• ৭১৯৬১ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৮২৭৫ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [342] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [131]  থেকে  [140]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩১ | 131 | ۱۳۱

১৩১। তোমরা সুন্দর (সুশ্রী) চেহারা এবং চোখে কালো মনি বিশিষ্ট রূপ ধারন কর। কারন আল্লাহ সুশ্রী চেহারার অধিকারীকে জাহান্নামের শাস্তি দিতে লজ্জা পান।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি খাতীব বাগদাদী “আত-তারীখ” গ্রন্থে (৭/২৮২-২৮৩) হাসান ইবনু আলী ইবনু জাকারিয়ার জীবনী বর্ণনা করতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন। ইবনুল জাওযী হাদীসটি “আল-মাওযু'আত” গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেনঃ এটির সমস্যা হচ্ছে হাসান ইবনু আলী ইবনু জাকারিয়া আল-আদাবী। কারণ তিনি হাদীস জালকারী। সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/১১৩) বলেনঃ তিনি প্রসিদ্ধ জালকারীদের একজন।

শাইখ আল-কারী (পৃঃ ১১০) বলেনঃ فلعنة الله على واضعه الخبيث আল্লাহর অভিশাপ এ হাদীসের জালকারী খবীসের উপর।

হাদীসটি অন্য একটি সূত্রেও পেয়েছি, যাতে একাধিক সমস্যাধারী বর্ণনাকারী রয়েছেন। এ কারণে এ সনদটি পূর্বোল্লেখিত হাদীসের সনদের মতই অথবা তার চেয়েও নিকৃষ্ট। এতে রয়েছেনঃ

১। ইবরাহীম ইবনু সুলায়মান আয-যাইয়াত; তার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।

২। মুহাম্মাদ ইবনু তালহা আরুকী এবং তার থেকে বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু আবদিল্লাহ আল-কাযী; তাদের দু’জনকেই চিনি না।

৩। লাহেক ইবনু হুসাঈন; তিনি এ হাদীসের সমস্যা। কারণ তিনি একজন মিথ্যুক, জালকারী। হাফিয ইদরীসী বলেনঃ তিনি ছিলেন মিথ্যুক, নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে হাদীস জালকারী আমাদের যুগে তার মত মিথ্যুক দ্বিতীয় কাউকে চিনি না।

মিথ্যুক হাসান ইবনু আলী আল-আদাবীর হাদীসগুলোর একটি নিম্নের হাদীসটিও (দেখুন পরেরটি)



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

عليكم بالوجوه الملاح والحدق السود فإن الله يستحي أن يعذب وجها مليحا بالنار
موضوع

-

أخرجه الخطيب في " التاريخ " (7 / 282 ـ 283) في ترجمة الحسن بن علي بن زكريا بإسناده عن شعبة عن توبة العنبري عن أنس رفعه وأورده ابن الجوزي في " الموضوعات "، وقال: آفته الحسن بن علي بن زكريا العدوي يضع الحديث، قال السيوطي في " اللآليء " (1 / 113) : هو أحد المعروفين بالوضع، وقال الشيخ القاري (ص 110) : فلعنة الله على واضعه الخبيث، ثم وجدت له طريقا أخرى فقال لاحق بن محمد في " شيوخه "، (114 /1 / 2) : أخبرنا أبو مسعود حدثنا لاحق بن الحسين المقدسي حدثنا محمد بن عبد الله بن أبي درة القاضي حدثنا محمد بن طلحة العروقي حدثنا إبراهيم بن سليمان الزيات حدثنا شعبة عن توبة العنبري عن أنس بن مالك مرفوعا به
قلت: وهذا كالذي قبله أو شر منه، وفيه علل
الزيات هذا قال ابن عدي: ليس بالقوي
والعروقي، والراوي عنه محمد القاضي لم أعرفهما
لاحق هذا وهو آفة الحديث فإنه كذاب وضاع، وقال الإدريسى الحافظ: كان كذابا أفاكا يضع الحديث على الثقات، لا نعلم له ثانيا في عصرنا مثله في الكذب والوقاحة
وقال الشيرازي في " الألقاب ": حدثنا أبو عمر لاحق بن الحسين بن أبي الورد فذكر خبرا موضوعا ظاهر الكذب، متنه: " عليكم بالوجوه الملاح ... " فذكره
قلت: ومن أحاديث هذا العدوي الكذاب الحديث الآتي

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩২ | 132 | ۱۳۲

১৩২। সুন্দর চেহারার দিকে দৃষ্টিদান চোখকে উজ্জ্বল করে আর কুৎসিত চেহারার দিকে দৃষ্টিদান মুখমণ্ডলে ভীতির চিহ্নের উদ্ভব ঘটায়।

হাদীসটি জাল।

খাতীব বাগদাদী হাদীসটি (৩/২২৬) উল্লেখ করেছেন এবং তার সূত্রে ইবনুল জাওযী “আল-মাওযূ'আত” গ্রন্থে (১/১৬২-১৬৩) হাসান ইবনু আলী আল-আদাবীর মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। তার সম্পর্কে ১৩১ নং হাদীসে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়ও তার সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেনঃ সম্ভবত তিনি নির্ভরযোগ্যদের উদ্ধৃতিতে এক হাজারেরও বেশী জাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। ইবনু আদী বলেনঃ তিনিই হাদীসটি জাল করেছেন। ইবনুল জাওযী বলেনঃ আবু সাঈদই যে, হাদীসটি জাল করেছেন তাতে কোন সন্দেহ করছি না।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

النظر إلى الوجه الحسن يجلوالبصر، والنظر إلى الوجه القبيح يورث الكلح
موضوع

-

أخرجه الخطيب (3 / 226) ومن طريقه ابن الجوزي في " الموضوعات " (1 / 162 - 163) من طريق الحسن بن علي بن زكريا البصري حدثنا بشر بن معاذ حدثنا بشر بن الفضل عن أبيه عن أبي الجوزاء عن ابن عباس مرفوعا
ورواه محمد بن محمد بن أحمد بن عثمان الطرازي عن الحسن بن علي بن زكريا بإسناد آخر عن أنس مرفوعا، لكنها رواية أخطأ فيها الطرازي هذا وقد روى مناكير وأباطيل، والصواب عن الحسن بن زكريا الرواية الأولى كما قال الخطيب، والحسن هذا قال ابن عدي: عامة ما حدث به إلا القليل موضوعات وكنا نتهمه بل نتيقن أنه هو الذي وضعها، وقال ابن حبان: لعله حدث عن الثقات بالأشياء
الموضوعات ما يزيد على ألف حديث، وقال ابن الجوزى: لا نشك أن أبا سعيد هو الذي وضعه ومثله

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩৩ | 133 | ۱۳۳

১৩৩। সুন্দর চেহারার অধিকারিণী নারী এবং সুন্দর ঘাসের দিকে দৃষ্টিদান দৃষ্টিশক্তিকে বৃদ্ধি করে।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি আবূ নু’য়াইম "হিলইয়াহ" গ্রন্থে (৩/২০১-২০২) উল্লেখ করেছেন এবং তার থেকে দাইলামী (৪/১০৬) বর্ণনা করেছেন।

এটির সনদে ইবরাহীম ইবনু হাবীব ইবনে সালাম আল-মাক্কী রয়েছেন। তার জীবনী পাচ্ছিনা। একই অবস্থা তার থেকে বর্ণনাকারী আহমাদ ইবনু হুসাইনের ক্ষেত্রেও। কিন্তু তার মুতাবায়াত পাওয়া গেছে। মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াকূব এবং মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ কাযী বুরানী তার মুতাবায়াত করেছেন। তারা সকলেই ইবরাহীম হতে বর্ণনা করেছেন। হাদীসটি সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/১১৬) উল্লেখ করেছেন। এ বুরানীর জীবনী আল-খাতীব (১/২৯৫) উল্লেখ করে দারাকুতনীর উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ তার ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু তিনি দুর্বল শাইখদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। 

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসটির সমস্যা হচ্ছে ইবরাহীম। হাদীসটি যাহাবী "আল-মীযান" গ্রন্থে মুহাম্মাদ ইবনু আব্দির রহমান আবুল ফযলের জীবনি বর্ণনা করতে গিয়ে ইবরাহীমের সূত্রে উল্লেখ করে বলেছেনঃ خبر باطل হাদীসটি বাতিল।

সাগানী হাদীসটি “আহাদীসুল মাওযুআহ” গ্রন্থে (পৃঃ ৭) উল্লেখ করেছেন। ইবনুল কাইয়্যিম বলেনঃ এ হাদীসসহ অনুরূপ হাদীসগুলো যিন্দীকদের (নাস্তিকদের) জালকৃত।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সুয়ূতী তার “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে এটি এবং পরবতী হাদীসটি উল্লেখ করে গ্রন্থটিকে কালিমালিপ্ত করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

النظر إلى وجه المرأة الحسناء والخضرة يزيدان في البصر
موضوع

-

أخرجه أبو نعيم في " الحلية " (3 / 201 - 202) وعنه الديلمي (4 / 106) من طريق أحمد بن الحسين الأنصاري حدثنا إبراهيم بن حبيب بن سلام المكي حدثنا ابن أبي فديك حدثنا جعفر بن محمد عن أبيه عن جابر مرفوعا
إبراهيم هذا لم أجد من ترجمه وكذا الراوي عنه أحمد بن الحسين، لكن تابعه محمد ابن يعقوب عن أبي الشيخ في " التاريخ " (236) إلا أنه قال: حدثنا إبراهيم بن سلام المكي وتابعه أيضا محمد بن أحمد القاضي البوراني قال: حدثنا إبراهيم بن حبيب بن سلام به، رواه أبو نعيم أيضا كما ذكره السيوطي في " اللآليء " (1 /116) والبوراني هذا ترجمه الخطيب (1 / 295) وروي عن الدارقطني أنه قال فيه: لا بأس به، ولكنه يحدث عن شيوخ ضعفاء
قلت: فالظاهر أن إبراهيم شيخ البوراني في هذا الحديث من أولئك الشيوخ الضعفاء فهو آفة هذا الحديث وقد ذكره الذهبي في " الميزان " في ترجمة محمد بن عبد الرحمن أبي الفضل بسنده عن ابن أبي فديك به، وقال: خبر باطل
قلت: وأورده الصغاني في " الأحاديث الموضوعة " (ص 7) ، وقال ابن القيم
هذا الحديث ونحوه من وضع الزنادقة
قلت: وهو وما بعده مما سود به السيوطي " الجامع الصغير " وقد أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " ولكن بلفظ آخر

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩৪ | 134 | ۱۳٤

১৩৪। তিনটি বস্তু দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করেঃ সবুজ বর্ণ, প্রবাহিত পানি ও সুন্দর চেহারার দিকে দৃষ্টি দান।

হাদীসটি জাল।

ইবনুল জাওযী এটিকে “মাওযূ’আত” গ্রন্থে (১/১৬৩) ওয়াহাব ইবনু ওয়াহাব সূত্রে ... উল্লেখ করে বলেছেনঃ باطل، وهب كذاب হাদীসটি বাতিল ওয়াহাব একজন মিথ্যুক। 

সুয়ূতী “আল-লাআলী”  গ্রন্থে (১/১১৫-১১৭) তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ হাদীসটির একাধিক সূত্র রয়েছে। যা হাদীসটিকে জালের পর্যায় হতে বের করে নিয়ে আসে।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটির সুত্রগুলোতে হয় দুর্বল, না হয় মাজহুল, না হয় মিথ্যার দোষে দোষী বর্ণনাকারী রয়েছেন। ইবনুল কাইয়্যিম তার “আল-মানার” গ্রন্থে জাল হাদীস চেনার উপায় বলতে গিয়ে বলেছেনঃ (যা শাইখ আল-কারী তার “মাওযুআত” গ্রন্থে (পৃ. ১০৯) উল্লেখ করেছেন) হাদীসটি নাবীদের কথার সাথে পূর্ণ হবে না, এমনকি সাহাবীদের কথার সাথেও মিলবে না, যেমন বলে এ হাদিসটি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর শাইখ আল-কারী তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ এটি দুর্বল জাল নয়।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তাদের উভয়ের কথার মধ্যে কোন মতভেদ নেই। কারণ এটি সনদের দিক দিয়ে দুর্বল এবং মতনের (ভাষার) দিক দিয়ে জাল।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ثلاثة يزدن في قوة البصر: النظر إلى الخضرة، وإلى الماء الجاري، وإلى الوجه الحسن
موضوع

-

أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (1 / 163) من طريق وهب بن وهب القرشي عن جعفر بن محمد الصادق عن أبيه عن علي بن الحسين عن جده علي بن أبي طالب مرفوعا
وقال ابن الجوزي: باطل، وهب كذاب
وتعقبه السيوطي في " اللآليء " (1 / 115 - 117) بأن له طرقا أخرى يرقي الحديث بها عن درجة الوضع، ثم ساقها من حديث ابن عمرو وبريدة وعائشة وجابر وقد تقدم قبل هذا وأبي سعيد الخدري وابن عباس موقوفا عليه
قلت: وكل من هذه الطرق فيها ضعيف أو مجهول أو متهم، وبيان ذلك مما يطول به الكلام جدا فاكتفيت بالإشارة، والحكم على هذا الحديث وما في معناه بالوضع من قبل معناه أقوى من الحكم عليه به من جهة الإسناد، فقد قال ابن القيم رحمه الله في رسالته " المنار ": فصل: ونحن ننبه على أمور كلية يعرف بها كون الحديث موضوعا، ثم ذكر في بيان ذلك فصولا قيمة جدا نقلها عنه الشيخ على القاري في " خاتمة الموضوعات " قال (ص 109) : فصل: ومنها أن يكون الحديث لا يشبه كلام الأنبياء بل لا يشبه كلام الصحابة كحديث: " ثلاثة يزدن في البصر: النظر إلى الخضرة، والوجه الحسن، وهذا الكلام مما يجل عنه أبوهريرة وابن عباس بل سعيد بن المسيب والحسن، بل أحمد ومالك
وتعقبه الشيخ القاري بأنه ضعيف لا موضوع
قلت: لا تعارض بين قوليهما فهو ضعيف سندا موضوع متنا، وقد سبق لهذا بعض الأمثلة

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩৫ | 135 | ۱۳۵

১৩৫। যখন তোমরা কোন পাহাড় সম্পর্কে শুনবে যে, পাহাড়টি স্থানচ্যুত হয়েছে, তখন তোমরা তা বিশ্বাস করবে, আর যখন শুনবে কোন ব্যাক্তির চরিত্র পরিবর্তন হয়ে গেছে, তখন তোমরা তা বিশ্বাস করবে না। কারন সে চলবে সেই ছাঁচে যার উপর তাকে তৈরি করা হয়েছে।

হাদীসটি দুর্বল।

হাদীসটি ইমাম আহমাদ (৬/৪৪৩) যুহরীর সূত্রে আবুদ-দারদা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি মুনকাতি (বিচ্ছিন্ন)।

হায়সামী “মাজমাউয যাওয়াইদ” গ্রন্থে (৭/৬৯৬) এ কারণই দর্শিয়েছেন। মানাবী “শারহুল জামেইস সাগীর” গ্রন্থে তার অনুসরণ করে বলেনঃ হায়সামী বলেছেনঃ সনদের বর্ণনাকারীগণ সহীহার বর্ণনাকারী। কিন্তু যুহরী আবুদ-দারদা (রাঃ)-কে পায়নি। সাখাবীও বলেছেনঃ হাদীসটি মুনকাতি ।

আজলুনী “আল-কাশফ” গ্রন্থে (১/৮৭) বলেছেনঃ এটিকে সহীহ্ সনদে ইমাম আহমাদ উল্লেখ করেছেন। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার এই যে, তিনি অন্যত্র (১/৮২) উল্লেখ করে কোন হুকুম লাগাননি। অতঃপর তৃতীয় স্থানে (১/২৫৯) উল্লেখ করে “আল মাকাসিদ” গ্রন্থ হতে নকল করে বলেছেনঃ এটি মুনকাতি’। এ ঘটনা প্রমাণ করছে যে, আজলুনী একজন মুকাল্লিদ, নকল করে বর্ণনাকারী।

এ হাদীসটির মধ্যে জাবরিয়াদের আকীদার গন্ধ পাওয়া যায়। কারণ তাদের নিকট মুসলিম ব্যক্তি তার চরিত্র ভাল করার অধিকারী নয়। কেননা সে তার পরিবর্তন করতে সক্ষম নয়। অথচ চরিত্র ভাল করার জন্য হাদীসে তাগাদা এসেছে। যেমন রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ أنا زعيم ببيت في أعلى الجنة لمن حسن خلقه 'আমি সেই ব্যক্তির জন্য একটি ঘরের জিম্মাদার যে, তার চরিত্রকে সুন্দর করেছে।' আবু দাউদ (২/২৮৮) ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এটির সনদ সহীহ । এ হাদীসটি প্রমাণ করছে যে, আলোচ্য হাদীসটি মুনকার।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إذا سمعتم بجبل زال عن مكانه فصدقوا، وإذا سمعتم برجل تغير عن خلقه فلا تصدقوا به، وإنه يصير إلى ما جبل عليه
ضعيف

-

أخرجه أحمد (6 / 443) من طريق الزهري أن أبا الدرداء قال: بينما نحن عند رسول الله صلى الله عليه وسلم نتذاكر ما يكون إذ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم، الحديث
وهذا إسناد منقطع
وبه أعله الهيثمي في " مجمع الزوائد " (7 / 696) وتبعه المناوي في " شرح الجامع الصغير " فقال: قال الهيثمي: رجاله رجال الصحيح إلا أن الزهري لم يدرك أبا الدرداء، وقال السخاوي: حديث منقطع، وبه يعرف ما في رمز المؤلف لصحته
قلت: وكأن الشيخ العجلوني اغتر بالرمز المشار إليه فإنه قال في " الكشف " (1 / 87) ، رواه أحمد بسند صحيح "! ومن عجيب أمره أنه ذكره في موضع آخر (1 / 82) برواية أحمد وسكت عليه فلم يصححه، ثم أورده في مكان ثالث (1 /259) ونقل عن " المقاصد " أنه منقطع! ، وهذا من الأدلة الكثيرة على أن العجلوني مقلد ناقل، وهذا الحديث يستشم منه رائحة الجبر وأن المسلم لا يملك تحسين خلقه لأنه لا يملك تغييره! ، وحينئذ فما معنى الأحاديث الثابتة في الحض على تحسين الخلق كقوله صلى الله عليه وسلم: " أنا زعيم ببيت في أعلى الجنة لمن حسن خلقه " رواه أبو داود (2 / 288) وغيره في حديث
وسنده صحيح، فهذا يدل على أن حديث الباب منكر، والله أعلم

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩৬ | 136 | ۱۳٦

১৩৬। যে ব্যাক্তি কোন হাদীস বর্ণনা করবে। অতঃপর তার নিকট হাঁচি দেয়া হবে, সে ব্যাক্তি (তার কথাই) সত্য।

হাদীসটি বাতিল।

হাদীসটি তাম্মাম “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (২/১৪৮) উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে তিরমিযী, হাকিম, আবূ ইয়ালা, তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে এবং ইবনু শাহীন বাকিয়া সূত্রে মুয়াবিয়া ইবনু ইয়াহইয়া হতে ... বর্ণনা করেছেন। ইবনুল জাওযী “মাওযু'আত” গ্রন্থে ইবনু শাহীন-এর সূত্রে উল্লেখ করে (৩/৭৭) বলেছেনঃ এটি বাতিল। মুয়াবিয়া এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি কিছুই না। আব্দুল্লাহ ইবনু জাফার আল-মাদীনী আবু আলী তার মুতাবায়াত করেছেন, কিন্তু এ আব্দুল্লাহ মাতরূক।

সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২৮৬) কতিপয় হাদীস উল্লেখ করে তার সমালোচনা করেছেন। যেগুলোর কোনটি মারফু’ আবার কোনটি মওকুফ, আবার কোনটি “আমভাবে হাঁচি প্রদানকারীর ফযীলত বর্ণনায় এসেছে। সেগুলো এটির শাহেদ হতে পারে না যদিও সহীহ হয়। এছাড়া ইমাম নাবাবী কর্তৃক তার “আল-ফাতাওয়া” গ্রন্থে (পৃঃ ৩৬-৩৭) ‘এটির সনদ ভাল ও হাসান বলা এবং একমাত্র বাকিয়া ব্যতীত সকলে নির্ভরশীল; এছাড়া তিনি যখন শামীদের থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন তখন তার হাদীসকে অধিকাংশ মুহাদ্দিসগণ দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং মুয়াবীয়া শামী এ বক্তব্যটি তার ধারণা মাত্র। কারণ বাকিয়া তাদলীসের ব্যাপারে প্রসিদ্ধ। মুয়াবিয়া হতে আন আন শব্দে বর্ণনা করেছেন। নাসাঈ সহ আরো অনেকে বলেছেনঃ তিনি যখন বলবেনঃ حدثنا وأخبرنا আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তখন তিনি নির্ভরযোগ্য। একাধিক ব্যক্তি বলেছেনঃ তিনি যখন আন দিয়ে হাদীস বর্ণনা করবেন তখন তিনি গ্রহণযোগ্য নন। এ জন্য আবু মুসহের বলেছেনঃ বাকিয়ার হাদীসগুলো পরিচ্ছন্ন নয়, তার হাদীসগুলো হতে বেঁচে থাকুন।

যাহাবী বলেনঃ বাকিয়া দুর্বল এবং মুনকারের অধিকারী। মুয়াবীয়া নিতান্তই দুর্বল বর্ণনাকারী।

ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি হালেক, কিছুই না।

আবু হাতিম বলেনঃ তিনি দুর্বল, তার হাদীসে ইনকার রয়েছে।

নাসাঈ বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন।

হাকিম আবু আহমাদ বলেনঃ তার হাদীসগুলো মুনকার, জালের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

সাজী বলেনঃ হাদীসের ক্ষেত্রে তিনি নিতান্তই দুর্বল। সকলেই তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে একমত।

ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে (২/৩৪২) বলেনঃ আমি আমার পিতাকে মুয়াবিয়া হতে বাকিয়ার এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেনঃ এ হাদীসটি মিথ্যা।

ইবনুল কাইয়্যিমও হাদীসটিকে জাল হিসাবেই উল্লেখ করেছেন। এছাড়া অর্থের দিক দিয়েও হাদীসটি সহীহ্ নয়। কারণ যদি একশত ব্যক্তি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসের নিকটে হাঁচি দেয়, তবুও তাকে সহীহ বলে হুকুম লাগানো যাবে না। অনুরূপভাবে কোন ব্যক্তির সাক্ষীর সাথে যদি তারা হাচি দেয় তাহলেও তাকে সত্যবাদী হিসাবে হুকুম দেয়া যাবে না। মিথ্যা তার কর্ম চালিয়েই যাবে। অতএব কোন লোক যদি বলে যে, সনদটি সহীহ তবুও হাদিসটি বানোয়াট অনুভূতি এমনই সাক্ষ্য দিচ্ছে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من حدث حديثا فعطس عنده فهو حق
باطل

-

أخرجه تمام في " الفوائد " (148 / 2) وكذا الترمذي الحكيم وأبو يعلى والطبراني في " الأوسط " وابن شاهين من طريق بقية عن معاوية بن يحيى عن أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة مرفوعا، وأورده ابن الجوزي في
" الموضوعات " (3 / 77) من طريق ابن شاهين ثم قال: باطل تفرد به معاوية وليس بشيء، وتابعه عبد الله بن جعفر المديني أبو علي عن أبي الزناد، وعبد الله متروك
وتعقبه السيوطي في " اللآليء " (2 / 286) بأحاديث أوردها، بعضها مرفوعة وبعضها موقوفة، ثم إن بعضها في فضل العطاس مطلقا فلا يصلح شاهدا لوصح
وأما قول النووي رحمه الله في فتاويه (ص 36 - 37) بعد أن عزاه لأبي يعلى
إسناده جيد حسن، كل رجاله ثقات متقنون إلا بقية بن الوليد فمختلف فيه، وأكثر الحفاظ والأئمة يحتجون بروايته عن الشاميين، وهو يروي هذا الحديث عن معاوية ابن يحيى الشامي
قلت: فهذا من أوهامه رحمه الله فإن بقية معروف بالتدليس وقد رواه عن معاوية معنعنا وقد قال النسائي وغيره: إذا قال:حدثنا وأخبرنا فهو ثقة، وقال غير واحد: كان مدلسا فإذا قال: عن فليس حجة، ولهذا قال أبو مسهر: أحاديث بقية ليست نقية فكن منها على تقية، ذكره الذهبي ثم قال: وبقية ذو غرائب ومناكير، أقول هذا لبيان حال بقية وإلا فالظاهر من كلام السيوطي في " اللآليء " أنه لم يتفرد به عن معاوية، فعلة الحديث هو معاوية هذا فإنه ضعيف جدا قال ابن معين: هالك ليس بشيء، وقال أبو حاتم: ضعيف في حديثه إنكار، وقال النسائي: ليس بثقة، وقال الحاكم أبو أحمد: يروي عنه الهقل بن زياد عن الزهري أحاديث منكرة شبيهة بالموضوعة، وقال الساجي: ضعيف الحديث جدا، وهكذا باقي أقوال الأئمة كلها متفقة على تضعيفه ليس فيهم من وثقه، فانظر كيف انصرف النووي عن علة الحديث الحقيقية، وأخذ يدافع عن بقية مع أنه لم يحمل عليه في هذا الحديث أحد! فلولا أن النووي رحمه الله وهم لما جاز له أن يصف يحيى هذا بالثقة والإتقان، وقد علم أنه متفق على تضعيفه! والحديث رواه البيهقي أيضا وقال: إنه منكر، كما في " شرح المناوي " وقال الهيثمي في " المجمع " (8 / 59) : رواه الطبراني في " الأوسط " وقال: لا يروى عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا بهذا الإسناد وأبو يعلى، وفيه معاوية بن يحيى الصدفي وهو ضعيف، وقد قال ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 342) : سألت أبي عن حديث رواه داود بن رشيد عن بقية عن معاوية بن يحيى عن أبي الزناد.. عن النبي صلى الله عليه وسلم: " من حدث بحديث فعطس عنده فهو حق "؟ قال أبي: هذا حديث كذب، فبعد شهادة مثل هذا الإمام النقاد أنه حديث كذب، فما يفيد المتساهلين محاولتهم إنقاذ إسناد هذا الحديث من الوضع إلى الضعف أو الحسن لأنها محاولات لا تتفق مع قواعد الحديث في شيء، وما أحسن ما قاله المحقق ابن القيم رحمه الله فيما نقله عنه الشيخ القاري في " موضوعاته " (ص 106 ـ 107) : وهذا الحديث وإن صحح بعض الناس سنده فالحس يشهد بوضعه، لأنا نشاهد العطاس والكذب يعمل عمله، ولوعطس مئة ألف رجل عند حديث يروي عن النبي صلى الله عليه وسلم لم يحكم بصحته بالعطاس، ولوعطسوا عنده بشهادة رجل لم يحكم بصدقه، وتعقبه هو والزركشي من قبل وغيرهما بقولهم
إن إسناده إذا صح ولم يكن في العقل ما يأباه وجب تلقيه بالقبول
قلت: أنى لإسناده الصحة وفيه من اتفقوا على ضعفه ويشهد الإمام أبو حاتم بأن حديثه هذا كذب؟ ! ثم العقل يأباه كما بينه ابن القيم فيما سبق ولو صح هذا الحديث لكان يمكن الحكم على كل حديث نبوي عطس عنده بأنه حق وصدق، ولو كان عند أئمة الحديث زورا وكذبا؟ وهذا ما لا يقوله فيما أظن أحد

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩৭ | 137 | ۱۳۷

১৩৭। যে কথার নিকট হাঁচি দেয়া হয় সেটিই হচ্ছে সর্বাপেক্ষা সত্য কথা।

হাদীসটি বাতিল।

এটিকে তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (১/১৯১/২/৩৫০২) আম্মারা ইবনু যাযান সূত্রে সাবেত হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে মারফু হিসাবে বর্ণনা করে বলেছেনঃ সাবেত হতে একমাত্র আম্মারাই হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

এ আম্মারা সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি সাবেতের সূত্রে আনাস (রাঃ) হতে বহু মুনকার হাদীস বর্ণনা করেছেন। এটিই হচ্ছে এ হাদীসের সমস্যা। হায়সামী “আল-মাজমা" গ্রন্থে (৮/৫৯) এদিকেই ইঙ্গিত করেছেন। অর্থের দিক দিয়েও যে হাদীসটি বাতিল তা পূর্বের হাদীসেই আলোচনা করা হয়েছে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أصدق الحديث ما عطس عنده
باطل

-

أخرجه الطبراني في " الأوسط " (1 / 191 / 2 / 3502 ـ بترقيمي) من طريق عمارة ابن زاذان عن ثابت عن أنس مرفوعا، وقال: لم يروه عن ثابت إلا عمارة
قلت: وعمارة هذا، قال أحمد: يروي عن ثابت عن أنس أحاديث مناكير
قلت: وهذا الحديث من روايته عن ثابت عن أنس، فهو علة الحديث، وإلى ذلك أشار الهيثمي بقوله في " المجمع " (8 / 59) : رواه الطبراني في " الأوسط " عن شيخه جعفر بن محمد بن ماجد ولم أعرفه، وعمارة بن زاذان وثقه أبو زرعة وجماعة وفيه ضعف، وبقية رجاله ثقات
وابن ماجد وثقه الخطيب في " التاريخ " (7 / 196) فلا يعل به الحديث، والله أعلم
وقد تقدم الكلام على بطلان الحديث من حيث معناه في الحديث الذي قبله فأغنى عن الإعادة

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩৮ | 138 | ۱۳۸

১৩৮। তিনটি বস্তু দ্বারা শরীর আনন্দিত (পরিতৃপ্ত) হয় এবং তার উপর ভর করেই বৃদ্ধি লাভ করে; সুগন্ধি, মোলায়েম কাপড় এবং মধু পান করা।

হাদীসটি জাল।

এটিকে ইবনু হিব্বান “আয-যুয়াফা ওয়াল মাতরূকীন" গ্রন্থে (৩/১৪১) এবং আবু নু’য়াইম (৬/৩৪০) তাবারানী সূত্রে মুহাম্মাদ ইবনু রাওহ আল-কাতাইরী হতে, তিনি ইউনুস ইবনু হারূণ আল-আযদী হতে ... বর্ণনা করেছেন। আবূ নু’য়াইম বলেনঃ মালেক হতে তার পিতার উদ্ধৃতিতে হাদীসটি গরীব। মুহাম্মাদ ইবনু রাওহ এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনুস সামায়ানী মুহাম্মাদ ইবনু রাওহ সম্পর্কে বলেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ইবনু ইউনুসও বলেছেনঃ তিনি মুনকারুল হাদীস।

দারাকুতনী তার এবং তার শাইখ ইউনুস ইবনু হারূণ সম্পর্কে বলেনঃ তারা দু’জনই দুর্বল। তিনি “গারায়েবে মালেক” গ্রন্থে বলেনঃ মালেক হতে হাদীসটি সহীহ নয়।

ইবনু হিব্বান বলেনঃ ইউনুস আশ্চর্যজনক কিছু বর্ণনা করেছেন। তার থেকে বর্ণনা করাই হালাল নয়। মালেক তার পিতা ও তার দাদা হতে কিছুই বর্ণনা করেননি।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ثلاث يفرح بهن البدن ويربوعليها: الطيب، والثوب اللين، وشرب العسل
موضوع

-

رواه ابن حبان في " الضعفاء والمتروكين " (3 / 141) وأبو نعيم (6 / 340) من طريق الطبراني عن محمد بن روح القتيري حدثنا يونس بن هارون الأزدي عن مالك ابن أنس عن أبيه عن جده عن عمر بن الخطاب مرفوعا، وقال أبو نعيم
غريب من حديث مالك عن أبيه تفرد به القتيري في الأصل القشيري في الموضعين وهو تصحيف
قلت: والقتيرى هذا بفتح القاف وبعدها مثناة ضبطه ابن ماكولا وغيره، وتصحف على ابن السمعاني فذكره في القنبري، وقال: نسبة إلى قنبر مولى علي رضي الله عنه، منكر الحديث
قلت: قال فيه ابن يونس أيضا: منكر الحديث، وقال الدارقطني فيه وفي شيخه يونس بن هارون ضعيفان، وقال في " غرائب مالك ": لا يصح هذا الحديث عن مالك وقال ابن حبان في ترجمة يونس بن هارون: روى عجائب لا تحل الرواية عنه، ما روى مالك عن أبيه ولا جده شيئا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩৯ | 139 | ۱۳۹

১৩৯। হতভাগ্যদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা দুঃখী সেই ব্যাক্তি যার মাঝে দুনিয়া ও আখেরাতের দারিদ্রতা একত্রিত হয়েছে।

হাদীসটি জাল।

এটিকে হাকিম (৪/৩২২), বাইহাকী “সুনান” গ্রন্থে (৭/১৩) ও তাবারানী “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে (২/২৯৪/১/৯৪২৩) খালেদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনে আব্দির রহমান সূত্রে ... উল্লেখ করেছেন। তাবারানী বলেনঃ তিনি এককভাবে এটি বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তিনি দুর্বল, মিথ্যার দোষে দোষী। তবে তিনি এককভাবে বর্ণনা করেননি। এ আলোচনা একটু পরেই আসবে। হাকিম বলেনঃ এটির সনদ সহীহ। যাহাবী তার সাথে ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এটি তাদের দু'জনের অশোভনীয় ধারণা মাত্র। কারণ এ খালেদ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ ليس بشيء 'তিনি কিছুই নন'।

ইবনু আবিল হাওয়ারী বলেনঃ আমি ইবনু মা'ঈনকে বলতে শুনেছি যে, শাম দেশে একটি কিতাব আছে সেটি গেড়ে দেয়া উচিত। সেটি হচ্ছে খালেদ ইবনু ইয়াযীদ ইবনে আবী মালেক-এর কিতাবুদ দিয়াত’। তিনি তার পিতার উপর মিথ্যারোপ করে সম্ভষ্ট হতে পারেননি। এমনকি সাহাবীগণের উপরেও মিথ্যারোপ করেছেন।

ইবনু আবী হাতিম “আল-জারহ ওয়াত তা'দীল” গ্রন্থে (১/২/৩৫৯) বলেনঃ আমার পিতাকে এ খালেদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বলেনঃ তিনি মুনকার হাদীস বর্ণনাকারী। এ হাদীসটি দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে, কিন্তু কোনটিই জাল বর্ণনাকারী হতে মুক্ত নয়।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أشقى الأشقياء من اجتمع عليه فقر الدنيا والآخرة
موضوع

-

أخرجه الحاكم (4 / 322) والبيهقي في " السنن " (7 / 13) والطبراني في " الأوسط " (2 / 294 / 1 9423) من طريق خالد بن يزيد بن عبد الرحمن بن أبي مالك الدمشقي عن أبيه عن عطاء بن أبي رباح عن أبي سعيد الخدري مرفوعا
وقال الطبراني: لا يروى عن أبي سعيد إلا بهذا الإسناد تفرد به خالد
قلت: وهو ضعيف متهم ولكنه لم يتفرد به كما يأتي قريبا
وقال الحاكم: صحيح الإسناد، ووافقه الذهبي
قلت: وهذا من أوهامهما الفاحشة، فإن خالدا هذا قال أحمد: ليس بشيء، وقال ابن أبي الحواري: سمعت ابن معين يقول: بالشام كتاب ينبغي أن يدفن كتاب الديات لخالد بن يزيد بن أبي مالك، لم يرض أن يكذب على أبيه حتى كذب على الصحابة قال أحمد بن أبي الحواري: سمعت هذا الكتاب عن خالد ثم أعطيته للعطار، فأعطى للناس
فيه حوائج! ذكره الذهبي في " الميزان "، وقال ابن أبي حاتم في " الجرح والتعديل " (1 / 2 / 359) : سئل أبي عن خالد هذا؟ فقال: يروي أحاديث مناكير
وللحديث طريق ثان، فقال ابن أبي حاتم في " العلل " (2 / 278) : وسمعت أبي وحدثنا عن حرملة عن ابن وهب عن الماضي بن محمد الغافقي أبي مسعود عن هشام عن الحسن عن أبي سعيد الخدري مرفوعا به، قال أبي: هذا حديث باطل، وماضى لا أعرفه، وذكر نحوه في " الجرح والتعديل " (4 / 1 / 242) وأقره الذهبي في " الميزان " وقال: لم يروعنه غير ابن وهب، قال ابن عدي: منكر الحديث، ورواه أبو سعيد بن الأعرابي في " المعجم " (99 / 1 / 2) والطبراني في " الأوسط " (1 / 102 / 2 / 2085) من طريقين آخرين عن ابن وهب قال: أخبرني الماضي بن محمد عن هشام بن حسام عن الحسن عن أبي سلمة عن أبي سعيد به
وأعله الهيثمي (10 / 267) بشيخ الطبراني أحمد بن طاهر، وهو كذاب وقلده المعلق على " الأوسط " (2 / 528) وهو متابع كما ترى وإنما علته الماضي كما عرفت، وقد أخرجه ابن عدي أيضا عنه (6 / 432) وأعله به.وله طريق ثالث سوف يأتي بلفظ: " اللهم توفني إليك فقيرا ... "، ورابع أخرجه القضاعي (94 / 1) عن محمد بن يزيد بن سنان عن أبيه عن عطاء به
وهذا سند واه من أجل يزيد بن سنان، وابنه محمد، وهو أشد ضعفا من أبيه ثم وجدت له شاهدا لكنه مما لا يفرح به، يرويه أحمد بن إبراهيم المزني: حدثنا محمد بن كثير حدثنا الأوزاعي عن الزهري عن أنس بن مالك مرفوعا بلفظ: " ألا أخبركم بأشقى الأشقياء.... " الحديث، وهو لفظ ابن عدي عن الماضي
أخرجه ابن حبان في " الضعفاء " (1 / 144) ومن طريقه ابن الجوزي في " العلل " (2 / 325) وقال: لا يصح، قال ابن حبان: كان المزني يضع الحديث على الثقات وضعا
قلت: فهو بكتاب ابن الجوزي الآخر " الموضوعات " أولى، وله من مثله الشيء الكثير، كما أنه يورد في هذا ما هو بـ " العلل " أولى، كما هو معروف عند العلماء
والحديث أورده السيوطي في " الجامع " من رواية الطبراني، ثم تكلم عليه المناوي بما نقله عن الهيثمي، وذكرت بعض كلامه آنفا، ثم قال المناوي
ومن العجب العجاب أنه رمز لصحته لكن الحديث كله مضروب عليه في مسودة المصنف، وأما قوله في " التيسير " وهو حسن لا صحيح خلافا للمؤلف ولا ضعيف خلافا لبعضهم فهو مما لا يساعد عليه شدة ضعف طرقه مع إبطال أبي حاتم إياه، ومن أحاديث هذا الماضي

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৪০ | 140 | ۱٤۰

১৪০। ব্যভিচার (যিনা) দারিদ্রতার অধিকারী করে।

হাদীসটি বাতিল।

এটিকে কাযাঈ “মুসনাদুশ শিহাব” গ্রন্থে (৭/২) উল্লেখ করেছেন। দু'টি কারণে এটির সনদ নিতান্তই দুর্বলঃ

১। বর্ণনাকারী লাইস ইবনু আবী সুলাইম দুর্বল।

২। অপর বর্ণনাকারী আল-মাযী ইবনু মুহাম্মাদ মাজহুল, মুনকারুল হাদীস। যাহাবী বলেছেনঃ তার বহু মুনকার হাদীস রয়েছে এটি সেগুলোর একটি।

ইবনু আবী হাতিম “আল-ইলাল” গ্রন্থে (১/৪১০-৪১১) বলেছেনঃ আমার পিতা এ হাদীসটি সম্পর্কে বলেনঃ এটি বাতিল হাদীস, মাযীকে আমি চিনি না। এছাড়াও অন্য এক সূত্রে হাদীসটি বাইহাকীর “আশ-শু'য়াব” গ্রন্থে (৬/৪৩২) এবং দাইলামীর “মুসনাদুল ফিরদাউস” গ্রন্থে (২/৯৯/২) বর্ণিত হয়েছে। সেটিতে একাধিক মাজহুল বর্ণনাকারী রয়েছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الزنا يورث الفقر
باطل

-

رواه القضاعي في " مسند الشهاب " (7 / 2) عن أحمد بن عبد الرحمن بن أخي وهب قال أخبرنا عمي قال أنبأنا الماضي بن محمد عن ليث بن أبي سليم عن مجاهد عن عبد الله بن عمر مرفوعا
قلت: وهذا سند واه، وله علتان: الأولى ضعف ليث بن أبي سليم
والأخرى الماضي بن محمد وهو مجهول، منكر الحديث كما تقدم، وعزاه السيوطي في " الجامع " لرواية القضاعي والبيهقي عن ابن عمر، وقال المنذري في " الترغيب " (3 / 190) : رواه البيهقي، وفي إسناده الماضي بن محمد.
قلت: هو عنده في " الشعب " (4 / 363) من طريق ابن عدي وهذا في " الكامل " (6 / 432) وقال الذهبي: له أحاديث منكرة منها هذا الحديث.
قلت: والحديث رواه ابن أبي حاتم في " العلل " (1 / 410 - 411) : سمعت أبي وحدثنا عن حرملة عن ابن وهب عن الماضي بن محمد عن هشام عن ليث بن أبي سليم عن مجاهد عن ابن عمر أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: فذكره، قال أبي: هذا حديث باطل، وماضي لا أعرفه.
قلت: ثم وجدت له متابعا، فقال أبو بكر الكلاباذي في " مفتاح المعاني " (359 / 2) : حدثنا عبد الله بن محمد حدثنا القاسم بن عباد حدثنا عباد حدثنا أحمد بن حرب عن حسان عن إسماعيل عن ليث به.
قلت: فانحصرت علة الحديث في الليث ولعل أصله موقوف وهم فيه الليث فرفعه، فقد رواه ابن حبان في " الثقات، (2 / 295) من طريق مكحول الشامي قال لي ابن عمر يا مكحول إياك والزنا فإنه يورث الفقر.
ثم وجدت له طريقا آخر أخرجه البيهقي في " الشعب " والديلمي في " مسند الفردوس " (2 / 99 / 2 - الغرائب) كلاهما من طريق الحاكم عن شيخه محمد ابن صالح بن هانيء وهو ثقة قال حدثنا أحمد بن سهل بن مالك حدثني محمد بن إسماعيل البخاري حدثنا الحسن بن علي الصفار حدثنا أبو خالد الأحمر حدثنا محمد ابن عجلان عن نافع عن ابن عمر به
قلت: وهذا إسناد حسن لولا أنني لم أعرف الحسن بن علي بن صفار وأحمد بن سهل ابن مالك، فمن كان عنده علم عنهما فليتفضل بإعلامي مشكورا وجزاه الله خيرا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [131]  থেকে  [140]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [342]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।