• ৫৬৪৩২ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


অবরোধ প্রথা কি ইসলামে স্বীকৃত?


ইসলামে অবরোধ প্রথা নেই। ইসলামে আছে পর্দার বিধান। মহিলার কর্মস্থল মাঠে-ঘাটে, কল-কারখানায়, অফিস-ক্লাবে নয়। ইসলাম মহিলাকে বাড়িতে থাকতে নির্দেশ দেয়। কুরআন বলে, “তোমরা স্বগৃহে অবস্থান কর এবং (প্রাক ইসলাম) জাহেলী যুগের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়িয়ো না।” (আহযাবঃ ৩৩) হাদিস বলে, “তাদের ঘরই তাদের জন্য উত্তম।” ৫৩০ (আবূ দাঊদ ৫৭৬ নং)

তার মানে এই নয় যে, তারা ঘরের ভিতরে অর্গলবদ্ধ ও অবরুদ্ধ থাকবে। বরং তারা প্রয়োজনে পর্দার সাথে বের হতে পারবে। তবে তারা (প্রাক ইসলাম) জাহেলী যুগের মত  নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াতে পারবে না। তাঁদেরকে মসজিদে যেতে বাঁধা দেওয়া যাবে না। তবে তারা সুগন্ধি বিলিয়ে বের হতে পারবে না। তারা প্রয়োজনে মাঠে ঘাটে ও বাজারে যেতে পারে। তবে ‘ছল করে জল আনতে যাওয়া’র মতো মামুলী প্রয়োজনে বাজারে বাজারে ফিরে বেড়াবে না।

মহিলা হেরেমের বন্দিনি নয়। যদিও কোন কোন পরিবেশে বাড়াবাড়ি করে তাকে বন্দিনী করে রাখা হয়। স্বামী স্ত্রী কর্তা বলে কোন কোন পুরুষ তার উপর অবৈধ কর্তৃত্ব করে।

যে অন্ধ বেগানা পুরুষ মোটেই দেখতে পায় না, তার সামনেও কি পর্দা জরুরী?


দৃষ্টিহীন পুরুষের সামনে পর্দা নেই। যেহেতু পর্দা কেবল পর পুরুষের দৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্যই। তাছাড়া মহানবী (সঃ) ফাতেমা বিনতে ক্বাইসকে অন্ধ সাহাবী ইবনে উম্মে মাকতূমের বাড়িতে ইদ্দত পালন করতে নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, “কারণ সে অন্ধ মানুষ। তুমি তার নিকট বহির্বাস খুলে রাখবে, সে তোমাকে দেখতে পাবে না।” ৫৩১ (মুসলিম ১৪৮০ নং)

বেগানা মহিলার উপর আচমকা দৃষ্টি পড়ে গেলে হাদীসে বলা হয়েছে, “তুমি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।” ৫৩২ (মুসলিম) মহিলাদের ক্ষেত্রেও কি একই নির্দেশ? তাঁরাও কি বেগানা পুরুষদের দিকে তাকাতে পারবে না?


হ্যাঁ, নির্দেশে সবাই সমান। মহান আল্লাহ বলেছেন, “বিশ্বাসী নারীদেরকে বল, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে ও তাদের লজ্জাস্থানে রক্ষা করে।”(নুরঃ ৩১)

তবে কামদৃষ্টি ছাড়া অন্য কোন বৈধ দৃষ্টিতে তাকান যাবে। মা আয়েশা (রঃ) হাবশীদের খেলা দেখেছেন। নবী (সঃ) তাকে আড়াল করে তা দেখিয়েছেন। ৫৩৩ (বুখারী ৯৫০, মুসলিম ৮৯২ নং) টিভি প্রভৃতির পর্দায় বা ছবিতে পুরুষ দেখার ক্ষেত্রেও একই বিধান। কামনজর নিয়ে তাকান যাবে না। ৫৩৪ (ইবনে উষাইমীন)

যুবক যুবতীর মাঝে বন্ধুত্ব অতঃপর পোস্ট, এসএমএস, ইমেল প্রভৃতির মাধ্যমে চিঠি লেখালিখি করে হৃদয়ের আদান প্রদান করা কি বৈধ? যদি তাদের মাঝে বিবাহের ইনগেইজমেন্ট হয়ে থাকে, তাহলে কি কোন সমস্যা আছে?


বেগানা যুবক যুবতীর মাঝে নিষ্কাম বন্ধুত্ব অসম্ভব। কারো দ্বারা বিরলভাবে সম্ভব হলেও শরীয়তের তা হারাম। তাদের আপোষে পত্রালাপ ও রসালাপ বৈধ নয়। ইনগেইজমেন্ট (বাগদান) হয়ে গেলেও বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যেমন তাদের মাঝে দেখা সাক্ষাৎ হারাম, তেমন চিঠির মাধ্যমে হৃদয়ের আদান প্রদানও। যেহেতু তাতে ফিতনার আশঙ্কা রয়েছে। আর ফিতনা ও দাজ্জাল থেকে পাকা মুমিনকেও দূরে থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৫৩৫ (আহমাদ ৪/৪৩১, ৪৪১, আবূ দাঊদ ৪৩১৯ নং)

বিবাহের পূর্বে যুবক যুবতীর একে অপরকে বুঝে নেওয়ার, পছন্দ করে নেওয়ার, ভালোবাসা করে নেওয়ার সুযোগ ইসলামে আছে কি?


বিবাহের পূর্বে বর কনের একে অপরকে এক নজর দেখে নেওয়ার ও পছন্দ করে নেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু তার পর চিঠি, ফোন বা নেটের মাধ্যমে অথবা তাকে সঙ্গে নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার মাধ্যমে ভালোবাসা করে নেওয়ার সুযোগ ইসলামে নেই। বিবাহ বন্ধন কায়েম করা বা বিয়ে পড়িয়ে দেওয়ার পর বিবাহ সারার পূর্বে সে সব চলবে। বন্ধনের আগে নয়। ৫৩৬ (ইবনে উষাইমীন)

বিএ পরীক্ষা দেওয়ার আগে হয়তো টেস্ট পরীক্ষা আছে। কিন্তু বিয়ে করার আগে কোন টেস্ট পরীক্ষা নেই।

স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার বাসা থেকে বের হওয়া স্ত্রীর জন্য বৈধ নয়। কিন্তু অনেক সময় সে বাড়িতে না থাকলে পাশের বাসা অথবা কাছের মার্কেটে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। তখন কি তার বিনা অনুমতিতে গেলে গোনাহ হবে?


স্ত্রীর উচিৎ, এ ক্ষেত্রে স্বামীর নিকট থেকে আম অনুমতি নিয়ে রাখা। অতঃপর শরয়ী আদবের সাথে নিজের বা ছেলেমেয়ের প্রয়োজনে বাইরে কোথাও গেলে কোন ক্ষতি হবে না ইন শাআল্লাহ। ৫৩৭ (ইবনে জিবরীন)

সত্তর আশি বছরের বৃদ্ধ যদি বেগানা পুরুষকে পর্দা না করে, তাহলে কোন ক্ষতি আছে কি?


সত্তর আশি বছরের বৃদ্ধার জন্য পর্দা ফরয থাকে না। সে বেগানা পুরুষকে দেখা দিতে পারে। তবে শর্ত হল, সে যেন সেজেগুজে প্রসাধন করে বের না হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “বৃদ্ধা নারী; যারা বিবাহের আশা রাখে না, তাদের জন্য অপরাধ নেই; যদি তারা তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে তাদের বহির্বাস খুলে রাখে।” (নূরঃ ৬০)

তবে বৃদ্ধের পর্দা করাটাই উত্তম। যেহেতু মহান আল্লাহ বলেছেন, “তবে এ থেকে তাদের বিরত থাকাই তাদের জন্য উত্তম। আর আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।” (নূরঃ ৬০)

শরয়ী পর্দা করলে স্বামী তালাক দিতে চায়। সুতরাং আমি কি করতে পারি?


বুঝানোর পরেও যদি না মানে, তাহলে সন্তান হওয়ার আগে আগেই এমন হতভাগা স্বামীর নিকট থেকে তালাক নেওয়াই ভালো। ইন শাআল্লাহ পরবর্তীতে তার চেয়ে ভালো স্বামী জুটে যাবে। মহান আল্লাহ বলেছেন, “যে কেউ আল্লাহকে ভয় করবে, আল্লাহ তার নিষ্কৃতির পথ করে দেবেন।” (ত্বালাক্বঃ ২)

কোন মুসলিমের জন্য বৈধ নয়, দ্বীন মানার জন্য স্ত্রীকে তালাক এর হুমকি দেওয়া ৫৩৮ (ইবনে বায) আল্লাহ্‌র নবী (সঃ) আমাদেরকে দ্বীনদার মেয়ে বিয়ে করতে বলেছেন। অথচ ভাগ্যের ব্যাপার এমন যে, যে চায়, সে পায় না। পরন্ত সে পায়, যে চায় না। ফাল্লাহুল মুস্তাআন।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  38 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।
1234পরের পাতাশেষের পাতা