• ৫৬৪০৩ টি সর্বমোট হাদিস আছেঃ
  • ৫৭৫৬ টি প্রশ্নোত্তর ও ফিকাহঃ

 

 

 

 


হাদীস (حَدِيْث) এর শাব্দিক অর্থ: নতুন, প্রাচীন ও পুরাতন এর বিপরীত বিষয়। এ অর্থে যে সব কথা, কাজ ও বস্ত্ত পূর্বে ছিল না, এখন অস্তিত্ব লাভ করেছে  তাই হাদীস। এর আরেক অর্থ হলো: কথা। ফক্বীহগণের পরিভাষায় নাবী কারীম () আল্লাহ্‌র রাসূল হিসেবে যা কিছু বলেছেন, যা কিছু করেছেন এবং যা কিছু বলার বা করার অনুমতি দিয়েছেন অথবা সমর্থন জানিয়েছেন তাকে হাদীস বলা হয়। কিন্তু মুহাদ্দিসগণ এর সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () সম্পর্কিত বর্ণনা ও তার গুণাবলী সম্পর্কিত বিবরণকেও হাদীসের অন্তর্ভুক্ত করেন। এ হিসেবে হাদীসকে প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শ্রেণীতে ভাগ করা যায়:

১। ক্বওলী হাদীস: কোন বিষয়ে রাসুলুল্লাহ () যা বলেছেন, অর্থাৎ যে হাদীসে তাঁর কোন কথা বিবৃত হয়েছে তাকে ক্বওলী (বাণী সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

২। ফেলী হাদীস: মহানাবী ()-এর কাজকর্ম, চরিত্র ও আচার-আচরণের ভেতর দিয়েই ইসলামের যাবতীয় বিধি-বিধান ও রীতিনীতি পরিস্ফুট হয়েছে। অতএব যে হাদীসে তাঁর কোন কাজের বিবরণ উল্লেখিত হয়েছে তাকে ফে’লী (কর্ম সম্পর্কিত) হাদীস বলা হয়।

৩। তাকরীরী হাদীস: সাহাবীগণের যে সব কথা বা কাজ নাবী কারীম ()-এর অনুমোদন ও সমর্থন প্রাপ্ত হয়েছে, সে ধরনের কোন কথা বা কাজের বিবরণ হতেও শরীয়াতের দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়। অতএব যে হাদীসে এ ধরনের কোন ঘটনার বা কাজের উল্লেখ পাওয়া যায় তাকে তাকরীরী (সমর্থন মূলক) হাদীস বলে।

সুন্নাহ (السنة): হাদীসের অপর নাম সুন্নাহ্ (السنة) সুন্নাত শব্দের অর্থ চলার পথ, কর্মের নীতি ও পদ্ধতি। যে পন্থা ও রীতি নাবী কারীম () অবলম্বন করতেন তাকে সুন্নাত বলা হয়। অন্য কথায় রাসুলুল্লাহ () প্রচারিত উচ্চতম আদর্শই সুন্নাত। কুরআন মাজিদে মহত্তম ও সুন্দরতম আদর্শ (أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ) বলতে এই সুন্নাতকেই বুঝানো হয়েছে।

খবর (خبر): হাদীসকে আরবী ভাষায় খবরও (خبر) বলা হয়। তবে খবর শব্দটি হাদীস ও ইতিহাস উভয়টিকেই বুঝায়।

আসার (أثر ): আসার শব্দটিও কখনও কখনও রাসুলুল্লাহ () এর হাদীসকে নির্দেশ করে। কিন্তু অনেকেই হাদীস ও আসার এর মধ্যে কিছু পার্থক্য করে থাকেন। তাঁদের মতে- সাহাবীগণ থেকে শরীয়াত সম্পর্কে যা কিছু উদ্ধৃত হয়েছে তাকে আসার বলে।

 

ইলমে হাদীসের কতিপয় পরিভাষা

সাহাবী (صحابى):  যিনি ঈমানের সঙ্গে রাসুলুল্লাহ () এর সাহচর্য লাভ করেছেন এবং ঈমানের সঙ্গে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে রাসুলুল্লাহ ()-এর সাহাবী বলা হয়।

তাবেঈ (تابعى) : যিনি রাসুলুল্লাহ ()-এর কোন সাহাবীর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবেঈ বলা হয়।

তাবে-তাবেঈ (تابعى تابع) : যিনি  কোন তাবেঈ এর নিকট হাদীস শিক্ষা করেছেন অথবা অন্ততপক্ষে তাঁকে দেখেছেন এবং মুসলমান হিসেবে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁকে তাবে-তাবেঈ বলা হয়।

মুহাদ্দিস (محدث) : যিনি হাদীস চর্চা করেন এবং বহু সংখ্যক হাদীসের সনদ ও মতন সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন তাঁকে মুহাদ্দিস বলা হয়।

শাইখ (شيخ) : হাদীসের শিক্ষাদাতা রাবীকে শায়খ বলা হয়।

শাইখান (شيخان) : সাহাবীগনের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) ও উমর  (রাঃ)- কে একত্রে শাইখান বলা হয়। কিন্তু হাদীস শাস্ত্রে ইমাম বুখারী (রাহি.) ও ইমাম মুসলিম (রাহি.)-কে এবং ফিক্বহ-এর পরিভাষায় ইমাম আবূ হানীফা (রাহি.) ও আবূ ইউসুফ (রাহি.)-কে একত্রে শাইখান বলা হয়। 

হাফিয (حافظ) : যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লাখ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।

হুজ্জাত (حجة) : অনুরূপভাবে যিনি তিন লক্ষ হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাঁকে হুজ্জাত বলা হয়।  

হাকিম (حاكم) : যিনি সব হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে হাকিম বলা হয়।

রিজাল (رجال) : হাদীসের রাবী সমষ্টিকে রিজাল বলে। যে শাস্ত্রে রাবীগণের জীবনী বর্ণনা করা হয়েছে তাকে আসমাউর-রিজাল বলা হয়।                                                                                 

রিওয়ায়াত (رواية): হাদীস বর্ণনা করাকে রিওয়ায়াত বলে। কখনও কখনও মূল হাদীসকেও রিওয়ায়াত বলা হয়। যেমন- এই কথার সমর্থনে একটি রিওয়ায়াত (হাদীস) আছে।                           

সনদ (سند): হাদীসের মূল কথাটুকু যে সূত্র পরম্পরায় গ্রন্থ সংকলনকারী পর্যন্ত পৌঁছেছে তাকে সনদ বলা হয়। এতে হাদীস বর্ণনাকারীদের নাম একের পর এক সজ্জিত থাকে।

মতন (متن): হাদীসে মূল কথা ও তার শব্দ সমষ্টিকে মতন বলে।

মারফূ (مرفوع): যে হাদীসের সনদ (বর্ণনা পরম্পরা) রাসুলুল্লাহ () পর্যন্ত পৌঁছেছে  তাকে মারফূ হাদীস বলে।

মাওকূফ (موقوف) : যে হাদীসের বর্ণনা- সূত্র ঊর্ধ্ব দিকে সাহাবী পর্যন্ত পৌঁছেছে , অর্থাৎ যে সনদ -সূত্রে কোন সাহাবীর কথা বা কাজ বা অনুমোদন বর্ণিত হয়েছে তাকে মাওকূফ হাদীস বলে। এর অপর নাম আসার।

মাকতূ (مقطوع): যে হাদীসের সনদ কোন তাবেঈ পর্যন্ত পৌঁছেছে, তাকে মাকতূ হাদীস বলা হয়।

তালীক (تعليق): কোন কোন গ্রন্থকার হাদীসের পূর্ণ সনদ বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা’লীক বলা হয়।

মুদাল্লাস (مدلس): যে হাদীসের রাবী নিজের প্রকৃত শাইখের (উস্তাদের) নাম উল্লেখ না করে তার উপরস্থ শাইখের নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই উপরস্থ শাইখের নিকট তা শুনেছেন অথচ তিনি তাঁর নিকট সেই হাদীস শুনেন নি- সে হাদীসকে মুদাল্লাস হাদীস এবং এইরূপ করাকে ‘তাদ্লীস’ আর যিনি এইরূপ করেন তাকে মুদালস্নীস বলা হয়।

মুযতারাব (مضطرب): যে হাদীসের রাবী হাদীসের মতন ও সনদকে বিভিন্ন প্রকারে বর্ণনা করেছেন সে হাদীসকে হাদীসে মুযতারাব বলা হয়। যে পর্যন্ত না এর কোনরূপ সমন্বয় সাধন সম্ভবপর হয়, সে পর্যন্ত এই হাদীসের ব্যাপারে অপেক্ষা করতে হবে অর্থাৎ এই ধরনের রিওয়ায়াত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।

মুদ্রাজ (مدرج): যে হাদীসের মধ্যে রাবী নিজের অথবা অপরের উক্তিকে অনুপ্রবেশ করিয়েছেন, সে হাদীসকে মুদ্রাজ এবং এইরূপ করাকে ‘ইদরাজ’ বলা হয়।

মুত্তাসিল (متصل): যে হাদীসের সনদের ধারাবাহিকতা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণরূপে রক্ষক্ষত আছে, কোন সত্মরেই কোন রাবীর নাম বাদ পড়ে নি তাকে মুত্তাসিল হাদীস বলে।

মুনকাতি (منقطع): যে হাদীসের সনদে ধারাবাহিকতা রক্ষিত হয় নি, মাঝখানে কোন এক স্তরে কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে, তাকে মুনকাতি হাদীস, আর এই বাদ পড়াকে ইনকিতা বলা হয়।

মুরসাল (مرسل): যে হাদীসের সনদে ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে, অর্থাৎ সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে এবং তাবেঈ সরাসরি রাসুলুল্লাহ () এর উল্লেখ করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে মুরসাল হাদীস বলা হয়।

মুআল্লাক ( معلق ) : সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে  হলে, অর্থাৎ সাহাবীর পর এক বা একাধিক রাবীর নাম বাদ পড়লে তাকে মু’আল্লাক হাদীস বলা হয়।

মুদাল (معضل): যে হাদীসে দুই বা ততোধিক রাবী ক্রমান্বয়ে সনদ থেকে বাদ পড়েছে তাকে মু‘দাল হাদীস বলে।

মুতাবি ও শাহিদ (متابع و شاهد): এক রাবীর হাদীসের অনুরূপ যদি অপর রাবীর কোন হাদীস পাওয়া যায় তবে দ্বিতীয় রাবীর হাদীসকে প্রথম রাবীর হাদীসের মুতাবি বলা হয়। যদি উভয় হাদীসের মূল রাবী অর্থাৎ সাহাবী একই ব্যক্তি না হয় তবে দ্বিতীয় ব্যক্তির হাদীসকে শাহিদ বলে। আর এইরূপ হওয়াকে শাহাদাত বলে। মুতাবা’আত ও শাহাদাত দ্বারা প্রথম হাদীসটির শক্তি বৃদ্ধি পায়।

মারূফ ও মুনকার (معروف و منكر): কোন দুর্বল রাবীর বর্ণিত হাদীস অপর কোন মাকবূল (গ্রহণযোগ্য) রাবীর বর্ণিত হাদীসের বিরোধী হলে তাকে মুনকার বলা হয় এবং মাকবূল রাবীর হাদীসকে মা‘রূফ বলা হয়।

সহীহ (صحيح) : যে মুত্তাসিল হাদীসের সনদে উল্লেখিত প্রত্যেক রাবীই পূর্ণ আদালত ও যাবত (ধারণ ক্ষমতা) গুণ সম্পন্ন এবং হাদীসটি যাবতীয় দোষত্রুটি ও শায মুক্ত তাকে সহীহ হাদীস বলে।

হাসান (حسن) : যে হাদীসের মধ্যে রাবীর যাবত (ধারণ ক্ষমতা) এর গুণ ব্যতীত সহীহ হাদীসের সমস্ত শর্তই পরিপূর্ণ রয়েছে তাকে হাসান হাদীস বলা হয়। ফক্বীহগণ সাধারণত সহীহ ও হাসান হাদীসের ভিত্তিতে শরীয়াতের বিধান নির্ধারণ  করেন।

যঈফ (ضعيف ) : যে হাদীসের রাবী কোন হাসান হাদীসের রাবীর গুণসম্পন্ন নন তাকে যঈফ হাদীস বলে।

মাওযূ ( موضوع ) : যে হাদীসের রাবী জীবনে কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে রাসুলুল্লাহ ()-এর নামে মিথ্যা কথা রটনা করেছেন বলে প্রমাণিত হয়েছে, তার বর্ণিত হাদীসকে মাওযূ‘ হাদীস বলে।

 

রাবীর সংখ্যা বিচারে হাদীস প্রধানত দুপ্রকার। যথা: ১. মুতওয়াতির (متواتر) ও ২. আহাদ (أحاد)

১. মুতওয়াতির (متواتر): বৃহৎ সংখ্যক রাবীর বর্ণিত হাদীস, মিথ্যার ব্যাপারে যাদের উপর একাট্টা হওয়া অসম্ভব, সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ সংখ্যা বিদ্যমান থাকলে হাদীসকে মুতওয়াতির (متواتر) বলা হয়।

২. আহাদ (أحاد): أحاد তিন প্রকার। যথা:

মাশহুর (مشهور): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দুই এর অধিক হয়, কিন্তু মুতওয়াতির এর পর্যায়ে পৌঁছে না তাকে মাশহুর (مشهور) বলে।

আযীয (عزيز): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি দু‘জন হয় ।

গরীব (غريب): যে কোন স্তরে হাদীস বর্ণনা কারীর সংখ্যা যদি এক জন হয় ।

শায (شاذ): একাধিক নির্ভরযোগ্য রাবীর বিপরীত একজন নির্ভরযোগ্য রাবীর বর্ণনাকে শায হাদীস বলে।

 কিয়াস (قياس): অর্থ অনুমান, পরিমাপ, তুলনা ইত্যাদি। পরিভাষায়: শাখাকে মূলের সঙ্গে তুলনা করা, যার ফলে শাখা ও মূল একই হুকুমের অমত্মর্ভুক্ত হয়ে যায়।

তাক্বলীদ (تقليد): দলীল উল্লেখ ছাড়াই কোন ব্যক্তির মতামতকে গ্রহণ করা।

ইজতিহাদ (اجتهاد): উদ্দিষ্ট জ্ঞান অর্জনের প্রচেষ্টা চালানোকে ইজতিহাদ বলে।

শরীয়াত (شريعة): অর্থ: আইন, বিধান, পথ, পন্থা ইত্যাদি। পরিভাষায়: মহান আল্লাহ্‌ স্বীয় দীন হতে বান্দার জন্য যা বিধিবদ্ধ করে দিয়েছেন তাকে শরীয়াত বলে।

মাযহাব (مذهب): অর্থ- মত, পথ, মতবাদ ইত্যাদি। ফিক্বহী পরিভাষায়: ইবাদাত ও মু‘আমালাতের ক্ষেত্রে শারঈ হুকুম পালনের জন্য বান্দা যে পথ অনুসরণ করে এবং প্রত্যেক দলের জন্য একজন ইমামের উপর অথবা ইমামের ওসীয়ত কিংবা ইমামের প্রতিনিধির উপর নির্ভর করে তাকে মাযহাব বলে।

নাযর (نذر): কোন বিষয়ে উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য চিন্তা-ভাবনা করাকে নাযর বলে।

আম (عام): সীমাবদ্ধ করা ছাড়াই যা দুই বা ততোধিক বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে তাকে আম বলে।

খাস (خاص): আম এর বিপরীত, যা নির্দিষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

ইজমা (اجماع): কোন এক যুগে আলিমদের কোন শারঈ বিষয়ের উপর এক মত পোষণ করাকে ইজমা বলে।

মুসনাদ (مسند): যার সনদগুলো পরস্পর এমনভাবে মিলিত যে, প্রত্যেকের বর্ণনা সুস্পষ্ট।

ফিক্বহ (فقه): ইজতিহাদ বা গবেষণার পদ্ধতিতে শারঈ হুকুম সম্পর্কে জানার বিধানকে ফিক্বহ বলে।

আসল বা মূল (اصل): এমন প্রথম বিষয়, যার উপর ভিত্তি করে কোন কিছু গড়ে উঠে। যেমন- দেয়ালের ভিত্তি।

ফারা বা শাখা (فرع): আসলের বিপরীত যা কোন ভিত্তির উপর গড়ে উঠে।

ওয়াজিব (واجب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মানদূব (مندوب): যা আমল করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর পরিত্যাগ করলে শাস্তি হবে না।

মাহযূর (محظور): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি পাওয়া যাবে।

মাকরূহ (مكروه): যা পরিত্যাগ করলে সাওয়াব পাওয়া যাবে আর আমল করলে শাস্তি হবে না।

ফাৎওয়া (فتوى): জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির নিকট থেকে দলীল ভিত্তিক শারঈ হুকুম সুস্পষ্ট বর্ণনা করে নেয়াকে ফাৎওয়া বলে।

নাসিখ (ناسخ): পরিবর্তিত শারঈ দলীল যা পূববর্তী শারঈ হুকুমকে রহিত করে দেয় তাকে নাসিখ বলে।

মানসূখ (منسوخ): আর যে হুকুমটি রহিত হয়ে যায় সেটাই মানসূখ।

মুতলাক্ব (مطلق): যা প্রকৃতিগত দিক থেকে জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে কিন্তু অনির্দিষ্টভাবে একটি অর্থকে বুঝায়।

মুকাইয়্যাদ (مقيد): যা মুতলাক্বের বিপরীত অর্থাৎ জাতির সকলকে অন্তর্ভুক্ত  করে না। বরং নির্দিষ্ট একটি অর্থকে বুঝায়।

হাক্বীকাত (حقيقة): শব্দকে আসল অর্থে ব্যবহার করাকে হাক্বীকত বলে। যেমন- সিংহ শব্দটি এক প্রজাতির হিংস্র প্রাণীকে বুঝায়।

মাজায (مجاز): শব্দ যখন আসল অর্থকে অতিক্রম করে তার সাথে সাদৃশ্য রাখে এমন অর্থ প্রকাশ করে তখন তাকে মাজায বলে। যেমন- সাহসী লোককে সিংহের সাথে তুলনা করা।

হাদিসের পরিসংখ্যান

সর্বমোট হাদিস পাওয়া গেছেঃ [1501] টি | অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ | দেখানো হচ্ছে   [301]  থেকে  [310]  পর্যন্ত
প্রতি পাতাতে টি হাদিস

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩০১ | 301 | ۳۰۱

পরিচ্ছদঃ ১/১০. পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় যা বলবে

২/৩০১। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানা থেকে বের হওয়ার সময় বলতেনঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র জন্য যিনি আমার থেকে কষ্ট দূর করেছেন এবং স্বস্তি দান করেছেন।


তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়ায়িল গালীল ৫৩, জামি সগীর ৪৭১, ৪৩৭৮, ৪৩৮৮; মিশকাত ৩৭৪, ইরওয়াহ ৫৩ যঈফাহ্ ৫৬৫৮। উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাইল বিন মুসলিম সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, মুনকারুল হাদিস। ইবনু মাঈন বলেন, কোন সমস্যা নেই। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহনযোগ্য নয়। আমর ইবনুল ফাল্লাস বলেন, হাদিস বর্ণনায় তিনি দুর্বল তাছাড়া তিনি হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন।

হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

It was narrated that Anas bin Malik said:
"Whenever the Prophet exited the toilet, he would say: 'Al-hamdu lillahilladhi adhhaba 'annial-adha wa 'afani (Praise is to Allah Who has relieved me of impurity and given me good health).'"

بَاب مَا يَقُولُ إِذَا خَرَجَ مِنْ الْخَلَاءِ

حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ الْمُحَارِبِيُّ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ مُسْلِمٍ، عَنِ الْحَسَنِ، وَقَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ إِذَا خَرَجَ مِنَ الْخَلاَءِ قَالَ ‏ "‏ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الأَذَى وَعَافَانِي ‏"‏ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩০২ | 302 | ۳۰۲

পরিচ্ছদঃ ১/১১. পায়খানায় অবস্থানকালে মহান আল্লাহ্‌র যিকর করা এবং আংটি খোলা।

১/৩০২। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বাবস্থায় আল্লাহ্‌র যিকর করতেন।


তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: মুসলিম ৩৭৩, তিরমিযী ৩৩৮৪, আবূ দাঊদ ১৮, আহমাদ ২৩৮৮৯, ২৪৬৭৪, ২৫৮৪৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ৪০৬।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

'Urwah narrated from 'Aishah that:
The Messenger of Allah used to remember Allah in all circumstances.

بَاب ذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى الْخَلَاءِ وَالْخَاتَمِ فِي الْخَلَاءِ

حَدَّثَنَا سُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ زَكَرِيَّا بْنِ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ الْبَهِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يَذْكُرُ اللَّهَ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩০৩ | 303 | ۳۰۳

পরিচ্ছদঃ ১/১১. পায়খানায় অবস্থানকালে মহান আল্লাহ্‌র যিকর করা এবং আংটি খোলা।

১/৩০৩। আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পায়খানায় প্রবেশের আগে তার আংটি খুলে রাখতেন।


তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: তিরমিযী ১৭৪৬, নাসায়ী ৫২১৩, আবূ দাঊদ ১৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ১৯ মুনকার, জামি সগীর ৪৩৯০ যঈফ, নাসায়ী ৫২১৩ যঈফ, তিরমিযী ১৭৪৬ যঈফ, মিশকাত ৩৪৩ যঈফ, মিশকাত ৩৪৩, যঈফ আবী দাউদ ৪, মুতখাসার শামায়িল মুহাম্মাদিয়া ৭৫।

হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

It was narrated from Anas bin Malik that:
When the Prophet entered the toilet, he would take off his ring.

بَاب ذِكْرِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى الْخَلَاءِ وَالْخَاتَمِ فِي الْخَلَاءِ

حَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ الْحَنَفِيُّ، حَدَّثَنَا هَمَّامُ بْنُ يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ إِذَا دَخَلَ الْخَلاَءَ وَضَعَ خَاتَمَهُ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩০৪ | 304 | ۳۰٤

পরিচ্ছদঃ ১/১২. গোসলখানায় পেশাব করা মাকরূহ।

১/৩০৪। আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফাল (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার গোসলখানায় পেশাব না করে। কেননা তা থেকেই যাবতীয় সন্দেহের উদ্রেক হয়।

১/৩০৪ (১) আবদুল্লাহ বিন মাজাহ (রহঃ) বলেন, আমি মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি আলী ইবনু মুহাম্মাদ আত-তানাফিসী (রহঃ)-কে বলতে শুনেছেন, এ নির্দেশ সেই সময়ের যখন গোসলখানা কাঁচা ছিল। যেহেতু বর্তমানকালে গোসলখানা ইট ও চুনা দ্বারা নির্মিত হয়। তাই যদি কেউ পেশাব করার পর সে সেখানে পানি ঢেলে দেয়, তবে তাতে কোন দোষ নেই। এটা পূর্ণটই যঈফ এর প্রথম অংশ সহীহ।

 


তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: বুখারী ৪৮৪২, তিরমিযী ২১, নাসায়ী ৩৬, আবূ দাঊদ ২৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ কিন্তু পূর্বশর্ত হিসেবে সহীহ। তাখরীজ আলবানী: আবূ দাঊদ ২৭ যঈফ, জামি সগীর ৭৫৯৭ সহীহ, নাসায়ী ৩৬ সহীহ, মিশকাত ৩৫৩ যঈফ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ/যঈফ [মিশ্রিত]
পুনঃনিরীক্ষণঃ

It was narrated that 'Abdullah bin Mughaffal said:
"The Messenger of Allah said: 'None of you should urinate in his wash area for most of the insinuating thoughts come from that.'" (Da'if) Abu 'Abdullah bin Majah said: ("Abul-Hasan said: 'I heard Muhammed bin Yazid saying:) ''Ali bin Muhammed At-Tanafisi said: 'This (prohibition) applies to cases where the ground (in the place used for washing) was soft. But nowadays this does not apply, because the baths you use now are built of plaster, Saruj and tar; so if a person urinates there then pours water over it, that clears it away, and that is fine.'"

بَاب كَرَاهِيَةِ الْبَوْلِ فِي الْمُغْتَسَلِ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَنْبَأَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ أَشْعَثَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي مُسْتَحَمِّهِ فَإِنَّ عَامَّةَ الْوَسْوَاسِ مِنْهُ ‏"‏ ‏.‏
قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ بْنُ مَاجَهْ سَمِعْتُ عَلِيَّ بْنَ مُحَمَّدٍ الطَّنَافِسِيَّ يَقُولُ إِنَّمَا هَذَا فِي الْحَفِيرَةِ فَأَمَّا الْيَوْمَ فَلاَ ‏.‏ فَمُغْتَسَلاَتُهُمُ الْجَصُّ وَالصَّارُوجُ وَالْقِيرُ فَإِذَا بَالَ فَأَرْسَلَ عَلَيْهِ الْمَاءَ لاَ بَأْسَ بِهِ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩০৫ | 305 | ۳۰۵

পরিচ্ছদঃ ১/১৩. দাঁড়িয়ে পেশাব করা প্রসঙ্গ

১/৩০৫। হুযাইফাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন এক গোত্রের ময়লা-আবর্জনার নিকট পৌঁছে সেখানে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।


তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: বুখারী ২২৪, ২২৫, ২২৬, ২৪৭১; মুসলিম ২৭৩/১-২, তিরমিযী ১৩, নাসায়ী ১৮, ২৬, ২৭, ২৮; আবূ দাঊদ ২৩, আহমাদ ২২৭৩০, ২২৮৩৪, ২২৯০৫; দারিমী ৬৬৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ৫৭, সহীহাহ ২০১।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

It was narrated from Hudhaifah that:
The Messenger of Allah came to the garbage dump of some people and he urinated on it standing up.

بَاب مَا جَاءَ فِي الْبَوْلِ قَائِمًا

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، وَهُشَيْمٌ، وَوَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ عَلَيْهَا قَائِمًا ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩০৬ | 306 | ۳۰٦

পরিচ্ছদঃ ১/১৩. দাঁড়িয়ে পেশাব করা প্রসঙ্গ

২/৩০৬। মুগীরাহ ইবনু শুবাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক গোত্রের ময়লা-আবর্জনার নিকট পৌঁছে তথায় দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।

২/৩০৬ (১) শুবাহ (রহঃ) বলেন, আসিম (রহঃ) সে সময় এ হাদীস মুগীরাহ -এর সূত্রে বর্ণনা করেন। আমাশ (রহঃ) আবূ ওয়ায়িল (রহঃ)-এর সূত্রে হুযাইফাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আসিম তা ভুলে যান। এরপর আমি মানসূর (রহঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনিও সেটি আবূ ওয়ায়িল (রহঃ)-এর সূত্রে হুযাইফাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকেদের ময়লা-আর্বনার স্তূপের নিকট পৌঁছে দাঁড়িয়ে পেশাব করেন।


তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: আহমাদ ১৭৬৮৪ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

Shu'bah narrated from 'Asim from Abu Wa'il from Mughirah bin Shu'bah that:
The Messenger of Allah came to the garbage dump of some people and urinated while standing up. (Hasan) Shu'bah said: "That day, 'Asim said: 'Amash reported this from Abu Wa'il, from Hudhaifah, but he did not remember it (correctly). So I asked Mansur about it, and he narrated it to me from Abu Wa'il, from Hudhaifah, that the Prophet came to a dump of some people and urinated while standing.'"

بَاب مَا جَاءَ فِي الْبَوْلِ قَائِمًا

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا أَبُو دَاوُدَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا ‏.‏
قَالَ شُعْبَةُ قَالَ عَاصِمٌ يَوْمَئِذٍ وَهَذَا الأَعْمَشُ يَرْوِيهِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ وَمَا حَفِظَهُ ‏.‏ فَسَأَلْتُ عَنْهُ مَنْصُورًا فَحَدَّثَنِيهِ عَنْ أَبِي وَائِلٍ عَنْ حُذَيْفَةَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَتَى سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩০৭ | 307 | ۳۰۷

পরিচ্ছদঃ ১/১৪. বসে পেশাব করা

১/৩০৭। আয়িশাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি তোমাকে বলে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পেশাব করেছেন, তার কথা তুমি বিশ্বাস করবে না। আমি তাঁকে বসে পেশাব করতে দেখেছি।


তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: তিরমিযী ১২, নাসায়ী ২৯। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহাহ ২০১।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

It was narrated that 'Aishah said:
"If anyone tells you that the Messenger of Allah urinated while standing, do not believe him, for I (always) saw him urinating while sitting down."

بَاب فِي الْبَوْلِ قَاعِدًا

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، وَإِسْمَاعِيلُ بْنُ مُوسَى السُّدِّيُّ، قَالُوا حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنِ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَنْ حَدَّثَكَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ بَالَ قَائِمًا فَلاَ تُصَدِّقْهُ أَنَا رَأَيْتُهُ يَبُولُ قَاعِدًا ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩০৮ | 308 | ۳۰۸

পরিচ্ছদঃ ১/১৪. বসে পেশাব করা

২/৩০৮। উমার (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দাঁড়িয়ে পেশাব করতে দেখে বলেনঃ হে উমার! তুমি দাঁড়িয়ে পেশাব করো না। এরপর থেকে আমি দাঁড়িয়ে পেশাব করিনি।


তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: তিরমিযী ১২ তাহক্বীক্ব আলবানী: যঈফ। তাখরীজ আলবানী: তিরমিযী ১২ সহীহ, মিশকাত ৩৬৩ যঈফ, যঈফাহ ৯৩৪। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল করীম বিন আবু উমায়্যাহ সম্পর্কে আয়্যুব আস-সাখতিয়ানী বলেন, তিনি সিকাহ নন। আহমাদ বিন হাম্বল ও ইয়াহইয়া বিন মাঈন তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম নাসাঈ তাকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ইবনু হিব্বান বলেন হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল করেন। ইবনু আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল।

হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

It was narrated that 'Umar said:
"The Messenger of Allah saw me urinating while standing, and he said: 'O 'Umar, do not urinate standing up.' So I never urinated whilst standing after that."

بَاب فِي الْبَوْلِ قَاعِدًا

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَبْدِ الْكَرِيمِ بْنِ أَبِي أُمَيَّةَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، عَنْ عُمَرَ، قَالَ رَآنِي رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَنَا أَبُولُ قَائِمًا فَقَالَ ‏ "‏ يَا عُمَرُ لاَ تَبُلْ قَائِمًا ‏"‏ ‏.‏ فَمَا بُلْتُ قَائِمًا بَعْدُ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩০৯ | 309 | ۳۰۹

পরিচ্ছদঃ ১/১৪. বসে পেশাব করা

৩/৩০৯। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন।

৩/৩০৯ (১) ইবনু মাজাহ (রহঃ) বলেন, আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ আল-মাখযূমীকে বলতে শুনেছি: সুফ্ইয়ান সাওরী (রহঃ) আয়িশাহ  (রাঃ) এর এ হাদীস আমি তাঁকে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে পেশাব করতে দেখেছি বর্ণনা করলে এক ব্যাক্তি বললো, একজন পুরুষ এ ব্যাপারে তার তুলনায় অধিক জ্ঞাত। আহমাদ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, দাঁড়িয়ে পেশাব করা ছিল আরবদের অভ্যাস। তুমি কি আবদুর রহমান ইবনু হাসানা (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে দেখোনি, যাতে তিনি বলেছেন, তিনি মহিলাদের মত বসেই পেশাব করেন? এটা সহীহ হাদীসের অন্তর্ভুক্ত।


তাহক্বীক্ব আলবানী: খুবই দুর্বল। তাখরীজ আলবানী: যঈফাহ ৬৩৮। উক্ত হাদিসের রাবী আলী ইবনুল ফাদল সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ নন। আলী ইবনুল মাদীনী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী তার হাদিস প্রত্যাখ্যান করেছেন। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার হাদিস প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করেন নি। ইমাম নাসাঈ বলেন তিনি সিকাহ নন।

হাদিসের মানঃ  যঈফ (Dai'f)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

It was narrated that Jabir bin 'Abdullah said:
"The Messenger of Allah forbade us to urinate while standing." (Da'if) I heard Muhammed bin Yazid, Abu 'Abdullah, say: "I heard Ahmad bin 'Abdur-Rahman Al-Makhzumi say: 'Sufyan Ath-Thawri said concerning the Hadith of 'Aisha- 'I (always) saw him urinating whilst sitting down' - a man knows more about that (about such matters) than she.' Ahmad bin 'Abdur-Rahman said: 'It was the custom of the Arabs to urinate standing up. Do you not see that in the Hadith of 'Abdur-Rahman bin Hasanah it was said: 'He sits down to urinate as a woman does.'"

بَاب فِي الْبَوْلِ قَاعِدًا

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ الْفَضْلِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ، حَدَّثَنَا عَدِيُّ بْنُ الْفَضْلِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ الْحَكَمِ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ أَنْ يَبُولَ قَائِمًا ‏.‏
سَمِعْتُ مُحَمَّدَ بْنَ يَزِيدَ أَبَا عَبْدِ اللَّهِ يَقُولُ سَمِعْتُ أَحْمَدَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْمَخْزُومِيَّ يَقُولُ قَالَ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ - فِي حَدِيثِ عَائِشَةَ أَنَا رَأَيْتُهُ يَبُولُ قَاعِدًا - قَالَ الرَّجُلُ أَعْلَمُ بِهَذَا مِنْهَا ‏.‏
قَالَ أَحْمَدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ كَانَ مِنْ شَأْنِ الْعَرَبِ الْبَوْلُ قَائِمًا أَلاَ تَرَاهُ فِي حَدِيثِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ ابْنِ حَسَنَةَ يَقُولُ قَعَدَ يَبُولُ كَمَا تَبُولُ الْمَرْأَةُ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

পাবলিশারঃ বাংলা হাদিস
গ্রন্থঃ সুনানে ইবনে মাজাহ
অধ্যায়ঃ ১/ পবিত্রতা ও তার সুন্নাতসমূহ
হাদিস নম্বরঃ ৩১০ | 310 | ۳۱۰

পরিচ্ছদঃ ১/১৫. ডান হাতে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা ও শৌচ করা মাকরূহ্।

১/৩১০। আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছেনঃ তোমাদের কেউ যেন পেশাব করাকালে তার ডান হাত দিয়ে তার লিঙ্গ স্পর্শ না করে এবং তার ডান হাত দিয়ে শৌচ না করে।

১/৩১০ (১) আবদুর রহমান ইবনু ইব্রাহীম, ওয়ালীদ ইবনু মুসলিম, আওযাঈ (রহঃ) এ সানাদে উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।


তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: বুখারী ১৫৩, ১৫৪, ২৬৩০; মুসলিম ২৬৭/১-২, তিরমিযী ১৫, নাসায়ী ২৪, ২৫, ৪৭; আবূ দাঊদ ৩১, আহমাদ ২২০১৬, ২২০২৮, ২২০৫৯, ২২১২৮, ২২১৪১, ২২১৪৯; দারিমী ৬৭৩। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল হামীদ বিন হামীব বিন আবুল ঈশরীন সম্পর্কে ইমাম দারাকুতনী ও আবু হাতিম আর-রাযী সিকাহ বললেও ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় কখনো কখনো ভুল করেন।

হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)
পুনঃনিরীক্ষণঃ

'Abdullah bin Abu Qatadah said:
"My father told me that he heard the Messenger of Allah say: 'When anyone of you urinates, let him not touch his penis with his right hand nor clean himself with his right hand.'"

Another chain with similar wording.

بَاب كَرَاهِيَةِ مَسِّ الذَّكَرِ بِالْيَمِينِ وَالِاسْتِنْجَاءِ بِالْيَمِينِ

حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْحَمِيدِ بْنُ حَبِيبِ بْنِ أَبِي الْعِشْرِينَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي قَتَادَةَ، أَخْبَرَنِي أَبِي أَنَّهُ، سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ إِذَا بَالَ أَحَدُكُمْ فَلاَ يَمَسَّ ذَكَرَهُ بِيَمِينِهِ وَلاَ يَسْتَنْجِ بِيَمِينِهِ ‏"‏ ‏.‏

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ ‏.‏

দুঃখিত! এই হাদিসের সাথে কোন ব্যাখ্যা এখনো সংযুক্ত করা হয়নি।

হাদিস দেখানো হচ্ছে   [301]  থেকে  [310]  পর্যন্ত এবং সর্বমোট   [1501]  টি হাদিস পাওয়া গেছে।