• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


(৩৬৪) মেয়েদেরকে দেয়া স্বর্ণ একত্রিত করলে নেসাব পরিমাণ হয়। একত্রিত না করলে নেসাব হয় না। এ অবস্থায় করণীয় কি?


কোন মানুষ যদি গয়নাগুলো তার মেয়েদেরকে ধার স্বরূপ শুধুমাত্র পরিধান করার জন্য দিয়ে থাকে, তবে সেই তার মালিক। সবগুলো একত্রিত করে যদি নেসাব পরিমাণ হয় তবে যাকাত প্রদান করবে। কিন্তু যদি তাদেরকে সেগুলো দান স্বরূপ প্রদান করে থাকে অর্থাৎ মেয়েরাই সেগুলোর মালিক, তবে গয়নাগুলো একত্রিত করা আবশ্যক নয়। কেননা প্রত্যেকেই আলাদাভাবে স্বর্ণগুলোর মালিক। অতএব তাদের একজনের স্বর্ণ যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তবেই যাকাত প্রদান করবে। অন্যথায় নয়।

(৩৬৫) নিজের প্রদত্ব যাকাত থেকে গ্রহীতা যদি উপহার স্বরূপ কিছু প্রদান করে, উহা কি গ্রহণ করা যাবে?


যাকাতের হকদার কোন ব্যক্তি যদি প্রাপ্ত যাকাত থেকে প্রদানকারীকে কিছু হাদিয়া বা উপহার স্বরূপ দেয়, তবে উহা নিতে কোন বাধা নেই। কিন্তু তাদের মাঝে যদি পূর্ব থেকে কোন গোপন সমঝোতা হয়ে থাকে তবে তা হারাম। এই কারণে তার উক্ত হাদিয়া বা উপহার গ্রহণ না করাই উত্তম।

(৩৬৬) সম্পদের যাকাতের পরিবর্তে কাপড় ইত্যাদি প্রদান করা কি জায়েয হবে?


না, তা জায়েয হবে না।

(৩৬৭) স্বর্ণের সাথে মূল্যবান ধাতু হীরা প্রভৃতি থাকলে কিভাবে স্বর্ণের যাকাত দিবে?


অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণ উহা নির্ধারণ করবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ী বা স্বর্ণকারের কাছে গিয়ে পরিমাণ জেনে নিবে। এখানে যে পরিমাণ স্বর্ণ আছে তা নেসাব পরিমাণ হয় কি না? নেসাব পরিমাণ না হলে যাকাত নেই। তবে তার কাছে অন্য স্বর্ণ থাকলে তা দ্বারা নেসাব পূর্ণ করে হিরা প্রভৃতি মিশ্রিত স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করে তা থেকে ২.৫% (আড়াই শতাংশ) হারে যাকাত আদায় করবে।

(৩৬৮) যাকাতের অর্থ দ্বারা মসজিদ নির্মাণ করার বিধান কি? ফক্বীর বা অভাবী কাকে বলে?


যাকাতের জন্য আল্লাহ তা’আলা যে আট শ্রেণীর কথা কুরআনে উল্লেখ করেছেন, তা ছাড়া অন্য কোন খাতে যাকাত প্রদান করা জায়েয নয়। কেননা আল্লাহ তা’আলা আয়াতে إنما অব্যয় দ্বারা যাকাত প্রদানের খাতকে আট শ্রেণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন,

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَاِبْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنْ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

“যাকাত তো হচ্ছে শুধুমাত্র গরীবদের এবং অভাব গ্রস্থদের আর এই যাকাত আদায়ের জন্য নিযুক্ত কর্মচারীদের এবং ইসলামের প্রতি তাদের (কাফেরদের) হৃদয় আকৃষ্ট করতে, ঋণ পরিশোধে, আল্লাহর পথে জিহাদে, আর মুসাফিরদের সাহায্যে। এ বিধান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী অতি প্রজ্ঞাময়। (সূরা তওবাঃ ৬০)

সুতরাং তা মসজিদ নির্মাণের কাজে বা জ্ঞানার্জনের কাজে খরচ করা জায়েয হবে না। আর নফল সাদকা সমূহের ক্ষেত্রে উত্তম হচ্ছে যেখানে বেশী উপকার পাওয়া যাবে সেখানে প্রদান করা।

ফক্বীরের সংজ্ঞা হচ্ছেঃ স্থান ও কাল ভেদে যার কাছে পূর্ণ এক বছরের নিজের ও পরিবারের খরচ পরিমাণ অর্থ না থাকবে তাকে বলা হয় ফক্বীর। স্থান্তকাল ভেদে এজন্য বলা হয়েছে, হয়তো কোন কালে বা কোন স্থানে এক হাজার রিয়ালের অধিকারীকে ধনী বলা হয়। আবার কোন কালে বা কোন স্থানে এটা কোন সম্পদই নয়। কেননা সে সময় বা স্থানে জীবন ধারণের উপকরণ খুবই চড়া মূল্যের।

(৩৬৯) ভাড়া বা ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহৃত গাড়ীতে কি যাকাত আবশ্যক?


ভাড়ার কাজে মানুষ যে গাড়ী ব্যবহার করে অথবা নিজের ব্যক্তিগত কাজে যে গাড়ী ব্যবহার করা হয় তার কোনটাতেই যাকাত নেই। তবে প্রাপ্ত ভাড়া যদি নেসাব পরিমাণ হয় বা তা অন্য অর্থের সাথে মিলিত করে তা নেসাব পরিমাণ পৌঁছে এবং এক বছর অতিক্রান্ত হয় তবে তাতে যাকাত দিতে হবে। অনুরূপভাবে ভাড়ায় ব্যবহৃত জমি বা ভূমিতে যাকাত নেই। তার প্রাপ্ত ভাড়া থেকে যাকাত দিতে হবে।

(৩৭০) ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন বাড়ীর যাকাত দেয়ার বিধান কি?


ভাড়া দেয়া হয়েছে এমন বাড়ী যদি ভাড়ার জন্যই নির্মাণ করা হয়ে থাকে তবে বাড়ীর মূল্যে কোন যাকাত নেই। তবে বাড়ী থেকে প্রাপ্ত ভাড়ার যাকাত দিতে হবে, যদি ভাড়া দেয়ার দিন থেকে প্রাপ্ত অর্থের উপর বছর পূর্ণ হয়। ভাড়ার চুক্তি নামা স্বাক্ষর করার দিন থেকে যদি বছর পূর্ণ না হয় তবে তাতে যাকাত নেই। যেমন বছরে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা প্রদানের চুক্তিতে ঘর ভাড়া দেয়া হল। চুক্তির শুরুতে পাঁচ হাজার টাকা গ্রহণ করে উহা খরচ হয়ে গেল। অবশিষ্ঠ পাঁচ হাজার টাকা বছরের মধ্যবর্তী সময়ে গ্রহণ করে উহাও বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই খরচ হয়ে গেল, তবে এক বছরে প্রাপ্ত দশ হাজার টাকার এই ভাড়ার মধ্যে কোন যাকাত দিতে হবেনা। কেননা এই অর্থে বছর পূর্ণ হয়নি।

কিন্তু বাড়ীটি যদি ব্যবসার জন্য নির্মাণ করে মূল্য বৃদ্ধি বা লাভের অপেক্ষায় থাকে এবং বিক্রি হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত ভাড়া আদায় করে, তবে উক্ত বাড়ীর মূল্যে যাকাত দিতে হবে এবং ভাড়ারও যাকাত দিতে হবে যখন বছর পূর্ণ হবে।। কেননা উহা ব্যবসার জন্য নির্মাণ করা হয়েছে। নিজ মালিকানায় থেকে যাওয়া বা তা থেকে উপকৃত হওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। আর এমন প্রত্যেক বস্ত যা ব্যবসা বা উপার্জনের উদ্দেশ্যে প্রস্তত করা হয় তাতেই যাকাত রয়েছে। কেননা নবী (সাঃ) বলেন, “প্রত্যেকটি কর্ম নিয়তের উপর নির্ভরশীল। আর মানুষ যা নিয়ত করে তাই রয়েছে তার জন্য।”

এই ব্যক্তির নিকট উপার্জনের জন্য যে সম্পদ রয়েছে। তার লক্ষ্য তো বস্তটির মূল্যের প্রতি - মূল বস্ত নয়। আর উহার মূল্য হচ্ছে দিরহাম বা টাকা বা নগদ অর্থ আর নগদ অর্থে বা টাকা-পয়সায় যাকাত ওয়াজিব। অতএব যে গৃহ ব্যবসার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বছর শেষে তার মূল্য নির্ধারণ করে তাতে এবং উহা যদি ভাড়ায় থাকে তবে ভাড়ার চুক্তির দিন থেকে বছর পূর্ণ হলে তাতেও যাকাত দিতে হবে।

প্রশ্নঃ (৩৭১) জনৈক ব্যক্তি বসবাসের উদ্দেশ্যে একটি যমীন খরিদ করেছে। তিন বছর পর সে উহা দ্বারা ব্যবসা করার ইচ্ছা করল। এখন উক্ত তিন বছরের কি যাকাত দিতে হবে?


বিগত বছরগুলোর জন্য কোন যাকাত ওয়াজিব হবেনা। কেননা সে তো বসবাসের জন্য উহা খরিদ করেছিল। কিন্তু ব্যবসা ও উপার্জনের নিয়ত করার সময় থেকেই বছরের হিসাব শুরু করতে হবে। যখন বছর পূর্ণ হবে তখনই তাতে যাকাত আবশ্যক হবে।

(৩৭২) রামাযানের প্রথম দশকে যাকাতুল ফিতর (ফিতরা) আদায় করার বিধান কি?


যাকাতুল ফিতর শব্দটির নামকরণ করা হয়েছে রোযা ভঙ্গকে কেন্দ্র করে। রোযা ভঙ্গ বা শেষ করার কারণেই উক্ত যাকাত প্রদান করা আবশ্যক। সুতরাং উক্ত নির্দিষ্ট কারণের সাথেই সংশ্লিষ্ট রাখতে হবে, অগ্রীম করা চলবে না। একারণে ফিতরা বের করার সর্বোত্তম সময় হচ্ছে ঈদের দিন নামাযের পূর্বে। কিন্তু ঈদের একদিন বা দু’দিন আগে তা আদায় করা জায়েয। কেননা এতে প্রদানকারী ও গ্রহণকারীর জন্য সহজতা রয়েছে। কিন্তু এরও আগে বের করার ব্যাপারে বিদ্বানদের প্রাধান্যযোগ্য মত হচ্ছে তা জায়েয নয়। এই ভিত্তিতে ফিতরা আদায় করার সময় দু’টি:
১) জায়েয বা বৈধ সময়। তা হচ্ছে ঈদের একদিন বা দু’দিন পূর্বে।
২) ফযীলতপূর্ণ উত্তম সময়। তা হচ্ছে ঈদের দিন - ঈদের নামাযের পূর্বে।
কিন্তু নামাযের পর পর্যন্ত দেরী করে আদায় করা হারাম। ফিতরা হিসেবে কবূল হবেনা। ইবনু আব্বাসের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে:

مَنْ أَدَّاهَا قَبْلَ الصَّلَاةِ فَهِيَ زَكَاةٌ مَقْبُولَةٌ وَمَنْ أَدَّاهَا بَعْدَ الصَّلَاةِ فَهِيَ صَدَقَةٌ مِنَ الصَّدَقَاتِ

“নামাযের পূর্বে যে উহা আদায় করে তার যাকাত গ্রহণযোগ্য। আর যে ব্যক্তি নামাযের পর আদায় করবে তার জন্য উহা একটি সাধারণ সাদ্‌কা বা যাকাত হিসেবে গণ্য হবে।”

তবে কোন লোক যদি জঙ্গল বা মরুভূমি বা এ ধরণের জনমানবহীন কোন স্থানে থাকার কারণে ঈদের দিন সম্পর্কে অজ্ঞ থাকে এবং ঈদের নামায শেষ হওয়ার পর সে সম্পর্কে অবগত হয়, তবে ঈদের পর ফিতরা আদায় করলেও তার কোন অসুবিধা হবে না।

(৩৭৩) সাদ্‌কার নিয়তে বেশী করে ফিতরা আদায় করা জায়েয হবে কি?


হ্যাঁ, বেশী করে ফিতরা আদায় করা জায়েয। ফিতরার অতিরিক্ত বস্ত সাদ্‌কার নিয়তে প্রদান করবে। যেমন আজকাল বহু লোক এরূপ করে থাকে। মনে করুন একজন লোক দশ জনের ফিতরা আদায় করবে। এই উদ্দেশ্যে সে এক বস্তা চাউল খরিদ করে যাতে দশ জনের অধিক ব্যক্তির ফিতরা আদায় করা যাবে। অতঃপর উহা নিজের পক্ষ থেকে এবং নিজ পরিবারের পক্ষ থেকে আদায় করে। এটা জায়েয যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, নির্দিষ্ট পরিমাণ বা তার চাইতে বেশী চাউল আছে। বস্তার মধ্যে নির্দিষ্ট ফিতরার পরিমাপ যদি জানা যায় তবে উহা আদায় করাতে কোন দোষ নেই।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  39 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।