• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


(২৫৫) প্রথম বৈঠকে শুধু তাশাহুদের শব্দগুলো পাঠ করবে? না কি দরূদও পাঠ করবে?


তিন বা চার রাকাআত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম তাশাহুদে শুধুমাত্র পাঠ করবেঃ

التَّحِياَّتُ لِلَّهِ وَالصَّلَواَتُ وَالطَّيِّباَتُ، السَّلاَمُ عَلَيْكَ أيُّهاَ النَّبِيُّ وَرَحَمْةُ اللهِ وبركاته، السَّلاَمُ عَلَيْناَ وَعَلَى عِباَدِ اللهِ الصَّالِحِيْنَ، أشْهَدُ أنْ لاَإلَهَ إلاَّ اللهُ وَأشْهَدُ أنَّ مُحَمَّداً عَبْدُهُ وَرَسُوْلُهُ.

এটাই উত্তম। যদি এরপর দরূদ পাঠ করে তবেও কোন অসুবিধা নেই। বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ এটাকে মুস্তাহাব বলেছেন। কিন্তু আমার মতে সুন্নাতের নিকটবর্তী কথা হচ্ছে দরূদের পূর্বের বাক্যটি পাঠ করা- দরূদ না পড়া। তবে ইমাম তাশাহুদ দীর্ঘ করলে দরূদ পড়তে কোন অসুবিধা নেই।

(২৫৬) নামাযে তাওয়ার্‌রুক করার বিধান কি? এ বিধান কি নারী-পুরুষ সবার জন্যই?


যে সকল নামাযে দু’টি তাশাহুদ আছে তার শেষ তাশাহুদে তাওয়ার্‌রুক করা সুন্নাত। যেমন, মাগরিব, এশা, যোহর ও আছর ছালাতে। কিন্তু যে নামাযে শুধু একটিই তাশাহুদ- যেমন ফজর নামায- তাতে তাওয়াররুক করা সুন্নাত নয়।

আর এই সুন্নাত নারী-পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে প্রমাণিত। কেননা ইসলামী শরীয়তের বিধি-বিধানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ উভয়ে বরাবর। তবে দলীলের ভিত্তিতে যে পার্থক্য পাওয়া যায় তার কথা ভিন্ন। কিন্তু এমন কোন ছহীহ্‌ দলীল নেই যা দ্বারা নারী-পুরুষের নামাযে পার্থক্য প্রমাণিত হয়। নামাযের পদ্ধতির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ সকলেই সমান।

(২৫৭) ইমাম যদি শুধুমাত্র ডান দিকে একবার সালাম ফেরায় তাহলে কি যথেষ্ট হবে?


বিদ্বানদের মধ্যে কেউ কেউ একদিকে সালাম ফেরানো যথেষ্ট মনে করেন। আর কেউ কেউ বলেছেন, অবশ্যই দু’দিকে সালাম দিতে হবে। আবার কেউ বলেন, এক সালাম নফল নামাযের ক্ষেত্রে জায়েয, ফরযে নয়।

কিন্তু সর্বোত্তম কাজ হচ্ছে, দু’দিকে সালাম ফেরানো। কেননা এটাই নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অধিকহারে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু ইমাম যদি একদিকে সালাম ফেরায় আর মুক্তাদী মনে করে একদিকে সালাম ফেরানো যথেষ্ট নয়, তবে সে দু’দিকেই সালাম ফেরাবে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু ইমাম যদি দু’দিকে সালাম দেয়, আর মুক্তাদী মনে করে একদিকে সালাম ফেরানো যথেষ্ট, তবে সে ইমামের অনুসরণ করার স্বার্থে উভয় দিকে সালাম ফেরাবে।

(২৫৮) নামায শেষ হওয়ার সাথে সাথেই কি ইমাম উঠে চলে যেতে পারেন? নাকি কিছুটা অপেক্ষা করবেন?


ইমামের জন্য উত্তম হচ্ছে সালাম ফেরানোর পর সামান্য কিছু সময় ক্বিবলামুখী হয়ে বসে থাকবেন। উক্ত সময়ের মধ্যে তিনবার أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ ‘আস্তাগফিরুল্লাহ্‌’ ও একবার اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ تَبَارَكْتَ ياَ ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ   ‘আল্লাহুম্মা আন্তাস্‌সালাম ওয়া মিনকাস্‌সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম’ পাঠ করবেন। তারপর মুক্তাদীদের দিকে ফিরে বসবেন।

ইমাম উঠে চলে যেতে চাইলে যদি মুক্তাদীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে যেতে হয় তবে তার জন্য উত্তম হচ্ছে কিছুক্ষণ বসে থেকে অপেক্ষা করবে। ভীড় কম থাকলে ফিরে যেতে কোন বাধা নেই।

মুক্তাদীর জন্যে উত্তম হচ্ছে ইমামের আগে ফিরে না যাওয়া। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “আমার আগেই তোমরা ফিরে যেও না।” কিন্তু ইমাম যদি ক্বিবলামুখী হয়ে সুন্নাতী সময়ের চাইতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকে। তবে মুক্তাদীদের ফিরে যেতে কোন বাধা নেই।

(২৫৯) নামায শেষ করেই পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর সাথে মুছাফাহা করা ও ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু’ (আল্লাহ্‌ কবূল করুন) বলা সম্পর্কে আপনার মত কি?


নামায শেষ করেই পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর সাথে মুছাফাহা করা ও ‘তাক্বাব্বালাল্লাহু’ (আল্লাহ্‌ কবূল করুন) বলার কোন ভিত্তি নেই। এ সম্পর্কে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর ছাহাবীদের থেকে কোন কিছু প্রমাণিত নেই।

(২৬০) তাসবীহ্‌ দানা দ্বারা তাসবীহ্‌ পড়ার বিধান কি?


তাসবীহ্‌ দানা ব্যবহার করা জায়েয। তবে উত্তম হচ্ছে, হাতের আঙ্গুল ও আঙ্গুলের কর ব্যবহার করা। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

اعْقِدْنَ بِالْأَنَامِلِ فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ

“আঙ্গুল দ্বারা তাসবীহ্‌ গণনা কর। কেননা (ক্বিয়ামত দিবসে) এগুলো জিজ্ঞাসিত হবে এবং এগুলোকে কথা বলানো হবে।”

তাছাড়া তাসবীহ্‌র ছড়া হাতে নিয়ে থাকলে রিয়া বা লোক দেখানো ভাবের উদ্রেক হতে পারে। আর যারা তাসবীহ্‌ ছড়া ব্যবহার করে সাধারণতঃ তাদের অন্তর উপস্থিত থাকে না। এদিক ওদিকে তাকায়। সুতরাং আঙ্গুল ব্যবহার করাই উত্তম ও সুন্নাত।

(২৬১) নামাযের পর সুন্নাত সম্মত যিকির সমূহ কি কি?


নামাযের পর আল্লাহ্‌র যিকির করার ব্যাপারে আল্লাহ্‌ তা’আলা আদেশ করেছেন। তিনি বলেনঃ

]فَإِذَا قَضَيْتُمْ الصَّلاةَ فَاذْكُرُوا اللَّهَ قِيَامًا وَقُعُودًا وَعَلَى جُنُوبِكُمْ[

“যখন তোমরা নামায সমাধা করবে, তখন আল্লাহ্‌র যিকির করবে দাঁড়ানো, বসা ও শোয়া অবস্থায়।” (সূরা নিসা- ১০৩) আল্লাহ্‌র এই নির্দেশের বর্ণনা দিয়েছেন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর কর্ম ও বাণীর মাধ্যমে। অতএব সালাম ফেরানোর পর নিম্ন লিখিত দু’আ সমূহ পাঠ করবেঃ

১)      তিনবার ইসে-গফার করবে। অর্থাৎ- আস্তাগফিরুল্লাহ্‌ পাঠ করবে

২)      এবং বলবেঃ

اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلامُ وَمِنْكَ السَّلامُ تَبَارَكْتَ ذَا الْجَلالِ وَالإِكْرَامِ

উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা আন্তস্‌সালাম ওয়ামিন কাস্‌সালাম তাবারাকতা ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম।

৩)      অতঃপর বলবেঃ

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ اللَّهُمَّ لَا مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلَا مُعْطِيَ لِمَا مَنَعْتَ وَلَا يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ

উচ্চারণঃ লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

আল্লাহুম্মা লা-মা-নেআ লিমা আত্বাইতা ওয়াল মু’তিয়া লিমা মানা’তা ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।

অর্থঃ এক আল্লাহ ছাড়া কোন হক উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নাই। মালিকানা তাঁরই, সমুদয় প্রশংসা তাঁরই জন্য।

হে আল্লাহ! আপনি যা দান করেন তা প্রতিরোধকারী কেউ নেই। এবং আপনি যা রোধ করেন তা দানকারী কেউ নেই। আর কোন মর্যাদাবানের মর্যাদা আপনার নিকট থেকে কোন উপকার আদায় করে দিতে পারে না।

৪)      অতঃপর বলবেঃ

]لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَلَا نَعْبُدُ إِلَّا إِيَّاهُ لَهُ النِّعْمَةُ وَلَهُ الْفَضْلُ وَلَهُ الثَّنَاءُ الْحَسَنُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ[

“আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই। তিনি এক তাঁর কোন শরীক নেই। তারই জন্য রাজত্ব, তারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। তিনি সকল বস্তর উপর ক্ষমতাবান। আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত গুনাহ হতে বিরত থাকা ও আনুগত্য করার ক্ষমতা লাভ করা যায় না। আল্লাহ ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আর আমরা তাঁকে ছাড়া অন্যের ইবাদত করি না। একমাত্র তাঁর অধিকারে সমস্ত নেয়ামত, তাঁরই জন্য সমস্ত সম্মান মর্যাদা, আর তাঁরই জন্য উত্তম স্ততি। আল্লাহ ব্যতীত কোন হক উপাস্য নেই। তার নিমিত্তে আমরা ধর্ম পালন করি একনিষ্ঠ ভাবে। যদিও কাফেররা তা মন্দ ভাবে।

৫)      তাসবীহ পাঠ করবে অর্থ্যাৎ ‘সুবহানাল্লাহ’ বলবে ৩৩ বার, ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলবে ৩৩ বার এবং ‘আল্লাহু আকবার’ বলবে ৩৩ বার। এবং একশ এর পূর্ণতা স্বরূপ এই দু‘আটি বলবে।

لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

উচ্চারণঃ লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।

অর্থঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই তিনি এক তাঁর কোন শরীক নাই। মালিকানা তাঁরই সমুদয় প্রশংসা তাঁরই জন্য।

যে ব্যক্তি অত্র তাসবীহ্‌ ও দু‘আটি বলবে তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেওয়া হবে। যদিও তা সমুদ্রের ফেনারাশী পরিমাণ হয় না কেন।

পূর্বোল্লিখিত তাসবীহ্‌গুলো যে কোনটা দ্বারা শুরু করতে পারবে। আর সুুবহানাল্লাহ, আল হামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার একসাথে ৩৩ বার বলবে অথবা প্রত্যেকটা আলাদা আলাদা ৩৩ বার করে বলবে কোন অসুবিধা নেই।

অনুরূপভাবে উক্ত তাসবীহ্‌ সমূহ ৩৩ বারের পরিবর্তে ১০ বার করে বলতে পারবে।

৬)      সুবহানাল্লাহ্‌ ওয়াল হামদুলিল্লাহ্‌ ওয়া লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার- এই চারটি তাসবীহ্‌ ২৫ বার পাঠ করবে। সর্বমোট ১০০ বার।

উল্লেখিত তাসবীহ্‌গুলোর যে কোন একটি প্রকার পাঠ করলেই হবে। কেননা ইসলামী মূলনীতি হচ্ছে, (কোন ইবাদত যদি কয়েকভাবে প্রমাণিত হয়, তবে তার প্রত্যেক প্রকার থেকে কখনো এটা কখনো ওটা বাস্তবায়ন করা সুন্নাত।) এই তাসবীহ সকল নামাযের ক্ষেত্রে প্রজোয্য। ফজর, যোহর, আছর, মাগরিব ও এশা। তবে ফজর ও মাগরিব নামায বাদ নিম্নলিখিত দু’আটি ১০ বার পাঠ করবেঃ ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লাশারীকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুওয়া আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর।’ অনুরূপভাবে উক্ত দু’নামাযের পর সাত বার পাঠ করবে এই দু’আঃ (رَبِّ أجِرْنِيْ مِنَ الناَّرِ) ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে জাহান্নাম থেকে রক্ষা কর।’

৭)      অতঃপর আয়াতুল কুরসী (সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াত) পাঠ করবে। যে ব্যক্তি প্রতেক ফরয নামাযানে- অত্র আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করা হতে বাধা দানকারী একমাত্র মৃত্যু ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

৮)      তারপর একবার করে সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করবে। তবে ফজর বা মাগরীব নামায এর ব্যতিক্রম- এই দুই নামাযের পর অত্র তিনটি সূরা তিনবার করে পাঠ করবে। (আবু দাউদ, নাসাঈ)

(২৬২) নামাযের পর হাত উত্তোলন করে দু’আ করার বিধান কি?


নামায শেষে হাত তুলে দু’আ করা শরীয়ত সম্মত নয়। দু’আ করতে চাইলে নামাযের মধ্যে দু’আ করা উত্তম। একারণে ইবনে মাসঊদ বর্ণিত তাশাহুদ শিক্ষার হাদীছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিয়েছেনঃ ثُمَّ لْيَتَخَيَّرْ بَعْدُ مِنَ الْمَسْأَلَةِ مَا شَاءَ “তারপর ইচ্ছামত যে কোন দু’আ পাঠ করবে।”

সাধারণ মানুষ অনেকেই ফরয বা সুন্নাত যে কোন নামায শেষ হলেই হাত তুলে দু’আ আরম্ভ করে। এমনকি এদের অধিকাংশ এ কাজ কখনই পরিত্যাগ করে না।َ

অনেক লোক এমন দেখবেন ফরয নামায শুরু হয়ে যাচ্ছে আর সে সুন্নাত নামাযের তাশাহুদে বসে আছে। সালাম ফেরানো হলেই হাত উঠাবে কিছু বলল কি না আল্লাহই জানেন আবার হাত মুখে মুছে ফেলবে। মনে করে নামায শেষ করে হাত দু’টো না উঠালে যেন নামাযটাই সুন্দর হল না।

(২৬৩) ফরয নামাযানে- সমস্বরে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী প্রভৃতি পাঠ করার বিধান কি?


নামাযানে- সকলে মিলে সমস্বরে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী বা অন্যান্য যিকির করা বিদআত। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং ছাহাবীদের (রাঃ) থেকে যেটা প্রমাণিত রয়েছে, তাঁরা ফরয নামায শেষ করে কিছুটা উঁচু আওয়াযে যিকির পাঠ করতেন। কিন্তু তাঁরা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে পাঠ করতেন। সমস্বরে নয়। অতএব ফরয নামাযানে- উঁচু কন্ঠে যিকির করা ছহীহ্‌ সুন্নাহ্‌ দ্বারা প্রমাণিত। আবদুল্লাহ্‌ বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,

أَنَّ رَفْعَ الصَّوْتِ بِالذِّكْرِ حِينَ يَنْصَرِفُ النَّاسُ مِنَ الْمَكْتُوبَةِ كَانَ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهم عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كُنْتُ أَعْلَمُ إِذَا انْصَرَفُوا بِذَلِكَ إِذَا سَمِعْتُهُ

“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর যুগে লোকেরা ফরয নামায শেষ করলে উঁচু কন্ঠে যিকির পাঠ করতেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, উঁচু কন্ঠের যিকির শুনলে আমি বুঝতাম লোকেরা নামায শেষ করেছেন।”

কিন্তু নামাযের পর উঁচু কন্ঠে বা নীচু কন্ঠে সূরা ফাতিহা পাঠ করার ব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে কোন হাদীছ আমি জানি না। তবে ছহীহ্‌ হাদীছে প্রমাণিত হয়েছে, আয়াতুল কুরসী ও মুআব্বেযাতাইন (সূরা ফালাক ও নাস) পাঠ করা।

(২৬৪) টয়লেট সারতে গেলে জামাআত ছুটে যাওয়ার আশংকা থাকলে কি করবে?


প্রথমে টয়লেটের কাজ সম্পন্ন করবে। তারপর ওযু করে নামাযের দিকে অগ্রসর হবে। যদিও তার জামাআত ছুটে যায়। এতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা এটা তার ওযর। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

 لَا صَلَاةَ بِحَضْرَةِ الطَّعَامِ وَلَا هُوَ يُدَافِعُهُ الْأَخْبَثَانِ 

“খাদ্য উপস্থিত হলে এবং দু’টি নাপাক বস্তর চাপ থাকলে নামায নেই।”

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  170 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।