• ৭০৪৫৯ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৬৯৭০ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [342] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [171]  থেকে  [180]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৭১ | 171 | ۱۷۱

১৭১। যে ব্যাক্তির কোন পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হল, অতঃপর তার নাম রাখল মুহাম্মাদ তার দ্বারা বরকত নেয়ার উদ্দ্যেশে। তাহলে সেই ব্যাক্তি ও তার নবজাতক জান্নাতী হবে।

হাদীসটি জাল।

এটি ইবনু বুকায়ের “ফাযলু মান ইসমুহু আহমাদ ওয়া মুহাম্মাদ” নামক (কাফ ১/৫৮) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তার সূত্র হতে ইবনুল জাওযী তার "মাওযুআত" গ্রন্থে (১/১৫৭) উল্লেখ করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ এটির সনদে সমালোচিত ব্যক্তি রয়েছেন।

এটির সনদে ইবনু বুকায়ের-এর শাইখ হামেদ ইবনু হাম্মাদ ইবনুল মুবারাক আল-আসকারী রয়েছেন। তার সম্পর্কে যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি ইসহাক ইবনু ইয়াসার আন-নাসীবী হতে বানোয়াট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনিই হচ্ছেন এ হাদীসটির সমস্যা। তার এ কথাকে হাফিয ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে সমর্থন করেছেন। এ কারণেই ইবনুল কাইয়্যিম বলেছেনঃ এ হাদীসটি বাতিল।

শাইখ আল-কারী তার “আল-মাওযু’আত” গ্রন্থে হাদীসটি (পৃঃ১০৯) উল্লেখ করে যাহাবীর কথাকে সমর্থন করেছেন। তা সত্ত্বেও হাদীসটিকে সুয়ূতী হাসান বলেছেন। তিনি মাকহুলকে নির্ভলশীল বলে কারণ দর্শিয়েছেন অথচ সমস্যা তার নীচের ব্যক্তি হামেদ-এর ক্ষেত্রে।

ইবনু আররাক "তানবীহুশ শারীয়াহ" গ্রন্থে (১/৮২) সুয়ূতীর সমালোচনা করেছেন, যেরূপ আমি তার সমালোচনা করেছি।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من ولد له مولود، فسماه محمدا تبركا به، كان هو ومولوده في الجنة
موضوع

-

رواه ابن بكير في " فضل من اسمه أحمد ومحمد " (ق 58 / 1) ومن طريقه أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (1 / 157) حدثنا حامد بن حماد بن المبارك العسكري حدثنا إسحاق بن يسار أبو يعقوب النصيبي حدثنا حجاج بن المنهال حدثنا حماد بن سلمة عن برد بن سنان عن مكحول عن أبي أمامة مرفوعا، وقال ابن الجوزي: في إسناده من تكلم فيه، ولم يزد، وتعقبه السيوطي في " اللآليء " (1 / 106) بقوله: قلت: هذا أمثل حديث ورد في الباب، وإسناده حسن، ومكحول من علماء التابعين وفقهائهم وثقه غير واحد، واحتج به مسلم في " صحيحه "، وروى له البخاري في " الأدب "، والأربعة، وثقه ابن معين والنسائي، وضعفه ابن المديني وقال أبو حاتم: ليس بالمتين، وقال مرة
كان صدوقا، وقال أبو زرعة: لا بأس به، والله أعلم
قلت: لقد أبعد السيوطي عفا الله عنه النجعة فأخذ يتكلم على بعض رجال السند موهما أنهم موضع النظر منه، مع أن علة الحديث ممن دونهم، ألا وهو حامد بن حماد العسكري شيخ ابن بكير قال الذهبي في " الميزان ": روى عن إسحاق بن يسار النصيبي خبرا موضوعا هو آفته، ثم ساق له هذا
ووافقه الحافظ ابن حجر في اللسان
ولذلك قال المحقق ابن القيم: إنه حديث باطل، كما نقله الشيخ القاري في " موضوعاته " عنه، (ص 109) وأقره
وغفل عن هذا التحقيق المناوي فأقر تحت الحديث الآتي (437) السيوطي على تحسينه فلا تغتر به، ثم وجدت ابن عراق قد تعقب السيوطي في " تنزيه الشريعة " (82 / 1) بمثل ما تعقبته به، إلا أنه زاد فقال: لكن وجدت له طريقا أخرى أخرجها ابن بكير أيضا والله أعلم
قلت: وسكت عليه! وفيه ثلاثة لم أجد من ذكرهم، فأحدهم آفته

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৭২ | 172 | ۱۷۲

১৭২। আল্লাহ তা’আলা দাঊদ (আঃ) কে বললেনঃ হে দাঊদ! আমার জন্য পৃথিবীতে একটি ঘর বানাও। অতঃপর তাকে যে ঘর বানানোর নির্দেশ দেয়া হল সেটির পূর্বেই দাঊদ তার নিজের জন্য একটি ঘর বানালেন। ফলে তার নিকট আল্লাহ ওহী করলেনঃ হে দাঊদ! তুমি আমার ঘর বানানোর পূর্বেই তোমার ঘর বানালে? তিনি বললেনঃ হে প্রভু! তুমি তোমার ফয়সালাতে এমনই বলেছ; যে ব্যাক্তি মালিক বনে যায় সে নিজের জন্য কিছু বস্তু নির্ধারিত করে নেয়। অতঃপর তিনি (দাঊদ) মসজিদ তৈরি করা শুরু করলেন। যখন প্রাচীর এর দেয়াল সমাপ্ত হল; তখন তা পড়ে গেল! ফলে তিনি সে বিষয়ে আল্লাহর নিকট অভিযোগ করলেন। আল্লাহ তার নিকট ওহী মারফত জানালেন, তুমি আমার জন্য যে ঘর তৈরি করবে তা সঠিকভাবে হবে না! (দাঊদ) বললেনঃ হে প্রভু কেন? (আল্লাহ) বললেনঃ তোমার সম্মুখে রক্ত প্রবাহিত হওয়ার কারণে। তিনি বললেনঃ হে প্রভু! সেটি কি তোমার ইচ্ছা মাফিক ছিল না? (আল্লাহ) বললেনঃ হ্যাঁ। কিন্তু তারাতো আমার দাস-দাসী এবং আমিই তো তাঁদেরকে দয়া করে থাকি। (এ কথা শোনার পর) তা তার উপর মুশকিল হয়ে গেল। ফলে আল্লাহ তার নিকট ওহী মারফত জানালেন তুমি চিন্তা করো না, কারন আমি তা তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছি তোমার পুত্র সুলায়মানের হাতে।

হাদীসটি বাতিল ও জাল।

হাদীসটি তাবারানী “মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৫/১২) এবং "মুসনাদুশ শামিয়ীন" গ্রন্থে (পৃঃ ৬২, ৯৯), ইবনু হিব্বান “আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (২/৩০০) এবং তার থেকে ইবনুল জাওযী "মাওযু'আত” গ্রন্থে (১/২০০) মুহাম্মাদ ইবনু আইউব ইবনে সুওয়াইদ হতে ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর ইবনুল জাওযী বলেছেনঃ হাদীসটি জাল।

ইবনু হিব্বান এ মুহাম্মাদ ইবনু আইউব সম্পর্কে বলেনঃ তিনি জাল হাদীস বর্ণনাকারী। সুয়ূতী “আল-লাআলী” (১/১৭০) গ্রন্থে তার এ কথাকে সমর্থন করে বলেছেনঃ এটিকে তাবারানী ও ইবনু মারদুবিয়া তার “আত-তাফসীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। “আল-মীযান” গ্রন্থের লেখক যাহাবী হাদীসটি জাল হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। আবু যুর'য়াহ বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু আইউবকে তার পিতার গ্রন্থসমূহে বানোয়াট কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটাতে দেখেছি। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন। দাউদ-এর ঘটনা সে সবেরই একটি বানোয়াট ঘটনা।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

قال الله لداود: يا داود ابن لي في الأرض بيتا، فبنى داود بيتا لنفسه قبل البيت الذي أمر به، فأوحى الله إليه: يا داود بنيت بيتك قبل بيتي؟ قال: أي رب هكذا قلت فيما قضيت: من ملك استأثر، ثم أخذ في بناء المسجد، فلما تم سور الحائط سقط، فشكا ذلك إلى الله، فأوحى الله إليه أنه لا يصح أن تبني لي بيتا! قال: أي رب ولم؟ قال: لما جرى على يديك من الدماء، قال: أي رب أولم يكن ذلك في هو اك؟ قال: بلى ولكنهم عبادي وإمائي وأنا أرحمهم، فشق ذلك عليه فأوحى الله إليه: لا تحزن فإني سأقضى بناءه على يد ابنك سليمان ...
باطل موضوع

-

أخرجه الطبراني في " المعجم الكبير " (5 / 12) و" مسند الشاميين " (ص 62 و 99 - المصورة)، وابن حبان في " الضعفاء " (2 / 300) وعنه ابن الجوزي في " الموضوعات " (1 / 200) ، عن محمد بن أيوب بن سويد حدثنا أبي حدثنا إبراهيم ابن أبي عبلة عن أبي الزاهرية عن رافع بن عمير مرفوعا، وقال ابن الجوزي
موضوع، محال، تتنزه الأنبياء عن مثله ويقبح أن يقال: أبيح له قتل قوم أو أمر بذلك، ثم أبعد بذلك عن الرضا، كيف وقد قال تعالى في حق العصاة: {ولا تأخذكم بهما رأفة في دين الله} قال ابن حبان: ومحمد بن أيوب يروي الموضوعات وأقره السيوطي في " اللآلئ " (1 / 170) وقال: قلت: أخرجه الطبراني وابن مردويه في " التفسير " وقد وافق صاحب " الميزان " على أنه موضوع، قال أبو زرعة: محمد بن أيوب رأيته قد أدخل في كتب أبيه أشياء موضوعة
وقال ابن حبان، كان يضع الحديث، والموضوع منه قصة داود، وأما سؤال سليمان الخصال الثلاث فورد من طرق أخرى
قلت: وقد حذفت السؤال منه وأشرت إليه بالنقط ( ... ) لأنه صحيح من حديث عبد الله بن عمرو، وقد صححه جمع كما هو مبين في " التعليق الرغيب " (2 /137) ، وراجع تعليقي على " صحيح ابن خزيمة " (2 / 288 / 1334) ، وقد أورده بتمامه الهيثمي (4 / 7 - 8) وقال: رواه الطبراني في " الكبير " وفيه محمد ابن أيوب ابن سويد الرملي وهو متهم بالوضع

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৭৩ | 173 | ۱۷۳

১৭৩। এক ঘণ্টা গবেষণা করা ষাট বছরের ইবাদতের থেকেও অতি উত্তম।

হাদীসটি জাল।

আবুশ শাইখ এটিকে “আল-আযমাহ” গ্রন্থে (১/২৯৭/৪২) উল্লেখ করেছেন এবং তার থেকে ইবনুল জাওযী “আল-মাওযু'আত” (৩/১৪৪) গ্রন্থে উসমান ইবনু আব্দিল্লাহ আল-কুরাশী সুত্রে ইসহাক ইবনু নাজীহ আল-মালতী হতে ... বর্ণনা করে বলেছেনঃ উসমান ও তার শাইখ তারা উভয়েই মিথ্যুক।

সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২২৭) তার সমালোচনা করে বলেছেন যে, ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে হাদীসটিকে শুধুমাত্র দুর্বল আখ্যা দিয়ে বলেছেন তার শাহেদ রয়েছে।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি (ইরাকী) দাইলামীর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন এবং তিনি তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (২/৪৬) নিজ সনদে সাঈদ ইবনু মায়সারা হতে বর্ণনা করেছেন, সাঈদ আনাস (রাঃ) হতে শুনেছেন, তাতে আনাস (রাঃ) বলেনঃ “রাত ও দিনের বিবর্তনের মাঝে এক ঘন্টা গবেষণা করা হাজার বছর ইবাদাত করা হতেও উত্তম।"

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি মওকুফ এবং এটিও জাল। এ সাঈদ সম্পর্কে যাহাবী বলেনঃ তার ব্যাপারটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি জাল হাদীস বর্ণনাকারী। তার সম্পর্কে হাকিম বলেনঃ তিনি আনাস (রাঃ) হতে জাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাকে ইয়াহইয়া আল-কাত্তান মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন।

অতএব এরূপ সনদের হাদীস শাহেদ হতে পারে না।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

فكرة ساعة خير من عبادة ستين سنة
موضوع

-

أخرجه أبو الشيخ في " العظمة " (1 / 297 / 42) وعنه ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 144) من طريق عثمان بن عبد الله القرشي حدثنا إسحاق بن نجيح الملطي حدثنا عطاء الخراساني عن أبي هريرة مرفوعا، وقال: عثمان وشيخه كذابان، وتعقبه السيوطي في " اللآليء " (2 / 227) بقوله: قلت
اقتصر العراقي في " تخريج الإحياء " على تضعيفه، وله شاهد
قلت: ثم ساق من رواية الديلمي وهذا في " مسنده " (2 / 46) بسنده إلى سعيد ابن ميسرة سمعت أنس بن مالك يقول: تفكر ساعة في اختلاف الليل والنهار خير من عبادة ألف سنة
قلت: هذا مع كونه موقوفا ومغايرا للفظ الحديث فهو موضوع أيضا، سعيد بن ميسرة قال الذهبي: مظلم الأمر، وقال ابن حبان: يروي الموضوعات، وقال الحاكم
روى عن أنس موضوعات، وكذبه يحيى القطان
قلت: فمثله لا يستشهد به ولا كرامة! ولذلك فقد أساء بذكره في جامعه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৭৪ | 174 | ۱۷٤

১৭৪। কোন মুসলিম ব্যাক্তি যখন ষাট বা নয় গজ বিশিষ্ট ঘর তৈরি করেবে, তখন আসমান হতে আহবানকারী তাকে ডাক দিয়ে বলবে, কোথায় যাচ্ছ হে সর্বাপেক্ষা বড় দুষ্কর্মকারী?

হাদীসটি জাল।

এটিকে আবূ নু’য়াইম "আল-হিলইয়াহ" গ্রন্থে (৩/৭৫) তাবারানীর সূত্রে বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি হাসান, ইয়াহইয়া ও আওযাঈ হতে গারিব হাদীস। ওয়ালীদ ইবনু মূসা আল-কুরাশী এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন। তিনি দুর্বল। তিনি ওয়ালীদ ইবনু মূসা আদ-দামেশকীর মত নন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ ওয়ালীদ হচ্ছেন কুরাশী। তার সম্পর্কে যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ দারাকুতনী বলেছেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। অন্যরা বলেছেনঃ তিনি মাতরূক। ওকায়লী ও ইবনু হিব্বান বলেছেনঃ তিনি য'ঈফ, তার বানোয়াট হাদীস রয়েছে। সম্ভবত এ হাদীসটির দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে। কারণ স্পষ্টত এটি জাল।

সুয়ূতী হাদীসটি “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষ্যকার মানাবী বলেছেনঃ যে লেখক (মুসান্নিফ) এটি বর্ণনা করবেন তিনি সর্বাপেক্ষা বড় গাফিল।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إذا بنى الرجل المسلم سبعة أو تسعة أذرع، ناداه مناد من السماء: أين تذهب يا أفسق الفاسقين؟
موضوع

-

أخرجه أبو نعيم في " الحلية " (3 / 75) من طريق الطبراني قال: حدثنا علي بن سعيد الرازي قال: حدثنا الربيع بن سليمان الجيزي قال: حدثنا الوليد بن موسى الدمشقي قال: حدثنا الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن الحسن عن أنس مرفوعا وقال: غريب من حديث الحسن ويحيى والأوزاعي، تفرد به الوليد بن موسى القرشي وهو ضعيف ليس كالوليد بن موسى الدمشقي
قلت: وابن موسى هذا القرشي قال الذهبي في " الميزان ": قال الدارقطني: منكر الحديث، وقواه أبو حاتم، وقال غيره: متروك، ووهاه العقيلي وابن حبان، وله حديث موضوع
قلت: ولعله يشير إلى هذا الحديث فإنه ظاهر الوضع لأن الارتفاع بالبناء القدر المذكور في هذا الحديث ليس ذنبا بله كبيرة حتى يحكم على فاعله بأنه أفسق الفاسقين، فقاتل الله الوضاعين ما أقل حياءهم وأجرأهم على النار
والحديث أورده السيوطي في " الجامع الصغير " بهذا اللفظ وبلفظ: " من بنى فوق عشرة أذرع ناداه مناد من السماء: يا عدوالله إلى أين تريد "، وقال: رواه الطبراني عن أنس، أما شارحه المناوي فقال: أغفل المصنف من خرجه، وعزاه في " الدرر " إلى الطبراني عن أنس، وفيه الربيع بن سليمان الجيزي أورده الذهبي في " ذيل الضعفاء " وقال: كان فقيها دينا لم يتقن السماع من ابن وهب
قلت: تعصيب الجناية بالجيزي مع أن فوقه من هو أشد ضعفا منه ليس من الإنصاف في شيء ألا وهو الوليد بن موسى القرشي فقد عرفت مما سبق أنه متهم، ثم إن الحسن هو البصري وهو على جلالة قدره مدلس ولم يصرح بسماعه من أنس فهو منقطع
ثم إن الحديث لم يورده الهيثمي في " المجمع " وإنما أورد فيه (4 / 70) ما نصه: وعن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه وسلم مر ببنية قبة لرجل من الأنصار فقال: " ما هذه "؟ قالوا: قبة، فقال النبي صلى الله عليه وسلم
" كل بناء، وأشار بيده على رأسه أكبر من هذا فهو وبال على صاحبه يوم القيامة "، رواه الطبراني في " الأوسط " ورجاله ثقات
قلت: هذا رواه أبو داود في " سننه " (3 / 347 و348) بنحوه من طريق آخر تبين فيما بعد أنه جيد، كما قال الحافظ العراقي، فنقلته إلى " الصحيحة " (8830)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৭৫ | 175 | ۱۷۵

১৭৫। যে ব্যাক্তি তার জন্য যে পরিমাণ যথেষ্ট তার চেয়ে উঁচু করে ইমারত তৈরি করবে, কিয়ামতের দিন তার কাঁধে তা বহন করার দ্বারা তাকে কষ্ট দেয়া হবে।

হাদীসটি বাতিল।

এটিকে তাবারানী (৩/৭১/২), ইবনু আদী (৩৩৩/১-২) ও আবু নু’য়াইম (৮/২৪৬) মুসাইয়্যাব ইবনু ওয়াযিহ সূত্রে তার শাইখ ইউসুফ ইবনু আসবাত হতে ... বর্ণনা করেছেন।

আবু নু’য়াইম ও ইবনু আদী বলেনঃ সাওরী হতে হাদীসটি গারীব। এটিকে মুসাইয়্যাব ইউসুফ হতে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ সনদটি ইউসুফের কারণে দুর্বল। তার সম্পর্কে আবু হাতিম বলেনঃ তিনি একজন আবেদ ব্যক্তি ছিলেন। তার গ্রন্থগুলো দাফন করে দিয়েছিলেন। তিনি বহু ভুল করতেন। তবে তিনি ব্যক্তি হিসাবে সৎ ছিলেন। কিন্তু তার হাদীস দলীল হিসাবে গ্রহণীয় নয়, যেমনভাবে “আল-জারহু...” গ্রন্থে (৪/২/৪১৮) এসেছে।

হাদীসটিকে সুয়ূতী “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে ও হায়সামী “আল-মাজমা” গ্রন্থে (৪/৭০) উল্লেখ করেছেন। হাদীসটি কোন সনদেই সহীহ নয়। এটির আরেকটি সমস্যা রয়েছে তা হচ্ছে সনদে আবু ওবায়দা ও তার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা। কারণ আবু ওবায়দা ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে শ্রবণ করেননি। হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহুইয়া” গ্রন্থে (৪/২০৪) এদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

যাহাবী মুসাইয়্যাব ইবনু ওয়াযিহ-এর জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে বলেনঃ এ হাদীসটি মুনকার। ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে (২/১১৫,১১৬) বলেনঃ আমি আমার পিতাকে সেই হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেটি মুসাইয়্যাব ইবনু ওয়াযিহ ইউসুফ ইবনু আসবাত হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি উত্তরে বলেনঃ এ হাদীসটি বাতিল, এ সনদে এর কোন ভিত্তি নেই।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من بنى بناء فوق ما يكفيه كلف يوم القيامة بحمله على عاتقه
باطل

-

أخرجه الطبراني (3 / 71 / 2) وابن عدي (333 / 1 - 2) وأبو نعيم (8 / 246) من طريق المسيب بن واضح حدثنا يوسف عن سفيان الثوري عن سلمة بن كهيل عن أبي عبيدة عن عبد الله بن مسعود مرفوعا، وقال أبو نعيم وابن عدي: غريب من حديث الثوري تفرد به المسيب عن يوسف، ثم رواه أبو نعيم (8 / 252) من طريق محمد يعني ابن المسيب حدثنا عبد الله بن خبيق حدثنا يوسف بن أسباط به
قلت: وهذا سند ضعيف من أجل يوسف بن أسباط قال أبو حاتم: كان رجلا عابدا، دفن كتبه، وهو يغلط كثيرا، وهو رجل صالح، لا يحتج به، كما في " الجرح " (4 / 2 / 418) ، والحديث أورده السيوطي في " الجامع " والهيثمي في " المجمع " (4 / 70) وقال: رواه الطبراني في " الكبير "، وفيه المسيب بن واضح وثقه النسائي وضعفه جماعة
قلت: قد تابعه عبد الله بن خبيق كما سبق، فعلة الحديث من شيخهما ابن أسباط، ثم إن له علة أخرى هي الانقطاع بين أبي عبيدة وأبيه عبد الله بن مسعود فإنه لم يسمع منه وأشار لهذا الحافظ العراقي فقال في " تخريج الإحياء " (4 / 204)
رواه الطبراني من حديث ابن مسعود بإسناد فيه لين وانقطاع، والحديث قال الذهبي في ترجمة المسيب: وهذا حديث منكر، وقال ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 115 و116) : سألت أبي عن حديث رواه المسيب بن واضح عن يوسف بن أسباط..
قلت: فذكره، قال: قال أبي: هذا حديث باطل لا أصل له بهذا الإسناد

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৭৬ | 176 | ۱۷٦

১৭৬। তোমরা আমাকে মহিলার দুধ পান করিয়ো না।

হাদীসটি মুনকার।

এটি ওয়াকী “আল-যুহুদ” গ্রন্থে (৩/৪৯৪/৪০৮) উল্লেখ করেছেন । এছাড়া ইবনু সা'দ “আত-তাবাকাত" গ্রন্থে (৬/৪৩) কায়স ইবনু রাবী' হতে অন্য দুটি সূত্রে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটির একাধিক বর্ণনাকারীর মধ্যে সমস্যা রয়েছে।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সনদ দুর্বল, অন্ধকারাচ্ছন্ন। বর্ণনাকারী ইবনু আবিশ শাইখ আল-মুহারেবীকে এ হাদীস ব্যতীত অন্য কোন হাদীসে চেনা যায় না। ইবনুল আসীর প্রমুখ এ ভাবেই তাকে সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এছাড়া বর্ণনাকারী আসিম ইবনু বুহায়েরের জীবনী পাচ্ছি না।

যাহাবী তার “আল-মীযান” গ্রন্থে আরেক বর্ণনাকরী ইমরুল কায়েস সম্পর্কে বলেন, আযদী বলেছেনঃ তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন যা সহীহ নয়। অনুরূপ কথা “লিসানুল মীযান” গ্রন্থেও বলা হয়েছে।

বর্ণনাকারী কায়স ইবনু রাবী' সম্পর্কে হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব" গ্রন্থে বলেনঃ তিনি সত্যবাদী । কিন্তু যখন বয়স্ক হয়ে গিয়েছিলেন, তখন তার পরিবর্তন সাধিত হয়। তার ছেলে যে হাদীস তার না সেটিকে তার উদ্ধৃতিতে হাদীস হিসাবে বর্ণনা করেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি অন্ধকারাচ্ছন্ন। এ সনদের হাদীসটি তার ছেলে কর্তৃক প্রবেশ ঘটানো হাদীসগুলোর একটি হওয়াটা অবাস্তব নয়।



হাদিসের মানঃ  মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

لا تسقوني حلب امرأة
منكر

-

أخرجه وكيع في " الزهد " (3 / 494 / 408) حدثنا قيس بن الربيع عن امرئ القيس عن عاصم بن بحير عن ابن أبي الشيخ المحاربي قال: أتانا رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: (نصركم الله يا معشر محارب! لا تسقوني ...)
وأخرجه ابن سعد في " الطبقات " (6 / 43) من طريقين آخرين عن قيس بن الربيع به، وزاد أحدهما: قال قيس بن الربيع: فرأيت امرأ القيس إذا أتى بشيراز (كذا) قال: حلاب امرأة هذا؟
قلت: وهذا إسناد ضعيف مظلم، ابن أبي الشيخ لا يعرف إلا في هذا الحديث بهذا الإسناد، أورده ابن الأثير وغيره هكذا في الصحابة
وعاصم بن بحير ـ بالحاء المهملة مكبرا أو مصغرا ـ كما في" الإكمال " وغيره ولم أجد له ترجمة، وامرؤ القيس، أورده في " الميزان " بروايته هذه عن عاصم وقال: قال الأزدي: حدث بخبر منكر لا يصح، وكذا في اللسان
وقيس بن الربيع، قال الحافظ في " التقريب ": صدوق، تغير لما كبر، وأدخل عليه ابنه ما ليس من حديثه فحدث به
قلت: فلا يبعد أن يكون هذا الحديث بهذا الإسناد المظلم مما أدخله عليه ابنه والله أعلم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৭৭ | 177 | ۱۷۷

১৭৭। যে ব্যাক্তি অট্টালিকা (ইমারত) তৈরি করল অত্যাচার ও সীমালংঘন না করে বা কোন গাছ লাগাল অত্যাচার ও সীমালংঘন না করে, তার সওয়াব অব্যাহত থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত দয়াময় আল্লাহ তাবারাক ওয়া তা’আলার সৃষ্টি থেকে একজন তা দ্বারা উপকৃত হবে।

হাদীসটি জাল।

এটি ইমাম আহমাদ (৩/৪৩৮), তাহাবী তার “আল-মুশকিল” গ্রন্থে (১/৪১৬৪১৭) ও তাবারানী “মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (২০/১৮৭/নং ৪১০, ৪১১) যুবান ইবনু ফায়েদ সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন।

হাদীসটি দুর্বল যুবান হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল হওয়ার কারণে, যেমনভাবে হাফিয ইবনু হাজার “আত-তাকরীব" গ্রন্থে বলেছেন। তাকে ইমাম আহমাদ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন। আর আবু হাতিম তাকে নির্ভরযোগ্য আখ্যা দিয়েছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من بنى بنيانا في غير ظلم ولا اعتداء، أو غرس غرسا في غير ظلم ولا اعتداء كان أجره جاريا ما انتفع به أحد من خلق الرحمن تبارك وتعالى
ضعيف

-

أخرجه أحمد (3 / 438) والطحاوي في " المشكل " (1 / 416 - 417) والطبراني في " المعجم الكبير " (20 / 187 / رقم 410 و411) من طريق زبان بن فائد عن سهل بن معاذ الجهني عن أبيه مرفوعا
وهذا ضعيف من أجل زبان فإنه ضعيف الحديث مع صلاحه وعبادته كما قال الحافظ في " التقريب "، والحديث قال في " المجمع " (4 / 70) : رواه أحمد والطبراني في " الكبير " وفيه زبان بن فائد ضعفه أحمد وغيره، ووثقه أبو حاتم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৭৮ | 178 | ۱۷۸

১৭৮। যে ব্যাক্তি তার ভাইকে কোন গুনাহের কারণে ভৎসনা করবে, সে ব্যাক্তি সে কর্ম না করা পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না।

হাদীসটি জাল।

এটিকে ইমাম তিরমিযী (৩/৩১৮), ইবনু আবিদ-দুনিয়া “যাম্মুল গীবা” গ্রন্থে, ইবনু আদী (২/২৯৬) ও খাতীবুল বাগদাদী (২/৩৩৯-৩৩০) মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেনঃ হাদীসটি হাসান গারীব। এটির সনদ মুত্তাসিল নয়। খালিদ ইবনু মি’দান মুয়ায ইবনু জাবাল (রাঃ)-কে পাননি।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তাহলে কীভাবে এটি হাসান। এ মুহাম্মাদ ইবনু হাসানকে ইবনু মাঈন ও আবু দাউদ মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন, যেমনটি যাহাবীর “আল-মীযান" গ্রন্থে এসেছে। অতঃপর তিনি এ হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

এ কারণেই সাগানী তার "আল-মাওযু'আত” গ্রন্থে (পৃঃ ৬) হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। তার পূর্বে ইবনুল জাওযী (৩/৮২) ইবনু আবিদ-দুনিয়ার সূত্রে বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়। মুহাম্মাদ ইবনু হাসান মিথ্যুক।

সুয়ূতী-“আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২৯৩) তার সমালোচনা করে বলেছেন যে, এটি তিরমিযী বর্ণনা করে বলেছেনঃ এটি হাসান গারীব এবং তার শাহেদ রয়েছে।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তার শাহেদটি মারফু নয়। তবুও এটির সনদটি দুর্বল সালেহ্ ইবনু বাশীর আল-মুররীর কারণে। তিনি দুর্বল যেমনভাবে “আত-তাকরীব” গ্রন্থে এসেছে। এটি শাহেদ হওয়ার যোগ্য নয় দুর্বল এবং মারফু না হওয়ার কারণে।

এছাড়া মারফূ' হিসাবেও শাহেদ এসেছে, কিন্তু সেটিও দুর্বল। দেখুন “মিশকাত” গ্রন্থের শেষে (৩য় খন্ড)।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من عير أخاه بذنب لم يمت حتى يعمله
موضوع

-

أخرجه الترمذي (3 / 318) وابن أبي الدنيا في " ذم الغيبة " وابن عدي (296 / 2) والخطيب في " تاريخه " (2 / 339 - 340) من طريق محمد بن الحسن بن أبي يزيد الهمداني عن ثور بن يزيد عن خالد بن معدان عن معاذ بن جبل مرفوعا، وقال الترمذي: هذا حديث حسن غريب، وليس إسناده بمتصل، وخالد بن معدان لم يدرك معاذ بن جبل
قلت: أنى له الحسن إذن؟ ! فإنه مع هذا الانقطاع فيه محمد بن الحسن هذا، كذبه ابن معين وأبو داود كما في " الميزان " ثم ساق له هذا الحديث، ولهذا أورده الصغاني في " الموضوعات " (ص 6) ومن قبله ابن الجوزي (3 / 82) ذكره من طريق ابن أبى الدنيا ثم قال: لا يصح محمد بن الحسن كذاب، وتعقبه السيوطي في " اللآليء " (2 / 293) بقوله: قلت: أخرجه الترمذي وقال: هذا حديث حسن غريب، وله شاهد
قلت: ثم ذكر الشاهد وهو من طريق الحسن قال: كانوا يقولون: " من رمى أخاه بذنب تاب إلى الله منه، لم يمت حتى يبتليه الله به "، وهو مع أنه ليس مرفوعا
إليه صلى الله عليه وسلم، فإن في سنده صالح بن بشير المري، وهو ضعيف كما في " التقريب " فلا يصح شاهدا لضعفه وعدم رفعه، وقد رواه عبد الله بن أحمد في " زوائد الزهد " (ص 281) قال أخبرت عن سيار حدثنا صالح المري قال: سمعت الحسن يقول: فذكره، وله شاهد آخر مرفوع ولكنه ضعيف فانظر أجوبة ابن حجر على
القزويني مع مقدمتي لها المنشورة في آخر " المشكاة " بتحقيقنا (ج 3 ص ح)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯ | 179 | ۱۷۹

১৭৯। মু’মিনের হাতিয়ার, দ্বীনের স্তম্ভ এবং আসমান ও যমীনের আলো হচ্ছে দো’আ।

হাদীসটি জাল।

এটিকে আবূ ইয়ালা (৪৩৯), ইবনু আদী (২/২৯৬), হাকিম (১/৪৯২) ও কাযাঈ (৪/২/১) হাসান ইবনু হাম্মদ আয-যাবী সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু হাসান হতে ... বর্ণনা করেছেন।

হাকিম বলেনঃ এটি সহীহ হাদীস। কারণ মুহাম্মাদ ইবনু হাসান হচ্ছেন আত-তাল। তিনি কূফীদের অন্তর্ভুক্ত একজন সত্যবাদী।  যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এটি যাহাবী হতে দুটি কারণে মারাত্মক ভুলঃ

১। এটির সনদে ইনকিতা অর্থাৎ বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। যা যাহাবী নিজে তার “আল-মীযান” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। সেটি হচ্ছে আলী ইবনু হুসাইন ও তার দাদা ‘আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)-এর মধ্যে।

২। এ মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান হামদানী। তিনি আত-তাল নন, সত্যবাদীও নন যেমনভাবে হাকিম বলেছেন। বরং তিনি হচ্ছেন মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনু আবী ইয়াযীদ আল-হামাদানী, তিনি মিথ্যুক। যার সম্পর্কে পূর্ববতী হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে। এর প্রমাণ হিসাবে নিম্নের বিষয়গুলো উল্লেখ করা যেতে পারেঃ

ক. যাহাবী নিজেই হাদীসটি তার (মুহাম্মাদের) জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন, তাকে ইবনু মাঈন প্রমুখ ব্যাক্তি কর্তৃক মিথ্যুক হিসাবে আখ্যায়িত করার পরে। অনুরূপভাবে ইবনু আদীও তার জীবনী বর্ণনা করার সময় হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। অতএব সুয়ূতী কর্তৃক হাদীসটি "জামেউস সাগীর” গ্রন্থে - করাটা ভুল।

খ. হায়সামী হাদীসটি “আল-মাজমা" গ্রন্থে (১০/১৪৭) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটিকে আবূ ইয়ালা বর্ণনা করেছেন। যার সনদে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনু আবী ইয়াযীদ রয়েছেন, তিনি মাতরূক।

গ.  মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আত-তাল-এর শাইখ হিসাবে জাফর ইবনু মুহাম্মাদকে উল্লেখ করা হয়নি। তাকে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-হামাদানীর শাইখ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘ. এ সনদে যে বলা হয়েছে মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান ইবনু যুবায়ের, যুবায়ের শব্দটি “আল-মুসতাদরাক” গ্রন্থের কোন বর্ণনাকারীর পক্ষ হতে বিকৃত করে উল্লেখ করা হয়েছে। যার কারণে হাকিম তাকে তাল হিসাবে উল্লেখ করেছেন। ফলে তিনি ভুল করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الدعاء سلاح المؤمن، وعماد الدين، ونور السموات والأرض
موضوع

-

أخرجه أبو يعلى (439) وابن عدي (296 / 2) والحاكم (1 / 492) والقضاعي (4 / 2 / 1) من طريق الحسن بن حماد الضبي حدثنا محمد بن الحسن بن الزبير الهمداني حدثنا جعفر بن محمد بن علي بن الحسين عن أبيه عن جده عن علي رضي الله عنه مرفوعا، وقال الحاكم: هذا حديث صحيح فإن محمد بن الحسن هذا هو التل وهو صدوق في الكوفيين ووافقه الذهبي وهذا منه خطأ فاحش لأمرين
الأول: أن فيه انقطاعا كما ذكره الذهبي نفسه في " الميزان " بين علي بن الحسين وجده علي بن أبي طالب
الآخر: أن محمد بن الحسن الهمداني هذا ليس هو التل الصدوق كما قال الحاكم، وإنما هو محمد بن الحسن بن أبي يزيد الهمداني الكذاب المذكور في لحديث المتقدم ويدل على هذا أمور

- أن الذهبي نفسه أورد الحديث في ترجمته بعد أن نقل تكذيبه عن ابن معين وغيره، وكذلك أورده ابن عدي في ترجمته، فإيراد السيوطي الحديث في " الجامع " خطأ
أن الحديث ذكره الهيثمي في " المجمع " (10 / 147) وقال: رواه أبو يعلى وفيه محمد بن الحسن بن أبي يزيد وهو متروك
أن محمد بن الحسن التل لم يذكر في شيوخه جعفر بن محمد، وإنما ذكر هذا في شيوخ محمد بن الحسن الهمداني
أن التل لم ينسب إلى همدان، وإنما نسب إليها ابن أبي يزيد، فالظاهر أن لفظة (الزبير) تحرفت على بعض الرواة في " المستدرك " من (أبي يزيد) ، وبناء عليه ذهب الحاكم إلى أنه التل فأخطأ والله أعلم.
والجملة الأولى من الحديث وردت من كلام الفضيل بن عياض، رواه السلفي في " الطيوريات " (64 / 1) ، ورويت في حديث آخر لا يصح

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৮০ | 180 | ۱۸۰

১৮০। তোমাদেরকে কি আমি নির্দেশনা দিব না এমন বস্তুর যা তোমাদেরকে তোমাদের শত্রু হতে রক্ষা করবে এবং তোমাদের জন্য রিযক বর্ধিত করবে? (তা হচ্ছে) তোমরা দিনে ও রাতে আল্লাহকে ডাকবে। কারন দো’আ হচ্ছে মুমিনের হাতিয়ার।

হাদীসটি দুর্বল।

এটি আবু ইয়ালা (৩/৩৪৬/১৮১২) সাল্লাম ইবনু সুলাইম সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু আবী হুমায়েদ হতে ... বর্ণনা করেছেন।

হায়সামী “মাজমাউয যাওয়াইদ” গ্রন্থে (১০/১৪৭) বলেনঃ এটির সনদে মুহাম্মাদ ইবনু আবী হুমায়েদ নামক বর্ণনাকারী আছেন। তিনি দুর্বল ।

এ হাদীসটি সহীহ না হওয়ার পিছনে আরো একটি কারণ আছে, সেটি হচ্ছে সাল্লাম ইবনু সুলাইম। তিনি হচ্ছেন তাবিল আল-মাদানী, তিনি মাতরূক, জাল বর্ণনা করার দোষে দোষী। তাকে উল্লেখ করে এ হাদীসের সমস্যা বর্ণনা করাই উত্তম। পূর্বে তার একটি জাল হাদীস উল্লেখ করা হয়েছে (নং ৫৮) সেখানে তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া তার আরেকটি দুর্বল হাদীসও বর্ণনা করা হয়েছে ২৬ নাম্বারে মুতাবায়াত থাকার কারণে। তবে এটি পূর্বেরটির ন্যায় শুধু দুর্বল নয়, বরং জালও বটে।

অতএব এ হাদীসটি কেউ সহীহ বললে তা গ্রহণযোগ্য নয়।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ألا أدلكم على ما ينجيكم من عدوكم ويدر لكم أرزاقكم؟ تدعون الله ليلكم ونهاركم، فإن الدعاء سلاح المؤمن
ضعيف

-

رواه أبو يعلى (3 / 346 / 1812) من طريق سلام بن سليم عن محمد بن أبي حميد عن محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله مرفوعا
وقال الهيثمي في " مجمع الزوائد " (10 / 147) : رواه أبو يعلى من حديث جابر بن عبد الله وفيه محمد بن أبي حميد وهو ضعيف
وأما قول الشيخ العجلوني في " الكشف " (1 / 403) عقب الحديث المتقدم وقول الهيثمي هذا: وقال ابن الغرس: قال شيخنا: صحيح، فلعله أراد باعتبار انجباره فتدبر
قلت: قد علمت أن الحديث الذي قبله موضوع فلا تأثير له في تقوية هذا الحديث الضعيف، كما هو مقرر في علم المصطلح
على أن له علة أخرى تبينت لي بعد أن وقفت على إسناده في " مسند أبي يعلى "، فإنه قال: حدثنا أبو الربيع حدثنا سلام يعني ابن سليم عن محمد بن أبي حميد عن محمد بن المنكدر عن جابر بن عبد الله به
قلت: سلام هذا هو الطويل المدني، وهو متروك متهم بالوضع فإعلال الحديث به أولى من إعلاله بمحمد بن أبي حميد وقد مضى له حديث موضوع برقم (58) وآخر ضعيف توبع عليه برقم (26) فالحديث موضوع أيضا كالذي قبله، وليس ضعيفا فقط كما كنا عللناه بابن أبي حميد من قبل بناء على عبارة الهيثمي فتنبه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [171]  থেকে  [180]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [342]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।