• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [65] টি | অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [51]  থেকে  [60]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৫ | 1375 | ۱۳۷۵

পরিচ্ছদঃ শরীক ব্যক্তি শুফ‘আর হকদার।

১৩৭৫. ইউসুফ ইবনু ঈসা (রহঃ) ....... ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, শরীক শুফ‘আ এর অধিকারী। আর প্রত্যেক বস্তুতেই শুফ‘আর অধিকার রয়েছে। - যইফা ১০০৯, ১০১০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭১ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, আবূ হামযা সুককারী (রহঃ)-এর রিওয়ায়াত ছাড়া হাদীসটি এইরূপভাবে অন্য কোন বর্ণণায় রয়েছে বলে আমাদের জানা নেই। একাধিক রাবী হাদীসটিকে আবদুল আযীয ইবনু রুফায়-ইবনু আবী মূলায়কা সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। এটই অধিকতর সহীহ। হানদার (রহঃ) ... ইবনু আলী মূলায়কা (রহঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে উক্তমর্মে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই সনদে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু এর উল্লেখ নেই। আবদুল আযীয ইবনু রুফায়‘ (রহঃ) থেকে একাধিক রাবী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এই সনদে ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে একথার উল্লেখ নেই।

আবূ হামযা (রহঃ)-এর রিওয়ায়াত (১৩৭৪ নং) থেকে এটি অধিকতর সহীহ। আবূ হামযা (রহঃ) নির্ভরযোগ্য (ছিকা) রাবী। সম্ভবত আবূ হামযা (রহঃ) ছাড়া অন্য কোন রাবী থেকে এই ভুলটা হয়েছে। হানদার (রহঃ) ইবনু আলী মূলায়কা (রহঃ) সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আবূ বাকর ইবনু আইয়্যাশ-এর (১৩৭৪ নং) অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। অধিকাংশ আলিম বলেন, শুফ‘আ-এর অধিকার রয়েছে বাড়ী ও ভূমিতে (অর্থাৎ স্থাবর সম্পত্তিতে)। সব জিনিসেই শুফ‘আ নেই। কতক আলিম বলেন, সব জিনিসেই শুফ‘আ-এর অধিকার রয়েছে। প্রথমোক্ত মতটই অধিকতর সহীহ।



হাদিসের মানঃ  মুনকার (সর্বদা পরিত্যক্ত)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Ibn Abbas:
that the Messenger of Allah (ﷺ) said: "The partner is the preemptor, and preemption is in everything."

باب مَا جَاءَ أَنَّ الشَّرِيكَ شَفِيعٌ

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ أَبِي حَمْزَةَ السُّكَّرِيِّ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ الشَّرِيكُ شَفِيعٌ وَالشُّفْعَةُ فِي كُلِّ شَيْءٍ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِثْلَ هَذَا إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي حَمْزَةَ السُّكَّرِيِّ ‏.‏ وَقَدْ رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً وَهَذَا أَصَحُّ ‏.‏
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ بِمَعْنَاهُ وَلَيْسَ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهَكَذَا رَوَى غَيْرُ وَاحِدٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ مِثْلَ هَذَا لَيْسَ فِيهِ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَهَذَا أَصَحُّ مِنْ حَدِيثِ أَبِي حَمْزَةَ ‏.‏ وَأَبُو حَمْزَةَ ثِقَةٌ يُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ الْخَطَأُ مِنْ غَيْرِ أَبِي حَمْزَةَ ‏.‏
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَ حَدِيثِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَيَّاشٍ ‏.‏ وَقَالَ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِنَّمَا تَكُونُ الشُّفْعَةُ فِي الدُّورِ وَالأَرَضِينَ وَلَمْ يَرَوُا الشُّفْعَةَ فِي كُلِّ شَيْءٍ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الشُّفْعَةُ فِي كُلِّ شَيْءٍ ‏.‏ وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৬ | 1376 | ۱۳۷٦

পরিচ্ছদঃ কুড়ানো বস্তু ও হারানো উট ও ছাগল প্রসঙ্গে।

১৩৭৬. কুতায়বা (রহঃ) ...... যায়দ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, জনৈক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে কুড়ানো জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি বললেন, এক বছর এটির ঘোষণা দিবে। এরপর থলির মুখ বাধার ফিতাটি, থলিটি ও চামড়ার বাক্সটি চিনে রাখবে। এরপর তা কাজে ব্যয় করে ফেলতে পারেব। পরে যদি এর মালিক আসে তবে তা তাকে দিয়ে দিবে। লোকটি বলল, ইয়অ রাসূলুল্লাহ, ছাগল হারিয়ে গেলে? তিনি বললেন, তা ধরে রাখবে। কেননা এটি তোমার কিংবা তোমার ভাইয়ের বা নেকড়ে বাঘের। লোকটি বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, হারানো উট হলে? রাবী যায়দ ইবনু খালিদ আল- জুহানী (রহঃ) বলেন, এতে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাগান্বিত হন। এমনকি তাঁর গস্ডদ্বয় লাল হয়ে উঠে। বললেন, তোমার ও তার এতে কি আছে? এর সাথে তো পদ মোড়কও পানি সব কিছুই রয়েছে। (সুতরাং এটি বিনষ্ট হবে না) শেষে (ঘুরতে ঘুরতে) তার মালিককে পেয়ে যাবে। - ইবনু মাজাহ ২৫০৪, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭২ [আল মাদানী প্রকাশনী]

যায়দ ইবনু খালিদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। তার বারাতে একাধিক সূত্রে এটি বর্ণিত আছে।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Zaid bin Khalid Al-Juhni:
"A man asked the Messenger of Allah (ﷺ) about lost items. So he said: 'Make a public announcement about it for one year. Remember its string, its contained, and its sack. Then use it, and if its owner comes then give it to him.' So he said to him: 'O Messenger of Allah! What about the stray sheep?' He said:'Take it, for it is either for you, your brother, or the wolf.' He said: 'O Messenger of Allah! What about stray camel?'" He said: "Then the Prophet (ﷺ) got angry until his cheeks became red or his face became red. He said: 'What concern is it of yours? It has its feet and its water reserve until it reaches its owner.'"

باب مَا جَاءَ فِي اللُّقَطَةِ وَضَالَّةِ الإِبِلِ وَالْغَنَمِ

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ يَزِيدَ، مَوْلَى الْمُنْبَعِثِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ رَجُلاً، سَأَلَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنِ اللُّقَطَةِ فَقَالَ ‏"‏ عَرِّفْهَا سَنَةً ثُمَّ اعْرِفْ وِكَاءَهَا وَوِعَاءَهَا وَعِفَاصَهَا ثُمَّ اسْتَنْفِقْ بِهَا فَإِنْ جَاءَ رَبُّهَا فَأَدِّهَا إِلَيْهِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَضَالَّةُ الْغَنَمِ فَقَالَ ‏"‏ خُذْهَا فَإِنَّمَا هِيَ لَكَ أَوْ لأَخِيكَ أَوْ لِلذِّئْبِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَضَالَّةُ الإِبِلِ قَالَ فَغَضِبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم حَتَّى احْمَرَّتْ وَجْنَتَاهُ أَوِ احْمَرَّ وَجْهُهُ فَقَالَ ‏"‏ مَا لَكَ وَلَهَا مَعَهَا حِذَاؤُهَا وَسِقَاؤُهَا حَتَّى تَلْقَى رَبَّهَا ‏"‏ ‏.‏ حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ ‏.‏ وَحَدِيثُ يَزِيدَ مَوْلَى الْمُنْبَعِثِ عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ وَقَدْ رُوِيَ عَنْهُ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৭ | 1377 | ۱۳۷۷

পরিচ্ছদঃ কুড়ানো বস্তু ও হারানো উট ও ছাগল প্রসঙ্গে।

১৩৭৭. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ....... যায়দ ইবনু খালিদ আল-জুহানী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, কুড়ানো মাল সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, একবছর তা ঘোষণা দিবে। যদি (মালিকের) পরিচয় পাওয়া যাও তবে তাকে তা দিয়ে দিবে, তা না হলে, এর থলি, মুখ বাধার ফিতা ও পরিমাণ চিনে রাখবে। এরপর তুমি তা ভোগ করতে পার। পরে যদি এর প্রকৃত মালিক আসে তবে তা আদায় করে দিও। - ইবনু মাজাহ ২৫০৭, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৩ [আল মাদানী প্রকাশনী]

এই বিষয়ে উবায় ইবনু কা‘ব, আবদুল্লাহ ইবনু আমর, জারূদ ইবনুল মুআল্লা, ইয়ায ইবনু হিমার ও জারির ইবনু আবদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, যায়দ ইবনু খালিদ-এর হাদীসটি হাসান। এই সূত্রে গারীব। ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহঃ) বলেন, অত্র বিষয়ে এই হাদীসটি হল সবচে সহীহ।

কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। তারা কুড়ানো মাল এক বছর পর্যন্ত ঘোষনা প্রদানের পরও যতি মালিক না পাওয়া যায় তবে প্রাপককে তা ভোগ করার অনুমতি প্রদান করেছেন। এ হল ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর অভিমত।

কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমের অভিমত হল, এক বছর এই বিষয়ে ঘোষনা প্রদান করবে। যদি প্রকৃত মালিক আসে তবেতো ভাল, আর যদি না আসে তবে সে তা সাদকা করে দিবে। এ হল ইমাম সুফইয়ান ছাওরী, আবদুল্লাহ ইবনু মুবারক (রহঃ) ও কুফাবাসী আলিমগণের অভিমত। প্রাপক যদি ধনি হয় তবে তার জন্য কুড়ানো সম্পদ ভোগ করা তারা জায়েয বলে মনে করেন না।

ইমাম শাফিঈ (রহঃ) বলেন, ধনী হলেও সে তা ভোগ করতে পারবে। কেননা, উবাই ইবনু কা‘ব রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একটি থলি পেয়েছিলেন। এতে ছিল একশত দ্বীনার বা স্বর্ণ মুদ্রা। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে এটির ঘোষনা দিতে এবং পরে (মালিক পাওয়া না গেলে নিজই) তা ভোগ করার কথা বলেন। উবাই রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রচুর ধন-সম্পদ-এর মালিক ছিলেন। তিনি ছিলেন ধনাঢ্য সাহাবীদের অন্যতম। তাকে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা ঘোষনা দিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি যখন মালিককে পেলেন না তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকেই তা ভোগ করার অনুমতি দেন। সাদকা গ্রহণ করা যাদের জন্য হালাল তাদের ছাড়া আর কারো জন্যে যদি (মালিক না পাওয়া অবস্থায়ও) কুড়ানো সম্পদ হালাল না হত তবে তো তা আলী ইবনু আবী তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর জন্যও হালাল হতো না। কেননা, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে একটি দ্বীনার পান। তিনি এতদসম্পর্কে ঘোষণা প্রদানের পরও এর প্রকৃত মালিক পাওয়া গেল না। তখন নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা তাকে ভোগ করতে অনুমতি দেন। অথচ আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু (হাশিমী হওয়ায়) এমন ছিলেন যে তার জন্য সাদকা গ্রহণ হালাল ছিল না।

কতক আলিম কুড়ানো মাল যদি সামান্য হয় (যে সাধারণত মালিক আর তালাশ করে না যেমন চার আনা পয়সা ইত্যাদি) তবে তা ঘোষনা না দিয়ে প্রাপককে নিজে ভোগ করার অনুমতি দিয়েছেন। কতক আলিম বলেন, কুড়ানো সম্পদে পরিমাণ যদি এক দ্বীনারের কম হয় তবে তা এক সপ্তাহ ঘোষণা দিবে। এ হল ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (রহঃ)-এর অভিমত।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Zaid bin Khalid Al-Juhni narrated that the Messenger of Allah (ﷺ) was asked about the lost item. He said:
"Make a public announcement about it for one year, if it is claimed then give it to him. Otherwise remember its sack, string, and its count. Then use it, and if its owner comes, give it to him."

باب مَا جَاءَ فِي اللُّقَطَةِ وَضَالَّةِ الإِبِلِ وَالْغَنَمِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، أَخْبَرَنَا الضَّحَّاكُ بْنُ عُثْمَانَ، حَدَّثَنِي سَالِمٌ أَبُو النَّضْرِ، عَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سُئِلَ عَنِ اللُّقَطَةِ فَقَالَ ‏ "‏ عَرِّفْهَا سَنَةً فَإِنِ اعْتُرِفَتْ فَأَدِّهَا وَإِلاَّ فَاعْرِفْ وِعَاءَهَا وَعِفَاصَهَا وَوِكَاءَهَا وَعَدَدَهَا ثُمَّ كُلْهَا فَإِذَا جَاءَ صَاحِبُهَا فَأَدِّهَا ‏"‏ ‏.‏
قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَالْجَارُودِ بْنِ الْمُعَلَّى وَعِيَاضِ بْنِ حِمَارٍ وَجَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ‏.‏
قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ زَيْدِ بْنِ خَالِدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ ‏.‏ قَالَ أَحْمَدُ أَصَحُّ شَيْءٍ فِي هَذَا الْبَابِ هَذَا الْحَدِيثُ
وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ وَرَخَّصُوا فِي اللُّقَطَةِ إِذَا عَرَّفَهَا سَنَةً فَلَمْ يَجِدْ مَنْ يَعْرِفُهَا أَنْ يَنْتَفِعَ بِهَا ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ وَأَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ يُعَرِّفُهَا سَنَةً فَإِنْ جَاءَ صَاحِبُهَا وَإِلاَّ تَصَدَّقَ بِهَا ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْمُبَارَكِ وَهُوَ قَوْلُ أَهْلِ الْكُوفَةِ لَمْ يَرَوْا لِصَاحِبِ اللُّقَطَةِ أَنْ يَنْتَفِعَ بِهَا إِذَا كَانَ غَنِيًّا ‏.‏ وَقَالَ الشَّافِعِيُّ يَنْتَفِعُ بِهَا وَإِنْ كَانَ غَنِيًّا لأَنَّ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ أَصَابَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صُرَّةً فِيهَا مِائَةُ دِينَارٍ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُعَرِّفَهَا ثُمَّ يَنْتَفِعَ بِهَا وَكَانَ أُبَىٌّ كَثِيرَ الْمَالِ مِنْ مَيَاسِيرِ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُعَرِّفَهَا فَلَمْ يَجِدْ مَنْ يَعْرِفُهَا فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَأْكُلَهَا فَلَوْ كَانَتِ اللُّقَطَةُ لَمْ تَحِلَّ إِلاَّ لِمَنْ تَحِلُّ لَهُ الصَّدَقَةُ لَمْ تَحِلَّ لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ لأَنَّ عَلِيَّ بْنَ أَبِي طَالِبٍ أَصَابَ دِينَارًا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَعَرَّفَهُ فَلَمْ يَجِدْ مَنْ يَعْرِفُهُ فَأَمَرَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِأَكْلِهِ وَكَانَ لاَ يَحِلُّ لَهُ الصَّدَقَةُ ‏.‏ وَقَدْ رَخَّصَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ إِذَا كَانَتِ اللُّقَطَةُ يَسِيرَةً أَنْ يَنْتَفِعَ بِهَا وَلاَ يُعَرِّفَهَا ‏.‏ وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِذَا كَانَ دُونَ دِينَارٍ يُعَرِّفُهَا قَدْرَ جُمُعَةٍ ‏.‏ وَهُوَ قَوْلُ إِسْحَاقَ بْنِ إِبْرَاهِيمَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৮ | 1378 | ۱۳۷۸

পরিচ্ছদঃ কুড়ানো বস্তু ও হারানো উট ও ছাগল প্রসঙ্গে।

১৩৭৮. হাসান ইবনু আলী আল-খাললাল (রহঃ) ....... সুওয়ায়দ ইবনু গাফালা (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি যায়দ ইবনু সুহায়ন ও সালমান ইবনু রাবিআ এর সঙ্গে (একস্থানে) বের হলাম। পথে একটি (চামড়ার) বেগ পেলাম। তারা বললেন, রেখে দাও। আমি বললাম, এটি রেখে দিব না। কোন হিংস্র প্রাণী হয়তো তা খেয়ে ফেলবে। আমি অবশ্য এটি নিয়ে যাব এবং এটিকে আমার কাজে লাগাব। অনন্তর আমি উবাই ইবনু কা‘ব (রাঃ) এর কাছে গেলাম। এই বিষয়ে তাঁর কাছে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বিষয়টি তাঁর কাছে বর্ণনা করলাম।

তিনি বললেন, ভাল করেছ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগে আমি একটি থলি পেয়েছিলাম। তাতে একশ দ্বীনার ছিল। তা নিয়ে আমি তাঁর কাছে গেলাম। তিনি আমাকে বললেন, এটির পরিচয় দিয়ে এক বছর পর্যন্ত ঘোষণা দাও। আমি এক বছর পর্যন্ত ঘোষনা দিলাম। কিন্তু এমন কাউকে পেলাম না যে এটি (নিজের বলে) চিনতে পারে। অতঃপর পুনরায় তাঁর কাছে গেলাম, তিনি বললেন, আরো এক বছর ঘোষণা দাও। আমি আরো এক বছর এর ঘোষণা দিলাম। এরপর এটি নিয়ে তাঁর কাছে এলাম। তিনি বললেন, এর সংখ্যা, থলিটি এবং থলি বাঁধার ফিতাটি চিনে রাখ। এর কোন প্রত্যাশি যদি আসে এবং তোমাকে সংখ্যা, এর থলিটি ও মুখ বাঁধার ফিতাটি সম্পর্কে ঠিক ঠিক বলতে পারে তবে এটি তাকে দিয়ে দিও। আর তা না হলে নিজেই তা ভোগ করবে। - ইবনু মাজাহ ২৫০৬, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৪ [আল মাদানী প্রকাশনী]

হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Suwaid bin Ghafalah said:
"I went out with Zaid bin Suhan and Salman bin Rabi'ah, and found a whip." In his narration Ibn Numair (one of the narrators) said: "I found a lost whip and took it. They said: 'Leave it'. I said: 'I will not leave it to be eaten by predators. I will take it to make use of it.' So I met up with Ubayy bin Ka'b and asked him about that. So he narrated the Hadith, he said: 'That is fine. I found a sack containing one hundred Dinar during the lifetime of the Messenger of Allah (ﷺ)' He said: 'So I brought it to him. He said to me: "Make a public announcement about it for one year." So I announced it for a year but did not find anyone to claim it. Then I brought it to him. He said to me: "Make a public announcement about it for another year." So I announced it for a year but did not find anyone to claim it. Then I brought it to him. He said: "Make a public announcement about if for another year." And he said: "Remember its amount, its container and its string. If someone comes seeking it and informs you of its amount and its string, then give it to him, otherwise use it."

باب مَا جَاءَ فِي اللُّقَطَةِ وَضَالَّةِ الإِبِلِ وَالْغَنَمِ

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَيَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ سُوَيْدِ بْنِ غَفَلَةَ، قَالَ خَرَجْتُ مَعَ زَيْدِ بْنِ صُوحَانَ وَسَلْمَانَ بْنِ رَبِيعَةَ فَوَجَدْتُ سَوْطًا قَالَ ابْنُ نُمَيْرٍ فِي حَدِيثِهِ فَالْتَقَطْتُ سَوْطًا فَأَخَذْتُهُ قَالاَ دَعْهُ ‏.‏ فَقُلْتُ لاَ أَدَعُهُ تَأْكُلُهُ السِّبَاعُ لآخُذَنَّهُ فَلأَسْتَمْتِعَنَّ بِهِ ‏.‏ فَقَدِمْتُ عَلَى أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ وَحَدَّثْتُهُ الْحَدِيثَ فَقَالَ أَحْسَنْتَ أَنَا وَجَدْتُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صُرَّةً فِيهَا مِائَةُ دِينَارٍ ‏.‏ قَالَ فَأَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ لِي ‏"‏ عَرِّفْهَا حَوْلاً ‏"‏ ‏.‏ فَعَرَّفْتُهَا حَوْلاً فَمَا أَجِدُ مَنْ يَعْرِفُهَا ثُمَّ أَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ ‏"‏ عَرِّفْهَا حَوْلاً آخَرَ ‏"‏ ‏.‏ فَعَرَّفْتُهَا ثُمَّ أَتَيْتُهُ بِهَا فَقَالَ ‏"‏ عَرِّفْهَا حَوْلاً آخَرَ ‏"‏ ‏.‏ وَقَالَ ‏"‏ أَحْصِ عِدَّتَهَا وَوِعَاءَهَا وَوِكَاءَهَا فَإِنْ جَاءَ طَالِبُهَا فَأَخْبَرَكَ بِعِدَّتِهَا وَوِعَائِهَا وَوِكَائِهَا فَادْفَعْهَا إِلَيْهِ وَإِلاَّ فَاسْتَمْتِعْ بِهَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৯ | 1379 | ۱۳۷۹

পরিচ্ছদঃ ওয়াকফ প্রসঙ্গে।

১৩৭৯. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ...... ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, খায়বারে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এর এক খন্ড জমি লাভ হয়। তিনি বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি খায়বারে কিছু মাল লাভ করেছি। এর চেয়ে উত্তম মাল আমি কখনো পাইনি। আপনি এই বিষয়ে আমাকে কি নির্দেশ দেন? তিনি বললেন, ইচ্ছে করলে, মূলটি ওয়াকফ করে এর উৎপাদিত ফল-ফসল সাদকা করে দিতে পার। অনন্তর উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু এই মর্মে তা ওয়াকফ করে দেন যে, মূল ভূমি বিক্রি করা যাবে না। তিনি তা দরিদ্র, নিকট আত্মীয়, গোলাম আযাদ করা, মুসাফির, মেহমান ও আল্লাহ পথে সাদকা করে দেন। ন্যায়ভাবে তা থেকে খেতে বা বন্ধুদের খাওয়াতে এর মুতাওয়াল্লীর জন্য কোন পাপ হবে না। তবে শর্ত হলো এ থেকে যেন সম্পদশালী হওয়ার প্রয়াস না পায়। - ইবনু মাজাহ ২৩৯৬, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৫ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইবনু আওন (রহঃ) বলেন, মুহাম্মদ ইবনু সিরীন (রহঃ) এর কাছে হাদীসটির আলোচনা করতে তিনি غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ এর স্থলে غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً রিওয়ায়াত করেছেন। ইবন আওফন বলেন, অন্য একজনও এটিকে আমার নিকট রিওয়ায়াত করেছেন। তিনি লাল চামড়ায় লেখা পড়েছেন যে, غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً  ইসমাঈল (রহঃ) বলেন, আমি এটিকে ইবনু উবায়দুল্লাহ ইবনু উমার-এর নিকট غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً রূপে পাঠ করেছি।

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ। সাহাবী ও অপরাপর আলিম এতদনুসারে আমল করেছেন। ভূমি ইত্যাদি ওয়াকফ করার অনুমতির বিষয়ে মুতাকাদ্দিমীন বা পূর্বসূরী আলিমগণের মাঝে কোন মতবিরোধ আছে বলে আমার জানা নেই।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Isma'il bin Ibrahim from Ibn 'Awn, from Nafi' that Ibn 'Umar said:
"Umar got some land from Khaibar and said: 'O Messenger of Allah! I got some wealth from Khaibar and I never ever had any wealth as plentiful as it, so what do you order me (to do with it)?' He said: 'If you wish, make it a grant and give charity from it.' So 'Umar gave it in charity: That is not to be sold entirely, nor given away, nor inherited, to be used to produce charity for the needy, those who are near it, for freeing slaves, for the cause of Allah, the wayfarer, the guest, and that there is no harm on its custodian consuming what is customary from it, or eating from its charity, without trying to amass wealth from it."

باب فِي الْوَقْفِ

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَنْبَأَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ أَصَابَ عُمَرُ أَرْضًا بِخَيْبَرَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَصَبْتُ مَالاً بِخَيْبَرَ لَمْ أُصِبْ مَالاً قَطُّ أَنْفَسَ عِنْدِي مِنْهُ فَمَا تَأْمُرُنِي قَالَ ‏ "‏ إِنْ شِئْتَ حَبَسْتَ أَصْلَهَا وَتَصَدَّقْتَ بِهَا ‏"‏ ‏.‏ فَتَصَدَّقَ بِهَا عُمَرُ أَنَّهَا لاَ يُبَاعُ أَصْلُهَا وَلاَ يُوهَبُ وَلاَ يُورَثُ تَصَدَّقَ بِهَا فِي الْفُقَرَاءِ وَالْقُرْبَى وَفِي الرِّقَابِ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَالضَّيْفِ لاَ جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهَا أَنْ يَأْكُلَ مِنْهَا بِالْمَعْرُوفِ أَوْ يُطْعِمَ صَدِيقًا غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ فِيهِ ‏.‏ قَالَ فَذَكَرْتُهُ لِمُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ فَقَالَ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً ‏.‏ قَالَ ابْنُ عَوْنٍ فَحَدَّثَنِي بِهِ رَجُلٌ آخَرُ أَنَّهُ قَرَأَهَا فِي قِطْعَةِ أَدِيمٍ أَحْمَرَ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً ‏.‏ قَالَ إِسْمَاعِيلُ وَأَنَا قَرَأْتُهَا عِنْدَ ابْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ فَكَانَ فِيهِ غَيْرَ مُتَأَثِّلٍ مَالاً ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ لاَ نَعْلَمُ بَيْنَ الْمُتَقَدِّمِينَ مِنْهُمْ فِي ذَلِكَ اخْتِلاَفًا فِي إِجَازَةِ وَقْفِ الأَرَضِينَ وَغَيْرِ ذَلِكَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৮০ | 1380 | ۱۳۸۰

পরিচ্ছদঃ ওয়াকফ প্রসঙ্গে।

১৩৮০. আলী ইবনু হুজর (রহঃ) ...... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মানুষ যখন মারা যায় তখন তিনটি আমল ব্যতীত তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায়, সাদাকায়ে জারিয়া, উপকার লাভ করার মত ইলম, নেক সন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে। - আহকামুল জানাইয ১৭৬, ইরওয়া ১৯৮০, মুসলিম, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৬ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Abu Hurairah, may Allah be pleased with him, narrated that the Messenger of Allah (ﷺ) said:
"When a person dies, his deeds are cut off except for three: Continuing charity, knowledge that others benefited from, and a righteous son who supplicates for him."

باب فِي الْوَقْفِ

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ إِذَا مَاتَ الإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَمَلُهُ إِلاَّ مِنْ ثَلاَثٍ صَدَقَةٌ جَارِيَةٌ وَعِلْمٌ يُنْتَفَعُ بِهِ وَوَلَدٌ صَالِحٌ يَدْعُو لَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৮১ | 1381 | ۱۳۸۱

পরিচ্ছদঃ অবোধ জীব জন্তুর আঘাত বাতিল।

১৩৮১. আহমাদ ইবনু মানী (রহঃ) ..... আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, অবোধ জীব জন্তুর আঘাত বাতিল, কুপে পতিত হয়ে মৃত্যু (এর ক্ষতিপূরণ) বাতিল, খনিতে পতিত হয়ে মৃত্যু (এর ক্ষতিপূরণ) বাতিল। আর ভূগর্ভে প্রাপ্ত ধনে এক পঞ্চমাংশ ধার্য হবে। - ইবনু মাজাহ ২৫০৯, ২৬৭৩, নাসাঈ, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৭ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই বিষয়ে জাবির, আমর ইবন আউফ মুযানী, উবাদা ইবনুুস সামিত রাদিয়াল্লাহু আনহুম থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদীসটি হাসান-সহীহ। কুতায়বা (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে। আনসারী (রহঃ) মা‘ন (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মালিক ইবনু আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর এই হাদীসটির ব্যাখ্যা হলো, جُبَارٌ অর্থ বাতিল, যাতে কোন দিয়াত ও জরিমানা নাই। الْعَجْمَاءُ جُرْحُهَا جُبَارٌ অবোধ জীব-জন্তুর আঘাত বাতিল, এই বাক্যটির মর্ম প্রসঙ্গে কতক আলিম বলেন, কোন জন্তুর মালিকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিয়ন্ত্রণাহীন অবস্থায় সেটি যদি অন্যের ক্ষতিকর কিছু করে বসে তবে তার মালিকের উপর কোন জরিমানা বা দন্ড বর্তাবে না।

وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ ‘‘খনিতে পতিত হয়ে মৃত্যু বাতিল’’ বাক্যটির মর্ম হলো, কেউ যদি (যথাযথ অনুমোদ নিয়ে) খনি খনন করে আর তাতে কেউ পড়ে মারা গেলে এর মালিকের উপর কোন জরিমানা বা দন্ড বর্তাবে না। অনুরূপে কেউ যদি পথিকদের জন্য রাস্তার পার্শ্বে কুপ খনন করে আর তাতে পড়ে কেউ মারা যায় তবে মালিকে উপর কোন জরিমানা বা দন্ড বর্তাবে না। وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ ‘‘ভূগর্ভস্থ সম্পদে এক পঞ্চমাংশ ধার্য হবে’’ বাক্যটির মর্ম হলো, ركاز অর্থ অনৈসলামী যুগে ভূগর্ভে প্রোথিত গুপ্তধন। এই সম্পদ যদি কারো হস্তগত হয় তবে সে সরকারকে এর এক পঞ্চমাংশ দিবে আর বাকী অংশ হবে তার নিজের।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Abu Hurairah:
that the Messenger of Allah (ﷺ) said: "The injuries caused by the animal are without liability, and wells are without liability, and mines are without liability, and the Khumus is due on Rikaz." (Another Chain) from Abu Hurairah, from the Prophet (ﷺ) with similar meaning.

باب مَا جَاءَ فِي الْعَجْمَاءِ جُرْحُهَا جُبَارٌ

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْعَجْمَاءُ جُرْحُهَا جُبَارٌ وَالْبِئْرُ جُبَارٌ وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ ‏"‏ ‏.‏
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَعَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيِّ وَعُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ حَدَّثَنَا مَعْنٌ قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَتَفْسِيرُ حَدِيثِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ‏"‏ الْعَجْمَاءُ جُرْحُهَا جُبَارٌ ‏"‏ ‏.‏ يَقُولُ هَدَرٌ لاَ دِيَةَ فِيهِ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى وَمَعْنَى قَوْلِهِ ‏"‏ الْعَجْمَاءُ جُرْحُهَا جُبَارٌ ‏"‏ ‏.‏ فَسَّرَ ذَلِكَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ قَالُوا الْعَجْمَاءُ الدَّابَّةُ الْمُنْفَلِتَةُ مِنْ صَاحِبِهَا فَمَا أَصَابَتْ فِي انْفِلاَتِهَا فَلاَ غُرْمَ عَلَى صَاحِبِهَا ‏.‏ ‏"‏ وَالْمَعْدِنُ جُبَارٌ ‏"‏ ‏.‏ يَقُولُ إِذَا احْتَفَرَ الرَّجُلُ مَعْدِنًا فَوَقَعَ فِيهَا إِنْسَانٌ فَلاَ غُرْمَ عَلَيْهِ وَكَذَلِكَ الْبِئْرُ إِذَا احْتَفَرَهَا الرَّجُلُ لِلسَّبِيلِ فَوَقَعَ فِيهَا إِنْسَانٌ فَلاَ غُرْمَ عَلَى صَاحِبِهَا ‏.‏ ‏"‏ وَفِي الرِّكَازِ الْخُمُسُ ‏"‏ ‏.‏ وَالرِّكَازُ مَا وُجِدَ فِي دَفْنِ أَهْلِ الْجَاهِلِيَّةِ ‏.‏ فَمَنْ وَجَدَ رِكَازًا أَدَّى مِنْهُ الْخُمُسَ إِلَى السُّلْطَانِ وَمَا بَقِيَ فَهُوَ لَهُ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৮২ | 1382 | ۱۳۸۲

পরিচ্ছদঃ অনাবাদী সরকারী জমি আবাদ করা।

১৩৮২. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ..... সাঈদ ইবনু যায়িদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কেউ যদি অনাবাদী জমি আবাদ করে তবে সেটি তার। যালিম মালিকের কোন হক নেই। - ইরওয়া ১৫২০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৮ [আল মাদানী প্রকাশনী]

ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, হাদীসটি হাসান-গারীব। কেউ কেউ এটিকে হিশাব ইবনু উরওয়া-তৎপিতা উরওয়া সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন। কতক সাহাবী ও অপরাপর আলিমদের এই হাদীস অনুসারে আমল করেছেন। এ হল ইমাম আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) এর অভিমত। তারা বলেন, সরকারের অনুমতি ছাড়াই অনাবাদী জমি আবাদ করা যাবে। কতক আলিম বলেন, সরকারের অনুমোদন ছাড়াই অনাবাদী ভূমি আবাদ করা যাবে না। প্রথম মতটই অদিকতর সহীহ।

এই বিষয়ে জাবির, কাছীরের পিতামহ আমর ইবনু আওফ মুযানী ও সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত আছে। আবূ মুসা মুহাম্মদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) বলেন, আমি আবূল ওয়ালিদ তায়ালসীকে وَلَيْسَ لِعِرْقِ ظَالِمٍ حَقٌّ বাক্যটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, الْعِرْقُ الظَّالِمُ হলো যে সম্পদে তার হক নেই সেই সম্পদ যে ব্যক্তি জবর দখল করে। আমি বললাম, অন্যের জমিতে যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে গাছ রোপন করে একি সেই ব্যক্তি? তিনি বললেন, হ্যাঁ, এ হলো সেই ব্যক্তি।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Sa'eed bin Zaid:
that the Prophet (ﷺ) said: "Whoever revives a barren land then it is for him, and there is no right for the unjust root."

باب مَا ذُكِرَ فِي إِحْيَاءِ أَرْضِ الْمَوَاتِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، أَخْبَرَنَا أَيُّوبُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ زَيْدٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنْ أَحْيَى أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ وَلَيْسَ لِعِرْقِ ظَالِمٍ حَقٌّ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَقَدْ رَوَاهُ بَعْضُهُمْ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مُرْسَلاً ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ بَعْضِ أَهْلِ الْعِلْمِ وَهُوَ قَوْلُ أَحْمَدَ وَإِسْحَاقَ قَالُوا لَهُ أَنْ يُحْيِيَ الأَرْضَ الْمَوَاتَ بِغَيْرِ إِذْنِ السُّلْطَانِ ‏.‏ وَقَدْ قَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ لَهُ أَنْ يُحْيِيَهَا إِلاَّ بِإِذْنِ السُّلْطَانِ ‏.‏ وَالْقَوْلُ الأَوَّلُ أَصَحُّ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَعَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيِّ جَدِّ كَثِيرٍ وَسَمُرَةَ ‏.‏ حَدَّثَنَا أَبُو مُوسَى مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى قَالَ سَأَلْتُ أَبَا الْوَلِيدِ الطَّيَالِسِيَّ عَنْ قَوْلِهِ ‏"‏ وَلَيْسَ لِعِرْقِ ظَالِمٍ حَقٌّ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الْعِرْقُ الظَّالِمُ الْغَاصِبُ الَّذِي يَأْخُذُ مَا لَيْسَ لَهُ ‏.‏ قُلْتُ هُوَ الرَّجُلُ الَّذِي يَغْرِسُ فِي أَرْضِ غَيْرِهِ قَالَ هُوَ ذَاكَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৮৩ | 1383 | ۱۳۸۳

পরিচ্ছদঃ অনাবাদী সরকারী জমি আবাদ করা।

১৩৮৩. মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহঃ) ...... জাবির ইবনু আবূদুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন অনাবাদী ভূমি আবাদ করবে সেটি হলো তার। - ইরওয়া ১৫৫০, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৭৯ [আল মাদানী প্রকাশনী]

(আবু ঈসা বলেন) এ হাদীসটি হাসান সহীহ।



হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Jabir bin 'Abdullah:
that the Prophet (ﷺ) said: "Whoever revives a barren land, then it is for him."

باب مَا ذُكِرَ فِي إِحْيَاءِ أَرْضِ الْمَوَاتِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ مَنْ أَحْيَا أَرْضًا مَيِّتَةً فَهِيَ لَهُ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ১৫/ বিধি-বিধান ও বিচার
হাদিস নম্বরঃ ১৩৮৪ | 1384 | ۱۳۸٤

পরিচ্ছদঃ জায়গীর প্রদান।

১৩৮৪. ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেন, আমি কুতায়বা (রহঃ) কে বললাম, মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু কায়স মারিবী (রহঃ) কি তার সনদে আবয়ায ইবনু হাম্মাল রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর খেদমতে গিয়েছিলেন। তখন তিনি তাঁর নিকট একটি লবণের খনি জায়গীর প্রার্থনা করেন। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি তাকে জায়গীর হিসাবে দিয়েছিলেন। আবয়ায (রাঃ) যখন উঠে যাচ্ছিলেন তখন এই মজলিসের জনৈক ব্যক্তি নাবীজীকে বলল, আপনি জানেন একে কি দিয়েছেন? একে তো আপনি একটি অফুরন্ত পানির প্রবাহ দিয়েছেন। অনন্তর নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেটি আবয়ায থেকে ফিরিয়ে নিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে তিনি আরো জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘আরাক’’ ঘাসের ভূমি কোন সীমা থেকে আবাদ করা যায়? তিনি বললেন, উটের পা যেখানে না পৌছে সেখান থেকে। - ইবনু মাজাহ ২৪৭৫, তিরমিজী হাদিস নম্বরঃ ১৩৮০ [আল মাদানী প্রকাশনী]

কুতায়বা তখন এটির কথা স্বীকার করলেন। বললেন, হ্যাঁ। মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু আবূ উমর (রহঃ) ... মুহাম্মদ ইবনু ইয়াহইয়া ইবনু কায়স মারিবী (রহঃ) থেকে অনুরূপ বর্ণণা করেছেন। এই বিষয়ে ওয়াইল ও আসমা বিনত আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবয়ায ইবনু হাম্মাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীষটি হাসান-গারীব। সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ জায়গীর প্রদান বিষয়ে এতদনুসারোমল করেছেন। ইমাম বা ইসলামী রাষ্ট্র প্রধান যাকে উপযুক্ত মনে করেন তাকে ইচ্ছা করলে জায়গীর প্রদানের ক্ষমতা রাখেন বলে তারা মত প্রকাশ করেছেন।



হাদিসের মানঃ  হাসান (Hasan)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Narrated Shumair:
that Abyad bin Hammal visited the Messenger of Allah (ﷺ) who asked him to set aside a reserve of salt(a mine). So he reserved it for him. As he was turning away, a man in the gathering said: "Do you know what you reserved for him ? You merely reserved stagnant water for him." He (Shumair) said: "So he left him." He (Shumair) said: "So he asked him (the Prophet (ﷺ)) about making a private pasture of Arak (a type of tree)." He said: "As long as it is not harmed by the hooves of the camels." So I (At-Tirmidhi) recited that before Qutaibah and he said: "Yes". (Another chain) with similar meaning.

باب مَا جَاءَ فِي الْقَطَائِعِ

قَالَ قُلْتُ لِقُتَيْبَةَ بْنِ سَعِيدٍ حَدَّثَكُمْ مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ قَيْسٍ الْمَأْرِبِيُّ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ بْنِ شُرَاحِيلَ، عَنْ سُمَىِّ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ شُمَيْرٍ، عَنْ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ، أَنَّهُ وَفَدَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَاسْتَقْطَعَهُ الْمِلْحَ فَقَطَعَ لَهُ فَلَمَّا أَنْ وَلَّى قَالَ رَجُلٌ مِنَ الْمَجْلِسِ أَتَدْرِي مَا قَطَعْتَ لَهُ إِنَّمَا قَطَعْتَ لَهُ الْمَاءَ الْعِدَّ ‏.‏ قَالَ فَانْتَزَعَهُ مِنْهُ ‏.‏ قَالَ وَسَأَلَهُ عَمَّا يُحْمَى مِنَ الأَرَاكِ قَالَ ‏ "‏ مَا لَمْ تَنَلْهُ خِفَافُ الإِبِلِ ‏"‏ ‏.‏ فَأَقَرَّ بِهِ قُتَيْبَةُ وَقَالَ نَعَمْ ‏.‏
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى بْنِ قَيْسٍ الْمَأْرِبِيُّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ ‏.‏ الْمَأْرِبُ نَاحِيَةٌ مِنَ الْيَمَنِ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ وَائِلٍ وَأَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبْيَضَ بْنِ حَمَّالٍ حَدِيثٌ غَرِيبٌ ‏.‏ وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَغَيْرِهِمْ فِي الْقَطَائِعِ يَرَوْنَ جَائِزًا أَنْ يُقْطِعَ الإِمَامُ لِمَنْ رَأَى ذَلِكَ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [51]  থেকে  [60]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [65]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।