكبير " (3 /144 / 2) " والأوسط " (1 / 76 / 2) و" مسند الشاميين " (2408) والبزار (790 - زوائده) وأبو القاسم المهراني في " الفوائد المنتخبة " (3 / 26 /1) والخطيب في " تاريخه " (5 / 57) والقضاعي في " مسند الشهاب " (15 /2) وابن عساكر (1 / 216 و8 / 503 / 1 و11 / 262 / 1 و15 / 159 / 2 و16 /25 / 2) من طريق عراك بن خالد بن يزيد عن عثمان بن عطاء عن أبيه عن عكرمة عن ابن عباس قال: لما عزي رسول الله صلى الله عليه وسلم على رقية امرأة عثمان ابن عفان قال: فذكره، وقال الطبراني: لا يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا بهذا الإسناد، وقال المهراني: غريب تفرد به عثمان بن عطاء، وهذا أولى من قول الطبراني المذكور فإنه مردود برواية ابن عدي إياه في " الكامل " (300 /1) من طريق محمد بن عبد الرحمن بن طلحة القرشي حدثنا عثمان بن عطاء به، وأورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 236) وقال: لا يصح، عثمان ضعيف وأبوه رديء الحفظ، وعراك ليس بالقوي، ومحمد بن عبد الرحمن ضعيف يسرق الحديث، قال: وسمعت شيخنا عبد الوهاب بن الأنماطي الحافظ يحلف بالله عز وجل
أنه ما قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من هذا شيئا قط، وأقره السيوطي في " اللآليء " (2 / 438) ، ومع هذا فقد أورده في " الجامع الصغير " وتعقبه شارحه المناوي بما ذكرناه من الإقرار، ثم تناقض، فقال في التيسير
إسناده ضعيف، والحديث أورده الصغاني أيضا في الموضوعات " (ص 8) ، وقد روي عن ابن عمر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮৬ | 186 | ۱۸٦

১৮৬। মেয়েদের দাফন করা সন্মানজনক কর্ম সমূহের অন্তর্ভুক্ত।

হাদীসটি জাল।

এটি ইবনু আদী “আল-কামিল” গ্রন্থে (২/৮০) এবং খাতীব বাগদাদী (৭/২৯১) হুমায়েদ ইবনু হাম্মাদ সূত্রে ... উল্লেখ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ দুর্বল। হুমায়েদ ইবনু হাম্মাদ সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ তিনি নির্ভরশীলদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীস বর্ণনা করতেন। হাদীসটি নিরাপদ নয়। আবু দাউদ বলেনঃ এটি দুর্বল। ইবনুল জাওযী হাদীসটির এ কারণই বর্ণনা করেছেন। তিনি এটিকে তার “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে (৩/২৩৫) উল্লেখ করে বলেছেনঃ হুমায়েদ নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীস বর্ণনা করতেন।

সুয়ূতী তার (ইবনুল জাওযীর) এ বক্তব্যকে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/৪৩৮) সমর্থন করেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। এ কারণে ইবনু আদীর কথা উল্লেখ করার মাধ্যমে মানাবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ ইবনুল জাওযী এটিকে জাল হিসাবে হুকুম লাগিয়েছেন। যাহাবী এবং লেখক (সুয়ূতী) তার এ কথাকে সমর্থন করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

دفن البنات من المكرمات
موضوع

-

أخرجه ابن عدي في " الكامل " (80 / 2) والخطيب (7 / 291) عن حميد بن حماد عن مسعر بن كدام عن عبد الله بن دينار عن ابن عمر مرفوعا به
قلت: وهذا سند ضعيف حميد بن حماد قال ابن عدي: يحدث عن الثقات بالمناكير والحديث غير محفوظ، وقال أبو داود: ضعيف، وبه أعله ابن الجوزي فأورد الحديث في " الموضوعات " (3 / 235) من هذا الوجه ثم قال: لا يصح، حميد يحدث عن الثقات بالمناكير، وأقره السيوطي في " اللآليء " كالحديث الذي قبله، ومع هذا أورده أيضا في " الجامع الصغير "! وتعقبه المناوي أيضا بما سبق عن ابن عدي وقال: وحكم ابن الجوزي بوضعه وأقره عليه الذهبي والمؤلف في مختصر الموضوعات
ثم تناقض المناوي أيضا، فقال: إسناده ضعيف

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮৭ | 187 | ۱۸۷

১৮৭। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা এ মসজিদের (মক্কার মসজিদ) অধিবাসীদের জন্য প্র্যত্যেক দিনে ও রাতে একশত বিশটি রহমত নাযিল করেন। ষাটটি তাওয়াফ কারীদের জন্য, চল্লিশটি সালাত (নামায/নামাজ) আদায়কারীদের জন্য আর বিশটি দৃষ্টিদান কারীদের জন্য।

হাদীসটি য’ঈফ।

এটি তাবারানী “আল-আওসাত” (১/১২৩/২) ও “আল-কাবীর” গ্রন্থে (১১৪৭৫) ইউসুফ ইবনু ফায়েয হতে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া ইবনু আসাকির (৯/৪৭৬/২) ও যিয়া “আল-মুনতাকা মিন মাসমূ'আতিহী বিমারু” গ্রন্থে হাদীসটি আব্দুর রহমান ইবনু সাফর আদ-দামেস্ক হতে ... বর্ণনা করেছেন।

এ হাদীসটি সম্পর্কে তাবারানী বলেনঃ এটি আওযাঈ হতে ইবনুস সাফর ব্যতীত অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি মিথ্যুক, হাদীস জাল করতেন। ইবনু আসাকির আব্দুর রহমান ইবনুস সাফরের জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে হাদীসটি উল্লেখ করে ইবনু মান্দার উদ্ধৃতিতে বলেছেন যে, তিনি (আব্দুর রহমান) মাতরূক [অগ্রহণযোগ্য]। যাহাবীও তার অনুসরণ করেছেন।

ইবনুল জাওযী “ইলালুল মুতানাহিয়া” গ্রন্থে (২/৮২-৮৩) বলেছেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়। কারণ ইউসুফ ইবনুস সাফর এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি মাতরূক, যেমনভাবে দারাকুতনী ও নাসাঈ বলেছেন। দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মিথ্যা বলতেন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তার দ্বারা হাদীস গ্রহণ করা হালাল নয়। ইয়াহইয়া বলেনঃ তিনি কিছুই না। হায়সামীও তাকে মাতরূক হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তাকে বলা হয় ইবনুল ফায়েয। ইবনু হিব্বান “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে (৩/১৩৬-১৩৭) ও আবু নু’য়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (১/১১৬, ৩০৭) এরূপ বর্ণনা করেছেন। অতঃপর ইবনু হিব্বান বলেছেনঃ ইউসুফ ইবনু ফায়েয আওযাঈ হতে বহু মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি যেন তা ইচ্ছাকৃতই করতেন।

ইবনু আবী হাতিম "আল-ইলাল" গ্রন্থে (১/২৮৭) বলেনঃ আমি আমার পিতাকে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম? তিনি বলেন এ হাদীসটি মুনকার, ইউসুফ হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল, মাতরুকের ন্যায়।  

তার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেন তিনি বহু বাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন। বাইহাকী বলেনঃ তাকে হাদীস জলকারীদের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে।

যাহাবী "আল-মীযান" গ্রন্থে বলেনঃ তিনিই হচ্ছেন আব্দুর রহমান ইবনুস সাফর।

ইবনু হাজার "আল-লিসান" গ্রন্থে বলেনঃ কেউ কেউ তার নাম এমনই রেখেছেন। সঠিক নাম হচ্ছে ইউসুফ ইবনুস সাফর। তিনি মাতরুক। তাকে ইমাম বুখারী উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি আবদুর রহমান ইবনুস সাফর, তিনি জাল হাদিস বর্ণনা করেছেন।

এছাড়া যে সব সনদে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো কোনটিই সহীহ নয়।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إن الله تعالى ينزل على أهل هذا المسجد - مسجد مكة - في كل يوم وليلة عشرين ومئة رحمة: ستين للطائفين، وأربعين للمصلين، وعشرين للناظرين
ضعيف

-

رواه الطبراني في " الأوسط " (1 / 123 / 2) و" الكبير " (11475) ووقع عنده يوسف بن الفيض، وابن عساكر (9 / 476 / 2) والضياء في " المنتقى من مسموعاته بمرو" عن عبد الرحمن بن السفر الدمشقي حدثنا الأوزاعي عن عطاء حدثني ابن عباس مرفوعا، وعزاه السيوطي في " الجامع الصغير " للحاكم أيضا في " الكنى " وابن عساكر، وقال الطبراني: لم يروه عن الأوزاعي إلا ابن السفر
قلت: وهو كذاب يضع الحديث كما يأتي، قال المناوي في " شرح الجامع " بعد أن عزاه للخطيب أيضا في " التاريخ " والبيهقي في " الشعب ": ظاهر صنيع المصنف أن ابن عساكر خرجه وسكت عليه، والأمر بخلافه، فإنه أورده في ترجمة عبد الرحمن ابن السفر من حديثه، ونقل عن ابن منده أنه متروك، وتبعه الذهبي، وقال ابن الجوزي في " العلل المتناهية " (2 / 82 - 83) : حديث لا يصح، تفرد به يوسف بن السفر وهو كما قال الدارقطني والنسائي: متروك، وقال الدارقطني
يكذب، وابن حبان: لا يحل الاحتجاج به وقال يحيى: ليس بشيء
ومنه أخذ الهيثمي (3 / 292) قوله بعد ما عزاه الطبراني: فيه يوسف بن السفر وهو متروك
قلت: ويقال فيه ابن الفيض وهكذا رواه ابن حبان في " الضعفاء " (3 / 136 - 137) وأبو نعيم في " أخبار أصبهان " (1 / 116 و307) ، وقال ابن حبان
يوسف بن الفيض يروي عن الأوزاعي المناكير الكثيرة والأوهام الفاحشة، كأنه كان يعملها تعمدا
وأورده ابن أبي حاتم في " العلل " (1 / 287) بسنده هذا وقال: سألت أبي عنه فقال: هذا حديث منكر، ويوسف ضعيف الحديث شبه المتروك، وفيه يقول ابن عدي
روى بواطيل، والبيهقي: هو في عداد من يضع الحديث ذكره الذهبي في " الميزان " ثم ساق له أحاديث هذا أحدها، وهو عبد الرحمن بن السفر المتقدم في كلام المناوي، قال ابن حجر في ترجمته من " اللسان ": كذا سماه بعضهم والصواب يوسف ابن السفر متروك، وذكره البخاري فقال: عبد الرحمن بن السفر روى حديثا موضوعا
قلت: وكما ذكره البخاري رواه الطبراني في " الكبير " (3 / 123 / 1) ، وعلى الصواب رواه ابن الأعرابي في " معجمه " (185 / 2) ، ثم رواه من حديث عبد الله ابن عمرو بن العاص موقوفا عليه وفي سنده جعفر بن محمد الأنطاكي، قال الذهبي
ليس بثقة وله خبر باطل
قلت: وسيأتي هذا الخبر بلفظ: " يبعث معاوية عليه رداء من نور "
وأما قول المنذري في " الترغيب " (2 / 121) : رواه البيهقي بإسناد حسن فهو فيما أظن من تساهله أو أوهامه، ثم وجدت للحديث طريقا أخرى عن ابن جريج فقال الأزرقي في " أخبار مكة " (256) حدثني جدي عن سعيد بن سالم وسليم بن مسلم عن ابن جريج به، وهذا إسناد لا بأس به إلى ابن جريج فإن جد الأزرقي ثقة، واسمه أحمد بن محمد بن الوليد، وسعيد بن سالم هو القداح، قال الحافظ في " التقريب ": صدوق يهم
وأما قرينه سليم بن مسلم فهو الخشاب وهو متروك فلا يعتد به والعمدة على القداح، فلولا عنعنة ابن جريج فإنه مدلس، لحكمت على هذا السند بأنه حسن، ولفظ هذه الرواية مثل لفظ حديث الترجمة.
ثم رأيت الحديث رواه الحارث بن أبي أسامة في " مسنده " (96 - من زوائده) وابن حبان في " الضعفاء " (1 / 321) وعنه ابن الجوزي، وقال ابن حبان: قد تبرأنا من عهدة سالم، وتابعه إبراهيم بن يزيد الخوزي وهو متروك متهم رواه الأصبهاني في " الترغيب " (1 / 444) من طريق أخرى عن سعيد به مثله، ثم صدق ظني حين رأيت الحديث في " شعب الإيمان / الحج " للبيهقي (ق 66 / 1) رواه من طريق النيسابوري باللفظ الآتي بعده وعلقه من طريق يوسف بن السفر وقال: وهو ضعيف
والحديث في " المعجم الكبير " من طريق أخرى فيه كذاب آخر بلفظ مغاير لهذا بعض الشيء وسيأتي إن شاء الله تعالى برقم (6245) ، وأما الخطيب فرواه من طريق يوسف هذا في " الموضح " (2 / 255) وقال: تفرد به أبو الفيض يوسف بن السفر عن الأوزاعي، ورواه في غيره من طريق آخر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮৮ | 188 | ۱۸۸

১৮৮। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা প্রতি দিন একশত রহমত নাযিল করেন। তার ষাটটি বায়তুল্লাহকে তাওয়াফ কারীদের জন্য, বিশটি মক্কাবাসীদের জন্য এবং বিশটি সকল মানুষের জন্য।

হাদীসটি দুর্বল।

এটিকে ইবনু আদী (১/৩১৪), খাতীব বাগদাদী, তার; আত-তারীখ" গ্রন্থে (৬/২৭) ও বাইহাকী (৩/৪৫৪-৪৫৫) মুহাম্মদ ইবনু মুয়াবিয়া সূত্র ... উল্লেখ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ ইবনু মুয়াবিয়া সম্পর্কে ইবনু মাঈন ও দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। দারাকুতনী আরো বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন। যাহাবী তার জীবনীতে এ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إن الله تعالى ينزل في كل يوم مئة رحمة: ستين منها على الطائفين بالبيت، وعشرين على أهل مكة، وعشرين على سائر الناس
ضعيف

-

أخرجه ابن عدي (314 / 1) والخطيب في " تاريخه " (6 / 27) والبيهقي (3 /454 - 455) من طريق محمد بن معاوية النيسابوري حدثنا محمد بن صفوان عن ابن جريج عن عطاء ابن عباس مرفوعا، وقال ابن عدي: وهذا منكر، وروي عن الأوزاعي عن عطاء عن ابن عباس رواه عنه يوسف بن السفر وهو ضعيف
قلت: وابن معاوية هذا قال ابن معين والدارقطني: كذاب، زاد الثاني: يضع الحديث، وساق الذهبي في ترجمته هذا الحديث

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮৯ | 189 | ۱۸۹

১৮৯। তোমরা তোমাদেরকে সূর্যের মাঝে বসা হতে রক্ষা কর। কারন সে কাপড়কে পুরাতন করে দেয়, বাতাসকে দুর্গন্ধযুক্ত করে দেয় এবং লুক্কায়িত রোগকে প্রকাশ করে দেয়।

হাদীসটি জাল।

এটিকে হাকিম আল-মুসতাদরাক গ্রন্থে (৪/৪১১) মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ আত-তাহান সুত্রে উল্লেখ করেছেন। হাকিম হাদিসটির উপর হুকুম লাগানো হতে চুপ থেকেছেন। যাহাবী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ এটি তাহান কর্তৃক জালকৃত।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তা সত্ত্বেও সুয়ূতী হাদিসটিকে "জামে'উস সাগীর" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। এ কারণে মানাবী যাহাবীর এ কথা দ্বারা তার সমালোচনা করেছেন। অতঃপর মানাবী বলেছেনঃ লেখকের উচিত ছিল এটিকে মুছে ফেলা।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إياكم والجلوس في الشمس فإنها تبلي الثوب وتنتن الريح وتظهر الداء الدفين
موضوع

-

أخرجه الحاكم في " المستدرك " (4 / 411) من طريق محمد بن زياد الطحان حدثنا ميمون بن مهران عن ابن عباس مرفوعا، وسكت عليه الحاكم وتعقبه الذهبي بقوله: قلت: ذا من وضع الطحان
قلت: ومع هذا أورده السيوطي في " الجامع الصغير " فتعقبه المناوي بكلام الذهبي هذا، ثم قال المناوي: فكان ينبغي للمصنف حذفه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৯০ | 190 | ۱۹۰

১৯০। প্রত্যেকের মাথায় কুষ্ঠ রোগের ভিত্তি রয়েছে যা (ঘুমন্তাবস্থায়) গড় গড় শব্দ করে। অতঃপর তা যখন অস্থিরতায় ভুগে তখন তার উপর সর্দি চাপিয়ে দেন। অতএব তোমরা তার জন্য ঔষধ ব্যাবহার করো না।

হাদীসটি জাল।

এটিকে হাকিম আল-মুসতাদরাক গ্রন্থে (৪/৪১১), অনুরূপভবে কাসিম আস-সারকাসতী "গারীবুল হাদিস" গ্রন্থে (২/১৫৪/১) মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস কুরাশী সুত্রে বর্ণনা করেছেন। হাকিম হাদিসটির উপর কোন প্রকার হুকিমলাগানো হতে চুপ থেকেছেন।

এ কারণে যাহাবী তার সমালোচনা করে বলেছেন, আমি বলছিঃ সম্ভবত এটি বানোয়াট। কুদায়মী (কুরাশী) মিথ্যার দোষে দোষী।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে "আল-মাওযূ'আত" গ্রন্থে (৩/২০৫) কুদায়মী পর্যন্ত তার সনদে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সহীহ্ নয়। মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস হচ্ছেন কুদায়মী; তিনি হাদীস জালকারী।

সুয়ূতী “আল-লাআলী" গ্রন্থে (২/৪০২) তাঁর এ কথাকে সমর্থন করা সত্ত্বেও তিনি হাদীসটি "জামেউস সাগীর" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

হাদিসটি দাইলামী (৪/২২) ইবনু লাল সুত্রে বর্ণনা করেছেন। এ সনদে মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনু মানসূর রয়েছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ ইবনে মানুসর অথবা তার শাইখ হুসাইন ইবনু ইউসুফ আল-ফাহহাম আমার নিকট মিথ্যার দোষে দোষী। তার এ শাইখকে আমি চিনি না। হতে পারে তিনিই সে ব্যক্তি যাকে ইবনু আসাকির মাজহুল (অপরিচিত) বলেছেন।

যাহাবী বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আবূ হাফস ফাল্লাসের উদ্ধৃতিতে রাফেযী এবং জাহমিয়াদের অভিশাপ করতে বাতিল হাদীস বর্ণনা করেছেন। জানা যায় না তিনি কে? অনুরূপভাবে তার থেকে বর্ণনাকারীকেও চিনি না



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما من أحد إلا وفي رأسه عرق من الجذام تنعر، فإذا هاج سلط الله عليه الزكام فلا تداووا له
موضوع

-

أخرجه الحاكم (4 / 411) وكذا القاسم السرقسطي في " غريب الحديث " (2 / 154 / 1) من طريق محمد بن يونس القرشي حدثنا بشر بن حجر السلمي، حدثنا فضيل بن عياض عن ليث عن مجاهد عن ابن عباس عن عائشة مرفوعا، وسكت عليه الحاكم، وتعقبه الذهبي بقوله: قلت: كأنه موضوع فالكديمي متهم
قلت: وقد أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 205) بإسناده إلى الكديمي به، ثم قال: لا يصح، محمد بن يونس هو الكديمي يضع الحديث
وأقره السيوطي في " اللآليء " (2 / 402) فإنه لم يتعقبه بشيء إلا أنه ذكر أن الحاكم أخرجه وأن الذهبي تعقبه بما سبق، ومع هذا أورده في " الجامع الصغير "! وبذلك تعقبه المناوي في " شرحيه"، وأخرجه الديلمي (4 / 22) من طريق ابن لال: حدثنا محمد بن أحمد بن منصور حدثنا الحسين بن يوسف الفحام بمصر حدثنا محمد بن سحنون التنوخي حدثنا محمد بن بشر المصري حدثنا أبو معاوية الضرير عن
الأعمش عن زيد بن وهب عن جرير بن عبد الله رفعه
قلت: وهذا المتهم به عندي محمد بن أحمد بن منصور أو شيخه الفحام، فإن هذا لم أعرفه، ويحتمل أنه الحسين بن يوسف الذي قال ابن عساكر: مجهول، والأول قال الذهبي: روى عن أبي حفص الفلاس خبرا باطلا في لعن الرافضة والجهمية، لا يدرى من هو وكذلك الراوي عنه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [181]  থেকে  [190]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [342]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।