• ৫৬৫০১ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


সৃষ্টিতত্ত্বের কোন সংবাদ প্রচারে কেউ কেউ বলে থাকেন, এত কোটি বছরে এই হয়েছিল। এত কোটি বছর আগে ঐ হয়েছিল। এত কোটি বছর পূর্বে পৃথিবীতে মানুষের বসবাস শুরু হয়। ইত্যাদি। এ সবে বিশ্বাস করা কি বৈধ?


কোন তত্ত্ববিদ বা বিজ্ঞানী যখন অনুরূপ তথ্য পরিবেশন করেন, তখন কিছুর উপর ভিত্তি করে অনুমানপ্রসুত কথা বলেন। তাতে বিশ্বাস-অবিশ্বাস কিছুই জরুরী নয়। মানুষের ইতিহাস যে কত বছরের, তাও কেউ বলতে পারে না। মহান আল্লাহ বলেছেন, তোমাদের কাছে কি সংবাদ আসেনি তোমাদের পূর্ববর্তীদের; নূহের সম্প্রদায়ের, আ’দের ও সামুদের এবং তাদের পরবর্তীদের? তাদের বিষয় আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে না। (ইব্রাহিমঃ ৯)

আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ, আল্লাহ্‌র কাজের সমালোচনা অথবা আল্লার কাজে দোষ বের করা বৈধ কি?


আল্লাহ্‌র বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ, আল্লাহ্‌র কাজের সমালোচনা অথবা আল্লাহ্‌র কোন দোষ বের করার অধিকার কোন বান্দার নেই। যেহেতু সকল বিধানে তিনি নিখুঁত বিধায়ক। “কেন” বলে অভিযোগ বা আপত্তি করার অবকাশ ও অধিকার নেই কারো। মহান আল্লাহ বলেন, আল্লাহ আদেশ করেন। তাঁর আদেশের সমালোচনা (পুনবিবেচনা) করার কেউ নেই এবং তিনি হিসাব গ্রহনে তৎপর (রা’দঃ ৪১)
তিনি যা করেন, সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হবে না; বরং ওদেরকেই প্রশ্ন করা হবে (আম্বিয়াঃ ২৩)

 

বদ-নজর থেকে বাচার উদ্দেশ্য গাড়ীর সামনে ছেড়া জুতো ঝুলিয়ে দেওয়া, ফলদার গাছে ভাঙ্গা হাড়ি টাঙ্গিয়ে দেওয়া, গরু বা ঘোড়ার গলায় কিছু বেঁধে দেওয়া বৈধ কি?


বদ-নজর থেকে বাচার জন্য এ সব ব্যবহার করা বৈধ নয়। যেহেতু এতে শিরকও হতে পারে।

 

যদি কেউ ইমাম মাহদীর আগমন ও ঈসা (আঃ) এর অবতরণকে অস্বীকার করে, তাহলে তাঁর বিধান কি?


যদি কেউ ইমাম মাহদীর ও ঈসা (আঃ) এর অবতরণকে অস্বীকার করে, তাহলে সে ভ্রষ্ট। ৪৩

কিয়ামতে মানুষকে তাঁর মায়ের নাম ধরে ডাকা হবে, নাকি বাপের নাম ধরে?


কিয়ামতে মানুষকে তাঁর বাপের নাম ধরে ডাকা হবে। যেমন হাদিসে এ কথা স্পষ্টভাবে এসেছে। ৪৪  তাছাড়া নবী (সঃ) বলেন, “আল্লাহ যখন পূর্বেকার ও পরেকার সকল মানুষকে কিয়ামতের দিন সমবেত করবেন, তখন প্রত্যেক (প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী) প্রতারকের জন্য একটি করে পতাকা উড্ডয়ন করা হবে, আর বলা হবে, ‘এ হল অমুক (লোকের) পুত্র অমুক (লোকের) প্রতারনা।’ ৪৫ পক্ষান্তরে মায়ের নাম ধরে ডাকার হাদিস সহীহ নয়। ৪৬

আল্লাহ্‌র রাসূল (সঃ)-এর পিতামাতা কি মুশরিক অবস্থায় মারা গেছেন?


তাঁরা উভয়ই মুশরিক অবস্থায় মারা গেছেন। আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) একবার মায়ের কবর যিয়ারতে গেলেন। সঙ্গে কিছু সাহাবাও ছিলেন। সেখানে পৌঁছে তিনি কেদে উঠলেন। সাহাবাগন কাঁদার কারণ জিজ্ঞাসা করলেন তিনি বললেন, আমি আল্লাহ্‌র নিকট আম্মার (আব্বার) কবর যিয়ারতের এবং ইস্তিগফারের (ক্ষমা প্রার্থনা করার) অনুমুতি চাইলাম, কিন্তু আল্লাহ আযযা আজাল্ল তাদের জন্য ইস্তিগফারের অনুমুতি দিলেন না। আল্লাহ্‌র রাসূল (সঃ) এর মনে প্রশ্ন জাগল যে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তো তাঁর পিতার জন্য (মুশরিক হওয়া সত্তেও) ইস্তিগফার করেছিলেন। আল্লাহ্‌র তরফ থেকে উত্তর এল, ‘ইব্রাহীম তাঁর পিতার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেছিল এবং তা (ইস্তিগফার) তাঁকে দেওয়া আল্লাহ্‌র একটি প্রতিশ্রুতির জন্য সম্ভব হয়েছিল। অতঃপর এ তাঁর নিকর সুস্পষ্ট হল যে, সে আল্লাহ্‌র শত্রু, তখন ইব্রাহীম তাঁর সম্পর্কে নির্লিপ্ত হয়ে গেল। নিশ্চয় ইব্রাহীম ছিল কোমল হৃদয় ও সহনশীল।’ ৪৭
একদা এক ব্যক্তি প্রশ্ন করল, ‘হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার (মৃত) পিতা কোথায় (জান্নাতে না জাহান্নামে)?’ তিনি বললেন, ‘জাহান্নামে।’ অতঃপর সে যখন (মন খারাপ করে) ফিরে যেতে লাগল, তখন তিনি তাঁকে ডেকে বললেন, “আমার পিতা এবং তোমার পিতা জাহান্নামে।” ৪৮

আদম (আঃ) যখন তওবা করছিলেন, তখন তিনি মুহাম্মদের আসীলায় ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। --- এ কথা সঠিক কি?


এ ব্যাপারে একটি হাদিস বর্ণনা করা হয়, যাতে বলা হয়েছে, আদম যখন পাপ করেন, তখন তিনি বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! মুহাম্মাদের আসীলায় আমি তোমার নিকট প্রার্থনা করছি, তুমি আমাকে ক্ষমা করে দাও।’ আল্লাহ বললেন, ‘হে আদম! তুমি মুহাম্মদকে চিনলে কীভাবে, অথচ আমি এখনো তাঁকে সৃষ্টিই করিনি?’ আদম বললেন, ‘হে আমার প্রতিপালক! তুমি যখন আমাকে তোমার হাত দিয়ে সৃষ্টি কর এবং আমার মাঝে তোমার রূহ ফুঁকো, তখন আমি মাথা তুলে দেখি, আরশের পায়ায় লেখা আছে, ‘লা ইলাহা ইল্লালাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ।’ তখন আমি জানি যে, তুমি তোমার নামের পাশে সেই ব্যক্তির নামই যোগ করেছ, যে তোমার সবচেয়ে প্রিয়তম সৃষ্টি।’ আল্লাহ বললেন, ‘আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। আর মুহাম্মাদ না হলে আমি তোমাকে সৃষ্টিই করতাম না।’৪৯
উক্ত হাদীসটি জাল ও গড়া হাদীস। অন্য একটি যয়ীফ হাদীস উক্ত হাদীসের জাল হওয়ার কথা সাক্ষ্য দেয়। আর সেটা এই যে, ‘আদমকে ভারতে অবতারণ করা হয়। তিনি সেখানে আতঙ্কিত হন। সুতরাং জিবরীল অবতরণ করেন এবং আযান দিতে শুরু করেন, ‘আশাহাদু আল-লা ইলাহা ইল্লালাহ’ ২ বার এবং আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রাসুলুল্লাহ ২ বার। আদম বললেন, ‘মুহাম্মাদ কে?’ তিনি বললেন, ‘তোমাদের সন্তানদের মধ্যে শেষ নবী।’
পূর্বের হাদিস সত্য হলে আদম (রঃ) মুহাম্মাদ (সঃ) সম্বন্ধে প্রশ্ন করতেন না, ৫০ পক্ষান্তরে আদম-হাওয়ার পাপ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার দু’আ আমরা কুরআন থেকে জানতে পারি, তাঁরা বলেছিলেন,
তাঁরা বলল, ‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি। যদি তুমি আমাদেরকে ক্ষমা না কর, তাহলে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হব।’ (আরাফঃ২৩)

কিয়ামতে প্রত্যেক সন্তানকে কি তাঁর মায়ের নাম জুড়ে ডাকা হবে?


এ ব্যাপারে যে হাদিস বর্ণিত আছে, তা সহীহ নয়।৫১  সুতরাং সঠিক হল এই যে, ‘প্রত্যেক সন্তানকে তাঁর বাপের নাম জুড়েই ডাকা হবে।’ মহানবী (সঃ) বলেছেন, ‘কিয়ামতে তোমাদেরকে তোমাদের ও তোমাদের বাপের নাম ধরে ডাকা হবে।’ নবী (সঃ) আরও বলেছেন, ‘কিয়ামতে প্রত্যেক (প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী) প্রতারকের জন্য একটি করে পতাকা উড্ডয়ন করা হবে, আর বলা হবে, ‘এ হল অমুকের পুত্র অমুকের প্রতারণা।’ ৫৩ লক্ষণীয় যে, হাদীসে ‘ফুলান’ (পুং-বাচক) বলা হয়েছে, ‘ফুলানাহ’ (স্ত্রী-বাচক) বলা হয়নি।

দাউদ (আঃ)-এর সৈনিক আওরিয়ার স্ত্রীর প্রেমে পড়া এবং কৌশলে তাঁকে হত্যা করিয়ে মহিলাকে বিয়ে করার কাহিনী কি ঠিক?


কক্ষনো ঠিক নয়। এটি একটি ইসরাঈলী রূপকথা। ৫৪

উল্কা বা তাঁরা ছুটার সাথে দুনিয়ার কোন ঘটনাঘটনের সম্পর্ক আছে কি?


উল্কা বা তাঁরা ছুটার সাথে দুনিয়ার কোন ঘটনা ঘটনের সম্পর্ক নেই। শয়তানকে তাঁরা ছুঁড়ে মারা হয়। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের নিকটবর্তী আকাশকে নক্ষত্ররাজি দ্বারা সুশোভিত করেছি এবং একে প্রত্যেক বিদ্রোহী শয়তান হতে রক্ষা করেছি। ফলে, শয়তানরা ঊর্ধ্ব জগতের কিছু শ্রবণ করতে পারে না। ওদের ওপর সকল দিক হতে (উল্কা) নিক্ষেপ হয়; ওদেরকে বিতাড়নের জন্য। আর ওদের জন্য আছে অবিরাম শাস্তি। তবে কেউ গোপনে হটাৎ কিছু শুনে ফেললে জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ড তাঁর পশ্চাদ্ধাবন করে। (স্বাফফাতঃ ৬-১০)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  52 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।