• ৭১৯৬৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৮০৩৩ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [1794] টি | অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ (كتاب اللباس)
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [1791]  থেকে  [1794]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ (كتاب اللباس)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯১ | 1791 | ۱۷۹۱

পরিচ্ছদঃ টুপির উপর পাগড়ী পরা।

১৭৯১। কুতায়বা (রহঃ) ... আবূ জাফর ইবনু মুহাম্মদ ইবনু রুকানা তাঁর পিতা মুহাম্মদ ইবনু রুকানা (রহঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রুকানা রাদিয়াল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে কুস্তি লড়েছিলেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে আছড়ে ফেলে দিয়েছিলেন। রুকানা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আমাদের এবং মুশরিকদের মাঝে পার্থক্য হলো টুপির উপর পাগড়ী পরিধান করা। যঈফ, মিশকাত ৪৩৪০, ইরওয়া ১৫০৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই হাদীসটি গারীব। এর সনদটি সঠিক নয়। রাবী আবূল হাসান আসকালানীকে আমরা চিনি না ইবনু রুকানাকেও না।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Abu Ja'far bin Muhammad bin Rukanah:

From his father that Rukanah wrestled the Prophet (ﷺ) and the Prophet (ﷺ) won the match. Rukanah said: "I heard the Messenger of Allah (ﷺ) saying: 'Indeed what distinguishes between us and between the idolater is the turban over the cap.'"

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Gharib. Its chain is not established, and we do not know of Abu Al-Hasan Al-'Asqalani, nor Ibn Rukanah.

باب الْعَمَائِمِ عَلَى الْقَلاَنِسِ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنْ أَبِي الْحَسَنِ الْعَسْقَلاَنِيِّ، عَنْ أَبِي جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ رُكَانَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رُكَانَةَ، صَارَعَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَصَرَعَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَالَ رُكَانَةُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ إِنَّ فَرْقَ مَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْمُشْرِكِينَ الْعَمَائِمُ عَلَى الْقَلاَنِسِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ وَإِسْنَادُهُ لَيْسَ بِالْقَائِمِ ‏.‏ وَلاَ نَعْرِفُ أَبَا الْحَسَنِ الْعَسْقَلاَنِيَّ وَلاَ ابْنَ رُكَانَةَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ (كتاب اللباس)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯২ | 1792 | ۱۷۹۲

পরিচ্ছদঃ লোহার আংটি প্রসঙ্গে।

১৭৯২। মুহাম্মদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ) ... বুরায়দা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এল। তার হাতে একটি লোহার আংটি ছিল। তখন তিনি বললেন, আমার কি হলো, তোমার পরনে জাহান্নাবাসীদের অলংকার দেখছি? পরে লোকটি আবার তাঁর কাছে এল। এবার তার হাতে ছিল পিতলের একটি আংটি। তখন তিনি বললেন, আমার কি হলো, তোমার থেকে মূর্তির গন্ধ পাচ্ছি। তারপর লোকটি আবার তাঁর কাছে এল। তার হাতে ছিল সোনার আংটি। তিনি বললেন, আমার কী হল, তোমার হাতে জান্নাতীদের অলংকার দেখছি? লোকটি বলল কিসের আংটি আমি বানাবো? তিনি বললেন, রূপা দিয়ে বানাবে। তবে পূর্ণ এক মিছকাল পরিমাণ যেন না হয়।

যঈফ, মিশকাত ৪৩৯৬, আদাবুয যিফাফ ১২৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই হাদীসটি গারীব। আবদুল্লাহ ইবনু মুসলিম-এর কুনিয়াত হল আবূ তায়বা। তিনি হলেন মওরওয়াযী।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated 'Abdullah bin Buraidah:

From his father who said: "A man wearing an iron ring came to the Prophet (ﷺ). So he said to him: 'What is this I see on you, jewelry of the people of the Fire ?' Then he came wearing a ring of brass. So he said: 'What is this smell of idols I sense on you ?' Then he came wearing a ring of gold. So he said to him: 'What is this jewelry of the people of Paradise I see on you ?' So he said: 'What should I use then ?' He said: 'From silver, but not its entire weight."

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Gharib and there are narrations on this topic from 'Abdullah bin 'Amr, and 'Abdullah bin Muslim's Kunyah is Abu Taibah, and he is from Al-Marwaz.

باب مَا جَاءَ فِي الْخَاتَمِ الْحَدِيدِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ حُبَابٍ، وَأَبُو تُمَيْلَةَ يَحْيَى بْنُ وَاضِحٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ خَاتَمٌ مِنْ حَدِيدٍ فَقَالَ ‏"‏ مَا لِي أَرَى عَلَيْكَ حِلْيَةَ أَهْلِ النَّارِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ جَاءَهُ وَعَلَيْهِ خَاتَمٌ مِنْ صُفْرٍ فَقَالَ ‏"‏ مَا لِي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ الأَصْنَامِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَتَاهُ وَعَلَيْهِ خَاتَمٌ مِنْ ذَهَبٍ فَقَالَ ‏"‏ مَا لِي أَرَى عَلَيْكَ حِلْيَةَ أَهْلِ الْجَنَّةِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ مِنْ أَىِّ شَيْءٍ أَتَّخِذُهُ قَالَ ‏"‏ مِنْ وَرِقٍ وَلاَ تُتِمَّهُ مِثْقَالاً ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ‏.‏ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُسْلِمٍ يُكْنَى أَبَا طَيْبَةَ وَهُوَ مَرْوَزِيٌّ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ (كتاب اللباس)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৩ | 1793 | ۱۷۹۳

পরিচ্ছদঃ দুই আঙ্গুলে আংটি পরা মাকরূহ।

১৭৯৩। ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ... আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে নিষেধ করেছেন রেশম, জিনের লাল গদী এবং এই আঙ্গুল এবং এই আঙ্গুলে আংটি ব্যবহার করতে। এই বলে তিনি তর্জণী ও মধ্যমার দিকে ইঙ্গিত করলেন। "এই অথবা এই আঙ্গুলে" শব্দে হাদিসটি সহীহ, বর্ণনাকারী আসিম সন্দেহ করেছেন। যঈফাহ ৫৪৯৯, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। ইবনু আবূ মূসা (রহঃ) হলেন আবূ বুরদা ইবনু আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর নাম হল ’আমের ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু কায়স।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Ibn Abi Musa:

"I heard 'Ali saying: 'The Messenger of Allah (ﷺ) prohibited Al-Qassi, the red Mitharah, and wearing rings on this and this.' And he pointed to the index and middle fingers."

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Sahih. Ibn Abi Musa is Abu Burdah bin Abi Musa and his name is 'Amir bin 'Abdullah bin Qais.

باب كَرَاهِيَةِ التَّخَتُّمِ فِي أُصْبُعَيْنِ

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ كُلَيْبٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُوسَى، قَالَ سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ نَهَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْقَسِّيِّ وَالْمِيثَرَةِ الْحَمْرَاءِ وَأَنْ أَلْبَسَ خَاتَمِي فِي هَذِهِ وَفِي هَذِهِ ‏.‏ وَأَشَارَ إِلَى السَّبَّابَةِ وَالْوُسْطَى ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَابْنُ أَبِي مُوسَى هُوَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ أَبِي مُوسَى وَاسْمُهُ عَامِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قَيْسٍ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ (كتاب اللباس)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৪ | 1794 | ۱۷۹٤

পরিচ্ছদঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর প্রিয় পোশাক।

১৭৯৪। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে সব পোষাক পরিধান করতেন এর মধ্যে তাঁর নিকট সবচেয়ে প্রিয় পোষাক ছিল হিবারা বা ডুরিদার ইয়ামানী চাদর। সহীহ, মুখতাসার শামাইল মুহাম্মাদিয়া ৫১, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ-গারীব।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Anas:

"The garment the Messenger (ﷺ) like most to wear was the Hibrah."

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Sahih Gharib.

باب مَا جَاءَ فِي أَحَبِّ الثِّيَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَ أَحَبَّ الثِّيَابِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَلْبَسُهَا الْحِبَرَةُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত (كتاب الأطعمة عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৫ | 1795 | ۱۷۹۵

পরিচ্ছদঃ কিসের উপর খাদ্য রেখে নবী (ﷺ) আহার করতেন।

১৭৯৫। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁচু টেবিলে এবং নানা রকমের মুরব্বা চাটনি ও হজমির পেয়ালা রেখে আহার করেন নি। তাঁর জন্য চাপাতি রুটিও পাকান হয় নি। বর্ণনাকারী ইউনুস (রহঃ) বলেন, আমি কাতাদা (রহঃ)-কে বললাম তা হলে কিসের উপর খাদ্য রেখে তাঁরা আহার করতেন? তিনি বললেন, এসব চামড়ার দস্তরখানে রেখে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩২৯২, বুখারী, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই হাদীসটি হাসান-গারীব। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) বলেন, এই ইউনুস (রহঃ) হলেন, ইউনুস আল ইসকাফ। আবদুল ওয়ারিশ (রহঃ)-ও এই হাদীসটিকে সাঈদ ইবনু আবূ ’আরূবা-কাতাদা-আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে অনূরূপ বর্ণনা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Yunus:

From Qatadah, that Anas said: "The Messenger of Allah (ﷺ) never ate on a table, nor on small plates, not did he eat thin bread." He (Yunus) said: "I asked Qatadah: 'So what did he eat on ?' He said: 'On these leather dining sheets.'"

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Gharib. Muhammad bin Bash-har said: "This Yunus is Yunus Al-Iskaf." And 'Abdul-Warith bin Sa'eed reported similarly from Sa'eed bin Abi 'Arubah, from Qatadah, from Anas [From the Prophet (ﷺ)].

باب مَا جَاءَ عَلَى مَا كَانَ يَأْكُلُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏‏

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يُونُسَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ مَا أَكَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي خِوَانٍ وَلاَ فِي سُكُرُّجَةٍ وَلاَ خُبِزَ لَهُ مُرَقَّقٌ ‏.‏ قَالَ فَقُلْتُ لِقَتَادَةَ فَعَلَى مَا كَانُوا يَأْكُلُونَ قَالَ عَلَى هَذِهِ السُّفَرِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ وَيُونُسُ هَذَا هُوَ يُونُسُ الإِسْكَافُ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي عَرُوبَةَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত (كتاب الأطعمة عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৬ | 1796 | ۱۷۹٦

পরিচ্ছদঃ খরগোশ খাওয়া।

১৭৯৬। মাহমূদ ইবনু গায়লান (রহঃ) ... আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, মাররুয যাহরান-এর একটি খরগোশকে আমরা তাড়া করলাম। সাহাবীগণ এর পিছনে ধাওয়া করলেন। আমি তা পেয়ে গেলাম এবং তাকে ধরে ফেললাম। এরপর আবূ তালহা রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে তা নিয়ে আসলাম। তিনি তাকে একটি ধারালো পাথর দিয়ে যবেহ করলেন আমাকে দিয়ে এর একটি রান (বর্ণনান্তরে “চতুর”) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তা আহার করলেন। বর্ণনাকারী হিশাম ইবনু যায়দ বলেন, আমি বললাম, তিনি কি তা খেয়েছেন? আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি তা গ্রহণ করেছেন। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩২৪৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এ বিষয়ে জাবির, আম্মার, মুহাম্মদ ইবনু সাফওয়ান, যাকে বলা হয় মুহাম্মদ ইবনু সায়ফী (রাঃ) থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। অধিকাংশ আলিমদের এতদনুসারে আমল রয়েছে। খরগোশ আহারে কোন দোষ আছে বলে তারা মনে করেন না। কতক আলিম খরগোশ খাওয়া অপছন্দনীয় বলে মনে করেন, তাঁরা বলেন, এর ঋতুস্রাব হয়ে থাকে।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Hisham b. Zaid:

"I heard Anas saying: 'Once we provoked a rabbit at Marr Az-Zahran. So the Companions of the Messenger of Allah (ﷺ) rushed after it, and I caught up to it and captured it. I brought it to Abu Talhah who slaughtered it with Marwah. He sent me with its legs - or its thighs - to the Prophet (ﷺ) so he could eat it.'" He (Hisham) said: "I said: 'He ate it?' He said:'He accepted it.'"

[Abu 'Eisa said:] There are narrations on this topic from Jubair, 'Ammar, Muhammad bin Safwan, and they say: Muhammad bin Saifi.

This Hadith is Hasan Sahih. This is acted upon according to the people of knowledge. They saw no harm in eating rabbit. Some of the people of knowledge disliked eating rabbit, they said that it menstruates.

باب مَا جَاءَ فِي أَكْلِ الأَرْنَبِ ‏‏

حَدَّثَنَا مَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدِ بْنِ أَنَسٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسًا، يَقُولُ أَنْفَجْنَا أَرْنَبًا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ فَسَعَى أَصْحَابُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم خَلْفَهَا فَأَدْرَكْتُهَا فَأَخَذْتُهَا فَأَتَيْتُ بِهَا أَبَا طَلْحَةَ فَذَبَحَهَا بِمَرْوَةٍ فَبَعَثَ مَعِي بِفَخِذِهَا أَوْ بِوَرِكِهَا إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَكَلَهُ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ أَكَلَهُ قَالَ قَبِلَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَعَمَّارٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ صَفْوَانَ وَيُقَالُ مُحَمَّدُ بْنُ صَيْفِيٍّ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يَرَوْنَ بِأَكْلِ الأَرْنَبِ بَأْسًا ‏.‏ وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَكْلَ الأَرْنَبِ وَقَالُوا إِنَّهَا تَدْمِي ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত (كتاب الأطعمة عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৭ | 1797 | ۱۷۹۷

পরিচ্ছদঃ গুই সাপ খাওয়া।

১৭৯৭। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে গুই সাপ খাওয়ার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, আমি তা আহার করি না এবং তা হারামও বলি না। সহীহ, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে উমার, আবূ সাঈদ, ইবনু আব্বাস, ছাবিত ইবনু ওয়াদীয়া, জাবির ও আবদুর রহমান ইবনু হাসানা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। গুই সাপ খাওয়া সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফকীহ সাহাবী ও অন্যান্য ফকীহগণ এর অনুমতি দেন আর কতিপয় আলিম তা হারাম বলে মত পোষণ করেন। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দস্তরখানে গুই সাপ খাওয়া হয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনীহাবশতঃ তা পরিত্যাগ করেন।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Ibn 'Umar:

"The Prophet (ﷺ) was asked about eating a mastigure and he said: 'I do not eat it, and I do not prohibit eating it.'"

[He said:] There are narrations on this topic from 'Umar, Abu Sa'eed, Ibn 'Abbas, Thabit bin Wadi'ah, Jabir, and 'Abdur-Rahman bin Hasanah.

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Sahih

The People of knowledge have differed over eating mastigure. Some of the people of knowledge among the Companions of the Prophet (ﷺ) and others permitted it, while others considered it disliked. It has been related that Ibn 'Abbas said: "Mastigure was eaten on the dining spread of the Messenger of Allah (ﷺ), and the Messenger of Allah (ﷺ) only avoided it because it was distasteful to him."

باب مَا جَاءَ فِي أَكْلِ الضَّبِّ ‏‏

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنْ أَكْلِ الضَّبِّ فَقَالَ ‏ "‏ لاَ آكُلُهُ وَلاَ أُحَرِّمُهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَأَبِي سَعِيدٍ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَثَابِتِ بْنِ وَدِيعَةَ وَجَابِرٍ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ حَسَنَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدِ اخْتَلَفَ أَهْلُ الْعِلْمِ فِي أَكْلِ الضَّبِّ فَرَخَّصَ فِيهِ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَكَرِهَهُ بَعْضُهُمْ ‏.‏ وَيُرْوَى عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ قَالَ أُكِلَ الضَّبُّ عَلَى مَائِدَةِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنَّمَا تَرَكَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم تَقَذُّرًا ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত (كتاب الأطعمة عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৮ | 1798 | ۱۷۹۸

পরিচ্ছদঃ খট্রাশ খাওয়া।

১৭৯৮। আহমাদ ইবনু মানী‘ (রহঃ) ... আবূ ’আম্মার (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে বললাম, খাট্টাশ কি শিকারযোগ্য প্রাণী? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম আমরা কি তা খাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তা বলেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সহীহ, ইবনু মাজাহ ৩২৩৬, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৯১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে মত পোষণ করেন। তাঁরা খাট্টশ খাওয়ায় কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। এ হল আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খাট্টাশ খাওয়ার অপছন্দনীয় বলে একটি হাদীস রিওয়ায়াত আছে এবং তার সনদ তেমন শক্তিশালী নয়। কতক আলিম খাট্টাশ আহার অপছন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হল ইমাম ইবনুল মুবারক (রহঃ)-এর অভিমত।

ইয়াহইয়া ইবনু কাত্তান বলেছেন, জাবির ইবনু হাকিম এই হাদীসটিকে আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দ ইবনু উমায়র-ইবনু আবূ আমার-জাবির-উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে তাঁর বক্তব্য হিসাবে বর্ণিত আছে। তবে ইবনু জুরায়য (রহঃ)-এর রিওয়ায়াতটি (১৭৯৮ নং) অধিকতর সহীহ।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Ibn Abi 'Ammar:

"I asked Jabir: 'Is badger kind of game animal?' He said: 'Yes.'" He said: "I said: 'Should I eat it?' He said: 'Yes.'" He said: 'I said: 'Did the Messenger of Allah (ﷺ) say that ?' He said: 'Yes.'"

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Sahih.

Some of the people of knowledge followed this. They did not see any harm eating badger. This is the view of Ahmad and Ishaq. A Hadith has been related from the Prophet (ﷺ) indicating disapproval of eating badger but its chain is not strong. Some of the people of knowledge disliked eating badger. This is the view of Ibn Al-Mubarak. Yahya bin Al-Qattan said: "Jarir bin Hazm reported this Hadith from 'Abdullah bin 'Ubaid bin 'Umair, from Ibn Abi 'Ammar, from Jabir, from 'Umar, as his saying. And the narration of Ibn Juraij (a narrator in the chain of this Hadith) is more correct. And Ibn Abi 'Ammar is 'Abdur-Rahman bin 'Abdullah bin Abi 'Ammar Al-Makki.

باب مَا جَاءَ فِي أَكْلِ الضَّبُعِ ‏‏

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ، قَالَ قُلْتُ لِجَابِرٍ الضَّبُعُ صَيْدٌ هِيَ قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ آكُلُهَا قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ لَهُ أَقَالَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ ذَهَبَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِلَى هَذَا وَلَمْ يَرَوْا بِأَكْلِ الضَّبُعِ بَأْسًا وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَرُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حَدِيثٌ فِي كَرَاهِيَةِ أَكْلِ الضَّبُعِ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ وَقَدْ كَرِهَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ أَكْلَ الضَّبُعِ وَهُوَ قَوْلُ ابْنِ الْمُبَارَكِ ‏.‏ قَالَ يَحْيَى الْقَطَّانُ وَرَوَى جَرِيرُ بْنُ حَازِمٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُبَيْدِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنِ ابْنِ أَبِي عَمَّارٍ عَنْ جَابِرٍ عَنْ عُمَرَ قَوْلَهُ ‏.‏ وَحَدِيثُ ابْنِ جُرَيْجٍ أَصَحُّ ‏.‏ وَابْنُ أَبِي عَمَّارٍ هُوَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي عَمَّارٍ الْمَكِّيُّ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত (كتاب الأطعمة عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৯ | 1799 | ۱۷۹۹

পরিচ্ছদঃ খট্রাশ খাওয়া।

১৭৯৯। হান্নাদ (রহঃ) ... খুযায়মা ইবনু জায রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি খাট্টাশ খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, খাট্টাশ কেউ খায়? আমি তাঁকে নেকড়ে বাঘ খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, যার মাঝে মঙ্গল আছে এমন কেউ কি নেকড়ে খায়?

যঈফ, ইবনু মাজাহ ৩২৩৭, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৯২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই হাদীসটির সনদ শক্তিশালী নয়। ইসমাঈল ইবনু মুসলিম-আবদুল করিম ইবনু উমাইয়্যা সূত্র ছাড়া হাদীসটি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। কতক হাদীস বিশেষজ্ঞ ইসমাঈল এবং আবদুল করিম আবূ উমাইয়া-এর সমালোচনা করেছেন। এই আবদুল কারীম হলেন, আবদুল কারীম ইবনু কায়স। ইনই হলেন ইবনু আবূল-মুখারিক। পক্ষন্তরে আবদুল কারীম ইবনু মালিক জাযারী হলেন নির্ভরযোগ্য রাবী।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Khuzaimah bin Jaz':

"I asked the Messenger of Allah (ﷺ) about eating badger. He said: 'Does anyone eat badger?' So I asked him about eating wolf' He said: 'Does anyone who has any good in him eat wolf?'"

[Abu 'Eisa said:] The chain for this Hadith is not strong. We do not know of it except as a narration of Isma'il bin Muslim from 'Abdul-Karim Abi Umayyah. Some of the people of Hadith have criticized Isma'il and 'Abdul Karim Abi Umayyah. And he is 'Abdul-Karim bin Qais, who is Ibn Abi Al-Mukhariq. While 'Abdul-Karim bin Malik Al-Jazari is trustworthy.

باب مَا جَاءَ فِي أَكْلِ الضَّبُعِ ‏‏

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ حِبَّانَ بْنِ جَزْءٍ، عَنْ أَخِيهِ، خُزَيْمَةَ بْنِ جَزْءٍ قَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الضَّبُعِ فَقَالَ ‏"‏ أَوَيَأْكُلُ الضَّبُعَ أَحَدٌ ‏"‏ ‏.‏ وَسَأَلْتُهُ عَنْ أَكْلِ الذِّئْبِ فَقَالَ ‏"‏ أَوَيَأْكُلُ الذِّئْبَ أَحَدٌ فِيهِ خَيْرٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لَيْسَ إِسْنَادُهُ بِالْقَوِيِّ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ أَبِي أُمَيَّةَ ‏.‏ وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي إِسْمَاعِيلَ وَعَبْدِ الْكَرِيمِ أَبِي أُمَيَّةَ وَهُوَ عَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ قَيْسِ بْنِ أَبِي الْمُخَارِقِ وَعَبْدُ الْكَرِيمِ بْنُ مَالِكٍ الْجَزَرِيُّ ثِقَةٌ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত (كتاب الأطعمة عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৮০০ | 1800 | ۱۸۰۰

পরিচ্ছদঃ ঘোড়ার গোশত আহার।

১৮০০। কুতায়বা ও নাসর ইবনু আলী (রহঃ) ... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদিগকে ঘোড়ার গোশত আহার করিয়েছিলেন কিন্তু গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। সহীহ, ইরওয়া ৮/১৩৮, মুসলিমও অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আসমা বিনত আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আমর ইবনু দ্বীনার-জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হাম্মদ ইবনু যায়দ (রহঃ) এ হাদীসটি আমর ইবনু দ্বীনার-মুহাম্মদ ইবনু আলী-জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনু উয়ায়না রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ। মুহাম্মদকে [আল-বুখারী (রহঃ)] বলতে শুনেছি যে, সুফইয়ান ইবনু উয়ায়না (রহঃ) হাম্মাদ ইবনু যায়দ (রহঃ) অপেক্ষা অধিক স্মরণ শক্তি সম্পন্ন।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Jabir:

"The Messenger of Allah (ﷺ) allowed us to eat horse meat, and he forbade us from eating donkey meat."

He said: There is something on this from Asma' bin Abi Bakr. Abu 'Eisa said: This Hadith is Hasan Sahih. This is how it was reported by more than one narrator, from 'Amr bin Dinar from Jabir. Hammad bin Zaid reported it from 'Amr bin Dinar from Muhammad bin 'Ali, from Jabir. The narration of Ibn 'Uyainah (no. 1793) is more correct. He said: I heard Muhammad saying: "Sufyan bin 'Uyainah is better at memorizing than Hammad bin Zaid."

باب مَا جَاءَ فِي أَكْلِ لُحُومِ الْخَيْلِ ‏‏

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَنَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ أَطْعَمَنَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لُحُومَ الْخَيْلِ وَنَهَانَا عَنْ لُحُومِ الْحُمُرِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَهَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ جَابِرٍ ‏.‏ وَرَوَاهُ حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ عَنْ جَابِرٍ وَرِوَايَةُ ابْنِ عُيَيْنَةَ أَصَحُّ ‏.‏ قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ أَحْفَظُ مِنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [1791]  থেকে  [1794]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [1794]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।