• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


(৪৬৯) মৃত দাদার পক্ষ থেকে হজ্জ করার বিধান কি? অবশ্য তার পক্ষ থেকে হজ্জ আদায়কারী নিজের হজ্জ সম্পাদন করেছে।


যে মৃত দাদা নিজের হজ্জ করেনি তার পক্ষ থেকে হজ্জ সম্পাদন করা জায়েয। কেননা সুন্নাতে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এ ব্যাপারে প্রমাণ রয়েছে।

(৪৭০) ইহরামের জন্য বিশেষ কোন নামায আছে কি?


ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট কোন নামায নেই। কিন্তু কোন লোক যদি এমন সময় মীক্বাতে পৌঁছে যখন ফরয নামাযের সময় উপস্থিত হয়েছে, তখন তার জন্য উত্তম হচ্ছে ফরয নামায সম্পাদন করার পর ইহরাম বাঁধা।

ফরয নামাযের সময় নয় কিন্তু চাশতের নামাযের (ছালাতে যুহা) সময়ে মিক্বাতে পৌঁছলো, তাহলে প্রথমে পরিপূর্ণরূপে গোসল করবে, সুগন্ধি মাখবে, ইহরামের কাপড় পরিধান করে চাশতের নিয়তে নামায আদায় করবে তারপর ইহরামের নিয়ত করবে। চাশত নামাযের সময় না হলে তাহিয়্যাতুল ওযুর নিয়ত করে দু’রাকাত নামায পড়ে ইহরামে প্রবেশ করা উত্তম। কিন্তু ইহরামের নিয়তে নামায আদায় করার কোন দলীল নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত নেই।

(৪৭১) কোন ব্যক্তি যদি হজ্জের মাসে ওমরা আদায় করে মদীনা সফর করে, অতঃপর যুলহুলায়ফা থেকে হজ্জের ইহরাম বাঁধে, তবে সে কি তামাত্তুকারীরূপে গণ্য হবে?


যখন কিনা এ ব্যক্তি হজ্জের মাসে ওমরা সম্পাদন করে এবছরেই হজ্জ আদায় করার দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করেছে, তখন সে তামাত্তুকারী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা ওমরা ও হজ্জের মধ্যবর্তী কোন সফর তামাত্তুকে বাতিল করবে না। তবে যদি ওমরা আদায় করার পর নিজ দেশে ফেরত যায় এবং সেখান থেকে হজ্জের উদ্দেশ্যে সফর করে, তবে তার তামাত্তু বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। কেননা প্রত্যেকটি কাজ সে আলাদা আলাদা সফরে সম্পাদন করেছে। অতএব ওমরা সম্পাদন করার পর যে লোক মদ্বীনা সফর করে যুলহুলায়ফা থেকে হজ্জের ইহরাম বাঁধবে, সে তামাত্তু হজ্জকারী হিসেবে কুরবানী দিবে। কেননা আল্লাহ্‌ বলেনঃ

] فَمَنْ تَمَتَّعَ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ [

“যে ব্যক্তি হজ্জের সাথে ওমরা করার নিয়ত করবে, সে সাধ্যানুযায়ী কুরবানী দিবে।” (সূরা বাক্বারাঃ ১৯৬)

(৪৭২) কোন ব্যক্তি যদি শাওয়াল মাসে ওমরার ইহরাম বেঁধে ওমরা পূর্ণ করে। কিন্তু সে সময় সে হজ্জের নিয়ত করেনি। কিন্তু হজ্জের সময় তার হজ্জ করার সুযোগ হল। সে কি তামাত্তুকারী গণ্য হবে?


না, সে তামাত্তুকারী গণ্য হবে না। অতএব তাকে কুরবানীও দিতে হবে না।

(৪৭৩) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি কি? ওমরা এবং হজ্জের ক্ষেত্রে কখন তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করতে হবে?


নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে প্রমাণিত তালবিয়াটি হচ্ছে নিম্নরূপঃ

لَبَّيْكَ اللَّهُمَّ لَبَّيْكَ لَبَّيْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ لَبَّيْكَ إِنَّ الْحَمْدَ وَالنِّعْمَةَ لَكَ وَالْمُلْكَ لَا شَرِيكَ لَكَ

“লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক্‌, লাব্বাইকা লা শারীকা লাকা লাব্বাইক্‌, ইন্নাল হামদা ওয়ান্নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক্‌, লা শারীকা লাক।” ইমাম আহমাদ একটু বৃদ্ধি করে বর্ণনা করেন, “লাব্বাইকা ইলাহাল হক্ব।” এর সনদ হাসান।

ওমরার ক্ষেত্রে তওয়াফ শুরুর পূর্বে তালবিয়া পাঠ করা বন্ধ করবে। আর হজ্জের ক্ষেত্রে দশ তারিখে ঈদের দিন জামরা আকাবায় পাথর মারার পূর্বে তালবিয়া পাঠ বন্ধ করবে। তিরমিযীতে ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, “নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওমরাতে হাজরে আস্‌ওয়াদ স্পর্শ করার সময় তালবিয়া বলা বন্ধ করতেন।” ইমাম তিরমিযী হাদীছটিকে ছহীহ্‌ বলেন। কিন্তু এর সনদে মুহাম্মাদ বিন আব্দুর্‌ রহমান বিন আবু লায়লা নামক জনৈক বর্ণনাকারী আছে। অধিকাংশ হাদীছ বিশারদ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) আরো বলেন, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরাফা থেকে মুযদালিফা আসার পথে তাঁর আরোহীর পিছনে উসামা (রাঃ)কে বসিয়েছিলেন। মুযদালিফা থেকে মিনা যাওয়ার পথে ফায্‌ল বিন আব্বাস (রাঃ)কে পিছনে বসিয়েছিলেন। তাঁরা উভয়ে (উসামা ও ফায্‌ল) বলেছেন, তিনি ব জামরা আকাবায় কঙ্কর মারার পূর্ব পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থেকেছেন।

ইমাম মালেকের মতে হারাম শরীফে পৌঁছার সাথে সাথে তালবিয়া বলা বন্ধ করবে। কেউ কেউ বলেছেন, বায়তুল্লাহ্‌র কাছে পৌঁছলে বা কাবা ঘর দেখলেই তালবিয়া বলা বন্ধ করবে।

লাব্বাইক বলার অর্থ হচ্ছেঃ আপনার আনুগত্যের কাজ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আপনার আহবানে সাড়া দিচ্ছি।

(৪৭৪) ইহরাম বেঁধে কি মাথা আঁচড়ানো জায়েয আছে?


ইহরাম অবস্থায় মাথা আঁচড়ানো উচিৎ নয়। কেননা ইহরামকারীর উচিৎ হচ্ছে এলোকেশ ও ধুলোমলিন থাকা। তবে গোসল করতে কোন অসুবিধা নেই। তাছাড়া মাথা আঁচড়ালে চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু ইহরামকারী মাথা বা শরীর প্রভৃতি চুলকালে যদি কোন চুল পড়ে যায়, তাতে কোন অসুবিধা নেই। কেননা সে ইচ্ছাকৃত চুল উঠায়নি। জেনে রাখা উচিৎ যে, ইহরাম অবস্থায় যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ যদি কেউ ভুলক্রমে করে ফেলে, তবে কোন অসুবিধা নেই। কেননা আল্লাহ্‌ বলেন,

]وَلَيْسَ عَلَيْكُمْ جُنَاحٌ فِيمَا أَخْطَأْتُمْ بِهِ وَلَكِنْ مَا تَعَمَّدَتْ قُلُوبُكُمْ وَكَانَ اللَّهُ غَفُورًا رَحِيمًا[

“তোমরা কোন ভুল করলে তোমাদের কোন অপরাধ নেই। কিন্তু সে ব্যাপারে তোমাদের অন্তরে সংকল্প থাকলে অপরাধ হবে। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম করুণাময়।” (সূরা আহযাবঃ ৫) আল্লাহ্‌ আরো বলেন,

]رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِنْ نَسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا[

“হে আমাদের প্রতিপালক! যদি আমাদের ভুল হয় বা ত্রুটি হয় তজ্জন্যে আমাদেরকে ধৃত করবেন না।” (সূরা বাক্বারাঃ ২৮৬)

ইহরামের অন্যতম নিষিদ্ধ কাজ শিকার করা সম্পর্কে আল্লাহ্‌ বলেন,

]يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنْتُمْ حُرُمٌ وَمَنْ قَتَلَهُ مِنْكُمْ مُتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِثْلُ مَا قَتَلَ مِنْ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِنْكُمْ[

“হে মু’মিনগণ! তোমরা ইহরাম অবস্থায় বন্য শিকারকে হত্যা করো না; আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক তাকে হত্যা করবে, তার উপর তখন জরিমানা ওয়াজিব হবে, যা মূল্যের দিক দিয়ে সেই জানোয়ারের সমতুল্য হয়, যাকে সে হত্যা করেছে। তার অনুমানিক মূল্যের মীগোশতা তোমাদের মধ্যে হতে দু’জন নির্ভরযোগ্য লোক করে দেবে।” (সূরা মায়িদাঃ ৯৫) এই আয়াতে ‘ইচ্ছাপূর্বক’ শব্দ উল্লেখ করাতে বুঝা যায়- যদি অনিচ্ছাকৃত হত্যা করে ফেলে, তবে তাকে কোন জরিমানা দিতে হবে না। এ বিধানই ইসলামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা ইসলাম ধর্ম ক্ষমা ও সহজতার বৈশিষ্টে অনন্য।

অতএব কোন ব্যতিক্রম ছাড়াই ইহরাম অবস্থায় যাবতীয় নিষিদ্ধ কাজ যদি কেউ অজ্ঞতা বশতঃ বা ভুলবশতঃ করে ফেলে, তবে তার বিরুদ্ধে কোন বিধান প্রজোয্য হবে না, কোন ফিদ্‌ইয়া আবশ্যক হবে না- এমনকি স্ত্রী সহবাস করে ফেললেও হজ্জ বিনষ্ট হবে না। উল্লেখিত শরীয়তের দলীলের দাবী অনুযায়ী এটাই বিশুদ্ধ কথা।

(৪৭৫) অজ্ঞতা বশতঃ মাথা থেকে সামান্য চুল কেটে হালাল হয়ে গেলে তার উপর আবশ্যক কি?


অজ্ঞতা বশতঃ যে হাজী সাহেব মাথা থেকে সামান্য চুল কেটে হালাল হয়ে গেছে, তার উপর কোন কিছু আবশ্যক নয়। কেননা সে অজ্ঞ। তবে জানার পর তাকে পূর্ণ মাথা থেকে চুল কাটতে হবে।

এ উপলক্ষে আমি মুসলিম ভাইদেরকে নসীহত করতে চাই, কোন ইবাদত করতে চাইলে, তার সীমারেখা ও নিয়ম-নীতি না জেনে তাতে লিপ্ত হওয়া উচিৎ নয়। যাতে করে অজ্ঞতা বশতঃ এমন কিছু না করে ফেলে যাতে ইবাদতটিই নষ্ট হয়ে যায়। কেননা আল্লাহ তা’আলা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে লক্ষ্য করে বলেন,

]قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنْ اتَّبَعَنِي وسبحان الله وما أنا من المشركين[

“আপনি বলে দিন, এটাই আমার পথ আল্লাহর দিকে বুঝে-শুনে দা’ওয়াত দেই- আমি এবং আমার অনুসারীগণ। আল্লাহ পবিত্র। আমি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত নই।” (সূরা ইউসুফঃ ১০৮) আল্লাহ আরো বলেন,

]قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الْأَلْبَابِ[

“আপনি বলুন, যারা জানে এবং জানে না তারা কি এক বরাবর? বুদ্ধিমানরাই তো উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।” (সূরা যুমারঃ ৯)

অতএব একজন লোক বুঝে-সুঝে আল্লাহর সীমারেখা জেনে-শুনে তাঁর ইবাদত করবে এটা খুবই উত্তম। অজ্ঞতার সাথে বা মানুষের অন্ধানুসরণ করে আল্লাহর ইবাদত করা উচিৎ নয়। কেননা না জেনে ইবাদত করতে গেলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা যেমন বেশী তেমনি যাদের অনুসরণ করবে তাদের মধ্যে জ্ঞান থাকতেও পারে নাও থাকতে পারে।

(৪৭৬) প্রশাসনকে ফাঁকি দেয়ার উদ্দেশ্যে বিনা ইহরামে মীক্বাত অতিক্রম করে মক্কায় পৌঁছে ইহরাম বাঁধলে হজ্জ বিশুদ্ধ হবে কি?


তার হজ্জ তো বিশুদ্ধ হয়ে যাবে কিন্তু মুসলিম শাসককে ফাঁকি দেয়ার জন্য সে হারাম কাজ করেছে। এটা হারাম হয়েছে দু’কারণেঃ

প্রথমতঃ আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিনা ইহরামে মীক্বাত অতিক্রম করেছে।

দ্বিতীয়তঃ আল্লাহ্‌ আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুসলিম শাসকের আনুগত্য করার। অবশ্য আল্লাহ্‌র নাফরমানীর কাজে তাদের আনুগত্য করা যাবে না। অতএব তার উপর আবশ্যক হচ্ছে আল্লাহর কাছে তওবা করা। আর ফিদ্‌ইয়া প্রদান করা অর্থাৎ- একটি কুরবানী করে মক্কার ফকীরদের মাঝে বন্টন করে দিতে হবে। কেননা সে মীক্বাত থেকে ইহরাম বাঁধেনি। বিদ্বানদের মতে হজ্জ বা ওমরার কোন ওয়াজিব পরিত্যাগ করলে তার জন্য ফিদ্‌ইয়া প্রদান করা আবশ্যক।

(৪৭৭) তামাত্তুকারী যদি নিজ দেশে ফেরত গিয়ে আবার হজ্জের জন্য সফর করে, তবে কি ইফরাদকারী হিসেবে গণ্য হবে?


হ্যাঁ, তামাত্তুকারী ওমরা আদায় করার পর নিজ দেশে ফেরত গিয়ে আবার সেই বছর হজ্জের জন্য মক্কা সফর করলে সে ইফরাদকারী হিসেবে গণ্য হবে। কেননা নিজ পরিবারের কাছে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে হজ্জ ও ওমরার মাঝে বিচ্ছিন্নতা করেছে। আবার সফর শুরু করার অর্থ হচ্ছে সে হজ্জের জন্য নতুনভাবে সফর করছে। তখন তার এই হজ্জ ইফরাদ হিসেবে গণ্য হবে। এ অবস্থায় তামাত্তুকারীর মত কুরবানী করা তার জন্য ওয়াজিব হবে না। কিন্তু নিজ দেশে ফিরে যাওয়াটা যদি তার কুরবানী রহিত করার বাহানা হয়, তবে কুরবানী রহিত হবে না। কেননা কোন ওয়াজিব রহিত করার বাহানা করলে উহা রহিত হবে না।

(৪৭৮) ইহরাম অবস্থায় ছাতা ব্যবহার করার বিধান কি? অনুরূপভাবে সিলাইকৃত বেল্ট ব্যবহার করা যাবে কি?


সূর্যের তাপ বা বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য ছাতা ব্যবহার করাতে কোন অসুবিধা নেই। কোন ক্ষতি নেই। একাজ হাদীছে পুরুষের মাথা ঢাকার নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এটা মাথা ঢাকা নয়; বরং তা রৌদ্র প্রভৃতি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য ছায়া গ্রহণ করা। ছহীহ্‌ মুসলিমে প্রমাণিত হয়েছে, বিদায় হজ্জে নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে উসামা বিন যায়েদ ও বেলাল (রাঃ) ছিলেন। তাদের একজন নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উটনির লাগাম ধরে ছিলেন। অপরজন একটি কাপড় উপরে উঠিয়ে তাঁকে ছাঁয়া করছিলেন, এভাবে চলতে চলতে তিনি জামরা আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করলেন। এ হাদীছ থেকে দলীল পাওয়া যায় যে, নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহরাম অবস্থায় হালাল হওয়ার পূর্বে কাপড় দিয়ে ছাঁয়া গ্রহণ করেছেন।

   লুঙ্গি বাঁধার জন্য যে কোন ধরণের বেল্ট ব্যবহার করাতে কোন অসুবিধা নেই। আর ‘সেলাইকৃত বেল্ট’ প্রশ্নকারীর এই কথাটি সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ভুল থেকে উৎপত্তি হয়েছে। তাদের ধারণা, যে কোন প্রকারের সিলাই থাকলেই তা আর পরিধান করা যাবে না। কিন্তু কথাটি ভুল। ‘সিলাইকৃত কাপড় পরিধান করা যাবে না’ একথা দ্বারা বিদ্বানগণ বুঝিয়েছেন এমন সব কাপড় পরিধান করা যা শরীরের মাপে বানানো হয়েছে। সাধারণভাবে পোষাক হিসেবে যা পরিধান করা হয়। যেমন, জামা, পায়জামা, গেঞ্জি, জাঙ্গিয়া প্রভৃতি। একারণে কোন মানুষ যদি এমন চাদর বা লুঙ্গি পরিধান করে যা জোড়া-তালি দেয়া, তবে কোন অসুবিধা নেই- এমনকি যদি তার উভয় প্রান্ত সেলাই করা থাকে তাতেও কোন ক্ষতি হবে না।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  90 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।