• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


বাল্য বিবাহ বৈধ কি?


বাল্য বিবাহ বৈধ। ৫৪৯ (মুসলিম, মিশকাত ৩১২৯ নং) তবে সাবালক হওয়ার পর স্বামী স্ত্রীর এক অপরকে পছন্দ না হলে তারা বিবাহ বন্ধন ছিন্ন করতে পারে। ৫৫০ (বুখারী ৫১৩৮ নং, আবূ দাঊদ, মিশকাত ৩১৩৬ নং)

কোন মুসলিম বেশ্যা বা অসতী মহিলাকে বিবাহ করা বৈধ কি?


কোন মুসলিম কোন ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করতে পারে না। বরং ঐ ব্যাপারে ঐরূপ নারী মনোমুগ্ধকর সুন্দরী রুপের ডালি বা ডানা কাটা পরি হলেও মুসলিম পুরুষের তাতে রুচি হওয়াই উচিৎ নয়। একান্ত প্রেমের নেশায় নেশাগ্রস্থ হলেও তাকে সহধর্মিণী করা হারাম। এ ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক বলেন,

“ব্যভিচারী কেবল ব্যভিচারিণী অথবা অংশীবাদিনীকে এবং ব্যভিচারিণী কেবল ব্যভিচারী অথবা অংশীবাদী পুরুষকে বিবাহ করে থাকে। আর মুমিন পুরুষদের জন্য তা হারাম করা হল।”(নূরঃ ৩)

সুতরাং অসতী নারী মুশরিকের উপযুক্ত; মুসলিমের নয়। কারণ উভয়েই অংশীবাদী; এ পতির প্রেমে উপপতিকে অংশীস্থাপন করে ও করে একক মা’বুদের ইবাদতে অন্য বাতিল মা’বুদকে শরীক। (অবশ্য অসতী হলেও কোন মুশরিকের সাথে কোন মুসলিম নারীর বিবাহ বৈধ নয়।)

পক্ষান্তরে ব্যভিচারিনী যদি তওবা করে প্রকৃত মুসলিম নারী হয়, তাহলে এক মাসিক অপেক্ষার পর তবেই তাকে বিবাহ করা বৈধ হতে পারে। গর্ভ হলে গর্ভাবস্থায় বিবাহ বন্ধন শুদ্ধ নয়। প্রসবের পরই বিবাহ হতে হবে। ৫৫১(ইউঃ ২/৭৮০)

একই সাথে ৫ টি বা তারও বেশি মহিলাকে স্ত্রীরূপে রাখা বৈধ কি?


ইসলামী বিধানে প্রয়োজনে ৪ টি মহিলাকে একই সময় স্ত্রীরূপে রাখা যায়। তার বেশি নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“আর তোমরা যদি আশঙ্কা কর যে, পিতৃহীনদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে নাম তবে বিবাহ কর (স্বাধীন) নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভাল লাগে; দুই, তিন অথবা চার। আর যদি আশংকা কর যে, সুবিচার করতে পারবে না, তবে একজনকেই (স্ত্রীরূপে ব্যবহার কর)। এটাই তোমাদের পক্ষপাতিত্ব না করার অধিকতর নিকটবর্তী।” (নিসাঃ ৩)

নাতিন বা পুতিনকে ঠাট্টাছলে অনেকে ‘গিন্নি’ বলে। তাহলে তাদের সাথে কি নানা বা দাদার বিবাহ বৈধ?


 নাতিন ও পুতিনের কাছে তাদের নানা ও দাদা পিতা স্বরূপ এবং নানা দাদার কাছে তারা ‘কন্যা’ বা মেয়ে স্বরূপ। তাদের আপোষে বিবাহ বৈধ নয় এবং ঐ শ্রেণীর ঠাট্টা উপহাসও বৈধ নয়। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“তোমাদের জন্য হারাম (নিষিদ্ধ) করা হয়েছে তোমাদের মাতাগণ, কন্যাগণ....।”(নিসাঃ ২৩)

স্ত্রী থাকতে তার বোনকে অথবা তার বুনঝি বা ভাইঝিকে অথবা তার খালা বা ফুফুকে বিবাহ করা বৈধ কি?


দুই বোনকে সতীন বানানো কুরআনী বিধানে নিষিদ্ধ। মহান আল্লাহ বলেছেন, “(হারাম করা হয়েছে) দুই ভাগিনীকে একত্রে বিবাহ করা; কিন্তু যা গত হয়ে গেছে, তা (ধর্তব্য নয়)। নিশ্চয় আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (নিসাঃ ২৩)

আর হাদীসের বিধানে ফুফু ভাইঝি বা খালা বুনঝিকে সতীন বানাতে নিষেধ করা হয়েছে। ৫৫২ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ৩১৬০ নং)

কোন কোন সময় এমন হয় যে, জোরপূর্বক বর বা কনেকে বিবাহের কাবিন নামা বা তালাক পত্রে সই করিয়ে বিবাহ বা তালাক দেওয়া হয়। কিন্তু জোরপূর্বক বিবাহ বা তালাক কি গণ্য?


জোরপূর্বক বিবাহ বা তালাক গণ্য নয়। ভয় দেখিয়ে বা হুমকির মুখে কাউকে বিয়ে করে সংসার করলে ব্যভিচার করা হয়। অনুরূপ তালাকও। জোরপূর্বক মুসলিম বানানো হলে যেমন কেউ মুসলিম হয়ে যায় না, জোরপূর্বক কুফরী করলে যেমন কেউ কাফের হয় না, তেমন বিবাহ ও তালাকও। মহান আল্লাহ বলেছেন,

“কেউ বিশ্বাস করার পরে আল্লাহকে অস্বীকার করলে এবং অবিশ্বাসের জন্য হৃদয় উন্মুক্ত রাখলে তার উপর আপতিত হবে আল্লাহ্‌র ক্রোধে এবং তার জন্য রয়েছে মহাশাস্তি; তবে তার জন্য নয়, যাকে অবিশ্বাসে বাধ্য করা হয়েছে, অথচ তার চিত্ত বিশ্বাসে অবিচল।” (নাহলঃ ১০৬)

রাসূল (সঃ) বলেছেন, “নিশ্চয় আল্লাহ আমার উম্মতের ভুল, বিস্মৃত এবং যার উপর তাকে নিরুপায় করা হয়, তার (পাপ)কে অতিক্রম (ক্ষমা) করেন।” ৫৫৩ (ইবনে মাজাহ ২০৪৫ নং)

আমি বিবাহের বয়স উত্তীর্ণ একজন ধনী ও রোগী মহিলা। আমি একজন সুপুরুষকে বিবাহ করে কেবল স্ত্রীর মর্যাদা পেতে চাই। আমি আমার পৈত্রিক বাড়িতেই থাকতে চাই। আমি তার নিকট কোন প্রকার খোরপোশ দাবী করব না। সে কেবল মাঝে মাঝে আমার সাথে সাক্ষাৎ করে যাবে। তার প্রথম স্ত্রী আছে। সে তার ঐ স্ত্রীর কাছে আমার কথা গোপন রাখবে। সে রাজী, আমি রাজী, আমার অভিভাবক ও রাজী। এমন বিবাহে কোন সমস্যা আছে কি?


বিবাহের যে সকল শর্ত আছে, তা পূরণ হলে এমন বিবাহ বৈধ। আপনার অভিভাবক, সাক্ষীস্বরূপ কমপক্ষে দুইজন সৎ ব্যক্তি, দেনমোহর, বিবাহের প্রচার ইত্যাদি। খোরপোশ স্বামীর উপর ফরয, কিন্তু আপনি তা থেকে তাকে মুক্তি দিলে তা বৈধ হবে। আর তার প্রথম স্ত্রী এর খবর না জানলে বা অনুমতি না দিলেও কোন ক্ষতি হবে না। ৫৫৪ (ইবনে বায)

অনেক সময় উপযুক্ত পাত্র বিবাহের প্রস্তাব দিলে মেয়ে অথবা মেয়ের বাপ এই বলে রদ করে দেয় যে, পড়া শেষ হলে তবেই বিয়ে হবে। এটা কি বৈধ?


এটা বৈধ নয়। পড়া ওজর নয়। তাছাড়া বিয়ের পরেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া যায়। আর মহানবী (সঃ) বলেছেন, “যার দ্বীন ও চরিত্র তোমাদেরকে মুগ্ধ করে, তার সাথে (তোমাদের ছেলে কিংবা মেয়ের) বিবাহ দাও। যদি তা না কর, তবে পৃথিবীতে বড় ফিতনা ও মস্ত ফাসাদ, বিঘ্ন ও অশান্তি সৃষ্টি হবে।” (তিরমিযী ১০৮৫ নং, ইবনে মাজাহ ১৯৬৭ নং)

বর ভিন্ন দেশে থাকলে টেলিফোনের মাধ্যমে বিয়ে পড়ালে শুদ্ধ হবে কি?


বিবাহের ব্যাপারটা দুটি জীবনের চির বন্ধন। সুতরাং ধোঁকাবাজির আশঙ্কায় টেলিফোন বা নেটের মাধ্যমে বিয়ে পড়ানো একান্ত জরুরী হলে যেখানে সে থাকে, সেখানের পরিচিত কাউকে উকীল বা প্রতিনিধি বানিয়ে বিয়ে পড়ানো যায়। ৫৫৬(মাজমাউল ফিকহিল ইসলামী)

বিবাহের পর মোহর কখন ওয়াজেব হয় ?


স্ত্রীর সঙ্গে সহবাস করলে, স্পর্শ করলে, নির্জনতা অবলম্বন করলে অথবা বিবাহের পর মারা গেলে মোহর ওয়াজেব হয়। কেবল বিয়ে পড়ালেই মোহর ওয়াজেব হয় না। ৫৫৭ (ইবনে উষাইমীন)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  87 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।