• ৫৬৪২৭ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


ডাক্তারের সাথে নার্সের এবং ম্যানেজারের সাথে মহিলা প্রাইভেট সেক্রেটারির নির্জনতা অবলম্বন বৈধ কি?


মোটেই না। কারণ শরীয়তের নির্দেশ হল, অর্থাৎ, “কোন পুরুষ যেন কোন বেগানা নারীর সঙ্গে তার সাথে এগানা পুরুষ ছাড়া অবশ্যই নির্জনতা অবলম্বন না করে।” ৫১১ (বুখারী ও মুসলিম)

আর, “যখনই কোন পুরুষ কোন মহিলার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করে, তখনই শয়তান তাদের তৃতীয় সাথী (কোটনা) হয়।” ৫১২(তিরমিযী, সহীহ তিরমিযী ৯৩৪ নং)
সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ বলেছেন, “নারী এর প্রতি আসক্তি মানুষের নিকট লোভনীয় করা হয়েছে।” (আলে ইমরানঃ ১৪)
আর এই কারণেই কোন মুসলিম মহিলার জন্য এমন চাকরি নেওয়া বৈধ নয়, যেখানে পর পুরুষের সাথে ওঠাবসা করতে বা নির্জনতায় থাকতে হবে।

মহিলা কি ড্রাইভিং করতে পারে?


শরীয়তের দুটি নীতি আছেঃ
১। যে বৈধ কাজ অবৈধ কোন কাজকে টেনে নিয়ে যায়, তা অবৈধ।
২। মঙ্গল আনয়ন অপেক্ষা অমঙ্গল দূর করা অধিক প্রাধান্যযোগ্য।

এই নীতির আলোকে বলা যায় যে, মহিলা ড্রাইভিং করতে পারে না। যেহেতু তারা ড্রাইভিং করলে পর্দায় তাঁদেরকে চেহারা খুলতে হবে। তেল ভরতে হবে, টায়ার ইত্যাদি পরিবর্তন করতে, চেক পয়েন্টে, পথে গাড়ী বিকল হলে পুরুষদের সাথে কথা বলতে হবে। নির্জন জায়গায় বিকল হলে তাকে বিপদে পড়তে হবে। তার যৌবন তাকে অজানা সর্বনাশের দিকে নিয়ে যাবে। এ ছাড়া আরো অনেক কারণে মহিলাদের জন্য ড্রাইভিং বৈধ নয়। ৫১৩ (ইবনে উষাইমীন)

অন্ধ শিক্ষকের সামনে ছাত্রীর বেপর্দা হয়ে কি পড়া যায়?


পরিপূর্ণ অন্ধ হলে তার সামনে পর্দার প্রয়োজন নেই। কারণ সে তো দেখতেই পায় না। নবী (সঃ) ফাতেমা বিনতে ক্বাইসকে অন্ধ সাহাবী আব্দুল্লাহ বিন উম্মে মাকতূমের বাড়িতে ইদ্দত পালন করতে অনুমতি দিয়ে বলেছিলেন, “সে একজন অন্ধ লোক। তুমি তার কাছে নিজের চাদর খুলে রাখবে (সে তোমাকে দেখতে পাবে না)।” ৫১৪ (মুসলিম ১৪৮০ নং)

তাছাড়া নবী (সঃ) এর পিছনে লুকিয়ে থেকে মা আয়েশা হাবশীদের খেলা দেখেছেন। ৫১৫ (বুখারী ৯৫০, মুসলিম ৮৯২ নং)
পক্ষান্তরে আবূ দাঊদ ও তিরমিযীর “তোমরা দুজনেও কি অন্ধ?”---এ হাদীস সহীহ নয়।
তবে শর্ত হল, মহিলা অন্ধের প্রতি (অনুরূপ কোন পুরুষের প্রতি) কামনাদৃষ্টিতে তাকাবে না। কারণ মহান আল্লাহ মহিলাকেও নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, “বিশ্বাসী নারীদের বল্‌ যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে তাদের লজ্জাস্থান রক্ষা করে।” (নূরঃ ৩১)

বিবাহের পূর্বে কি বাগদত্তা স্বামী স্ত্রীর অবাধ মেলামেশা বা ফোনে কথাবার্তা বলা বৈধ?


যতক্ষণ না বিবাহ বন্ধন কায়েম হয়েছে, ততক্ষণ আপোসের দেখা সাক্ষাৎ, অবাধ মেলামেশা বা যৌনজীবনের কথাবার্তা বলা হারাম। অভিভাবকের জন্যও হারাম ছেলেমেয়েকে এমন অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে দেওয়া। অবশ্য বিবাহের পূর্বে এক নজর দেখে নেওয়া বৈধ। যেমন আকদের পরে ও বিয়ে সারার আগে স্বামী স্ত্রী আপোষে দেখা সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা করা বা যৌনজীবনের কথাবার্তা বলা, বরং যৌন মিলন করাও বৈধ।

কোন যুবতীকে বোন বা বন্ধু বানিয়ে কি তার সাথে দেখা সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা করা বা কথাবার্তা বলা ও পত্রালাপ করা বৈধ?


কোন যুবতীর সাথে কোন যুবকের নিষ্কাম বন্ধুত্ব অসম্ভব। পরন্ত সেই বন্ধুত্বের জোরে দেখা সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা করা বা কথাবার্তা বলা ও পত্রালাপ করা নিঃসন্দেহে হারাম। তেমনি কোন যুবতীকে ‘বোন’ বানিয়েও অনুরূপ দেখা সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা করা বা কথাবার্তা বলা ও পত্রালাপ করা বৈধ নয়। কারণ ‘বোন’ বলতে বলতেই বান আসে। ‘বোন’ বলতে বলতেই মনের বন তুফান তোলে। বরং কারো সাথে ‘মা’ পাতিয়েও অনুরূপ দেখা সাক্ষাৎ ও অবাধ মেলামেশা ইত্যাদি বৈধ নয়। যেহেতু কাউকে ‘বউ’ বললেই যেমন সে নিজের ‘বউ’ হয়ে যায় না। তেমনি কাউকে ‘মা’ বা ‘বোন’ বললেই নিজের মাহরাম হয়ে যায় না; যতক্ষণ না তাদের সাথে রক্ত, দুগ্ধ বা বৈবাহিক সম্পর্ক কায়েম হয়েছে।

মহিলা কি পর পুরুষের সাথে কথা বলতে পারে?


মহিলা প্রয়োজনে পর পুরুষের সাথে কথা বলতে পারে। তবে সে কথা যেন স্বাভাবিক হয়; না রুক্ষ না কর্কশ হয়, আর না মধুময় আকর্ষণীয় হয়। মহান আল্লাহ বলেছেন, “হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহ্‌কে ভয় কর তবে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বলো না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা সদালাপ কর।(স্বাভাবিকভাবে কথা বল।)” (আহযাবঃ ৩২)

পরপুরুষের সাথে পার্থিব ও দ্বীনী কথা বলাও কি হারাম?


পর্দার আড়াল থেকে পরপুরুষের সাথে পার্থিব ও দ্বীনী কথা বলা হারাম নয়। তবে তাতে শর্ত আছে। মহান আল্লাহ বলেছেন, “হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মতো নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পরপুরুষের সাথে কোমল কণ্ঠে এমনভাবে কথা বল না, যাতে অন্তরে যার ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হয়। আর তোমরা সদালাপ কর।(স্বাভাবিকভাবে কথা বল)” (আহযাবঃ ৩২)
তবে নামাযের জামাআতে ইমামের ভুল সংশোধন করতে মহিলা তসবীহ বলবে না, বরং হাত দ্বারা শব্দ করবে।

মুসলিম মহিলা কি নার্সের কাজ করতে পারে?


কেবল মহিলা রোগীর ক্ষেত্রে করতে পারে। কোন বেগানা পুরুষের সেবা শুস্রষা করা তার জন্য বৈধও নয়। অনুরূপ পুরুষ নার্স কেবল পুরুষ রোগীর খিদমত করতে পারে। ৫১৬ (ইবনে বায)

অনেকে বলে মহিলা সতী হলে, তার মন পবিত্র হলে তার পর্দার দরকার হয় না।


মহিলা যতই সতী ও পবিত্র মনের হোক না কেন, তার জন্য পর্দা ওয়াজেব। কোন মহিলার মন কোন সাহাবী মহিলার মনের থেকে বেশি পবিত্র হতে পারে না। অথচ তাদেরকেই পর্দার আদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরন্ত কেউ সতী হলে সে নিজেকে পবিত্র রাখতে পারবে ঠিকই, কিন্তু পর পুরুষের নজর ও মনকে কি পবিত্র রাখতে পারবে? সে নিজের মনকে পবিত্র রেখে নিজ রূপ সৌন্দর্য দ্বারা পর পুরুষের মনকে প্রলুব্ধ করলে কি পর্দার উদ্দেশ্য সফল হবে? সুতরাং পর্দা সতী অসতী সকলের জন্য। বরং অসতী মেয়ে পর্দা করলেও পর্দার ভিতরে তার অসতীত্ব বজায় থাকবে। ঘোমটার ভিতরে খেমটার নাচ দেখিয়ে পরিবেশ নোংরা করবে। আর তার হিসাব তো ভিন্ন আল্লাহ্‌র কাছে।

কিছু পুরুষ আছে, যারা নিজের সকল দায়িত্ব স্ত্রীর ঘাড়ে চাপিয়ে স্বস্তি নেয়। এমনকি মার্কেট পর্যন্ত স্ত্রী নিজেই করে। এমন পুরুষ সম্বন্ধে শরীয়তের বিধান কি?


কিছু পুরুষ প্রকৃতিগতভাবে ‘দাইয়ূস’ বা ‘ভেড়া’ হয়। যারা স্ত্রীর বেপর্দা নোংরামিতেও সায় দিয়ে থাকে। তাদের ব্যাপারে রাসুল (সঃ) বলেছেন, “ভেড়া (স্ত্রী কন্যার পর্দাহীনতা ও নোংরামির ব্যাপারে ঈর্ষাহীন) ব্যক্তির দিকে আল্লাহ কিয়ামতের তাকিয়েও দেখবেন না।” ৫১৭ (নাসাঈ ২৫৬১ নং)

আর কিছু পুরুষ ততোটা না হলেও স্ত্রীর আঁচল ধরা। সে ‘গাড়ল’ হয়ে স্ত্রীকে ‘মোড়ল’ বানায়। এমন অসফল পুরুষ জানতে অথবা অজান্তে নিজেকে প্রভু স্ত্রীর ‘বাধ্য গোলাম’ বানায়। অথচ মহান আল্লাহ বলেন, “পুরুষ নারীর কর্তা। কারণ, আল্লাহ তাদের এককে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন এবং এ জন্য যে পুরুষ (তাদের জন্য) ধন ব্যয় করে।” (নিসাঃ ৩৪)

পাশ্চাত্য সভ্যতা ঘেঁষা এমন পুরুষরা কোনদিন দ্বীন দুনিয়ায় সফল হতে পারে না। যেহেতু মহানবী (সঃ) বলেছেন, “সে জাতি কোন দিন সফলকাম হতে পারে না, যে জাতি তাদের শাসন ক্ষমতা একজন নারীর হাতে তুলে দেয়।” ৫১৮ (বুখারী ৪৪২৫ নং)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  38 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।