• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


স্বামীর হাতে স্ত্রীর আংটি বা স্ত্রীর চুড়ি রাখা কি জরুরী? তা খুলে ফেললে কি কোন অমঙ্গল বা বিপদের আশঙ্কা আছে?


দাম্পতের চিহ্নস্বরূপ হাতে আংটি দেওয়া বৈধ নয়। কারণ তা অমুসলিমদের আচরণ। ৫৭৫ (ইবনে উষাইমীন) হাতের সৌন্দর্যের জন্য মহিলাদের চুড়ি পরা বৈধ। তবে তাতে এই বিশ্বাস রাখা অমূলক যে, তা খুলে ফেললে স্বামীর কোন অমঙ্গল ঘটবে।

আমাদের বিবাহের দিনে আমি কি আমার স্ত্রীকে কোন উপহার দিয়ে স্মৃতিচারণা করে খুশী করতে পারি?


এ দরজা খুলে দেওয়া ঠিক মনে করি না। কারণ ধীরে ধীরে তা বিজাতির ‘হানিমুন’ ও ‘বিবাহ বার্ষিকী’ পালনের প্রথা হিসেবে পালন শুরু হয়ে যাবে। সুতরাং প্রত্যহ না পারলেও অনির্দিষ্ট দিনে কোন উপহার পেশ করে ঐ খুশী করা যায়। নচেৎ মুসলিম দম্পতির তো সর্বদা খোশ থাকার কথা। ৫৭৬ (ইবনে উষাইমীন) মহানবী (সঃ) বলেন, “সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী হল সে, যার দিকে তার স্বামী তাকালে তাকে খোশ করে দেয়, যাকে কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং সে তার নিজের ব্যপারে এবং স্বামীর মালের ব্যপারে কোন অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচরণ করে না।”৫৭৭ (আহমাদ, নাসাঈ)

স্ত্রী কি কুলক্ষণা হতে পারে?


মহানবী (সঃ) বলেছেন,  “যদি কোন কিছুতে কুলক্ষণ থাকে, তাহলে তা আছে নারী, বাড়ী ও সাওয়ারী (গাড়ী)তে।” ৫৭৮ (বুখারী)

ভাগ্যদোষে এমন কুলক্ষণা স্ত্রী এসে স্বামীর সুখী জীবনকে দুঃখময় করে তুলতে পারে। তবে সে ক্ষেত্রে তকদীরের উপর বিশ্বাস রেখে আল্লাহ্‌র উপর পরিপূর্ণ ভরসা রাখতে হয়। আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) বলেন, “কিছুকে অশুভ লক্ষণ বলে মনে করা শিরক। কিছুকে কুপয়া মনে করা শিরক, কিছুকে কুলক্ষণ মনে করা শিরক। কিন্তু আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার মনে কুধারনা জন্মে না। তবে আল্লাহ (তারই উপর) তাওয়াক্কুল (ভরসার) ফলে তা (আমাদের হৃদয় থেকে) দুর করে দেন।” ৫৭৯ (আহমাদ ১/৩৮৯, ৪৪০, আবূ দাউদ ৩৯১০, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম প্রমুখ, সিঃ সহীহাহ ৪৩০ নং)

আমার স্বামী বড় কৃপণ। আমার ব্যাপারে এবং আমাদের ছেলেমেয়ের ব্যাপারে পয়সা খরচ করতে বড় কৃপণতা করে। এখন তার অজান্তে যদি টাকা পয়সা নিয়ে খরচ করি, তাহলে সেটা কি চুরি হবে?


স্বামী যদি সত্য সত্যই কৃপণ হয় এবং বাস্তবেই যদি স্ত্রী ও ছেলেমেয়েদের খরচ করা বৈধ। তবে তা যেন প্রয়োজনের অতিরিক্ত না হয়। অধিক বিলাসিতা করার জন্য না হয়। অথবা অন্য কোন আত্নীয়কে দেওয়ার জন্য না হয়। একদা আবূ  সুফয়ানের স্ত্রী হিন্দ নবী (সঃ) কে বললেন যে, ‘আবূ সুফইয়ান একজন কৃপণ লোক। আমি তার সম্পদ থেকে (তার অজান্তে) যা কিছু নিই, তা ছাড়া সে আমার ও আমার সন্তানকে পর্যাপ্ত পরিমাণ খরচ দেয় না।’ রাসুলুল্লাহ (সঃ) বললেন, “তোমআর ও তোমার সন্তানের প্রয়োজন মোতাবেক খরচ (তার অজান্তে) নিতে পার।” ৫৮০ (বুখারী ও মুসলিম)

আমার স্বামী আমাকে ভালবাসে না। কথায় কথায় আমাকে গালাগালি করে, মারধরও করে। ছেলেমেয়ে এবং নিকট ও দুরের মানুষের কাছে আমাকে অপমানিতা করে। কিন্তু সে আবার নামাযও পড়ে। সুখ শান্তির জন্য আমি এখন কি করতে পারি?


(১) আপনি ধৈর্য ধরুন এবং গালি ও মারের বদলা নেওয়া থেকে দূরে থাকুন।
(২) আল্লাহ্‌র কাছে নামায দুআ করুন, যেন আল্লাহ আপনার স্বামীকে সৎশীল বানায়।
(৩) কেন আপনাকে গালাগালি বা মারধর করছে, তার কারণ আবিষ্কার করুন। আপনি বলছেন, ‘সে নামাযী’। তাহলে আশা করি, সে পাগল নয় এবং মাদকদ্রব্যও সেবন করে না। তাহলে কেন খামোকা আপনাকে গালাগালি করবে? ভেবে দেখুন, দোষ আপনার মধ্যে নেই তো? আপনার পারিপাট্য, সাজগোজ বা সময়ানুবর্তিতাতে কোন ত্রুটি নেই তো? আপনি কি আপনার স্বামীর সব চাহিদা মিটাতে পেরেছেন? আপনি কি সেই স্ত্রী, যার ব্যাপারে মহানবী (সঃ) বলেছেন, “ সর্বশ্রেষ্ঠ স্ত্রী হল সে, যার দিকে তার স্বামী তাকালে তাকে খোশ করে দেয়, যাকে কোন আদেশ করলে তা পালন করে এবং সে তার নিজের ব্যাপারে এবং স্বামীর মালের ব্যাপারে কোন অপছন্দনীয় বিরুদ্ধাচারণ করে না।” ৫৮১ (আহমাদ, নাসাঈ)

আপনি হয়তো কোন কোন ব্যাপারে তার মতের সাথে মত মিলাতে পারছেন না। আপনি হয়তো চাচ্ছেন, সে আপনার মতে চলুক। অথচ বৈধ বিষয়ে তার অনুগত্য করা আপনার জন্য ওয়াজেব। সে আপনার কর্তা, অথচ আপনি  হয়ত তাকে নিজের কর্তা বলে মেনে নিতে পারছেন না। আর তার জন্যই সে আপনার প্রতি খাপ্পা। আপনি হয়ত তার মুখের ওপর মুখ দেন, পার প্রতি মুখ চালান। আর তার জন্যই সে আপনাকে মারধর করে। যাই হোক, কারণ নির্ণয় করে জ্ঞানী মেয়ের মতো তার বাধ্য হয়ে যান। আর এতে নিজেকে ছোট মনে করবেন না। কারণ, স্বামীর মর্যাদার কাছে প্রত্যেক স্ত্রীই ছোট; যদিও স্ত্রী ধনে, বংশে ও শিক্ষায় স্বামীর তুলনায় বড় হয়। এ কথা মেনে নিতে পারলে সুখ শান্তির বাগানে আবার বসন্ত ফিরে আসবে।

বিবাহের চার মাস পর আমার স্ত্রীর সাথে আমার মায়ের মনোমালিন্য শুরু হয়ে গেল। এক সময় অশান্তি করে সে মায়ের ঘরে চলে গেল। অতঃপর পুনরায় সে আমাদের বাড়ী আসতে চাইল না। সে বলল, ‘যদি আমাকে নিয়ে আপনি অন্য কোথাও অথবা আমার বাপের বাড়িতে থাকতে পারেন, তাহলে সংসার করব। নচেৎ না।’ এখন আমি কি করি? আমার মা বাপ বউ এর খিদমত চায়। কিন্তু আমরা অশান্তি চাই না। এখন শান্তি বজায় রাখার জন্য যদি অন্যত্র কোথাও মা বাবাকে ছেড়ে ভাড়া বাড়িতে বাস করি, তাহলে কি আমি গোনাহগার হব? নাকি আমি স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেব?


সংসারে এটি একটি মহাসমস্যা। মা ও বউ এর খেয়াল খুশীর মাঝে পুরুষ দিশেহারা হয়ে যায়। মায়ের মন রক্ষা করা জরুরী। আবার বিনা পর্যাপ্ত কারণে তালাক দেওয়া হারাম। সুতরাং শেষ পথ এটাই যে, আপনি বউ নিয়ে অন্যত্র বাস করুন, মায়ের সংসার থেকে পৃথক হয়ে যান। তবে মা বাপের সুবিধা অসুবিধা কথা ভুলবেন না। আপনার দ্বারা যতটা সম্ভব, আপনি ততটা তাদের খিদমত করবেন। পারলে তাদের জন্য দাসী রেখে নেবেন। ৫৮২ (ইবনে উষাইমীন)    

বাপ মায়ের আদেশ পালন করা ওয়াজেব। কিন্তু তারা যদি বউ তালাক দিতে বলে, তাহলে করণীয় কি?


বাপ মায়ের আদেশ পালন করা ওয়াজেব। কিন্তু তারা যদি অন্যায় আদেশ করে, তাহলে তা পালন করা হারাম। সুতরাং বউ তালাক দিতে বললে কারণ জানতে হবে। কারণ যদি সঠিক হয় এবং সে কারণে বউ তালাক দেওয়া ওয়াজেব হয়, তাহলে বুঝানোর পর তালাক দেবে। পক্ষান্তরে কারণ যদি সঠিক না হয়, কেবল বউয়ের প্রতি ঈর্ষাবশতঃ হয়, তাহলে তালাক দেওয়া বৈধ নয়। পুরুষকে পরীক্ষা দিতে হবে সংসারের এই মা বউয়ের দ্বন্দ্বে। শরীয়তই হবে সঠিক ফয়সালাদাতা। কোন আবেগ বা প্রেম, কোন ঈর্ষা বা হিংসা অথবা কোন পার্থিব লোভ লালসা যেন পুরুষকে কারো প্রতি অন্যায়াচরণে বাধ্য না করে।

সন্তান বেশি হলে মানুষ গরীব হয়ে যায়। এ কথা বলা কি ঠিক?


অবশ্যই ঠিক নয়। কারণ রুযীর মালিক আল্লাহ। কেউ কারো রুযীর দায়িত্ব নিতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেন, “এমন বহু জীব জন্তু আছে, যারা নিজেদের রুযী বহন করে না; আল্লাহ্‌ই ওদেরকে এবং তোমাদেরকে রুযী দান করেন। আর তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞাতা।” (আনকাবূতঃ ৬০)

“দারিদ্র্যের কারণে তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে হত্যা করো না। আমি তোমাদেরকে ও তাঁদেরকে জীবিকা দিয়ে থাকি।” (আনআমঃ ১৫১)

“তোমাদের সন্তানদেরকে তোমরা দারিদ্রের ভয়ে হত্যা করো না, আমি তাঁদেরকে জীবনোপকরণ দিয়ে থাকি এবং তোমাদেরকেও। নিশ্চয় তাঁদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।”(বানী ইস্রাঈলঃ ৩১)

গর্ভ নিরোধক ট্যাবলেট ব্যবহার বৈধ কি?


মুসলিমের উচিৎ, সংখ্যা বৃদ্ধিতে শরীয়তের উদ্দেশ্যকে সফল করা। তবুও যদি ওটি প্রয়োজন পড়ে, যেমন মহিলা যদি রোগা হয়, প্রত্যেক বছর সন্তান হওয়ার ফলে অতি দুর্বল হয়ে পড়ে, অথবা অন্য কোন সমস্যা থাকে, তাহলে ট্যাবলেট ব্যবহার করে সাময়িক ভাবে সন্তান বন্ধ রাখতে পারে। অবশ্যই সেই সাথে স্বামীর অনুমতি ও ডাক্তারের পরামর্শও জরুরী। পক্ষান্তরে জীবন হানির আশঙ্কা ছাড়া ছাড়া চিরতরের জন্য গর্ভধারণের পথ বন্ধ করে দেওয়া বৈধ নয়।  (ইবনে উষাইমীন)

টেস্ট টিউবের মাধ্যমে গর্ভ সঞ্চার করা কি বৈধ ?


বীর্য স্বামীর হলেও তা টেস্ট টিউবের মধ্যে রেখে স্ত্রী গর্ভে রাখতে গিয়ে তার লজ্জাস্থান খোলা যায়, তা স্পর্শ করা হয় ইত্যাদি। আমার মতে বলে স্বামী স্ত্রীর উচিৎ, এ কাজ না করে আল্লাহ্‌র তকদীরে সন্তষ্ট থাকা। ৫৮৪ (ইবনে জিবরীন)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  87 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।