• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


(১০২) আল্লাহর চেহারার দোহাই দিয়ে কোন কিছু চাওয়া জায়েয আছে কি?


আল্লাহর চেহারার দোহাই দিয়ে মানুষ দুনিয়ার কোন জিনিষ চাইবে, এ থেকে আল্লাহর চেহারা অনেক বড়। আল্লাহর চেহারার দোহাই দিয়ে (জান্নাত ছাড়া অন্য) কোন কিছু চাওয়া বৈধ নয়।

(১০৩) আপনি দীর্ঘজীবি হোন, একথা বলার হুকুম কি?


সাধারণভাবে একথাটি বলা ঠিক নয়। কারণ হায়াত দীর্ঘ হওয়া কখনো ভাল হয় আবার কখনো মন্দ হয়। ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যার বয়স বাড়ল, কিন্তু আমল মন্দ হলো। যদি বলে আল্লাহর আনুগত্যের উপর আপনার হায়াত দীর্ঘ হোক, তাহলে কোন অসুবিধা নেই।

(১০৪) আমরা অনেক সময় দেখি যে, গাড়ী বা দেয়ালে এক দিকে (الله) এবং অন্য দিকে (محمد) লেখা থাকে, এমনিভাবে কাপড়ের টুকরায়, বইয়ের উপর এবং কুরআন মযীদের গেলাফের উপরও লেখা হয়ে থাকে। এরকমভাবে লেখা কি ঠিক?


এভাবে লেখা জায়েয নেই। কেননা এধরণের লেখাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে আল্লাহর সমান করে দেয়া হয়ে থাকে এবং অজ্ঞ লোকেরা এভাবে লেখা দেখে উভয় নামকে মর্যাদার দিক থেকে সমান মনে করতে পারে। তাই প্রথমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নাম মুছে ফেলা উচিৎ। বাকী থাকবে শুধু আল্লাহর নাম। সুফীরা শুধু আল্লাহু, আল্লাহু জিকির করে থাকে। এজন্য আল্লাহু শব্দটিকেও মুছে ফেলতে হবে। সুতরাং গাড়ীতে বা দেয়ালে বা কাপড়ে বা অন্য কোথাও ‘আল্লাহু’ বা ‘মুহাম্মাদ’ কোনটিই লেখা যাবে না।

(১০৫) আল্লাহ আপনার অবস্থা জিজ্ঞাসা করেন, এই বাক্যটি বলা যাবে কি না?


এই বাক্যটি উচ্চারণ করা জায়েয নেই। কারণ এতে ধারণা করা হয় যে, আল্লাহ তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত নয়, তাই তিনি প্রশ্ন করেন। এটি একটি বিরাট অপছন্দনীয় বাক্য। যদিও বক্তা এধরণের উদ্দেশ্য করে না, কিন্তু বাক্যের মাধ্যমে উক্ত অর্থ বুঝা যায়। তাই এভাবে বলা বর্জন করা উচিৎ।

(১০৬) মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে মরহুম বলা বা আল্লাহ তাকে রহমত দ্বারা ঢেকে নিয়েছেন অথবা অমুক ব্যক্তি আল্লাহর রহমতের দিকে চলে গেছেন এধরণের কথা বলার হুকুম কি?


উক্ত কথাগুলো বলাতে কোন অসুবিধা নেই। কারণ এতে কেবলমাত্র তার জন্য কল্যাণ কামনা করা হয়েছে। দৃঢ়তার সাথে অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ দেয়া হয়নি। কারণ তা জায়েয নেই।

(১০৭) ভাষণের শুরুতে ‘দেশ ও জাতির পক্ষ থেকে বলছি’- একথাটি বলা কি ঠিক?


বক্তার উদ্দেশ্য যদি হয় যে, সে দেশ ও জাতির মুখপত্র হিসাবে কথা বলছে, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। আর যদি বরকতের আশায় অথবা সাহায্য চাওয়ার নিয়তে কথাটি উচ্চারণ করে, তাহলে শির্কে পরিণত হবে। বক্তার অন্তরে দেশ-জাতির সম্মান যদি আল্লাহর সম্মানের মত হয় তাহলে বড় শির্কে পরিণত হতে পারি।

(১০৮) অনেক মানুষ বলে থাকে “আপনি আমাদের জন্য বরকত স্বরূপ” এভাবে বলার হুকুম কি?”


একথার দ্বারা যদি উদ্দেশ্য হয় যে, আপনার আগমণের কারণে আমরা বরকত লাভ করলাম, তাহলে অসুবিধা নেই। কারণ বরকতকে মানুষের দিকে সম্পৃক্ত করা জায়েয আছে। আয়েশা (রাঃ) এর গলার হার হারিয়ে যাওয়ার কারণে যখন তায়াম্মুমের আয়াত নাযিল হল, উসাইদ ইবনে হুজায়ের (রাঃ) বললেন, হে আবু বকর পরিবারের নারী! এটিই আপনাদের প্রথম বরকত নয়। বরকতের অনুসন্ধান দু’ভাবে হতে পারে।

১) শরীয়ত সম্মত বলে কোন জিনিষ থেকে বরকত হাসিল করাঃ যেমন আল-কুরআনুল কারীম। আল্লাহ বলেন,

)وَهَذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ(

অর্থঃ এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি অবতীর্ণ করেছি। (সূরা আনআ’মঃ ৯২) কুরআনের বরকত হল, যে ব্যক্তি তাকে জীবন বিধান হিসাবে গ্রহণ করবে এবং কুরআন দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, তার জন্য বিজয় অনিবার্য। এর মাধ্যমে আল্লাহ অনেক জাতিকে শির্ক থেকে মুক্তি দিয়েছেন। কুরআনের অন্যতম বরকত হল, যে ব্যক্তি কুরআনের একটি অক্ষর পাঠ করবে, সে দশটি নেকী অর্জন করবে।

২) বাহ্যিক কোন জানা জিনিষ থেকে বরকত হাসিল করাঃ যেমন দ্বীনি ইলম। কোন ব্যক্তির ইলম এবং কল্যাণের পথে দাওয়াত দেয়ার মাধ্যমে বরকত হাসিল করা। উসায়েদ ইবনে হুজায়ের বলেন, হে আবু বকরের বংশধর! এটিই তোমাদের প্রথম বরকত নয়। কেননা কোন কোন মানুষের হাতে এমন বরকত প্রকাশিত হয়, যা অন্যের হাতে প্রকাশিত হয়নি।

   মৃত ব্যক্তি বা মিথ্যুকদের কল্পিত ওলী থেকে বরকত লাভের ধারণা করা সম্পূর্ণ বাতিল। এর কোন অস্তিত্ব নেই। কখনো বরকতের নামে শয়তানের সহযোগীতায় ভন্ডরা মানুষকে গোমরাহ করার জন্য কিছু কিছু অলৌকিক কান্ড দেখিয়ে থাকে। সঠিক বরকত এবং ভন্ডামীর মধ্যে পার্থক্য করার মূলনীতি হল, যার কাছ থেকে কারামাত প্রকাশিত হল, তার ব্যক্তিত্বের দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। সে যদি আল্লাহর ওলীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সুন্নাহর অনুসারী হবে এবং বিদ্‌আত হতে মুক্ত হবে, আল্লাহ তাঁর হাতে এমন বরকত প্রকাশ করবেন, যা অন্যের হাতে প্রকাশ করবেন না। আর যদি কুরআন্তসুন্নাহর বিরোধীতাকারী হয় অথবা বাতিলের দিকে আহবানকারী হয় এবং তা সত্বেও তার হাতে বাহ্যিকভাবে কোন ভাল জিনিষ প্রকাশিত হয়, তাহলে বুঝতে হবে এটি শয়তানের পক্ষ হতে বাতিলের সহযোগিতা মাত্র।

(১০৯) মানুষ বলে থাকে “তাকদীরের অনুপ্রবেশ ঘটেছে এবং আল্লাহর অনুগ্রহের অনুপ্রবেশ ঘটেছে” এধরণের কথা বলার বিধান কি?


তাকদীরের অনুপ্রবেশ ঘটেছে- এধরণের কথা বলা ঠিক নয়। কারণ তাকদীর পূর্ব থেকেই নির্দিষ্ট। তাই অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলা হবে কিভাবে? বরং বলা হবে তাকদীর আগমণ করেছে বা বিজয় লাভ করেছে। এমনিভাবে আল্লাহর অনুগ্রহের অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলাও ঠিক হবে না। বরং বলা হবে আল্লাহর অনুগ্রহ অবতীর্ণ হয়েছে।

(১১০) “চিন্তার স্বাধীনতা” সম্পর্কে আমরা শুনে থাকি এবং পত্রিকায় পড়ে থাকি। মূলতঃ এটি আকীদা গ্রহণের স্বাধীনতার দিকে আহবান মাত্র। এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?


এ ব্যাপারে আমাদের কথা হল, যে ব্যক্তি আকীদার স্বাধীনতার দাবী করে এবং যে কোন দ্বীনে বিশ্বাসের অধিকার রাখে বলে মনে করে, সে কাফের। কারণ যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর দ্বীন ব্যতীত অন্য দ্বীন গ্রহণ করা বৈধ মনে করে, সে কাফেরে পরিণত হবে। তাকে তাওবা করতে বলা হবে। তাওবা না করলে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব।

   দ্বীনের বিষয় চিন্তা প্রসূত বিষয় বা কোন মতবাদ নয়। এটা আল্লাহর অহী, যা আল্লাহ তাঁর নবীদের উপর নাযিল করেছেন যেন মানুষ তার অনুসরণ করতে পারে। ইসলাম একটি চিন্তাধারা, খৃষ্ট ধর্ম একটি চিন্তা ধারা এবং ইহুদীবাদ একটি চিন্তা ধারা এভাবে ব্যাখ্যা করার অর্থ এই যে, আসমানী শরীয়তসমূহ নিছক মানবীয় চিন্তা প্রসূত বিষয়। আসমানী দ্বীনসমূহ আল্লাহর পক্ষ হতে অহী স্বরূপ আগমণ করেছে। এর মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর ইবাদত করবে। সুতরাং এর ব্যাপারে চিন্তাধারা কথাটি ব্যবহার করা জায়েয নেই।

   মোট কথা, যে ব্যক্তি এই বিশ্বাস করবে যে, সে নিজের খেয়াল-খুশী মত যে কোন দ্বীনে বিশ্বাস করতে পারে, তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে। আল্লাহ বলেন,

)وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ(

“যে ব্যক্তি ইসলাম ছাড়া অন্য দ্বীন গ্রহণ করবে, তার কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হবে না।” (সূরা আল-ইমরানঃ ৮৫) আল্লাহ বলেন,

)إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ(

“ইসলাম আল্লাহর কাছে একমাত্র মনোনীত ধর্ম।” (সূরা আল-ইমরানঃ ১৯) সুতরাং ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দ্বীন গ্রহণ করা জায়েয নেই। যে ব্যক্তি তা করবে আলেমগণ তাকে সুস্পষ্ট কাফের হিসাবে ফতোয়া দিয়েছেন।

(১১১) মুফতীর নিকট “এ বিষয়ে ইসলামের হুকুম কি বা ইসলামের দৃষ্টি ভঙ্গি কি” এই ধরণের বাক্য দিয়ে প্রশ্ন করার বিধান কি?


এভাবে বলা উচিৎ নয়। হতে পারে সে ফতোয়া দিতে ভুল করবে। কাজেই তার ভুল ফতোয়া ইসলামের বিধান হতে পারে না। তবে মাসআলাতে যদি সুস্পষ্ট বক্তব্য থাকে, তাহলে কোন অসুবিধা নেই। যেমন মৃত প্রাণীর গোশত খাওয়ার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কি? উত্তর হবে এ বিষয়ে ইসলামের বিধান হল হারাম।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  119 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।