• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


রোযা অবস্থায় তরকারির লবন বা চায়ের মিষ্টি চেক করা বৈধ কি?


রান্না করতে করতে প্রয়োজনে খাবারের লবন বা মিষ্টি সঠিক হয়েছে কি না, তা চেখে দেখা রোযাদারের জন্য বৈধ। তদনুরূপ কোন কিছু কেনার সময় চেখে পরীক্ষা করার দরকার হলে তা করতে পারে। ইবনে আব্বাস (রঃ) বলেন, “কোন খাদ্য, সির্কা এবং কোন কিছু কিনতে হলে তা চেখে দেখতে কোন দোষ নেই।” ২৭৫ (দ্রঃ বুখারী ৩৮০ পৃঃ, ইবনে আবী শাইবাহ ২/৩০৫, বাইহাক্বী ৪/২৬১, ইরওয়াউল গালীল ৯৩৭ নং)

তদনুরুপভাবে অতি প্রয়োজনে মা তাঁর শিশুর জন্য কোন শক্ত খাবার চিবিয়ে নরম করে দিতে পারে, ধান শুকিয়েছে কি না এবং মুড়ির চাল হয়েছে কি না তা চিবিয়ে দেখতে পারে। অবশ্য এ সকল ক্ষেত্রে শর্ত হল, যেন চর্বিত কোন অংশ রোযাদারের পেটে না চলে যায়। বরং অতি সাবধানতার সাথে কেবল দাঁতে চিবিয়ে এবং জিভে তাঁর স্বাদ চেখে সঙ্গে সঙ্গে বাইরে ফেল জরুরী। ২৭৬ (ফাতাওয়া, ইসলামিয়্যাহ ২/১২৮)

রোযাদার ব্যক্তি কি দীর্ঘক্ষণ সাঁতার কাটতে পারে?


রোযাদারদের জন্য সাঁতার কাটতে কোন বাধা নেই। তবে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে পানি পেটে চলে না যায়।২৭৭ (ইবনে উষাইমীন)

দেহ থেকে রক্ত পড়লে কি রোযার কোন ক্ষতি হয়?


কেটে-ফেটে গিয়ে অথবা ঘা টিপতে গিয়ে অথবা দাঁত তুলতে গিয়ে অথবা দাঁতন করতে গিয়ে রক্ত পড়লে অথবা রক্ত পরীক্ষার জন্য দিলে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। মুখের রক্ত গেলা যাবে না। ২৭৮ (ইবনে উষাইমীন)

থুথু বা গয়ের গিললে কি রোযার ক্ষতি হয়?


থুথু গয়ের থেকে বাঁচা দুঃসাধ্য। কারণ, তা মুখে বা গলার গোঁড়ায় জমা হয়ে নিচে এমনটিতেই চলে যায়। অতএব এতে রোযা নষ্ট হবে না এবং বরাবর থুথু ফেলারও দরকার হবে না।

অবশ্য যে কফ, গয়ের খাঁকার বা শ্লেষ্মা বেশী মোটা এবং যা কখনো মানুষের বুকে (শ্বাসযন্ত্র) থেকে, আবার কখনো মাথা (পৈসজটে)থেকে বের হয়ে আসে, তা গলা ঝেড়ে বের করে বাইরে ফেলা ওয়াজেব এবং তা গিলে ফেল বৈধ নয়। যেহেতু তা ঘৃণিত; সম্ভবতঃ তাতে শরীর থেকে বেরিয়ে আসা কোন রোগজীবাণুও থাকতে পারে। সুতরাং তা গিলে ফেলাতে স্বাস্থ্যের ক্ষতিও হতে পারে। তবে যদি কেউ ফেলতে না পেরে গিলেই ফেলে, তাহলে তাতে রোযা নষ্ট হবে না।

পক্ষান্তরে মুখের ভিতরকার স্বাভাবিক লালা গিলতে কোন ক্ষতি নেই। রোযাতেও কোন প্রভাব পড়ে না। ২৭৯ (মুমতে ৬/৪২৮-৪২৯, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১২৫, ফাতাওয়াস সিয়াম ৩৮ পৃঃ)

রাস্তার ধুলো বা আটার গুঁড়ো নাকের ভিতরে গেলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে কি?


রাস্তার ধূলা রোযাদারদের নিঃশ্বাসদের সাথে পেটে গেলে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। তদনুরূপ যে ব্যক্তি আটাচাকিতে কাজ করে অথবা তাঁর কাছে যায় সে ব্যক্তির পেটে আটার গুঁড়ো গেলেও রোযার কোন ক্ষতি হবে না। ২৮০ (ইবনে জিবরীন)কারণ, এ সব থেকে বাঁচার উপায় নেই। অবশ্য মুখে মুখোশ ব্যবহার করে বা কাপড় বেঁধে কাজ করাই উত্তম।

রোযা অবস্থায় সুরমা লাগানো এবং চোখে ও কানে ঔষধ ব্যবহার করা বৈধ কি?


রোযা অবস্থায় সুরমা লাগানো এবং চোখে ও কানে ঔষধ ব্যবহার বৈধ। কিন্তু ব্যবহার করার পর যদি গলার সুরমা বা ঔষধের স্বাদ অনুভূত হয়, তাহলে (কিছু উলামার নিকট রোযা ভেঙ্গে যাবে এবনফ সে রোযা) কাযা রেখে নেওয়াই হল পূর্বসতর্কতামূলক কর্ম। ২৮১ (ইবনে বায) কারণ, চোখ ও কান খাদ্য ও পানীয় পেটে যাওয়ার পথ নয় এবং সুরমা বা ঔষধ লাগানোর খাওয়া বা পান করাও বলা যায় না; না সাধারণ প্রচলিত কথায় এবং না-ই শরয়ী পরিভাষায়। অবশ্য রোযাদার যদি চোখে বা কানে ঔষধ দিনে ব্যবহার না করে রাতে করে, তাহলে সেটাই হবে পূর্বসাবধানতামূলক কর্ম। ২৮২ (মুমতে ৬/৩৮২, লাদা, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১২৯)
হযরত আনাস (রঃ) রোযা থাকা অবস্থায় সুরমা ব্যবহার করতেন। ২৮৩ (সহীহ আবূ দাঊদ ২০৮২ নং)

পক্ষান্তরে রোযা থাকা অবস্থায় নাকে ঔষধ ব্যবহার বৈধ নয়। কারণ, নাকের মাধ্যমে পানাহার পেটে পৌঁছে থাকে। আর এ জন্যই মহানবী (সঃ) বলেছেন, “(ওযূ করার সময়) তুমি নাকে খুব অতিরঞ্জিতভাবে পানি টেনে নিও। কিন্তু তোমার রোযা থাকলে নয়।” ২৮৪ (আহমাদ ৪/৩৩, আবূ দাঊদ ১৪২, তিরমীযী, নাসাঈ, সহীহ ইবনে মাজাহ ৩২৮ নং)

বলা বাহুল্য, উক্ত হাদীস এবং অনুরূপ অর্থের অন্যান্য হাদীসের ভিত্তিতেই নাকে ঔষধ ব্যবহার করার পর যদি গলাতে তাঁর স্বাদ অনুভূত হয়, তাহলে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে এবং রোযা কাযা করতে হবে। ২৮৫ (ইবনে বায, ফাতাওয়া মুহিম্মাহ বিসসিয়াম ২৮ পৃঃ)

রোযা অবস্থায় পায়খানা-দ্বারে ঔষধ ব্যবহার করা যায় কি?


রোযাদারের জ্বর হলে তাঁর জন্য পায়খানা-দ্বারে ঔষধ (সাপোজিটরি) রাখা যায়। তদনুরূপ জ্বর মাপা বা অন্য কোন পরীক্ষার জন্য মল-দ্বারে কোন যন্ত্র ব্যবহার করা দোষাবহ বা রোযার পক্ষে ক্ষতিকর নয়। কারণ, এ কাজকে খাওয়া বা পান করা কিছুই বলা হয় না। (এবং পায়খানা-দ্বার পানাহারের পথও নয়।) ২৮৬ (মুমতে ৬/৩৮১)

রোযা অবস্থায় পেটে (এন্ডোসকপি মেশিন) নল সঞ্চালন করলে রোযার ক্ষতি হয় কি?


পেটের ভিতরে কোন পরীক্ষার জন্য (এন্ডোসকপি মেশিন) নল বা স্টমাক টিউব সঞ্চালন করার ফলে রোযার কোন ক্ষতি হয় না। তবে হ্যাঁ, যদি পাইপের সাথে কোন (তৈলাক্ত) পদার্থ থাকে এবং তা তাঁর সাথে পেটে গিয়ে পৌঁছে, তাহলে তাতে রোযা নষ্ট হয়ে যাবে। অতএব একান্ত প্রয়োজন ছাড়া এ কাজ ফরয বা ওয়াজেব রোজায় করা বৈধ নয়।

রোযা অবস্থায় বাহ্যিক শরীরে তেল, মলম, পাউডার বা ক্রিম ব্যবহার করা বৈধ কি?


বাহ্যিক শরীরের চামড়ায় পাউডার বা মলম ব্যবহার করা রোযাদারদের জন্য বৈধ। কারন, তা পেটে পৌছায় না। তদনুরূপ প্রয়োজনে ত্বককে নরম রাখার জন্য কোন তেল, ভ্যাসলিন বা ক্রিম ব্যবহার করাও রোযা অবস্থায় বৈধ। কারণ, ঐ সব কিছু কেবল চামড়ার বাহিরের অংশ নরম করে থাকে এবং শরীরের ভিতরে প্রবেশ করেনা। পরন্ত যদিও লোমকূপে তা প্রবেশ হওয়ার কথা ধরেই নেওয়া যায়, তবুও তাতে রোযা নষ্ট হবে না। ২৮৭ (ইবনে জিবরীন, ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১২৭)

তদানুরুপ রোযা অবস্থায় মহিলাদের জন্য হাতে মেহেদী, পায়ে আলতা অথবা চুলে (কালো ছাড়া অন্য রঙের) কলফ ব্যবহার বৈধ। এ সবে রোযা বা রোযাদারের  উপর কোন (মন্দ) প্রভাব ফেলে না। ২৮৮ (ফাতাওয়া ইসলামিয়্যাহ ২/১২৭)

স্বামী-স্ত্রীর আপোষের চুম্বন ও প্রেমকেলিতে রোযার ক্ষতি হয় কি না?


যে রোযাদার স্বামী-স্ত্রী মিলনে ধৈর্য রাখতে পারে; অর্থাৎ সঙ্গম বা বীর্যপাত ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা না করে, তাঁদের জন্য আপোসে চুম্বন ও প্রেমকেলি বা কোলাকুলি করা বৈধ এবং তা তাঁদের জন্য মাকরূহ নয়। কারণ, মহানবী (সঃ) রোযা রাখা অবস্থায় স্ত্রী-চুম্বন করতেন এবং রোযা রোযা অবস্থায় প্রেমকেলিও করতেন। আর তিনি ছিলেন যৌন ব্যাপারে বড় সংযমী। ২৮৯ (বুখারী ১৯২৭, মুসলিম ১১০৬, আবূ দাঊদ ২৩৮২, তিরমিযী ৭২৯, ইবনে আবী শাইবাহ ৯৩৯২ নং)অন্য এক বর্ণনায় আছে যে, আল্লাহ্‌র রাসূল (সঃ) স্ত্রী-চুম্বন করতেন রমযানে রোযা রাখা অবস্থায়। ২৯০ (মুসলিম ১১০৬ নং)রোযার মাসে। (আবূ দাঊদ ২৩৮৩, ইবনে আবী শাইবাহ ৯৩৯০ নং)

আর এক বর্ণনায় আছে, মা আয়েশা (রঃ) বলেন, “আল্লাহ্‌র রাসুল (সঃ) আমাকে চুম্বন দিতেন। আর সে সময় আমরা উভয়ে রোযা অবস্থায় থাকতাম।” ২৯১ (আবূ দাঊদ ২৩৮৪, ইবনে আবী শাইবাহ ৯৩৯৭ নং )

উম্মে সালামাহ (রঃ) বলেন, তিনি তাঁর সাথেও অনুরূপ করতেন। ২৯২ (মুসলিম ১১০৮নং) আর তদ্রূপ বলেন হাফসা (রায্বিয়াল্লাহু আনহা)ও। (ঐ ১১০৭ নং)

উমার (রঃ) বলেন, একদা স্ত্রীকে খুশী করতে গিয়ে রোযা অবস্থায় আমি তাকে চুম্বন দিয়ে ফেললাম। অতঃপর নবী (সঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, “আজ আমি একটি বিরাট ভুল করে ফেলেছি; রোযা অবস্থায় স্ত্রী-চুম্বন করে ফেলেছি।” আল্লাহ্‌র রাসূল (সঃ) বললেন, “যদি রোযা রেখে পানি দ্বারা কুল্লি করতে, তাহলে তাতে তোমার অভিমত কি?” আমি বললাম, “তাতে কোন ক্ষতি নেই।” মহানবী (সঃ) বললেন, “তাহলে ভুল কিসের?” ২৯৩ (আহমাদ ১/২১, ৫২, সহীহ আবূ দাঊদ ২০৮৯, দারেমী ১৬৭৫, ইবনে আবী শাইবাহ ৯৪০৬ নং)

পক্ষান্তরে রোযাদার যদি আশঙ্কা করে যে, প্রেমকেলি বা চুম্বনের ফলে তাঁর বীর্যপাত ঘটে যেতে পারে অথবা (স্বামী-স্ত্রী) উভয়ের উত্তেজনার ফলে সহসায় মিলন ঘটে যেতে পারে, কারণ সে সময় সে হয়ত তাঁদের উদগ্র কাম-লালসাকে সংযত করতে পারবে না, তাহলে সে কাজ তাঁদের জন্য হারাম। আর তা হারাম এই জন্য যে, যাতে পাপের ছিদ্রপথ বন্ধ থাকে এবং তাঁদের রোযা নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  42 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।