• ৫৬৫১৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


স্ত্রী-চুম্বনের ক্ষেত্রে বৃদ্ধ ও যুবকের মাঝে কোন পার্থক্য আছে কি?


এ ক্ষেত্রে বৃদ্ধ ও যুবকের মাঝে কোন পার্থক্য নেই; যদি উভয়ের কামশক্তি এক পর্যায়ের হয়। সুতরাং দেখার বিষয় হল, কাম উত্তেজনা সৃষ্টি এবং বীর্যস্খলনের  আশঙ্কা। অতএব সে কাজ যদি যুবক বা কামশক্তিসম্পন্ন বৃদ্ধের উত্তেজনা সৃষ্টি করে, তাহলে তা উভয়ের জন্য মাকরূহ। আর যদি তা না করে তাহলে তা বৃদ্ধ, যৌন-দুর্বল এবং সংযমী যুবকের জন্য মাকরূহ নয়। পক্ষান্তরে উভয়ের মাঝে পার্থক্য করার ব্যাপারে যে হাদীস বর্ণিত হয়েছে ২৯৪ (সআদাঃ ২০৯০ নং) তা আসলে কামশক্তি বেশী থাকা ও না থাকার কারণে। যেহেতু সাধারনতঃ বৃদ্ধ যৌন ব্যাপারে শান্ত হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে যুবক তাঁর বিপরীত।

ফলকথা, সকল শ্রেণীর দম্পতির জন্য উত্তম হল রোযা রেখে প্রেমকেলি, কোলাকুলি ও চুম্বন বিনিময়ে প্রভৃতি যৌনাচারের ভূমিকা পরিহার করা। কারণ, যে গরু সবুজ ফসল-জমির আশেপাশে চরে, আশঙ্কা থাকে যে, সে কিছু পরে ফশল খেতে শুরু করে দেবে। সুতরাং স্বামী যদি ইফতার করা অবধি ধৈর্য ধারণ করে, তাহলে সেটাই হল সর্বোত্তম। আর রাত্রি তো অতি  নিকটে এবং তাতো যথেষ্ট লম্বা। আল-হামদু-লিল্লাহ। মহান আল্লাহ বলেন, “ রোযার রাতে তোমাদের জন্য স্ত্রী-সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে।” (বাক্বারাহঃ ১৮৭)

চুম্বন ছাড়া অন্য শৃঙ্গারাচারের ব্যাপারে বিধান কি? এ সময় মযী বের হয়ে গেলে রোযার ক্ষতি হবে কি?


চুম্বনের ক্ষেত্রে চুম্বন গালে হোক অথবা ঠোঁটে উভয় অবস্থাই সমান। তদনুরূপ সঙ্গমের সকল প্রকার ভূমিকা ও শৃঙ্গারাচার; সকাম স্পর্শ, ঘর্ষণ, দংশন, মর্দন, প্রচাপন, আলিঙ্গন প্রভৃতির মানেও চুম্বনের মতোই। এ সবের মাঝে কোন পার্থক্য নেই। আর এ সব করতে গিয়ে যদি কারো মাযী (বা উত্তেজনার সময় আঠালো তরল পানি) নিঃসৃত হয়, তাহলে তাতে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। ২৯৫ (মুমতে ৬/৩৯০, ৪৩২-৪৩৩)

স্ত্রীর জিভ চোষণের ফলে রোযার কোন ক্ষতি হবে কি?


জিভ চোষার ফলে একে অন্যের জিহ্বারস গিলে ফেললে রোযা ভেঙ্গে যাবে। যেমন স্তনবৃন্ত চোষণের ফলে মুখে দুগ্ধ এসে গলায় নেমে গেলেও রোযা ভেঙ্গে যাবে।

স্ত্রীর দেহাঙ্গের যে কোন অংশ দেখা রোযাদার স্বামীর জন্য বৈধ কি?


স্ত্রীর দেহাঙ্গের যে কোন অংশ দেখা রোযাদার স্বামীর জন্যও বৈধ। অবশ্য একবার দেখার ফলেই চরম উত্তেজিত হয়ে কারো মাযী বা বীর্যপাত ঘটলে কোন

ক্ষতি হবে না। ২৯৬ (বুখারী ১৯২৭ নং দ্রঃ)কারণ, অবৈধ নজরবাজীর ব্যাপারে মহানবী (সঃ) বলেন, “প্রথম দৃষ্টি তোমাদের জন্য বৈধ। কিন্তু দ্বিতীয় দৃষ্টি বৈধ নয়।” ২৯৭ (আবূ দাঊদ ২১৪৯, তিরমিযী ২৭৭৮, সহীহ আবূ দাঊদ ১৮৮১ নং)তাছাড়া দ্রুতপতনগ্রস্ত এমন দুর্বল স্বামীর এমন ওজর গ্রহণযোগ্য।

পক্ষান্তরে কেউ বরাবর দেখার ফলে মাযী নির্গত করলে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। কিন্তু বারবার দেখার ফলে বীর্যপাত করে ফেললে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে।

স্ত্রীর দেহাঙ্গ নিয়ে কল্পনাবিহারে বীর্যপাত ঘটলে রোযা নষ্ট হবে কি?


স্ত্রীর-দেহ নিয়ে কল্পনা করার ফলে কারো মাযী বা বীর্যপাত হলে রোযা নষ্ট হয় না। যেহেতু মহানবি (সঃ) এর ব্যাপক নির্দেশ এ কথার প্রতি ইঙ্গিত করে। তিনি  বলেন, “নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের মনের কল্পনা উপেক্ষা করেন, যতক্ষণ কেউ তা কাজে পরিণত অথবা কথায় প্রকাশ না করে।” ২৯৮ (বুখারী ২৫২৮, মুসলিম ১২৭, দ্রঃ মুমতে ৬/৩৯০-৩৯১)

রোযা অবস্থায় দাঁত তোলা কি বৈধ?


রোযাদারদের জন্য দাঁত (স্টোন ইত্যাদি থেকে) পরিষ্কার করা, ডাক্তারি ভরণ (ইনলেই)ব্যাবহার করা এবং যন্ত্রণায় দাঁত তুলে ফেলা বৈধ। তবে এ সব ক্ষেত্রে তাকে একান্ত সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ, যাতে কোন প্রকার ঔষধ বা রক্ত গিলা না যায়। ২৯৯ (ইবনে বায, ফাতাওয়া মুহিম্মাহ, তাতাআল্লাকু বিসসিয়াম ২৯ পৃঃ)

রোযা অবস্থায় দেহের রক্তশোধন বৈধ কি?


রোযাদারদের কিডনি অচল হলে রোযা অবস্থায় প্রয়োজন দেহের রক্ত পরিষ্কার ও শোধন করা বৈধ। পরিশুদ্ধ করার পর পুনরায় দেহে ফিরিয়ে দিতে যদিও রক্ত দেহ থেকে বের হয়, তবুও তাতে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। ৩০০ (ইবনে উষাইমইন)

রোযা অবস্থায় ইঞ্জেকশন নেওয়া বৈধ কি?


রোযাদারদের জন্য চিকিৎসার ক্ষেত্রে সেই ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা বৈধ। যা পানাহারের কাজ করে না। যেমন, পেনিসিলিন বা ইনসুলিন ইঞ্জেকশন অথবা অ্যান্টিবায়োটিক বা টনিক কিংবা ভিটামিন ইঞ্জেকশন অথবা ভ্যাকসিন ইঞ্জেকশন প্রভৃতি হাতে, কোমরে বা অন্য জায়গায়, দেহের পেশি অথবা শিরায় ব্যবহার করলে রোযার ক্ষতি হয় না। তবুও নিতান্ত জরুরী না হলে তা দিনে ব্যবহার না করে রাত্রে ব্যবহার করাই উত্তম ও পূর্বসাবধানতামূলক কর্ম। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেন, “ যে বিষয়ে সন্দেহ আছে, সে বিষয় বর্জন করে তাই কর, যাতে সন্দেহ নেই।” ৩০১ (আহমাদ, তিরমিযী ২৫১৮, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, ত্বাবারানী প্রমুখ, সহীহুল জামে ৩৩৭৭, ৩৩৭৮ নং) “সুতরাং যে সন্দিহান বিষয়াবলী থেকে দূরে থাকবে, সে তাঁর দ্বীন ও ইজ্জতকে বাঁচিয়ে নেবে।” ৩০২ (আহমাদ ৪/২৬৯, বুখারী ৫২, মুসলিম ১৫৯৯ নং, আবূ দাঊদ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ, দারেমী)

রোযা অবস্থায় ক্ষতস্থানে ঔষধ ব্যবহার কি বৈধ?


রোযাদারদের জন্য নিজ দেহের ক্ষতস্থানে ঔষধ দিয়ে ব্যান্ডেজ ইত্যাদি দূষণীয় নয়। তাতে সে ক্ষত গভীর হোক বা অগভীর। কারণ, এ কাজকে না কিছু খাওয়া বলা যাবে, আর না পান করা। তা ছাড়া ক্ষতস্থান স্বাভাবিক পানাহারের পথ নয়।৩০৩ (আহকামুস সাওমি অল-ই’তিকাফ ১৪০ পৃঃ)

রোযা অবস্থায় মাথার চুল বা নাভির নিচের লোম চাঁছা কি বৈধ?


রোযাদারদের জন্য নিজ মাথার চুল বা নাভির নিচের লোম ইত্যাদি চাঁছা বৈধ। তাতে যদি কোন স্থানে কেটে রক্ত পড়লেও রোযার কোন ক্ষতি হয়না। পক্ষান্তরে দাড়ি চাঁছা সব সময়কার জন্য হারাম; রোযা অবস্থায় অথবা অন্য কোন অবস্থায়। (মাজাল্লাতুল বুহূসিল ইসলামিয়্যাহ ১৯/ ১৬৫)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  42 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।