• ৭০৪৫৯ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৬৯৭০ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [500] টি | অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস | দেখানো হচ্ছে   [101]  থেকে  [110]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১০১ | 101 | ۱۰۱

১০১। আমি ভুলিনা, কিন্তু আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয় যাতে করে আমি বিধান রচনা করতে পারি।

হাদীসটি বাতিল, এর কোন ভিত্তি নেই।

এটিকে উক্ত ভাষায় গাযালী “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (৪/৩৮) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসাবে উল্লেখ করেছেন।

হাফিয ইরাকী বলেনঃ ইমাম মালেক হাদীসটি বিনা সনদে তার নিকট পৌঁছেছে বলে উল্লেখ করেছেন। ইবনু আবদিল বার বলেনঃ হাদীসটি “আল-মুওয়াত্তা" গ্রন্থে সনদহীন মুরসাল হিসাবে পাওয়া যায়। হামযা আল-কিনানী বলেনঃ ইমাম মালেক ছাড়া অন্য কারো সূত্রে এটি বর্ণিত হয়নি। আবু তাহের আনমাতী বলেনঃ এটিকে আমি দীর্ঘ সময় খুঁজেছি, ইমাম এবং হাফিযগণকে এটির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি, কিন্তু সফলকাম হইনি এবং কারো নিকট শুনিনি যে, তিনি সফল হয়েছেন।

হাফিয ইবনু হাজার বলেনঃ যারকানী “শরহুল মুওয়াত্তা” গ্রন্থে (১/২০৫) উল্লেখ করেছেন। এর কোন ভিত্তি নেই। এছাড়া হাদীসটি বুখারী ও মুসলিম শরীফে বর্ণিত নিম্নের সহীহ হাদীস বিরোধীঃ

إنما أنا بشر أنسى كما تنسون، فإذا نسيت فذكروني

অর্থঃ আমি মানুষ; আমি ভুলে যাই যেরূপভাবে তোমরা ভুলে যাও। অতএব আমি যখন ভুলে যাব তখন তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিবে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

أما إني لا أنسى، ولكن أنسى لأشرع
باطل لا أصل له

-

وقد أورده بهذا اللفظ الغزالي في " الإحياء " (4 / 38) مجزوما بنسبته إليه صلى الله عليه وسلم فقال العراقي في " تخريجه ": ذكره مالك بلاغا بغير إسناد، وقال ابن عبد البر: لا يوجد في " الموطأ " إلا مرسلا لا إسناد له، وكذا قال حمزة الكناني: إنه لم يرد من غير طريق مالك، وقال أبو طاهر الأنماطي: وقد طال بحثي عنه وسؤالي عنه للأئمة والحفاظ فلم أظفر به ولا سمعت عن أحد أنه ظفر به، قال: وادعى بعض طلبة الحديث أنه وقع له مسندا
قلت: فالعجب من ابن عبد البر كيف يورد الحديث في " التمهيد " جازما بنسبته إلى النبي صلى الله عليه وسلم في غير موضع منه، فانظر (1 / 100 و5 / 108 و10 / 184) ؟
قلت: الحديث في " الموطأ " (1 / 161) عن مالك أنه بلغه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " إني لأنسى أو أنسى لأسن "
فقول المعلق على " زاد المعاد " (1 / 286) ، وإسناده منقطع ليس بصحيح بداهة لأنه كما ترى بلاغ لا إسناد له، ولذلك قال الحافظ فيما نقل الزرقاني في " شرح الموطأ " (1 / 205) : لا أصل له
وظاهر الحديث أنه صلى الله عليه وسلم لا ينسى بباعث البشرية وإنما ينسيه الله ليشرع، وعلى هذا فهو مخالف لما ثبت في " الصحيحين " وغيرهما من حديث ابن مسعود مرفوعا: " إنما أنا بشر أنسى كما تنسون، فإذا نسيت فذكروني "، ولا ينافي هذا أن يترتب على نسيانه صلى الله عليه وسلم حكم وفوائد من البيان والتعليم، والقصد أنه لا يجوز نفي النسيان الذي هو من طبيعة البشر عنه صلى الله عليه وسلم لهذا الحديث الباطل! لمعارضته لهذا الحديث الصحيح

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১০২ | 102 | ۱۰۲

১০২। লোকেরা ঘুমিয়ে রয়েছে, যখন তাঁরা মৃত্যুবরণ করবে; তখন তাঁরা সতর্ক হবে (জাগ্রত হবে)।

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

গাযালী এটিকে মারফু বলে উল্লেখ (৪/২০) করেছেন।

হাফিয ইরাকী এবং তার অনুসরণ করে সুবকী বলেন (৪/১৭০-১৭১) কিন্তু মারফু' হিসাবে হাদীসটি পাচ্ছি না। এটিকে আলী ইবনু আবী তালিব (রাঃ)-এর কথা হিসাবে বলা হয়েছে।

অনুরূপ কথা “আল-কাশফ” গ্রন্থেও (২/৩১২) এসেছে



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

الناس نيام فإذا ماتوا انتبهو ا
لا أصل له

-

أورده الغزالي (4 / 20) مرفوعا إليه صلى الله عليه وسلم! فقال الحافظ العراقي وتبعه السبكي (4 / 170 - 171) : لم أجده مرفوعا، وإنما يعزي إلى علي بن أبي طالب، ونحوه في " الكشف " (2 / 312)

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১০৩ | 103 | ۱۰۳

১০৩। তোমরা তওবাকারীদের সাথে বস। কারন তাঁরা অতি নরম হৃদয়ের অধিকারী।

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।

গাযালী এটিকে মারফু' হিসাবে উল্লেখ করেছেন। হাফিয ইরাকী এবং তার অনুসরণ করে সুবকী (৪/১৭১) বলেছেনঃ এটিকে মারফু' হিসাবে পাচ্ছি না। হাফিয ইরাকী বলেনঃ এটি আওন ইবনু আবদিল্লাহর কথা; যা ইবনু আবিদ-দুনিয়া “আত-তওবা” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

جالسوا التوابين فإنهم أرق أفئدة
لا أصل له

-

أورده الغزالي مرفوعا إلى النبي صلى الله عليه وسلم! فقال مخرجه العراقي (4 /31) وتبعه السبكي (4 / 171) : لم أجده مرفوعا، قال العراقي: وهو من قول عون بن عبد الله رواه ابن أبي الدنيا في التوبة

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১০৪ | 104 | ۱۰٤

১০৪। যার নিকট সা’দকা করার মত কিছু থাকবে না, সে যেন ইয়াহুদীদের অভিশাপ দেয়।

হাদীসটি জাল।

খাতীব বাগদাদী এটিকে “তারীখু বাগদাদ” গ্রন্থে (১৪/২৭০) উল্লেখ করেছেন। এর সনদে ইয়াকুব ইবনু মুহাম্মাদ আয-যুহরী আছেন। তিনি সত্যবাদী, কিন্তু তিনি যার নিকট হতে বর্ণনা করেছেন তার ব্যাপারে তিনি বেপরওয়া।

ইবনু মা'ঈন বলেনঃ هذا كذب وباطل لا يحدث بهذا أحد يعقل এটি মিথ্যা ও বাতিল, যার আকল আছে তিনি এটি বর্ণনা করতে পারেন না।

ইবনুল জাওযী এটিকে তার “মাওযুআত” গ্রন্থে (২/১৫৭) আল-খাতীবের সূত্রে বর্ণনা করে বলেছেনঃ বর্ণনাকারী ইয়াকুব সম্পর্কে আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেনঃ তিনি কোন কিছুই না। সুয়ূতী তার (ইবনুল জাওযীর) সমালোচনা করেছেন এবং ইয়াকুবকে নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। কিন্তু এ বাতিল হাদীসটির কারণ প্রকাশ করতে পারেননি। সেটি হচ্ছে ইনকিতা' (সনদে বিচ্ছন্নতা)।

যাহাবী ইয়াকুবের জীবনীতে বলেনঃ যিনি এ কথা বলবেন যে, তিনি হিশাম ইবনু উরওয়া হতে বর্ণনা করেছেন তিনি ভুল করবেন। কারণ তিনি তার সাথে মিলিতই হননি। সম্ভবত তার জন্মই হয়েছে হিশামের মৃত্যুর পরে। অতঃপর বলেনঃ আরো নিকৃষ্ট সেটি যেটিকে তিনি এক ব্যক্তি হতে বর্ণনা করেছেন, আর সে ব্যক্তি হিশাম হতে বর্ণনা করেছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সম্ভবত যে ব্যক্তির নাম নেয়া হয়নি, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনে যাযান আল-মাদানী। এর সূত্রেই ইবনু আদী, সাহমী “তারীখু জুরজান" গ্রন্থে (২৮২) এবং যিয়া “আল-মুনতাকা" গ্রন্থে (২/৩৩) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। তার (আব্দুল্লাহর) সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ তার এমন হাদীস রয়েছে যেগুলো সংরক্ষিত (নিরাপদ) নয়।

যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি হালেক (ধ্বংস প্রাপ্ত)। অতঃপর এ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেনঃ এটি মিথ্যা। তার এ কথাকে ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে সমর্থন করেছেন। খাতীব বাগদাদী অন্য একটি সূত্রে হাদীসটি (১/২৫৮) বর্ণনা করেছেন। যার সনদে ইসমাঈল ইবনু মুহাম্মাদ আত-তালহী, সুলাইম আল-মাক্কী ও তালহা ইবনু আমর রয়েছেন। ইবনুল জাওযী বলেনঃ হাদীসটি সহীহ নয়, তারা সকলে মাতরূক। তালহা এবং সুলাইমকে নাসাঈ মাতরূকুল হাদীস বলেছেন। তবে তালহী মাতরূক নয়। শাইখ আলী আল-কারী এ হাদীসটি সম্পর্কে বলেন (পৃঃ ৮৫) এটি সঠিক নয়। অর্থাৎ এটি জাল।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من لم يكن عنده صدقة فليلعن اليهود
موضوع

-

أخرجه الخطيب في " تاريخ بغداد " (270 / 14) من طريق علي بن الحسين بن حبان قال: وجدت في كتاب أبي - بخط يده - قال أبو زكريا (يعني ابن معين) يعقوب بن محمد الزهري صدوق، ولكن لا يبالي عمن حدث، حدث عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة مرفوعا به، قال ابن معين: هذا كذب وباطل لا يحدث بهذا أحد يعقل، وقد أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (2 / 157) من طريق الخطيب ثم قال ابن الجوزي: يعقوب، قال أحمد بن حنبل: لا يساوي شيئا
وتعقبه السيوطي (2 / 76) بنقول أوردها، فيها توثيق ليعقوب هذا، ثم لم يكشف القناع عن علة هذا الحديث الباطل وهي الانقطاع، فقد قال الذهبي في ترجمة يعقوب: وأخطأ من قال: إنه روى عن هشام بن عروة، لم يلحقه ولا كأنه ولد إلا بعد موت هشام، ثم قال: وأردأ ما روى: عن رجل عن هشام عن أبيه عن عائشة مرفوعا هذا الحديث
قلت: ولعل هذا الرجل الذي لم يسم هو عبد الله بن محمد بن زاذان المدني وهو هالك كما يأتي، فقد أخرج الحديث ابن عدي ومن طريقه السهمي في " تاريخ جرجان " (282) وكذا الضياء في " المنتقى من مسموعاته بمرو" (33 / 2) من طريق عبد الله هذا عن أبيه عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة مرفوعا به، أورده ابن الجوزي من هذا الوجه أيضا وأعله بقوله: قال ابن عدي: عبد الله بن محمد بن زاذان له أحاديث غير محفوظة، وقال الذهبي في " الميزان ": هالك ثم ساق له هذا الحديث من طريق ابن عدي، قال الذهبي: هذا كذب، وأقره الحافظ في اللسان
وللحديث طريق أخرى رواه الخطيب أيضا (1 / 258) من طريق إسماعيل بن محمد الطلحي عن سليم يعني المكي عن طلحة بن عمرو عن عطاء عن أبي هريرة مرفوعا به وأعله ابن الجوزي بقوله: لا يصح، طلحة، وسليم، والطلحي متروك.
فتعقبه السيوطي (2 / 85) بقوله: قلت: الطلحي روى عنه ابن ماجه ووثقه مطين وذكره ابن حبان في الثقات
قلت: كأن السيوطي يشير بهذا إلى أن علة الحديث ممن فوق الطلحي هذا، وهو الصواب، فإن سليما هذا هو ابن مسلم الخشاب، قال النسائي: متروك الحديث، وقال أحمد: لا يساوي حديثه شيئا، وطلحة بن عمرو قال النسائي: متروك الحديث وقد أنكر عليه عبد الرحمن بن مهدي أحاديث حدث بها الناس على مصطبة فقال
أستغفر الله العظيم وأتوب إليه منها! فقال له: اقعد على مصطبة وأخبر الناس فقال: أخبروهم عني! ثم قال السيوطي: وقد سرق هذا الحديث أبو الحسن محمد بن أحمد بن سهل الباهلي فرواه عن وهب بن بقية عن سفيان بن عيينة عن الزهري عن أبيه عن عائشة، أخرجه ابن عدي (318 / 1) وقال: الزهري لم يروعن أبيه حرفا والحديث باطل، والحمل فيه على أبي الحسن هذا فإنه كان ممن يضع الحديث إسنادا ومتنا، ويسرق من حديث الضعاف ويلزقها على قوم ثقات
تنبيه: أورد هذا الحديث الشيخ العجلوني في " الكشف " (2 / 277) ولم يتكلم عليه بشيء هو ولا من نقله عنه وهو ابن حجر الهيتمي! وهذا مما يدل على أن الشيخ العجلوني ليس من النقاد وإلا كيف يخفى عليه حال هذا الحديث الباطل
وقد قال الشيخ علي القاري في هذا الحديث (ص 85) : لا يصح، يعني أنه موضوع
ونقل (ص 109) عن ابن القيم أن من علامات الحديث الموضوع أن يكون باطلا في نفسه فيدل بطلانه على أنه ليس من كلامه عليه الصلاة والسلام، ثم ساق أحاديث هذا منها، وقال: فإن اللعنة لا تقوم مقام الصدقة أبدا

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১০৫ | 105 | ۱۰۵

১০৫। যে ব্যাক্তি তার ভাইয়ের চাহিদানুযায়ী সংহতি প্রকাশ করবে, তাকে আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন।

হাদীসটি জাল।

এটিকে উকায়লী “আয-যুয়াফা" গ্রন্থে (৪৩৬, ৪৩৭), আবু নু’য়াইম “আখবারু আসবাহান” গ্রন্থে (২/৬৬) নাসর ইবনু নাজীহ আল-বাহিলী সূত্রে উমার আবু হাফস হতে ... বর্ণনা করেছেন।

উকায়লী বলেনঃ নাসর এবং উমার উভয়েই বর্ণনার দিক দিয়ে মাজহুল। হাদীসটি নিরাপদ নয়।

ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে “মাওযুআত” গ্রন্থে (২/১৭১) উল্লেখ করে বলেছেনঃ موضوع، عمر متروك এটি বানোয়াট, উমার একজন মাতরূক বর্ণনাকারী। হাফিয ইরাকী তার এ কথাকে “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে (২/১১) সমর্থন করেছেন।

কিন্তু সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/৮৭) তার সমালোচনা করে বলেছেনঃ হাদীসটিকে বাযযার এবং তাবারানী বর্ণনা করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ আবু হাফস শক্তিশালী ছিলেন না।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তার (সুয়ূতীর) এ কথায় খুবই শিথিলতা করা হয়েছে। কারণ তিনি (আবু হাফস) খুবই দুর্বল, এমনকি তার সম্পর্কে ইবনু খারাশ বলেনঃ كذاب يضع الحديث তিনি মিথ্যুক, হাদীস জাল করতেন।

অতঃপর সুয়ূতী তার শাহেদ হিসাবে নিম্নের হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। যাতে মিথ্যার দোষে দোষী বর্ণনাকারী রয়েছেন। অতএব তার এ সমালোচনা অর্থহীন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من وافق من أخيه شهو ة غفر الله له
موضوع

-

رواه العقيلي في " الضعفاء " (436، 437) وأبو نعيم في " أخبار أصبهان " (2 / 66) من طريق نصر بن نجيح الباهلي قال حدثنا عمر أبو حفص عن زياد النميري عن أنس بن مالك عن أبي الدرداء مرفوعا، قال العقيلي: ونصر وعمر مجهولان بالنقل، والحديث غير محفوظ، ومن طريق العقيلي أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (2 / 171) وقال: موضوع، عمر متروك، وأقره الحافظ العراقي في " تخريج الإحياء " (2 / 11) وأما السيوطي فتعقبه في " اللآليء " (2 /87) بقوله: قلت: أخرجه البزار والطبراني وقال: أبو حفص لم يكن بالقوي
قلت: هذا القول فيه تساهل كثير فالرجل شديد الضعف حتى قال ابن خراش: كذاب يضع الحديث، ثم ذكر له السيوطي شاهدا وهو الحديث الآتي، وفيه متهم كما يأتي فلا قيمة لهذا التعقيب

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১০৬ | 106 | ۱۰٦

১০৬। যে ব্যাক্তি তার মুসলিম ভাইকে তার চাহিদানুযায়ী পানাহার করাবে, আল্লাহ তার উপর জাহান্নামকে হারাম করে দিবেন।

হাদীসটি জাল।

বাইহাকী এটিকে “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে তার সনদে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেনঃ হাদীসটি এ সনদে মুনকার।

আমি (আলবানী) বলছিঃ এর কারণ হচ্ছে বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ ইবনু আবদিস সালাম (তিনি হচ্ছেন ইবনুন নূ'মান)। তার সম্পর্কে ইবনু আদী বলেনঃ كان ممن يستحل الكذب তিনি সেই ব্যাক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা মিথ্যা বলাকে হালাল জানতেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ সুয়ূতী এ হাদীসটিকে “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/৮৭) উপরেরটির শাহেদ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। অথচ সেটিও জাল। আর তিনি দুটিকেই “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من أطعم أخاه المسلم شهو ته حرمه الله النار
موضوع

-

أخرجه البيهقي في " شعب الإيمان " بإسناده إلى محمد بن عبد السلام حدثنا عبد الله بن مخلد بن خالد التميمي صاحب أبي عبيد حدثنا عبد الله بن المبارك عن هشام عن ابن سيرين عن أبي هريرة مرفوعا به، وقال البيهقي: هو بهذا الإسناد منكر.
قلت: وعلته محمد بن عبد السلام وهو ابن النعمان، وقال ابن عدي: كان ممن يستحل الكذب
قلت: وهذا الحديث ذكره السيوطي في " اللآليء " (2 / 87) شاهدا للحديث الذي قبله، وقد تبين أنه موضوع أيضا، وكلا الحديثين أوردهما في الجامع الصغير

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১০৭ | 107 | ۱۰۷

১০৭। যে ব্যাক্তি তার ভাইকে তার চাহিদানুযায়ী তৃপ্তি দিবে, আল্লাহ তার জন্য দশ লক্ষ সাওয়াব লিপিবদ্ধ করবেন, তার নিকট হতে দশ লক্ষ মন্দ কর্মকে মুছে ফেলবেন, তার জন্য দশ লক্ষ মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন এবং আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউস, জান্নাতু আদন ও জান্নাতুল খুলদ এ তিনটি জান্নাত থেকে পানাহার করাবেন।

হাদীসটি জাল।

এটিকে গাযালী “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (২/১১) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস হিসাবে উল্লেখ করেছেন। সুবকী “আত-তাবাকাত” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি এটির কোন সনদ পাননি।

তবে হাফিয ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে বলেনঃ এটিকে ইবনুল জাওযী “আল-মাওযূ'আত” গ্রন্থে আবূ যুবায়ের হতে মুহাম্মাদ ইবনু নাঈমের বর্ণনায় উল্লেখ করে বলেছেনঃ ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল বলেনঃ এটি বাতিল ও মিথ্যা। অনুরূপ কথা যাহাবীর “আল-মীযান” গ্রন্থে এবং ইবনু হাজারের “লিসানুল মীযান” গ্রন্থেও বলা হয়েছে।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তবে ইবনুল জাওযী হাদীসটিকে (২/১৭২) (... ألف ألف حسنة) এ পর্যন্ত উল্লেখ করেছেন।

হাদীসটি সম্পর্কে তার মন্তব্যকে সুয়ূতী “আল-লাআলী” (২/৮৭) গ্রন্থে সমর্থন করেছেন। অতঃপর ইবনু আররাকও “তানযীহুশ শারীয়াহ" গ্রন্থে (২/২৬২) তা সমর্থন করেছেন। হাদীসটি মুয়াফফাক উদ্দীন ইবনু কুদামা “আল-মুন্তাখাব” গ্রন্থে (১০/১৯৬/১) উল্লেখ করে ইমাম আহমাদের উদ্ধৃতিতে বলেছেনঃ هذا كذب هذا باطل এটি মিথ্যা, এটি বাতিল।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

من لذذ أخاه بما يشتهي كتب الله له ألف ألف حسنة، ومحى عنه ألف ألف سيئة، ورفع له ألف ألف درجة وأطعمه الله من ثلاث جنات: جنة الفردوس، وجنة عدن، وجنة الخلد
موضوع

-

أورده الغزالي في " الإحياء " (2 / 11) جازما بنسبته إلى النبي صلى الله عليه وسلم! وقال السبكي في " الطبقات ": إنه لم يجد له إسنادا، وأما العراقي فقال في " تخريج الإحياء ": وذكره ابن الجوزي في " الموضوعات " من رواية محمد ابن نعيم عن أبي الزبير عن جابر، وقال أحمد بن حنبل: هذا باطل كذب، وكذا في " الميزان " و اللسان
قلت: لكن ابن الجوزي إنما أورد الحديث (2 / 172) إلى قوله: (ألف ألف حسنة) دون باقيه، وأقره السيوطي في " اللآليء " (2 / 87) ثم ابن عراق في " تنزيه الشريعة " (262 / 2) وأورده موفق الدين بن قدامة في " المنتخب " (10 / 196 / 1) ونقل عن أحمد أنه قال: هذا كذب هذا باطل

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১০৮ | 108 | ۱۰۸

১০৮। তিনি আংগুর খেতেন টুকরো টুকরো করে।

হাদীসটি জাল।

হাদীসটি ইবনু আদী “আল-কামিল” (১/২৮০) গ্রন্থে এবং বাইহাকী তার সূত্রে “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে (২/২০১/১) উল্লেখ করেছেন। এ সনদে সুলায়মান ইবনু রাবী', কাদিহ্ ইবনু রাহমা এবং হুসাইন ইবনু কাইস রয়েছেন। ইবনু আদী কাদিহ সম্পর্কে বলেনঃ তিনি যা কিছু বর্ণনা করেছেন তা নিরাপদ নয় এবং তার সনদ এবং মতনগুলোর কোনটিরই অনুসরণ করা যায় না। ইবনুল জাওযী ইবনু আদী সূত্রে তার “মাওযু'আত” গ্রন্থে (২/২৮৭) হাদীসটি উল্লেখ করে বলেছেনঃ হুসাইন কিছুই না, কাদিহ মিথ্যুক এবং সুলায়মানকে দারাকুতনী দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন।

বাইহাকী এবং ইবনুল জাওযী উকায়লী সূত্রে দাউদ ইবনু আবদিল জাব্বার আবৃ সুলায়মান আল-কূফী হতে হাদীসটি নিম্নের ভাষায় বর্ণনা করেছেনঃ

رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يأكل العنب خرطا

এটি সম্পর্কে উকায়লী বলেনঃ এটির কোন ভিত্তি নেই। দাউদ নির্ভরযোগ্য নন, তার অনুসরণ করা যায় না।

আমি (আলবানী) বলছিঃ তার (উকায়লী) সূত্রে হাদীসটি আবূ বাকর আশ-শাফেঈ “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/১১০) ও তাবারানী “মুজামুল কাবীর” গ্রন্থে (৩/১৭৪/২) উল্লেখ করেছেন।

সুয়ূতী “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/২১১০) হাদীসটি সম্পর্কে বলেনঃ এটিকে তাবারানী এবং বাইহাকী “শুয়াবুল ঈমান” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর (বাইহাকী) বলেছেনঃ তার কোন শক্তিশালী সনদ নেই। ইরাকী “তাখরীজুল ইহইয়া” গ্রন্থে হাদীসটিকে শুধু দুর্বল বলেই ক্ষান্ত হয়েছেন।

আমি (আলবানী) বলছিঃ ইরাকী এবং বাইহাকীর দুর্বল আখ্যা প্রদান ব্যাখ্যা সম্বলিত নয়। কারণ এ দাউদ সম্পর্কে ইবনু মাঈন বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। তিনি আরো বলেছেনঃ তিনি মিথ্যা বলতেন।

অতএব তার মত ব্যক্তির হাদীস, মিথ্যুক কাদিহের হাদীসের জন্য শাহেদ হওয়ার উপযুক্ত নয়। এ জন্য যাহাবী ও আসকালানী উকায়লী কর্তৃক لا أصل له এটির কোন ভিত্তি নেই একথাকে সমর্থন করেছেন।

এ কারণেই সুয়ূতী কর্তৃক হাদীসটি “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করা তার শর্তানুযায়ী সঠিক হয়নি।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

كان يأكل العنب خرطا
موضوع

-

رواه ابن عدي في " الكامل " (280 / 1) ، ومن طريق البيهقي في " الشعب " (2/ 201 / 1) بسنده عن سليمان بن الربيع عن كادح بن رحمة حدثنا حصين بن نمير عن حسين بن قيس عن عكرمة عن ابن عباس عن العباس مرفوعا، وقال ابن عدي: وكادح عامة ما يرويه غير محفوظ ولا يتابع عليه في أسانيده ولا في متونه، ومن طريق ابن عدي أورده ابن الجوزي في " الموضوعات " (2 / 287) وقال: حسين ليس بشيء وكادح كذاب، وسليمان ضعفه الدارقطني، ثم ساقه البيهقي وابن الجوزي من طريق العقيلي بسنده عن داود بن عبد الجبار أبي سليمان الكوفي حدثنا الجارود عن حبيب بن يسار عن ابن عباس قال: رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يأكل العنب خرطا، قال العقيلي (2 / 34) : لا أصل له، وداود ليس بثقة ولا يتابع عليه
قلت: ومن طريقه رواه أبو بكر الشافعي في " الفوائد " (110 / 1) والطبراني في " الكبير " (3 / 174 / 2) وبه تعقبه السيوطي في " اللآليء " (2 / 211) بقوله: قلت: أخرجه الطبراني من هذا الطريق وأخرجه البيهقي في " الشعب " من الطريقين ثم قال: ليس فيه إسناد قوي، واقتصر العراقي في " تخريج الإحياء " على تضعيفه
قلت: وهذا تعقيب لا طائل تحته، فإن تضعيف العراقي والبيهقي إجمالي لا تفصيل فيه وإعلال الذين قبلهما مفصل، فهو يقضي على المجمل، وداود المذكور قال فيه ابن معين: ليس بثقة، وقال مرة: يكذب، فمثله لا يصلح شاهدا لحديث كادح الكذاب
ولهذا أقر الذهبي ثم العسقلاني العقيلي على قوله: لا أصل له، فإيراد السيوطي لحديث ابن عباس في " الجامع الصغير " مما لا يتفق مع شرطه

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১০৯ | 109 | ۱۰۹

১০৯। আমার উম্মাতের সৎকর্মশীল পুরুষদের কর্ম হচ্ছে দরজীর কাজ আর আমার উম্মাতের সৎ কর্মশীলা মহিলাদের কর্ম হচ্ছে চরকায় সুতা কাটা।

হাদীসটি জাল।

এটি ইবনু আদী (১/১৫৩), আবু নু’য়াইম “আখবার আসবাহান” গ্রন্থে (১/৩০৩) এবং ইবনু আসাকির (১৫/২৬১/১) আবু দাউদ আন-নাখ'ঈ সুলায়মান ইবনু আদী বলেনঃ এটি সুলায়মান ইবনু আমর কর্তৃক আবু হাযিমের উপর জালকৃত হাদীসগুলোর একটি।

সুয়ূতী- তাম্মাম, খাতীব বাগদাদী ও ইবনু আসাকিরের বর্ণনা হতে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু সূত্রে আবু দাউদ আন-নাখ'ঈ রয়েছেন। মানাবী বলেনঃ তার সম্পর্কে আল-খাতীব নিজে বলেছেনঃ তিনি একজন মিথ্যুক, জালকারী, দাজ্জাল। যাহাবী “আয-যুয়াফা" গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, দাজ্জাল। তিনি তার “আল-মীযান” গ্রন্থে ইমাম আহমদের উদ্ধৃতিতে বলেনঃ তিনি হাদীস জাল করতেন। ইয়াহইয়া তার সম্পর্কে বলেনঃ كان أكذب الناس তিনি হাদীসের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা মিথ্যুক ছিলেন। ইবনু হাজার “লিসানুল মীযান” গ্রন্থে তার এ কথাকে সমর্থন করেছেন। ইবনুল জাওযী জাল হিসাবেই হুকুম লাগিয়েছেন।

সুয়ূতী এ হাদীসটি “আল-লাআলী” গ্রন্থে (২/১৫৪) এবং “আল-ফাতাওয়া” গ্রন্থে (২/১০৭) তাম্মামের সূত্রে উল্লেখ করেছেন। যার সনদে মূসা ইবনু ইবরাহীম আল-মারওয়াযী রয়েছেন। তাকে ইয়াহইয়া মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। তার মুতাবা'য়াত দ্বারা আনন্দিত হওয়ার কিছু নেই। এ জন্য ইবনু আররাক হাদীসটিকে জাল-এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এ হাদীসটি সম্পর্কে যাহাবী বলেনঃ قبح الله من وضعه আল্লাহ খারাপ পরিণতি করুন সেই ব্যক্তির যিনি হাদীসটি জাল করেছেন।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

عمل الأبرار من الرجال من أمتي الخياطة، وعمل الأبرار من أمتي من النساء المغزل
موضوع

-

رواه ابن عدي (153 / 1) وأبو نعيم في " أخبار أصبهان " (1 / 303) وابن عساكر (15 / 261 / 1) عن أبي داود النخعي سليمان بن عمرو عن أبي حازم عن سهل بن سعد مرفوعا، وقال ابن عدي:
هذا مما وضعه سليمان بن عمرو على أبي حازم، وعزاه السيوطي في " الجامع الصغير " لرواية تمام والخطيب وابن عساكر عن سهل بن سعد وهو في " تاريخ بغداد " (9 / 15) من طريق أبي داود النخعي هذه، وقال المناوي في شرحه على " الجامع الصغير ": وظاهر صنيع المصنف أن مخرجه الخطيب خرجه وأقره، والأمر بخلافه، بل قدح في سنده فتعقبه بأن أبا داود النخعي أحد رواته كذاب وضاع دجال، وبسط ذلك بما يجيء منه أنه أكذب الناس، وجزم الذهبي في " الضعفاء " بأنه كذاب دجال، وفي " الميزان " عن أحمد: كان يضع الحديث، وعن يحيى: كان أكذب الناس، ثم سرد له أحاديث هذا منها، ووافقه في " اللسان " وحكم ابن الجوزي بوضعه ولم يتعقبه المؤلف إلا بإيراد حديث تمام وقال: موسى متروك، ولم يزد على ذلك
قلت: ذكر السيوطي هذا في " اللآليء " (2 / 154) وكذا في " الفتاوى " له (2 / 107) من رواية تمام بإسناده عن موسى بن إبراهيم المروزي حدثنا مالك بن أنس عن أبي حازم به، وموسى بن إبراهيم المروزي قد كذبه يحيى فلا يفرح بمتابعته، ولهذا أورد الحديث ابن عراق في الفصل الأول من المعاملات من كتابه " تنزيه الشريعة المرفوعة عن الأخبار الشنيعة الموضوعة " (294 / 2) ، وهذا الفصل قد نص في مقدمة الكتاب أنه يورد فيه ما حكم ابن الجوزي بوضعه ولم يخالف فيه
وقد قال الذهبي في هذا الحديث: قبح الله من وضعه! ذكره في ترجمة أبي داود هذا الكذاب

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ তাওহীদ পাবলিকেশন
গ্রন্থঃ যঈফ ও জাল হাদিস
অধ্যায়ঃ ১/ বিবিধ
হাদিস নম্বরঃ ১১০ | 110 | ۱۱۰

১১০। যদি এ হৃদয় বিনয়ী হয়, তবে তার অঙ্গ-প্রতঙ্গ গুলোও বিনয়ী হবে।

হাদীসটি জাল।

এটিকে সুয়ূতী “জামেউস সাগীর” গ্রন্থে আবু হুরাইরাহ্ (রাঃ) হতে হাকীমের বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন। শাইখ জাকারিয়া আনসারী বলেনঃ হাদীসটির সনদ য'ঈফ। কিন্তু এটি তার চাইতেও আরো দুর্বল। যাইন আল-ইরাকী “শারহুত তিরমিযী” গ্রন্থে বলেনঃ এটির সনদে সুলায়মান ইবনু আমর রয়েছেন। তিনি হচ্ছেন আবু দাউদ আন-নাখঈ। তার দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত।

এটিকে জানা যায় ইবনুল মুসাইয়্যাবের কথা হিসাবে। যেমনটি “আল-মুগনী" গ্রন্থে (১/১৫১) উল্লেখ করা হয়েছেঃ এটির সনদ দুর্বল এবং সাঈদের কথা হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে।

যায়লাঈ বলেছেনঃ ইবনু আদী বলেন যে, তিনি (সুলায়মান) হাদীস জাল করতেন এ কথার উপর মুহাদ্দিসগণ একমত হয়েছেন ।

আমি (আলবানী) বলছিঃ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারাক এটিকে “আল-যুহুদ” গ্রন্থে (১/২১৩) সাঈদ হতে মওকুফ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এটির সনদে একজন ব্যক্তির পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ সনদটি মাজহুল। আব্দুর রাযযাক “আল-মুসান্নাফ” গ্রন্থে (২/২২৬) মাজহুল ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে বলেছেনঃ তিনি হচ্ছেন আবান, কিন্তু আবানও দুর্বল বর্ণনাকারী। সুতরাং হাদীসটি মারফু হিসাবে জাল আর মওকুফ হিসাবে দুর্বল। তবে মওকুফ হিসাবে এটির শাহেদ পাওয়া যায়। যার সনদটি ভাল। সেটি ইমাম আহমাদের পুত্রের “মাসায়েল” গ্রন্থে (পৃঃ ৮৩) উল্লেখ করা হয়েছে।



হাদিসের মানঃ  জাল (Fake)
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!

لوخشع قلب هذا خشعت جوارحه
موضوع

-

عزاه السيوطي في " الجامع الصغير " لرواية الحكيم عن أبي هريرة
قلت: وصرح الشيخ زكريا الأنصاري في تعليقه على " تفسير البيضاوى " (202 /2) بأن سنده ضعيف، وهو أشد من ذلك فقد قال الشارح المناوي: رواه في " النوادر " عن صالح بن محمد عن سليمان بن عمرو عن ابن عجلان عن المقبري عن أبي هريرة قال: رأى رسول الله صلى الله عليه وسلم رجلا يعبث بلحيته وهو في الصلاة، فذكره، قال الزين العراقي في " شرح الترمذي ": وسليمان بن عمرو هو أبو داود النخعي متفق على ضعفه، وإنما يعرف هذا عن ابن المسيب، وقال في " المغني " (1 / 151) : سنده ضعيف، والمعروف أنه من قول سعيد، رواه ابن أبي شيبة في " مصنفه "، وفيه رجل لم يسم، وقال ولده: فيه سليمان بن عمرو مجمع على ضعفه، وقال الزيلعي: قال ابن عدي أجمعوا على أنه يضع الحديث
قلت: رواه موقوفا على سعيد عبد الله بن المبارك في " الزهد " (213 / 1)
أنا معمر عن رجل عنه به وهذا سند ضعيف لجهالة الرجل
وصرح عبد الرزاق في " المصنف " (2 / 226) باسمه فقال: ... عن أبان ... وهو ضعيف أيضا
قلت: فالحديث موضوع مرفوعا، ضعيف موقوفا بل مقطوعا، ثم وجدت للموقوف طريقا آخر فقال أحمد في " مسائل ابنه صالح " (ص 83) : حدثنا سعيد بن خثيم قال حدثنا محمد بن خالد عن سعيد بن جبير قال: نظر سعيد إلى رجل وهو قائم يصلي. . إلخ
قلت: وهذا إسناد جيد، يشهد لما تقدم عن العراقي أن الحديث معروف عن ابن المسيب

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [101]  থেকে  [110]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [500]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।