• ৭১৪৯৭ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৮০৩৩ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [342] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [121]  থেকে  [130]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১২১ | 121 | ۱۲۱

১২১। শেষ যামানায় হালাল পন্থায় দিরহাম অর্জন কমে যাবে বা এমন ভাই মিলা কমে যাবে যার উপর নির্ভর করা যায়।

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল অথবা জাল।

হাদীসটি আবূ নু’য়াইম (৪/৯৪) মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ আল-হাররানী সূত্রে আবূ ফারওয়া আর-রাহাবী হতে, তিনি তার পিতা হতে, তার পিতা মুহাম্মাদ ইবনু আইউব আর-রাকী হতে ... বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মাদ ইবনু সাঈদ আল-হাররানী সম্পর্কে নাসাঈ বলেনঃ তিনি কে জানি না। আবূ ফরওয়া আর-রাহাবী; তার নাম ইয়াযীদ ইবনু মুহাম্মাদ। ইবনু আবী হাতিম তার জীবনী উল্লেখ করলেও তার সম্পর্কে ভাল-মন্দ কিছুই বলেননি।
তার পিতা মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ সম্পর্কে আবূ হাতিম বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। তিনি তার পিতা হতে হাদীস বর্ণনা করতে খুবই গাফিল ছিলেন। যদিও তিনি একজন নেককার ব্যক্তি ছিলেন, ...। তার সম্পর্কে বুখারী বলেনঃ يروي عن أبيه مناكير তিনি তার পিতা হতে মুনকারগুলো বর্ণনা করতেন। নাসাঈ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন।

মুহাম্মাদ ইবনু আইউব আর-রাকী সম্পর্কে ইবনু আবী হাতিম (৩/২/১৯৭) বলেনঃ আমার পিতা [আবূ হাতিমা] বলেছেনঃ তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে দুর্বল। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে অন্য এক মুহাম্মাদ ইবনু আইউব আর-রাকীর কথা উল্লেখ করেছেন। যিনি মালেক হতে বাতিল হাদীস বর্ণনা করতেন। মুহাম্মাদ ইবনু আইউব আর-রাকী মালেক ইবনু আনাস হতে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তার সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন। আমার কাছে যা স্পষ্ট হচ্ছে তা এই যে, তারা একজনই, দু'জন নয়



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

قل ما يوجد في آخر الزمان درهم من حلال، أو أخ يوثق به
ضعيف جدا أو موضوع

-

أخرجه أبو نعيم (4 / 94) من طريق محمد بن سعيد الحراني حدثنا أبو فروة الرهاوي حدثنا أبي حدثنا محمد بن أيوب الرقى عن ميمون بن مهران عن ابن عمر مرفوعا
قلت: وهذا سند ضعيف جدا محمد بن سعيد الحراني قال النسائي: لا أدري ما هو وأبو فروة الرهاوي اسمه يزيد بن محمد بن يزيد بن سنان بن يزيد، ترجمه ابن أبي حاتم (4 / 2 / 288) ولم يذكر فيه جرحا ولا تعديلا، وأبوه محمد بن يزيد قال ابن أبي حاتم (4 / 1 / 128) : سألت أبي عنه؟ فقال: ليس بالمتين، هو أشد غفلة من أبيه مع أنه كان رجلا صالحا لم يكن من أحلاس الحديث، صدوق، وكان يرجع إلى ستر وصلاح، وكان النفيلي يرضاه، وقال البخاري: يروي عن أبيه مناكير، وقال النسائي: ليس بالقوي، ومحمد بن أيوب الرقي، قال ابن أبي حاتم (3 / 2 / 197) : سألت أبي عنه؟ فقال: ضعيف الحديث
قلت: وبهذا ترجمه الذهبي في " الميزان "، ثم قال عقبه: محمد بن أيوب الرقي آخر، عن مالك بخبر باطل، وعنه زهير بن عباد، ثم أعاده بعد خمس تراجم فقال
محمد بن أيوب عن مالك بن أنس، قال ابن حبان: يضع الحديث، ثم ساق ابن حبان له خبرا باطلا في فضل أو يس، وقال الحافظ في " اللسان " عقب هذه الترجمة: محمد ابن أيوب الرقي عن ميمون بن مهران وعنه محمد بن يزيد بن سنان، قال أبو حاتم ضعيف الحديث، وفرق النباتي بينه وبين الراوي عن مالك، والذي يظهر لي أنهما واحد

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১২২ | 122 | ۱۲۲

১২২। তিনি গান গাওয়া ও গান শ্রবণ করাকে নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি গীবত করা ও গীবত শ্রবণ করাকে নিষিদ্ধ করেছেন এবং তিনি পরনিন্দা করা ও পরনিন্দা শ্রবণ করাকে নিষিদ্ধ করেছেন।

হাদীসটি নিতান্তই দুর্বল।

খাতীব বাগদাদী তার “আত-তারীখ” গ্রন্থে (৮/২২৬), তাবারানী “মুজামুল কাবীর” ও “মুজামুল আওসাত” গ্রন্থে এবং আবু নু’য়াইম (৪/৯৩) গেনা শব্দ ছাড়া ফুরাত ইবনু সাঈব সূত্রে ... উল্লেখ করেছেন।

ফুরাত সম্পর্কে নাসাঈ ও দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মাতরূক। হায়সামীও বলেনঃ তিনি মাতরূক। ইমাম বুখারী বলেনঃ منكر الحديث তিনি মুনকারুল হাদীস।” ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি মুহাম্মাদ ইবনু তাহানের ন্যায়। তাকে যে মিথ্যার দোষে দোষী করা হয়, তিনি সেই দোষে দোষী।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ মুহাম্মাদ ইবনু তাহান ইবনু যিয়াদ ইয়াশকুরীকে ইমাম আহমাদ ও অন্যরা মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন, যেমনভাবে ১৬ ও ১৯ নং হাদীসে আলোচনা করা হয়েছে।

পরনিন্দা এবং গীবাত হারাম মর্মে সহীহ হাদীস এসেছে। অতএব এ য’ঈফ হাদীসের কোন প্রয়োজনীয়তা নেই।

তবে গানের ক্ষেত্রে সব গানই হারাম নয়। যেগুলোতে হারাম স্থান, বস্তু বা কথার উল্লেখ রয়েছে, সেগুলোই হারাম। যেগুলোতে এসব কিছু নেই সেগুলো হারাম নয়।

তবে বাদ্যযন্ত্র; সেগুলোর সবই হারাম, এ মর্মে সহীহ্ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

نهى عن الغناء، والاستماع إلى الغناء، ونهى عن الغيبة، وعن الاستماع إلى الغيبة، وعن النميمة، وعن الاستماع إلى النميمة
ضعيف جدا

-

أخرجه الخطيب في " تاريخه " (8 / 226) والطبراني في " الكبير " و" الأوسط " مفرقا كما في " المجمع " (8 / 91) وأبو نعيم (4 / 93) دون ذكر الغناء، كلهم من طريق فرات بن السائب عن ميمون بن مهران عن ابن عمر مرفوعا
قلت: والفرات هذا قال النسائي والدارقطني: متروك، وقال البخاري: منكر الحديث، وقال أحمد: هو قريب من محمد بن الطحان في ميمون يتهم بما يتهم به ذاك
قلت: والطحان هذا هو ابن زياد اليشكري وقد كذبه أحمد وغيره، وقد تقدم له بعض الأحاديث فانظر الأحاديث (16 - 19) ، وعليه فالفرات هذا متهم عند أحمد
والحديث عزاه العراقي في " تخريج الإحياء " (3 / 127) للطبراني ثم قال
وهو ضعيف، وقال الهيثمي: وفيه فرات بن السائب وهو متروك، وفي تحريم النميمة والغيبة أحاديث صحيحة تغني عن هذا الحديث الضعيف فراجع إن شئت " الترغيب " (3 / 296 - 303)
وأما الغناء فليس كله حراما بل ما كان منه في وصف الخدود والخصور والخمور ونحوذلك فحرام قطعا، وما خلا من ذلك فالإكثار منه مكروه، وأما آلات الطرب فهي محرمة لقوله صلى الله عليه وسلم: " ليكونن من أمتي أقوام يستحلون الحر والحرير والخمر والمعازف ".. الحديث، أخرجه البخاري تعليقا ووصله أبو داود (2 / 174) وغيره بسند صحيح، وقد ضعفه ابن حزم بدون حجة، ولي رسالة في الرد عليه، أسأل الله تيسير نشرها، ثم نشرت الحديث وتكلمت على تضعيف ابن حزم له، وبينت صحته في " سلسلة الأحاديث " فراجعها برقم (91)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১২৩ | 123 | ۱۲۳

আল্লাহ তা’আলা এক ঘণ্টা সঙ্গ দেওয়া সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করবেন।

হাদীসটি বানোয়াট।

হাদীসটি এভাবেই মুখে মুখে পরিচিতি লাভ করেছে। এটিকে এ শব্দে চিনি না। এটি আগত হাদীসটির অর্থবোধক।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إن الله يسأل عن صحبة ساعة
اشتهر هكذا على الألسنة ولا أعرفه بهذا اللفظ

وهو بمعنى الحديث الآتي

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১২৪ | 124 | ۱۲٤

১২৪। কোন ব্যাক্তি যদি তার সাথীদের সাথে সঙ্গ দেয় এবং তা যদি দিবসের একটি মুহূর্তের জন্যও হয়; তবু তাকে তার সঙ্গদানের মুহূর্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হতে হবে। সে তাতে আল্লাহর হক প্রতিষ্ঠা করেছে না নষ্ট করেছে?

হাদীসটি জাল।

গাযালী হাদীসটি “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (২/১৫৪) উল্লেখ করেছেন। “আল-ইহইয়া” গ্রন্থের তাখরীজকারী হাফিয ইরাকী বলেনঃ এটির কোন ভিত্তি সম্পর্কে অবহিত হতে পারিনি। সুবকী “আত-তাবাকাত” গ্রন্থে (৪/১৫৬) একই কথা বলেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটির ভিত্তি পেয়েছি। কিন্তু সেটি জাল (বানোয়াট)। কারণ এটি আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু উমারের বর্ণনাকৃত, যার সম্পর্কে ইবনু আবী হাতিম তার জীবনীতে (১/১/৭১) বলেছেনঃ আমি তার সম্পর্কে আমার পিতাকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তিনি বলেনঃ তিনি আমাদের নিকট এসেছিলেন। তিনি ছিলেন একজন মিথ্যুক। তার নিকট হতে লিখেছি কিন্তু তার থেকে হাদীস বর্ণনা করিনি।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما من صاحب يصحب صاحبا ولوساعة من نهار إلا سئل عن صحبته هل أقام فيها حق الله أم أضاعه؟
موضوع

-

أورده الغزالي في " الإحياء " (2 / 154) جازما بنسبته إليه صلى الله عليه وسلم بلفظ: " إنه دخل غيضة مع بعض أصحابه فاجتنى منه سواكين أحدهما معوج والآخر مستقيم فدفع المستقيم إلى صاحبه فقال له: يا رسول الله كنت والله أحق بالمستقيم مني فقال: ... " فذكره، قال الحافظ العراقي في " تخريج الإحياء ":لم أقف له على أصل، وذكر نحوه السبكي في " الطبقات " (4 / 156)
وأقول: قد وجدت له أصلا ولكنه موضوع لأنه من رواية أحمد بن محمد بن عمر بن يونس اليمامي، قال ابن أبي حاتم في ترجمته (1 / 1 / 71) : سألت أبي عنه فقال: قدم علينا، وكان كذابا، وكتبت عنه، ولا أحدث عنه، فقال الذهبي في ترجمته من " الميزان ": روى عن عمر بن يونس - يعني جده - عن أبيه سمع حمزة بن عبد الله بن عمر عن أبيه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم دخل غيضة فاجتنى سواكين أحدهما مستقيم، قلت: فذكر الحديث بتمامه إلا أنه قال: " إنه ليس من صاحب يصاحب صاحبا ولوساعة إلا سأله الله عن مصاحبته إياه
قلت: أخرجه ابن حبان في " الضعفاء " (1 / 143 - 144) ، ورواه الطبري (5 / 53) عن فلان عن الثقة عنده مرفوعا نحوه، وهذا مرسل ضعيف

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১২৫ | 125 | ۱۲۵

১২৫। খারাপ চরিত্র এমন এক গুনাহ যা ক্ষমা করা হবে না আর কু-ধারনা এমন এক ত্রুটি যা দুর্গন্ধ ছাড়ায়।

হাদীসটি বাতিল, এর কোন ভিত্তি নেই।

এটিকে গাযালী “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (৩/৪৫) উল্লেখ করেছেন। যদি ধরে নেই যে, এ হাদীসটি হাদীস হিসাবে বাতিল একথাটি তার (গাযালী) নিকট লুক্কায়িত ছিল; তা বোধগম্য। কিন্তু জানি না হাদীসটি ফিকহের দৃষ্টিকোণ থেকেও যে বাতিল, এ বিষয়টি তার নিকট কীভাবে লুক্কায়িত থাকল?! কারণ হাদীসটি সম্পূর্ণরূপে আয়াত বিরোধী। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ) অর্থঃ “নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করবেন না তার সাথে শরীক স্থাপন করাকে, তবে তা ছাড়া অন্যান্য পাপ যাকে চান ক্ষমা করে দিবেন” (সূরা আন-নিসাঃ ৪৮)।

সম্ভবত এর মাঝে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে সেই ব্যক্তির জন্য যিনি হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে শিথিলতা করেন এবং মুহাদ্দিসগণের তরীকায় সহীহ হাদীস হিসাবে সাব্যস্ত না করেই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উদ্ধৃতিতে তা বর্ণনা করেন।

সুবকী “আত-তাবাকাত” গ্রন্থে (৪/১৬২) এ হাদীসটি “আল-ইহ্ইয়া” গ্রন্থের ঐ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন, যেখানে সেই হাদীসগুলো উল্লেখ করা হয়েছে যেগুলোর সনদ নেই।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

سوء الخلق ذنب لا يغفر، وسوء الظن خطيئة تفوح
باطل لا أصل له

-

وقد أورده الغزالي (3 / 45) جازما بنسبته إليه صلى الله عليه وسلم وإذا جاز أن يخفى عليه بطلانه من الناحية الحديثية فلست أدري كيف خفي عليه بطلانه من الناحية الفقهية؟! فإن الحديث معارض تمام المعارضة لقوله تعالى: {إن الله لا يغفر أن يشرك به، ويغفر ما دون ذلك لمن يشاء} ، ولعل في هذا عبرة لمن يتساهلون برواية الأحاديث ونسبتها إليه صلى الله عليه وسلم دون أن يتثبتوا من صحتها على طريقة المحدثين جزاهم الله عن المسلمين خيرا
وهذا الحديث أورده السبكي في " الطبقات " (4 / 162) في فصل الأحاديث التي لم يجد لها إسنادا مما وقع في كتاب " الإحياء "، وأما الحافظ العراقي فإنه استشهد له في تخريجه إياه بالحديث الآتي

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১২৬ | 126 | ۱۲٦

১২৬। অসৎ চরিত্রের অধিকারী ব্যাতিত এমন কোন গুনাহ নেই যার জন্য তওবা নেই। কারন সে যখনই গুনাহ হতে তওবা করে তখনই সে তার চেয়েও নিকৃষ্ট গুনহার মধ্যে পতিত হয়।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি তাবরানী “মুজামুস সাগীর" গ্রন্থে (পৃঃ ১১৪) এবং ইস্পাহানী “আত-তারগীব” গ্রন্থে (১/১৫১) আমর ইবনু জামী সূত্রে ... উল্লেখ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ হাদীসটি বানোয়াট। কারণ আমর সম্পর্কে নাক্কাশ বলেনঃ أحاديثه موضوعة وكذبه يحيى بن معين তার হাদিসগুলো বানোয়াট এবং তাকে ইহইয়া ইবনু মাঈন মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন।

ইবনু আদী বলেনঃ كان يتهم بالوضع তাকে জাল করার দোষে দোষী করা হত।

হাফিয হায়সামী “মাজমাউয যাওয়াইদ” গ্রন্থে (৮/২৫) বলেছেনঃ এটিকে তাবারানী বর্ণনা করেছেন। এ সনদে মিথ্যুক আমর ইবনু জামী' রয়েছেন। সুয়ূতী হাদীসটি "জামেউস সাগীর" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তা তার শর্ত মোতাবেক হয়নি। সনদে মিথ্যুক ব্যক্তি এককভাবে বর্ণনা করার কারণে।

"তাখরীজুল ইহইয়া" গ্রন্থে (৩/৪৫) ইরাকী কর্তৃক শুধুমাত্র হাদীসটির সনদ দুর্বল বলেই শেষ করাও ঠিক হয়নি। তবে যদি এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলে থাকেন যে, জাল তো দুর্বল হাদীসেরই একটি প্রকার, তাহলে সমস্যা নেই।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ما من شيء إلا له توبة، إلا صاحب سوء الخلق، فإنه لا يتوب من ذنب إلا عاد في شر منه
موضوع

-

أخرجه الطبراني في " المعجم الصغير " (ص 114) والأصبهاني في " الترغيب " (151 / 1) من طريق عمرو بن جميع عن يحيى بن سعيد الأنصاري عن محمد بن إبراهيم التيمي عن أبيه عن عائشة مرفوعا
وقال الطبراني: لم يروه عن يحيى إلا عمرو، ولا يروى عن عائشة إلا بهذا الإسناد
قلت: وهو موضوع، فإن عمرا هذا قال النقاش: أحاديثه موضوعة وكذبه يحيى بن معين وقال ابن عدي: كان يتهم بالوضع، ومنه تعلم أن قول الحافظ العراقي في " تخريج الإحياء " (3 / 45) بعد أن عزاه للطبراني: وإسناده ضعيف، قصور إلا أن يلاحظ أن الموضوع من أنواع الضعيف كما هو مقرر في المصطلح
وقال الحافظ الهيثمي في " مجمع الزوائد " (8 / 25) : رواه الطبراني في " الصغير "، وفيه عمرو بن جميع وهو كذاب
والحديث أورده السيوطي في " الجامع " برواية أبي الفتح الصابوني في " الأربعين " عن عائشة ويعترض عليه من وجهين
الأول: إيراده فيه مع أنه ليس على شرطه لتفرد الكذاب به
الآخر: اقتصاره في العزو على الصابوني فأو هم أنه ليس عند من هو أشهر منه
ثم إن الحديث أورده العراقي شاهدا للحديث الذي قبله وليس بصواب لأمرين
الأول: أنه ليس فيه أن سوء الخلق ذنب لا يغفر
الآخر: أنه ليس فيه: " وسوء الظن خطيئة تفوح " وهو تمام الحديث قبله

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১২৭ | 127 | ۱۲۷

১২৭। পাগড়ী পরে একটি সালাত (নামায/নামাজ) আদায় করা বিনা পাগড়িতে ২৫টি সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের সমতুল্য। পাগড়ী সহ একটি জুম’আহ পাগড়ী ছাড়া ৭০টি জুম’আর সমতুল্য। ফেরেশতাগণ পাগড়ী পরা অবস্থায় জুম’আতে উপস্থিত হন এবং পাগড়ীধারীদের প্রতি সূর্যাস্ত পর্যন্ত অব্যাহতভাবে রহমত কামনা করতে থাকেন।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি ইবনুন নাজ্জার তার সনদে মহাম্মাদ ইবনু মাহদী আল-মারওয়াযী পর্যন্ত ... বর্ণনা করেছেন। ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে (৩/২৪৪) বলেছেনঃ এ হাদীসটি জাল। এটির সনদে আব্বাস ইবনু কাসীর রয়েছেন। তার বিবরণ ইবনু ইউনুসের "আল-গুরাবা" এবং তার “আয-যায়ল” নামক গ্রন্থে দেখছিনা। বর্ণনাকারী আবু বিশর ইবনু সায়য়ারকে আবু আহমাদ হাকিম তার “আল-কুনা” গ্রন্থে উল্লেখ করেননি। এছাড়া আরেক বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু মাহদী আল-মারওয়াযীকে চিনি না। আর মাহদী ইবনু মায়মূনকে সালিম হতে বর্ণনাকারী হিসাবে চিনি না, তিনি বাসরীও নন।

সুয়ূতী তার “যায়লুল আহাদীসিল মাওযুআহ” গ্রন্থে (পৃ. ১১০) হাদীসটি উল্লেখ করে আসকালানীর কথাকে সমর্থন করেছেন। ইবনুল আররাকও (২/১৫৯) তার অনুসরণ করেছেন। তা সত্ত্বেও সুয়ূতী তার “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন।

আলী আল-কারী হাদীসটি তার “আল-মাওযুআত” গ্রন্থে (পৃ. ৫১) মানুকী হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ هذا حديث باطل এ হাদীসটি বাতিল।’



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

صلاة بعمامة تعدل خمسا وعشرين صلاة بغير عمامة، وجمعة بعمامة تعدل سبعين جمعة بغير عمامة، إن الملائكة ليشهدون الجمعة معتمين، ولا يزالون يصلون على أصحاب العمائم حتى تغرب الشمس
موضوع

-

أخرجه ابن النجار بسنده إلى محمد بن مهدي المروزي أنبأنا أبو بشر بن سيار الرقي حدثنا العباس بن كثير الرقي عن يزيد بن أبي حبيب قال: قال لي مهدي بن ميمون: دخلت على سالم بن عبد الله بن عمر وهو يعتم، فقال لي: يا أبا أيوب ألا أحدثك بحديث تحبه وتحمله وترويه؟ قلت: بلى، قال: دخلت على عبد الله بن عمر وهو يعتم فقال: يا بني أحب العمامة، يا بني اعتم تجل وتكرم وتوقر، ولا يراك الشيطان إلا ولى هاربا إني سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول
فذكره، قال الحافظ ابن حجر في " لسان الميزان " (3 / 244) : هذا حديث موضوع ولم أر للعباس بن كثير في " الغرباء " لابن يونس ولا في " ذيله " لابن الطحان ذكرا، وأما أبو بشر بن سيار فلم يذكره أبو أحمد الحاكم في " الكنى " وما عرفت محمد بن مهدي المروزي، ولا مهدي بن ميمون الراوي للحديث المذكور عن سالم وليس هو البصري المخرج في " الصحيحين " ولا أدري ممن الآفة
ونقله السيوطي في " ذيل الأحاديث الموضوعة " (ص 110) وأقره وتبعه ابن عراق (159 / 2)
ثم ذكر السيوطي أنه أخرجه ابن عساكر في " تاريخه " من طريق عيسى بن يونس والديلمي من طريق سفيان بن زياد المخرمي كلاهما عن العباس بن كثير به
قلت: ثم ذهل عن هذا السيوطي فأورد الحديث في " الجامع الصغير " من رواية ابن عساكر عن ابن عمر، وتعقبه المناوي في شرحه بأن ابن حجر قال: إنه موضوع ونقله عنه السخاوي وارتضاه
قلت: ولو تعقبه بما نقله السيوطي نفسه في " الذيل " عن ابن حجر كان أولى كما لا يخفى، وكلام السخاوي المشار إليه في " المقاصد " (ص 124)
ونقل الشيخ على القاري في " موضوعاته " (ص 51) عن المنوفي أنه قال: هذا حديث باطل
ثم تعقبه القاري بأن السيوطي أورده في " الجامع الصغير " مع التزامه بأنه لم يذكر فيه الموضوع ونقل العجلوني نحوه عن النجم
قلت: وهذا تعقب باطل تغني حكايته عن إطالة الرد عليه، وما جاءهم ذلك إلا من حسن ظنهم بعلم السيوطي، وعدم معرفتهم بما في " الجامع الصغير " من الأحاديث الموضوعة التي نص هو نفسه في غير " الجامع " على وضع بعضها كهذا الحديث وغيره مما سبق ويأتي، فكن امرءا لا يعرف الحق بالرجال، بل اعرف الحق تعرف الرجال
وقد علمت مما سبق أن الحافظ ابن حجر إنما حكم بوضع هذا الحديث من قبل ما فيه من مبالغة في الفضل لأمر لا يشهد له العقل السليم بمثل هذا الأجر، ولولا هذا لاكتفى بتضعيفه لأنه ليس في سنده من يتهم، فإذا عرفت هذا أمكنك أن تعلم حكم الحديث الذي بعده من باب أولى

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১২৮ | 128 | ۱۲۸

১২৮। পাগড়ী সহ দু’রাকাত সালাত (নামায/নামাজ) আদায় বিনা পাগড়ীতে সত্তর রাকা’য়াত সালাত (নামায/নামাজ) আদায়ের চাইতেও উত্তম।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি সুয়ূতী “জমেউস সাগীর” গ্রন্থে দাইলামীর বর্ণনায় জাবের (রাঃ) হতে উল্লেখ করেছেন। এ হাদীসটি তার “যায়লুল আহাদীসিল মাওযুআহ” গ্রন্থে উল্লেখ করা উচিত ছিল। যেমনটি পূর্বে উল্লেখিত হাদীসের ক্ষেত্রে করেছেন। কারণ এটিতে পূর্বেরটির চেয়ে বেশী ফযীলত বর্ণনা করা হয়েছে। এর উপর জালের হুকুম লাগানোটা বেশী উপযোগী ছিল। এটির সনদে তারেক ইবনু আব্দির রহমান নামক এক বর্ণনাকারী আছেন। তাকে যাহাবী দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত করে বলেছেনঃ নাসাঈ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। বুখারী তাকে দুর্বলদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

হাকিম বলেন তিনি হেফযের ক্ষেত্রে ক্রটযুক্ত ছিলেন। এ কারণে সাখাবী বলেনঃ এ হাদীসটি সাব্যস্ত হয়নি।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তারেক ইবনু আব্দির রহমান দু'জন রয়েছেন। একজন হচ্ছেন বাজালী কুফী। তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব হতে বর্ণনা করেছেন। অপরজন হচ্ছেন কুরাশী হিজাজী। তিনি 'আলা ইবনু আব্দির রহমান হতে বর্ণনা করেছেন। এ দ্বিতীয়জন সম্পর্কে জানা যায় না। তার সম্পর্কে নাসাঈ বলেনঃ তিনি শক্তিশালী নন। এ হাদীসের সনদে এ দ্বিতীয়জনই রয়েছেন।

ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বালকে নাসীবীর শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু নু’য়াইম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তাকে বলা হয়েছিল তিনি সোহাইল হতে, আর সোহাইল তার পিতা হতে, তার পিতা আবু হুরাইরাহ (রাঃ) হতে, আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করেছেন। ‘পাগড়ী সহ সলাত আদায় করা বিনা পাগড়ীতে সত্তরবার সলাত আদায় করার চেয়েও উত্তম? উত্তরে তিনি (আহমাদ ইবনু হাম্মাল) বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, এটি বাতিল হাদীস।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

ركعتان بعمامة خير من سبعين ركعة بلا عمامة
موضوع

-


أورده السيوطي في " الجامع الصغير " برواية الديلمي في " مسند الفردوس " عن جابر! وكان حقه أن يورده في " ذيل الأحاديث الموضوعة " كما صنع بالحديث الذي قبله، لأنه أشد مبالغة في فضل الصلاة بالعمامة من ذاك فكان الحكم عليه بالوضع أولى وأحرى
هذا وقال المناوي في " شرح الجامع ": ورواه عن جابر أيضا أبو نعيم ومن طريقه وعنه تلقاه الديلمي، فلوعزاه إلى الأصل لكان أولى، ثم إن فيه طارق بن عبد الرحمن، أورده الذهبي في الضعفاء
وقال: قال النسائي: ليس بقوى عن محمد بن عجلان ذكره البخاري " في الضعفاء "، وقال الحاكم: سيء الحفظ ومن ثم قال السخاوي: هذا الحديث لا يثبت
قلت: محمد بن عجلان ثقة حسن الحديث، فلا يعل بمثله هذا الحديث، وطارق بن عبد الرحمن اثنان أحدهما البجلي الكوفي روى عن سعيد بن المسيب ونحوه، وهو ثقة من رجال الشيخين والآخر القرشي الحجازي يروي عن العلاء بن عبد الرحمن ونحوه قال الذهبي: لا يكاد يعرف، قال النسائي: ليس بالقوي، فالظاهر أن هذا هو المراد وليس الأول لأنه في طبقته وذكره ابن حبان في " الثقات " فلعله هو علة الحديث وإلا فمن دونه
ويؤسفني أنني لم أقف على سند الحديث لأنظر فيه مع أن المناوي ذكر فيما تقدم أن أبا نعيم رواه أيضا، ولم أجده في " البغية في ترتيب أحاديث الحلية " للشيخ عبد العزيز بن محمد بن الصديق الغماري فالله أعلم
ثم رأيت بخط الحافظ ابن رجب الحنبلى في قطعة من شرحه على الترمذي (83 / 2) ما نصه: سئل أبو عبد الله يعني أحمد بن حنبل عن شيخ نصيبي يقال: محمد بن نعيم قيل له: روى شيئا عن سهيل عن أبيه عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم
" صلاة بعمامة أفضل من سبعين صلاة بغير عمامة "، قال: هذا كذاب، هذا باطل
ثم رأيت رواية أبي نعيم، فتأكدت أن آفة الحديث ممن دون طارق بن عبد الرحمن، فخرجته فيما سيأتي (برقم 5699)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১২৯ | 129 | ۱۲۹

১২৯। পাগড়ীসহ সালাত (নামায/নামাজ) পড়া দশ হাজার ভাল কর্মের সমতুল্য।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি সুয়ূতী “যায়লুল আহাদীসিল মাওযু'আহ” গ্রন্থে (পৃ. ১১১) দাইলামীর বর্ণনায় (২/২৫৬) উল্লেখ করেছেন। এ সূত্রে আবান নামক এক বর্ণনাকারী রয়েছেন। অতঃপর তিনি (সুয়ূতী) বলেনঃ আবান মিথ্যার দোষে দোষী।

ইবনুল আররাক “তানযীহুশ শারীয়াহ" গ্রন্থে (২/২৫৭) তার এ কথার অনুকরণ করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সাখাবী “মাকাসীদুল হাসানা” গ্রন্থে (পৃ. ১২৪) তার শাইখ হাফিয ইবনু হাজারের অনুকরণ করে বলেনঃ অবশ্যই হাদীসটি জাল। মানুকী বলেনঃ অবশ্যই উক্ত হাদীসটি বাতিল, যেমনভাবে শাইখ আল-কারী তার “আল-মাওযুআত” গ্রন্থে (পৃ. ৫১) বলেছেন।

উল্লেখ্য এ হাদীসটিসহ উপরের হাদীস দুটি বাতিল তাতে আমার নিকট কোন সন্দেহ নেই। কারণ জামা'আতের সাথে সলাত আদায়ের চেয়েও পাগড়ী পরে সলাত আদায় করলে তা বেশী সাওয়াব হবে এটি বোধগম্য নয়। কারণ পাগড়ী সম্পর্কে সর্বোচ্চ বলা যেতে পারে এটি মুস্তাহাব। এমনকি পাগড়ী পরা অভ্যাসগত সুন্নাত ইবাদাতগত সুন্নাত নয়, এটিই সঠিক। অতএব এরূপ ফযীলত সম্বলিত হাদীস বাতিল হওয়ারই উপযোগী।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الصلاة في العمامة تعدل بعشرة آلاف حسنة
موضوع

-

أورده السيوطي في " ذيل الأحاديث الموضوعة " (ص 111) من رواية الديلمي (2 / 256) بسنده إلى أبان عن أنس مرفوعا
وقال: أبان متهم وتبعه ابن عراق في " تنزيه الشريعة " (257 / 2)
قلت: وقال الحافظ السخاوي في " المقاصد " (ص 124) تبعا لشيخه الحافظ ابن حجر: إنه موضوع وقال المنوفي: إنه حديث باطل كما في " موضوعات " الشيخ القاري (ص 51)
ولا شك عندي في بطلان هذا الحديث وكذا الحديثين قبله، لأن الشارع الحكيم يزن الأمور بالقسطاص المستقيم، فغير معقول أن يجعل أجر الصلاة في العمامة مثل أجر صلاة الجماعة بل أضعاف أضعافها! مع الفارق الكبير بين حكم العمامة وصلاة الجماعة، فإن العمامة غاية ما يمكن أن يقال فيها: إنها مستحبة، والراجح أنها من سنن العادة لا من سنن العبادة، أما صلاة الجماعة فأقل ما قيل فيها: إنها سنة مؤكدة، وقيل: إنها ركن من أركان الصلاة لا تصح إلا بها، والصواب أنها فريضة تصح الصلاة بتركها مع الإثم الشديد، فكيف يليق بالحكيم العليم أن يجعل ثوابها مساويا لثواب الصلاة في العمامة بل دونها بدرجات! ولعل الحافظ ابن حجر لاحظ هذا المعنى حين حكم على الحديث بالوضع
ومن آثار هذه الأحاديث السيئة وتوجيهاتها الخاطئة أننا نرى بعض الناس حين يريد الدخول في الصلاة يكور على رأسه أو طربوشه منديلا لكي يحصل بزعمه على هذا الأجر المذكور مع أنه لم يأت عملا يطهر به نفسه ويزكيها! ومن العجائب أن ترى بعض هؤلاء يرتكبون إثم حلق اللحية فإذا قاموا إلى الصلاة لم يشعروا بأي نقص يلحقهم بسبب تساهلهم هذا ولا يهمهم ذلك أبدا، أما الصلاة في العمامة فأمر لا يستهان به عندهم! ومن الدليل على هذا أنه إذا تقدم رجل ملتح يصلي بهم لم يرضوه حتى يتعمم، وإذا تقدم متعمم ولوكان عاصيا بحلقه للحيته لم يزعجهم ذلك ولم يهتموا له فعكسوا شريعة الله حيث استباحوا ما حرمه، وأو جبوا، أو كادوا أن يوجبوا ما أباحه، والعمامة إن ثبت لها فضيلة فإنما يراد بها العمامة التي
يتزين بها المسلم في أحواله العادية! ويتميز بها عن غيره من المواطنين، وليس يراد بها العمامة المستعارة التي يؤدي بها عبادة في دقائق معدودة، فما يكاد يفرغ منها حتى يسجنها في جيبه! والمسلم بحاجة إلى عمامة خارج الصلاة
أكثر من حاجته إليها داخلها بحكم أنها شعار للمسلم تميزه عن الكافر ولا سيما في هذا العصر الذي اختلطت فيه أزياء المؤمن بالكافر حتى صار من العسير أن يفشي المسلم السلام على من عرف ومن لم يعرف، فانظر كيف صرفهم الشيطان عن العمامة النافعة إلى العمامة المبتدعة، وسول لهم أن هذه تكفي وتغني عن تلك وعن
إعفاء اللحية التي تميز المسلم من الكافر كما قال صلى الله عليه وسلم
" خالفوا المشركين احفوا وفي رواية قصوا الشوارب وأو فوا اللحى "، رواه الشيخان وغيرهما عن ابن عمر وغيره وهو مخرج في " حجاب المرأة المسلمة " (ص 93 - 95)
وما مثل من يضع هذه العمامة المستعارة عند الصلاة إلا كمثل من يضع لحية مستعارة عند القيام إليها! ولئن كنا لم نشاهد هذه اللحى المستعارة في بلادنا فإني لا أستبعد أن أراها يوما ما بحكم تقليد كثير من المسلمين للأوربيين. فقد قرأت في " جريدة العلم الدمشقية " عدد (2485) بتاريخ 25 ذي القعدة سنة 1364 هـ ما نصه: لندن - عندما اشتدت وطأة الحر، وانعقدت جلسة مجلس اللوردات سمح لهم الرئيس بأن يخلعوا لحاهم المستعارة
فهل من معتبر؟

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১৩০ | 130 | ۱۳۰

১৩০। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা চোখে কালো মনি বিশিষ্ট সুন্দর চেহারার অধিকারীদের শাস্তি দেবেন না।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি দাইলামী বর্ণনা করেছেন। তার সূত্রে বেনজীর ইবনু মানসূর, জা'ফার ইবনু মুহাম্মাদ আল-আবহারী, আলী ইবনু আহমাদ আল-হারুরী, জাফর ইবনু আহমাদ আর-দাকাক এবং আব্দুল মালেক ইবনু মুহাম্মাদ আর-রুকাশী রয়েছেন। সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (১/১১৩-১১৪) উল্লেখ করে এটি সম্পর্কে কিছু না বলে চুপ থেকেছেন।

আমি এটি সম্পর্কে আলোচনা করা প্রয়োজন মনে করছি এর সমস্যা কি তা প্রকাশ করার জন্য। আমাকে এটি সম্পর্কে আমার অতি আপনজন আমার পিতা বিশেষভাবে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি বলছিঃ এ হাদীসটির সনদে রুকাশীর নীচের বর্ণনাকারীগণ সকলেই মাজহুল। তাদের কারো সম্পর্কে আমার নিকট যে সব আসমায়ে রিজালের (বর্ণনাকারীদের তথ্য সম্বলিত) গ্রন্থ রয়েছে সে সবের কোনটিতেই (তাদের) আলোচনা পাইনি। তবে এ রুকাশীর জীবনী সম্পর্কে “তাহযীবুত তাহযীব” (৬/৪১৯-৪২১) এবং “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (১০/৪২৫-৪২৭) আলোচনা করা হয়েছে।  তিনি হচ্ছেন ইবনু মাজার এক বর্ণনাকারী।

তিনি সত্যবাদী হলেও যখন তিনি বাগদাদে আগমন করেন তখন তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটেছিল। ফলে তার হাদীসের সনদ এবং মতনগুলোতে বহু ভুলের সমাহার ঘটে। সম্ভবত এ হাদীসটি সেগুলোর একটি। নতুবা এটি সে সব মাজহুল বর্ণনাকারীদের কোন একজনের তৈরিকৃত।

ইবনুল আররাক “তানীহুশ শারীয়াহ" গ্রন্থে (১/১৭৪) বলেনঃ তার সনদে জাফার ইবনু আহমাদ আদ-দাকাক রয়েছেন। তিনিই হচ্ছেন হাদীসটির বিপদ।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এ হাদীসটি বাতিল হওয়ার ব্যাপারে কোন প্রকার সন্দেহ পোষণ করছি না। কারণ এটি শরীয়তে যা বর্ণিত হয়েছে তার সাথে বিরোধপূর্ণ। যেমন বলা হয়েছে প্রতিদান দেয়া হবে অর্জন এবং কর্মের উপর ভিত্তি করে।

فَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ ٭ وَمَن يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ

অর্থঃ “যে ব্যক্তি এক অণু পরিমাণ নেক আমল করবে সে তা দেখতে পাবে, আর যে ব্যক্তি এক অণু পরিমাণ বদ আমল করবে সে তা দেখতে পাবে।" (সূরা যিলযাল আয়াতঃ ৭-৮)

এমন কিছুর উপর ভিত্তি করে নয় যা মানুষের কৃত নয় এবং যাতে মানুষের কোন হাত নেই, যেমন ভাল-মন্দ। এ দিকেই ইঙ্গিত করে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

 إن الله لا ينظر إلى أجسادكم ولا إلى صوركم ولكن ينظر إلى قلوبكم وأعمالكم

অর্থঃ নিশ্চয় আল্লাহ দৃষ্টি দিবেন না তোমাদের শরীর এবং তোমাদের আকৃতির দিকে, বরং দৃষ্টি দিবেন তোমাদের অন্তর ও তোমাদের কর্ম সমূহের দিকে। এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

অতএব আলোচ্য হাদীসটি যে বানোয়াট তাতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

إن الله تعالى لا يعذب حسان الوجوه سود الحدق
موضوع

-

أخرجه الديلمي، أنبأنا بنجير بن منصور عن جعفر بن محمد بن الحسين الأبهري وعن علي بن أحمد الحروري عن جعفر بن أحمد الدقاق عن عبد الملك بن محمد الرقاشي عن عمرو بن مرزوق عن شعبة عن قتادة عن أنس مرفوعا
أورده السيوطي في " اللآليء " (1 / 113 ـ 114) ، عند كلامه على الحديث الآتي بعد هذا، كأنه ساقه شاهدا له، وسكت عنه، فرأيت أن أتكلم عنه وأكشف عن علته ولا سيما وقد سألني عنه أقرب الناس إلي وهو والدي رحمه الله وجزاه الله عني خير الجزاء، فأقول: علة هذا الحديث من الرقاشي فمن دونه، وكلهم مجهولون لم
أجد لهم ذكرا في شيء من كتب الرجال التي تحت يدي إلا الرقاشي فإنه من رجال ابن ماجه وله ترجمة واسعة في " تهذيب التهذيب " (6 / 419 - 421) و" تاريخ بغداد " (10 / 425 - 427) ويتلخص مما جاء فيها أنه في نفسه صدوق، لكنه اختلط حين جاء بغداد فكثر خطؤه في الأسانيد والمتون، فلعل هذا الحديث من
تخاليطه! وإلا فهو من وضع أحد أولئك المجهولين، وقال ابن عراق في " تنزيه الشريعة " (1 / 174) في سنده جعفر بن أحمد الدقاق، وهو آفته فيما أظن، والله أعلم
قلت: ولست أشك في بطلان هذا الحديث لأنه يتعارض مع ما ورد في الشريعة، من أن الجزاء إنما يكون على الكسب والعمل {فمن يعمل مثقال ذرة خيرا يره، ومن يعمل مثقال ذرة شرا يره} لا على ما لا صنع ولا يد للإنسان فيه كالحسن أو القبح، وإلى هذا أشار صلى الله عليه وسلم بقوله: " إن الله لا ينظر إلى أجسادكم ولا إلى صوركم ولكن ينظر إلى قلوبكم وأعمالكم " رواه مسلم (8 / 11) ، وغيره وهو مخرج في " غاية المرام " (415) ، وراجع التعليق عليه في مقدمتي على " رياض الصالحين " للنووي (ص: ل ـ ن) ، فإنه مهم جدا، ومثل هذا الحديث الموضوع في البطلان الحديث الآتي

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [121]  থেকে  [130]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [342]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।