• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


(১৯৫) সফর অবস্থায় আযান দেয়ার বিধান কি?


বিষয়টি মতবিরোধপূর্ণ। সঠিক কথা হচ্ছে সফর অবস্থায় আযান দেয়া ওয়াজিব। দলীলঃ নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মালেক বিন হুওয়াইরিছ ও তার সফর সঙ্গীদের বলেছিলেনঃفَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ  “নামাযের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের মধ্যে যেন একজন আযান দেয়।” এরা রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নিকট ইসলামের তা’লীম নিতে এসেছিলেন। ফেরত যাওয়ার সময় নবীজী তাদেরকে এ নির্দেশ প্রদান করেন। তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফর বা গৃহে যেখানেই থাকতেন কখনই আযান বা ইক্বামত পরিত্যাগ করেননি। সফরে থাকাবস্থায় তিনি বেলালকে আযান দেয়ার নির্দেশ দিতেন।

(১৯৬) একক ব্যক্তির জন্য আযান ও ইক্বামতের বিধান কি?


একক ব্যক্তির জন্য আযান ও ইক্বামত সুন্নাত। ওয়াজিব নয়। কেননা তার আশে-পাশে এমন লোক নেই যাদেরকে আযান দিয়ে ডাকা দরকার। যেহেতু আযানের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ্‌র যিকর ও তাঁর সম্মানের কথা উল্লেখ আছে এবং নিজেকে ছালাত ও মুক্তির দিকে আহ্বান করা হয়েছে, অনুরূপভাবে ইক্বামতেও তাই আযান ও ইক্বামত উভয়টি সুন্নাত। আযান মুস্তাহাব বা সুন্নাত হওয়ার দীলল হচ্ছে, ঊকবা বিন আমের (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছ। তিনি বলেন, আমি শুনেছি রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

يَعْجَبُ رَبُّكَ مِنْ رَاعِي غَنَمٍ فِي رَأْسِ شَظِيَّةِ الْجَبَلِ يُؤَذِّنُ بِالصَّلَاةِ وَيُصَلِّي فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ انْظُرُوا إِلَى عَبْدِي هَذَا يُؤَذِّنُ وَيُقِيمُ الصَّلَاةَ يَخَافُ مِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لِعَبْدِي وَأَدْخَلْتُهُ الْجَنَّةَ

 “তোমার পালনকর্তা আশ্চার্যাম্বিত হন এমন ছাগলের রাখালের কাজে। পাহাড়ের চুঁড়া থেকে ছালাতের জন্য আযান দেয়। আল্লাহ্‌ বলেন, আমার এই বান্দাকে দেখ! ছালাতের জন্য সে আযান ও ইক্বামত দিচ্ছে। সে আমাকে ভয় করছে। আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম ও জান্নাতে প্রবেশ করালাম।”

(১৯৭) কোন ব্যক্তি যদি যোহর ও আছর ছালাত একত্রিত আদায় করে, তবে কি প্রত্যেক ছালাতের জন্য আলাদাভাবে ইক্বামত দিবে? নফল ছালাতের জন্য ইক্বামত আছে কি?


প্রত্যেক নামাযের জন্য আলাদাভাবে ইক্বামত দিতে হবে। জাবের (রাঃ) নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর বিদায় হজ্জের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, তিনি মুযদালিফায় (মাগরিব এশা) দু’নামাযকে একত্রিত করেছেন। ইক্বামত দিয়ে প্রথমে মাগরিব ছালাত আদায় করেন। তারপর ইক্বামত দিয়ে এশা ছালাত আদায় করেন। উভয় ছালাতের মাঝে কোন সুন্নাত আদায় করেননি।  নফল নামাযের জন্য কোন ইক্বামত নেই।

(১৯৮) (الصلاة خير من النوم) “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” কথাটি কি ফজরের প্রথম আযানে বলতে হবে না দ্বিতীয় আযানে?


(الصلاة خير من النوم) “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” কথাটি ফজরের প্রথম আযানে বলতে হবে। যেমনটি হাদীছে এসেছেঃ “সকালের প্রথম আযান প্রদান করলে বলবে, (الصلاة خير من النوم) “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” ঘুম থেকে নামায উত্তম। এটা প্রথম আযানে দ্বিতীয় আযানে নয়।

কিন্তু জানা দরকার এ হাদীছে প্রথম আযান বলতে কি বুঝানো হয়েছে? এটা হচ্ছে সেই আযান যা নামাযের সময় হওয়ার পর প্রদান করা হয়। আর দ্বিতীয় আযান হচ্ছেঃ ইক্বামত। কেননা ইক্বামতকেও ‘আযান’ বলা হয়েছে। নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلَاةٌ  “প্রত্যেক দু’আযানের মধ্যবর্তী সময়ে ছালাত রয়েছে।” এখানে দু’আযান বলতে ‘আযান ও ইক্বামত’ উদ্দেশ্য।

ছহীহ্‌ বুখারীতে বলা হয়েছেঃ আমীরুল মু’মেনীন ঊছমান বিন আফ্‌ফান (রাঃ) জুমআর জন্য তৃতীয় আযান বৃদ্ধি করেন।

অতএব, বেলালকে প্রথম আযানে যে “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” বলতে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল তা দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ফজর নামাযের আযান।

ফজর উদিত হওয়ার আগে যে আযানের কথা পাওয়া যায় তা ফজরের আযান নয়। লোকেরা শেষ রাতের ঐ আযানকে ফজর ছালাতের প্রথম আযানরূপে আখ্যা দিয়ে থাকে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তা ফজর ছালাতের জন্য নয়। কেননা নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ لِيُوقِظَ نَائِمَكُمْ وَلِيَرْجِعَ قَائِمَكُمْ

“বেলাল রাতে আযান দিয়ে থাকে। যাতে করে ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হয় এবং নফল ছালাত আদায়কারী ফিরে যায়।” অর্থাৎ- ঘুমন্ত ব্যক্তি জাগ্রত হয়ে সাহূর খাবে আর ক্বিয়ামুল লায়ল বা তাহাজ্জুদ ছালাত আদায়কারী নামায শেষ করে সাহূর খাবে।

তাছাড়া নবী (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মালেক বিন হুওয়াইরিছকে বলেছিলেনঃ فَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلَاةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ  “নামাযের সময় উপস্থিত হলে তোমাদের মধ্যে একজন যেন আযান দেয়।”  আর আমরা জানি যে, ফজর উদিত না হলে ছালাতের সময় উপস্থিত হবে না। অতএব ফজর হওয়ার আগের আযান ফজর ছালাতের জন্য নয়।

অতএব সাধারণভাবে মানুষ ফজরের আযানে যে “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” বলে থাকে সেটাই সঠিক ও বিশুদ্ধ।

কিন্তু যারা ধারণা করে থাকে যে, প্রথম আযান বলতে ফজরের পূর্বের আযান উদ্দেশ্য তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সঠিক নয়। তারা দলীল পেশ করে থাকে যে, প্রথম আযান বলতে সেই আযানই উদ্দেশ্য যা শেষ রাতে নফল বা তাহাজ্জুদ নামাযের জন্য দেয়া হয় এবং সেজন্য বলা হয়ঃ “আছ্‌ছালাতু খাইরুম্‌ মিনান্‌ নাওম” অর্থাৎ- ঘুম থেকে নামায উত্তম। এখানে ‘উত্তম’ শব্দটি দ্বারা বুঝা যায় এ আহবানটি নফল নামাযের জন্যই।

আমরা জবাবে বলবঃ ‘উত্তম’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব কাজের জন্যও ব্যবহার করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ্‌ বলেন,

]يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آَمَنُوا هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَى تِجَارَةٍ تُنجِيكُمْ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ، تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَتُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ[

“হে ঈমানদারগণ! আমি কি তোমাদেরকে এমন এক বাণিজ্যের সন্ধান দিব, যা তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি থেকে মুক্তি দিবে? তা এই যে, তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাঁর রাসূলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে এবং আল্লাহ্‌র পথে নিজেদের ধন্তসম্পদ ও জীবন পন করে জেহাদ করবে। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম; যদি তোমাদের জ্ঞান থাকে।” (সূরা ছফ্‌ফঃ ১০, ১১) আল্লাহ্‌ জুমআর ছালাত সম্পর্কে বলেনঃ

]يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا نُودِي لِلصَّلَاةِ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللَّهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَكُمْ إِنْ كُنتُمْ تَعْلَمُونَ[

“হে ঈমানদারগণ! যখন জুমআর দিনে ছালাতের জন্য আহবান করা হয়, তখন তোমরা আল্লাহ্‌র যিকিরের প্রতি দ্রুত অগ্রসর হও, বেচা-কেনা ছেড়ে দাও। এটা তোমাদের জন্য উত্তম।” (সূরা জুমআঃ ৯) অতএব ‘উত্তম’ শব্দটি যেমন ফরয বিষয়ে ব্যবহার হয় তেমনি মুস্তাহাব ও নফলের ক্ষেত্রেও ব্যবহার হয়।

(১৯৯) টেপ রেকর্ডারের মাধ্যমে আযান দিলে আযান হবে কি?


টেপ রেকর্ডারের মাধ্যমে আযান দিলে বিশুদ্ধ হবে না। কেননা আযান একটি ইবাদত। আর ইবাদত করার আগে নির্দিষ্ট নিয়ত করতে হবে।

(২০০) মসজিদে প্রবেশ করার সময় দেখলাম আযান হচ্ছে। এসময় কোন কাজটি উত্তম?


উত্তম হচ্ছে, আগে আযানের জবাব দিবে। অতঃপর আযান শেষে দু’আ পাঠ করবে। তারপর তাহিয়্যাতুল মসজিদ বা সুন্নাত নামায শুরু করবে। তবে বিদ্বানদের মধ্যে অনেকে জুমআর দিনের বিষয়টিকে ব্যতিক্রম বলেছেন। অর্থাৎ- মসজিদে প্রবেশ করার সময় যদি দেখে যে, খুতবার জন্য দ্বিতীয় আযান শুরু হয়ে গেছে, তখন আযানের জবাব না দিয়ে তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামায শুরু করে দিবে। যাতে করে খুতবা শোনতে পারে। কারণ হচ্ছে, খুতবা শোনা ওয়াজিব, আযানের জবাব দেয়া ওয়াজিব নয়। সুতরাং যা ওয়াজিব নয় তার চাইতে ওয়াজিবের গুরুত্ব দেয়া উত্তম।

(২০১) আযানের জবাবে ‘রাযিতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দী-না, ওয়াবি মুহাম্মাদিন নাবিয়্যা ওয়া রাসূলা।’ দু’আটি কখন বলতে হবে?


হাদীছের বাহ্যিক অর্থে বুঝা যায়, মুআয্‌যিন যখন ‘আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ্‌ বলবে  তখন তার জবাব দিয়ে বলবে, ‘রাযীতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলা-মি দী-না, ওয়াবি মুহাম্মাদিন্‌ নাবিয়্যা ওয়া রাসূলা।’ কেননা হাদীছে এসেছেঃ

مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ الْمُؤَذِّنَ أَشْهَدُ أَنْ لا إِلَهَ إِلا اللَّهُ وَحْدَهُ لا شَرِيكَ لَهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِمُحَمَّدٍ رَسُولا وَبِالإسْلامِ دِينًا غُفِرَ لَهُ ذَنْبُهُ

 “যে ব্যক্তি আযান শুনে বলবেঃ ‘আশহাদু আন লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ্‌ রাযীতু বিল্লা-হি রাব্বা, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনা, ওয়াবি মুহাম্মাদিন্‌ নাবিয়্যা ওয়া রাসূলা।’ অন্য রেওয়াতে বলা হয়েছেঃ “যে বলবে, ‘আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি’।” এই কথাটি প্রমাণ করে যে, উক্ত দু’আটি মুআয্‌যিনের ‘আশহাদু আল্লাইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান রাসূলুল্লাহ্‌’ বলার পর পরই বলবে।

(২০২) আযানের দু’আর শেষে “ইন্নাকা লা তুখ্‌লিফুল মীআ’দ” বাক্যটি বৃদ্ধি করে পড়া কি ছহীহ্‌ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত?


হাদীছ শাস্ত্রের পন্ডিতদের মধ্যে এ বাক্যটি নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, ইহা ছহীহ্‌ নয়। ইহা শায। কেননা আযানের দু’আর ব্যাপারে যারা হাদীছ বর্ণনা করেছেন তাদের অধিকাংশই এবাক্যটি উল্লেখ করেননি। বিশুদ্ধ হলে তো তা বাদ দেয়া বৈধ নয়। দু’আ ও প্রশংসার বাক্যে বা অনুরূপ ক্ষেত্রে কোন শব্দ ছেড়ে দেয়া উচিৎ নয়। কেননা এটা দ্বারা ইবাদত সম্পন্ন করা হয়।

বিদ্বানদের মধ্যে অন্যরা বলেছেনঃ এর সনদ ছহীহ্‌। এটা বলা যায় এতে কোন বাধা নেই। শায়খ আবদুল আযীয বিন বায বলেছেন, হাদীছটির সনদ ছহীহ্‌। বায়হাক্বী ছহীহ্‌ সনদে এটা বর্ণনা করেছেন।

(২০৩) ইক্বামতের শব্দগুলো কি মুক্তাদীদেরকেও বলতে হবে?


ইক্বামত বলার সময় তার পিছে পিছে শব্দগুলো উচ্চারণ করার ব্যাপারে একটি হাদীছ আবু দাঊদে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু তা যঈফ। যা গ্রহণের অযোগ্য। অতএব তা না বলাই ভাল।

(২০৪) ইক্বামতে ‘ক্বাদক্বামাতিছ্‌ ছালাত’ বলার সময় ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’ বলা কি ঠিক?


এ ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ্‌ (ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে একটি হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। মুআয্‌যিন যখন ইক্বামতে ‘ক্বাদক্বামাতিছ ছালাত’ বলত, তখন তিনি বলতেন, ‘আক্বামাহাল্লাহু ওয়া আদামাহা’। কিন্তু হাদীছটি যঈফ হওয়ার কারণে দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  170 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।