• ৫৬৫১৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


(২২৫) ছালাতে শামিল হওয়ার জন্য দ্রুত পায়ে হেঁটে আসার বিধান কি?


ছালাতে শামিল হওয়ার জন্য দ্রুত পায়ে হেঁটে আসা নিষিদ্ধ। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

إِذَا أُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَلَا تَأْتُوهَا تَسْعَوْنَ وَأْتُوهَا تَمْشُونَ عَلَيْكُمُ السَّكِينَةُ فَمَا أَدْرَكْتُمْ فَصَلُّوا وَمَا فَاتَكُمْ فَأَتِمُّوا

 “যখন নামাযের ইক্বামত প্রদান করা হয় তখন তাড়াহুড়া করে নামাযের দিকে আসবে না। বরং হেঁটে হেঁটে ধীর স্থির এবং শান্তভাবে আগমন করবে। অতঃপর নামাযের যতটুকু অংশ পাবে আদায় করবে। আর যা ছুটে যাবে তা (পরে) পূর্ণ করে নিবে।” অবশ্য কোন কোন বিদ্বান বলেন, ইমাম যদি রুকূতে থাকে তখন রুকূ পাওয়ার জন্য সামান্য জোরে হেঁটে যাওয়াতে কোন দোষ নেই। কিন্তু লোকেরা খুব জোরে হাঁটে বা দৌড় শুরু করে। এটাই নিষিদ্ধ। কিন্তু হাদীছের প্রতি আমল করে ধীর-স্থির ও প্রশান্তির সাথে হেঁটে যাওয়াই উত্তম- যদিও এক বা ততোধিক রাকাআত ছুটে যায়।

(২২৬) জামাআত চলাবস্থায় ইমামের সাথে রাকাআত ধরার জন্য দ্রুত চলার বিধান কি?


মসজিদে প্রবেশ করে আপনি ইমামকে রুকূ অবস্থায় পেলে তাড়াহুড়া করে দ্রুত হেঁটে বা দৌড়িয়ে নামাযে শামিল হবেন না। কাতারে মিলিত না হয়ে একাকীও নামাযে দাঁড়াবেন না। কেননা জনৈক ছাহাবী আবু বাকরা (রাঃ) একাকী নামাযে দাঁড়ানোতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বলেছিলেন, زَادَكَ اللَّهُ حِرْصًا وَلَا تَعُدْ “আল্লাহ্‌ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করে দিন। তুমি এরূপ আর কখনো করিও না।”

(২২৭) মুছল্লীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে এমনভাবে উচ্চৈঃস্বরে কুরআন তেলাওয়াত করার বিধান কি?


মসজিদে বসে উচ্চৈঃস্বরে কুরআন তেলাওয়াত করলে যদি মুছল্লীদের বা শিক্ষার্থীদের বা অন্য কুরআন পাঠকের মনোযোগে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়, তবে তা হারাম। কেননা এব্যাপারে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আল বায়াযী (ফারওয়া বিন আমর) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মসজিদে এসে দেখেন লোকেরা নামায আদায় করছে কিন্তু কুরআন পাঠের কন্ঠ উঁচু শোনা যাচ্ছিল। তখন তিনি বললেন,

]إِنَّ الْمُصَلِّيَ يُنَاجِي رَبَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَلْيَنْظُرْ أَحَدُكُمْ بِمَا يُنَاجِي رَبَّهُ وَلَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلَى بَعْضٍ بِالْقِرَاءَةِ[

“একজন মুছল্লী নামাযে আপন পালনকর্তার সাথে গোপনে কথা বলে। অতএব সে যেন লক্ষ্য করে কি বলছে তার পালনকর্তাকে। আর পরস্পরে উঁচু স্বরে কুরআন পাঠ করবে না।”  অনুরূপভাবে হাদীছটি আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে আবু দাঊদও বর্ণনা করেন।

(২২৮) অনেক মানুষ ইক্বামতের পূর্বে মসজিদে প্রবেশ করে নামায শুরু হওয়ার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে। তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামায আদায় করে না। এরূপ করার বিধান কি?


নামায শুরু হওয়ার সময় যদি অতি অল্প থাকে তবে দাঁড়িয়ে থেকে অপেক্ষা করতে কোন দোষ নেই। কিন্তু ইমাম কখন আসবেন তা যদি জানা না থাকে তবে উত্তম হচ্ছে তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামায শুরু করে দেয়া। তারপর ইমাম যদি এসে পড়েন আর আপনি প্রথম রাকাআতে থাকেন তবে তা ছেড়ে দিয়ে জামাআতে শামিল হবেন। আর দ্বিতীয় রাকাআতে থাকলে হালকাভাবে তা পূর্ণ করে নিবেন।

(২২৯) মসজিদুল হারামে দেখা যায় অনেক পুরুষ ফরয নামাযের জামাআতে নারীদের পিছনেই কাতার বন্দী হয়। তাদের নামায কি বিশুদ্ধ হবে? তাদের জন্য আপনি কিছু নসীহত করবেন কি?


নারীদের কাতারের পিছনে পুরুষদের কাতার বেঁধে নামায আদায় করার ব্যাপারে বিদ্বানগণ বলেন এতে কোন অসুবিধা নেই। কিন্তু তা সুন্নাতের বিপরীত। কেননা সুন্নাত হচ্ছে, নারীরা পুরুষদের পিছনে দাঁড়াবে। তবে মসজিদুল হারামে বর্তমান সময়ে প্রচন্ড ভীড় দেখা যায়; ফলে নারীরা কাতারবন্দী হওয়ার পর পুরুষেরা মসজিদে এসে যেখানে জায়গা পায় সেখানেই কাতারবন্দী হয়। তখন অনেক সময় নারীদের কাতারের পিছনে বাধ্য হয়ে তাদেরকে দাঁড়াতে হয়। কিন্তু প্রতিটি মুছল্লীর জন্য আবশ্যক হচ্ছে সাধ্যানুযায়ী নারীদের পিছনে কাতারবন্দী হওয়া থেকে বিরত থাকা। কেননা এতে পুরুষদের জন্য ফিতনার সম্ভাবনা রয়েছে। অতএব পুরুষ নারীর পিছনে নামায আদায় করা থেকে সতর্ক থাকবে। যদিও ফিক্বাহ্‌বিদদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ কাজ জায়েয। আর নারীদেরও উচিৎ দেখে শুনে পুরুষদের দাঁড়ানোর স্থান থেকে দূরে অন্য কোথাও দাঁড়ানো।

(২৩০) কাতার থেকে শিশু-কিশোরদেরকে সরিয়ে দেয়া জায়েয কি?


কিশোর বা বালক যদি  নামাযের কাতারে দন্ডায়মান হয়, তবে তাকে কাতার থেকে সরিয়ে দেয়া জায়েয হবে না। ইবনু ওমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, لَا يُقِيمُ الرَّجُلُ الرَّجُلَ مِنْ مَقْعَدِهِ ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ  “কোন লোক যেন অন্য লোককে তার বসার স্থান থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে না বসে।” তাছাড়া এতে বালকের অধিকার হরণ করা হয়, তার অন্তরে দুঃখ দেয়া হয়, হতে পারে সে নামাযকে ঘৃণা করবে বা তার অন্তরে হিংসা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি হবে।

শিশুদেরকে যদি কাতারের শেষে দাঁড় করানো হয়, তবে তারা তো একস্থানে সমবেত হয়ে হাসাহাসি ও খেলাধুলায় মত্ত হয়ে পড়বে। ফলে মুছল্লীদের নামাযের আরো ক্ষতি হবে। কিন্তু দু’জন বা ততোধিক যদি একই স্থানে দন্ডায়মান হয় তবে তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য দু’জনের মাঝে বড়দের দাঁড়ানোতে কোন অসুবিধা নেই।

(২৩১) দু’স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে নামায আদায় করার বিধান কি?


কাতারে জায়গা থাকলে দু’স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে নামায আদায় করা জায়েয নয়। কেননা এ কারণে কাতার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু যদি স্থানের সংকুলান না হয় জায়গা না পাওয়া যায়, তবে দু’স্তম্ভের মধ্যবর্তী স্থানে নামায আদায় করতে কোন অসুবিধা নেই।

(২৩২) নারীদের কাতারের বিধান কি? তাদের জন্য উত্তম কাতার শেষেরটি এবং অনুত্তোম কাতার প্রথমটি একথাটি কি সর্বাবস্থায় নাকি একথা নারী-পুরুষের মধ্যবর্তী স্থানে কোন আড়াল না থাকলে?


নারী ও পুরুষ যদি একই স্থানে জামাআতবদ্ধ হয়ে নামাযে দাঁড়ায় তবে সেক্ষেত্রে নারীদের জন্য প্রথম কাতারের চেয়ে শেষের কাতার উত্তম। যেমনটি নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,خَيْرُ صُفُوفِ النِّسَاءِ آخِرُهَا وَشَرُّهَا أَوَّلُهَا  “নারীদের জন্য উত্তম কাতার হচ্ছে শেষেরগুলো আর অনুত্তোম কাতার হচ্ছে প্রথমগুলো।” এটা একারণেই যে, কাতার যত পিছন দিকে হবে ততই তা পুরুষদের থেকে দূরে হবে। আর যত আগের দিকে হবে ততই পুরুষদের নিকটবর্তী হবে। তাই তাদের কাতার পুরুষদের থেকে যতদূরে হবে ততই কল্যাণ জনক হবে। অবশ্য এটা একই মসজিদের ভিতরের কথা।

আর নারীদের নামাযের জন্য যদি স্বতন্ত্র স্থান নির্ধারণ করা থাকে- যেমনটি বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদে দেখা যায়- তবে সেক্ষেত্রে পুরুষদের মত তাদের প্রথম কাতারই উত্তম।

(২৩৩) মসজিদের বাইরে সংশ্লিষ্ট রাস্তায় নামায আদায় করার বিধান কি?


মসজিদে যদি মুছল্লীদের সংকুলান না হয়, তবে বাইরে মসজিদের সাথে সংশ্লিষ্ট রাস্তায় নামায পড়লে কোন অসুবিধা নেই। তবে ইমামের অনুসরণ করা ইমামের তাকবীর ধ্বনী শোনা আবশ্যক।

(২৩৪) কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য কথা কি? মুছল্লীদের পরস্পর কাঁধের সাথে কাঁধ এবং পায়ের সাথে পা মিলানো কি আবশ্যক?


কাতার সোজা করার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ কথা হচ্ছে পায়ের গোড়ালী সমূহ বরাবর করে নেয়া, পায়ের আঙ্গুল সমূহ বরাবর করা আবশ্যক নয়। কেননা শরীরের ভিত্তি থাকে পায়ের গোড়ালীর উপর। আর পায়ের সাইজ অনুযায়ী আঙ্গুলের বিভিন্নতা হয়ে থাকে। কোন পা দীর্ঘ থাকে কোনটা খাট। সুতরাং কাতার বরাবর ও সোজা করা গোড়ালী মিলানো ছাড়া অন্য কোন ভাবে সম্ভব নয়।

আর পায়ের গোড়ালী সমূহ পরস্পরে মিলিত করা নিঃসন্দেহে ছাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) থেকে প্রমাণিত রয়েছে। তাঁরা কাতার বন্দী হওয়ার সময় গোড়ালী সমূহ একজন অপরজনের সাথে মিলিত করে দিতেন। অর্থাৎ- প্রকৃতভাবে কাতার সোজা ও বরাবর করার জন্য তাঁদের একজন পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর গোড়ালীর সাথে গোড়ালী মিলিত করে দাঁড়াতেন। কিন্তু কাতার বন্দীর ক্ষেত্রে এটাই আসল উদ্দেশ্য নয়; বরং এ কাজ কাতার বরাবর সোজা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করার জন্য করতে হয়। একারণে কাতারে দাঁড়ানোর পর উচিৎ হচ্ছে প্রত্যেকে পার্শবর্তী মুছল্লীর পায়ের সাথে পা মিলিয়ে নিবে, যাতে নিশ্চিত হতে পারে যে, কাতার সোজা হয়েছে। পূর্ণ নামাযে এভাবে পরস্পরের পাগুলোকে মিলিয়ে রাখা আবশ্যক নয়।

অনেকে বাড়াবাড়ি করে পার্শ্ববর্তী মুছল্লীর পায়ের সাথে গোড়ালী মিলাতে গিয়ে নিজের দু’পায়ের মাঝে অতিরিক্ত ফাঁক সৃষ্টি করে ফেলে। এটা যেমন সুন্নাত বিরোধী হয় অনুরূপভাবে পরস্পরের কাঁধ থেকেও বহু দূরে চলে যায়। উদ্দেশ্য হচ্ছে গোড়ালী ও কাঁধ সমূহ বরাবর থাকা।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  170 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।