• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [194] টি | অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [81]  থেকে  [90]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৮১ | 81 | ۸۱

পরিচ্ছদঃ উটের গোশত আহারে উযু।

৮১. হান্নাদ (রহঃ) ....... বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ননা করেন যে, উটের গোশত আহরের কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা সম্পর্কে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেনঃ এই কারণে তোমরা উযূ (ওজু/অজু/অযু) করে নিও। মেষের গোশত আহরের ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে হলে তিনি বললেনঃ এতে তোমাদের উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে না। - ইবনু মাজাহ ৪৯৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে জাবির ইবনু সামুরা, উসায়দ ইবনু হুযায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত রয়েছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ হাজ্জাজ ইবনু আরতাত (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ---আবদুর রাহমান ইবনু আবী লায়লা এর সূত্রে উসায়দ ইবনু হুযায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। সহীহ হল আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা-বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি। ইমাম আহমদ ও ইসহাকও এই কথা বলেছেন। উবায়দা আয্যাববী আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ্ আর-রাযী- আদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা যুল গুররা সনদে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। হাম্মাদ ইবনু সালামা (রহঃ) হাজ্জাজ ইবনু আরতাত এর সনদে হাদিসটি বর্ণনা করতে দিয়ে এর সনদে ভুল করেছেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনু আবদির রাহমান স্বীয় পিতা আবদুর রাহমান ইবনু আবী লায়লা উসায়দ ইবনু হাযায়র রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে হাদিসটি উল্লেখ করেছেন; অথচ সহীহ হল, আবদুল্লাহ ইবনু আবদিল্লাহ আর-রাযী আবদুর রহমান ইবনু আবী লায়লা --  বারা ইবনু আযিব রাদিয়াল্লাহু আনহু।

ইসহাক (রহঃ) বলেন এই বিষয়ে দুইটি রিওয়ায়াত অধিকতর সহীহ; একটি হল বারা এর এবং অপরটি হল জাবির ইবনু সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু’র রিওয়ায়াত। এ হল ইমাম আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। তাবিঈ ও অপরাপর কতক আলিম থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁর উটের গোশত আহারের কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করতে হবে বলে মনে করেন না। এ হলো সুফইায়ান ছাওরী ও কূফাবাসী আলিমগণের অভিমত।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Al-Bara bin Azib narrated:
Allah's Messenger was asked about performing Wudu for camel meat. He said: "Perform Wudu for it." He Was asked about Wudu after eating goat meat. So he said: "Do not perform Wudu for it."

باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الرَّازِيِّ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ فَقَالَ ‏"‏ تَوَضَّئُوا مِنْهَا ‏"‏ ‏.‏ وَسُئِلَ عَنِ الْوُضُوءِ مِنْ لُحُومِ الْغَنَمِ فَقَالَ ‏"‏ لاَ تَتَوَضَّئُوا مِنْهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَأُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى الْحَجَّاجُ بْنُ أَرْطَاةَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ أُسَيْدِ بْنِ حُضَيْرٍ ‏.‏ وَالصَّحِيحُ حَدِيثُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنَ التَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ أَنَّهُمْ لَمْ يَرَوُا الْوُضُوءَ مِنْ لُحُومِ الإِبِلِ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৮২ | 82 | ۸۲

পরিচ্ছদঃ লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু।

৮২. ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) ........ বুসরা বিনত সাফওয়ান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ কেউ লজ্জাস্থান স্পর্শ করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) না করে সালাত পড়বে না। - ইবনু মাজাহ ৪৭৯, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে উম্মু হাবীবা, আবূ আয়্যূব, আবূ হুরায়রা, আরওয়া বিনত উনায়স, আয়িশা, জাবির, যায়দ ইবনু খালিদ ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। হিশাম ইবনু উরওয়া-পিতা উরওয়া-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে একধিক রাবী এই হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Busrah bint Safwan narrated that :
the Prophet said: "Whoever touches his penis, then he is not to pray until he performs Wudu"

باب الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ بُسْرَةَ بِنْتِ صَفْوَانَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ مَسَّ ذَكَرَهُ فَلاَ يُصَلِّ حَتَّى يَتَوَضَّأَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ وَأَبِي أَيُّوبَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَأَرْوَى ابْنَةِ أُنَيْسٍ وَعَائِشَةَ وَجَابِرٍ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ قَالَ هَكَذَا رَوَاهُ غَيْرُ وَاحِدٍ مِثْلَ هَذَا عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ بُسْرَةَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৮৩ | 83 | ۸۳

পরিচ্ছদঃ লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু।

৮৩. আবূ উসামা এবং আরো অনেকে হিশাম ইাবন উরওয়া পিতা উরওয়া-মারওয়ান-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে হাদিসটি রিওয়ায়াত করেছেন। আর আবূ উসামার সূত্রে ইসহাক ইবনু মানসূর আমাকে এই সনদটি বর্ণনা করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Busrah narrated :
a similar report from the Prophet.

باب الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ

وَرَوَى أَبُو أُسَامَةَ، وَغَيْرُ، وَاحِدٍ، هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَرْوَانَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، بِهَذَا ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৮৪ | 84 | ۸٤

পরিচ্ছদঃ লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু।

৮৪. আবূয যিনাদ (রহঃ) উরওয়া-বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদে এটির বর্ণনা করেছেন। এই সনদে আলী ইবনু হুজরও আমাকে হাদিসটির রিওয়ায়ত করেছেন। - তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]

একধিক সাহাবী ও তাবিঈ এই ধরনের বিধান দিয়েছেন। ইমাম আওযাঈ, শাফিঈ, আহমদ এবং ইসহাকও এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। মুহাম্মাদ আল বুখারী (রহঃ) বলেনঃ এই বিষয়ে বুসরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসটই অধিকতর সহীহ। আবূ যুর‘আ বলেনঃ উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত হাদিসটি হল এই বিষয়ে বর্ণিত সর্বাধিক সহীহ। এটি হল আল-আলা ইবনু হারিছ---মাকহুল আম্বাসা ইবনু আবী সুফইয়ান---- উম্মু হাবীবা রাদিয়াল্লাহু আনহা সনদে বর্ণিত হাদিস। মুহাম্মাদ আল-বুখারী বলেন মাকুল আম্বাসা ইবনু আবী সুফইয়ান থেকে কোন রিওয়ায়াত শুনেন নাই। ইনি মূলত এ হাদিস ছাড়া অন্যান্য হাদিস জনৈক ব্যক্তির সূত্রে আম্বাসা থেকে বর্ণনা করেছেন। সরাসারি আম্বাসা থেকে বর্ণনা করেন নাই। সুতরাং ইমাম মুহাম্মাদ আল-বুখারী (রহঃ) মাকহুল-----আম্বাসা সূত্রে বর্ণিত রিওয়ায়াতটি সহীহ বলে মনে করেন না।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Busrah narrated that :
the Prophet said a similar Hadith

باب الْوُضُوءِ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ

وَرَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَبُو الزِّنَادِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ، عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي الزِّنَادِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ بُسْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ الأَوْزَاعِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏ قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ حَدِيثُ بُسْرَةَ ‏.‏ وَقَالَ أَبُو زُرْعَةَ حَدِيثُ أُمِّ حَبِيبَةَ فِي هَذَا الْبَابِ صَحِيحٌ وَهُوَ حَدِيثُ الْعَلاَءِ بْنِ الْحَارِثِ عَنْ مَكْحُولٍ عَنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ عَنْ أُمِّ حَبِيبَةَ ‏.‏ وَقَالَ مُحَمَّدٌ لَمْ يَسْمَعْ مَكْحُولٌ مِنْ عَنْبَسَةَ بْنِ أَبِي سُفْيَانَ وَرَوَى مَكْحُولٌ عَنْ رَجُلٍ عَنْ عَنْبَسَةَ غَيْرَ هَذَا الْحَدِيثِ ‏.‏ وَكَأَنَّهُ لَمْ يَرَ هَذَا الْحَدِيثَ صَحِيحًا ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৮৫ | 85 | ۸۵

পরিচ্ছদঃ লজ্জাস্থান স্পর্শের কারণে উযু না করা।

৮৫. হান্নাদ (রহঃ) .......... তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনঃ এরো (লজ্জাস্থান) তার শরীরের একটি অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়। - ইবনু মাজাহ ৪৮৩, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে উবূ উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ একধিক সাহাবী ও কতক তাবিঈ থেকে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা লজ্জাস্থান স্পর্শের ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা জরুরী বলে মনে করেন না। ইবনু মুবারক এবং কূফাবাসী ফকীহগণের অভিমতও এই। এই বিষয়ে বর্ণিত হাদিসসমূহের মধ্যে এই হাদিসটই সর্বাধিক উত্তম। আয়্যূব ইবনু উতবা ও মুহাম্মাদ ইবনু জাবির (রহঃ) ...... তালক ইবনু আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে হাদিসটির রিওয়ায়াত করেছেন। হাদিস বিশারদগণের কেউ কেউ মুহাম্মাদ ইবনু জাবির ও আয়্যূব ইবান উতবা সম্পর্কে সমালোচনা করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু বাদর (রহঃ) এর সূত্রে মুলাযিম ইবনু আমরের বর্ণিত রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ এবং হাসান।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Qais bin Talq bin Ali - [and he is] Al-Hanafi narrated from his father, that:
the Prophet said: 'Is it other than a piece of his flesh?" Or: "part of him?"

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا مُلاَزِمُ بْنُ عَمْرٍو، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقِ بْنِ عَلِيٍّ، هُوَ الْحَنَفِيُّ عَنْ أَبِيهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ وَهَلْ هُوَ إِلاَّ مُضْغَةٌ مِنْهُ أَوْ بَضْعَةٌ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَبَعْضِ التَّابِعِينَ أَنَّهُمْ لَمْ يَرَوُا الْوُضُوءَ مِنْ مَسِّ الذَّكَرِ وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْكُوفَةِ وَابْنِ الْمُبَارَكِ ‏.‏ وَهَذَا الْحَدِيثُ أَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى هَذَا الْحَدِيثَ أَيُّوبُ بْنُ عُتْبَةَ وَمُحَمَّدُ بْنُ جَابِرٍ عَنْ قَيْسِ بْنِ طَلْقٍ عَنْ أَبِيهِ ‏.‏ وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي مُحَمَّدِ بْنِ جَابِرٍ وَأَيُّوبَ بْنِ عُتْبَةَ ‏.‏ وَحَدِيثُ مُلاَزِمِ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بَدْرٍ أَصَحُّ وَأَحْسَنُ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৮৬ | 86 | ۸٦

পরিচ্ছদঃ চুম্বনের কারণে উযু না করা।

৮৬. কুতায়বা, হান্নাদ আবূ কুরায়ব, আহমদ ইবনু মানী, মাহমূদ ইবনু গায়লান, আবূ আম্মার (রহঃ) ...... আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ননা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জনৈক স্ত্রীকে চুম্বন করলেন এবং সালাতের জন্য বের হয়ে গেলেন; কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন না। রাবী উরওয়া বললেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ঐ স্ত্রী আপনি ছাড়া আর কেউ হবেন না। এই কথা শুনে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হাসলেন। - ইবনু মাজাহ ৫০২, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈ, আলিম ও ফকীহদের থেকেও অনুরূপ মতামত রয়েছে। সুফইয়ান ছাওরী ও কূফাবাসী ফকীহদের অভিমতও তা-ই। তাঁরা বলেনঃ চুম্বনের কারণে উযূ (ওজু/অজু/অযু) জরূরী নয়। পক্ষান্তরে ইমাম মালিক ইবনু আনাস, আওযাঈ, শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) বলেন চুম্বনের ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) জরূরী। সাহাবী ও তাবিঈদের একধিক আলিম ও ফকীহও এই মত ব্যক্ত করেছেন। এই বিষয়ে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বর্ণিত উপরের হাদিসটি গ্রহণ না করার কারণ হল, এটি সনদের দিক থেকে সহীহ নয়। আবূ বকার আল-আত্তার আল-বাসরীকে আলী ইবনুল মাদীনীর সূত্রে বলতে শুনেছি যে, ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ আল- কাত্তান এই হাদিসটিকে যঈফ হিসাবে চিহ্নিত করেছেন এবং বলেছেন এটি সন্দেহ পূর্ণ, আর এটি কিছুই নয়। মুহাম্মাদ আল বুখারীকেও এই হাদিসটি যঈফ বলে সিদ্ধান্ত দিতে শুনেছি। তিনি বলেন বর্ণনাকারী হাবীব ইবনু আবী ছাবিত (রহঃ) উরওয়ার নিকট থেকে হাদিস শুনেননি। ইবরাহীম আত-তায়মী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা সূত্রেও নাবী থেকে বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে চুম্বন করেছেন; কিন্তু উযূ (ওজু/অজু/অযু) করেননি। এই হাদিসটিও সহীহ নয়। কারণ, ইবরাহীম আত-তায়মী (রহঃ) আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে কোন হাদিস শুনেছেন বলে আমরা জানি না। মোট কথা, এই বিষয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে কোন সহীহ হাদিস নেই।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Urwah narrated from Aishah that:
"The Prophet kissed one of his wives, then he went to the prayer and did not perform Wudu." He (Urwah) said: "I said 'Who was it except you?'" [He said:] "So she laughed."

باب مَا جَاءَ فِي تَرْكِ الْوُضُوءِ مِنَ الْقُبْلَةِ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَهَنَّادٌ، وَأَبُو كُرَيْبٍ وَأَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ وَمَحْمُودُ بْنُ غَيْلاَنَ وَأَبُو عَمَّارٍ الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ قَالُوا حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَ بَعْضَ نِسَائِهِ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.‏ قَالَ قُلْتُ مَنْ هِيَ إِلاَّ أَنْتِ قَالَ فَضَحِكَتْ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رُوِيَ نَحْوُ هَذَا عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَأَهْلِ الْكُوفَةِ قَالُوا لَيْسَ فِي الْقُبْلَةِ وُضُوءٌ ‏.‏ وَقَالَ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالأَوْزَاعِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ فِي الْقُبْلَةِ وُضُوءٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ غَيْرِ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ ‏.‏ وَإِنَّمَا تَرَكَ أَصْحَابُنَا حَدِيثَ عَائِشَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا لأَنَّهُ لاَ يَصِحُّ عِنْدَهُمْ لِحَالِ الإِسْنَادِ ‏.‏ قَالَ وَسَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ الْعَطَّارَ الْبَصْرِيَّ يَذْكُرُ عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ قَالَ ضَعَّفَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ الْقَطَّانُ هَذَا الْحَدِيثَ جِدًّا ‏.‏ وَقَالَ هُوَ شِبْهُ لاَ شَىْءَ ‏.‏ قَالَ وَسَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ إِسْمَاعِيلَ يُضَعِّفُ هَذَا الْحَدِيثَ وَقَالَ حَبِيبُ بْنُ أَبِي ثَابِتٍ لَمْ يَسْمَعْ مِنْ عُرْوَةَ ‏.‏ وَقَدْ رُوِيَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَبَّلَهَا وَلَمْ يَتَوَضَّأْ ‏.‏ وَهَذَا لاَ يَصِحُّ أَيْضًا ‏.‏ وَلاَ نَعْرِفُ لإِبْرَاهِيمَ التَّيْمِيِّ سَمَاعًا مِنْ عَائِشَةَ ‏.‏ وَلَيْسَ يَصِحُّ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي هَذَا الْبَابِ شَيْءٌ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৮৭ | 87 | ۸۷

পরিচ্ছদঃ বমি ও নাকসিরের কারণে উযু।

৮৭. আবূ উবায়দা ইবনু আবিস সাফার ও ইসহাক ইবনু মানসূর (রহঃ) ......... মা‘দান ইবনু আবী তালহার সনদে আবূদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বমি হল। পরে তিনি উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। মা‘দান ইবনু আবী তালহা বরেন, দামিশক মসজিদে ছাওবান রাদিয়াল্লাহু আনহু এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলে তাঁর কাছে আবূদ -দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এই রিওয়ায়াতটির উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন আবূদ-দারদা সত্য বলোছেন। তখন আমিই নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র পানি ঢেলে দিয়েছিলাম। - ইরওয়া ১১১, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ ইসহাক বলেনঃ ইসহাক ইবনু মানসূল (রহঃ) ও (রাবীর নাম) মা‘দান ইবনু তালহা বলে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ইবনু আবী তালহা অধিকতর সহীহ। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ সাহাবী ও তাবিঈগণের একধিক আলিম ও ফকীহ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার বিধান দিয়েছেন। সুফইযান ছাওরী, ইবনু মুবারক, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ)-এরও এই অভিমত। আলিমগণের কেউ কেউ বলেছেনঃ বমি ও নাকসিরের ক্ষেত্রে উযূ (ওজু/অজু/অযু)র দরকার নেই। ইমাম মালিক ও শাফিঈও এই মত পোষণ করেন হুসায়ন আল-মুআল্লিম এই হাদিসটি উত্তম বলে মত প্রকাশ করেছেন। এই বিষয়ে হুসায়ন বর্ণিত হাদিসটই সর্বাধিক সহীহ। ইয়হইয়া ইবনু আবী কাছীরের সূত্রে মা‘মারও এই হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি এতে ভুল করে ফেলেছেন এবং ইয়াঈশ ইবনুল ওয়ালিদ-খালিদ ইবনু মা‘দান-আবূদ-দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু সনদের উল্লেখ করেছেন। এতে আল-আওযাই (রহঃ)-র উল্লেখ করেননি। তিনি খালিদ ইবনু মা‘দান বলেছেন, অথচ ইনি হলেন মা‘দান ইবনু আবী তালহা।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Madan bin Abi Talhah narrated from Abu Ad-Darda that :
"Allah's Messenger vomited [so he broke fast] so he performed Wudu." So I met Thawban in a Masjid in Damascus, and I mentioned that to him. He said: 'He told the truth, I poured the water for his Wudu."

باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ مِنَ الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ

حَدَّثَنَا أَبُو عُبَيْدَةَ بْنُ أَبِي السَّفَرِ، - وَهُوَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْهَمْدَانِيُّ الْكُوفِيُّ وَإِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قَالَ أَبُو عُبَيْدَةَ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ حُسَيْنٍ الْمُعَلِّمِ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ الْمَخْزُومِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَعْدَانَ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَاءَ فَأَفْطَرَ فَتَوَضَّأَ ‏.‏ فَلَقِيتُ ثَوْبَانَ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ صَدَقَ أَنَا صَبَبْتُ لَهُ وَضُوءَهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ مَعْدَانُ بْنُ طَلْحَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَابْنُ أَبِي طَلْحَةَ أَصَحُّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَأَى غَيْرُ وَاحِدٍ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ مِنَ التَّابِعِينَ الْوُضُوءَ مِنَ الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَابْنِ الْمُبَارَكِ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لَيْسَ فِي الْقَىْءِ وَالرُّعَافِ وُضُوءٌ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ ‏.‏ وَقَدْ جَوَّدَ حُسَيْنٌ الْمُعَلِّمُ هَذَا الْحَدِيثَ ‏.‏ وَحَدِيثُ حُسَيْنٍ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ ‏.‏ وَرَوَى مَعْمَرٌ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ فَأَخْطَأَ فِيهِ فَقَالَ عَنْ يَعِيشَ بْنِ الْوَلِيدِ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ وَلَمْ يَذْكُرْ فِيهِ الأَوْزَاعِيَّ وَقَالَ عَنْ خَالِدِ بْنِ مَعْدَانَ وَإِنَّمَا هُوَ مَعْدَانُ بْنُ أَبِي طَلْحَةَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৮৮ | 88 | ۸۸

পরিচ্ছদঃ নবীয (ফল ভিজানো পানি) দ্বারা উযু করা।

৮৮. হান্নাদ (রহঃ) ....... আবূল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেনঃ তোমার পাত্রে কি আছে? আমি বললামঃ নাবীয। তিনি বললেনঃ খেজুর পবিত্র আর পানিও পাক। তারপর তিনি তা দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করলেন। - ইবনু মাজাহ ৩৮৪, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ আবূ যায়দ-আবদুল্লাহ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে। এই আবূ যায়দ হাদিসবেত্তাদের নিকট মাজহুল বা অজ্ঞাত। এই হাদিসটি ছাড়া আর কোন রিওয়ায়াত তার আছে বলে আমরা জানি না। আলিমদের কেউ কেউ নাবীয দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার অনুমতি আছে বলে মনে করেন। সুফইয়ান প্রমুখের মতও তা-ই। আলিমদের অপর একদল বলেন নাবীয দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা যাবে না। ইমাম শাফিঈ, আহমদ ও ইসহাক (রহঃ) ও এই মত ব্যক্ত করেছেন। ইসহাক (রহঃ) বলেনঃ আমার নিকট অধিক পছন্দের হল, কোন ব্যক্তি যদি এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় যে, নাবীয ছাড়া তার নিকট অন্য কোন পনি নাই তাহলে সে নাবীয দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু)ও করবে এবং তায়াম্মুমও করবে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ যারা বলেন নাবীয দিয়ে উযূ (ওজু/অজু/অযু) হবে না তাদের কথা কুরআনের অধিকতর নিকটবর্তী ও সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা আল্লাহ্ তা‘আলা ইরশাদ করেছেনঃ فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا  ‘‘পানি না পেলে পবিত্র মাটির তায়াম্মুম করবে।’’



হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Abdullah bin Mas'ud narrated:
"The Prophet asked me: "What is in your Idawah (water skin)?" I said: "Nabidh." He said: "Dates are wholesome and water is pure." He said: "So he performed Wudu with it."

باب مَا جَاءَ فِي الْوُضُوءِ بِالنَّبِيذِ

حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ أَبِي فَزَارَةَ، عَنْ أَبِي زَيْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ سَأَلَنِي النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ مَا فِي إِدَاوَتِكَ ‏"‏ ‏.‏ فَقُلْتُ نَبِيذٌ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ تَمْرَةٌ طَيِّبَةٌ وَمَاءٌ طَهُورٌ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ فَتَوَضَّأَ مِنْهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَإِنَّمَا رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ أَبِي زَيْدٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَأَبُو زَيْدٍ رَجُلٌ مَجْهُولٌ عِنْدَ أَهْلِ الْحَدِيثِ لاَ يُعْرَفُ لَهُ رِوَايَةٌ غَيْرُ هَذَا الْحَدِيثِ ‏.‏ وَقَدْ رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْوُضُوءَ بِالنَّبِيذِ مِنْهُمْ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَغَيْرُهُ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ لاَ يُتَوَضَّأُ بِالنَّبِيذِ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَقَالَ إِسْحَاقُ إِنِ ابْتُلِيَ رَجُلٌ بِهَذَا فَتَوَضَّأَ بِالنَّبِيذِ وَتَيَمَّمَ أَحَبُّ إِلَىَّ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَوْلُ مَنْ يَقُولُ لاَ يُتَوَضَّأُ بِالنَّبِيذِ أَقْرَبُ إِلَى الْكِتَابِ وَأَشْبَهُ لأَنَّ اللَّهَ تَعَالَى قَالَ‏:‏ ‏"‏فإِن لَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا ‏"‏‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৮৯ | 89 | ۸۹

পরিচ্ছদঃ দুধ পান করে কুলি করা।

৮৯. কুতায়বা (রহঃ) ....... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার দুধ পান করলেন। পরে পানি আনতে বললেন এবং তা দিয়ে কুলি করলেন। বললেনঃ এতে তৈলাক্ততা রয়েছে। - ইবনু মাজাহ ৪৯৮, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৮৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে সাহল ইবনু সা‘দ উম্মু সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান ও সহীহ। কোন কোন আলিম দুধ পানের পর উযূ (ওজু/অজু/অযু) করার অভিমত দিয়েছেন। আমাদের মতে তা মুস্তাহাব। আলিমদের অপর এক দল দুধ পান করলে উযূ (ওজু/অজু/অযু) করা দরকার বলে মনে করেন না।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Ibn Abbas narrated :
the Prophet drank milk. Then he called for water to rinse out his mouth. Then he said: "Indeed it has fat." [He said:] There are narrations on this topic from Sahl bin Sa'd As-Sa'idi and Umm Salamah. Abu Eisa said: [And] this Hadith is Hasan Sahih. Some of the people of knowledge held the view that one is to wash the mouth after drinking milk and this is recommended according us. Some others did not hold the view that one is to wash out the mouth after drinking milk.

باب فِي الْمَضْمَضَةِ مِنَ اللَّبَنِ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم شَرِبَ لَبَنًا فَدَعَا بِمَاءٍ فَمَضْمَضَ وَقَالَ ‏ "‏ إِنَّ لَهُ دَسَمًا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ السَّاعِدِيِّ وَأُمِّ سَلَمَةَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَهَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَقَدْ رَأَى بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْمَضْمَضَةَ مِنَ اللَّبَنِ وَهَذَا عِنْدَنَا عَلَى الاِسْتِحْبَابِ وَلَمْ يَرَ بَعْضُهُمُ الْمَضْمَضَةَ مِنَ اللَّبَنِ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা
হাদিস নম্বরঃ ৯০ | 90 | ۹۰

পরিচ্ছদঃ উযু ছাড়া সালামের জওয়াব দেওয়া পছন্দনীয় নয়।

৯০. নাসার ইবনু আলী ও মুহাম্মাদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ........... ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেশাব করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি তাঁকে সালাম বলল। কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সালামের জওয়াব দিলেন না। - ইরওয়া ৫৪, সহিহ আবু দাউদ ১২-১৩, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ৯০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা তিরমিযী বলেনঃ এই হাদিসটি হাসান এবং সহীহ। পেশাব বা পায়খানারত অবস্থায় আমাদের মতে সালামের জওয়াব দেওয়া মাকরূহ। কোন কোন আলিম হাদিসটির এইরূপই ব্যখ্যা দিয়েছেন। এ বিষয়ে বর্ণিত রিওয়ায়াতের মধ্যে এটই সর্বোত্তম। এই বিষয়ে মুহাজির ইবনু কুনফুয, আদুল্লাহ ইবনু হানযালা, আলকামা ইবনু ফাগওয়া, জাবির ও বারা’ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদিস বর্ণিত আছে।



হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Ibn Umar narrated:
"A man greeted the Prophet (with Salam), and he was urinating, so he did not respond to him."

باب فِي كَرَاهَةِ رَدِّ السَّلاَمِ غَيْرَ مُتَوَضِّئٍ

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أَحْمَدَ، مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الزُّبَيْرِيُّ عَنْ سُفْيَانَ، عَنِ الضَّحَّاكِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَجُلاً، سَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ يَبُولُ فَلَمْ يَرُدَّ عَلَيْهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَإِنَّمَا يُكْرَهُ هَذَا عِنْدَنَا إِذَا كَانَ عَلَى الْغَائِطِ وَالْبَوْلِ ‏.‏ وَقَدْ فَسَّرَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ ذَلِكَ ‏.‏ وَهَذَا أَحْسَنُ شَيْءٍ رُوِيَ فِي هَذَا الْبَابِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَفِي الْبَابِ عَنِ الْمُهَاجِرِ بْنِ قُنْفُذٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حَنْظَلَةَ وَعَلْقَمَةَ بْنِ الْفَغْوَاءِ وَجَابِرٍ وَالْبَرَاءِ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [81]  থেকে  [90]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [194]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।