• ৫৬৫১৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [197] টি | অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
গ্রন্থঃ | দেখানো হচ্ছে   [81]  থেকে  [90]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৭ | 27 | ۲۷

২৭। আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমল কিসের ভিত্তিতে হবে যা বিগত হয়েছে অর্থাৎ তাকদীর অনুযায়ী, নাকি এখন (বর্তমান সময়ে) যা সৃষ্টি হচ্ছে (কার্যকরণ সম্পর্কের তার ভিত্তিতে?) তিনি বললেন, বরং যা সম্পন্ন হয়ে বিগত হয়েছে তার ভিত্তিতে, আমি বললাম, তাহলে আমল বা কর্মের তারপর্য কি, ইয়া রাসূলুল্লাহ? বললেন, যে কর্মের জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা তার জন্য সহজ। (এতটুকু উপলব্দি করেই কর্মে প্রবৃত্ত হতে হবে)। (তিবরানী ও বায্যার)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ২৮ | 28 | ۲۸

২৮। জাবির ইবনুু্ আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যাঁরা . মু’য়ায (রাঃ) -এর মৃত্যুকালীন সময়ে উপস্থিত ছিলেন, আমি ছিলাম তাঁদের অন্যতম। . মুয়ায (রাঃ) বলছিলেন আমার সম্মুখ থেকে জুব্বার পর্দাটি সরিয়ে দাও।আমি তোমাদেরকে এমন একটি হাদীস শোনাব যা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শ্রবণ করেছিলাম, যা শোনার পর তোমরা এর উপর ভরসা করবে (অন্য কোন আমল করবে না) - এই ভয়ে এতদিন বলিনি। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - কে বলতে শুনেছি - যে ব্যক্তি অন্তরের একাগ্রতা সহকারে অথবা তার আন্তরিক বিশ্বাস সহকারে এই সাক্ষ্য প্রদান করবে যে, আল্লাহ ভিন্ন কোন ইলাহ্ বা উপাস্য নেই, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। আর একবার বলেন, সে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং অগ্নি তাকে স্পর্শ করবে না। (বুখারী ও মুসলিম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ২৮ | 28 | ۲۸

২৮। নাওয়াস বিন সাম‘আন আল আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ‘সিরাত-ই-মুস্তাকীম’ এর একটি উপমা বা উদাহরণ দাঁড় করিয়েছেন (এভাবে), সিরাত এরকম যে, এর দু’পাশে রয়েছে দু’টি গুহা। গুহা দুটির রয়েছে অনেক উন্মুক্ত দরজা। দরজাসমূহে রয়েছে ঝুলন্ত পর্দা, সিরাতের (প্রধান) ফটকে আছেন একজন আহ্বানকারী, যিনি (সর্বদা) আহ্বান করে যাচ্ছেন হে মানবকুল! তোমরা সবাই সিরাতে প্রবেশ কর আর মুখ ফিরিয়ে নিও না। অন্য একজন আহ্বানকারী আছে সিরাতের অভ্যন্তরে, সেও আহ্বান করে যাচ্ছে। যখন কোন লোক ঐসব দরজা খোলার ইচ্ছা করে তখন (আহ্বানকারী) বলেঃ ধ্বংস হও, দরজা খোলো না, খুললে তাতে তুমি ঢুকে যাবে। (উপমাতে ব্যবহৃত) ‘সিরাত’ হচ্ছে ‘আল-ইসলাম’। গুহা দু’টি হচ্ছে আল্লাহর হুদূদ বা সীমারেখা। উন্মুক্ত দরজাসমূহ হচ্ছে মাহারিমুল্লাহ বা আল্লাহর হারামকৃত বিষয়সমূহ। সিরাতের শীর্ষে অবস্থানরত দা’য়ী হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত ওয়ায়িজ বা নসীহতকারী, যা প্রত্যেক মুসলিমের অন্তরে বিদ্যমান। [তাঁর (নাওয়াস) থেকেই অন্য বর্ণনায় আছে] তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সিরাত-ই-মুস্তাকীম এর একটি উপমা দাঁড় করিয়েছেন, সিরাতের দু‘ই কিনারে রয়েছে দু‘টি গুহা। গুহা দ‘টিতে রয়েছে অনেক মুক্ত দরজা। আর দরজার উপর রয়েছে পর্দা এবং একজন দা‘য়ী সিরাতের শীর্ষ থেকে আহ্বান করছেন আর একজন দা‘য়ী এর উপর থেকে আহ্বান করছেন এবং আল্লাহ শান্তির আলয়ের দিকে আহ্বান করেন এবং যাকে চান সিরাত-ই-মুস্তাকীমের দিকে পথ নির্দেশ করেন। অতএব, সিরাতের দুই কিনারে অবস্থিত দরজাসমূহ হচ্ছে আল্লাহর হুদূদ বা সীমারেখা। এই সীমারেখায় কেউ ততক্ষন পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারে না, যতক্ষন না আল্লাহর পর্দা খুলে যাবে। আর যে দা‘য়ী উপর থেকে আহ্বান করছে, সেটি হচ্ছে আল্লাহর (পক্ষ থেকে) ওয়ায়িজ বা নসীহতকারী। (আহমদ আবদুর রহমান আল-বান্না বলেন, এ হাদীসের সনদ উত্তম, এতদুভয় হাদীস থেকে তিরমিযী দ্বিতীয় হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৮ | 28 | ۲۸

২৮। উমর ইবনুল খাত্তার (রাঃ) থেকে বর্ণিত, জুহাইনা অথবা মুযাইনা গোত্রের জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমরা কিসের ভিত্তিতে (বা বিশ্বাসে) আমল বা কর্ম করবো যা অতীত বিগত হয়ে গিয়েছে (তাকদীর), অথবা (নাকি) বর্তমান সময়ে শুরু হবে (কার্যকারণ) এর ভিত্তিতে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কর্ম করবে যা অতীত বা বিগত হয়েছে (তাকদীর) তার ভিত্তিতে। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি অথবা কয়েকজন প্রশ্ন করল, তাহলে আমাদের আমলের তারপর্য বা উদ্দেশ্য কী, ইয়া রাসূলুল্লাহ? বললেন, জান্নাতবাসীগণের জন্য জান্নাতবাসীর (উপযুক্ত) কাজ সহজ করা হবে এবং দোযখবাসীদের জন্য দোযখবাসীর (উপযোগী) কাজ সহজ করা হবে। (এটি পূর্বের পরিচ্ছেদ বর্ণিত আবদুল্লাহ ইবনুু্ উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত সুদীর্ঘ হাদীসের একটি অংশ বিশেষ।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ২৯ | 29 | ۲۹

২৯। মু’আয বিন জাবাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন; আমাকে আল্লাহর রাসূল বলেছেনঃ জান্নাতের চাবি হচ্ছে এ সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ভিন্ন কোন ইলাহ বা উপাস্য নেই। [আহমদ ও আল-বায্যার]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ২৯ | 29 | ۲۹

২৯। সুফ্ইয়ান ইবনু আবদিল্লাহ আল-সাকাফী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (একদা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলি, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনি আমাকে ইসলাম সম্পর্কে এমন (কিছু) কথা বলুন যা আমি আপনি ভিন্ন আবূ মু‘আবিয়া বলেন, (এক রাবী) এরপরে কাউকে জিজ্ঞেস করবো না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি বল, “আমানতু বিল্লাহি” (আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান এনেছি) এবং তাতে মজবুত থাক। (দ্বিতীয় আরেকটি বর্ণনা ধারায় এসেছে) আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এমন একটি বিষয় বলে দিন যদ্বারা আমি আতœরক্ষা করতে পারবো (অর্থাৎ জাহান্নাম থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবো)। তিনি বললেন, তুমি বল, “রাব্বী আল্লাহ ” (আমার রব আল্লাহ) এবং এর উপর দৃঢ় থাক। বর্ণনাকারী বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! এরপরও কি কোন ভয়ের কারণ আছে যা আপনি আমার ব্যাপারে আশঙ্কা করেন? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জিহ্বা দেখিয়ে বলেন, “এটি” (অর্থাৎ ঈমানের দৃঢ়তা এবং মুক্তির জন্য জিহ্বার হিফাজত করা একান্ত জরুরী)। (মুসলিম, নাসাঈ ও ইবনুু্ মাজাহ্)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ২৯ | 29 | ۲۹

২৯। জাবির ইবনুু্ আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, সুরাকা ইবনুু্ মালিক বিন জু‘শুম (রাঃ) একদা জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! কর্ম বা আমল কিসের ভিত্তিতে? যা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে না কি যা আমরা এখন শুরু করবো তার ভিত্তিতে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! বললেন, বরং যা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে (তাকদীর), সেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে। সুরাকা আবার প্রশ্ন করলেন, তাহলে আমলের (কর্মের) তারপর্য কী? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমল করে যাও, যে কর্মের জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তা তার জন্য সহজ হবে। (মুসলিম ও তাবারানী আউসাত গ্রন্থে।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ১/ একত্ববাদ প্রসঙ্গে
হাদিস নম্বরঃ ৩০ | 30 | ۳۰

৩০। রিফা’আহ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সাথে (কোন সফরের উদ্দেশ্যে) অগ্রসর হচ্ছিলাম। যখন আমরা ’আল-কাদীদ’ (অথবা বলেন - কুদাইদ) নামক সারোবরে উপস্থিত হলাম, তখন লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর কাছে তাদের পরিবার পরিজনের কাছে যাওয়ার অনুমতি চাইতে শুরু করলো; আর তিনি অনুমতি প্রদান করতে থাকেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দন্ডায়মান হয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি বাক্য পাঠ করার পর বলেন, ঐ সব লোকের অবস্থা কী যাদের কাছে বৃক্ষের দুইটি অংশের মধ্যে সেই অংশটি বেশী অপছন্দনীয় যে অংশটির নীচে আল্লাহর রাসূল অবস্থান করছেন। (বর্ণনাকারী বলেন) অতঃপর আমরা দলের সবাইকে ক্রন্দনরত অবস্থায় দেখতে পেলাম। এমন সময় একজন (ইনি . আবূ বকর সিদ্দীক (রাঃ) বলে উঠেন ঃ এরপর যে ব্যক্তি আপনার কাছে অনুমতি প্রার্থনা করবে, সে নিঃসন্দেহে নির্বোধ। তারপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা করেন এবং বলেন, এবার আমি আল্লাহর নিকটে সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, কোন বান্দাযদি তার অন্তরে সত্য জ্ঞান করে এই মর্মে সাক্ষ্য প্রদান করে মৃত্যুবরণ করে যে, আল্লাহ ভিন্ন কোন উপাস্য বা ইলাহ নেই এবং আমি (মুহাম্মদ) আল্লাহর রাসূল, অতঃপর জীবনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে, তবে সেই বান্দা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং আমার প্রভু আমাকে এই মর্মে প্রতিশ্র“তি প্রদান করেছেন যে, তিনি আমার উম্মতের মধ্য থেকে সত্তর হাজারকে বিনা হিসেবে ও বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর আমি আশা করি সেই সব (সৌভাগ্যশালী) জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবেন না যতক্ষণ পর্যন্ত না তোমরা এবং তোমাদের মাতা -পিতা স্বামী - স্ত্রী ও সন্তান - সন্ততিগণের মধ্য থেকে সৎ লোকেরা জান্নাতে আবাস লাভ করবে। (একই বর্ণনাকারী থেকে দ্বিতীয় সূত্রে বর্ণিত), তিনি বলেন, আমরা মক্কা থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে বের হলাম। তখন লোকজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করতে লাগল, অতঃপর তিনি হাদীসখানি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এমতাবস্থায় . আবূ বকর (রাঃ) বলে উঠেন, এরপর যে ব্যক্তি অনুমতি চাইবে, সে আমার মতে নিরেট বোকা। অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি পাঠ করার পর বললেনঃ আমি আল্লাহর সম্মুখে সাক্ষ্য দিচ্ছি, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শপথ করতেন, তখন বলতেন যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ যে কোন বান্দা যদি আল্লাহ ও শেষ দিবসে বিশ্বাস রাখে এবং জীবনে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর পূর্বোক্ত হাদীস উল্লেখ করেন। একই বর্ণনাকারী থেকে তৃতীয় আরেক সূত্রে বর্ণিত) তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম - এর সমভিব্যহারে অগ্রসর হলাম এবং যখন আল-কাদীদে ’ পৌঁছলাম, অথবা বললেন, আরাফাতে পৌছলাম, অতঃপর হাদীসের অংশ উল্লেখ করেন। (তাবারানী ও ইবনুু্ হাব্বান। এছাড়া বগভী, আল বারূদী ও ইবনুু্ কানে উল্লেখ করেছেন। আহমদ ও ইবনুু্ মাজাহ্ হাদীসটির অংশবিশেষ সংকলন করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য হিসেবে স্বীকৃত।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৩০ | 30 | ۳۰

৩০। ইবনুু্ মাস‘উদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের রিযিক যেমন তোমাদের মাঝে বন্টন করেছেন, তেমনি তোমাদের মধ্যে তোমাদের আখলাক (স্বভাব ও চারিত্রিক বৈশিষ্ট)-ও বন্টন করে দিয়েছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা দুনিয়া দান করেন যাকে তিনি পছন্দ করেন এবং যাকে পছন্দ করেন না (উভয়কে)। কিন্তু দ্বীন দান করেন কেবল যাকে ভালবাসেন তাকে। সুতরাং যাকে আল্লাহ্ তা‘আলা দ্বীন দান করেছেন, তাকে তিনি অবশ্যই ভালবাসেন। আমার জীবনের মালিকের শপথ, কোন বান্দা ততক্ষন পর্যন্ত মুসলিম হয় না, যতক্ষন না তার অন্তর ও জিহ্বা মুসলিম (অনুগত) হয় এবং কেউ মু‘মিন হয় না যতক্ষন না তার প্রতিবেশী তার কষ্ট দেওয়া থেকে নিরাপদে থাকে। সাহাবীগণ আরয করলেন, ‘কষ্ট দেওয়া’ কিভাবে হয় ইয়া রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম? তিনি বললেন, তার জুলুম ও অত্যাচার দ্বারা। কোন বান্দা যদি হারাম উপায়ে সম্পদ উপার্যন করে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে তবে তাতে বরকত দেয়া হয় না, সে তা যদি ‘সা’দ্কা’ করে তার সে সা’দ্কা কবূল করা হয় না। আর সে যদি তা রেখে যায় তবে তা তার জন্য জাহান্নামের পাথেয় হয়। (মনে রাখবে) খারাপ বা মন্দকে মন্দ দিয়ে দূর করা যায় না বরং মন্দকে দূর করা যায় ভাল দ্বারা। নিশ্চয়ই নিকৃষ্টতাকে নিকৃষ্টতা দিয়ে বিলীন করা যায় না। (হাকিম সংক্ষিপ্তাকারে তিনি বলেন, এ হাদীসটির সনদ সহীহ্। আর যাহবী তাঁর বক্তব্য সমর্থন করেন।)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ৩/ তাকদীর
হাদিস নম্বরঃ ৩০ | 30 | ۳۰

৩০। জাবির ইবনুু্ আবদিল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (একদা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা কর্ম বা আমল করবো সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে এমন বিষয়ের ভিত্তিতে, নাকি যা আমরা নতুন করে শুরু করছি এমন বিশ্বাসের? তিনি উত্তরে বললেন-যা সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে (অর্থাৎ তাকদীরের বিশ্বাসের ভিত্তিতে)। সুরাকা বললেন, তাহলে আমলের তারপর্য কোথায়? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, প্রত্যেক আমলকারীর জন্য তার আমল (কর্ম) সহজ হয়েছে। (অর্থাৎ যে কর্ম যার কাছে সহজ মনে হবে, ভাল হউক কিংবা মন্দ, তাকে সেই কর্মের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে।) (মুসলিম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [81]  থেকে  [90]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [197]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।