• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


পরিজনের সাথে এক সঙ্গে রোযা রাখার উদেশ্যে মহিলারা ট্যাবলেট খেয়ে মাসিক বন্ধ রাখতে পারে কি?


মহান আল্লাহ্‌র দেওয়া এ প্রাকৃতিকে রোধ করলে তাঁর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। মাসিক নিবারক ট্যাবলেট ব্যবহারে মহিলার গর্ভাশয়েরও নানান ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে; যেমন সে কথা ডাক্তারগণ উল্লেখ করে থাকেন। সুতরাং ঔষধ ঐভাবে মাসিক বন্ধ রেখে এবং পবিত্রতা থেকে রোযা রাখে, তাহলে সে রোযা শুদ্ধ ও যথেষ্ট হয়ে যাবে। ২৬১ (ইবনে উষাইমীন)

রমযানের একাধিক রোযা কাযা করতে হলে কি একটানা করা জরুরী?


একটানা হওয়া জরুরী নয়। কেটে কেটেও রাখা যায়। তবে উত্তম হল একটানা রাখা। ২৬২ (ইবনে জিবরীন)

কেউ রোযা রেখে মারা গেলে তাঁর তরফ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে, নাকি ওয়ারেসকে রোযা রেখে দিতে হবে?


রমযানের রোযা কাযা রেখে মারা গেলে তাঁর তরফ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে। আর নযরের রোযা না রেখে মারা গেলে তাঁর তরফ থেকে ওয়ারেসকে রোযাই রাখতে হবে।

আমার মা রমযানের রোযা বাকি রেখে ইন্তিকাল করলে তিনি মা আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি আমার মায়ের তরফ থেকে কাযা করে দেব কি?” আয়েশা (রঃ) বললেন, “না। বরং তাঁর তরফ থেকে প্রত্যেক দিনের পরিবর্তে এক একটি মিসকীনকে অর্ধ সা’ (প্রায় ১ কিলো ২৫০ গ্রাম খাদ্য) সদকাহ করে দাও।” ২৬৩ (ত্বহাবী ৩/১৪২, মুহাল্লা ৭/৮, আহকামুল জানাইয, টীকা ১৭০ পৃঃ)

ইবনে আব্বাস (রঃ) বলেন, “কোন ব্যক্তি রমযান মাসে অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তারপর রোযা না রাখা অবস্থায় মারা গেলে তাঁর তরফ থেকে মিসকীন খাওয়াতে হবে; তাঁর কাযা নেই। পক্ষান্তরে নযরের রোযা বাকী রেখে গেলে তাঁর তরফ থেকে তাঁর অভিভাবক (বা ওয়ারেস) রোযা রাখবে।” ২৬৪ (আবূ দাউদ ২৪০১ প্রমুখ)

রোযা না রাখার নিয়ত করলে এবং তাঁর নিয়ত বাতিল করে দিলে রোযা বাতিল হয়ে যাবে কি?


নিয়ত প্রত্যেক ইবাদত তথা রোযার অন্যতম রুকন। আর সারা দিন সে নিয়ত নিরবচ্ছিন্নভাবে মনে জাগ্রত রাখতে হবে; যাতে রোযাদার রোযা না রাখার বা রোযা বাতিল করার কোন প্রকার দৃঢ় সংকল্প না করে বসে। বলা বাহুল্য, রোযা না রাখার নিয়ত করলে এবং তাঁর নিয়ত বাতিল করে দিলে সারাদিন পানাহার আদি না করে উপবাস করলেও রোযা বাতিল গণ্য হবে। ২৬৫ (দ্রঃ ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/৪১২, মুমতে ৬/৩৭৬)

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি কিছু খাওয়া অথবা পান করার প্রাথমিক ইচ্ছা পোষণ করার পর ধৈর্য ধরে পানাহার করার ঐ ইচ্ছা বাতিল করে পানাহার করে না, সে ব্যক্তির কেবল রোযা ভাঙ্গার ইচ্ছা পোষণ করার ফলে রোযা নষ্ট হবে না; যতক্ষণ না সে সত্যসত্যই পানাহার করে নেবে। আর এর উদাহরণ সেই ব্যক্তির মত, যে নামাযে কথা বলার ইচ্ছা পোষণ করার পর এক কথা না বলে অথবা নামায পড়তে পড়তে হাওয়া ছাড়ার ইচ্ছা করার পর তা সামলে নিতে পারে। এমন ব্যক্তির যেমন নামায ও ওযু বাতিল নয়, ঠিক তেমনি ঐ রোযাদারের রোযা। ২৬৬ (ইবনে উষাইমীন)

ফজরের আযান হলেই কি পানাহার বন্ধ করা জরুরী?


আযান দেখার বিষয় নয়। দেখার বিষয় হল ফজর উদয়ের সময়। যেমন সময়ের ঘড়িও মজবুত হওয়া প্রয়োজন। নচেৎ মুআযযিন আগে আযান দিলে অথবা ঘড়ি মজবুত ফাস্ট থাকলে যেমন খাওয়া বন্ধ করা বিধেয় নয়, তেমনি মুআযযিন দেরি করে আযান দিলে অথবা ঘড়ি স্লো থাকলে খেয়ে যেতেই থাকা বৈধ নয়। বলা বাহুল্য, এ বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা কর্তব্য। (ইবনে বায)

এক ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে সেহেরী খেল। অতঃপর জানতে পারল যে, তাঁর খাওয়াটা ফজরের আযানের পর হয়েছে। সুতরাং তাঁর রোযা কি শুদ্ধ হবে?


আযান সঠিক সময়ে হয়ে থাকলে এবং সে আযান হয়ে গেছে---এ কথা না জানলে তাঁর রোযা শুদ্ধ। কারণ অজান্তে বা ভুলে অনিচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করে ফেললে রোযার ক্ষতি হয় না। মহানবী (সঃ) বলেছেন, “যে রোযাদার ভুলে গিয়ে পানাহার করে ফেলে, সে যেন তাঁর রোযা পূর্ণ করে নেয়। এ পানাহার তাকে আল্লাহ্‌ই করিয়েছেন।”২৬৮ (বুখারি ১৯৩৩, মুসলিম ১১৫৫, আবূ দাঊদ ২৩৯৮, তিরমিযী, দারেমী, ইবনে মাজাহ ১৬৭৩, দারাকুত্বনী, বাইহাক্বী ৪/২২৯, আহমাদ ২/৩৯৫, ৪২৫, ৪৯১, ৫১৩ )

আসমা বিন্তে আবী বাকর (রঃ) বলেন, “নবী (সঃ) এর যুগে একদা আমরা মেঘলা দিনে ইফতার করলাম। তারপর সূর্য দেখা গেল।” ২৬৯ (বুখারী ১৯৫৯, আবূ  দাঊদ ২৩৫৯, ইবনে মাজাহ ১৬৭৪ নং)
এই অবস্থায় রোযা কাযা করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তাঁর মানে রোযা শুদ্ধ।

চোখ বা কানে ঔষধ দিলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?


চোখ বা কানে ঔষধ দিলে রোযা ভাঙ্গে না। কারণ চোখ ও কান খাদ্যনালী নয় এবং সে ঔষধও কোন খাবারের কাজ করে না। তবে সন্দেহ হলে তা রাতে ব্যবহার করার পূর্বসতর্কতামূলক কর্ম। ২৭০ (লাহনাহ দায়েমাহ)

বমি করলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?


ইচ্ছাকৃত বমি করলে রোযা নষ্ট হয়ে যায়। মহানবী (সঃ) বলেন, “রোযা অবস্থায় যে ব্যক্তি বমনকে (বমি) দমন করতে সক্ষম হয় না, তাঁর জন্য কাযা নেই। পক্ষান্তরে যে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করে, সে যেন ঐ রোযা কাযা করে।” ২৭১ (আহমাদ ২/৪৯৮, আবূ দাঊদ ২৩৮০, তিরমিযী ৭১৬, ইবনে মাজাহ ১৬৭৬, সঃ জামে ৬২৪৩ নং)

রোযাদার কি দাঁতন করতে পারে? তাঁর ফলে আল্লাহ্‌র নিকট কস্তরি অপেক্ষা বেশি সুগন্ধময় গন্ধ কি দূর হয়ে যায় না?


রোযাদার দিনের প্রথম ও শেষভাগে যে কোন সময় দাঁতন করতে পারে। রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহ্‌র কাছে প্রিয় বলে তা ইচ্ছাকৃত ছেড়ে রাখা বিধেয় নয়। তাছাড়া দাঁতন করলে মুখের গন্ধ যায় না। কারণ তা আসে পেট খাদ্যশূন্য হওয়ার কারণে। ২৭২ (ইবনে জিবরীন)

রোযার দিনে দাঁতের মাজন (টুথ-পেস্ট বা পাউডার) ব্যবহার করলে রোযা শুদ্ধ হবে কি?


রোযার দিনে দাঁতের মাজন (টুথ-পেস্ট বা পাউডার) ব্যবহার না করাই উত্তম। বরং তা রাত্রে এবং ফজরের আগে ব্যবহার করাই উচিৎ। কারণ, মাজনের এমন প্রতিক্রিয়া ও সঞ্চার ক্ষমতা আছে, যার ফলে তা গলা ও পাকস্থলীতে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনুরূপ আশঙ্কার ফলেই মহানবী (সঃ) লাকিত্ব বিন সাবরাহকে বলেছিলেন, “(ওযূ করার সময়) তুমি নাকে খুব অতিরঞ্জিতভাবে পানি টেনে নিয়ো না। কিন্তু তোমরা তোমরা রোযা থাকলে নয়।”  (আহমাদ ৪/৩৩, আবূ দাঊদ ১৪২, তিরমিযী, নাসাঈ,  ইবনে মাজাহ ৩২৮ নং)

পক্ষান্তরে নেশাদার ও দেহে অবসন্ন আনায়নকারী মাজন; যেমন, গুল-গুড়াকু প্রভৃতি; যা ব্যবহারের ফলে মাথা ঘোরে অথবা ব্যবহারকারী জ্ঞ্যানশূন্য হয়ে যায়, তা ব্যবহার করা বৈধ নয়; না রোযা অবস্থায় এবং না অন্য সময়। কারণ, তা মহানবী (সঃ) এর এই বানীর আওতাভুক্ত হতে পারে, যাতে তিনি বলেন, “প্রত্যেক মাদকতা আনায়নকারী দ্রব্য হারাম।”  (বুখারী, মুসলিম, সুনানে আরবাআহ,  জামে ৪৫৫০ নং)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  42 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।