• ৭১৪৬৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৭৪৪৭ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [1794] টি | অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [1711]  থেকে  [1720]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১১ | 1711 | ۱۷۱۱

পরিচ্ছদঃ ইমাম অর্থাৎ রাষ্ট্র প্রধান।

১৭১১। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাবধান, তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর তোমরা প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। জনগণের আমীরও একজন দায়িত্বশীল সে তার প্রজাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন পুরুষ তার পরিবারস্থ লোকদের ব্যাপারে দায়িত্বশীল সে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। একজন স্ত্রীলোক তার স্বামীর ঘরের তত্ত্বাবধায়ক সে এতদ্বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। গোলাম তার মালিকের ধন-সম্পদের ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক এতদ্বিষিয়ে সে জিজ্ঞাসিত হবে। শোন তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল আর তোমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে।

সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ ২৬০০, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭০৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা, আনাস ও আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনু উমার বর্ণিত এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি মাহফুজ নয়। আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটিও মাহফুজ নয়। ইবরাহীম ইবনু বাশশার রামাদি (রহঃ) এটিকে সুফইয়ান ইবনু উয়ায়না-বুরায়দা ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আবূ বুরদা-আবূ বুরদা-আবূ মূসা রাদিয়াল্লাহু আনহু নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনু ইবরাহীম ইবনু বাশশার (রহঃ) উক্ত সূত্রে আমাকে তা বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ (আল বুখারী) বলেছেন, একাধিক রাবী এটিকে সুফইয়ান-বুরায়দা ইবনু আবী বুরদা-নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে মুরসাল রূপে বর্ণনা করেছেন। এটি অধিকতর সহীহ।

মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ) ... মুআয ইবনু হিশাম-তার পিতা হিশাম-কাতাদা-আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা প্রত্যেক দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে তাঁর তত্ত্বাবধানের বিষয়গুলোকে জিজ্ঞাসা করবেন... মুহাম্মদ (আল বুখারী) (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, এটি মাহফুজ নয়। সহীহ হল এটি মুআয ইবনু হিশাম-তার পিতা হিশাম-হাসান-নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে মুরসাল রূপে বর্ণিত আছে।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Ibn 'Umar:

That the Prophet (ﷺ) said: "Indeed each of you is a shepherd and all of you will be questioned regarding your flock. The commander who is in authority over the Muslims is responsible and he will be questioned regarding his responsibility. The man is responsible over the inhabitants of his house and he is the one who will be questioned about them. The wife is responsible in her husband's house and she will be questioned about it. The slave is responsible regarding his master's property, and he will be questioned about it. Indeed each of you is a shepherd and each of you will be questioned about his flock."

[Abu 'Eisa said:] There are narrations on this topic from Abu Hurairah, Anas, and Abu Musa. The Hadith of Abu Musa is not preserved, and the Hadith of Anas is not preserved. And the Hadith of Ibn 'Umar is Hasan Sahih Hadith.

Ibrahim bin Bash-shar Ar-Ramadi reported it from Sufyan bin 'Uyainah, from Buraid bin 'Abdullah bin Abu Burdah, from Abu Burdah, from Abu Musa, from the Prophet (ﷺ).

Muhammad informed me of that, from Ibrahim bin Bash-Shar [Ar-Ramadi]. Muhammad said:
"More than one has reported it from Sufyan, from Buraid bin Abu Burdah [from Abu Burdah] from the Prophet (ﷺ) in Mursal form. This is more correct." Muhammad said: "Ishaq bin Ibrahim reported from Mu'adh bin Hisham, from his father, from Qatadah, from Anas, from the Prophet (ﷺ) who said: 'Indeed Allah will question everyone who is responsible about his charge.'" I heard Muhammad saying: "This is not preserved. It is only correct from Mu'adh bin Hisham from his father, from Qatadah, from Al-Hasan, from the Prophet (ﷺ), in Mursal form."

باب مَا جَاءَ فِي الإِمَامِ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ أَلاَ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَالأَمِيرُ الَّذِي عَلَى النَّاسِ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ وَالرَّجُلُ رَاعٍ عَلَى أَهْلِ بَيْتِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُمْ وَالْمَرْأَةُ رَاعِيَةٌ عَلَى بَيْتِ بَعْلِهَا وَهِيَ مَسْئُولَةٌ عَنْهُ وَالْعَبْدُ رَاعٍ عَلَى مَالِ سَيِّدِهِ وَهُوَ مَسْئُولٌ عَنْهُ أَلاَ فَكُلُّكُمْ رَاعٍ وَكُلُّكُمْ مَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَنَسٍ وَأَبِي مُوسَى ‏.‏ وَحَدِيثُ أَبِي مُوسَى غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَحَدِيثُ أَنَسٍ غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَحَدِيثُ ابْنِ عُمَرَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏
قَالَ حَكَاهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ بَشَّارٍ الرَّمَادِيُّ عَنْ سُفْيَانَ بْنِ عُيَيْنَةَ، عَنْ بُرَيْدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ أَخْبَرَنِي بِذَلِكَ، مُحَمَّدٌ عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ بَشَّارٍ، ‏.‏ قَالَ وَرَوَى غَيْرُ، وَاحِدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً وَهَذَا أَصَحُّ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ وَرَوَى إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ عَنْ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّ اللَّهَ سَائِلٌ كُلَّ رَاعٍ عَمَّا اسْتَرْعَاهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سَمِعْتُ مُحَمَّدًا يَقُولُ هَذَا غَيْرُ مَحْفُوظٍ وَإِنَّمَا الصَّحِيحُ عَنْ مُعَاذِ بْنِ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ قَتَادَةَ عَنِ الْحَسَنِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১২ | 1712 | ۱۷۱۲

পরিচ্ছদঃ ইমামের প্রতি আনুগত্য।

১৭১২। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া (রহঃ) উম্মূল হুসায়ন আহমাসিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে খুতবা দিতে শুনেছি। তখন তাঁর গায়ে একটি চাদর ছিল। তিনি এটিকে বগলের নিচে দিয়ে এনে পেচিয়ে রেখেছিলেন। আমি দেখছিলাম তাঁর বাহুর পেশী সঞ্চালিত হচ্ছিল আর তিনি বলছিলেনঃ হে লোক সকল, আল্লাহকে ভয় করবে। নাক-কান কাটা কোন হাবশী গোলামকেও যদি তোমাদের আমীর বানিয়ে দেওয়া হয় তবে তার কথা শুনবে এবং তার আনুগত্য করবে-যতদিন সে তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাবের বিধান কায়েম করবে। সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৮৬১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭০৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা ও ইরবায ইবনু সারিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটি হাসান-সহীহ। উম্মু হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এটি একাধিক সূত্রে বর্ণিত আছে।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Umm Al-Husain Al-Ahmasiyyah:

I heard the Messenger of Allah (ﷺ) delivering Khutbah during the farewell Hajj, and he was wearing a Burd which he had wrapped from under his armpit." She said: "I was look at muscle of his upper arm quivering and I heard him saying: O you people! Have Taqwa of Allah. If a mutilated Ethiopian slave is put in command over you, then listen to him and obey him, as long as he upholds the Book of Allah among you.'"

[Abu 'Eisa said:] There are narrations on this topic from Abu Hurairah and 'Irbad bin Sariyah. This Hadith is Hasan Sahih, it has been reported through other routes from Umm Husain.

باب مَا جَاءَ فِي طَاعَةِ الإِمَامِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى النَّيْسَابُورِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا يُونُسُ بْنُ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنِ الْعَيْزَارِ بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ أُمِّ الْحُصَيْنِ الأَحْمَسِيَّةِ، قَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَخْطُبُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَعَلَيْهِ بُرْدٌ قَدِ الْتَفَعَ بِهِ مِنْ تَحْتِ إِبْطِهِ قَالَتْ فَأَنَا أَنْظُرُ إِلَى عَضَلَةِ عَضُدِهِ تَرْتَجُّ سَمِعْتُهُ يَقُولُ ‏ "‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا اللَّهَ وَإِنْ أُمِّرَ عَلَيْكُمْ عَبْدٌ حَبَشِيٌّ مُجَدَّعٌ فَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا مَا أَقَامَ لَكُمْ كِتَابَ اللَّهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعِرْبَاضِ بْنِ سَارِيَةَ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنْ أُمِّ حُصَيْنٍ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১৩ | 1713 | ۱۷۱۳

পরিচ্ছদঃ সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌র নাফরমানীতে কোন মাখলূকের আনুগত্য হতে পারে না।

১৭১৩। কুতায়বা (রহঃ) ... ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যক মুসলিম ব্যক্তির কর্তব্য হল পছন্দ হোক বা অপছন্দ সর্বাস্থায় আমীরের কথা শুনা ও মান্য করা যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে আল্লাহর নাফরমানীর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তাকে নাফরমানীর নির্দেশ দেওয়া হলে তখন আর শোনা ও মান্য করা যাবে না।

সহীহ, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭০৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আলী, ইমরান ইবনু হুসায়ন ও হাকাম ইবনু আমর গিফারী রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Ibn 'Umar:

That the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Hearing and obeying is required from every Muslim man - in what he like and what he dislikes - as long as he is not ordered with disobedience. If he is ordered with disobedience, then no hearing or obeying is required of him."

[Abu 'Eisa said:] There are narrations on this topic from 'Ali, 'Imran bin Husain, and Al-Hakam bin 'Amr Al-Ghifari. This Hadith is Hasan Sahih.

باب مَا جَاءَ لاَ طَاعَةَ لِمَخْلُوقٍ فِي مَعْصِيَةِ الْخَالِقِ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ السَّمْعُ وَالطَّاعَةُ عَلَى الْمَرْءِ الْمُسْلِمِ فِيمَا أَحَبَّ وَكَرِهَ مَا لَمْ يُؤْمَرْ بِمَعْصِيَةٍ فَإِنْ أُمِرَ بِمَعْصِيَةٍ فَلاَ سَمْعَ عَلَيْهِ وَلاَ طَاعَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَالْحَكَمِ بْنِ عَمْرٍو الْغِفَارِيِّ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১৪ | 1714 | ۱۷۱٤

পরিচ্ছদঃ একটি প্রাণীকে আরেকটির বিরুদ্ধে উত্তেজিত করা এবং কোন প্রাণীর চেহারায় আঘাত করা ও দাগ লাগান।

১৭১৪। আবূ কুরায়ব (রহঃ) ... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাণীদের একটির বিরুদ্ধে আরেকটির উত্তেজিত করতে নিষেধ করেছেন। যঈফ, গায়াতুল মারাম ৩৮৩, যঈফ আবূ দাউদ ৪৪৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭০৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Abu Yahya:
From Mujahid from Ibn 'Abbas who said: "The Messenger of Allah (ﷺ) prohibited instigating fights between beasts."

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ التَّحْرِيشِ بَيْنَ الْبَهَائِمِ وَالضَّرْبِ وَالْوَسْمِ فِي الْوَجْهِ

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، عَنْ قُطْبَةَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ التَّحْرِيشِ بَيْنَ الْبَهَائِمِ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১৫ | 1715 | ۱۷۱۵

পরিচ্ছদঃ একটি প্রাণীকে আরেকটির বিরুদ্ধে উত্তেজিত করা এবং কোন প্রাণীর চেহারায় আঘাত করা ও দাগ লাগান।

১৭১৫। মুহাম্মদ ইবনু মুছান্না (রহঃ) ... মুজাহিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রাণীদের পরস্পর উত্তেজিত করা নিষেধ করেছেন।

যঈফ, গায়াতুল মারাম ৩৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭০৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই সূত্রে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর উল্লেখ করা হয় নি এবং একে কুতবা (১৭১৪ নং)-এর রিওয়ায়অত অপেক্ষা অধিকতর সহীহ বলা হয়। শারীক (রহঃ) এই হাদীসটিকে আ‘মাশ-মুজাহিদ-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। এতে আবূ ইয়াহইয়া রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উল্লেখ নাই। আবূ মুআবিয়া (রহঃ)-এটিকে আ‘মাশ-মুজাহিদ-নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই বিষয়ে তালহা, জাবির, আবূ সাঈদ ও ইকরাশ ইবনু যুয়ায়ব রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Abu Yahya reported from Mujahid:
"The Prophet (ﷺ) prohibited instigating fights between beasts." And he did not mention "from Ibn 'Abbas" in it.

It is said that this is more correct that the (previous) narration of Qutbah.

Sharik narrated this Hadith from Al-A'mash, from Mujahid, from Ibn 'Abbas, from the Prophet (ﷺ) similarly, but he did not mention "from Abu Yahya" in it. This was narrated to us by Abu Kuraib from Yahya bin Adam, from Sharik. Abu Mu'awiyah reported it from Al-A'mash, from Mujahid, from the Prophet (ﷺ) similarly. And Abu Yahya is Al-Qattat Al-Kufi, and it is said that his name is Zadhan.

[Abu 'Eisa said:] There are narrations on this topic from Talhah, Jabir, Abu Sa'eed, and 'Ikrash bin Dhuwaib.

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ التَّحْرِيشِ بَيْنَ الْبَهَائِمِ وَالضَّرْبِ وَالْوَسْمِ فِي الْوَجْهِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي يَحْيَى، عَنْ مُجَاهِدٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ التَّحْرِيشِ بَيْنَ الْبَهَائِمِ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ‏.‏ وَيُقَالُ هَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ قُطْبَةَ ‏.‏
وَرَوَى شَرِيكٌ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ عَنْ أَبِي يَحْيَى ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَبُو كُرَيْبٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ آدَمَ عَنْ شَرِيكٍ ‏.‏ وَرَوَى أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنِ الأَعْمَشِ عَنْ مُجَاهِدٍ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏ وَأَبُو يَحْيَى هُوَ الْقَتَّاتُ الْكُوفِيُّ وَيُقَالُ اسْمُهُ زَاذَانُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ طَلْحَةَ وَجَابِرٍ وَأَبِي سَعِيدٍ وَعِكْرَاشِ بْنِ ذُؤَيْبٍ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১৬ | 1716 | ۱۷۱٦

পরিচ্ছদঃ একটি প্রাণীকে আরেকটির বিরুদ্ধে উত্তেজিত করা এবং কোন প্রাণীর চেহারায় আঘাত করা ও দাগ লাগান।

১৭১৬। আহমাদ ইবনু মানী‘ (রহঃ) ... জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চেহারায় দাগ লাগাতে এবং মারতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ, ইরওয়া ২১৮৫, সহীহ আবূ দাউদ ২৩১০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭১০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Jabir:

"The Prophet (ﷺ) prohibited branding on the face and striking (it)."

[Abu 'Eisa said:] This Hadith is Hasan Sahih.

باب مَا جَاءَ فِي كَرَاهِيَةِ التَّحْرِيشِ بَيْنَ الْبَهَائِمِ وَالضَّرْبِ وَالْوَسْمِ فِي الْوَجْهِ

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا رَوْحُ بْنُ عُبَادَةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنِ الْوَسْمِ فِي الْوَجْهِ وَالضَّرْبِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১৭ | 1717 | ۱۷۱۷

পরিচ্ছদঃ বালিগ হওয়ার বয়সসীমা এবং কখন থেকে (বায়তুল মাল থেকে) তার ভাতা নির্ধারণ করা হবে।

১৭১৭। মুহাম্মদ ইবনু ওয়াযীর ওয়াসিতী (রহঃ) ... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমাকে কোন এক সৈন্য দলে অন্তর্ভুক্তির জন্য একবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সম্মুখে পেশ করা হলো। আমার বয়স তখন চৌদ্দ। তিনি আমাকে এর জন্য গ্রহণ করলেন না। পরবর্তী বছর আরেক সেনা দলে অন্তর্ভুক্তির জন্য আমাকে পেশ করা হল। আমার বয়স তখন পনের। তিনি আমাকে এর জন্য গ্রহণ করলেন।

নাফি‘ (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি উমার ইবনু আবদুল আযীয (রহঃ) এর কাছে বিবৃত করলে তিনি বললেন, এ হল বালিগ না বালিগের বয়সসীমা। এরপর তিনি যাদের পনের বছর হয়েছে তাদের জন্য বায়তুল মাল থেকে ভাতা নির্ধারনের ফরমান লিখে দিলেন।

সহীহ, ইবনু মাজাহ ২৫৪৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭১১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইবনু আবূ উমার (রহঃ) ... উবায়দুল্লাহ (রহঃ) থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণিত আছে। তবে এতে আছে যে, নাফি বলেন, উমার ইবনু আবদুল আযীয বলেছেন, এ হল না বালিগ ও যুদ্ধাপযোগী হওয়ার বয়সসীমা। তবে এতে ফরমান লিখে দেওয়ার কথা উল্লেখ নাই। সহীহ।

ইসহাক ইবনু ইউসুফ (রহঃ) এর রিওয়াযাতটি হাসান-সহীহ। সুফইয়ান ছাওরী (রহঃ) এর রিওয়ায়াত হিসাবে গারীব।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Nafi:

That Ibn 'Umar said: "I was reviewed before army, and I was fourteen years old, but he did not accept me. Then I was reviewed before him later in army while I was fifteen years old, and he accepted me."

Nafi said: "I narrated this Hadith to 'Umar bin 'Abdul-'Aziz and he said: 'This is the limit that distinguishes between youth and manhood.' The he wrote to give salaries to whoever reached fifteen years of age.

Another chain with similar, but he (Nafi') said:
"Umar [bin 'Abdul-'Aziz] said: 'This is the limit that distinguished between children and soldiers.'" And he did not mention him writing about the salary

[Abu 'Eisa said:] The Hadith of Ishaq bin Yusuf is a Hasan Sahih Gharib Hadith as narration of Sufyan Ath-Thawri

باب مَا جَاءَ فِي حَدِّ بُلُوغِ الرَّجُلِ وَمَتَى يُفْرَضُ لَهُ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْوَزِيرِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ عُرِضْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي جَيْشٍ وَأَنَا ابْنُ أَرْبَعَ عَشَرَةَ فَلَمْ يَقْبَلْنِي ثُمَّ عُرِضْتُ عَلَيْهِ مِنْ قَابِلٍ فِي جَيْشٍ وَأَنَا ابْنُ خَمْسَ عَشَرَةَ فَقَبِلَنِي ‏.‏ قَالَ نَافِعٌ فَحَدَّثْتُ بِهَذَا الْحَدِيثِ عُمَرَ بْنَ عَبْدِ الْعَزِيزِ فَقَالَ هَذَا حَدُّ مَا بَيْنَ الصَّغِيرِ وَالْكَبِيرِ ‏.‏ ثُمَّ كَتَبَ أَنْ يُفْرَضَ لِمَنْ بَلَغَ الْخَمْسَ عَشَرَةَ ‏.‏
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ إِلاَّ أَنَّهُ قَالَ قَالَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ هَذَا حَدُّ مَا بَيْنَ الذُّرِّيَّةِ وَالْمُقَاتِلَةِ ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ أَنَّهُ كَتَبَ أَنْ يُفْرَضَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ إِسْحَاقَ بْنِ يُوسُفَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১৮ | 1718 | ۱۷۱۸

পরিচ্ছদঃ কেউ যদি ঋনের বোঝা নিয়ে শহীদ হয়।

১৭১৮। কুতায়বা (রহঃ) ... আবদুল্লাহ ইবনু কাতাদা তার পিতা আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন লোকদের মাঝে দাঁড়ালেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে বললেন, আল্লাহর পথে জিহাদ এবং আল্লাহর পথে ঈমান হল সবচেয়ে আফযাল আমল। এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি যদি আল্লাহর পথে নিহত হই তবে কি আমার গুনাহগুলির কাফফারা হয়ে যাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, যদি তুমি সওয়াবের আশায় ধৈর্যের সঙ্গে পিছপা না হয়ে অগ্রবর্তী অবস্থায় টিকে থেকে আল্লাহর পথে শহীদ হও। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি কিভাবে কথাটা বলেছিলে? লোকটি বলল, আমি যদি আল্লাহর পথে শহীদ হই তবে কি আপনার মতে আমার গুনাহগুলির কাফফারা হবে কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হ্যাঁ, যদি তুমি সওয়াবের আশায় ধৈর্যের সঙ্গে পিছপা না হয়ে অগ্রবর্তী অবস্থায় শহীদ হও তবে এতে ঋণ ছাড়া বাকী সবগুলোর কাফফারা হয়ে যাবে। জিবরীল (আঃ) আমাকে এ কথা বলেছেন।

সহীহ, ইরওয়া ১১৯৭, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭১২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে আনাস, মুহাম্মদ ইবনু জাহাশ ও আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকে হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহিহ। কেউ কেউ এই হাদীসটিকে সাঈদ মাকবুরী-আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আনসারী প্রমুখ (রহঃ) সাঈদ মাকবুরী-আবদুল্লাহ ইবনু আবূ কাতাদা-তাঁর পিতা আবূ কাতাদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে-নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এটি সাঈদ মাকবুরী-আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রটি থেকে অধিকতর সহিহ।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated 'Abdullah bin Abi Qatadah:

That he heard is father, narating a Hadith, which he heard from the Messenger of Allah (ﷺ) in which he stood among them, mentioning to them that Jihad in the cause of Allah and faith in Allah were the most virtuous of deeds. Then a man stood and said: "O Messenger of Allah! If I were killed in the cause of Allah, would my sins forgiven ?" So the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Yes, If you are killed in Allah's cause, and you are patient, seeking the reward, advancing, not fleeing." Then the Messenger of Allah (ﷺ) said: "What was it that you said?" So he replied: "If I were killed in the cause of Allah, would my sins be removed (forgiven)?" So the Messenger of Allah (ﷺ) said: "Yes, If you are patient, seeking the reward, advancing, not fleeing - except debt. For Jibril said that to me."

[Abu 'Eisa said:] There are narrations on this topic from Anas, Muhammad bin Jahsh, And Abu Hurairah. This Hadith is Hasan Sahih.

Some of them reported this Hadith from Sa'eed Al-Maqburi, from Abu Hurairah, from the Prophet (ﷺ) similar to this. Yahya bin Sa'eed Al-Ansari and more than one narrator reported this from Sa'eed Al-Maqburi from 'Abdullah bin Abi Qatadah, from his fahter, from the Prophet (ﷺ). This is more correct than the narration of Sa'eed Al-Maqburi from Abu Hurairah.

باب مَا جَاءَ فِيمَنْ يُسْتَشْهَدُ وَعَلَيْهِ دَيْنٌ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ سَمِعَهُ يُحَدِّثُ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَامَ فِيهِمْ فَذَكَرَ لَهُمْ أَنَّ الْجِهَادَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالإِيمَانَ بِاللَّهِ أَفْضَلُ الأَعْمَالِ فَقَامَ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَيُكَفِّرُ عَنِّي خَطَايَاىَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ نَعَمْ إِنْ قُتِلْتَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ كَيْفَ قُلْتَ ‏"‏ ‏.‏ قُلْتُ أَرَأَيْتَ إِنْ قُتِلْتُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَيُكَفِّرُ عَنِّي خَطَايَاىَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ نَعَمْ وَأَنْتَ صَابِرٌ مُحْتَسِبٌ مُقْبِلٌ غَيْرُ مُدْبِرٍ إِلاَّ الدَّيْنَ فَإِنَّ جِبْرِيلَ قَالَ لِي ذَلِكَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ أَنَسٍ وَمُحَمَّدِ بْنِ جَحْشٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَرَوَى بَعْضُهُمْ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ هَذَا وَرَوَى يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيُّ وَغَيْرُ وَاحِدٍ نَحْوَ هَذَا عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭১৯ | 1719 | ۱۷۱۹

পরিচ্ছদঃ শহীদদের দাফন।

১৭১৯। আযহার ইবনু মারওয়ান বাসরী (রহঃ) ... হিশাম ইবন আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে নিহতের সংখ্যা তুলা হল। তিনি বললেন, বড় এবং প্রশস্ত করে কবর খনন কর এবং সৌজন্যমূলক আচরণ কর আর এক এক কবরে দুইজন তিনজন করে দাফন কর। কুরআন সম্পর্কে যে অধিক জ্ঞাত তাকে অগ্রবর্তী করবে। হিশাম বলেন, আমার পিতা (আমিরও) শহীদ হয়েছিলেন। তাঁকে দুইজনের আগে স্থাপন করা হয়েছিল।

সহীহ, ইবনু মাজাহ ১৫৬০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭১৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে খাব্বাব, জাবির ও আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহিহ। সুফইয়ান প্রমুখ (রহঃ) এই হাদীসটিকে আইয়ুব-হুমায়দ ইবনু হিলাল-হিশাম ইবনু আমির রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। রাবী আবূ দাহমা (রহঃ) এর নাম হল কিরফা ইবনু বুহায়স বা বায়হাস।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Hisham bin 'Amr:

"On the day of Uhud, the wounded complained to the Messenger of Allah, so he said: 'Dig, and make it wide, and appropriate, and bury two and three in one grave. And advance the one who knew the most Qu'ran.' My father had died so he placed before two men."

[Abu 'Eisa said:] There are narrations on this topic from Khabbab, Jabir, and Anas.

This Hadith is Hasan Sahih

Sufyan Ath-Thawri and others reported this Hadith from Ayyub, from Humaid bin Hilal, from Hisham bin 'Amir. And Abu Ad-Dahma's (a narrator in the chain) name is Qirfah bin Buhais or Baihas.

باب مَا جَاءَ فِي دَفْنِ الشُّهَدَاءِ

حَدَّثَنَا أَزْهَرُ بْنُ مَرْوَانَ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ، عَنْ أَبِي الدَّهْمَاءِ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ شُكِيَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْجِرَاحَاتُ يَوْمَ أُحُدٍ فَقَالَ ‏ "‏ احْفِرُوا وَأَوْسِعُوا وَأَحْسِنُوا وَادْفِنُوا الاِثْنَيْنِ وَالثَّلاَثَةَ فِي قَبْرٍ وَاحِدٍ وَقَدِّمُوا أَكْثَرَهُمْ قُرْآنًا ‏"‏ ‏.‏ فَمَاتَ أَبِي فَقُدِّمَ بَيْنَ يَدَىْ رَجُلَيْنِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ خَبَّابٍ وَجَابِرٍ وَأَنَسٍ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَرَوَى سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُهُ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ هِلاَلٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عَامِرٍ ‏.‏ وَأَبُو الدَّهْمَاءِ اسْمُهُ قِرْفَةُ بْنُ بُهَيْسٍ أَوْ بَيْهَسٍ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৬/ জিহাদ (كتاب الجهاد عن رسول الله ﷺ)
হাদিস নম্বরঃ ১৭২০ | 1720 | ۱۷۲۰

পরিচ্ছদঃ পরামর্শ করা।

১৭২০। হান্নাদ (রহঃ) ... আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের সময় যখন বন্দীদের আনা হল তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এই বন্দীদের সম্পর্কে তোমরা কি বল? পরে দীর্ঘ রিওয়ায়াত বর্ণনা করেন। যঈফ, ইরওয়া ৫/৪৭-৪৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৭১৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে উমার, আবূ আইয়ুব, আনাস, আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান। আবূ উবায়দা তার পিতা আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদীস শুনেন নি। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপেক্ষা নিজ সঙ্গীদের সাথে অধিক পরামর্শ গ্রহণকারী কাউকে দেখিনি।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Abu 'Ubaidah:

That 'Abdullah said: "On the Day of Badr when the captives were gathered, the Messenger of Allah (ﷺ) said: 'What do you (people) say about these captives?'" Then he mentioned the story in the lengthy Hadith.

[Abu 'Eisa said:] There are narrations of this topic from 'Umar, Abu Ayyub, Anas, and Abu Hurairah

This Hadith is Hasan, and Abu 'Ubaidah did not hear from his father. It has been reported that Abu Hurairah said: "None was more apt to seek council of his Companions than the Messenger of Allah (ﷺ)

باب مَا جَاءَ فِي الْمَشُورَةِ

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ، عَنْ أَبِي عُبَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ بَدْرٍ وَجِيءَ بِالأُسَارَى قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ مَا تَقُولُونَ فِي هَؤُلاَءِ الأُسَارَى ‏"‏ ‏.‏ فَذَكَرَ قِصَّةً فِي هَذَا الْحَدِيثِ طَوِيلَةً ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَأَنَسٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ ‏.‏ وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ وَأَبُو عُبَيْدَةَ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ أَبِيهِ ‏.‏ وَيُرْوَى عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَا رَأَيْتُ أَحَدًا أَكْثَرَ مَشُورَةً لأَصْحَابِهِ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [1711]  থেকে  [1720]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [1794]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।