• ৬৭৫৪৭ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৬৯৭০ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [342] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [141]  থেকে  [150]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪১ | 141 | ۱٤۱

১৪১। তোমরা ব্যাভিচার (যেনা) থেকে বেঁচে থাক, কারন তাতে ছয়টি খাসালাত রয়েছে; যার তিনটি ঘটবে দুনিয়ায় আর তিনটি ঘটবে আখেরাতে। যেগুলো দুনিয়াতে ঘটবে সেগুলো হচ্ছে; তা (যেনা) উজ্জলতা নিয়ে যায়, দারিদ্রতার অধিকারী বানায় এবং রিযক কমিয়ে দেয়। আর যেগুলো আখেরাতে ঘটবে সেগুলো হচ্ছে; তা প্রভুর ক্রোধ, মন্দ হিসাব-কিতাব এবং স্থায়ী জাহান্নামী বানিয়ে দেয়।

হাদীসটি জাল।

এটিকে ইবনু আদী (২০/২৩) ও আবু নু’য়াইম (৪/১১১) আমাশ হতে মাসলামা ইবনু আলী সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ হাদীসটি আমাশ হতে নিরাপদ নয়, এটি মুনকার। আবু নু’য়াইম বলেনঃ মাসলামা আ'মাশ হতে এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল।

আমি (আলবানী) বলছিঃ মাসলামা মাতরূক হবার বিষয়ে সকলে একমত। বরং হাকিম বলেছেনঃ তিনি আওযাঈ এবং যুবায়দীর উদ্ধৃতিতে মুনকার ও জাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। যাহাবী তার বহু মুনকার হাদীস উল্লেখ করেছেন, এটি সেগুলোর একটি। তার অন্য একটি হাদীস সম্বন্ধে আবু হাতিম বলেছেনঃ এটি বাতিল, জাল।

ইবনুল জাওযী আলোচ্য হাদীসটিকে তার “আল-মাওযু'আত” গ্রন্থে (৩/১০৭) উল্লেখ করে বলেছেনঃ মাসলামা মাতরূক। তার মুতাবায়াতকারী আবান ইবনু নাহশাল হচ্ছেন নিতান্তই মুনকারুল হাদীস। ইবনু হিব্বান বলেনঃ হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

হাদীসটি অন্য কোন সূত্রেও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর মাধ্যমে বর্ণিত হয়নি



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إياكم والزنا فإنه فيه ست خصال: ثلاثا في الدنيا وثلاثا في الآخرة، فأما اللواتي في الدنيا فإنه يذهب بالبهاء، ويورث الفقر، وينقص الرزق، وأما اللواتي في الآخرة: فإنه يورث سخط الرب، وسوء الحساب والخلود في النار
موضوع

-

أخرجه ابن عدي (20 / 23) وأبو نعيم (4 / 111) من طريق مسلمة بن علي عن الأعمش عن شقيق عن حذيفة رضي الله عنه مرفوعا، وقال ابن عدي: وهذا عن الأعمش غير محفوظ وهو منكر، وقال أبو نعيم: غريب من حديث الأعمش، تفرد به مسلمة وهو ضعيف الحديث
قلت: وهو مجمع على تركه، بل قال الحاكم: روى عن الأوزاعي والزبيدي المناكير والموضوعات وقد ساق له الذهبي من مناكيره أحاديث كثيرة منها هذا، وآخر قال فيه أبو حاتم: باطل موضوع وسيأتي إن شاء الله برقم (145)
والحديث أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 107) من طريق أبي نعيم ثم قال: مسلمة متروك، وتابعه أبان بن نهشل عن إسماعيل بن أبي خالد عن الأعمش به وأبان منكر الحديث جدا، قال ابن حبان: ولا أصل لهذا الحديث، وتعقبه السيوطي في " اللآليء " (2 / 191) بما نقله عن أبي نعيم من اقتصاره على تضعيف مسلمة، وبأن البيهقي أخرجه في " شعب الإيمان " وقال: هذا إسناد ضعيف، مسلمة متروك وأبو عبد الرحمن الكوفي مجهول
قلت: أبو عبد الرحمن هذا وقع في رواية ابن الجوزي بين مسلمة والأعمش، وليس هو في سند " الحلية " ولا في سند الحديث في " الميزان " فالله أعلم
ثم رأيت الحديث في جزء من " أمالي الشريف أبي القاسم الحسيني " (55 / 1) وفيه أبو عبد الرحمن الكوفي هذا، وكذا هو في " الشعب " (4 / 379 / 5475) .ثم وجدت له طريقا آخر عن الأعمش أخرجه الواحدي في " الوسيط " (3 / 100 / 1) من طريق معاوية بن يحيى عن سليمان عن الأعمش
قلت: ومعاوية هذا هو الصدفي وهو ضعيف جدا، قال النسائي: ليس بثقة وضعفه هو في رواية وغيره، ولا يخفى أن تعقب السيوطي المذكور لا فائدة منه لأن كلام البيهقي وكذا أبي نعيم ليس نصا في أن الحديث غير موضوع حتى يعارض به حكم ابن الجوزي بوضعه لما أخبرناك غير مرة أن الموضوع من أنواع الحديث الضعيف
فتنبه، وقد روي هذا الحديث بلفظ آخر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪২ | 142 | ۱٤۲

১৪২। তোমরা ব্যাভিচার (যেনা) থেকে বেঁচে থাক, কারন তাতে ছয়টি খাসলত রয়েছে, যার তিনটি ঘটবে দুনিয়াতে আর তিনটি আখেরাতে। যেগুলো দুনিয়াতে ঘটবে সেগুলো হচ্ছেঃ তাতে (যেনাতে) চেহারার নুর লোপ পাবে, রিযক বন্ধ হয়ে যাবে এবং দ্রুত বিনাশ হয়ে যাবে। আর যেগুলো আখেরাতে ঘটবে সেগুলো হচ্ছেঃ প্রভুর ক্রোধ, মন্দ হিসাব-কিতাব এবং স্থায়ী জাহান্নামী হওয়া। তবে আল্লাহ যাকে চান তাকে বাদ দেন।

হাদীসটি জাল।

এটিকে খাতীব বাগদাদী তার “আত-তারীখ” (১২/৪৯৩) গ্রন্থে এবং তার থেকে ইবনুল জাওযী “আল-মাওযু"আত” গ্রন্থে (৩/১০৭) কা'য়াব ইবনু আমর আল-বালখী সূত্রে ... উল্লেখ করেছেন। আল-খাতীব ও ইবনুল জাওযী বলেছেনঃ কা'য়াব ইবনু আমর আল-বালখী ছাড়া এ হাদীসটির অন্যান্য বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন না। মুহাম্মাদ ইবনু আবুল ফাওয়ারিস বলেনঃ হাদীসের ক্ষেত্রে তার মন্দ অবস্থা ছিল। ওতায়কী বলেনঃ হাদীসের ক্ষেত্রে তার মধ্যে শিথিলতা ছিল।

সুয়ূতী ইবনুল জাওযীর সমালোচনা করে হাদীসটির অন্য একটি সনদ “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/১৯১) উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সেটির সনদে আবুদ-দুনিয়া নামক এক বর্ণনাকারী আছেন, তিনি মিথ্যুক। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি একজন মিথ্যুক। তিনি তিনশত হিজরীর পরের, তা সত্ত্বেও আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ) হতে শুনেছেন এরূপ দাবী করতেন। তার নাম উসমান ইবনু খাত্তাব আবূ আমর।

সুয়ূতী কর্তৃক মিথ্যুকের বর্ণনা দ্বারা শাহেদ পেশ করা প্রমাণ করছে যে, তিনি হাদীসের উপর হুকুম লাগানোর ক্ষেত্রে নরমপন্থীদের একজন। [শাহেদ শব্দেরব্যাখ্যা দেখুন (৫৬) পৃষ্ঠায়]



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إياكم والزنا فإن في الزنا ست خصال، ثلاث في الدنيا وثلاث في الآخرة، فأما اللواتي في دار الدنيا فذهاب نور الوجه، وانقطاع الرزق، وسرعة الفناء وأما اللواتي في الآخرة فغضب الرب، وسوء الحساب، والخلود في النار إلا أن يشاء الله
موضوع

-

أخرجه الخطيب (12 / 493) وعنه ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 107) من طريق كعب بن عمرو بن جعفر البلخي إملاءً: حدثنا أبو جابر عرس بن فهد الموصلي في الموصل: حدثنا الحسن بن عرفة العبدي: حدثني يزيد بن هارون عن حميد الطويل عن أنس مرفوعا، وقال الخطيب وتبعه ابن الجوزي: رجال إسناد هذا الحديث ثقات سوى كعب وكان غير ثقة، ثم روى عن محمد بن أبي الفوارس أنه قال: كان سيء الحال في الحديث، وعن العتيقي قال: فيه تساهل في الحديث
والحديث رواه من هذا الوجه الواحدي في " تفسيره " (ق 155 / 1) ، وتعقب ابن الجوزي السيوطي في " اللآليء " (2 / 191) بقوله: قلت: وله طريق آخر واه أخرجه أبو نعيم: حدثنا أبو بكر المفيد حدثنا أبو الدنيا الأشج عن علي بن أبي طالب رفعه، والله أعلم
قلت: لم يخجل السيوطي عفا الله عنا وعنه من أن يستشهد بهذا الإسناد الباطل فإن أبا الدنيا هذا كذاب أفاك لا يخفى حاله على السيوطي، فقد ترجمه الذهبي في " الميزان " فقال: كذاب طرقي، كان بعد الثلاث مئة ادعى السماع من علي بن أبي طالب واسمه عثمان بن خطاب أبو عمرو، حدث عنه محمد بن أحمد المفيد بأحاديث وأكثرها متون معروفة ملصوقة بعلي بن أبي طالب ... وما يعني برواية هذا الضرب ويفرح بعلوها إلا الجهلة، وقال في ترجمته من الأسماء: طير طرأ على أهل بغداد، وحدث بقلة حياء بعد الثلاث مئة عن علي بن أبي طالب فافتضح بذلك وكذبه النقادون
فإذا كان السيوطي لا يحكم بوضع حديث يرويه مثل هذا الرجل البين كذبه، فهو دليل واضح على مبلغ تساهله في حكمه على الأحاديث، فاعلم هذا ولا تنسه يفدك ذكرك إياه في مواطن النزاع

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪৩ | 143 | ۱٤۳

১৪৩। তোমরা ব্যাভিচার (যেনা) থেকে বেঁচে থাক, কারন তাতে চারটি খাসলত রয়েছে; সেগুলো চেহারা থেকে উজ্জলতা নিয়ে যায়, রিযক বন্ধ করে দেয়, দয়াময় আল্লাহকে রাগম্বিত করে এবং স্থায়ী জাহান্নামী বনায়।

হাদীসটি জাল।

এটি তাবারানী “আল-আওসাত” গ্রন্থে (২/১৪৪/২/৭২৩৪) এবং ইবনুল জাওযী “আল-মাওযু’আত” গ্রন্থে (৩/১০৬) ইবনু আদীর সূত্রে আমর ইবনু জামী' হতে ... বর্ণনা করেছেন। এ আমর একজন মিথ্যুক। তাকে ইবনুল জাওযী মিথ্যুক বলেছেন। ১২৬ নং হাদীসের মধ্যে তার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

এছাড়া তার একটি মুতাবা'য়াত মিলেছে। কিন্তু সে সনদটিতে তিনটি সমস্যা রয়েছে। ফলে তা হাদীসটিকে জাল হওয়া থেকে মুক্ত করতে পারেনি। তাতে রয়েছেন ইসমাঈল বাসরী; তিনি দুর্বল বর্ণনাকারী। মুখতার ইবনু গাসসান; তাকে কোন ব্যক্তিই নির্ভরযোগ্য বলেননি, এবং ইবরাহীম ইবনু ইসমাঈল; কে তার জীবনী বর্ণনা করেছেন তা পাচ্ছিনা। এছাড়া হাদীসটি ইবনু যুরায়েজ কর্তৃক আন্‌ আন্‌ শব্দে বর্ণনাকৃত। তিনি মুদাল্লিস। [মুতাবা’আত শব্দের ব্যাখ্যা (৫৭) পৃষ্ঠায়। ]



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إياكم والزنا فإن فيه أربع خصال: يذهب بالبهاء من الوجه، ويقطع الرزق، ويسخط الرحمن، والخلود في النار
موضوع

-

رواه الطبراني في " الأوسط " (2 / 144 / 2 / 7238 - بترقيمي) وابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 106) من رواية ابن عدي عن عمرو بن جميع عن ابن جريج عن عطاء عن ابن عباس مرفوعا، وقال الطبراني: لم يروه، عن ابن جريج إلا عمرو، وقال ابن الجوزي: عمرو كذاب، وهو كما قال الهيثمي في " المجمع " (6 / 255) : رواه الطبراني في " الأوسط " وفيه عمرو بن جميع وهو متروك، وأما السيوطي فتعقبه في " اللآليء " (2 / 189) بقوله: قلت: أخرجه الطبراني في " الأوسط "، وبناء على هذا التعقيب الذي لا يسمن ولا يغني من جوع أورد السيوطي الحديث في " الجامع " برواية الطبراني وابن عدي فتعقبه الشارح المناوي بعد أن ذكر تعقب السيوطي لابن الجوزي فقال: وهو تعقب أو هى من بيت العنكبوت لأن ابن جميع الذي حكم بوضع الحديث لأجله في سند الطبراني أيضا فما الذي صنعه؟
! ثم وجدت له متابعا فقال أبو سعيد بن الأعرابي في " معجمه " (99 / 2) أنبأنا إبراهيم بن إسماعيل الطلحي أبو إسحاق الكوفي يعرف بابن جهد، أنبأنا مختار بن غسان قال سمعت إسماعيل بن مسلم عن ابن جريج به
قلت: ومن طريق ابن الأعرابي رواه ابن الحمامي الصوفي في " منتخب من مسموعاته " (34 / 2) ، وهذا السند خير من الذي قبله، ولكنه معلول من وجوه ثلاثة: الأول: إسماعيل هذا هو البصري ثم المكي ضعيف
الثاني: مختار بن غسان لم يوثقه أحد
الثالث: إبراهيم بن إسماعيل لم أجد من ترجمه نعم ذكره ابن حبان (في الثقات) (80 / 88) ثم إن مدار السندين على ابن جريج وقد عنعنه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪৪ | 144 | ۱٤٤

১৪৪। লোকেদের মাঝে সর্বাপেক্ষা মিথ্যুক হচ্ছে বস্ত্রাদিতে রংকারীরা এবং অলঙ্কারাদী প্রস্তুত কারীরা।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি তায়ালীসী তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (১/২৬২) হুমাম-এর মাধ্যমে ফারকাদ আস-সাবখী হতে ... উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ইবনু মাজাহ (২/৬), ইমাম আহমাদ (২/২৯২,৩২৪,৩৪৫) ও আবূ সাঈদ ইবনুল আরাবী তার “আল-মুজাম" গ্রন্থে (২/৭৮) বিভিন্ন সূত্রে হুমাম হতে বর্ণনা করেছেন। এ ফারকাদ ব্যতীত এটির সনদের সকলেই নির্ভরযোগ্য। এ ফারকাদ সম্পর্কে আবু হাতিম বলেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে শক্তিশালী নন। নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম বুখারী তার সম্পর্কে বলেনঃ তার হাদীসে মুনকার রয়েছে। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে তার মুনকার হাদীসগুলো উল্লেখ করেছেন। সেগুলোর প্রথমটি হচ্ছে এটি।

এ জন্য ইবনুল জাওযী “আল-ইলাল” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়। ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে (২/২৭৮) অন্য একটি সূত্রে হাদীসটি ভিন্ন ভাষায় বর্ণনা করেছেন। এ সনদে ইয়াহইয়া ইবনু সালাম রয়েছেন, তিনি উসমান ইবনু মুকসিম হতে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ আমার পিতা বলেছেন যে, এ হাদীসটি মিথ্যা। এ উসমান হচ্ছেন বাররী, তাকে ইবনু মাঈন এবং জুযজানী মিথ্যুক বলেছেন।

এছাড়াও দারাকুতনী ইয়াহইয়া ইবনু সালামকে দুর্বল বলেছেন।

অন্য একটি ইবনু আদী হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। যাতে মুহাম্মাদ ইবনু ইউনুস আল-কুদায়মী রয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেছেনঃ কুদায়মীর বিষয়টি এতই স্পষ্ট যে, তার দুর্বলতা বর্ণনা করার কোন প্রয়োজনীয়তাই নেই। একথা দ্বারা তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি একজন মিথ্যুক, হাদীস জালকারী।

তাছাড়া ইবনু আদী মুহাম্মাদ ইবনু ওয়ালীদ ইবনে আবান সূত্রেও হাদীসটি বর্ণনা (২/৩১৫) করেছেন। কিন্তু এ সনদটি বাতিল। কারণ ইবনুল ওয়ালীদ আল-কালানিসী হাদীস জাল করতেন।

ইবনু তাহের হাদীসটি “তাযকেরাতুল মাওযুআত” গ্রন্থে (পৃঃ ১৫) উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أكذب الناس الصباغون والصواغون
موضوع

-

أخرجه الطيالسي في " مسنده " (1 / 262 من ترتيب المسند) قال: حدثنا همام عن فرقد السبخي عن يزيد بن عبد الله الشخير عن أبي هريرة مرفوعا، وكذا أخرجه ابن ماجه (2 / 6) وأحمد (2 / 292، 324، 345) وأبو سعيد بن الأعرابي في " معجمه " (78 / 2) من طرق عن همام به، وهذا إسناد رجاله كلهم ثقات غير فرقد هذا وهو أحد زهاد البصرة، قال أبو حاتم: ليس بقوي في الحديث
وقال النسائي: ليس بثقة، وقال البخاري: في حديثه مناكير كذا في " الميزان " ثم ساق له من مناكيره أحاديث هذا أولها! ولهذا أورده ابن الجوزي في " العلل " وقال: لا يصح، وللحديث طريق أخرى رواه ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 278) من طريق يحيى بن سلام عن عثمان بن مقسم عن نعيم بن المجمر عن أبي هريرة مرفوعا بلفظ: " أكذب الكاذبين الصياغ "، ثم قال: قال أبي هذا حديث كذب، وعثمان هو البري ويحيى بن سلام هو الذي روى عنه عبد الحكم بصرى وقع إلى مصر
قلت: زاد في ترجمته من " الجرح والتعديل " (4 / 2 / 155) : وهو صدوق
وأما الدارقطني فضعفه، وقال ابن عدي: يكتب حديثه مع ضعفه، وأما عثمان البري فقد كذبه ابن المعين والجوزجاني، فهو علة هذه الطريق، وقد ساق الذهبي في ترجمته هذا الحديث
وله طريق ثالث عن أبي هريرة، رواه ابن عدي (316 / 2) عن محمد بن يونس الكديمي حدثنا أبو نعيم الفضل بن دكين حدثنا الأعمش عن أبي صالح عن أبي هريرة به وقال: والكديمي أظهر أمرا من أن يحتاج أن يبين ضعفه
قلت: يشير بذلك إلى أنه كذاب وضاع
وللحديث شاهد أخرجه ابن عدي (315 / 2) عن محمد بن الوليد بن أبان حدثنا هدبة قال حدثنا همام عن قتادة عن أنس مرفوعا، وقال: وهذا عن أنس بهذا الإسناد باطل، وابن الوليد القلانسي يضع الحديث، والحديث أورده ابن طاهر في " تذكرة الموضوعات " (ص 15) من الطريقين الأولين، وقال ابن القيم رحمه الله: الحس يرد هذا الحديث، فإن الكذب في غيرهم أضعافه فيهم، كالرافضة فإنهم أكذب خلق الله والكهان والطرقية والمنجمون، وقد تأوله بعضهم على أن المراد بالصباغ الذي يزيد في الحديث ألفاظا تزينه، والصواغ الذي يصوغ الحديث ليس له
أصل، وهذا تكلف بارد لحديث باطل، وتعقبه الشيخ القاري في " موضوعاته " (ص 107) بقوله: وهذا غريب منه فإن الحديث بعينه رواه أحمد وابن ماجه عن أبي هريرة كما في الجامع الصغير
قلت: وهذا لا شيء فبعد ثبوت ضعف سند الحديث لا مجال للرد به على من انتقده من حيث معناه، وإنما يصح مثل هذا التعقيب فيما لوصح سند الحديث وهيهات هيهات

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪৫ | 145 | ۱٤۵

১৪৫। তিনি শুধুমাত্র তিন দিন পর রোগীর সেবা করতে (দেখতে) যেতেন।

হাদীসটি জাল।

এটি ইবনু মাজাহ (১/৪৩৯), আবূশ শাইখ “আল-আখলাক” গ্রন্থে (২৫৫) এবং ইবনু আসাকির (১৬/২২৬/২, ১৯/১৩১/১) মাসলামা ইবনু আলীর সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন।

এ মাসলামা সম্পর্কে ১৪১ নং হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি মাতরূক, মিথ্যার দোষে দোষী, মুনকার এবং জাল হাদীস বর্ণনাকারী।

এছাড়া ইবনু যুরায়েজ মুদাল্লিস। তিনি দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে তাদলীস করতেন।

ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে (২/৩১৫) বলেনঃ আমি আমার পিতাকে এ হাদীসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি উত্তরে বলেনঃ এটি একটি বাতিল, জাল হাদীস।

তার এ কথাকে যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে সমর্থন করেছেন। তা সত্ত্বেও সুয়ূতী এটি উল্লেখ করে "জামেউস সাগীর” গ্রন্থকে কালিমালিপ্ত করেছেন।

হাফিয ইবনু হাজার “তাহযবুত তাহযীব” গ্রন্থে মাসলামার মুনকারগুলো উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

كان لا يعود مريضا إلا بعد ثلاث
موضوع

-

أخرجه ابن ماجه (1 / 439) وأبو الشيخ في " الأخلاق " (255) وابن عساكر (16 / 226 / 2 / 19 / 131 / 1) من طريق مسلمة بن علي حدثنا ابن جريج عن حميد الطويل عن أنس مرفوعا
قلت: ابن جريج مدلس وقد عنعنه، وهو إنما يدلس عن الضعفاء! ومسلمة متهم كما سبق بيانه في الحديث (141) وهو آفة هذا الحديث فقال ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 315) : سألت أبي عن هذا الحديث فقال: هذا حديث باطل موضوع، قلت: ممن هو؟ قال: مسلمة ضعيف، وأقره الذهبي في " الميزان " ومع ذلك فقد
سود به السيوطي " جامعه "
وأخرجه البيهقي في " الشعب " وقال: إسناده غير قوي، وذكره الحافظ في " تهذيب التهذيب " من منكرات مسلمة، وقد حاول بعضهم أن يشد من عضد الحديث بحديث آخر بمعناه ولكنه لم ينجح لأنه موضوع كهذا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪৬ | 146 | ۱٤٦

১৪৬। রোগীর সেবা করতে হবে (দেখতে যেতে হবে) তিন দিন পর।

হাদীসটি জাল।

এটি তাবারনী “মু'জামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/২০০/১/৩৬৪৭) নাসর ইবনু হাম্মাদ (আবুল হারিস আল-ওররাক) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি রাওহ ইবনু জানাহ হতে ... বর্ণনা করেছেন। তাবারানী বলেনঃ আবুল হারিস এটিকে এককভাবে বর্ণনা করেছেন।

এ আবুল হারিস আল-ওররাক সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ كذاب তিনি মিথ্যুক।

ইমাম বুখারী বলেনঃ মুহাদ্দিসগণ তার সমালোচনা করেছেন।

আর রাওহ হচ্ছেন মিথ্যার দোষে দোষী।

ইবনুল জাওযী হাদীসটি তার “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে (৩/২০৫) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি সহীহ নয়, রাওহ এবং নাসর দু’জনই মাতরূক।

সুয়ূতী তার সমালোচনা করে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/৪০৩) হাদীসটির শাহেদ উল্লেখ করেছেন। এর সূত্রে নূহ ইবনু আবী মারইয়াম এবং আবান রয়েছেন। নূহ মিথ্যার দোষে দোষী আর আবানও নূহের মতই। তিনি হচ্ছেন ইবনু আবী আইয়াশ।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

لا يعاد المريض إلا بعد ثلاث
موضوع

-

رواه الطبراني في " الأوسط " (1 / 200 / 1 / 3647 ـ بترقيمي) عن نصر بن حماد أبي الحارث الوراق عن روح بن جناح عن الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة مرفوعا، وقال الطبراني: تفرد به أبو الحارث الوراق
قلت: وهذا سند لا يساوي شيئا، أبو الحارث هذا قال ابن معين: كذاب، وقال البخاري: يتكلمون فيه
وروح متهم ويأتي له حديث آخر قريبا
والحديث أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " من رواية ابن عدي بسنده عن نصر به إلا أنه قال: روح بن غطيف، بدل روح بن جناح، ثم قال ابن الجوزي ما ملخصه
لا يصح، روح متروك وكذا نصر
وقد تعقب ابن الجوزي السيوطي في " اللآليء " (2 / 403) فقال: قلت له شاهد، ثم ساق الحديث الذي قبله فلم يصنع شيئا لأنه حديث موضوع كما تقدم
ثم ذكر له شاهدا آخر من طريق نوح بن أبي مريم حدثنا أبان عن أنس مرفوعا
ونوح هذا متهم بالكذب وقد مضى، وكذا أبان وهو ابن أبي عياش

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪৭ | 147 | ۱٤۷

১৪৭। তোমরা বিবাহ কর তবে তালাক দিওনা; কারন তালাকের জন্য আরশ কেঁপে উঠে।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি খাতীব বাগদাদী “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (১২/১৯১) এবং তার সূত্রে ... ইবনুল জাওযী (২/২৭৭) উল্লেখ করেছেন।

এটির সনদে আমর ইবনু জামী' রয়েছেন। তিনি যুওয়াইবীর হতে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর ইবনুল জাওযী বলেছেনঃ এ আমর প্রসিদ্ধ বর্ণনাকারীদের উদ্ধৃতিতে মুনকার হাদীস এবং নিৰ্ভযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে জাল হাদীস বর্ণনা করতেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি একজন মিথ্যুক এবং যুওয়াইবীর নিতান্তই দুর্বল। এ কারণই দর্শিয়ে ইবনুল জাওযী বলেছেনঃ হাদীসটি সহীহ্ নয়। হাদীসটি সাগানী "আল-মাওযুআত" গ্রন্থে (পৃঃ ৭) উল্লেখ করেছেন। সুয়ূতী ইবনুল জাওযীর কথাকে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/১৭৯) সমর্থন করেছেন। তা সত্ত্বেও তিনি "জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

কীভাবে এ হাদীসটি সহীহ্ হয় যেখানে সালাফদের একদল তাদের স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন। এমনকি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেও হাফসা বিনতু উমার (রাঃ)-কে তালাক দিয়েছিলেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

تزوجوا ولا تطلقوا فإن الطلاق يهتز له العرش
موضوع

-

أخرجه الخطيب في " تاريخ بغداد " (12 / 191) ومن طريقه ابن الجوزي (2 /277) في ترجمة عمرو بن جميع عن جويبر عن الضحاك عن النزال بن سبرة عن علي بن أبي طالب مرفوعا، وقال: عمرو كان يروي المناكير عن المشاهير والموضوعات عن الأثبات
قلت: وهو كذاب وقد تقدم له أحاديث، وجويبر ضعيف جدا وتقدم له شيء، وبهذا أعله ابن الجوزي وقال: لا يصح
والحديث أورده الصغاني في " الموضوعات " (ص 8)
وأقر ابن الجوزي السيوطي في " اللآليء " (2 / 179) فالعجب منه كيف أورده من رواية ابن عدي في " الجامع الصغير " الذي اشترط في مقدمته أن يصونه مما تفرد به كذاب أو وضاع! وأعجب من هذا استدراك الشيخ العجلوني في " الكشف " (1 / 304) على حكم الصغاني عليه بالوضع بقوله: لكن عزاه في " الجامع الصغير " لابن عدي بسند ضعيف عن علي! وكيف لا يكون هذا الحديث موضوعا، وقد طلق جماعة من السلف بل صح أن النبي صلى الله عليه وسلم طلق زوجته حفصة بنت عمر رضي الله عنهما؟

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪৮ | 148 | ۱٤۸

১৪৮। (কাপড়ে) এক দিহরাম পরিমাণ রক্ত লাগলে পুনরায় সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করতে অন্য এক ভাষায় এসেছেঃ ‘যদি কাপড়ে এক দিহরাম পরিমাণ রক্ত থাকে, তাহলে কাপড়টি ধুয়ে নিতে হবে এবং সালাতটি পুনরায় আদায় করতে হবে।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি ইবনু হিব্বান "আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (১/২৯৮), দারাকুতনী তার "সুনান" গ্রন্থে (পৃঃ ১৫৪) এবং বাইহাকী (২/৪০৪) রাওহ ইবনু গুতাঈফ হতে ... বর্ণনা করেছেন। অতঃপর ইবনু হিব্বান বলেছেনঃ হাদীসটি বানোয়াট হওয়ার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই। রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটি বলেননি। কুফাবাসীরা এটি তৈরি করেছেন। রাওহ নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে জাল হাদীস বর্ণনা করতেন।

যায়লাঈ “নাসবুর রায়া” গ্রন্থে (১/২১২) এবং ইবনুল মুলাক্কান "আল-খুলাসা" গ্রন্থে (কাফ ৩০/১) তার (ইবনু হিব্বানের) কথাকে সমর্থন করেছেন। দারাকুতনী বলেনঃ যুহরী হতে রাওহ ইবনু গুতাঈফ ছাড়া অন্য কেউ এটিকে বর্ণনা করেননি। তিনি মাতরূকুল হাদীস। ইমাম বুখারী “তারীপুস সাগীর” গ্রন্থে (পৃ. ১৩৮) বলেনঃ তার অনুসরণ করা যায় না।

উকায়লী “আয-যুয়াফা” গ্রন্থে (১৩৩) হাদীসটি এ সূত্রে বর্ণনা করে বলেছেনঃ আমাকে আদাম হাদীসটি শুনিয়েছেন, তিনি বলেনঃ আমি বুখারীকে বলতে শুনেছি যে, এ হাদীসটি বাতিল এবং এ রাওহ মুনকারুল হাদীস।

উকায়লীর সূত্রে হাদীসটি ইবনুল জাওযী “আল-মাওযূ’আত” গ্রন্থে (২/৭৬) উল্লেখ করেছেন, আর সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে তাকে সমর্থন করেছেন। অতঃপর ইবনুল আররাকও “তানযীহুশ শারীয়াহ" গ্রন্থে (২/৪২৮) তাকে সমর্থন করেছেন। আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, তার পরেও সুয়ূতী কীভাবে হাদীসটি “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন!



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

تعاد الصلاة من قدر الدرهم من الدم، وفي لفظ: إذا كان في الثوب قدر الدرهم من الدم غسل الثوب وأعيدت الصلاة
موضوع

-

أخرجه ابن حبان في " الضعفاء " (1 / 298) ، والدارقطني في " سننه " (ص 154) والبيهقي (2 / 404) عن روح بن غطيف عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة مرفوعا، وقال ابن حبان: هذا خبر موضوع لا شك فيه ما قاله رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما اخترعه أهل الكوفة، وروح يروي الموضوعات عن الثقات وأقره الزيلعي في " نصب الراية " (1 / 212) وابن الملقن في " الخلاصة " (ق 30 / 1) ، وقال الدارقطني: لم يروه عن الزهري غير روح بن غطيف وهو متروك الحديث، وقال البخاري في " التاريخ الصغير " (ص 138) : ولا يتابع عليه، وروى البيهقي من طريق الحافظ ابن عدي بسنده إلى أحمد بن العباس قال: قلت لابن معين: تحفظ عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث؟ فقال: لا والله، ثم قال: ممن؟
قلت: حدثنا محرز بن عون، قال: ثقة، عمن؟ قلت: عن القاسم بن مالك المزني قال: ثقة، عمن؟ قلت: عن روح بن غطيف، قال: ها، قلت: يا أبا زكريا ما أرى أتينا إلا من روح بن غطيف؟ قال: أجل، قال ابن عدي: هذا لا يرويه عن الزهري فيما أعلمه غير روح بن غطيف وهو منكر بهذا الإسناد، وفيما بلغني عن يحيى الذهلي قال: أخاف أن يكون هذا موضوعا
والحديث رواه العقيلي في " الضعفاء " (133) من هذا الوجه ثم قال: حدثني آدم قال: سمعت البخاري يقول: هذا الحديث باطل، وروح هذا منكر الحديث، ومن طريق العقيلي أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (2 / 76) ، وأقره السيوطي في " اللآلىء " ثم ابن عراق في " تنزيه الشريعة " (428 / 2) فالعجب من السيوطي كيف أورده في " الجامع الصغير
وللحديث طريق أخرى بلفظ آخر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪৯ | 149 | ۱٤۹

১৪৯। রক্ত এক দিহরাম পরিমাণ হলে, তা ধুয়ে নিতে হবে এবং তার কারণে সালাত (নামায/নামাজ) পুনরায় আদায় করতে হবে।

হাদীসটি জাল।

খাতীব বাগদাদী হাদীসটি “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (৯/৩৩০) উল্লেখ করেছেন এবং তার থেকে ইবনুল জাওযীও (২/৭৫) নূহ ইবনু আবী মারইয়াম সূত্রে ... বর্ণনা করেছেন। এটির সনদটি জাল, নূহ ইবনু আবী মারইয়াম মিথ্যার দোষে দোষী।

ইবনুল জাওযী বলেনঃ নূহ মিথ্যুক। যায়লাঈ “নাসবুর রায়া” গ্রন্থে (১/২১২) এবং সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/৩) তার (ইবনুল জাওযীর) এ কথাকে সমর্থন করেছেন। তা সত্ত্বেও সুয়ূতী “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন!



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الدم مقدار الدرهم يغسل وتعاد منه الصلاة
موضوع

-

أخرجه الخطيب (9 / 330) ، وعنه ابن الجوزي أيضا (2 / 75) من طريق نوح بن أبي مريم عن يزيد الهاشمي عن الزهري عن أبي سلمة عن أبي هريرة مرفوعا
وهذا سند موضوع نوح بن أبي مريم متهم، وقال ابن الجوزي: نوح كذاب، وأقره الزيلعي في " نصب الراية " (1 / 212) والسيوطي في " اللآليء " (1 / 3) ، ومع ذلك ذكره في " الجامع "
واعلم أن هذا الحديث هو حجة الحنفية في تقدير النجاسة المغلظة بالدرهم، وإذا علمت أنه حديث موضوع يظهر لك بطلان التقييد به، وأن الواجب اجتناب النجاسة ولوكانت أقل من الدرهم لعموم الأحاديث الآمرة بالتطهير

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৫০ | 150 | ۱۵۰

১৫০। তিন ধরনের রোগীর সেবা করা যায় না (দেখতে যাওয়া যায় না); চোখ উঠা রোগী, দাঁতের রোগী এবং ফোড়াধারি রোগী।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/১১/১/১৫০), উকায়লী (৪২১) ও ইবনু আদী (২/৩১৯) মাসলামা ইবনু আলী আল-খুশানীর সূত্রে ... উল্লেখ করেছেন। তাবারানী ও ইবনু আদী বলেনঃ হাদীসটি আওযাঈ হতে মাসলামা ছাড়া অন্য কেউ বর্ণনা করেননি।

আমি (আলবানী) বলছিঃ মাসলামা মিথ্যার দোষে দোষী। তার সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি কিছুই না। বুখারী বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস। হাদীসটি ইবনুল জাওযী “আল-মাওযু'আত” গ্রন্থে (৩/২০৮) উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটি জাল (বানোয়াট)। এটিকে ইয়াহইয়া ইবনু আবী কাসীরের কথা হিসাবে বর্ণনা করা হয়। হাফিয ইবনু হাজার খুশানীর মুনকারগুলো “তাহযীবুত তাহযীব” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ আবু হাতিম বলেনঃ এটি বাতিল, মুনকার। সুয়ূতী ইবনুল জাওযীর সমালোচনা করে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/৪০৬) বলেছেনঃ মাসলামা মিথ্যার দোষে দোষী নন, তাকে বাইহাকী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হক হচ্ছে ইবনুল জাওযীর কথায়। কারণ এ মাসলামা জাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। দেখুন ১৪১ এবং ১৪৫ নং হাদীস। এ কারণে সুয়ূতী “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করে ঠিক কাজ করেননি।

বাইহাকী “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে (৬/৫৩৫/৯১৯০) বলেছেনঃ সঠিক হচ্ছে এই যে, এটি ইয়াহইয়ার কথা।

এটি জাল হওয়ার প্রমাণ এই যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোখ উঠা রোগী দেখতে যেতেন। যায়েদ ইবনু আরকাম (রাঃ)-এর চোখ উঠলে তিনি তাকে দেখতে যান। যেটি ‘আলী ইবনু জায়াদ তার “মুসনাদ” গ্রন্থে (২/৮৪৪/২৩৩৫) এবং হাকিম (১৩৪২) (তবে অন্য সূত্রে) বর্ণনা করেছেন এবং তিনি সেটিকে সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। যাহাবীও তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। তারা দু'জনে যেমনটি বলেছেন সেটি তেমনই।

এছাড়া এ যায়েদ-এর হাদীস হতেই এটির শাহেদ রয়েছে। যেটিকে হাকিম এবং যাহাবী সহীহ আখ্যা দিয়েছেন। সেটিকে আমি "সহীহ আবী দাউদ" এর মধ্যে (২৭১৬) উল্লেখ করেছি।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ثلاث لا يعاد صاحبهن: الرمد، وصاحب الضرس، وصاحب الدملة
موضوع

-

أخرجه الطبراني في " الأوسط " (1 / 11 / 1 / 150 - بترقيمي) والعقيلي (421) وابن عدي (319 / 2) من طريق مسلمة بن علي الخشني حدثني الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن أبي جعفر عن أبي هريرة مرفوعا، وقال الطبراني وابن عدي: لم يروه عن الأوزاعي إلا مسلمة
قلت: وهو متهم، كما يأتي وقال العقيلي: قال ابن معين: ليس بشيء
وقال البخاري: منكر الحديث
وأورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (3 / 208) من طريق العقيلي وقال
موضوع، والحمل فيه على مسلمة وإنما يروى من كلام يحيى بن أبي كثير
قلت: وقال العقيلي عقبه: هذا أولى، يعني أنه من كلام يحيى، وكذا قال البيهقي كما يأتي، وذكره الحافظ في " التهذيب " من منكرات الخشني وقال
قال أبو حاتم: هذا باطل منكر، وقد تعقب ابن الجوزي السيوطي في " اللآليء " (2 / 406) بقوله: قلت: مسلمة لم يتهم بالكذب، والحديث أخرجه الطبراني في " الأوسط " والبيهقي في " الشعب " وضعفه
قلت: الحق مع ابن الجوزي فإن مسلمة قد روى أحاديث موضوعة تقدم بعضها فانظر الحديث (141 و145) ، ولذلك لم يصب السيوطي بذكره في " الجامع "، وقد جزم البيهقي في " الشعب " (6 / 535 / 9190) بأن الصحيح أنه من قول يحيى
ومما يدل على وضعه أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يعود صاحب الرمد، قال أنس: عاد رسول الله صلى الله عليه وسلم زيد بن أرقم من رمد كان به
أخرجه علي بن الجعد في " مسنده " (2 / 844 / 2335) والحاكم (1 / 342) من طريق آخر وصححه ووافقه الذهبي وهو كما قالا وله شاهد من حديث زيد نفسه صححه الحاكم أيضا والذهبي، وهو مخرج في " صحيح أبي داود " (2716) ومن موضوعات الخشني

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [141]  থেকে  [150]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [342]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।