• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


মাতৃ-দিবস পালন করা কি বৈধ?


এটি আসলে অমুসলিমদের আবিষ্কৃত একটি ঈদ। সুতরাং মুসলমানদের তা পালন করা বিদআত এবং সেই সাথে কাফেরদের সাদৃশ্য অবলম্বন ও অন্ধঅনুকরণও। মুসলিমদের বাৎসরিক ঈদ দুটি এবং সাপ্তাহিক ঈদ একটি। এ ছাড়া র কোন ঈদ বা পালনীয় “দিবস” নেই। বলা বাহুল্য কাফেরদের অনুকরণে অনুরূপ সকল ঈদ বর্জনীয়। রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি আমার এই দ্বীনে (নিজের পক্ষ থেকে) কোন নতুন কথা উদ্ভাবন করল---যা তাঁর মধ্যে নেই, তা প্রতাখ্যানযোগ্য।” ১০৪ (বুখারী ও মুসলিম)
মায়ের যে হোক আছে, তা বাৎসরিক একটি দিবসকে তাঁর নামে পালন করে, দু চারটি উপহার উপঢৌকন পেশ করে, পান ভোজনের অনুষ্ঠান করে আদায় হয়ে যায় না। মায়ের প্রতি কর্তব্য আছে প্রত্যহিক। মায়ের পদতলে আছে সন্তানের বেহেশত। মায়ের কথার অবাধ্য হয়ে মাতৃ দিবস পালন করে পার্থিব আনুষ্ঠানিক আনন্দোপভোগ ছাড়া আর কী হতে পারে? ১০৫(ইবনে ঊষাইমীন)

হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সঃ) কে সোমবার দিন রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, “ ওটি এমন একটি দিন, যেদিন আমার জন্ম হয়েছে।”(মুসলিম)এ হাদিস থেকে কি প্রমাণ হয় না যে, মহানবী (সঃ) নিজের জন্মদিন পালন করতেন?


এ হাদিস থেকে জন্মদিন পালন করার কথা প্রমাণিত হয় না। যদি হয়েও থাকে, তাহলে প্রত্যেক সোমবারকে তাঁর জন্মদিন হিসেবে পালন করতে হবে এবং কেবল রোযা রাখার মাধ্যমে। নচেৎ তা কামার-পুকুরের দলীল দেখিয়ে কুমোর-পুকুর দখল করার মত ব্যপার হবে।

তসবীহ গুনতে “তসবীহ-দানা” বা “তসবীহ-মালা” ব্যবহার করা বিদআত?


“তসবীহ-দানা” ব্যবহারকে বিদআত বলা হয় না। যেহেতু তা ইবাদতের একটু আসীলা। আর ইবাদাতের আসীলাকে বিদআত বলা হয় না। তবে তা সুন্নাহ পরিপন্থী। যেহেতু মহানবী (সঃ) ডান হাতের আঙ্গুল দ্বারা তসবীহ গুনেছেন। সুতরাং “তসবীহ-মালা” ব্যবহার না করাই উত্তম। এর আরও দুটি কারণ আছে। একঃ এতে তাসবীহকারী উদাস হয়ে থাকে। যেহেতু গোনা মালাতো গাঁথাই আছে। তাই খেয়াল থাকে না গণনায় এবং খেয়াল থাকেনা তাসবীহতে। দুইঃ এতে “রিয়া” বা লোকপ্রদর্শনের সম্ভবনা আছে অনেক। যেহেতু তাসবিহ-মালা দেখে লোকে তাঁর প্রশংসাই করবে। ১০৬( ইবা, ইউ)
অনেকে বলবেন, “ আঙ্গুল দ্বারা গণনার সংখ্যায় ভুল হতে পারে। মালা দ্বারা নির্ভুল গননা সম্ভব।” আমরা বলি, “গণনায় ভুল হলে সমস্যা কি? নিয়ত যখন ঠিক থাকে, তখন সওয়াবতো কমে যাবে না। বিশেষ করে আঙ্গুল যখন কিয়ামতে কথা বলে তসবীহকারীর জন্য সাক্ষ্য দেবে, ১০৭(আহমাদ ৬/৩৭১, আবূ দাঊদ ১৫০১, তিরমিযী ৩৫৮৩ নং)তখন তাতেই ফযীলত বেশী নয় কি?

কুরআন তিলাওয়াত শেষে “স্বাদাক্বাল্লাহুল আযীম” বলা কি বিধেয়?


কুরআন তিলওয়াত শেষে “স্বাদাক্বাল্লাহুল আযীম” বলা বিধেয় নয়, বরং বিদআত। যেহেতু এ কাজ মহানবী (সঃ) তাঁর কোন সাহাবী অথবা তাঁদের পরবর্তী কোন ইমাম করে যাননি। অথচ তিনি ছিলেন অধিক অধিক কুরআন তিলাওয়াতকারী। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রঃ) বলেন, “একদা রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাকে বললেন, “(হে ইবনে মাসঊদ!) আমাকে কুরআন পড়ে শুনাও।” আমি বললাম, “হে আল্লাহ্‌র রাসুল! আমি আপনাকে পড়ে শোনাব, অথচ আপনার উপরেই তা অবতীর্ণ করা হয়েছে?” তিনি বললেন, “অপরের মুখ থেকে (কুরআন পড়া) শুনতে আমি ভালবাসি।” সুতরাং তাঁর সামনে আমি সূরা নিসা পড়তে লাগলাম, পড়তে পড়তে যখন আমি এই (৪১ নং) আয়াতে পৌছলাম---যার অর্থ, “তখন তাঁদের কি অবস্থা হবে, যখন প্রত্যেক সম্প্রদায় থেকে সাক্ষী উপস্থিত করব এবং তোমাকেও তাঁদের সাক্ষীরূপে উপস্থিত করব?” তখন তিনি বললেন, “যথেষ্ট , এখন থাম।” অতঃপর আমি তাঁর দিকে ফিরে দেখি, তাঁর নয়ন যুগল অশ্রু ঝরাচ্ছে।১০৮ (বুখারী, মুসলিম) কই? এখানে তিনি “স্বাদাক্বাল্লাহুল আযীম” বলেননি।
মহান আল্লাহ বলেছেন, বল, “স্বাদাক্বাল্লাহ”। (আলে ইমরানঃ ৯৫) কিন্তু তিনি বলেননি যে,  কুরআন পড়া শেষ হলে “স্বাদাক্বাল্লাহ” বল। বলা বাহুল্য, কোন আম নির্দেশকে বিশেষ কাজের জন্য খাস করা শরয়ী নীতি নয়।১০৯ (ইবা, লাদা)

কলোম্বোর এক মসজিদের ডান দিকে নবী (সঃ) এর কবরের ছবি টাঙ্গানো আছে। তাঁর সামনে মুসল্লীরা দাঁড়িয়ে নাবী (সঃ) এর উপর দরুদ পাঠ করে। এ কাজ কি শরীয়তসম্মত?


মসজিদের ভিতরে নবী (সঃ)এর কবরের (বা সবুজ গুম্ভজের) ছবি রাখা একটি আপত্তিকর বিদআত। পরন্ত তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে দরুদ পাঠ করা অন্য একটি আপত্তিকর বিদআত। এটি অতিরঞ্জনবশতঃ কৃত আচরণ। আর নবী (সঃ) বলেছেন, “তোমরা দ্বীনের ব্যপারে অতিরঞ্জন করা থেকে দূরে থেকো। কেননা অতিরঞ্জনই পূর্ববর্তী বহু উম্মতকে ধ্বংস করেছে।”১১০ (আহমাদ ১/২১৫, ৩৪৭, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ৩০২৯ নং)   
তিনি আরও বলেছেন,
“তোমরা আমাকে নিয়ে (আমার তা’যীমে) বাড়াবাড়ি করে না, যেমন খ্রিস্টানরা (ঈসা) ইবনে মারয়্যামকে নিয়ে করেছে। আমি তো আল্লাহ দাস মাত্র। অতএব তোমরা আমাকে আল্লাহ্‌র দাস ও তাঁর রাসূলই বলো” ১১১ (বুখারী  ৩৪৪৫, মুসলিম, মিশকাত ৪৮৯ নং)
দরূদ যে কোন (পবিত্র) জায়গা থেকে দাঁড়িয়ে-বসে পড়া যায়। মহানবী (সঃ) এর কবরের ছবি সামনে রেখে দাঁড়িয়ে দরূদ পড়া বিদআত। এক সাথে জামাআতী দরূদ পড়া বিদআত।
তাছাড়া মসজিদের দেওয়ালে নবী-আলীর ছবি অঙ্কন করা অথবা টাঙ্গানো মসজিদে তাঁদেরকে দাফন করার বিধানের অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু তা মানুষকে শিরকের দিকে টেনে নিয়ে যায়। ঐ ছবির সামনে দরূদ পড়তে পড়তে নবী (সঃ) এর কাছে প্রার্থনাও শুরু হয়ে যায়। সুতরাং এমন কাজ তওবার সাথে বর্জনীয়। ১১২ (লাজনাহ দায়েমাহ)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  15 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।
12পরের পাতাশেষের পাতা