• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


সেন্ট বা সেন্ট জাতীয় কোন ক্রিম বা পাউডার লাগিয়ে মহিলা বাড়ীর বাইরে যেতে পারে কি?


সেন্ট বা সেন্ট জাতীয় কোন ক্রিম বা পাউডার লাগিয়ে মহিলা বাড়ীর বাইরে যেতে পারে না। শরিয়তে এ ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। নবী (সঃ) বলেছেন, “প্রত্যেক চক্ষুই ব্যভিচারী। আর মহিলা যদি (কোন প্রকার) সুগন্ধ ব্যবহার করে কোন (পুরুষদের) মজলিসের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে, তাহলে সে ব্যভিচারিণী (বেশ্যার মেয়ে)” ৫১৯ (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে হিব্বান, ইবনে খিযাইমাহ, হাকেম, সহীহুল জামে ৪৫৪০ নং)

এমন কি মহিলা সেন্ট লাগিয়ে মসজিদে নামায পড়তে গেলেও তার নামায শুদ্ধ হবে না। আবু হুরায়রা (রঃ) কর্তৃক বর্ণিত, একদা চাশতের সময় তিনি মসজিদ থেকে বের হলেন। দেখলেন, একটি মহিলা মসজিদে প্রবেশে উদ্যত। তার দেহ বা লেবাস থেকে উৎকৃষ্ট সুগন্ধির সুবাস ছড়াচ্ছিল। আবু হুরায়রা মহিলাটির উদ্দেশ্য বললেন, “আলাইকিস সালাম”। মহিলা সালামের উত্তর দিল। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, “কোথায় যাবে তুমি?” সে বলল, “মসজিদে।” তিনি বললেন, “কি জন্য এমন সুন্দর  সুগন্ধি মেখেছ তুমি?” সে বলল, “মসজিদের জন্য।” তিনি বললেন, “আল্লাহ্‌র কসম?” সে বলল, “আল্লাহ্‌র কসম।” পুনরায় তিনি বললেন, “আল্লাহ্‌র কসম?” সে বলল, “আল্লাহ্‌র কসম।” তখন তিনি বললেন, “তবে শোন, আমাকে আমার প্রিয়তম আবুল কাসেম (রঃ) বলেছিলেন যে, ‘কোন মহিলার কোন নামায কবুল হয় না, সে তার স্বামী ছাড়া অন্য কারোর জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করে; যতক্ষণ না সে নাপাকির গোসল করার মত গোসল করে নেয়।’ অতএব তুমি ফিরে যাও, গোসল করে সুগন্ধি ধুয়ে ফেল। তারপর ফিরে এসে নামায পড়ো।” ৫২০ (আবূ দাঊদ, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, বাইহাকী, সিলসিলাহ সহীহাহ ১০৩১ নং)

আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) বলেছেন, “ আল্লাহ্‌র বান্দিদেরকে মসজিদে আসতে বারণ করো না, তবে তারা যেন খোশবু ব্যবহার না করে সাদাসিধাভাবে আসে।” ৫২১ (আহমাদ, আবূ দাঊদ, সহীহুল জামে ৭৪৫৭ নং)

পৃথক গার্লস স্কুল বা কলেজে না থাকলে মেয়েদেরকে যৌথ প্রতিষ্ঠানে পড়তে পাঠানো কি বৈধ হবে?


ছেলে মেয়ের অবাধ মেলামেশার যৌথ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদেরকে পড়তে পাঠানো বৈধ নয়। মুসলিমদের জন্য ওয়াজেব হল, পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করা এবং নিজেদের মেয়ে বোনকে পর পুরুষের আকর্ষণে আসতে বাঁধা দেওয়া। ৫২২ (ইবনে উষাইমীন)

এমন পর্দাহীন দেশ বা পরিবেশেও কি পর্দা ওয়াজেব, যেখানে পর্দাটাই মানুষের কাছে দৃষ্টি আকর্ষক হয়?


এমন দেশ ও পরিবেশ, যেখানে পর্দা নেই অথবা বিরল, সেখানে মহিলারা দিনেও নাইট ড্রেস পরে থাকে অথবা প্রায় নগ্ন থাকে, সেখানে মুসলিম মহিলার জন্য পর্দা ওয়াজেব। যদিও চাদর বা বোরখা সেখানকার বেদ্বীন মানুষদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ হল আল্লাহ্‌র বিধান। এ বিধান সর্বত্র বহাল থাকবে।

বাড়ীর দাসী কি বাড়িতে পর্দা করবে?


বর্তমান দাসী যেহেতু ক্রীতদাসী নয়, সেহেতি সাধারণ মুসলিম নারীর মত তার জন্যও পর্দা ওয়াজেব। বাড়ীর লোকেদের সামনে সে পর্দা করবে এবং কোন পুরুষের সাথে নির্জনতা অবলম্বন করবে না। ৫২৩ (ইবনে বায)
অনুরূপ বাড়ীর মহিলারাও বাড়ীর দাস, চাকর, ড্রাইভার ইত্যাদিকে পর্দা করবে।

বাড়ীর চাকরকে কি পর্দা করতে হবে? হাউস বয়, হাউস ড্রাইভার এর সামনে পর্দা করা তো বড় কঠিন। আমার মা বলে, ‘মাথায় কাপড় থাকলে সমস্যা নেই।’ তার কথা কি ঠিক?


বাড়ীর চাকর ক্রীতদাস নয়। চাকর, ড্রাইভার প্রভৃতি সেবক হলেও তারা পুরুষ। আর যে পুরুষ মাহরাম নয়, তার সামনে মহিলার পর্দা ওয়াজেব। এ ব্যাপারে আপনার মায়ের কথা ঠিক নয়। কারন মাথায় কাপড় দিলেই পর্দা হয়ে যায় না। চেহারা হল আসল সৌন্দর্যের জিনিস। আর তা খোলা রাখলেই মিষ্টি হাসি ও চোখাচোখির ফলে বিপদ আসন্ন হতে পারে। মহান আল্লাহ বলেছেন, “তোমরা তোদের নিকট হতে কিছু চাইলে পর্দার অন্তরাল হতে চাও। এ বিধান তোমাদের এবং তাদের হৃদয়ের জন্য অধিকতর পবিত্র।” (আহযাবঃ ৫৩)

মহানবী (সঃ) বলেন, “যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করে, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয় সাথী।” ৫২৪ (তিরমিযী, সহীহ তিরমিযী ৯৩৪ নং)

আমি আমাদের বাড়ীর হাউস ড্রাইভার এর সাথে একাকিনী কলেজে যাই। কখনো মার্কেট করতেও যাই তাকে নিয়ে। আমার মন তার প্রতি আকৃষ্ট না হলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে কি কোন সমস্যা আছে তাতে?


যে ড্রাইভার মহিলার মাহরাম নয়, তার সাথে একাকিনী কলেজে বা মার্কেটে যাওয়া কোন মহিলার জন্য বৈধ নয়। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেছেন, “কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে। আর মাহরাম ব্যাতিরেকে কোন নারী যেন সফর না করে।” ৫২৫ (বুখারী ৫২৩৩, মুসলিম ১৩৪১ নং)

আমি আমাদের বাড়ীর হাউস ড্রাইভার এর সাথে একাকিনী কলেজে যাই। কখনো মার্কেট করতেও যাই তাকে নিয়ে। নির্জনতা দুর করার জন্য আমি আমার ছোট ভাইকে সাথে নেই। তাহলে কি আমার জন্য তা বৈধ হবে?


আপনার ছোট ভাই যদি সাবালক হয়, তাহলে বেগানা হাউস ড্রাইভারের সাথে আসা যাওয়া চলবে। পক্ষান্তরে যদি নাবালক হয়, তাহলে তার আপনার সঙ্গে থাকা না থাকা উভয়ই সমান।

আমরা আমাদের বাড়ীর হাউস ড্রাইভারের সাথে দুই বোন কলেজে যাই। কখনো মার্কেট করতেও যাই তাকে নিয়ে। শরীয়তের দৃষ্টিতে কি কোন সমস্যা আছে তাতে?


একাধিক মহিলা হলে বেগানা হাউস ড্রাইভার এর সাথে শহরের ভিতরে আসা যাওয়া চলবে। তবে নিরাপত্তার শর্তসাপেক্ষে। কিন্তু দুরের সফর বৈধ নয়, যদিও তা ইবাদতের হয়। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেছেন, “কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে। আর মাহরাম ব্যতিরেকে কোন নারী যেন সফর না করে।” এ ব্যক্তি আবেদন করল, “হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আমার স্ত্রী হজ্জ পালন করতে বের হয়েছে। আর আমি অমুক অমুক যুদ্ধে নাম লিখিয়েছি।” তিনি বললেন, “যাও, তুমি তোমার স্ত্রীর সঙ্গে হজ্জ কর।” ৫২৬ (বুখারী, মুসলিম)

বেগানা মহিলার সাথে মুসাফাহা করা হারাম। কিন্তু হাতে কাপড় রেখে সরাসরি স্পর্শ না করে মুসাফাহা বৈধ কি? বুড়িদের সাথে মুসাফাহাতেও সমস্যা আছে কি?


সর্বপ্রকার বেগানা মহিলার সাথে মুসাফাহ অবৈধ। হাতে কোন আবরকে রেখেও তা বৈধ নয়। কারণ তাতে ফিতনার ভয় আছেই আছে। মহানবী (সঃ) সকল মহিলার শ্রদ্ধার পাত্র হওয়া সত্ত্বেও তিনি (বেগানা)কারো সাথে মুসাফাহা করতেন না। ৫২৭ (আহমাদ ৬/৩৫৭, নাসাঈ ৭/১৪৯, ইবনে মাজাহ ২৮৭৪ নং) বায়আতের সময়েও তিনি কোন মহিলার হাত স্পর্শ করতেন না। ৫২৮(বুখারী ৫২৮৮, মুসলিম ১৮৬৬ নং) আর তিনি বলেছেন, “যে মহিলা (স্পর্শ করা) হালাল নয়, তাকে স্পর্শ করার চেয়ে তোমাদের কারো মাথায় লোহার ছুঁচ গেঁথে যাওয়া অনেক ভালো।” ৫২৯ (ত্বাবারানী, সহীহুল জামে ৫০৪৫ নং)

স্ত্রীর চাকরি করাতে সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলি কি কি?


পুরুষ মহলে চাকরি করলে অবাধ মেলামেশার সমস্যা, বেপর্দা হওয়ার সমস্যা, চরিত্র খারাপ হওয়ার সমস্যা, সন্তান পালনের সমস্যা, বাড়িতে আয়ার সাথে স্বামীর পালনের সমস্যা, বাড়িতে আয়ার সাথে স্বামীর নির্জনতা অবলম্বনের সমস্যা ইত্যাদি।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  38 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।