• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


যারা ‘নবী’কে ‘খোদা’ বলে বিশ্বাস রাখে, তাঁদের বিধান কি?


তাঁরা খ্রিস্টানদের মতো কাফের। মহান আল্লাহ বলেছেন, তাঁরা নিঃসন্দেহে কাফের, যারা বলে, ‘আল্লাহ্‌ই মার‍য়্যাম-তনয় মাসীহ।’ অথচ মাসীহ বলেছেন, ‘হে বনী ইস্রাইল! তোমরা আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর উপাসনা কর। অবশ্যই যে কেউ আল্লাহ্‌র অংশী করবে, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর জন্য বেহেশত নিষিদ্ধ করবেন ও দোযখ তাঁর বাসস্থান হবে এবং অত্যাচারীদের জন্য কোন সাহায্যকারী নেই।’ (মায়িদাহঃ৭২)

নবীর জন্য সারা বিশ্বজগৎ সৃষ্টি হয়েছে। ---এ ধারনা কি সঠিক?


মোটেই না। ‘লাওলাক’-এর হাদীস মনগড়া। ভক্তির আতিশয্যে মানুষ এমন অত্যুক্তি রচনা ক’রে প্রচার করেছে। মহান আল্লাহ এ বিশ্ব রচনা করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। তিনি বলেন, আমি সৃষ্টি করেছি জীন ও মানুষকে কেবল এ জন্য যে, তাঁরা আমারই ইবাদত করবে। (যারিয়াতঃ ৫৬) আর নবী পাঠিয়েছেন সেই ইবাদতের পদ্ধতি বাতলে দেওয়ার জন্য।

নবি-ওলীর আসীলায় দুআ করা যায় কি?


না। নবি-আলীর আসীলায় দু’আ করা যায় না। মহান আল্লাহ আমাদেরকে সরাসরি দু’আ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন,
আর আমার দাসগণ যখন আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞেসা করে, তখন তুমি বল, আমি তো কাছেই আছি। যখন কোন প্রার্থনাকারী আমাকে ডাকে, তখন আমি তাঁর ডাকে সাড়া দিই। অতএব তারাও আমার ডাকে সাড়া দিক এবং আমাতে বিশ্বাস স্থাপন করুক, যাতে তাঁরা ঠিক পথে চলতে পারে। (বাকারাহঃ ১৮৬)
আর মুহাম্মাদ (সঃ)-এর অসীলায় আদম (আঃ)-এর দুআ করার কথা প্রমাণিত নয়।
পরন্ত প্রমাণের ভিত্তিতে তিন প্রকার আসীলায় দুআ করা যায়ঃ-
১। মহান আল্লাহ্‌র নাম ও গুণাবলীর আসীলায় দুআ।
২। স্বীকৃত নেক আমলের আসীলায় দুআ।
৩। জীবিত ও উপস্থিত ব্যক্তির দুআর আসীলায় দুআ।
এ সবের দলীল রয়েছে আকীদার বইগুলিতে। পক্ষান্তরে শেষ নবী (সঃ)-এর আসীলায় আদম (আঃ)-এর দু’আর হাদীস সহীহ নয়। দলিল-সহ সবিস্তার দ্রষ্টব্য ‘তাওহীদ-কৌমুদী’।

হেতুর উপর ভরসা করলে শিরক কখন হয়?


হেতুর উপর ভরসা তিন প্রকার হতে পারেঃ-
১। মানুষ এমন হেতুর উপর পরিপূর্ণ ভরসা করে, যা আসলেই কোন হেতু নয়। যেমন সন্তান লাভের হেতু স্বরূপ কুমীর-পীরের উপর ভরসা রাখে। এমন ভরসা শিরকে আকবর, যা করলে মানুষ ইসলাম থেকে খারিজ হয়ে যায়।
২। এমন হেতুর উপর ভরসা করে, যা আসলেই শরয়ী ও শুদ্ধ হেতু। কিন্তু হেতুর সংঘটক ও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ভুলে বসে। এ কাজেও এক প্রকার শিরক, তবে তাতে মানুষ দ্বীন থেকে খারিজ হয়ে যায় না। যেমন নিজ রুযী-রুটির ব্যাপারে চাকরি বা ব্যাবসার উপর ভরসা রাখে, আরোগ্যের ব্যাপারে ঔষুধের উপর ভরসা রাখে আর রুযীদাতা ও আরোগ্যদাতা  যে একমাত্র আল্লাহ এবং চাকরি ও ঔষুধ শুধু হেতুমাত্র--- তা ভুলে বসে। এটা শিরকে আসগার।
৩। এমন হেতুর উপর ভরসা করে, যা আসলেই শরয়ী ও শুদ্ধ হেতু। কিন্তু হেতুর সংঘটক ও সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ্‌র উপরেই পরিপূর্ণ ভরসা রাখে। সে জানে, আল্লাহ্‌র ইচ্ছা হলে চাকরি বা ব্যাবসার মাধ্যমে রুযী দেবেন, নচেৎ দেবেন না, ঔষুধ খেলে আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় আরোগ্য হবে, নচেৎ হবে না। এমন কাজ তাওহীদ ও তাওয়াক্কুল-বিরোধী নয়। বরং এমন কাজ তাওহীদবাদী মুসলিমের। পূর্ণ ভরসা রাখতে হবে আল্লাহ্‌র উপর, কিন্তু সেই সাথে শরয়ী ও শুদ্ধ হেতু বা আসীলাও ব্যবহার করতে হবে। মহানবী (সঃ) মহান আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ ভরসা রাখতেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি আঘাত থেকে বাঁচার জন্য শিরস্ত্রাণ ও লৌহবর্ম ব্যবহার করতেন। ১৯

কোন মাযারের জন্য হাঁস-মুরগী বা ফল-ফসল মানত করা বৈধ কি?


কোন মাযার বা পীরের জন্য হাঁস-মুরগী মানত করা, সেখানে তা পেশ করা অথবা যবেহ করা শিরকে আকবর। কারণ নযর ও যবেহ এক প্রকার ইবাদত। আর সে ইবাদত আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য নিবেদন করা হারাম ও শিরক।

মুসলিম হওয়ার জন্য কেবল কালেমা পড়াই কি যথেষ্ট?


অবশ্যই নয়। কালেমা হল ইসলাম-গৃহ প্রবেশ করার চাবি। প্রবেশ করার পরেও এমন কাজ আছে, যা না করলে সে মুসলিম থাকতে পারে না। ঈমানের ছয় রুকন ছাড়া আরো অনেক কিছুর প্রতি ঈমান জরুরী। প্রকৃত মুসলিম হতে অনেক কিছু করার আছে।
মহানবী (সঃ) মুআয (রঃ)-কে ইয়ামান পাঠাবার সময়ে (তাঁর উদেশ্যে) বললেন, “তাঁদের (ইয়ামানবাসীদেরকে সর্বপ্রথম) এই সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহবান জানাবে যে, আল্লাহ ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই, আর আমি আল্লাহ্‌র রাসুল। যদি তাঁরা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দেবে যে, আল্লাহ তাঁদের উপর দিবারাত্রে পাঁচ অক্তের নামাজ ফরয করেছেন। অতঃপর যদি তাঁরা এ কথা মেনে নেয়, তাহলে তাদেরকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ তাঁদের উপর যাকাত ফরয করেছেন; যা তাঁদের মধ্যে যারা (নিসাব পরিমাণ) মালের অধিকারী তাঁদের নিকট থেকে গ্রহণ করা হবে এবং তাঁদের দরিদ্র ও অভাবী মানুষদের মাঝে তা বণ্ঠন ক’রে দেওয়া হবে।” ২০

‘জন্মে-জন্মে’ বা জন্মে জন্মান্তরে তোমাকে ভালবাসব ---এ বিশ্বাস কি সঠিক?


যে জন্মান্তরবাদে বিশ্বাস রাখে, সে মুসলিম থাকতে পারে না। এ জন্মের পর কেবল একটাই জীবন আছে। আর তা হল হিসাব নিকাশের জন্য পরকালের পুনরুত্থান। অতঃপর জান্নাত নতুবা জাহান্নাম। মানুষ মারা গেলে পুনরায় মানুষ হয়ে অথবা নিজ কর্ম অনুযায়ী অন্য কোন জীব-জন্ত হয়ে জন্ম গ্রহণ করে, এমন আকিদা কুফরী।

 

জাতীয় পতাকার তা’যীমে তাঁকে স্যালুট করা এবং তাঁর সামনে একাগ্রচিত্তে দণ্ডায়মান হওয়া কি মুসলিমের জন্য বৈধ?


মুসলিমের জন্য এ কাজ বৈধ নয়। এ কাজ আসলে অমুসলিমদের। মুসলিম মহান আল্লাহ ছাড়া অন্য কারোর তা’যীম উদ্দেশ্যে একাগ্রচিত্তে দণ্ডায়মান হয় না। সুতরাং উক্ত কাজ একটি জঘন্য বিদআত এবং পরিপূর্ণ তাওহিদের পরিপন্থী। ২১

মহান আল্লাহ আমাদেরকে তাঁর প্রতি ঈমানের সাথে তাগুতের প্রতি কুফরী (অর্থাৎ তাগুতকে অস্বীকার) করতে বলেছেন। কিন্তু তাগুত কাকে বলে?


 প্রত্যেক সেই পুজ্যমান উপাস্য যে আল্লাহ্‌র পরিবর্তে পুজিত হয় এবং সে তাঁর এই পূজায় সম্মত থাকে অথবা আল্লাহ ও তদীয় রসুলের অবাধ্যতায় প্রত্যেক অনুসৃত বা মানিত ব্যাক্তিকেই তাগুত বলা হয়।
এ দুনিয়ায় তাগূত বহু আছে। অবশ্য তাঁদের প্রধান হল পাঁচটিঃ
(১) শয়তান।
(২) আল্লাহ্‌র বিধান বিকৃতকারী অত্যাচারী শাসক।
(৩) আল্লাহ্‌র অবতীর্ণকৃত বিধান ছেড়ে অন্য বিধানানুসারে বিচারকর্তা শাসক।
(৪) আল্লাহ ব্যতিত ইলমে গায়েব (গায়েবী বা অদৃশ্য খবর জানার) দাবীদার।
(৫) আল্লাহ্‌র পরিবর্তে (নযর-নিয়ায, মানত, সিজদা প্রভৃতি দ্বারা) যার পূজা করা ও যাকে (বিপদে) আহবান করা হয় এবং সে এতে সম্মত থাকে।

তকদীর যদি সত্য হয়, তাহলে কি আমল বৃথা নয়?


না। তকদীর সত্য এবং তদবীরও সঠিক। বান্দা নিজ এখতিয়ারে ভাল-মন্দ কর্ম করে। আর মহান আল্লাহ সেই বান্দা ও তাঁর কর্মের সৃষ্টিকর্তা। বান্দার ভাগ্যে যা লেখা থাকে, তা তাঁর জন্য সহজ হয়ে যায়। মহান আল্লাহ বলেছেন,
অবশ্যই তোমাদের কর্মপ্রচেষ্টা বিভিন্নমুখী। সুতরাং যে দান করে ও আল্লাহকে ভয় করে এবং সৎ বিষয়কে সত্যজ্ঞান করে। অচিরেই আমি তাঁর জন্য সুগম করে দেব (জান্নাতের) সহজ পথ। পক্ষান্তরে যে কার্পণ্য করে ও নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণও মনে করে। আর সৎ বিষয়কে মিথ্যাজ্ঞান করে, অচিরেই তাঁর জন্য আমি সুগম ক’রে দেব (জাহান্নামের) কঠোর পরিণামের পথ। (লাইলঃ ৪-১০)
আর মহানবী (সঃ) বলেছেন,
“তোমরা কাজ ক’রে যাও। যেহেতু যাকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, তাঁর জন্য তা সহজ ক’রে দেওয়া হবে। ২২

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  52 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।