• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [565] টি | অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ) | দেখানো হচ্ছে   [361]  থেকে  [370]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৭ | 1797 | ۱۷۹۷

১৭৯৭। কুতায়বা (রহঃ) ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে গুই সাপ খাওয়ার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, আমি তা আহার করি না এবং তা হারামও বলি না। এই বিষয়ে উমার, আবূ সাঈদ, ইবনু আব্বাস, ছাবিত ইবনু ওয়াদীয়া, জাবির ও আবদুর রহমান ইবনু হাসানা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। গুই সাপ খাওয়া সম্পর্কে আলিমগণের মতবিরোধ রয়েছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ফকীহ সাহাবী ও অন্যান্য ফকীহগণ এর অনুমতি দেন আর কতিপয় আলিম তা হারাম বলে মত পোষণ করেন। ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর দস্তরখানে গুই সাপ খাওয়া হয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনীহাবশতঃ তা পরিত্যাগ করেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৮ | 1798 | ۱۷۹۸

১৭৯৮। আহমাদ ইবনু মানী‘ (রহঃ) আবূ’আম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ-কে বললাম, খাট্টাশ কি শিকারযোগ্য প্রাণী? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম আমরা কি তা খাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি বললাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি তা বলেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। কতক আলিম এতদনুসারে মত পোষণ করেন। তাঁরা খাট্টশ খাওয়ায় কোন দোষ আছে বলে মনে করেন না। এ হল আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ) -এর অভিমত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে খাট্টাশ খাওয়ার অপছন্দনীয় বলে একটি হাদীস রিওয়ায়াত আছে এবং তার সনদ তেমন শক্তিশালী নয়। কতক আলিম খাট্টাশ আহার অপছন্দনীয় বলে মত প্রকাশ করেছেন। এ হল ইমাম ইবনু মুবারক রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর অভিমত। ইয়াহইয়া ইবনু কাত্তান বলেছেন, জাবির ইবনু হাকিম এই হাদীসটিকে আবদুল্লাহ ইবনু উবায়দ ইবনু উমায়র-ইবনু আবূ আমার-জাবির-উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে তাঁর বক্তব্য হিসাবে বর্ণিত আছে। তবে ইবনু জুরায়য (রহঃ) -এর রিওয়ায়াতটি (১৭৯৮ নং) অধিকতর সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৭৯৯ | 1799 | ۱۷۹۹

১৭৯৯। হান্নাদ (রহঃ) খুযায়মা ইবনু জায রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি খাট্টাশ খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বললেন, খাট্টাশ কেউ খায়? আমি তাঁকে নেকড়ে বাঘ খাওয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, যার মাঝে মঙ্গল আছে এমন কেউ কি নেকড়ে খায়? এই হাদীসটির সনদ শক্তিশালী নয়। ইসমাঈল ইবনু মুসলিম-আবদুল করিম ইবনু উমাইয়্যা সূত্র ছাড়া হাদীসটি সম্পর্কে আমরা অবগত নই। কতক হাদীস বিশেষজ্ঞ ইসমাঈল এবং আবদুল করিম আবূ উমাইয়া-এর সমালোচনা করেছেন। এই আবদুল কারীম হলেন, আবদুল কারীম ইবনু কায়স। ইনই হলেন ইবনু আবূল-মুখারিক। পক্ষন্তরে আবদুল কারীম ইবনু মালিক জাযারী হলেন নির্ভরযোগ্য রাবী।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৮০০ | 1800 | ۱۸۰۰

১৮০০। কুতায়বা ও নাসর ইবনু আলী (রহঃ) জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদিগকে ঘোড়ার গোশত আহার করিয়েছিলেন কিন্তু গাধার গোশত খেতে নিষেধ করেছেন। এই বিষয়ে আসমা বিনত আবূ বাকর রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আমর ইবনু দ্বীনার-জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে একাধিক বর্ণনাকারী অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। হাম্মদ ইবনু যায়দ (রহঃ) এ হাদীসটি আমর ইবনু দ্বীনার-মুহাম্মদ ইবনু আলী-জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনু উয়ায়না রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ। মুহাম্মদকে আল-বুখারী (রহঃ) থেকে বলতে শুনেছি যে, সুফইয়ান ইবনু উয়ায়না (রহঃ) হাম্মাদ ইবনু যায়দ (রহঃ) অপেক্ষা অধিক স্মরণ শক্তি সম্পন্ন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৮০১ | 1801 | ۱۸۰۱

১৮০১। মুহাম্মদ ইবনু বাশশার ও ইবনু আবূ উমার (রহঃ) আলী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে মুত’আ বিবাহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত আহার থেকে নিষেধ করেছেন। সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান মাখযূমী (রহঃ) মুহাম্মদ ইবনু আলীর দুই পুত্র আবদুল্লাহ ও হাসান (রহঃ) থেকে বর্ণিত যুহরী (রহঃ) বলেন, এই দুই জনের মধ্যে হাসান ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) ই হলেন, অধিক সন্তোষজনক। সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান ব্যতীত অন্যরা ইবনু উয়ায়না (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, এদের মধ্যে আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মদ (রহঃ) হলেন অধিক সন্তোষজনক। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৮০২ | 1802 | ۱۸۰۲

১৮০২। আবূ কুরায়ব (রহঃ) আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, খায়বার যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাতাল হিংস্র পশু মুজাচ্ছামা (যে পশু বেঁধে রেখে তীর ছুড়ে হত্যা করা হয়) এবং গৃহপালিত গাধা হারাম ঘোষণা করেছেন। এ বিষয়ে আলী, জাবির, বারা, ইবনু আবূ আওফা, আনাস, ইরবায ইবনু সারিয়া, আবূ ছা‘লাবা, ইবনু উমার ও আবূ সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মদ প্রমুখ (রহঃ) হাদীসটি মুহাম্মদ ইবনু টউমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁরা এই একটি মাত্র বিষয়ে উল্লেখ করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁতাল হিংস্র পশু হারাম ঘোষণা করেছেন।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৮০৩ | 1803 | ۱۸۰۳

১৮০৩। যায়দ ইবনু আখযাম তাঈ (রহঃ) আবূ ছা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে অগ্নি উপাসকদের পাত্র ব্যবহার করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি বললেন, এগুলো ধুয়ে খুব পরিস্কার করে নিবে এবং তাতে পাক-সাফ করবে। তিনি দাঁতাল হিংস্র প্রাণী (এর গোশত) নিষেধ করেছেন। আবূ ছা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর রিওয়ায়াত হিসাবে এ হাদীসটি মাশহুর। তার বরাতে এটি অন্য ভাবেও বর্ণিত আছে। আবূ ছা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর নাম হল জুরছুম, বর্ণনান্তে জেুরহুম, নাশিব বলেও কথিত আছে। এই হাদীসটি আবূ কিলাবা-আবূ আসমা রাহবী-আবূ ছা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রেও উল্লেখিত আছে।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৮০৪ | 1804 | ۱۸۰٤

১৮০৪। আলী ইবনু ঈসা ইয়াযীদ বাগদাদী (রহঃ) আবূ ছা‘লাবা খুশানী রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা কিতাবীদের ভূ-অঞ্চলে বাস করি। (অনেক সময়) তাদের ডেকচীতে রান্না-বান্না করি এবং তাদের পাত্রে পানি পান করি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তা ছাড়া যদি কিছু না পাও তবে এগুলোকে পানি দিয়ে ধুয়ে নিবে। এরপর আবূ ছা‘লাবা রাদিয়াল্লাহু আনহ বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমরা তো শিকারাঞ্চলেও থাকি। এই বিষয়ে আমরা কি করব? তিনি বললেন, তুমি তোমার প্রশিক্ষিত কুকুর বিসমিল্লাহ বলে শিকারের উদ্দেশ্যে পাঠালে আর তা যদি মিখারকে মেরে ফেলে তবে তুমি তা আহার করতে পারবেঅ আর যদি সেটি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত না হয় এমতাবস্থায় শিকারটি যবেহ করা হয় তবে তুমি আহার করতে পারবে। বিসমিল্লাহ বলে তুমি তীর নিক্ষেপ করে থাকলে ও তার আঘাতে নিহত হলে তুমি তা আহার করতে পারবে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৮০৫ | 1805 | ۱۸۰۵

১৮০৫। সাঈদ ইবনু আবদুর রহমান ও আবূ আম্মার (রহঃ) মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, একবার একটি ইঁদুর (জমাট) ঘি-তে পড়ে মারা যায়। এ বিষয়ে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ইঁদুরটি এবং এর চতুষ্পার্শ্বস্থ ঘি ফেলে দিবে। তারপর তা (বাকী ঘি) খাবে। এই বিষয়ে আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। যুহরী-উবায়দুল্লাহ-ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ সনদে ও এই হাদীসটি বর্ণিত আছে যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। এই সনদে মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহ-এর উল্লেখ নাই। কিন্তু ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহ সনদে বর্ণিত হাদীসটি (১৮০৫ নং) অধিকত সহীহ। মামার-যুহরীসাঈদ ইবনু মুসায়্যাআবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূত্রে অনুরূপ রিওয়ায়াত করেছেন। এই রিওয়ায়াতটি মাহফুজ নয়। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল বুখারী (রহঃ) -কে বলতে শুনেছি যে মা‘মারযুহরীসাঈদ ইবনুল মাসায়্যাব আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে বর্ণনাটি ভুল। সহীহ হল যুহরী উবায়দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহ মায়মূনা রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রের রিওয়ায়াতটি।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
গ্রন্থঃ সূনান তিরমিজী (ইফাঃ)
অধ্যায়ঃ ২৮/ খাদ্য সম্পর্কিত
হাদিস নম্বরঃ ১৮০৬ | 1806 | ۱۸۰٦

১৮০৬। ইসহাক ইবনু মানসুর (রহঃ) আবদুল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকে বর্ণিত যে, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ বাম হাতে আহার করবে না এবং বাম হাতে পান করবে না। কেননা শয়তান তার বাম হাতে খায় এবং বাম হাতে পান করে। এই বিষয়ে জাবির, উমার ইবনু আবূ সালামা, সালামা ইবনু আকওয়া, আনাস ইবনু মালিক ও হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহ থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইমাম আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। মালিক এবং ইবনু উবায়না (রহঃ) ও এটিকে যুহরী আবূ বাকর ইবনু উবায়দিল্লাহ ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে র্বণনা করেছেন। মা‘মার এবং উকায়ল (রহঃ) এটিকে যুহরী (রহঃ) সালিম ইবনু উমার রাদিয়াল্লাহু আনহ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মালিক ও ইবনু উবায়না (রহঃ) -এর রিওয়ায়াতটি অধিকতর সহীহ।



হাদিসের মানঃ  তাহকীক অপেক্ষমাণ
পুনঃনিরীক্ষণঃ
Sorry! No English Hadith Added Yet!
দুঃখিত! আরবী অংশ এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।
দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [361]  থেকে  [370]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [565]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।