• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [109] টি | অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ | দেখানো হচ্ছে   [71]  থেকে  [80]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭১ | 71 | ۷۱

৭১। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মুহাম্মদের জীবন যে সত্তার হাতে, সেই সত্তার শপথ! এই উম্মতের কোন ইয়াহুদী অথবা নাসারা (খ্রিষ্টান) আমার সম্পর্কে শোনার পর আমি (আল্লাহর পক্ষ থেকে) যা কিছু নিয়ে প্রেরিত হয়েছি তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে অবশ্যই দোযখবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (মুসলিম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭২ | 72 | ۷۲

৭২। আবূ মূসা আল-আশ’আরী (রাঃ) থেকে উপর্যুক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে সে দোযখবাসীদের অন্তর্ভুক্ত হবে”-এর পরিবর্তে ‘ ’ “সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না” এমন কথা রয়েছে। [হাদীসটি অন্য কোথাও পাওয়া যায়নি]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭৩ | 73 | ۷۳

৭৩। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যদি ইয়াহুদীদের দশজন নেতৃস্থানীয় আলিম আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতো, তাহলে ভূ-পৃষ্ঠের সকল ইয়াহুদীই আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতো। কা’ব বলেন, দশজনের স্থলে বারজন এর কথা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন। এর সত্যয়ন রয়েছে সূরা আল-মায়িদাতে। [বুখারী ও আবূ দাউদ]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭৪ | 74 | ۷٤

৭৪। রাবাহ ইবনুু্ আবদুর রহমান ইবনু হুওয়াইতাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার দাদী তাঁর পিতা থেকে আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যার ওযূ নেই তার সালাত নেই। আর যে আল্লাহর স্মরণ করে না তার ওযূ হয় না এবং কেউ আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন না করলে আল্লাহতেও বিশ্বাস স্থাপন করে না এবং যে ব্যক্তি ‘আনসার’-কে ভালবাসে না, সে আমার প্রতি বিশ্বাস রাখে না। [দ্বারাকুতনী। হাফেজ, ইবনুু্ হাজর বলেন, এ হাদীসের আসল ভিত্তি আছে বলে প্রতীয়মান হয়, আর ইবনুু্ আবূ শাইবা বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একথা বলেছেন।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭৫ | 75 | ۷۵

৭৫। আবূ মুহাইরিয থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমি আবূ জুম্মা নামক জনৈক সাহাবী (রাঃ)-কে বললাম, আপনি অনুগ্রহপূর্বক আমাদেরকে একটি হাদীস শোনান, যা আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি খুন সুন্দর একটি হাদীস তোমাদের শোনাচ্ছি। একদা প্রত্যুষে আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সান্নিধ্যে ছিলাম। আমাদের সাথে আবূ উবাইদা ইবনুু্ আল-জারÍাহ ছিলেন। তিনি বললেন, আমাদের চেয়ে উত্তম আর কেউ আছে কি? আমরা আপনার সাথে ইসলাম গ্রহণ করেছি এবং আপনার সাথে জিহাদ শরীক হয়েছি! তিনি বললেন, হ্যাঁ, (তোমাদের চেয়ে উত্তম) সেই সম্প্রদায়, যারা তোমাদের পরে আসবে তারা আমাকে না দেখেও আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। [এ হাদীস অন্যত্র পাওয়া যায়নি। তবে সাঈদ ইবনুু্ মানসূর তাঁর সুনানে এ অর্থে অন্য হাদীস বর্ণনা করেছেন।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭৬ | 76 | ۷٦

৭৬। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমার মন চায় যেন আমি আমার ভাইদের সাথে মিলিত হই। সাহাবীগণ (রাঃ) আরয করলেন, আমরাই তো আপনার ভাই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা আমার সাহাবা। আর আমার ভাইয়েরা হচ্ছে সেই সকল ঈমানদার, যারা আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে অথচ তারা আমাকে দেখে নি। [সুয়ূতী “আল জামি ‘আল-সগীর গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করে তার পার্শ্বে সহীহ হবার প্রতীক ব্যবহার করেছেন।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭৭ | 77 | ۷۷

৭৭। . আবূ উমামা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, মুবারকবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যিনি আমাকে দেখেছেন এবং আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। মুবারকবাদ সেই ব্যক্তির জন্য যিনি আমাকে দেখেননি অথচ আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছেন-এদের জন্য অভিনন্দন সাতবার। [ইবনুু্ হাব্বান, হাফেয, হাদীসটি সহীহ]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭৮ | 78 | ۷۸

৭৮। আনাস ইবনুু্ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং আমার দর্শন লাভ করেছে, তাঁর জন্য মুবারকবাদ একবার। আর যে ব্যক্তি আমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে কিন্তুু আমাকে দেখেনি, তার জন্য মুবারকবাদ সাতবার। [অন্যত্র এ হাদীসটি পাওয়া যায়নি। তবে ইমাম সূয়ুতী “জামে উস-সাগীরে হাদীসটি বর্ণনা করে তার পাশে সহীহ্ হবার প্রতীক ব্যবহার করেছেন।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭৯ | 79 | ۷۹

৭৯। আবূ আব্দুর রহমান আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে উপস্থিত ছিলাম, এমন সময় দুইজন আরোহীর আগমন ঘটল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে দেখতে পেয়ে বললেন, এরা দু‘জন কিন্দী (গোত্রীয়) মায্হিজ’ (যারা পিতার বাঁদীর সন্তান, এবং উত্তরাধিকারসূত্রে জন্মদাত্রী সেই বাঁদীর মালিক হওয়ার পর তার সাথে ব্যভিচার করেছে।) তারা নিকটবর্তী হওয়ার পর দেখা গেল, সত্যই এরা ‘মাযহিজ’। এদের দু’জনের মধ্যে একজন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বাইয়াত হওয়ার জন্য তাঁর নিকটবর্তী হল। তিনি যখন (বাইয়াতের উদ্দেশ্যে) তার হাত ধরলেন, তখন সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনার অভিমত কী? ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে, যে আপনাকে দেখলো, অতঃপর আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো আপনার সত্যয়ন করলো এবং আপনার অনুসরণ করলো। তার পুরষ্কার কী? তিনি বললেন, অভিনন্দন বা সুসংবা তাঁর জন্য। অতঃপর লোকটি তাঁর হাত স্পর্শ করে চলে এলো। এরপর দ্বিতীয়জন এগিয়ে গেল এবং বাইয়াতের জন্য তিনি তার হাত ধরলেন, তখন সে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনার অভিমত কী? সেই ব্যক্তি সম্পর্কে, যে আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করলো, আপনাকে সত্যয়ন করলো এবং আপনার অনুসরণ করলো, অথচ সে আপনাকে দেখেনি। তিনি বললেন, তাঁর জন্য অভিনন্দন, তাঁর জন্য অভিনন্দন, তাঁর জন্য অভিনন্দন, অতঃপর লোকটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাত স্পর্শ করে চলে গেল। [দাওলাবী ও বাগাবী। এই হাদিসের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য।]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ মুসনাদে আহমেদ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৮০ | 80 | ۸۰

৮০। আবদুর রহমান বিন জুবাইর বিন নুফাইর তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, একদা আমরা . আল-মিকদাদ বিন আল-আসওয়াদ (রাঃ) এর কাছে উপবিষ্ট ছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি অতিক্রম করে যাচ্ছিল। সে বললো, মুবারকবাদ সেই দুই নয়নের প্রতি যা অবলোকন করেছে আল্লাহর রাসূলকে। আল্লাহর শপথ! আমাদেরও একান্ত ইচ্ছা হয় অবলোকন করি যা আপনি অবলোকন করেছেন। প্রত্যক্ষ করি যা আপনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এতে মিকদাদ (রাঃ) ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। আর এতে আমি বিস্মিত হলাম। কারণ লোকটি যা বলেছে তা তো ভালই। (যা হোক) এরপর তিনি আগন্তুকের প্রতি মুখ করে বললেন, কী করে একজন ব্যক্তি এমন একটি দৃশ্য কামনা করতে পারে যা আল্লাহ তা’আলা তার কাছ থেকে অদৃশ্য করে রেখেছেন! অথচ সে জানে না ঐ দৃশ্য প্রত্যক্ষ কররে তার অবস্থা কেমন হত? আল্লাহর শপথ! আল্লাহর রাসূলের সান্নিধ্যে বহুসংখ্যক সম্প্রদায় এসেছে, কিন্তু তারা তাঁর দাওয়াত কবুল করে নি এবং তাঁর সত্যয়ন করে নি, ফলে তারা জাহান্নামের বাসিন্দা হয়েছে। (অতএব, তুমি যেসব লোকের দলভুক্ত হতে না এর নিশ্চয়তা তোমার কাছে আছে কি?) তোমরা আল্লাহর নিকটে হাম্দ (প্রশংসা) করছো না কেন? আল্লাহ তোমাদেরকে এমন করে নির্বাচন করেছেন যে, তোমরা তোমাদের প্রভুকে জানতে পেরেছ-তোমাদের নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনীত বিষয়সমূহের সত্যয়ন করে এবং অন্যের উপরে গযবের দায় চাপিয়ে তোমরা মুক্ত থেকেছ। আল্লাহর শপথ! আল্লাহ তাঁর রাসূল)Ñকে কঠিনতম এক সময় প্রেরণ করেছিলেন (সাধারণত অন্যান্য নাবীগণকে যে সব সময়ে প্রেরণ করা হয়েছিল, তার তুলনায় কঠিনতম)। সেটি ছিল জাহেলী যুগ, যখন মূর্তিপূজার চেয়ে উত্তম কোন মতবাদ বা দ্বীন ছিল না। এমনি এক সময়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আগমন করলেন সত্য ও মিথ্যার মানদন্ড নিয়ে। তিনি পৃথক করে দিলেন সত্যকে মিথ্যা থেকে। পার্থক্য নির্ণয় করলেন পিতা ও সন্তানের মধ্যে। (এমতাবস্থায়) কেউ দেখতে পেল তার পিতা, সন্তান ও ভাই কাফির রয়ে গিয়েছে এবং আল্লাহ (দয়াপরবশ হয়ে) ঈমানের জন্য তার অন্তরের তালা খুলে দিলেন, সে জানে, তার প্রিয়জনরা ঐ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে, নিশ্চিত দোযখে প্রবেশ করবে। সুতরাং এই অবস্থায় তার চক্ষু স্থির থাকতে পারে না। এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করে আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে বলেনঃ “যারা প্রার্থনা করে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান করুন যারা আমাদের জন্য নয়ন প্রীতিকর হবে।”



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [71]  থেকে  [80]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [109]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।