• ৫৬৭৩৭ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


(১১২) “পরিস্থিতির ইচ্ছানুপাতে এ রকম হয়েছে” “তাকদীরের ইচ্ছানুপাতে এ রকম হয়েছে” এধরণের কথা বলার হুকুম কি?


কথাগুলো অপছন্দনীয় এবং শরীয়ত সম্মত নয়। কারণ পরিস্থিতির কোন ইচ্ছা নেই। এমনিভাবে তাকদীরেরও নিজস্ব কোন ইচ্ছা নেই। আল্লাহর ইচ্ছাতেই সবকিছু হয়। যদি বলে ‘তাকদীরের লিখন এরকম ছিল’, তাহলে কোন অসুবিধা নেই।

(১১৩) কাউকে শহীদ বলার হুকুম কি?


কাউকে শহীদ বলা দু’ভাবে হতে পারে। (১) নির্দিষ্ট কোন কাজকে উল্লেখ করে শহীদ বলা। এভাবে বলা, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে নিহত হল সে শহীদ, নিজের সম্পদ রক্ষা করতে গিয়ে মারা গেলে শহীদ, প্লেগ রোগে মারা গেলে শহীদ---। এভাবে বলা জায়েয আছে। কেননা এখানে আপনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর হাদীছ অনুযায়ী সাক্ষ্য প্রদান করছেন। ২) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দিষ্ট করে যাকে শহীদ বলেছেন এবং সমস্ত মুসলমান যাকে শহীদ বলে ঘোষণা দিয়েছে, তাকে ব্যতীত অন্য কাউকে নির্দিষ্ট করে শহীদ বলা জায়েয নেই। ইমাম বুখারী এভাবে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন যে, “একথা বলা যাবে না যে অমুক ব্যক্তি শহীদ”। ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেন, অর্থাৎ ওহীর মাধ্যমে অবগত হওয়া ব্যতীত অকাট্যভাবে কারও জন্য শাহাদাতের ফায়সালা দেয়া যাবে না। তিনি সম্ভবত উমার (রাঃ) এর একটি ভাষণের দিকে ইংগিত করেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা যুদ্ধ ক্ষেত্রে বলে থাক অমুক ব্যক্তি শহীদ, অমুক শহীদ হয়ে মৃত্যু বরণ করেছে। খবরদার এভাবে বলো না। কারণ তার অন্য উদ্দেশ্যও থাকতে পারে। তোমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মত বল যে, “যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় মৃত্যু বরণ করল অথবা জীবন দিল সে শহীদ”।

   কোন বিষয়ে সাক্ষ্য দিতে হলে সে বিষয়ে ইলম থাকতে হবে। শহীদ হওয়ার শর্ত হলো আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করার জন্য জিহাদ করতে গিয়ে মৃত্যু বরণ করা। আর এটি অন্তরের গোপন অবস্থা। তা জানার কোন উপায় নেই। এজন্য নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ

“আল্লাহর পথে জিহাদকারীর দৃষ্টান্ত হলো, আর আল্লাহই ভাল জানেন কে আল্লাহর পথে জিহাদ করে।” নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরো বলেনঃ

وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَا يُكْلَمُ أَحَدٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُكْلَمُ فِي سَبِيلِهِ إِلَّا جَاءَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاللَّوْنُ لَوْنُ الدَّمِ وَالرِّيحُ رِيحُ الْمِسْكِ

“ঐ সত্বার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে শরীরে জখম হবে, আর আল্লাহই ভাল জানেন কে আল্লাহর পথে জিহাদ করতে গিয়ে আহত হয়, সে কিয়ামতের দিন এমতাবস্থায় উপস্থিত হবে যে, তার ক্ষত স্থান হতে রক্ত ঝরতে থাকবে, রং হবে রক্তের, কিন্তু তার গন্ধ হবে মিসকের সুঘ্রাণের ন্যায়।” যারা জিহাদ করে নিহত হয়, তাদের বাহ্যিক অবস্থা ভাল। তাদের জন্য কল্যাণ কামনা করি। কিন্তু তাদেরকে জান্নাতের সার্টিফিকেট প্রদান করি না। তাদের প্রতি খারাপ ধারণাও করি না। তবে দুনিয়াতে তাদের উপর শহীদের হুকুম প্রযোজ্য হবে। জিহাদের ময়দানে নিহত ব্যক্তিকে তার পরিহিত কাপড়েই রক্ত সহকারে দাফন করা হবে এবং তার জানাযা পড়া হবেনা। আর যদি অন্যভাবে শহীদ হয়ে থাকে, তবে তাকে গোসল দেয়া হবে, কাফন পরানো হবে এবং জানাযার নামায পড়া হবে।

কাউকে ‘শহীদ’ হিসেবে সাক্ষ্য দেয়ার অর্থ তাকে জান্নাতের সাক্ষ্য দেয়া। এটি আহলে সুন্নাহর মাযহাবের সম্পূর্ণ বিপরীত। আহলে সু্‌ন্নাতের লোকেরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যাকে শহীদ বলেছেন, তাকে ব্যতীত অন্য কাউকে শহীদ বলেন না। ইমাম ইবনে তাইমিয়ার মতে মুসলমানদের সর্বসম্মতিক্রমে যাকে শহীদ বলা হয়েছে, তাকে শহীদ বলা যাবে।

(১১৪) ‘হঠাৎ সাক্ষাৎ হয়ে গেল’, ‘হঠাৎ এসে গেলাম’ এজাতীয় কথা বলা জায়েয কি না?


আমরা এতে নাজায়েযের কিছু মনে করি না। মনে হয় এ ধরণের কিছু হাদীছ পাওয়া যায় যে, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে হঠাৎ দেখা হয়ে গেল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে হঠাৎ দেখে ফেললেন। তবে এই মূহুর্তে নির্দিষ্ট কোন হাদীছ আমার মনে আসছে না। মানুষ কোন কাজকে হঠাৎ মনে করতে পারে। কারণ সে গায়েবের খবর জানে না। কিন্তু আল্লাহর ক্ষেত্রে এমনটি হতে পারে না। কারণ তিনি সকল বিষয়ে অবগত আছেন। প্রতিটি বিষয় আল্লাহর কাছে পূর্ব থেকেই নির্ধারিত। তাই হঠাৎ করে তাঁর কোন কাজ হতেই পারে না।

(১১৫) ইসলামী চিন্তাধারা, ইসলামী চিন্তাবিদ- এধরণের কথা বলা সম্পর্কে আপনার মতামত কি?


ইসলামী চিন্তাধারা বা অনুরূপ শব্দ বলা যাবে না। ইসলামকে যদি চিন্তাধারা বলি, তাহলে অর্থ দাঁড়ায় যে, এটি চিন্তাপ্রসূত বিষয় যা গ্রহণ বা বর্জন করার সম্ভাবনা রাখে। এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট বাক্য, যা ইসলামের শত্রুরা আমাদের ভিতরে অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছে। অথচ আমরা জানি না।

কাউকে ইসলামী চিন্তাবিদ বলাতে কোন অসুবিধা নেই। একজন মুসলিম চিন্তাবিদ হবে এতে কোন বাধা নেই।

(১১৬) দ্বীনকে খোসা এবং মূল এ ভাবে ভাগ করা কি ঠিক?


দ্বীনকে খোসা এবং মূল হিসাবে দু’ভাগে বিভক্ত করা বৈধ নয়। দ্বীনের সবই মূল এবং মানব জাতির জন্য উপকারী। তা মানুষকে আল্লাহর নৈকট্য দান করবে। পোষাক এবং বাহ্যিক বেশ-ভুশার ক্ষেত্রেও যদি মানুষ আল্লাহর সন'ষ্টি এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সুন্নাহর অনুসরণের নিয়ত করে, তাহলে তাতেও ছাওয়াব রয়েছে। খোসা এমন জিনিষকে বলা হয়, যা উপকারী নয় বলে ফেলে দেয়া হয়। ইসলামের ভিতরে বর্জনীয় কোন কিছু নেই। সবই মানুষের জন্য কল্যাণকর। যারা এধরণের কথার প্রচলন ঘটায়, তাদের ভালভাবে ভেবে দেখা দরকার। যাতে করে তারা সত্যের সন্ধান পেতে পারে এবং তার অনুসরণ করতে পারে। তাদের উচিৎ ইসলামের বিরুদ্ধে অপবাদ দেয়া বর্জন করা। এ কথা ঠিক যে, ইসলামের মধ্যে কিছু জিনিষ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন ইসলামের রুকনসমূহ। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

بُنِيَ الْإِسْلَامُ عَلَى خَمْسَةٍ عَلَى أَنْ يُوَحَّدَ اللَّهُ وَإِقَامِ الصَّلَاةِ وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ وَصِيَامِ رَمَضَانَ وَالْحَجِّ


ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের উপর, আর তা হলঃ ১) এ কথার সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্‌ ব্যাতিত ইবাদত যোগ্য কোন মাবূদ নেই এবং মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রাসুল, ২) সালাত প্রতিষ্ঠা করা, ৩) যাকাত প্রদান করা, ৪) রামাযানের সিয়াম পালন করা এবং ৫) কাবা ঘরের হজ্জ পালন করা।
দ্বীনের মধ্যে এমন জিনিষও রয়েছে, যা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ। কিন্ত তাতে খোসার মত এমন কিছু নেই যার দ্বারা মানুষ উপকৃত হবেনা; তার সম্পূর্ণটাই উপকারী।

দাড়ি লম্বা করার ব্যাপারে কথা হল নিঃসন্দেহে তা একটি ইবাদত। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তা লম্বা করার আদেশ দিয়েছেন। তাঁর প্রতিটি আদেশ পালন করাই ইবাদত, যার মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর সন'ষ্টি অর্জন করতে পারে। দাড়ি রাখা আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)সহ পূর্ববর্তী সমস্ত নবীর সুন্নাত। আল্লাহ তাআ’লা হারুন (আঃ) এর উক্তি বর্ণনা করে বলেনঃ

)يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِي وَلَا بِرَأْسِي(

 “হে আমার ভাই! আমার দাড়িতে ও মাথায় ধরে টান দিবেন না।” (সূরা ত্বাহাঃ ৯৪) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত আছে, দাড়ি লম্বা করা স্বভাবগত বিষয়ের অন্তর্গত। সুতরাং দাড়ি লম্বা করা একটি ইবাদত, অভ্যাস নয় এবং তা খোসাও নয়। যেমনটি ধারণা করে থাকে কতিপয় লোক।

(১১৭) “তাকে সর্বশেষ বিছানায় দাফন করা হল” মৃত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এ কথাটি বলার হুকুম কি?


মৃত ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে একথাটি বলা সম্পূর্ণ হারাম। যদি তুমি বল সে তার শেষ গন্তব্যে চলে গেছে, তার অর্থ হল কবরের পরে আর কিছু নেই। এ ধরণের কথা পুনরুত্থান অস্বীকার করার শামিল। ইসলামী আকীদার অন্যতম দিক হল কবরই শেষ নয়। যারা পরকালে বিশ্বাস করে না, তারাই কেবল বলে থাকে কবরই শেষ। তারপর আর কিছু নেই। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

)أَلْهَاكُمْ التَّكَاثُرُ حَتَّى زُرْتُمْ الْمَقَابِرَ(

অর্থঃ “প্রাচুর্যের লালসা তোমাদেরকে গাফেল রাখে। এমনকি তোমরা কবরস্থানে পৌঁছে যাও।” (সূরা তাকাছুরঃ ১-২) জনৈক গ্রাম্য লোক আয়াতটি শুনার পর বলল, আল্লাহর শপথ ভ্রমণকারী কখনো স্থায়ী বসবাসকারী হতে পারে না। মোটকথা কবরকে শেষ নিবাস বলা যাবে না বরং কবর থেকে পুনরুত্থান হবে এবং কিয়মাতের দিন বিচার ফয়সালা হওয়ার পর জান্নাত বা জাহান্নামই হবে শেষ নিবাস।

(১১৮) নাসারাদেরকে ‘মাসীহী’ বলা কি ঠিক?


নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আগমণের পর, খৃষ্টানদেরকে মাসীহী বলা ঠিক নয়। তারা যদি সত্যিকার অর্থে মাসীহী হত, তাহলে অবশ্যই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর প্রতি ঈমান আনয়ন করত। কেননা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপরে ঈমান আনয়ন এবং ঈসা (আঃ) এর উপর ঈমান আনয়ন একই কথা। আল্লাহ বলেনঃ

)وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يَابَنِي إِسْرَائِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيَّ مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَاتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُبِينٌ(

 “স্মরণ কর সেই সময়ের কথা, যখন মরিয়ম-তনয় ঈসা (আঃ) বললেনঃ হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদের কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল, আমার পূর্ববর্তী তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং আমি এমন রাসূলের সুসংবাদদাতা, যিনি আমার পরে আগমণ করবেন। তাঁর নাম হবে আহমাদ। অতঃপর যখন তিনি সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ আগমণ করেন, তখন তারা বলল, এ তো প্রকাশ্য এক যাদু।” (সূরা আস্‌ সাফঃ ৬) ঈসা (আঃ) মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আগমণের সুসংবাদ এ জন্য দিয়েছেন, যাতে তারা তাঁর আনিত দ্বীন গ্রহণ করে। কেননা কোন বিষয়ের সুসংবাদ দেয়ার অর্থই হল তা গ্রহণ করা। ঈসা (আঃ) বানী ইসরাঈলকে যার আগমণের সুসংবাদ দিয়েছেন, তিনি হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। তিনি যখন দলীল-প্রমাণসহ আগমণ করলেন, তখন তারা তাঁর সাথে কুফরী করল এবং যাদুকর বলে উড়িয়ে দিল। আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর সাথে কুফরী করার মাধ্যমে তারা ঈসার সাথেও কুফরী করল। কারণ একজন নবীকে অস্বীকার করার অর্থ সকল নবীকে অস্বীকার করা। তাই খৃষ্টানদের জন্য কখনো ঈসা (আঃ) এর অনুসারী হওয়ার দাবী করা বৈধ নয়। তারা যদি সত্যিকার অর্থে ঈসা নবীর অনুসারী হত, তাহলে অবশ্যই তারা তাঁর প্রদত্ত সুসংবাদের প্রতি ঈমান আনয়ন করত। ঈসাসহ সকল নবীর নিকট থেকে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর ঈমান আনয়নের অঙ্গীকার নেয়া হয়েছিল। আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ

)وَإِذْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ كِتَابٍ وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مُصَدِّقٌ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرُنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنْ الشَّاهِدِينَ(

“এবং আল্লাহ যখন নবীগণের কাছ থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন যে, আমি যখন তোমাদেরকে কিতাব এবং জ্ঞান দান করব, অতঃপর যদি তোমাদের কাছে এমন একজন রাসূল আগমণ করেন, যিনি  তোমাদের কিতাবকে সত্যায়ন করেন, তখন সে রাসূলের প্রতি ঈমান আনবে এবং তাঁকে সাহায্য করবে। আল্লাহ বললেন, তোমরা কি অঙ্গীকার করলে এবং এই শর্তে আমার ওয়াদা গ্রহণ করে নিলে? তখন তাঁরা বললেন, আমরা অঙ্গীকার করলাম। আল্লাহ বললেন, তাহলে তোমরা সাক্ষী থাক, আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম।” (সূরা আল-ইমরানঃ ৮১) যিনি তাদের কিতাবকে সত্যায়নকারী হিসেবে আগমণ করেছেন তিনি হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।

وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنْ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنْ الْحَقِّ

আর আমি এ কিতাবকে নাযিল করেছি যা হকের সাথে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের সত্যতা প্রমাণবহনকারী এবং ঐসব কিতাবের সংরক্ষক; অতএব, তুমি তাদের পারস্পরিক বিষয়ে আল্লাহর অবতারিত এ কিতাব অনুযায়ী মীগোশতা কর। তুমি যা প্রাপ্ত হয়েছ তা থেকে বিরত হয়ে তাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী কাজ করোনা। (সূরা মায়িদাঃ ৪৮) অত্র আয়াতে রাসূল বলতে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বুঝানো হয়েছে।

   মোটকথা খৃষ্টানদের জন্য ঈসা (আঃ) এর উম্মত হওয়ার দাবী করা ঠিক নয়। কারণ তারা ঈসা (আঃ)এর সুসংবাদ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নবুওয়তকে অস্বীকার করেছে। আর মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে অস্বীকার করার অর্থ ঈসা (আঃ)কে অস্বীকার করা।

(১১৯) ‘আল্লাহ না করেন’ এই কথাটি বলার হুকুম কি?


আমি এই কথাটি বলা অপছন্দ করি। কথাটিতে আল্লাহর উপর কোন কিছু চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে মনে হয়। আল্লাহর উপর কোন কিছুর বাধ্যবাধকতা নেই। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

)لَا يَقُولَنَّ أَحَدُكُمُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ فَإِنَّهُ لَا مُكْرِهَ لَهُ(

“তোমাদের কেউ যেন না বলে হে আল্লাহ! আপনি চাইলে আমাকে ক্ষমা করুন, আপনি চাইলে আমাকে রহম করুন। বরং দৃঢ়তার সাথে যেন দু’আ করে এবং কবূলের আশা নিয়ে দু’আ করে। আল্লাহকে বাধ্যকারী কেউ নেই।” আল্লাহ না করুন এর স্থলে আল্লাহ নির্ধারণ না করুন বলা অনেকটা সন্দেহ মুক্ত।

(১২০) মানুষ মারা গেলে يَاأَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّة অর্থাৎ “হে শান্তিপ্রাপ্ত আত্মা! তোমার প্রভুর দিকে ফিরে যাও সন্তুষ্ট ও সন্তোষভাজন হয়ে”- এই কথাটি বলা কি ঠিক?


এই ধরণের কথা বলা জায়েয নেই। কে তাকে সংবাদ দিল যে, সন্তুষ্ট চিত্তে সে আল্লাহর দিকে ফেরত যাচ্ছে? কাউকে এভাবে সার্টিফিকেট প্রদান করা কারও পক্ষে বৈধ নয়।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  119 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।
1...789101112পরের পাতাশেষের পাতা