• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


ভেবেছিলাম কুরবানী দিতে পারব না। তাই তাশরীকের দিনগুলিতে রোযা রাখলাম। কিন্তু ১৩ তারিখের রাত্রে মনে হল, আমার কাছে যে টাকা আছে, তাঁতে কুরবানী দেওয়া যেতো। তাছাড়া বাড়ী ফিরে ৭ টি রোযা রাখাও কঠিন। সুতরাং ১৪ তারিখের রাতে বা দিনে কুরবানী দিলে কি তা যথেষ্ট হবে?


১৩ তারিখের সূর্য অস্ত গেলে আর কুরবানী শুদ্ধ হবে না। ৩৮৩ (ঐ ২/২৯৬) অতঃএব ৩টি রোযা রেখে তাশরীকের দিনসমূহ অতিবাহিত করে পুনরায় কুরবানী দিতে চাইলে আর হবে না। বাকী ৭টি রোযা দেশে পূর্ণ করতে হবে।

কুরবানী কি মিনাতেই হওয়া জরুরী?


কুরবানী মিনাতেই যবেহ করা জরুরী নয়। মক্কার হারামের সীমার ভিতরে যে কোন স্থানে কুরবানী যবেহ করা যায়। হারামের সীমার বাইরে হজ্জের কুরবানী সিদ্ধ হবে না; যদিও তাঁর গোশত হারামের ভিতরে বিতরণ করা হয়।

দেখা যায়, অনেকে কুরবানী নিজ হাতে যবেহ করে ফেলে চলে যায়। এটা কি ঠিক?


কুরবানী যবেহ করে সম্পূর্ণ ফেলে দেওয়া বৈধ নয়। বরং তাঁর কিছু খাওয়া ও দান করা কর্তব্য। তাঁতে কষ্ট আছে মনে করলে নির্দিষ্ট সংস্থায় টাকা জমা দেওয়া যায়।

চুল কাটতে ভুলে গিয়ে সফর করার পর স্মরণ হলে করণীয় কি?


চুল কাটতে ভুলে গিয়ে সফর করার পর স্মরণ হলে, স্মরণ হওয়া মাত্র (পুরুষ হলে এবং ইহরামের কাপড় খুলে ফেললে)ইহরামের কাপড় পরবে এবং হজ্জ পুরা করার নিয়তে চুল কাটে নেবে। অতঃপর যদি এর পূর্বে মক্কায় স্ত্রী সহবাস করে থাকে তবে মক্কায় ১টি (ছাগল বা ভেড়া, নচেৎ উট বা গরুর ৭ ভাগের এক ভাগ)দম লাগবে। আর সে গোশত সেখানকার গরীবদের মাঝে বিতরণ বিতরণ করতে হবে।  তবে যদি সহবাস মক্কার বাইরে কোথাও হয় তবে দেশেই ঐ ফিদিয়্যাহ যবেহ করে দেশের গরীবদের মাঝে তাঁর গোশত বিতরণ করতে পারে। ৩৮৫ (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ)তদনুরূপ যে ব্যক্তি না জেনে মাথার সম্পূর্ণ চুল না ছেঁটে কেবল এখান ওখান থেকে কিছু চুল কেটে হালাল হয়েছে সে ব্যক্তির জন্যও বিধান এই। ৩৮৬ ( ফাতাওয়া ইবনে উষাইমীন ২/৬৩৪)

তাশরীকের রাত্রিগুলি মিনায় না কাটলে করনীয় কি?


তাশরীকের রাত্রিগুলো মিনায় যাপন করা জরুরী। অবশ্য ১২ তারিখের সূর্যাস্তের পূর্বে বের হয়ে গেলে ১৩ তারিখের রাত্রি যাপন করতে হয় না। কিন্তু যদি কেউ ১১ তারিখে মিনা ত্যাগ করে চলে যায়, তবে তাকে ফিদয়্যাহ দিতে হবে। ৩৮৭ (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ ১৩/৮৮)অবশ্য অসুখের কারণে ত্যাগ করতে বাধ্য হলে কোন কিছু ওয়াজেব নয়। আল্লাহ কাউকে তাঁর সামর্থ্যের অধিক দায়িত্ব অর্পণ করেন না। ৩৮৮ (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/২৭৬)

রাত্রির অধিকাংশ সময় মিনায় কাটিয়ে বাকী সময় (অথবা সারা দিন) অন্য কোথাও বা মাসজিদুল হারামে কাটানো যায় কি?


রাত্রির অধিকাংশ সময় মিনায় কাটিয়ে বাকী সময় (অথবা সারা দিন) অন্য কোথাও বা মাসজিদুল হারামে কাটানো যায়। তাঁতে কোন ক্ষতি হয় না। ৩৮৯ (ঐ ২/২৭৪)

মিনায় থাকার জন্য জায়গা না পেলে করণীয় কি?


মিনায় থাকার জন্য জায়গা না পেলে মিনার সংলগ্ন পার্শ্ববর্তী কোন জায়গায় মিনায় অবস্থানকারী অন্যান্য হাজীদের পাশাপাশি স্থান নিয়ে বাস করবে। মিনার সীমানার ভিতরে জায়গা পায়নি বলে মক্কায় রাত্রিযাপন বৈধ হবে না। ৩৯০(ফাতাওয়া ইবনে উষাইমিন ২/৬০৪)যেমন সামর্থ্য থাকতে কম ভাড়া পেয়ে মিনা ছেড়ে মুযদালিফায় খিমা নেওয়া বৈধ নয়।

রাত্রিতে পাথর মারা যায় কি? তা কি পরের দিন কাযা করা যায়।


নিরুপায় হলে রাত্রিতেও পাথর মারা যায়। এক দিনের পাথর পর দিনে মেরে কাযা করা যায়। ৩৯১ (ঐ ২/২৮৪) অবশ্য আগামী কালের পাথর আজ আগাম মারা যায় না।

দুই দিনের রমই কি শেষ দিনে কাযা করা যায়? কোন নিয়মে করতে হবে?


শেষ দিনে তিন দিনের পাথর এক সাথে মারতে হলে প্রথম ১১ তারিখের পাথর যথা নিয়মে তিনটি জামরাতেই মারতে হবে। তারপর ছোট জামরায় ফিরে গিয়ে ১২ তারিখের পাথর যথা নিয়মে তিনটি জামরাতেই মারতে হবে। সর্বশেষে ১৩ তারিখের পাথর যথা নিয়মে তিনটি জামরাতেই মারতে হবে। ৩৯২ (ইবনে বায)

পাথর মারতে সক্ষম অপরকে ব্যক্তি অপরকে প্রতিনিধি করতে পারে কি? কোন অহাজী নায়েব হয়ে পাথর মেরে দিতে পারে কি?


পাথর মারতে সক্ষম ব্যক্তি অপরকে প্রতিনিধি করতে পারে না; করলে দম লাগবে। যাকে প্রতিনিধি করা হবে তাকে বর্তমানে হাজী হতে হবে। ৩৯৩ (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ  ১৪/১৪০)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  126 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।