• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


(৪৯৯) অজ্ঞতা বশতঃ তওয়াফে এফাযা ছেড়ে দিলে করণীয় কি?


তওয়াফে এফাযা (হজ্জের তওয়াফ) হজ্জের অন্যতম রুকন। ইহা আদায় না করলে হজ্জ সম্পন্ন হবে না। কোন মানুষ ইহা ছেড়ে দিলে তার হজ্জ পূর্ণ হল না। ইহা অবশ্যই আদায় করতে হবে- যদিও এজন্য তাকে নিজ দেশে ফিরে আসতে হয়। এই অবস্থায় যেহেতু সে হজ্জের তওয়াফ করে নি, তাই তার জন্য স্ত্রী সহবাস বৈধ নয়। কেননা সে এখনো পূর্ণ হালাল হয়নি। তওয়াফে এফাযার সাথে যদি সাঈও ছেড়ে থাকে, তবে তামাত্তুকারীকে তওয়াফে এফাযা এবং সাঈ করতে হবে এবং কেরাণ ও ইফরাদকারী তওয়াফে কুদূমের সাথে সাঈ না করে থাকলে, তাদেরকেও তওয়াফে এফাযার সাথে সাঈ করতে হবে, তবেই তারা পূর্ণ হালাল হবে এবং হজ্জ বিশুদ্ধ হবে।

(৫০০) অনেক তওয়াফকারীকে দেখা যায় ভীড়ের মধ্যে ঠেলে ঠেলে তাদের নারীদেরকে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করার জন্য পাঠায়। তাদের জন্য কোনটি উত্তম হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা? নাকি পুরুষদের ভীড় থেকে দূরে অবস্থান করা।


প্রশ্নকারী যখন এই আশ্চর্য বিষয় দেখেছে, আমি এর চাইতে অধিক আশ্চর্য জনক বিষয় দেখেছি। আমি দেখেছি কিছু লোক ফরয নামাযানে- এক দিকে সালাম ফেরানো হলে দ্বিতীয় সালাম ফেরানোর পূর্বে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার জন্য দৌড় দেয়। এতে তো তার ফরয নামাযই বাতিল হয়ে গেল। যে নামায কিনা ইসলামের অন্যতম প্রধান রুকন। অথচ সে এমন একটি কাজ করতে ছুটেছে যা ওয়াজিব নয়। এমনকি তওয়াফ অবস্থায় না থাকলে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা শরীয়ত সম্মতও নয়। নিঃসন্দেহে এটি একটি বিরাট ধরণের দুঃখ জনক অজ্ঞতা। তওয়াফ ছাড়া হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা সুন্নাত নয়। এব্যাপারে আমার কোন দলীল জানা নেই। আমি এই স্থান থেকে আহ্বান জানাচ্ছি যে, আমার জ্ঞানের বাইরে যদি কারো কাছে এমন কোন দলীল জানা থাকে যে, তওয়াফ না করলেও হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা শরীয়ত সম্মত, তবে সে যেন আমাদের কাছে তা পৌঁছিয়ে দেয়। আল্লাহ্‌ তাকে উত্তম প্রতিদান দিবেন।

অতএব হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করা তওয়াফের সুন্নাতের অন্তর্গত। তাছাড়া এটা তখনই সুন্নাত হিসেবে সাব্যস্ত হবে যখন উহা চুম্বন করতে গিয়ে তওয়াফকারী কষ্ট পাবে না বা অন্য কাউকে কষ্ট দেয়া হবে না। যদি তওয়াফকারীর কষ্ট হয় বা অন্য কাউকে কষ্ট দেয়া হয়, তবে দ্বিতীয় পদক্ষেপ অবলম্বন করবে এবং তা হাত দ্বারা স্পর্শ করে হাতকে চুম্বন করবে। যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে শিখিয়েছেন। যদি একাজও কষ্ট করা ও কষ্ট দেয়া ছাড়া আদায় করা সম্ভব না হয়, তবে আমরা তৃতীয় স্তরে উপনীত হয়ে দূর থেকে হাজরে আসওয়াদকে এক হাত দ্বারা ইশারা করব। কিন্তু সে হাতকে চুম্বন করব না। এটাই হচ্ছে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করার সুন্নাতী পদ্ধতি।

হাজরে আসওয়াদকে চুম্বনের বিষয়টি আরো জটিল ও কঠিন হবে- যেমনটি প্রশ্নকারী উল্লেখ করেছেন্ত নারীদেরকে পাথর চুম্বন করার জন্য ঠেলে দেয়া, হতে পারে সে নারী গর্ভবতী বা বৃদ্ধা বা দুর্বল যুবতী অথবা শিশুকে উপরে উঠিয়ে চুম্বনের জন্য এগিয়ে দেয়া, তবে এসব কাজ গর্হিত ও নাজায়েয। কেননা এতে দুবর্ল লোকদেরকে ভয়ঙ্কর এক অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে, যেখানে আছে সংকীর্ণতা ও পুরুষদের ভীড়ের প্রচন্ডতা। তাই বিষয়টি মাকরূহ অথবা হারামের অন্তর্গত। আল্লাহ্‌র রহমতে অন্য ব্যবস্থা থাকতে কোন মানুষের পক্ষে এদিকে অগ্রসর হওয়া উচিৎ নয়। আপনি যদি কঠিনভাবে ইসলামের বিধান পালন করতে চান, তবে পরাজিত হবেন।

(৫০২) ওমরা বা হজ্জকারী যদি দু’আ না জানে, তবে তওয়াফ, সাঈ প্রভৃতির সময় কি কোন বই হাতে নিয়ে দেখে দেখে দু’আ পাঠ করা জায়েয হবে?


হজ্জ বা ওমরাকারী যে সমস্ত দু’আ জানে এগুলোই তার জন্যে যথেষ্ট। কেননা সাধারণতঃ সে যা জানে তা সে বুঝে। আর বুঝে-শুনেই আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিৎ। কিন্তু যদি কোন বই হাতে নিয়ে দু’আ পড়ে বা কাউকে ভাড়া নিয়ে তার শিখিয়ে দেয়া দু’আ পড়ে- যার কিছুই সে বুঝে না, তবে তাতে কোনই উপকার হবে না। তাছাড়া বাজারের এই বইগুলোতে তওয়াফ-সাঈর জন্য যে দু’আ নির্দিষ্ট করা হয়েছে, তা বিদআত এবং বিভ্রান্তি। কোন মুসলমানের জন্য এগুলো পাঠ করা জায়েয নয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উম্মতকে প্রত্যেক চক্করের জন্য আলাদা ও বিশেষ কোন দু’আ শিক্ষা দেননি। ছাহাবায়ে কেরাম থেকেও এর কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

إِنَّمَا جُعِلَ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَرَمْيُ الْجِمَارِ لِإِقَامَةِ ذِكْرِ اللَّهِ

“আল্লাহর ঘরের তওয়াফ, সাফা-মারওয়ার সাঈ ও জামরায় কঙ্কর নিক্ষেপ প্রভৃতির লক্ষ্য হচ্ছে আল্লাহর যিকির প্রতিষ্ঠা করা।”

তাই সকল মু‘মিনের উপর ওয়াজিব হচ্ছে এধরণের বই-পুস্তক থেকে সতর্ক থাকা। আর নিজের দরকারের কথা আল্লাহর কাছে এমন ভাষায় পেশ করা যার অর্থ সে নিজে অনুধাবন করে। সাধ্যানুযায়ী আল্লাহর যিকির করা। অর্থ বুঝে না এমন শব্দ ব্যবহার করার চাইতে এটাই তার জন্য উত্তম। অনেকে এমনও আছে যে অর্থ বুঝা তো দূরের কথা বইয়ের শব্দ বা বাক্যগুলোই ভালভাবে পড়তে পারে না।

(৫০৩) তওয়াফ-সাঈতে কি বিশেষ কোন দু’আ আছে?


হজ্জ-ওমরার জন্য নির্দিষ্ট কোন দু’আ নেই। মানুষ জানা যে কোন দু’আ পাঠ করতে পারবে। কিন্তু নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত দু’আ সমূহ পাঠ করা উত্তম। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানী ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে এই দু’আ পাঠ করা সুন্নাতঃ رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ “রাব্বানা আতিনা ফিদ্দুন্‌ইয়া হাসানাতাঁও ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ্‌, ওয়াক্বিনা আযাবান্নার।” অনুরূপভাবে সাফা-মারওয়ায় ও আরাফার দিবসের প্রমাণিত দু’আ পাঠ করতে পারে। সুন্নাত থেকে প্রমাণিত যে সমস্ত দু’আ জানা আছে তাই পাঠ করা উচিৎ। কিন্তু জানা না থাকলে তার মাথায় যে দু’আই আসে তাই পাঠ করা যাবে। কেননা এই দু’আ পাঠ করা ওয়াজিবের    অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং উহা মুস্তাহাব।

এ উপলক্ষে আমি বলতে চাইঃ হজ্জ-ওমরার জন্য ছোট ছোট পুসি-কা হাজীদের হাতে দেখা যায়। তাতে তওয়াফ-সাঈর প্রত্যেক চক্করের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দু’আ নির্দিষ্ট করা থাকে। এটা বিদআত। এতে নিশ্চিতভাবে অনেক ধরণের বিপদ আছে। যেমন,

 ১)  যারা এটা পাঠ করে ধারণা করে যে, বইয়ের দু’আগুলো নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত।

২)   তারা এই দু’আর প্রত্যেকটি শব্দ পাঠ করা ইবাদত মনে করে।

৩)   কোন মর্ম বা অর্থ না বুঝেই তা পাঠ করে।

৪)   প্রত্যেক চক্করের জন্য আলাদা আলাদা দু’আ নির্দিষ্ট করে।

৫)  ভীড়ের কারণে চক্কর পূর্ণ হওয়ার আগেই দু’আ পড়া শেষ হয়ে গেলে চুপ করে থাকে।

৬)   আর দু’আ শেষ হওয়ার আগে চক্কর শেষ হয়ে গেলে দু’আ পড়া ছেড়ে দেয়। এই বিদআতী আমলের কারণে এতগুলো ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে।

অনুরূপভাবে মাক্বামে ইবরাহীমের কাছে পাঠ করার জন্য ঐ বইয়ে যে দু’আ পাওয়া যায়, তাও বিদআত। কেননা উহা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়। বরং তিনি সেখানে গিয়ে পাঠ করেছেন, وَاتَّخِذُوا مِنْ مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى “তোমরা মাক্বামে ইবরাহীমকে নামাযের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর।” (সূরা বাক্বারাঃ ১২৫) এবং তিনি এর পিছনে দু’রাকাত নামায আদায় করেছেন। অতএব যারা এখানে এসে অতিরিক্ত দু’আ পাঠ করে এবং অন্যান্য মুছল্লী ও তওয়াফকারীদের মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে, তাদের এই কাজ দু’টি কারণে গর্হিত ও বিদ্‌আতঃ ক) এ সমস্ত দু’আ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত না হওয়ার কারণে তা বিদআত। খ) যারা মাক্বামে ইবরাহীমের পিছনে ছালাত আদায় করে তাদের নামাযে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে।

(৫০৪) ওমরা শেষ করার পর ইহরামের কাপড়ে নাপাকী দেখতে পেলে কি করবে?


কোন মানুষ ওমরার তওয়াফ ও সাঈ শেষ করার পর যদি ইহরামের কাপড়ে নাপাকী দেখতে পায়, তবে তার তওয়াফ বিশুদ্ধ, সাঈ বিশুদ্ধ তথা ওমরা বিশুদ্ধ। কেননা কারো কাপড়ে যদি তার অজানাতে কোন নাপাকী লেগে থাকে অথবা জানে কিন্তু তা পরিস্কার করতে ভুলে যায় এবং সেই কাপড়ে নামায আদায় করে, তবে তার নামায বিশুদ্ধ। অনুরূপভাবে ঐ কাপড়ে যদি তওয়াফ করে তবে তওয়াফও বিশুদ্ধ। একথার দলীল আল্লাহ্‌র বাণীঃ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا “হে আমাদের পালনকর্তা আমরা যদি ভুলে যাই বা ভুলক্রমে কোন কিছু করে ফেলি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।” (সূরা বাক্বারাঃ ২৮৬) এটি একটি সাধারণ দলীল। ইহা ইসলামের বিরাট ও গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি। এখানে একটি বিশেষ দলীল আছে, একদা রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছাহাবায়ে কেরামকে নিয়ে জুতা পরিহিত অবস্থায় ছালাত আদায় করছিলেন। হঠাৎ তিনি জুতা খুলে ফেললেন। লোকেরাও জুতা খুলে ফেললেন। নামায শেষ করে তিনি তাদেরকে বললেন, “তোমাদের কি হয়েছে? কেন তোমরা জুতা খুলে ফেললে? তারা বললেন, আপনি জুতা খুলে ফেলেছেন, আপনার দেখাদেখি আমরাও জুতা খুলে ফেললাম। তিনি বললেন, “জিবরীল (আঃ) এসে আমাকে সংবাদ দিলেন যে, আমার জুতায় নাপাকী আছে। তাই আমি ইহা খুলে ফেলেছি।” কিন্তু নবী (সাঃ) নতুন করে আর নামায আদায় করলেন না। অথচ তাঁর নামাযের প্রথম দিকের কিছু অংশ নাপাকী নিয়েই হয়েছিল। কিন্তু তিনি তা জানতেন না। অতএব ভুলক্রমে অথবা না জানার কারণে কেউ যদি কাপড়ে নাপাকী নিয়ে নামায আদায় করে বা তওয়াফ করে তবে তা বিশুদ্ধ হবে।

একটি মাসআলাঃ কোন মানুষ যদি ছাগলের গোশত মনে করে উটের গোশত খায় এবং এ ভিত্তিতে ওযু না করেই ছালাত আদায় করে। যখন বিষয়টি সে জানবে তখন তাকে কি নামায পুনরায় পড়তে হবে? হ্যাঁ, ওযু করে তাকে নামায পুনরায় পড়তে হবে।

কেউ যদি প্রশ্ন করে, এটা কেমন কথা অজ্ঞতা বশতঃ নাপাকী নিয়ে নামায আদায় করলে তা দোহরাতে হবে না; কিন্তু অজ্ঞতা বশতঃ উটের গোশত খেয়ে ওযু না করে নামায আদায় করলে তা দোহরাতে হবে?

এর জবাবঃ একটি গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি (ঃযবড়ৎু) হচ্ছে, [নির্দেশ মূলক বিষয় অজ্ঞতা ও ভুলের কারণে রহিত হয় না। কিন্তু নিষিদ্ধ বিষয় অজ্ঞতা ও ভুলের কারণে রহিত হয়ে যায়।] এই মূলনীতির দলীল হচ্ছেঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণীঃ তিনি বলেন, “কোন ব্যক্তি যদি নামায আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে বা ভুলে যায়, তবে স্মরণ হলেই সে যেন উহা আদায় করে নেয়।” কোন এক সময় নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভুলক্রমে দু’রাকাত নামায পড়ে সালাম ফিরিয়ে দিলেন, বিষয়টি তাঁকে স্মরণ করানো হলো, তিনি তখন শুধুমাত্র ছুটে যাওয়া দু’রাকাতই আদায় করলেন। এথেকে বুঝা যায় নির্দেশিত বিষয় ভুলে যাওয়ার কারণে রহিত হয় না। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদেশ করেছেন নামায ভুলে গেলে স্মরণ হলেই আদায় করে নিতে হবে। তা ছেড়ে দেয়া যাবে না।

অনুরূপভাবে অজ্ঞতার কারণে নির্দেশ মূলক রহিত হয় না তার দলীল হচ্ছে, জনৈক ব্যক্তি এসে খুব তাড়াহুড়া করে নামায আদায় করলো, তারপর নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট এসে সালাম দিলো, তিনি তাকে বললেনঃ ফিরে যাও আবার নামায আদায় করো, কেননা তুমি নামাযই আদায় করো নি। এভাবে তিন বার তাকে ফেরালেন। প্রতিবারই সে নামায আদায় করে তাঁর কাছে আসলে তিনি তাকে বললেন, “ফিরে গিয়ে নামায আদায় কর। কেননা তুমি নামাযই আদায় করো নি।” শেষ পর্যন্ত নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নামায শিখিয়ে দিলেন, ফলে সে বিশুদ্ধ পদ্ধতিতে নামায আদায় করল। এই লোকটি নামাযের গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব ‘ধীরস্থিরতা’ অজ্ঞতার কারণে পরিত্যাগ করেছিল। সে বলেছিল, ‘শপথ সেই সত্বার যিনি আপনাকে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, আমি এর চাইতে সুন্দর ভাবে নামায আদায় করতে জানি না। আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন।’ অজ্ঞতার কারণে যদি ওয়াজিব রহিত হয়ে যেত, তবে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার ওযর গ্রহণ করতেন এবং বারংবার তাকে নামায পড়তে বলতেন না।

(৫০৫) মাক্বামে ইবরাহীমে যে পদচিহ্ন দেখা যায়, তা কি প্রকৃতই ইবরাহীম (আঃ) এর পায়ের চিহ্ন?


সন্দেহ নেই মাক্বামে ইবরাহীম সুপ্রমাণিত। কাঁচে ঘেরা স্থানটিই মাক্বামে ইবরাহীম। কিন্তু এর মধ্যে যে গর্ত দেখা যায় তাতে পায়ের কোন চিহ্ন প্রকাশিত নয়। কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত যে, বহুকাল পর্যন্ত পাথরের উপর দু’পায়ের চিহ্ন বিদ্যমান ছিল। কিন্তু বর্তমানের এই গর্তটি শুধুমাত্র পরিচয়ের জন্য করা হয়েছে। একথা নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে, এই গর্তই ইবরাহীম (আঃ) এর পদদ্বয়ের চিহ্ন।

এ উপলক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই। অনেক ওমরাকারী ও হজ্জ পালনকারী মাক্বামে ইবরাহীমের পাশে এসে এমন কিছু দু’আ পাঠ করে যা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নয়। কখনো এরা উঁচু কন্ঠে দু’আ পাঠ করে এবং মুছল্লী বা তওয়াফকারীদের মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। মাক্বামে ইবরাহীমের জন্য নির্দিষ্ট কোন দু’আ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নেই। মানুষ যা পাঠ করে তা মৌলবীদের তৈরীকৃত। সুন্নাত হচ্ছে তওয়াফ শেষ করে (মাক্বামে ইবরাহীমের) পিছনে এসে হালকা করে দু’রাকাত নামায আদায় করা। (বেশী ভীড় থাকলে সেখানে নামায না পড়ে আরো পিছনে বা যে কোন স্থানে নামায পড়া যাবে।) তারপর নামায হয়ে গেলেই সেখানে বসে থাকবে না; যারা নামায পড়তে চায় তাদের জন্য জায়গা খালি করে দিবে।

(৫০৬) কা’বা শরীফের গিলাফ ধরে দু’আ বা কান্নাকাটি করা জায়েয কি?


কা’বা শরীফের গিলাফ ধরে বরকত কামনা করা বা দু’আ বা কান্নাকাটি করা বিদআত। কেননা এ কাজ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নেই। মুআবিয়া বিন আবু সুফিয়ান (রাঃ) তওয়াফ করার সময় যখন কা’বা ঘরের প্রতিটি কোণ স্পর্শ করছিলেন, তখন আবদুল্লাহ্‌ বিন আব্বাস (রাঃ) এর প্রতিবাদ করেছেন। মুআবিয়া বললেন, কা’বা ঘরের কোন অংশই ছাড়ার নয়।’ তখন ইবনু আব্বাস (রাঃ) জবাবে বললেনঃ “নিশ্চয় আল্লাহর রাসূলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ। আমি দেখেছি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) শুধু মাত্র দু’টি কর্ণার স্পর্শ করেছেন। অর্থাৎ- হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানী। অতএব আমাদের উপর আবশ্যক হচ্ছে কা’বা ঘরকে ছোঁয়া বা স্পর্শ করার ব্যাপারে শুধুমাত্র সুন্নাত থেকে প্রমাণিত দলীলেরই অনুসরণ করব। কেননা এতেই আমরা রাসূল (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উত্তম আদর্শকে আঁকড়ে থাকতে পারব।

অবশ্য মুলতাযিম অর্থাৎ কা’বা ঘরের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থান স্পর্শ করে দু’আ করা, ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) থেকে প্রমাণিত হয়েছে।

(৫০৭) ওমরায় মাথা মুন্ডন বা চুল ছোট করার বিধান কি? এ দু’টির মধ্যে কোনটি উত্তম?


ওমরায় মাথা মুন্ডন বা চুল ছোট করা ওয়াজিব। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজ্জে মক্কায় আগমণ করে তওয়াফ ও সাঈ করার পর যারা কুরবানী সাথে নিয়ে আসেনি তাদেরকে নির্দেশ দিলেন, তারা যেন মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যায়। নবী  (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর এই আদেশ ওয়াজিবের অর্থ বহণ করে। অতএব চুল ছোট করা আবশ্যক। তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ৬ষ্ঠ হিজরীতে ওমরা করার জন্য গমণ করলে হুদায়বিয়া নামক স্থানে কাফেরদের দ্বারা বাধাপ্রাপ্ত হন, তখন তিনি ছাহাবীদেরকে সেখানেই মাথা মুন্ডন করার নির্দেশ প্রদান করেন। তারা নির্দেশ পালনে দ্বিধায় ভোগলে তিনি তাদের উপর রাগন্বিত হন। আর মাথার চুল ছোট করার চাইতে মাথা মুন্ডন করা উত্তম। তবে তামাত্তুকারী যদি শেষ সময়ে মক্কায় পৌঁছে, তবে ওমরা করার পর চুল ছোট করাই ভাল, যাতে করে হজ্জের সময় মুন্ডন করার জন্য মাথায় চুল পাওয়া যায়।

(৫০৮) জনৈক হাজী তামাত্তু হজ্জ করতে এসে, ওমরার তওয়াফ ও সাঈ শেষ করে ইহরাম খুলে সাধারণ পোশাক পরিধান করে নিয়েছে। মাথা মুন্ডন করেনি বা চুল ছোট করেনি। হজ্জের যাবতীয় কাজ শেষ করার পর এ সম্পর্কে সে জানতে চেয়েছে। এখন তার করণীয় কি?


এ ব্যক্তি ওমরার একটি ওয়াজিব কাজ পরিত্যাগ করেছে। তা হচ্ছে, চুল খাটো করা বা মাথা মুন্ডন করা। বিদ্বানদের মতে তার উপর ওয়াজিব হচ্ছে ফিদ্‌ইয়া হিসেবে একটি কুরবানী করা। তা মক্কাতেই আদায় করতে হবে এবং সেখানকার ফকীরদের নিকট তার গোস্ত বিতরণ করতে হবে। তবেই তার তামাত্তু হজ্জ সম্পাদন হবে এবং ওমরা বিশুদ্ধ হবে।

(৫০৯) যে ব্যক্তি তামাত্তু হজ্জের ইহরাম বেঁধে ওমরা শেষ করে চুল কাটেনি বা মুন্ডনও করেনি। পরে হজ্জের সমস্ত কাজ শেষ করেছে তাকে কি করতে হবে?


এ ব্যক্তি ওমরায় চুল ছোট করা পরিত্যাগ করেছে। যা ওমরার একটি রুকন। বিদ্বানদের মতে ওয়াজিব পরিত্যাগ করলে দম তথা কুরবানী ওয়াজিব হবে। তা মক্কায় যবেহ করে সেখানকার ফকীরদের মাঝে বন্টন করতে হবে। আর এর মাধ্যমে হজ্জ ও ওমরা পূর্ণতা লাভ করবে। মক্কার বাইরে অবস্থান করলে যে কোন লোককে উক্ত ফিদ্‌ইয়া মক্কায় আদায় করার জন্য দায়িত্ব দিতে পারে। (আল্লাহ্‌ তাওফীক দাতা)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  90 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।