• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


২- উমরার রুকন কয়টি ও কি কি?


১টি। সেটি হলো কাবাঘর তাওয়াফ করা। আর উমরার শর্ত হলো ইহরাম বাঁধা। তবে কেউ কেউ বলেছেন উমরার রুকন তিনটি। যথাঃ
(১)  ইহরাম বাঁধা।
(২) তাওয়াফ করা
(৩) সাঈ করা।
উল্লেখ্য যে, এ রুকনগুলোই উমরার ফরয।

৩- উমরার ওয়াজিব কয়টি ও কি কি?


৩টি, সেগুলো হলঃ
(১) ইহরামের কাপড় পরে উমরার নিয়ত করার কাজটি মীকাত পার হওয়ার আগেই করা।
(২) ‘সাফা ও মারওয়া’ এ দু’টি পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে সাঈ করা। কিছু আলেম একে রুকন অর্থাৎ ফরয বলেছেন।
(৩) চুল কাটা (মাথার চুল মুণ্ডানো বা  ছোট করা)।

 

৪- উমরা করার হুকুম কি?


হানাফী ও মালেকী মাযহাবে উমরা করা সুন্নাত। আর শাফী ও হাম্বলী মাযহাবে উমরা করা ফরয। অর্থাৎ যার উপর হজ্জ ফরয তার উপর উমরাও ফরয।

৫- উমরার মৌসুম কখন?


উমরা বৎসরের যেকোন মাস, যে কোন দিন ও যে কোন রাতে করা যায়। তবে ইমাম আবু হানীফার মতে আরাফাতের দিন, কুরবানীর দিন এবং আইয়ামে তাশরীকের তিন দিন উমরা করা মাকরূহ।

 

৬- হজ্জের রুকন কয়টি ও কি কি?


৩টি, যথাঃ
(১) ইহরাম বাঁধা (অর্থাৎ ইহরামের কাপড় পরে হজ্জের নিয়ত করা।)
(২) ৯ই যিলহজ্জে আরাফাতে অবস্থান করা।
(৩) তাওয়াফ : তাওয়াফে ইফাদা অর্থাৎ তাওয়াফে যিয়ারাহ করা।
উল্লেখ্য যে, হজ্জের রুকনগুলোই মূলতঃ হজ্জের ফরয। এর কোন একটি রুকন ছুটে গেলে হজ্জ বাতিল হয়ে যাবে।

 

৭- হজ্জের ওয়াজিব কয়টি ও কি কি?


৯টি, সেগুলো হলঃ
(১) সাঈ করা। (অনেকের মতে এটা হজ্জের রুকন।)
(২) ইহরাম বাঁধার কাজটি মীকাত পার হওয়ার পূর্বেই সম্পন্ন করা।
(৩) আরাফাতে অবস্থান সূর্যাস্ত পর্যন্ত দীর্ঘায়িত করা।
(৪) মুযদালিফায় রাত্রি যাপন।
(৫) মুযদালিফার পর কমপক্ষে দুই রাত্রি মিনায় যাপন করা।
(৬) কঙ্কর নিক্ষেপ করা।
(৭) হাদী (পশু) জবাই করা (তামাত্তু ও কেরান হাজীদের জন্য।)
(৮) চুল কাটা।
(৯) বিদায়ী তাওয়াফ।

 

৮- দম কী কারণে দিতে হয়?


যে কোন কারণেই হোক উপরে বর্ণিত কোন একটি ওয়াজিব ছুটে গেলে দম (অর্থাৎ পশু জবাই) দেয়া ওয়াজিব হয়ে যায়।

৯- হজ্জের সুন্নত কয়টি ও কী কী?


হজ্জের সুন্নত অনেক। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:
(১) ইহরামের পূর্বে গোসল করা
(২) পুরুষদের সাদা রঙের ইহরামের কাপড় পরিধান করা।
(৩) তালবিয়াহ পাঠ করা
(৪) ৮ই যিলহজ্জ দিবাগত রাত মিনায় অবস্থান করা
(৫) ছোট ও মধ্যম জামারায় কংকর নিক্ষেপের পর দু‘আ করা
(৬) কেরান ও ইফরাদ হাজীদের তাওয়াফে কুদূম করা।
তবে কোন কারণে সুন্নত ছুটে গেলে দম দিতে হয় না।

 

১০- হজ্জ কত প্রকার ও কি কি?


৩ প্রকার, যথাঃ
(১) তামাত্তু,  (২) কেরান,  (৩) ইফরাদ।
প্রথমতঃ ‘তামাত্তু’ হল হজ্জের সময় প্রথমে উমরা করে হালাল হয়ে ইহরামের কাপড় বদলিয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা। এর কিছু দিন পর আবার মক্কা থেকেই ইহরাম বেধে হজ্জের আহকাম পালন করা।
দ্বিতীয়তঃ ‘কিরান’ হল উমরা ও হজ্জের মাঝখানে হালাল না হওয়া এবং ইহরামের কাপড় না খোলা। একই ইহরামে আবার হজ্জ সম্পাদন করা।
তৃতীয়তঃ ‘ইফরাদ’ হল উমরা করা ছাড়াই শুধুমাত্র হজ্জ করা।

 

১১- হজ্জ ফরয হওয়ার দলীল কি?


প্রথমতঃ আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশ। তিনি বলেনঃ وَلِلَّهِ على الناس حج البيت من استطاع إليه سبيلا
অর্থঃ মানুষের মধ্যে যার সামর্থ আছে আল্লাহর জন্য ঐ ঘরে হজ্জ করা তার উপর অবশ্য কর্তব্য।
দ্বিতীয়তঃ নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস। তিনি বলেনঃ
(ক) ইসলামের ভিত্তি হয়েছে ৫টি স্তম্ভের উপর :
(১) আল্লাহ ছাড়া কোন মা‘বুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর রাসূল এ সাক্ষ্য দেয়া,
(২) সালাত আদায় করা,
(৩) যাকাত দেয়া,
(৪) রমজান মাসে সিয়াম পালন করা এবং
(৫) বায়তুল্লাহ শরীফে হজ্জ পালন করা। (বুখারী)
(খ) হে মানুষেরা! আল্লাহ তোমাদের উপর হজ্জ ফরয করেছেন। কাজেই তোমরা হজ্জ পালন কর। (মুসলিম)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  13 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।
প্রথম পাতাআগের পাতা12