• ৫৬৬৯৯ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [109] টি | অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
গ্রন্থঃ | দেখানো হচ্ছে   [61]  থেকে  [70]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬১ | 61 | ٦۱

৬১। আমর বিন আবাসা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (একদা) একজন অত্যন্ত বৃদ্ধ ব্যক্তি তার লাঠিতে ভর দিয়ে বাসূলের সমীপে হাযির হয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আমার (অতীতে) কিছু বিশ্বাসঘাতকতা ও বড় ধরনের গুনাহ আছে, আমার জন্য তা কি ক্ষমা করা হবে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আপনি কি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এর সাক্ষ্য প্রদান করেন না? তিনি বললেন, হ্যাঁ এবং আমি আর সাক্ষ্য দেই যে, আপনি আল্লাহর রাসূল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আপনার সেই বিশ্বাসঘাতকতা ও অন্যান্য গুনাহসমূহ ক্ষমা করা হয়েছে (তিবরানী-এর সনদ উত্তম)।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬২ | 62 | ٦۲

৬২। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেন, আমাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ না তারা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ বলবে। যখন তারা তা বলবে, তখন তারা তাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান করলো (অর্থাৎ আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হন না), তবে (জীবন ও সম্পদের) অধিকার ব্যতীত। (অর্থাৎ কিসাস ও জীবন রক্ষা পণ ইত্যাদি ছাড়া)। আর তাদের (প্রকৃত) হিসাব আল্লাহর এখতিয়ারে। (অর্থাৎ তারা সত্যিকার মুসলিম না কি লোক দেখানো, এই বিচার করবেন আল্লাহ কিন্তু মানুষ তার বাহ্যিক আচরণ দেখেই ফায়সালা করবে।) বর্ণনাকারী বলেন, রিদ্দার যুদ্ধের সময় . উমর (রাঃ) আবূ বকর (রাঃ) কে বললেন, আপনি কি এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন? আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি এইরূপ-এইরূপ; আবূ বকর (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আমরা এদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো। আল্লাহর শপথ, আমি সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি করবো না এবং যারা এই উভয়টির মধ্যে পার্থক্য করবে, তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধ করবো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা তাঁর সাথে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করি এবং পরে বুঝতে পারি সেটি সঠিক ছিল। (বুখারী ও মুসলিম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬৩ | 63 | ٦۳

৬৩। তাঁর (আবূ হুরায়রা) থেকে অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমাকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ পর্যন্ত তারা বলবে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ” এবং সালাত কায়েম করবে ও যাকাত প্রদান করবে (এগুলো করলে পর) তাদের রক্ত (জীবন) ও সম্পদ (আমাদের জন্য) হারাম হয়ে যাবে এবং তাদের (সত্যিকার) হিসাব আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দায়িত্বে। (বুখারী ও মুসলিম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬৪ | 64 | ٦٤

৬৪। আনাস বিন মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, আমি নির্দেশিত হয়েছি মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা সাক্ষ্য প্রদান করবে, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” এবং “মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ”। সুতরাং যখন তারা সাক্ষ্য দিবে এবং আমাদের কিবলাকে তাদের কিবলা মনে করবে, আমাদের জবেহ করা (পশু-পাখি) ভক্ষণ করবে, আমাদের ন্যায় সালাত আদায় করবে, তখন আমাদের উপর তাদের জীবন ও সম্পদ হারাম হয়ে যাবে, অবশ্য বিচারের মানদন্ডে যদি দন্ডিত হয় সেটি ভিন্ন। তারা মুসলিমদের অধিকারসমূহ ভোগ করবে এবং মুসলিমদের কর্তব্য পালনও করবে। (বুখারী ও অন্যান্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬৫ | 65 | ٦۵

৬৫। আন-নু‘মান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উওয়াইস (রাঃ) (অর্থাৎ আবূ উওয়াইস আসসাকাফীর ছেলে)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে সাকীফ গোত্রের প্রতিনিধিদের সাথে এসেছিলাম, তখন আমরা একটা গম্বুজে ছিলাম। তখন আমি এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছাড়া বাকি যাঁরা ছিলেন তাঁরা সকলে উঠে গেলেন। তখন এক লোক এসে মহানাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে গোপনে কথা বলে। তখন মহানাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যাও তাকে হত্যা কর, (অপর বর্ণনায় লোকটি যখন চলে গেল তখন মহানাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকলেন)। তারপর বললেন, লোকটি কি “লা-ইলাহা-ইল্লাহ”-এর সাক্ষ্য দেয় না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, দেয়। তবে সেতো তা দেয় আশ্রয় পাওয়ার জন্য (প্রাণ বাঁচানোর জন্য)। তখন মহানাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আস। (অপর বর্ণনায় আছে, যাও ওকে ছেড়ে দাও)। তারপর বললেন, আমি “লা-ইলাহা-ইল্লাহ”-এর সাক্ষ্য না দেয়া পর্যন্ত মানুষকে হত্যা করার আদেশ প্রাপ্ত হয়েছি। যখন তা বলবে তখন তার রক্ত, তার ধন-সম্পদ দন্ডবিধি ছাড়া আমাদের জন্য হারাম হয়ে যাবে। আমি শো’বাকে বললাম, হাদীসে কি একথা নেই যে, অতঃপর বললেন, সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল? শো’বা বলেন, মনে হয়, সম্ভবত তা বলেছেন, তবে আমি তা জানি না। (বুখারী ও অন্যান্য)।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬৬ | 66 | ٦٦

৬৬। আবূ মালিক আল-আশজায়ী তাঁর পিতা তারিক (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছেন। তিনি একটি গোত্রের উদ্দেশ্যে বলছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর একত্বকে স্বীকার করে নিল এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য তথাকথিত উপাস্যের অস্বীকার করলো, সেই ব্যক্তির সম্পদ ও জীবন হারাম হয়ে যায় এবং তার হিসাব-নিকাশ আল্লাহর দায়িত্বে। (মুসলিম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬৭ | 67 | ٦۷

৬৭। ইবনুু্ মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা (একদা) তাঁর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রেরণ করেছিলেন একজন লোককে জান্নাতে প্রবেশ করানোর জন্য। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি গীর্জায় প্রবেশ করে দেখেন জনৈক ইয়াহুদী লোকদের উদ্দেশ্যে তাওরাত পাঠ করে শোনাচ্ছে। তারা যখন তাওরাতে উল্লিখিত নাবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গুণাগুণ ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা পর্যন্ত পৌঁছালো, তখন পাঠ থামিয়ে দিল। এদিকে গীর্জার এক পার্শ্বে একজন পীড়িত লোক ছিল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমরা থামলে কেন? পীড়িত লোকটি বললো, তারা এখন নাবীর গুণাগুণ পর্যন্ত এসে থেমে গিয়েছে। অতঃপর পীড়িত লোকটি কাতরাতে কাতরাতে এগিয়ে এসে তাওরাত হাতে নিয়ে পাঠ করতে শুরু করে। যখন সে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গুণাগুণ পর্যন্ত পৌঁছাল, তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে উদ্দেশ্য করে বললো, এই হচ্ছে আপনার এবং আপনার উম্মতের গুণ-বৈশিষ্ট্য; আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আপনি আল্লাহর রাসূল। অতঃপর লোকটি মারা গেল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (সাথের মুসলমানদের) বললেন, তোমাদের ভাইকে গ্রহন কর। (অর্থাৎ লোকটি ইসলাম গ্রহণ করে ইন্তেকাল করায়, সে মুসলমানদের ভাই হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।) (তাবারানী এর সনদ উত্তম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬৮ | 68 | ٦۸

৬৮। উবাঈদুল্লাহ বিন ‘আদি বর্ণনা করেন যে, তাঁকে জনৈক আনসার-বর্ণনা করেছেন-তিনি একদা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সমীপে আগমন করেন, ঐ সময় নাবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি বৈঠকে ছিলেন। আগন্তুক মুনাফিকদের মধ্য থেকে একজনকে হত্যা করার জন্য নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর অনুমতি প্রার্থনা করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধমক দিয়ে বললেন, সে কি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সাক্ষ্য প্রদান করে না? আনসারী বললেন, হ্যাঁ, তবে তাঁর সাক্ষ্যের কোন মূল্য নেই। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন সে কি সাক্ষ্য দেয় না যে, মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল? আনসারী বললেন, হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে কি সালাত আদায় করে না? বললেন, হ্যাঁ, করে, তবে তার সালাত গ্রহণযোগ্য নয়। তখন আল্লাহর রাসূল বললেন, এসব লোকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আল্লাহ তা’আলা আমাকে নিষেধ করেছেন। (তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে) তিনি আবদুল্লাহ ইবনুু্ আদী আর আনসারী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসা ছিলেন, তখন এক লোক এসে তার কাছে অনুমতি চাইল অর্থাৎ অতঃপর অনুরূপ অর্থে হাদীসটি বর্ণনা করলেন। (মালিক, আবদুর রায্যাক, হাইছামী বলেন, আহমদের রাবীগণ নির্ভরযোগ্য)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৬৯ | 69 | ٦۹

৬৯। আনাস ইবনুু্ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘ইতবান (রাঃ) চোখের পীড়ায় ভুগছিলেন (অর্থাৎ চোখে দেখতে পাচ্ছিলেন না); অতঃপর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে ডেকে পাঠান এবং রাসূলকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অসুখের কথা বর্ণনা দিয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! আপনি আমার গৃহে সালাত আদায় করুন, যাতে করে আমি (এরপর থেকে) আমার ঘরকেই সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতে পারি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণের মধ্য থেকে কতিপয় সাহাবী আল্লাহর ইচ্ছায় এসে সেখানে সালাত আদায় করলেন। ইত্যবসরে সাহাবীগণ (রাঃ) পরস্পরে আলাপ-আলোচনায় লিপ্ত হন। তাঁরা মুনাফিকদের কাছ থেকে যে সব কথা-বার্তা শুনে থাকেন, সে সব বিষয়ের অবতারণা করেন। অতঃপর তাঁরা মুনাফিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠজন মালিক ইবনু দুখাইছিমের প্রসংগে উপনীত হন। এদিকে আল্লাহর রাসূল তাঁদের দিকে (ফিরে) মনোনিবেশ করে বলেন, সে কি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ এবং আমি রাসূলুল্লাহ এই সাক্ষ্য প্রদান করে না? একজন বললেন, জ্বি হ্যাঁ, তবে তা তার মনের সাক্ষ্য নয়। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি “আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য নেই এবং আমি আল্লাহর রাসূল” এই সাক্ষ্য করবে; তাকে কখনও অগ্নির খোরাক হতে হবে না অথবা সে কখনই দোযখে প্রবেশ করবে না। (বুখারী ও মুসলিম)



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ
অধ্যায়ঃ ২/ ঈমান ও ইসলাম
হাদিস নম্বরঃ ৭০ | 70 | ۷۰

৭০। মিক্দাদ বিন আল-আসওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি (একদা) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে প্রশ্ন করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি যদি কাফিরদের কোন ব্যক্তির সাথে মুখোমুখি যুদ্ধে লিপ্ত হই, আর সে আমাকে আঘাত করে এবং আমি তাকে আঘাত করি। এভাবে আমরা একে অপরকে আঘাত করতে থাকি, (এবং এক পর্যায়ে) সে আমার একটি হাতে আঘাত হানে এবং তা কর্তন করে ফেলে। এবার আমি যখন পাল্টা আক্রমণের প্রস্তুতি গ্রহণ করি, তখন সে একটি বৃক্ষের আড়ালে গিয়ে (আত্মরক্ষার্থে) বললো, “আস্লামতু লিল্লাহি” (আল্লাহর ওয়াস্তে আমি ইসলাম গ্রহণ করলাম)। এমতাবস্থায় আমি তাকে কি হত্যা করবো? (অন্য বর্ণনায় তাকে হত্যা করবো না কি ঐ কথা বলার পর ছেড়ে দেব?) (অর্থাৎ এ বিষয়ে আপনার অভিমত কি ইয়া রাসূলাল্লাহ?) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি তাকে হত্যা করবে না। কেননা, তুমি যদি তাকে হত্যা কর, তাহলে ঐ লোকটি তুমি তাকে হত্যা করার পূর্বে তোমার স্থানে অধিষ্ঠিত হবে; আর ঐ লোকটি তার উচ্চারিত কালেমা উচ্চারণের পূর্বে যে স্থানে ছিল, তুমি সেই স্থানে অধিষ্ঠিত হবে। [বুখারী, মুসলিম, আবূ দাউদ, নাসায়ী ও অন্যান্যা]



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [61]  থেকে  [70]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [109]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।