• ৫৬৬৩২ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


(১৮১) নেফাসের চল্লিশ দিন শেষ হওয়ার আগেই পবিত্র হয়ে গেলে বা চল্লিশ দিনের পর পূণরায় স্রাব দেখা গেলে কি করবে?


নেফাস বিশিষ্ট স্ত্রীর সাথে সহবাস করা স্বামীর জন্য জায়েয নয়। যদি চল্লিশ দিনের মধ্যে সে পবিত্র হয়ে যায়, তবে গোসল করে নামায আদায় করা তার জন্য ওয়াজিব এবং নামাযও বিশুদ্ধ। এ অবস্থায় স্বামী সহবাসও তার জন্য জায়েয। কেননা আল্লাহ বলেন,

(يسألونَكَ عَنْ الْمَحِيْضِ قُلْ هُوَ أذىً فَاعْتَزِلُوْا النِّسَاءَ فِيْ الْمَحِيْضِ وَلاَ تَقْرَبُوْهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ)

অর্থাৎ- “আর তারা তোমার কাছে জিজ্ঞাসা করে হায়েয সমপর্কে। বলে দাও, এটা অপবিত্র। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রী মিলন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের সাথে সহবাসে লিপ্ত হবে না; যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়।” (সূরা বাক্বারা- ২২২) যতক্ষণ অপবিত্রতা তথা রক্ত বিদ্যমান থাকবে ততক্ষণ স্বামীর সাথে সহবাস জায়েয হবে না। পবিত্র হয়ে গেলেই সহবাস জায়েয হবে। যেমনটি নামায আদায় করাও তার জন্য ওয়াজিব। চল্লিশ দিনের পূর্বে পবিত্র হলে, নেফাস অবস্থার যাবতীয় নিষিদ্ধতা শেষ হয়ে যাবে। তবে সহবাসের ক্ষেত্রে কিছুটা ধৈর্যাবলম্বন করা উচিৎ। কেননা সহবাসের ফলে পুনরায় রক্ত চালু হয়ে যেতে পারে।

চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার পর এবং পবিত্র হওয়ার পর যদি আবার রক্ত দেখা যায়, তবে উহা মাসিকের রক্ত হিসেবে গণ্য করবে। নেফাসের রক্ত নয়। মাসিকের রক্ত নারীদের কাছে পরিচিত। যখনই উহা অনুভব করবে মনে করবে উহা ঋতুস্রাব। এই রক্ত যদি প্রবাহমান থাকে এবং সামান্য সময় ব্যতীত কখনই বন্ধ হয় না, তবে উহা ইসে-হাযা হিসেবে গণ্য হবে। তখন ঋতুর নির্দিষ্ট দিন সমূহ অপেক্ষা করবে এবং অবশিষ্ট দিন সমূহ পবিত্র হিসেবে গণ্য করবে এবং গোসল করে নামায আদায় করবে। (আল্লাহই অধিক জ্ঞাত)

(১৮২) জনৈক নারীর তৃতীয় মাসেই গর্ভপাত হয়ে গেছে। সে কি নামায আদায় করবে, না নামায পরিত্যাগ করবে?


বিদ্বানদের নিকট পরিচিত কথা হচ্ছে, নারীর গর্ভ যদি তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পর পড়ে যায়, তবে সে নামায পড়বে না। কেননা নারীর গর্ভস্ত ভ্রুণে মানুষের আকৃতি সৃষ্টি হয়ে গেছে। তখন তা নেফাস হিসেবে গণ্য হবে। অতএব সে নামায থেকে বিরত থাকবে।

বিদ্বানগণ বলেন, মাতৃগর্ভে ভ্রুণের বয়স ৮১ (একাশি) দিন অতিবাহিত হলে মানুষের আকৃতি ধারণ করে। এ সময়টি তো তিন মাসের অনেক কম। যদি নিশ্চিত হয় যে, তিন মাস বয়সের ভ্রুণ পতিত হয়ে গেছে, তবে নির্গত রক্ত নেফাসের রক্ত বলেই গণ্য হবে। কিন্তু এই গর্ভপাত যদি আশি দিনের কমে হয়, তবে নির্গত রক্ত নষ্ট রক্ত বলে গণ্য হবে। আর সে কারণে নামায প্রভৃতি পরিত্যাগ করবে না।

প্রশ্নকারী এই নারীর উপর আবশ্যক হচ্ছে, স্মরণ করার চেষ্টা করবে ৮০ দিনের কম বয়সে যদি গর্ভপাত হয়ে থাকে এবং সে জন্য নামায পরিত্যাগ করে থাকে, তবে পরিত্যাক্ত নামাযের কাযা আদায় করবে। নামায কত ওয়াক্ত ছুটেছে তা নিশ্চিতভাবে স্মরণ করতে না পারলে অনুমানের ভিত্তিতে কাযা আদায় করবে।

(১৮৩) অসুস্থতার কারণে যদি কোন নারীর রক্তস্রাব নির্গত হতেই থাকে, তবে কিভাবে সে ছালাত ও ছিয়াম আদায় করবে?


এই নারীর অসুখ শুরু হওয়ার পূর্বে তথা গত মাসে তার ঋতুর যে দিন তারিখ নির্দিষ্ট ছিল, সেই নির্দিষ্ট দিন সমূহে সে নিজেকে ঋতুবতী হিসেবে গণ্য করে ছালাত-ছিয়াম প্রভৃতি থেকে বিরত থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ বিগত মাসগুলোর প্রথম দিকে তার ছয়দিন ঋতু ছিল, তারপর এক সময় তার অসুখ শুরু হয়েছে, এক্ষেত্রে সে প্রত্যেক মাসের প্রথম দিকে ছয় দিন অপেক্ষা করবে এবং ছালাত ছিয়াম থেকে বিরত থাকবে। এ দিন সমূহ শেষ হলেই গোসল করে ছালাত-ছিয়াম আদায় করবে।

এ নারী বা তার মত নারীদের নামাযের পদ্ধতি হচ্ছে,

ক) ফরয নামাযের সময় হওয়ার পর পূর্ণাঙ্গরূপে লজ্জাস্থান ধৌত করবে।

খ) তারপর সেখানে প্যাড বা পট্টি জাতীয় কোন কিছু বেঁধে দিবে,

গ) এরপর ওযু করবে এবং নামায আদায় করবে।

নামাযের সময় উপস্থিত হওয়ার পূর্বে এরূপ ওযু ইত্যাদি কাজ করবে না। ফরয নামাযের সময় ব্যতীত অন্য সময় নফল নামায পড়তে চাইলেও এভাবে ওযু ইত্যাদি করবে।

এ অবস্থায় যেহেতু বারবার এতকাজ করা তার জন্য কষ্টসাধ্য ব্যাপার, তাই দু’নামাযকে একত্রিত করা জায়েয। যোহরের সাথে আছরের নামায আদায় করে নিবে বা আছরের সাথে যোহরের নামাযকে আদায় করবে। এবং মাগরিবের সাথে এশার নামায আদায় করবে অথবা এশার সময় মাগরিব ও এশার নামায আদায় করবে। যাতে করে তার একবারের পরিশ্রম দু’নামায যোহর ও আছরের জন্য যথেষ্ট হয় এবং দ্বিতীয়বারের পরিশ্রম মাগরিব ও এশার জন্য যথেষ্ট হয়। আর একবার ফজর নামাযের জন্য। অর্থাৎ- পাঁচবার পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের জন্য লজ্জাস্থান ধৌত করা, পট্টি বাঁধা, ওযু করা প্রভৃতি কষ্টকর বিষয়। তাই এর পরিবর্তে তিনবারেই একাজ আদায় হয়ে যাবে। কষ্টও অনেক লাঘব হবে। (আল্লাহই তাওফীক দাতা ও তিনিই অধিক জ্ঞাত আছেন)

বিগত দিনগুলোতে ব্যাপক আকারে দু’নামাযকে একত্রিত করা এবং এক্ষেত্রে মানুষের অতিরিক্ত শিথীলতা লক্ষ্য করা গেছে। অত্যধিক ঠান্ডাই কি এর কারণ? আপনি কি মনে করেন? আল্লাহ্‌ আপনাকে উত্তম বিনিময় প্রদান করুন।


অলসতা করে দু’নামাযকে একত্রিত করা কারো জন্য বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ্‌ তাআলা নামায সমূহকে নির্দিষ্ট সময়েই আদায় করা আবশ্যক করেছেন। আল্লাহ্‌ বলেন,

]إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَوْقُوتًا[

“নিশ্চয় নির্দিষ্ট সময়ে নামায আদায় করা মু’মিনদের উপর ফরয করা হয়েছে।” (সূরা নিসাঃ ১০৩) তিনি আরো বলেন,

]أَقِمْ الصَّلَاةَ لِدُلُوكِ الشَّمْسِ إِلَى غَسَقِ اللَّيْلِ وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا[

“সূর্য হেলে পড়বার পর হতে রাত্রির ঘন অন্ধকার পর্যন্ত নামায কায়েম করবে এবং কায়েম করবে ফজরের নামায; ফজরের নামায পরিলক্ষিত হয় বিশেষভাবে।” (সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৭৮) নামায যখন নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করা ফরয, তখন প্রত্যেক নামাযকে তার বেঁধে দেয়া সময়-সীমার মধ্যেই আদায় করতে হবে। উল্লেখিত আয়াতে “সূর্য হেলে পড়বার পর হতে... নামায কায়েম করবে।” কথাটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। বিস্তারিতভাবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সময়-সীমা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন,

وَقْتُ الظُّهْرِ إِذَا زَالَتِ الشَّمْسُ وَكَانَ ظِلُّ الرَّجُلِ كَطُولِهِ مَا لَمْ يَحْضُرِ الْعَصْرُ وَوَقْتُ الْعَصْرِ مَا لَمْ تَصْفَرَّ الشَّمْسُ وَوَقْتُ صَلَاةِ الْمَغْرِبِ مَا لَمْ يَغِبِ الشَّفَقُ وَوَقْتُ صَلَاةِ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ الْأَوْسَطِ وَوَقْتُ صَلَاةِ الصُّبْحِ مِنْ طُلُوعِ الْفَجْرِ مَا لَمْ تَطْلُعِ الشَّمْسُ

“সূর্য পশ্চিমাকাশে ঢলার পর থেকে শুরু হয় যোহর নামাযের সময় এবং কোন ব্যক্তির ছায়া তার সমপরিমাণ হলে তথা আসরের নামাযের সময় হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত। সূর্য হলুদ বর্ণ ধারণ করা পর্যন্ত হচ্ছে আসর নামাযের সময়। সূর্যাসে-র পর থেকে পশ্চিমাকাশে লাল রেখা অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত মাগরিবের সময়। আর অর্ধরাত্রি পর্যন্ত হচ্ছে এশা নামাযের সময়। রাতের এক তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হওয়ার পর যদি এ নামায আদায় করা সম্ভব হয় তবে তা উত্তম। ফজর নামাযের সময় হচ্ছে সুবহে সাদেক (পূর্বাকাশে সাদা রেখা) উদিত হওয়ার পর থেকে সূর্যোদয়ের পূর্ব পর্যন্ত।”

নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন নামাযের সময় সমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে দিয়েছেন, তখন কোন নামায নির্ধারিত সময়ের বাইরে আদায় করা আল্লাহ্‌র বেঁধে দেয়া সীমারেখা লঙ্ঘনের শামিল। আর আল্লাহ্‌ বলেন,

] وَمَنْ يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَأُوْلَئِكَ هُمْ الظَّالِمُونَ [

“যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সীমা লঙ্ঘন করবে, তারাই অত্যাচারী।” (সূরা বাক্বারাঃ ২২৯) অতএব জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে যে ব্যক্তি সময় হওয়ার পূর্বে নামায আদায় করবে, সে গুনাহগার হবে এবং পুনরায় তাকে নামায পড়তে হবে। কিন্তু যদি অজ্ঞতা বশতঃ অনিচ্ছাকৃতভাবে এরূপ করে থাকে, সে গুনাহগার হবে না তবে নামায তাকে পুনরায় পড়তে হবে। আর এটা হচ্ছে শরঈ কোন ওযর ছাড়াই বর্তমান নামাযের সাথে পরবর্তী নামাযকে অগ্রীম আদায় করার ক্ষেত্রে। কেননা নামায অগ্রীম আদায় করলে তা বিশুদ্ধ হবে না। তাকে পুনরায় তা আদায় করতে হবে।

আর বিনা ওযরে জেনেশুনে ইচ্ছাকৃতভাবে যে ব্যক্তি নির্দিষ্ট সময় অতিক্রম করে নামায আদায় করবে, সে গুনাহগার হবে এবং বিশুদ্ধ মতানুযায়ী তার নামায কবূল হবে না। আর এটা হচ্ছে শরঈ কোন ওযর ছাড়াই বর্তমান নামাযের সাথে পূর্ববর্তী নামাযকে দেরী করে একত্রিত আদায় করার ক্ষেত্রে। কেননা সময় পার করে দিয়ে নামায আদায় করলে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী তার নামায কবূল হবে না।

অতএব মুসলিম ব্যক্তির উপর আবশ্যক হচ্ছে আল্লাহ্‌কে ভয় করা আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিরাট বিষয়টিতে কোন ধরণের শিথীলতা না করা। কিন্তু ছহীহ্‌ মুসলিমে আবদুল্লাহ্‌ বিন আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন,

جَمَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ وَالْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِالْمَدِينَةِ فِي غَيْرِ خَوْفٍ وَلَا مَطَرٍ

“নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদ্বীনায় বৃষ্টি বা ভয়-ভীতির কারণ ছাড়াই যোহর ও আছর একত্রে এবং মাগরিব ও এশা নামাযকে একত্রে আদায় করেছেন।” এ হাদীছে দু’নামাযকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে শিথীলতার কোন অবকাশ নেই। কেননা ইবনু আব্বাসকে প্রশ্ন করা হল, কেন তিনি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, তিনি (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতকে সংকটে ফেলতে চাননি। অর্থাৎ প্রয়োজনীয় মুহূর্তে দু’নামাযকে একত্রিত না করলে যে সংকট হওয়ার কাথা তিনি তা চাননি। সুতরাং দু’নামাযকে একত্রিত করে পড়া বৈধ হওয়ার কারণ হচ্ছে প্রত্যেক নামাযকে সময়মত আদায় করলে অসুবিধা হওয়া। কোন লোক যদি সময় মত নামায আদায় করলে অসুবিধায় পড়ে তবে তার জন্য দু’নামাযকে একত্রিত আদায় করা জায়েয বরং সুন্নাত। কোন অসুবিধা না থাকলে প্রত্যেক নামাযকে নির্দিষ্ট সময়ে আদায় করাই ওয়াজিব।

এই ভিত্তিতে শুধুমাত্র ঠান্ডার কারণে দু’নামাযকে একত্রিত করা বৈধ হবে না। কিন্তু ঠান্ডা যদি অতিরিক্ত হয় এবং সেই সাথে এমন বাতাস প্রবাহিত হয় বা বরফ পড়ে যে, মসজিদে গমণ করা কষ্টসাধ্য হয়ে উঠে, তবে দু’নামাযকে একত্রিত করতে কোন বাধা নেই।

মুসলিম ভাইদের প্রতি আমার বিশেষ নসীহত বিশেষ করে ইমামদের প্রতি তারা যেন এ বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করেন এবং আল্লাহ্‌ সন্তুষ্ট হন এমনভাবে এই ফরয ইবাদতটি সম্পাদন করেন।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  64 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।
1...234567পরের পাতাশেষের পাতা